Mr and Mrs Twins Return

পর্ব - ৬৮

🟢

দরজায় ঠক ঠক আওয়াজে ঘুম হালকা হয়ে আসে চড়ুইয়ের। বাইরে থেকে দোয়েলের গলার স্বর শোনা যাচ্ছে। গায়ের উপর থেকে পাতলা ব্ল্যাঙ্কেটটা সরিয়ে বিছানা থেকে নামতে গেলেই পেছন থেকে হাতে টান অনুভব করে সে৷ ঘুরে তাকাতেই দেখলো উদাম শরীরে উপুর হয়ে শুয়ে আছে আবির। চোখে ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে আস্তে করে বললো...

"রুম থেকে বের হওয়ার আগে শাড়িটা চেঞ্জ করে নিও... "

চড়ুই বিরক্তিতে চ উচ্চারণ করে আবিরের হাত ছাড়িয়ে নেয়। বিছানা থেকে নেমে এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলে দিতেই দোয়েলের তাড়া দেওয়া শুরু...

"আটটা বাজে বোন... আজ এক্সাম আছে। ভুলে গেলি তুই? "

চড়ুইও নাক কুঁচকে বলে ওঠে...

"আর বলিস না বোন, দানাবলটা কাল রাতে যা জ্বালিয়েছে না...."

এতটুকু শুনতেই আবির হালকা চেচিয়ে বলে ওঠে...

"চড়াই... কথার ধরন ঠিক করো.. "

চড়ুইয়ের তেমন হুশ নেই কি বলেছে না বলেছে। আবিরের দিকে তাকিয়ে মুখ ভেঙচিয়ে আবার দোয়েলের দিকে তাকিয়ে দেখে দোয়েল মুখ টিপে হাসছে। তা দেখে ভ্রু কুঁচকে চড়ুই জিজ্ঞেস করে..

"তুই হাসছিস কেন? "

দোয়েলও রয়েসরে আবিরকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলে...

"নাহ, ভাবছি কাল রাতেও ভাইয়া তোকে জ্বালিয়েছে? এক্সামের সময়টা অন্তত...."

"তুমি যা ভাবছো সেসব কিছুই হয়নি বড়পাখি। তোমার বোনকে চেনো না.. কি থেকে কি বলে উপরওয়ালা মালুম। আমি থোরি না জ্বালিয়েছি তাকে, উলটে সে নিজেই জ্বলেছে ভেতর ভেতর, সাথে আমার শার্ট গুলোও জ্বালিয়েছে৷ বিশ্বাস না হলে বারান্দায় গিয়ে চেক করে নাও... "

আবিরের কথায় অবাক হয় দোয়েল। চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে চোখ ছোট করে জিজ্ঞেস করে..

"শার্ট জ্বালিয়েছিস কেন বোন? "

চড়ুই তড়তড়িয়ে বলে...

"ওসব পরে হবে, আগে বল আমার এই শাড়িটা কেমন? আআআআ... আহিশ গিফট করেছে আমায়..."

নাক কুঁচকায় দোয়েল। শাড়িটা খারাপ নয় দেখতে, তবে লজ্জা ঢাকার মতোও নয় ঠিক। ভ্যাবলার মতো নিজেই বলে ওঠে....

"এই শাড়ি আহিশ দিয়েছে? এমনটা তো হওয়ার কথা না..."

ওদিকে বিছানা থেকে আবিরের চওড়া হাসির রেখা পরিলক্ষিত হয়, হেসেই বলে...

"ওসব আহিশ টাহিশ কিচ্ছু না বড় পাখি। আমায় জ্বালানোর ধান্দা এই পেঙ্গুইনের। "

চড়ুই ভেঙচি কেটে বলে ওঠে...

"কচু..."

এদের এমন টম এন্ড জেরি কান্ড দেখে হেঁসে ফেলে দোয়েলও। যাওয়ার সময় বলে...

" ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নে দ্রুত। নিবিড় আমাদের ভার্সিটি পৌঁছে দেবে বললো..."

চড়ুই মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়, তবে পেছন থেকে আবির বলে ওঠে...

"ওকে আমি দিয়ে আসবো বড়পাখি। তুমি ভাইয়ের সাথে যেও। "

"আচ্ছা ভাইয়া,তাই হবে... "

----------

সময় কাটছে তার নিজস্ব গতিতে। ইয়ার ফাইনাল এক্সামের আজ শেষ দিন। পরিক্ষা শেষে আহিশ,কেয়া,রাবতি,চড়ুই,দোয়েল এক সাথেই বেরিয়ে এলো ভার্সিটি থেকে। নিবিড় সকালেই বলে দিয়েছে দোয়েলকে নিতে আসবে। তাই আহিশ তার নিজস্ব কারে উঠে বসতে বসতে বললো...

"ছোট পাখি, তুই বরং আজ নিবিড় ভাইয়ের সাথেই চলে যা। আমি কেয়া, রাবতিকে বাড়ি নামিয়ে দিয়ে তারপর বাড়ি যাবো। "

চড়ুই স্বভাবতই বললো...

"তো দিস নামিয়ে, আমাকেও নিয়ে চল.. "

"প্রাইভেট কারে তোর জন্য এক্সট্রা সীট কি তোর বর বসিয়ে দিয়ে যাবে? নিবিড় ভাইয়ের গাড়ির পেছনের সীট দুটো এমনিই খালি থাকবে। ওখানে লম্বা করে পা মেলে শুয়ে শুয়ে যেতে পারবি। যা ভাগ...."

চড়ুই ফের কিছু বলতে নিলে দোয়েলই এবার বাঁধা দেয়...

"থাক না বোন, আমার সাথেই যাস তুই। নিবিড় এইতো এসে পড়লো বলে। "

চড়ুই নীরব হয়ে যায়। পরিক্ষা চলাকালীন প্রথম দিন আবির তাকে হলে ছেড়ে গিয়েছিলো এর পর আর আসে নি। প্রতিটা দিন বাড়ি ফিরেছে গভীর রাত করে, আবার সকালে চড়ুইদের আগেই তারাহুরো করে বেরিয়ে পড়েছে। জিনিসটা বেশ চোখে পড়লেও কিচ্ছুটি বলে না চড়ুই। অপেক্ষা করতে করতে আপন চিত্তেই নিজের কাধের ব্যাগটির দিকে তাকায় চড়ুই। মোক্ষম একটি জিনিস আছে ব্যাগটায়। বহু কাট খর পুরিয়ে জিনিসটা হাতে পেয়েছে আজ সে। অত্যন্ত গোপনীয় জিনিসটি পেয়েও কেমন যেন খচখচ করছে চড়ুইয়ের মন। অপ্রতিভ একটি ইচ্ছে জেগেছে মনে। কিন্তু দানাবলটা কি রাজি হবে? দেনামনা করেও নিজের ফোনটা বের করে দানাবল নামে সেভ করা নম্বরটায় ডায়াল করলো। বেশ কয়েকবার রিং হওয়ার পর ও রিসিভ হলো না কলটি। কেটে যায়,চড়ুইও হতাশার নিশ্বাস ফেলে ফোনটি ব্যাগে ভরে রাখতে যায়। ঠিক তখনই ফোন বেজে ওঠে তার। দ্রুত চেক করে দেখে আবিরই ফিরে কল করেছে। চড়ুই দেরি করে না, সাথে সাথেই রিসিভ করে কানে ধরে ফোনটি। ওপাশ থেকে আবিরের তারাহুরো কন্ঠ...

"কল দিয়েছিলে? "

চড়ুই আজ আর নিজের কথার ফোয়ারা বয়ায় না, আস্তে করে উত্তর দেয়...

"হ্যা"

"কেন? কিছু প্রয়োজন?"

চড়ুই ঢোক গিলে এক চিলতে আবদার ছুড়ে দেয় আবিরের কাছে...

"আমায় নিতে আসবেন?"

আবির হয়তো এমন কিছু আশা করে নি চড়ুইয়ের কাছ থেকে, কিঞ্চিৎ অবাক হয়েই জিজ্ঞেস করে...

"এখন? "

"হুম "

কিছুক্ষণ নীরব থাকে আবির। চড়ুইও তেমন জোর জবরদস্তি করে না,হয়তো সময় দিচ্ছে। একটু পর আবির উত্তর দেয়...

"পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করো..."

তারপরই কল কেটে যায় সাথে সাথে। কান থেকে ফোন নামিয়ে চেয়ে দেখে নিবিড় মাত্রই এসে দাঁড়িয়েছে গাড়ি নিয়ে। তা দেখে চড়ুই দোয়েলকে বলে...

"নিবিড় ভাইয়ের সাথে চলে যা তুই। আমি দানাবলের সাথে যাবো। উনি আসছে... "

দোয়েল পাশ থেকে শুনেছেই, তাই আর বেশি ঘাটায় না। নিবিড়ের সাথেই রওনা দেয়। চড়ুই অপেক্ষায় থাকে আবিরের। ঠিক পাঁচ মিনিটের মাথায়ই আবিরের কালো রঙা মার্সিডিজ চোখে পরে চড়ুইয়ের। আবির নামার আগেই চড়ুই তার পাশের সীটে উঠে বসে নীরবে। আবির চেয়ে দেখে মেয়েটাকে, কেমন যেন নীরবতার সমাহারে ঘিরে রেখেছে নিজেকে। গাড়ি স্টার্ট দেয় আবির। অপেক্ষায় থাকে চড়ুইয়ের বুলির। কিন্তু মিনিট দশেক পাড় হওয়ার পরও চড়ুই কিচ্ছুটি বললো না। জানালার কাচের ওপাশে তাকিয়ে আছে নীরবে। আজ আর এসি বন্ধ করে জানাটাও খুলে দিতে বললো না সে। আর থাকতে পারে না আবির, নীরবতা কাটিয়ে নিজেই জিজ্ঞেস করে....

"এক্সাম কেমন হলো?"

চড়ুই মুখ না ঘুরিয়েই জবাব দেয়...

"ভালো "

" এনিথিং রং উইথ ইউ? "

চড়ুই ফিরে তাকায় এতক্ষণে আবিরের দিকে। ঠোঁটের কোনে হালকা হাসি এনে বলে...

"উহুম,খুশি... আজ আমি খুশি.. "

আবির শুনে, কিন্তু কথার ধরন ভীষণ অদ্ভুত লাগছে তার। তবুও নিজের মস্তিষ্ককে বুঝিয়ে নিয়েছে সে। গাড়ি এসে থামলো আবিরের অফিসের সামনে। সীটবেল্ট খুলতে খুলতে চড়ুইকে উদ্দেশ্য করে বলে...

"নামো... "

"শুনুন? "

চড়ুইয়ের ডাকে চোখ তুলে তাকায় আবির। ব্যাগ থেকে একটি ছোট্ট বক্স নিয়ে অতি সঙ্কোচে এগিয়ে দেয় সেটি আবিরের দিকে। সুন্দর রঙিন কাগজে মোড়ানো বক্সটি দেখে আবির ভ্রু কুটি করে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে..

"আমার জন্য? "

চড়ুই উপর নিচ মাথা ঝাকায়। হুট করেই আবিরের মনে যেন প্রশান্তি বয়ে গেলো নীরবে। ভেতরগত খবর জানান দেওয়ার প্রয়াস না করলেও মুখে হালকা হাসি চলে আসে তার, প্রাপ্তির হাসি।

হাত বাড়িয়ে বক্সটা নিয়ে নাড়াচাড়া করে বলে...

"খুলবো?"

চড়ুই নীরব থাকে, ঠিক কি উত্তর দেওয়া উচিত হয়তো ভেবে পেলো না। আবির তেমন গুরুত্ব ও দিলো না তার উত্তরের। এক দিক থেকে স্কচটেপটা একটু উঠিয়ে কি মনে করে যেন আবার আটকে দিলো। বক্সটা ড্যাসবক্সের উপর রাখতে বললো...

"পরেই দেখবো। নাও কাম উইথ মি।"

এতটুকু বলেই চড়ুই পাখির হাত ধরে হাটা ধরলো সে অফিসের বিপরীত দিকে৷ চড়ুই একবার অফিসের দিকে, তো আবার আবিরের দিকে চেয়ে হতবিহ্বল ভাবে বলে..

"আপনি কি নিজের অফিসের পথ ভুলে গেছেন? "

"উহুম... "

চড়ুই আর কথা বাড়ায় না। আবিরের সাথেই এগিয়ে যায়,অপজিটে নতুন একটা বিল্ডিং এর সামনে দাড়াতেই নিবিড়ের গাড়িও এসে থামে সেখানে। চড়ুইকে দেখে দোয়েল এগিয়ে এসে বললো....

"তোরাও এখানে? "

"হ্যা, তুই বাড়ি যাস নি?"

"না,,নিবিড় বললো ওর অফিসে কি যেন কাজ আছে। সেটা সেরে তারপর আমায় নামিয়ে দেবে। "

কথার মাঝেই নিবিড় এগিয়ে আসে হাতে একটা ফাইল নিয়ে। দোয়েলের দিকে এগিয়ে এসে কলম এগিয়ে দিয়ে বলে...

"সাইন করো... "

হা করে তাকায় দোয়েল। হঠাৎ এমন কিসের পেপারে সাইন করতে বলছে নিবিড় তাকে? দোয়েলের এমন হা করে তাকিয়ে থাকা দেখে নিবিড় হেঁসে বলে...

"ভয় পেও না, এটা ডিভোর্স পেপার নাহ,, এই জীবনে তোমায় আমি ছাড়ছি না বুঝলে এটম.."

বলেই চোখের ইশারায় সাইন করতে বলে নিবিড়। দোয়েল আর ঘাটে না বিষয়টি। নিবিড়কে সে পুরোদমে বিশ্বাস করে। কলম তুলে নিয়ে সাইন করে দেয়, ফাইলটি পড়ে দেখারও প্রয়োজন বোধ করলো না।

দোয়েলের সাইন করা হয়ে গেলে নিবিড় চড়ুইয়ের থেকেও সাইন নিয়ে নিলো। তারপর চড়ুইকে দেখিয়ে দিয়ে দোয়েলকে বললো...

"আপনার পার্টনারের সাথে জোরদার ভাবে হাত মিলিয়ে নিন মিসেস এটম। "

দোয়েল বুঝলো না, বোকার মতো বলে ওঠে...

"মানে? "

নিবিড় হাসে চমৎকার করে। আবির পকেটে হাত গুঁজে এগিয়ে এসে সামনের বিল্ডিংটির উপর থাকা লাল রঙা পর্দা সরিয়ে দিয়ে বলে...

"মানে... আজ থেকে তোমরা দুজন শুধু বোনই নও, বার্ডস সাইটের ওনারশিপ পার্টনারও। "

পাখিরা থমকে যায়, সামনেই বড় করে সাইনবোর্ডে লিখা "বার্ডস সাইট" তার নিচে ডিজাইন করে গিফট শপ। ভেতরে তাকিয়ে চোখ ধাঁধানো অবস্থা পাখিদের। পুরো নান্দনিক ভাবে সাজানো সো রুমটা। তবে প্রতিটি তাকই এখনো খালি। আবির এগিয়ে এসে দাঁড়ায় চড়ুইয়ের পাশে।....

"এটা তোমাদের শুরু, নতুন করে সবটা গুছিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব এবার তোমাদেরই। যেই কাজটা এতদিন শুধু মাত্র অনলাইনে নিবদ্ধ ছিলো, আজ থেকে তা বাস্তবেও রুপ নিয়েছে। নিজেদের হাতের কাজ ফুটিয়ে তোলো তোমরা। "

অবিশ্বাস্য সত্যটা যেন মেনে নিতেই পারছে না দোয়েল। চোখ দুটি চিকচিক করছে পানির কনায়, থেমে গিয়ে বললো..

"এ্ এটা আ্ আমাদের শপ?"

নিবিড় এগিয়ে এসে কাঁধে হাত রাখে দোয়েলের, ভরসা দেওয়ার ভঙ্গিতে বলে...

"রিল্যাক্স এটম,,ইটস ইউর..."

দোয়েল ধীরে ধীরে মুখ তুলে তাকায় নিবিড়ের দিকে। নিবিড় হাসে।

"এ্ এটা আমাদের স্বপ্ন ছিলো নিবিড়। কিন্তু এটা ক্ কিভাবে..."

" বিয়ের গিফট হিসেবেই ধরে নাও। "

দোয়েল আর কথা খুঁজে পায় না। চার দিকে ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকে। চড়ুই এখনো একই জায়গায় দাড়িয়ে নিরেট ভঙ্গিতে। আহিশ, কেয়া, রাবতি ও এখানেই। জেসি এগিয়ে এসে চড়ুইয়ের কাধ ঝাকিয়ে বলে...

"হ্যালোওও ম্যাডাম, আপনি তো আমাদের বস হয়ে গেলেন এখন। কি বলে ডাকবো এবার আপনাকে? "

চড়ুই বুঝতে পারে না, ভ্যাবলার মতো বলে ওঠে..

"হ্যা??"

"আরেহ, আমরা সবাই এবার থেকে তোদের এখানেই কাজ করছি। তোরা আমাদের কাজ শেখাবি। ভেতরে কাজ শেখানোর জন্যও আলাদা রুমের ব্যবস্থা করা আছে। আমরা সহ বাকি মেয়েদের ও শিখাবি। বিজনেস এগোতে হবে তো নাকি? "

আহিশও হেঁসে বললো...

"আমি বাবা কাজ টাজ শিখতে পারবো না এখন। আবির ভাই স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে আমি যেন অনলাইনের দিকটা সামলাই। হাহ, দেখ বন্ধুত্ব কাকে বলে।তোদের জন্য শেষমেশ আমি ডেলিভারিম্যানই হলাম "

বিয়ের পর থেকেই কাজটার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে টুইনস ব্রাদার্স। মাত্র তিন মাসে প্রোপার জায়গাটা ক্রয় করে শপ তৈরি করা খুব একটা সহজ ছিলো না। তার উপর ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন সম্পূর্ণই আবির নিবিড় নিজেরা থেকে করিয়েছে। কোথাও যেন একটু খুতও না থাকে এমন। এটা যে পাখিদের ড্রিম।

ওপেনিংয়ের কাজ শেষ করে আবিরদের অফিসেই লাঞ্চ করেছে আজ সকলে৷ খাওয়া দাওয়া শেষ করে সকলে রওনা দেবে বাড়ির উদ্দেশ্যে। আহিশ আর সুহাস মিলে কেয়া, রাবতিদের পৌঁছে দেবে। তাই জেসি দোয়েলের সাথে নিবিড়ের সাথেই যাবে৷ ওদিকে আবিরের একটা মিটিং আছে, টেবিলে বসেই স্বাভাবিক ভাবে চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করেছিলো...

"এক ঘন্টা অপেক্ষা করবে? নাকি চলে যাবে?"

চড়ুই থাকতে চায় নি। তাই সেও নিবিড়ের গাড়িতেই যাবে ঠিক করলো। হাত ধোঁয়ার জন্য বেসিনের সামনে দাড়াতেই পেছনে কেউ একজন তার গা ঘেঁষে দাঁড়ালো যেন। চমকে আয়নায় তাকাতেই আবিরের মুখ দেখে সুস্থির নিশ্বাস ফেললো চড়ুই। লোকটা তাকে ভয়ই পাইয়ে দিয়েছিলো।

হঠাৎ আবিরের এক হাত চড়ুইয়ের কাধ স্পর্শ করে আলতো ভাবে। কিন্তু স্পর্শটা স্বাভাবিক নয়, চড়ুইয়ের সুদ্ধ চিত্ত কেঁপে ওঠে। কম্পমান কন্ঠে বলে ওঠে...

"ক্ কি করছেন... "

"Aren't you pleased with today's present?"

"আ্ আমি তো খুশিই? "

"Then where is your smile?"

চড়ুই কিছু বলতে পারে না। নীরবে আয়নায় তাকিয়ে থাকে আবিরের দিকে। বেশ অনেকক্ষণ পর বলে...

"আপনি আমায় স্বাধীনতা দিচ্ছেন? বউকে কয়জন এভাবে বাইরে কাজ করতে দেয়?"

"কেন দেবো না? আমার চোখের সামনেই তো থাকবে। তোমার স্বপ্ন পূরন করাটা তো আমারও স্বপ্ন। আর বউকে কি শুধু রাতের প্রয়োজনে বিয়ে করেছি নাকি। আই ওয়ান্ট ইউর হ্যাপিনেস।"

"আপনি সত্যিই চান আমি খুশি থাকি?"

"ইয়াহ,, আর আমি এটাও জানি তুমি কিসে খুশি হবে.."

চড়ুইয়ের উতলা ভাব বাড়ে..

"কিসে? "

আবির আলতো করে চড়ুইয়ের কাঁধে চুমু দিয়ে বলে....

" বাড়ি যাও, I want to hold you close all through the night. Get yourself ready."

ধক করে বুকটা কেঁপে ওঠে চড়ুইয়ের। কি শুনলো এটা,কি বললো মাত্র আবির তাকে....

"I love you wifey.... I Only love you, not another else.... So Don't be Afraid about me... I will always with you..... "

চড়ুইয়ের শ্বাস ওঠানামা করে দ্রুত গতিতে।।আবির চলে গেছে, তবুও চড়ুইয়ের দৃষ্টি সরলো না আয়না থেকে। কি করলো সে,,কি করে ফেললো,,আপন মনেই বিরবির করে বলে ওঠে...

"কিন্তু.... আমি যে ডিভোর্স পেপারে সাইন করে দিয়েছি? "

Mr and Mrs Twins Return গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় টুইন রিলেটেড রোমান্টিক গল্প