"তুমি আমায় চেনো না ইরিন আপু। তুমি যে এসব ইচ্ছে করেই করছো তা আমি ভালো করেই জানি। "
তরান্বিত স্বরে দোয়েলের কথা গুলো কানে যেতেই ভ্রু কুঁচকে ফেলে ইরিন। সামনে থাকা দোয়েলকে জিজ্ঞেস করে...
"কি বলতে চাইছো তুমি? "
দোয়েলের কন্ঠ সবল, চোখে চোখ রেখে দৃঢ় কন্ঠে বলে ওঠে...
"এটাই যে আবির ভাইয়ের থেকে দূরে থাকো। সেবার ঐ নোংরা চিঠিটা লিখে আমার বোনকে ফাসিয়েছো তুমি, কিচ্ছু বলিনি তখন। কিন্তু এখন যা করছো তুমি... রাত বিরেতে আরশোলা দেখে ভয় পেয়ে তুমি আবির ভাইকে নিজের রুমে ডাকলে, এটা আমায় বিশ্বাস করতে বলছো?"
ইরিনের শরীর জ্বলে ওঠে, নিজের সাজানো মিথ্যা টুকু ধরা পড়ায় তেতে ওঠে সে। রাগে রিরি করতে করতে বলে...
"এই মেয়ে, তুমি দেখতে পাওনি আরশোলাটা কেমন.... "
"আরশোলা তো ছিলো, কিন্তু তুমি যদি সত্যিই ভয় পেয়ে থাকো তাহলে আবির ভাইকেই কেন? বাড়িতে তো আরো অনেকেই আছে, দরজাটা খুলে বের হলেই তো হতো। তার উপর গায়ে পড়ে আছো ফিনফিনে এত টুকু একটা স্যুট। তুমি ঠিক কি মতলব কষছো তা আমি বেশ ভালোই জানি৷ "
ইরিন নিজের তর্জনী তুলে ধরে দোয়েলের দিকে...
"সাহস কি করে হয় তোমার আমাকে এসব বলার, তুমি জানো আমি কে?"
"জানি, তুমি এই বাড়ির গেস্ট৷ গেস্ট হিসেবে যে কদিন আছো, নিজের সম্মানটা বাঁচিয়ে রাখো। এমন কিছু করো না যেন পুরো বাড়ির লোকের সামনে আমি তোমার চুলের মুঠি ধরে টেনে টেনে বের করতে হয় এই বাড়ি থেকে তোমায়..."
আর দাঁড়ায় না দোয়েল। ভেতরের সমস্ত রাগ জমিয়ে শান্ত করে বেরিয়ে যায় ইরিনের রুম থেকে। নিজ রুমে প্রবেশ করতেই পেছন পেছন নিবিড় ও এসে দরজা বন্ধ করলো আলগোছে...
"ভালোই তো দিলে ইরিনকে দেখছি। "
দোয়েল পেছনে ঘুরে তাকায় নিবিড়ের দিকে। মাথার চওড়া রাগের বসে সরাসটি বলে ওঠে....
"দেখুন, আমি জানি ইরিন আপনার কাজিন।তাই বলে তার অপরাধ গুলো আমি এমনি এমনি মাফ করে দিবো তা কিন্তু নয়।আমার বোনের সংসার ভাঙতে এলে ইরিনকে আমি ছাড়বো না। "
নিবিড় এগিয়ে এসে দোয়েলের মাথায় হাত ঠেকিয়ে বলে...
" ওকেয় ওকেয় কুল... এত রেগে থাকলে আমি ভষ্ম হয়ে যাবো তো এটম... কি হয়েছে? "
দোয়েল ঢোক গিলে নিজেকে শান্ত করে বলে...
"ঐ ইরিন আবির ভাইকে কল করে নিজের রুমে ডেকে নিয়ে যায়, ভয় পাওয়ার ভান ধরে আবির ভাইয়ের সাথে..... আমার বোন বোকা, ও সবটা না বুঝেই কাঁদতে কাঁদতে রুমে চলে গেলো। "
"ইউ মিন... ছোটপাখি জেলাস?"
"তো হবে না?"
নিবিড় দু হাতের আদলে তুলে নেয় দোয়েলের গোলগাল মুখখানি। বিমোহিত কন্ঠে প্রশ্ন করে...
"তুমি জেলাস আমাকে নিয়ে?"
ভ্রু কুঁচকায় দোয়েল, উল্টে প্রশ্ন করে...
"আপনি অন্য মেয়ের কাছে যাবেন?"
"উমমম... যদি কখনো মন ঘুরে যায় তো?"
"ঠ্যাং ভেঙে হাতে ধরিয়ে দিবো একদম। তখন দেখবো ল্যাংরা আপনাকে আমি ছাড়া কোন মেয়ে এসে সেবা করে... "
দোয়েলের এমন চোখ গরম করে বলা কথা শুনে হেঁসে ফেলে নিবিড়। গালে রাখা হাতটা ধীরে ধীরে গলায় স্লাইড করতে করতে বলে...
"আমার সেবা আর করছো কই? ধরতে দিচ্ছো না, খেতে দিচ্ছো না...."
নিবিড়ের ছোঁয়া এলোমেলো হচ্ছে ক্ষনে ক্ষনে বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে দোয়েলের টসটসে ঠোঁটের উপর ঘষছে। চোখ বন্ধ করে নেয় দোয়েল, এতক্ষণের তেজিয়ান কন্ঠের রেশ সরে গিয়ে এক কম্পমান ভাব বিরাজ করে তার স্বরে...
"আ্ আপনিই তো বললেন... এক্সামের আ্ আগে কিচ্ছু নয়... "
"এক্সামের পরে আর কোনো বাঁধা নেই, মেয়ে তুমি সইতে পারবে তো? "
"ন্ নিবিড় ভাই...."
"হুশশশ..."
দোয়েলের ঠোঁটের উপর তর্জনী চেপে ধরে নিবিড়, মাতাল স্বরে বলে...
" কল মি জান, পাখি। নট নিবিড় ভাই.... "
"স্ সবার সামনেও জ্ জান ডাকবো? "
"লজ্জা কাটাতে পারলে ডেকো, আই হ্যাভ নো প্রবলেম। "
"আমি পারবো না..."
"তাহলে শুধু নিবিড়। কোনো ভাই টাই নয়, কোন জনমের ভাই আমি তোমার হুম? জামাই ডাকতে শিখো... "
------
সকালে ঘুম থেকে উঠে আবির রুমে পেলো না চড়ুইকে। এ নিয়ে খুব একটা আর না ঘেটে অফিসের জন্য একেবারে তৈরি হয়েই নিচে এসে পৌঁছালো সে। বাড়ির পরিবেশ ঠান্ডা। রান্না ঘর থেকে টুকটাক আওয়াজ পেয়ে সে দিকে এগিয়ে যায় আবির। জুলেখা তাকে দেখে বললো...
"টেবিলে বোস, আবির বাবা। আমি ব্রেকফাস্ট দিচ্ছি। "
আবির তাই করলো, এদিক ওদিক তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে...
"বাকিরা কোথায় চাচি?"
"তোর আব্বু চাচারা তো অফিসেই, আর নিবিড় গেলো আহিশ, জেসি আর পাখিদের ভার্সিটি ড্রপ করে দিতে। "
"চড়াই ও গেছে? "
"হ্যা, কেন তোকে বলে নি ও?"
আবির ভাবলো, মেয়েটা তাকে ডাকলোও না একবারও। কথা সামলাতে বলে...
"হ্ হ্যা, আমিই ভুলে গিয়েছিলাম।"
সাবিহা এগিয়ে আসে নাস্তা নিয়ে।...
" বিয়ে করেছিস আবির, রাত বিরেতে বাইরে থেকে খেয়ে আসার অভ্যেসটা বদলা এবার... "
মায়ের কথায় আবির চোখ তুলে তাকায় একবার। প্লেট থেকে ব্রেড নিয়ে একটা বাইট দিয়ে চিবাতে চিবাতে বললো...
"বাইরে কখন খেলাম? বাড়ি ফিরেই তো খেয়েছি আমি। "
"তাহলে আরেকটা প্লেটে যে খাবার রয়ে গেলো? "
সাবিহার প্রশ্নে আবির কিছু বলার আগে তারা মুচকি হেঁসে আস্তে করে বললো...
"আরেহ বড়মা, এত ভাবছো কেন? হয়তো আবির ভাইয়া আর ছোটপাখি একই প্লেট থেকেই খেয়ে নিয়েছে... "
আবির বুঝতে পারে না তারার কথার মানে। ভ্রু কুঁচকে সিরিয়াস ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করে...
"ওয়েট আ মিনিট... তোমরা কি বলতে চাইছো? এক প্লেট থেকে ভাগ করে খেয়েছি মানে? "
সাবিহা প্রশ্ন করে...
"কাল রাতে তুই আর ছোটপাখি এক সাথে খাস নি? "
"না তো, আমি তো একাই খেয়েছি। চড়াই-ই খাবার এনে দিয়েছিলো। "
"মানে কি, ছোটপাখি খায় নি? "
"আরেহ ও তো তোমাদের সাথেই খেয়ে নেয় সব সময়.... "
"কাল তোর জন্য অপেক্ষা করছিলো মেয়েটা। তুই জানিসও না আবির? "
চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় আবির। কাল রাতের কথা মনে পড়তেই নিজের ভিতর তীব্র অনুশোচনা জন্মায়। মেয়েটা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলো তার সামনেই। একবার ও বললো না যে সে আবিরের জন্যই অপেক্ষা করছিলো?
"সকালেও তো নাস্তা করে বের হয়নি ছোটপাখি। কি হলো ওর বলতো আবির? আজ সকাল থেকেই কেমন মনমরা ছিলো... "
আবির থ মেরে দাঁড়িয়ে থাকে। পরক্ষণেই আর কোনো কথার উত্তর না দিয়ে চেয়ারের হাতল থেকে নিজের কোর্ট খানা নিয়ে দরজার দিকে এগোয়...
"আমি বেরোচ্ছি.. "
পেছন থেকে সাবিহা ডেকে ওঠে...
"আরেহ তুই কোথায় চললি? নাস্তাটা তো করে যা?"
"তোমার মেয়েকে খাওয়াই আগে, তারপর করবো নাস্তা..."
-------
অফিসে গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকলেও আবির সেথায় যায়নি। এসে পৌছেছে ভার্সিটির সামনে৷ গাড়ি পার্ক করে ভেতরে প্রবেশ করে নিজের দাপটীয় ভঙ্গিমায়। ক্লাস শুরু হয়ে গেছে ইতোমধ্যেই। কক্ষের সামনে এসে ভেতরে থাকা শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে বলে...
"হ্যালো প্রফেসর, মেয় আই... "
প্রফেসর সহ মোটামুটি পুরো ক্লাসের অনেকেরই দৃষ্টি আটকায় দরজার দিকে। প্রফেসর অনুমতি দিতেই আবির প্রবেশ করে। চোখ ঘুরিয়ে চড়ুইয়ের অবস্থান খুঁজে নিয়েছে ইতোমধ্যেই সে। মাঝের সাড়িতে বসে আছে মুখ ফুলিয়ে। আবিরকে দেখেই মাথা নুইয়েছে সে। আবির হাফ নিশ্বাস ফেলে, এই মেয়েকে নিয়ে পারা যায় না। ভেতরে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করলো না সে। প্রফেসরের সাথে কথা বলে নিতেই প্রফেসর নিজেই ডেকে ওঠে চড়ুইকে...
" মিসেস চড়ুই, আপনাকে নিতে এসেছে... "
একটা সেকেন্ড সময়ও ব্যয় না করে চড়ুই পুরো ক্লাসের সামনে দ্রুত বলে ওঠে....
"উনি কিডনাপার স্যার, আমি যাবো না উনার সাথে। "
মেয়েটা এতো বেয়াক্কেলে কথাটা বলে ফেললো ক্লাসের প্রায় অনেকেই অবাক। আবিরের নাক কুঁচকে যায়, আর কত কাহিনি যে করার বাকি এই মেয়ের।
পেছনে ফিরে একবার প্রফেসরকে সরি বলে দ্রুত কদমে এগিয়ে যায় চড়ুইয়ের কাছে। তার এগিয়ে আসার ভঙ্গি দেখে চড়ুই হালকা ভয় পায়, এমন কি দোয়েলও। বোনকে বাচানোর চেষ্টা করে বলতে লাগে....
"ভাইয়া প্লিজ ওকে বকবেন না,ও এত ভেবে চিন্তে কথাটা বলে নি... "
আবির শোনে না দোয়েলের কথা। চড়ুইয়ের হাতের কব্জি ধরে টেনে বলে...
"আমার বউ, আমাকেই সামলাতে দাও বড়পাখি.."
টেবিলের নিচে চড়ুই বেঞ্চের উপর পা ভাজ করে বসে আছে। সেথায় চোখ যেতেই আবির চোখ পাকিয়ে তাকায় তার দিকে। ভরা ক্লাসে আর কিছু না বলেই হেঁচকা টানে তাকে পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে হাঁটা ধরে সামনে।
নিয়ে যাওয়ার ধরনটা মোটেও স্বাভাবিক নয়, হুট করে দেখলে যে কেউ বলবে কিডন্যাপ করে নিয়ে যাচ্ছে এমন। এমনত অবস্থায় পেছন থেকে একটি মেয়ে চেচিয়ে ওঠে...
"আরেহ, আপনি ওকে এভাবে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন,, স্যার কিছু বলুন...."
থেমে যায় আবির, পেছনে ফিরে তীর্যক দৃষ্টিতে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে কঠিন কন্ঠে জবাব দেয়...
"প্রফেসর কি বলবে? ওয়াইফ ও আমার,ওকেয়..."
মেয়েটিও থেমে যায় আবিরের এমন কথায়। আবির হাঁটা ধরে আবার বাইরের দিকে। এদিকে চড়ুউ চেচিয়ে যায়...
"আরেহ কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে, আমার জুতো পায়ে দিতে দিন অন্তত,,আরেহ..."
ক্যাম্পাসের বাইরে এনে গাড়ির পেছনের সীটে বসিয়ে দেয় চড়ুইকে, সাথে নিজেও পাশে উঠে বসে দরজাটা লক করে দেয়। চড়ুই ছোটাছুটি করে ছাড়া পাওয়ার জন্য, আবির এবার বিরক্ত হয়ে মধ্যমায় গতিতে একটা ধমক দিয়ে ওঠে...
"কি সমস্যা কি তোমার? এমন করছো কেন? "
চড়ুই ভয় পায় না, উল্টে নিজেও জোর গলায় চেঁচিয়ে বলে ওঠে...
"আপনি আমাকে তুলে এনেছেন কেন ক্লাস থেকে এমন... "
"আমি তোমার হাসবেন্ড চড়াই, আমার পূন্য অধিকার আছে তোমার উপর... "
"আমি মানি না আপনাকে আমার হাসবেন্ড হিসেবে... "
বুকে লাগে আবিরের, মেয়েটা এত্তো অবুঝ কেন? এত কঠিন কথা কেন বলে সে, সে কি জানে, তার এমন বেনামি কথায় আবিরের বুক কতটা পোড়ায়....
বা হাতের সাহায্যে চড়ুইয়ের থুতনি চেপে ধরে আবির। মুখ উঁচিয়ে হতাশায় নিমগ্ন কন্ঠে বলে ওঠে....
"তাহলে কাকে মানিস? আহিশ কে? খুব ভালোবাসা তোর ওর প্রতি?খুব? "
বিরক্তিতে মুখ কুঁচকে নেয় চড়ুই, আবিরের থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে বলে....
"আপনি পাগল হয়ে গেছেন। আহিশ আমার বন্ধু, আমার ভাই... ওকে কেন ওসব মানতে যাবো আমি?"
"তাহলে ওকে বিয়ে করবি বলে লাফালাফি করলি কেন? বল?"
"আজব আমি ওকে কেন বিয়ে করবো, ওটা তো আমার বরের অভাব ছিলো তাই ওকে দিয়ে বিয়ের সময়টা মানিয়ে নিচ্ছিলাম আমরা সবাই। আমি আর বোন বিয়ের দিন একই রকম সাজবো না?"
আবির বিচলিত, এই মেয়ে কি সত্যি বলছে? কিছুটা নিশ্চয়তার জন্য আবির ফের প্রশ্ন করে....
"তার মানে, তুমি আহিশকে ভালোবাসো না?"
"নাহ... "
"আ্ আর আহিশ ও তোমায় ভালোবাসে না?"
"নাহ "
" এতদিন সবটা তাহলে নাটক ছিলো... "
"আরে হ্যা বাবা, এবার আমায় ছাড়ুন আপনি। আমাক ক্লাস আছে.. "
আবিরের খুশি খুশি লাগছে। ঠিক যেন ঈদের মতো খুশি৷ এতদিন যেই প্রতিহিংসার আগুনটা আবিরের মনে দাও দাও করে জ্বলতো সেটা যেন এক নিমেষেই দূর হয়ে গেছে৷ অফিস গেলেও মেয়েটার চিন্তায় সে শান্তিতে এক ফোঁটা নিঃশ্বাস পর্যন্ত ফেলতে পারতো না, এই বুঝি আহিশ তার চড়ুই পাখির কাছে গেলো, এই বুঝি ওরা এক সাথে কথা বলছে, এই বুঝি আহিশ তার চড়াইটিকে তার থেকে আলাদা করে নিলো। ইশশশ, না বলতে পারা কি দুরূহ যন্ত্রণা...
নিজের চরম রাগ অভিমান পানির মতো গলছে, সামনের মেয়েটির থুতনির বাধন হালকা করে এক হাতে তার কোমড় পেচিয়ে টেনে নিজের কোলের উপর বসায় সে। চড়ুইয়ের মাথাটা নিজের বুকে শক্ত করে চেপে ধরে বসে থাকে সে নীরবে।
চড়ুই থমকায়, লোকটাকে অস্থির দেখাচ্ছে কেমন এমন? আবিরের কাজে কোনো প্রকার বাঁধা না দিয়ে নীরবে তার বুকে মাথা ঠেকিয়ে রইলো। হৃদপিণ্ডের আওয়াজ স্পষ্ট হয়েছে, দারুন এক তরঙ্গের মতো সুর তুলেছে যেন সেটি। চড়ুইয়ের মায়া হয়, কন্ঠের লেশ নামিয়ে আস্তে করে প্রশ্ন করে....
"আ্ আপনার কি শরীর খারাপ করছে? এমন হাপাচ্ছেন কেন?"
আবির চোখ নামিয়ে তাকায় চড়ুইয়ের উৎসুক মুখখানির দিকে।কপালের পাশে লেপ্টে থাকা এলোমেলো চুল গুলো আঙুলের ডগার সাহায্যে কানের পিঠে গুঁজে দেয় আবির তার। কোমল কন্ঠে জিজ্ঞেস করে...
" আমার জন্য চিন্তা হয় তোমার,মেয়ে? "
চড়ুই নির্লিপ্ত চেয়ে থাকে আবিরের পানে। উত্তর দেয় না কিছুরই।কিছুটা সময় কাটে ওভাবেই, আবিরও সময় দিচ্ছে হয়তো। কিন্তু চড়াই উত্তর দেয় নি, বরং সমুদ্রের জোয়ারের মতো কথা পাল্টে প্রসঙ্গ তুললো আরেকটি। আবদার, আদুরে স্বভাব আর মায়ার তরীর মতো মুখে বায়না করলো কিনা কে জানে? শুধু আবিরের থেকে অনুমতি চাইলো অপ্রত্যাশিত কিছুরই...
"আপনার শার্টের উপরের বোতাম গুলো একটু খুলে দিবেন? আমার না আপনার খোলা বুকে নাক চুলকাতে ইচ্ছে করছে খুব। "