চার দিন ধরে ইরিনের কোনো খোঁজ নেই। বিথী বেগম এক প্রকার পাগলপ্রায় হয়ে দারস্থ হয়েছে আজমল চৌধুরীর কাছে। তার মেয়েটার খোঁজ করার জন্য। আজমল চৌধুরী বরাবরই কোমলত্ব স্বত্তাধারী একজন ব্যক্তি। চড়ুই পাখির সাথে সে দিনের করা কাজ খানার ব্যপারে জানার পরে আর নিজের বাড়িতে রাখেন নি তিনি ইরিনকেও। কয়েক মাস আগে যেভাবে বোনকে বের করে দিয়েছে সেভাবেই এক প্রকার তাড়িয়েছে ইরিনকেও। সেই ঘটনার আজ প্রায় পনেরো দিন হতে চললো। কিন্তু গত চার দিন আগে থেকেই নিখোঁজ ইরিন। তার এমন হঠাৎ গায়েব হয়ে যাওয়ার ব্যপারটা কারোরই বোধগম্য হচ্ছে না। বিথী বেগম এখানেই আছেন এই ক'দিন ধরে। আগের মতো কুটকাচালি করছে না। কি করেই বা করবে, মেয়ে হারানোর শোকে যে কাতর তিনি।
চড়ুই আগে থেকে কিছু টা সুস্থ। আবির বাড়ি না থাকলে একটু আকটু খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটতে হয় বটে। আবির যতক্ষণ থাকে মেয়েটা বসা থেকে উঠারও সুযোগ পায় না। আবিরের কড়া নির্দেশ
"যা দুষ্টামি- ফাইজলামি করার বসে বসেই করো, হাঁটা যাবে না। "
চড়ুই ও চুপচাপ মেনে নেয় গোমড়া মুখ করে। না হলে এই লেক যা ইচ্ছে করতে পারে। এমনিতেই প্রথমের প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রুম থেকেই বের হতে পারে নি চড়ুই। আর না বাড়ির তেমন কারোর সাথে দেখা করতে পেরেছে শুধু দোয়েল আর সাবিহা ছাড়া। আবির যেন বাড়ির অন্য মহিলাদেরও হারাম করে দিয়েছে চড়ুইয়ের জন্য। কারন ঐ সময়টায় আবির চড়ুইকে কোনো প্রকার পোশাকই শরীরে জড়াতে দেয় নি পিঠের ঘায়ে লাগবে বলে। এরপর চড়ুইয়ের কান্নাকাটিতে বিরক্ত হয়ে কোথা থেকে যেন কতগুলো ঢিলেঢালা কুর্তি এনে জমিয়েছে আবির। একটা কূর্তির ভুতর চড়ুইয়ের মতো দুজন ঢুকতে পারবে এমন। অনুমতি দিয়েছে তবে সাথে বহু শর্ত লাগিয়ে...
" ঘা পুরোপুরি শুকানোর আগে পর্যন্ত এগুলোই পড়বে বাড়িতে। ই'নারের প্রয়োজন নেই, এক মিনিটের জন্যও ওড়না ছাড়া রুমের বাইরে যাওয়া চলবে না। "
ব্যস,চড়ুইয়ের দিন এখন ওভাবেই যাচ্ছে। ওদিকে দোয়েল নিজেদের নতুন শপের কাজে মন দিচ্ছে। মোটামুটি ওপেনিংয়ের পর ভালোই বিক্রি শুরু হয়েছে। জুম্মি, কেয়া,রাবতি সেলসের দিকটা সামলায়। মাঝে মাঝে হৃদও এসে যোগ দেয়। এছাড়াও অন্যান্য কিছু মেয়েকে কাজ শেখানোও হয় টাইমলি। সব মিলিয়ে সেদিকটা এখন সিথীল।
ড্রয়িং রুমের সোফায় লিওকে কোলে নিয়ে বসে আছে চড়ুই। পায়ের কাছে আবির বসে ল্যাপটপে কাজ করছে নিজের, সাথে এক হাতে চড়ুইয়ের পা জোড়া নিজের কোলের উপর রেখে আলতে মাসাজও করছে। লোকটা এমনই, হুটহাট চড়ুইয়ের এটা ওটা নিয়ে টানাটানি করে। কখনো চুলে হাত বুলাতে থাকে, কখনো হাত নিয়ে নাড়াচাড়া করে এমনই। চড়ুইও যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছে এসবে। একটু দূরে বাড়ির ল্যান্ড লাইনে কল আসতেই চড়ুই লাফিয়ে নামতে যায়....
"কে কল করেছে দেখি..."
সাথে সাথে আবির তার পা চেপে ধরে চোখ রাঙায়। চড়ুই মুখ ভেঙচি কেটে আবার আগের জায়গায় বসে লিওর সাথে বকবক শুরু করে। আবির উঠতে নেয়, কিন্তু তার আর প্রয়োজন হয় না। আহিশ এসে কল রিসিভ করে। কল কাটতেই সে চেচিয়ে বাড়ির সবাইকে জড়ো করে ফেললো এক প্রকার। সাবিহা দ্রুততায় জিজ্ঞেস করে...
"কি হলো, এমন ডাকছিস কেন? "
আজমল আর আসমত ও জিজ্ঞেস করতেই আহিশ কিছুটা কুন্ঠিত হয়ে বিথী বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো....
" থানা থেকে কল করলো, ইরিন আপুকে পাওয়া গেছে। "
বিথী বেগম দিশেহারা হয়ে বলে ওঠে....
"আমার মেয়েকে পাওয়া গেছে? ইরিন, আমার ইরিন... কোথায় ও? কি বললো তারা? আমার মেয়ে ব্ বেচে আছে? "
আহিশ আস্তে করে বলে....
"বেঁচে আছে... কিন্তু....... "
বক্রতার রেখার ন্যয় হাসি ফুটে ওঠে আবিরের ঠোঁট জুড়ে। কোনো এক কৃত্রিম সত্যের আভাস যেন এটি।
-------
হসপিটালের করিডোরে ভীর জমিয়েছে চৌধুরী বাড়ির লোকজন। শুধু নেই দুই পাখি আর আবির। চড়ুইয়ের এমনিই বাড়ি থেকে বের হওয়া নিষেধ। তাই এই রাতে তাকে দেখে রাখার জন্য রয়ে গেছে আবিরও। দোয়েলও খবরটা শোনা মাত্রই হসপিটালে যাওয়ার জন্য বায়না ধরলেও নিবিড় তাকে বাড়ি রেখে গেছে, কারন হিসেবে দেখিয়েছে হসপিটালে ফোবিয়া আছে৷
ইরিনের অবস্থা দেখে বিভৎস চিৎকার করে ওঠে বিথী বেগম। হ্যা,এমনই অবস্থা হয়েছে মেয়েটার।ডান হাত তার কাধ হতে নেই। আর ডান পা হাটুর নিচে আর নেই। বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল আর তর্জনী আঙুলটা ঝুলছে, যেন চামড়া টুকু ছাড়া ভিতরে হাড্ডিতে আর কোনো জোড়া নেই৷ ঠোঁট বেকানো, ডান চোখ কেউ যেন সূচালো কিছু দিয়ে উপড়ে ফেলে দিয়েছে এমন। ভিতরে চোখপর মনির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া গেলো না। মাথার চুলগুলোও ফেলে দেওয়া হয়েছে এলোমেলো ভাবে ট্রিমারের সাহায্যে।
"এমন অবস্থা কি করে হলো ওর...? "
ডিউরিরত পুলিশ অফিসারকে প্রশ্নটা করতেই তিনি আজমল সাহেবকে বললেন ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিতে৷ ডাক্তার জানায়...
" ড্রাংক হয়ে কার ড্রাইভ করার কারনে এক্সিডেন্ট হয় ওনার। হসপিটালে আনার পর হাত শরীরে আমরা অতি মাত্রায় ড্রা'গস পেয়েছি৷ ডান সাইড পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্ত ছিলো, হাত আর পা মনে হয় ঘটনা স্থলেই আলাদা হয়ে গিয়েছে শরীর থেকে৷ চোখেও কিছু একটা ঢুকেছে। উনি ফর লাইফ টাইম প্যারালাইজড হয়ে গেছেন। এখন আপাত দৃষ্টিতে বেঁচে থাকলেও আর কখনো তিনি বিছানা ছেড়ে উঠতে পারবেন না , শরীরের নড়চড় করতে পারবেন না। এমনকি উনার ভোকাল সম্পূর্ণ ছিঁড়ে যাওয়ায় আর কখনো কথাও বলতে পারবেন না তিনি। যতদিন বেঁচে থাকবে এভাবেই থাকতে হবে.... "
বিথী বেগমের আহজারি ছড়িয়ে পরে হসপিটাল জুড়ে। এক মাত্র মেয়ের এমন অবস্থা তিনি যেন কোনো ভাবেই সইতে পারছেন না।কিন্তু ভেবেছে কি তার পাপের কথাগুলো?
নীরবে এক লুকায়িত হাসি দিয়ে হসপিটাল থেকে বেরিয়ে আসে নিবিড়। নিজ গাড়ির সামনে এসে দাঁড়াতেই পেছন থেকে আহিশের কন্ঠে ঘুরে তাকায় সে। আহিশ এগিয়ে আসে, ড্রাইভিং সীটের পাশের সীটে উঠে বসতে বসতে বলে....
"চল, আমি যাবো তোর সাথে। "
" বাড়ির সবাই ফিরবে না? "
"যাবে, বাড়ির ড্রাইভার আঙ্কেল আছে তো, আর আব্বু চাচ্চুরাও আছে। এক সাথেই চলে আসবে, সমস্যা নেই। আমরা যাই চল... "
নিবিড় আর দুরুক্তি না করে উঠে বসে গাড়ি স্টার্ট দেয়। একটু পথ এগোতেই আহিশ বলে...
"গান চালিয়ে দিই, কি বলিস? "
"As your wish...."
আহিশ ব্লুটুথ কানেক্ট করে গান চালিয়ে দেয়...
Cross my heart and hope to die..
Welcome to my dark side......
গানের লাইন শুনে নিবিড় এক পলক ট্যারা চোখে আহিশের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে....
"হঠাৎ এই গান? "
আহিশ এক রহস্যময় হাসি দেয়। ঘাড় কাত করে বিধ্বংস চোখে তাকিয়ে নিবিড়কেই উল্টে প্রশ্ন করে.....
"ইরিন আপুর এই অবস্থা তোরা করেছিস তাই না? "
নিবিড়ের মুখাবয়বে পরিবর্তন হয়। ভয়ের রেখা আশা করেছিলো আহিশ, কিন্তু তার বিন্দু পরিমান চিহ্নও দেখা যায় না নিবিড়ের ভাবে। উল্টো হার মুখেও ফুটে ওঠে এক বক্র হাসি।দৃষ্টি সামনে রেখেই জিজ্ঞেস করে....
"তুই খুশি হওয়ার কথা.... "
আহিশ মাথা দু দিকে নাড়িয়ে আপসোসের সুরে বললো....
"হইনি খুশি... "
নিবিড় শয়তানি হেঁসে বলে...
"কষ্ট পাচ্ছিস ইরিনের জন্য? সিনিয়র লাভ সাবের ব্যপার নাকি? "
আহিশ দৃঢ় কন্ঠে বলে ওঠে....
" my only love is hrid.. "
"তাহলে তো তুই খুশিই হওয়ার কথা... হলি না কেন? "
"একেবারে মে'রে ফেললে হতাম... "
নিবিড় অদ্ভুত চোখে একবার আহিশের দিকে তাকিয়ে হু হা করে হেঁসে দেয় শরীর কাপিয়ে। হাসি থামিয়ে বলে....
"এই দুনিয়ায় সবচেয়ে সহজতর শাস্তি হলো মৃ'ত্যু।"
"তো এভাবে বাচিয়ে রেখে লাভ?"
নিবিড় নিরব থাকে। একটু পর নিজ থেকেই বলে ওঠে...
"চল, তোকে আজ একটা যাদুঘর থেকে ঘুরিয়ে আনি। "
আহিশ আর বাঁধা দেয় না। যাওয়াই যাক...
হ্যা, নিবিড় তাকে একটি যাদুঘরেই নিয়ে এসেছে বটে। তবে এই যাদুঘরে কোনো পুরোনো সংস্কৃতির জিনিস পত্র নেই,মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা কোনো রত্ন নেই, আছে কয়েকটি শীতলীকরণ বাক্স। যেগুলোর এক একটির ভিতর যত্নের সহীত সংরক্ষণ করা হচ্ছে র'ক্ত মাখা কয়েকটি কাটা হাত, পা, চোখ, পুরুষাঙ্গ....
"এটা ভাইয়ের কালেকশন..."
অবাক হয় আহিশ, ভেতরের জিনিস গুলো মোটেও স্বাভাবিক নয়, তবে পুরুষ মানুষের ভিতর এই টুকু দেখার দম না থাকলে সে আর কিসের পুরুষ। নিবিড়কে বলেই বসলো....
"আবির ভাই এসব করেছে? ছোট পাখি এগুলো দেখলে এখানেই স্ট্রোক করতো। "
হাসলো নিবিড়। নিশ্চয়তার কন্ঠে বলে ওঠে...
"এত গুলো চড়ুইয়েরই অবদানে সংঘটিত হয়েছে। "
"কি?"
"এখানে মোট ছয় জনের শরীরের অংশ। ঐ যে একদম প্রথমটা দেখছিস হাত? ওটা কবের জানিস?"
"কবের? "
"ডেট লিখা আছে, দেখ..."
আহিশ ভালো করে চেক করে বললো....
" ৪ আগস্ট, ২০২৫...."
"ইয়াহ... আমাদের সাথে পাখিদের প্রথম সাক্ষাৎ এই দিনেই। "
"তো সেদিন কি হলো? এই কাটা হাত..."
"তোর মনে আছে ভাই রাতে চড়ুইকে একা রাস্তায় ফেলে চলে এসেছিলো বাড়িতে? "
"হ্যা, পড়ে তো সেই আবার নিয়ে এসেছে... "
"হুম,যখন ফের ও চড়ুইকে আনতে গিয়েছিলো তখন চড়ুইকে ঘুমন্ত অবস্থায় একা পেয়ে একটা লেক তার দিকে বাজে ভাবে হাত ছুঁইয়েছিলো। ভাইয়ের চোখ এড়ায়নি তা। আর ঐ যে হাতটা সেদিনের সেই লোকেরই।"
আহিশের চোখ বড় বড় হয়ে যায়। বিষ্ময় নিয়ে বলে...
"কিন্তু তখন তো আবির ভাই ছোটপাখিকে সহ্যই করতে পারতো না। "
"হ্যা, কিন্তু ভিতরগত একটা টান ঠিক প্রথম থেকেই সৃষ্টি হয়েছে, তাই তো তার জন্য খু'ন করতেও দু বার ভাবে নি ভাই। "
আহিশ ধীরে দৃষ্টি দেয় সেই কাটা পুরুষাঙ্গটির দিকে। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে জিজ্ঞেস করতে নেয়....
"তাহলে এইটা.... "
"ও তুই যা ভাবছিস তেমন কিছুই না। ভাই থাকতে ও জিনিস চড়ুইকে ছুঁতে পারবে না। যাস্ট একটু স্ট্যান্ড আপ করেছিলো আরকি। আমাদের বিজনেস কলিগ মি. রায়হান... বেচারা... দাঁড়ালো তো হারালো..."
আহিশ ঢোক গিলে বলে...
"আ্ আমিও তো ছোটপাখিকে বিয়ে করবো বলে ন্ নাটক করেছিলাম, তবে কি.... "
নিবিড় হেঁসে বলে...
"তুই কি ভাবছিস, ওটা নাটক না হয়ে সত্যি হলে ভাই এতদিন তোকে এভাবে রাখতো? হাতের পোড়া দাগ তো এখনো যায় নি তাই না?"
আহিশ নিজের দু হাতের দিকে তাকায়। এঙ্গেজম্যান্টের দিনের কথা মনে পড়ে যায় দ্রুতই। জ্বালাপোড়া নেই এখন আর, তবে একটা চিহ্ন যেন রয়েই গেলো চির কালের জন্য।
আহিশের অবস্থা দেখে নিবিড় হেঁসে বলে ওঠে...
"থাক, চিন্তা করিস না। তোকে কিছু করবে না আর। ভাই জানে ওসব যে নাটক ছিলো। বিয়ের পরেই বলে দিয়েছি আমি। জানতাম তোর কপালে যে রাহু নাচছিলো তাই... "
"থ্যাংকিউ ভাই, বিশাল ধন্যবাদ তোকে। এখনো বিয়ে করিনি, এত তারাতারি ম'রে গেলে আমার হৃদির কি হতো কে জানে... "
"ঐ দেখ একটা সুইট মতো হাত। "
আহিশ তাকায় এবার নিবিড়ের ইশারা অনুযায়ী। একটা মেয়েলি হাত, আরেকটা পা একসাথে।বুঝতে দেরি হয় না তার। প্রশ্ন করে...
"ই্ ইরিন আপুর?"
"হ্যা.."
"হাত পা.. কেন? "
নিবিড় এবার নিজের হাত দিয়ে ভঙ্গিমা করে দেখিয়ে বললো...
"সেদিন ছাদে ঠিক এভাবেই ইরিন একটি ভাঙা কৌটা তুলে নিয়ে চড়ুইয়ের দিকে ছুঁড়ে মেরেছিলো। সেটা গিয়ে একদম গেঁথেছে চড়ুইয়ের পিঠে। তারপর চড়ুই যখন তাল সামলাতে না পেরে একটু পিছিয়ে গেলো, তার পা পড়লো সেই ভাঙা আরেকটি জং ধরা টুকরোর উপর, তখন মেয়েটি দ্রুত পা সরিয়ে নিতে চেয়েছিলো যাতে কাটা না যায়। কিন্তু ইরিন এগিয়ে এসে চড়ুইয়ের পায়ের উপর নিজের একটি পা দিয়ে চেপে ধরে রাখে। গলগলিয়ে র'ক্ত বের হওয়ার পর পিষে ছেড়ে দিয়ে নেমে আসে ছাঁদ থেকে। সেই পা টাই ওখানে এখন। কিউট না?""
আহিশ এবার কেমন যেন ফুঁসছে, রাগে বলে ওঠে...
"ও আমাদের ছোটপাখিকে এভাবে কষ্ট দিয়েছে? মেয়েটার কেমন লেগেছিলে তখন ভাই? ছোটপাখি তো সামান্য একটা বেতের বারিও সহ্য করতে পারে না..."
নিবিড় ঘন নিশ্বাস ফেলে। যা হয়েছে তা কি আর বদলানো যায়?
"ইরিনকে আমি কিচ্ছু করিনি, যা করেছে ভাই-ই সামলেছে। ইভেন আমি জানতামও না, জেনেছি যেদিন ফুফু এসে কান্নাকাটি করছিলো তার পরের দিন। "
"ওকে বাচিয়ে রেখেছে কেন? "
"যাতে ও দেখতে পায়, তিলে তিলে নিজের মৃ'ত্যু কামনা করে। দেখবে, ভেতর ভেতর জ্বলবে, কিন্তু কিচ্ছু করতে পারবে না, মুখ ফুটে একটি কথাও বলতে পারবে না। মাঝে মধ্যে ওকে এখানে আবার নিয়ে আসা হবে, নিজের মহামূল্যবান হাত আর পা গুলো দেখবে দু চোখ ভরে৷ এর থেকে বড় শাস্তি আর কি হতে পারে? "
আহিশ দীর্ঘ এক নিশ্বাস ফেলে। কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না সে। নিবিড় নিজেই এগিয়ে গিয়ে আহিশের গলা জড়িয়ে ধরে বাইরের দিকে যেতে যেতে বলে....
"চল, এখানে আর দুই মিনিট থাকলে তোর অক্সিজেনের অভাব পড়বে।"
"তোমাদের দু ভাইয়ের থেকে সাবধানে থাকতে হবে এবার থেকে। "
"যদি উল্টোপাল্টা কিছু না করিস তাহলে চিল থাক। আর যদি....."
"কিচ্ছু করিনি ভাই,কিচ্ছু না।আর ইচ্ছে থাকলেও করবো না এখন আর।চলো..... "
আহিশের এমন কথায় হেঁসে ফেলে নিবিড়। এগিয়ে যায় আবার গাড়ির কাছে গন্তব্য বাড়ি...
-----
দোয়েল পাখি অভিমান করে বসেছে নিবিড়ের উপর। খাটের কোনে চুপচাপ বসে নিবিড়ের কান্ড দেখছে। লোকটা হঠাৎ জামাকাপড় গোছাচ্ছে কেন?
নিজের জামাকাপড় নেওয়া শেষ হলে এবার দোয়েলের জামাও একে একে ভাজ করে ব্যাগে ভরতে লাগলো। দোয়েল দেখেও কিছু বলছে না। নিবিড় একটু পর পর দোয়েলকে জিজ্ঞেস করেও নিচ্ছে...
"এইটা নিবো? এটা আগে তো পরো নি মনে হয়, নিয়ে নিই হ্যা? এটাও তোমায় মানাবে, নিলাম... "
দোয়েল হ্যা না কিছুই বলছে না। একটু পর নিবিড় কাবার্ডের একটা সাইডের ড্রয়ার খুলে দোয়েলকে ইশারা করে বলে....
"এবার তোমার ভেতরের ওসব ও কি আমিই চয়েজ করে নিবো? "
দোয়েল চোখ পাকিয়ে তাকায় নিবিড়ের দিকে। দ্রুত উঠে আসে সেখানে। নিবিড় ভ্রু নাচিয়ে দুষ্টু হেঁসে বলে...
"বলো বলো? আমার কিন্তু কোনো সমস্যা নেই, আমি আরো মজার সহীত চয়েজ করে নিবো উইথ দেয়ার সুইট স্মেল..."
দোয়েল এগিয়ে এসে নিবিড়কে ধাক্কা মেরে একটু সরিয়ে বলে...
"সরুন.. অকাজ করছে বসে বসে। এসব গোছানোর মানে কি? "
"নিয়ে নাও মিস এটম... পরে কিন্তু ই'নার ছাড়া থাকতে হবে, গ্রামে কিন্তু মার্কেটও নেই। তখন আমার দোষ দিলে চলবে না..."
দোয়েল ভ্রু কুঁচকে বলে...
"গ্রামে? "
"ইয়েস.. "
"গ্রামে মানে? কোন গ্রামে? আর আমরা হঠাৎ কেন যাচ্ছি? "
"আমাদের গ্রামের বাড়ি, আই মিন দাদার বাড়ি যাচ্ছি আমরা ছোটরা সবাই মিলে। গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে। "
"ইরিন আপুর এই অবস্থায়..."
নিবিড় মাথা চুলকে বিরবির করে বলে...
"ওটারই তো সেলিব্রেশন করতে যাচ্ছি, মিস এটম... "