দোয়েলের কোলে মাথা ঠেকিয়ে গুমোট ভাবে শুয়ে রয়েছে চড়ুই। সেই কখন থেকে এমন চলছে হিসেব নেই। এর মধ্যে নিবিড় দুইবার রুমে এসে ঘুরে ফিরে গিয়েছে, কোনো লাভ হয় নি। এবার আবারো এসে দাঁড়ালো দরজার সামনে। দোয়েলের দৃষ্টি পড়লো সে দিকে। করুন চোখে একবার নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে অনুরোধের সুরে বলে...
" আবির ভাইয়ের কাছে যাও না একটু। বোন তো কিছুতেই থামছে না..."
নিবিড় সোজা হয়ে দাঁড়ালো। 'যাচ্ছি ' বলে রওনা হলো পাশের রুমের উদ্দেশ্যে। ভেতরে একটা গুমোট ভাব। লাইট গুলোও নেভানো। আবির কোথায়?
কারোর জোরসে নাক টানার শব্দে নিবিড় এগিয়ে যায় বারান্দার দিকে। এইতো আবির। অফিস থেকে ফিরার পর এখনো পোশাকও বদলায় নি। ছেলেটার হাবভাব দেখে নিবিড় ঠাট্টার স্বরে বলে ওঠে...
"তুই কাদছিস ব্রো? সিরিয়াসলি?"
আবির আজ আর আড়াল করে না। সরাসরি ফিরে তাকায় নিবিড়ের দিকে। চোখ দুটি অসম্ভব লাল হয়ে আছে, পাপড়িতেও পানির আভাস। হ্যা, সে সত্যই কাদছিলো। নিবিড়ের হাসি গায়েব হয় এই বার। এক কদম এগিয়ে গিয়ে আবিরের কাঁধে হাত রাখে। চোখে চোখ রাখে, সম্পর্কটা বন্ধুর মতো হলেও তারা তো একই নাড়িরই, তাই এক জনের মনোভাব যেন খুব সহজেই বুঝে নিলো আজও প্রতিবারের মতো। কিছু সময় পর নিবিড় প্রশ্ন করে....
"এত ভয় পাচ্ছিস কেন? এটা তো স্বাভাবিক তাই না? সব কাপলরাই ফেস করে এটা। "
আবির মুখ ঘুরিয়ে শ্বাস ফেলে দীর্ঘ। হতাশার স্বরে বলে ওঠে...
" তুই বুঝবি না ভাই.."
" আরেহ, এটা কেমন কথা। শোন তুই বিয়ে করেছিস, এখন বাচ্চা তো আসবেই আজ নয় তো কাল। তোর সমস্যা কি বাচ্চা নিতে? "
আবিরের কন্ঠের তেজ বাড়ে..
"আমার বাচ্চা নিতে সমস্যা নেই, কিন্তু এখন নিতে সমস্যা আছে। "
"ইট’স ওকেয়, কুল ব্রো..আমি বুঝতে পারছি এত তারাতারি... তোর এখনো হয়তো হানিমুনের সময়টা..."
আবির শক্ত চোখে তাকায় নিবিড়ের দিকে। বলে..
"তোর মনে হয় আমি শুধু ইন্টিমেসির জন্য বাচ্চা চাইছি না? হাউ সিলি..."
নিবিড় নিরব থাকে। আবিরের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর তেমন কোনো ভালো উপায় খুঁজে পায় না সে। আবির আবারো নাক টানে। শার্টের হাতায় চোখের পানি মুছে নিয়ে ঢোক গিলে বলে...
"ওয়াইফি নিজেই এখনো বাচ্চা। আমি তোকে বলে বুঝাতে পারবো না ভাই.. বিয়ের আজ প্রায় ৪-৫ মাস পাড় হয়ে গেছে। এখনো ওর কাছে যেতে হলে জোর করতে হয়, ভয় পায় ও। সাথে পেইন... এখন এটা ভাবিস না যে আমি ওর এসবের প্রতি বিরক্ত। তেমন নয়, কিন্তু এমন অবস্থায় কনসিভ করেছে, তাও অলরেডি ফোর মান্থ রানিং। কয়েকদিন পর পর চেকআপের জন্য যেতে হবে, তুই তো জানিসই পাখিদের হসপিটালে ফোবিয়া। আ্ আর ডেলিভারির সময় কি করবো আমি তখন? আমার ওয়াইফির যদি ক্ কিছু হয়ে যায় তো? আ্ আমি কি করে বাঁচবো.... "
আবিরের গলা ভেঙে আসে বলতে বলতে। নিবিড় এগিয়ে গিয়ে কাঁধে চাপর দিয়ে শান্ত করতে চায় তাকে। রুম হতে সাবিহার কন্ঠ শুনে নিজেকে সামলে নেয় আবির। নিবিড় সহ দুজনই রুমে এসে দাঁড়ায় সাবিহার মুখোমুখি।
সাবিহার চোখ মুখ কঠিন, পাশে আহিশও আছে। তার ভাব ভঙ্গিতেও তেমন কোনো পরিবর্তন লক্ষ্যনীয় নয়।
নিবিড় স্বভাবত জিজ্ঞেস করে...
"এত রাতে তোমরা এখানে আম্মু? ঘুমাও নি কেন? "
সাবিহা সরাসরি তাকায় আবিরের দিকে। কঠিন স্বরে বলে ওঠে...
"বাচ্চাটা কেন চাইছিস না তুই?"
সাবিহার প্রশ্নে আবির নীরব থাকে। কথাটা তার কান অব্দি চলে গেছে এতক্ষণে। আবিরকে নীরব থাকতে দেখে সাবিহা আবার বলে ওঠে...
" ছোট পাখির অবস্থা এখন দেখেছিস? এই সময় মেয়েটাকে কি না কি বলে তুই কান্না করাচ্ছিস, এতে ওর শরীরের উপর প্রভাব পড়বে জানিস তুই এগুলো? "
"আম্মু তুমি বুঝতে পারছো না। চড়াই পাখির শরীর খুব একটা স্টেবল না.. এই মুহুর্তে বাচ্চা...."
"তো এতে কি ওর একার দোষ? ওর শরীরের এত চিন্তা হলে কাছে গিয়েছিস কেন? আলাদা ঘরেই থাকতি?"
আবিরের মাথা চটে যায়। রাগে হালকা চেচিয়ে বলে ওঠে...
"কি আজব, এখন আমার বউয়ের কাছে যেতে হলেও সবার অনুমতি নিয়ে যেতে হবে? এটা কোন ধরনের কথা? "
" আমি সেটা বলতে চাই নি... তুই একটু মেনে বেছে চললেই তো... "
"তোমার কি মনে হয় আমি এসব চিন্তা ভাবনা করি নি? ওকে আমি মেডিসিন এনে দিই নি? এখন ও যে মেডিসিন এভোয়েড করে যাচ্ছে এত কিছু কি করে খেয়াল রাখবো আমি? আমি কি জানতাম চড়াই আমার অবাধ্য হবে?"
নিবিড় আবিরকে সামলায়...
"ভাই, শান্ত হ..... আস্তেধীরে... "
আবির তাকে থামিয়ে দেয়। সাবিহার দিকে তাকিয়ে কঠিন স্বরে বলে...
"বেয়াদবি মাফ করো আম্মু, কিন্তু এই বিষয়ে আমার সীদ্ধান্তটা আমাকেই নিতে দাও। প্লিজ জোর করো না আমায়। আমি ভেবে চিন্তেই বলছি, এই বাচ্চাটা আমি রাখতে পারবো না। প্লিজ আম্মু...."
সাবিহা সহ বাকি সকলেই নীরব হয়ে যায়।বেশ কিছুটা সময় পর বলে সে...
"ঠিক আছে। আমি আর কিছুতে জোর করবো না তোকে। কিন্তু ছোটপাখির কথাটাও ভাববি দয়া করে..."
আহিশও বলে ওঠে....
" ছোটপাখির মনে কষ্ট দেওয়ার আগে ভেবে নিবি আবির ভাই। ওর কিছু হলে আমি কিন্তু ছাড়বো না তোকে। "
আবির ধমকে বলতে নেয়...
"আহিশ....."
"প্লিজ আবির ভাই.. আমি জানি তোর অনেক ক্ষমতা, তুই চাইলে আমাকে জায়গায় পুতে ফেলতে পারিস। কিন্তু ছোটপাখি আমার বন্ধু। আমি আমার বন্ধুর চোখে পানি দেখতে চাই না। ও যাতে কষ্ট না পায়... "
আর কোনো কিছু না বলেই আহিশ বেরিয়ে যায় রুম থেকে। সাবিহাও এক পলক আবিরের দিকে এক পলক চেয়ে রুম ত্যাগ করে।
আবির হাফ নিশ্বাস ফেলে নিবিড়কে জিজ্ঞেস করে....
"ওয়াইফি কি করছে?"
"আর কি করবে? কাঁদছে বসে বসে..."
" রাত বেড়েছে। ওকে আমার ঘরে পাঠিয়ে দিস... "
নিবিড় মাথা নেড়ে সায় জানিয়ে চলে যায়।
আবির ফিরতেই দেখা মিললো চড়াইয়ের। মেয়েটা এতক্ষণ দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে। কখন এলো?
পড়নের শাড়ির আচলটা সম্পূর্ণ ছেড়ে দেওয়া, শেষের কোন টুকু ফ্লোরে লাগছে। নিবিড় পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়ার পর জড় বস্তুর মতো রুমে ঢুকে ছিটকিনি আটকে দেয় চড়ুই। আবির নিরবে তাকিয়ে পর্যবেক্ষণ করে তাকে।
আবিরকে পাশ কাটিয়ে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে শান্ত ভঙ্গিতে নিজের গায়ের গয়না গুলো খুলে রাখে সে। হাতের চুড়ি গুলো খুলতে গিয়ে বেশ বেগ পোহাতেই হচ্ছিলো তার। কাঁচের চুড়ি, আবিরেরই দেওয়া। কিছুক্ষণ টেনেটুনেও যখন কাজ হচ্ছে না, রাগে, বিরক্তিতে চড়ুই করে বসলো এক অদ্ভুত কাজ। চুড়ি যুক্ত হাতখানা টেবিলে বারি মারলো জোরসে৷ সাথে সাথে ঝনঝন আওয়াজ তুলে চুড়ি গুলো ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো৷
মেয়ের এমন পাগলামো দেখে আবির আর থেমে থাকতে পারলো না।ছুটে এসে চড়ুইয়ের হাত নিজ হাতে তুলে নিলো সে।
"কি করছো এসব চড়াই.. মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোমার?"
চড়ুই এক ঝটকায় আবিরকে ছাড়িয়ে নেয়। তার থেকেও উচ্চস্বরে চেচিয়ে ওঠে...
"ছুবেন না আপনি আমায়... একদম ছুবেন না... "
আবির শোনে না, মেয়েটার পাগলামোর মাত্রা ক্ষনে ক্ষনে বেড়ে যাচ্ছে। আবির চেয়েও যেন পারছে না তা থামাতে....
"আপনি শুধু আমার শরীর ভোগ করার জন্যই বিয়ে করেছেন তাই না? এর পরের প্ল্যান কি আপনার? বলুন আমায়?"
"চড়াই তুমি পাগল হয়ে গেছো,এসব কি বলছো তুমি হ্যা? "
"ঠিকই বলছি আমি। না হলে আপনি বাচ্চা চাইছেন না কেন? কেন আমার বাচ্চাকে নষ্ট করার কথা বলছেন আপনি? উত্তর দিন আমায়?"
"চড়াই তুমি... "
"কি হ্যা? আমার বাচ্চা, আমি নষ্ট করতে দিবো না আপনাকে। আপনার সমস্যা হলে আমায় ডিভোর্স দিয়ে দিন, আমি একাই আমার বাচ্চাকে সামলাবো।... "
আবিরের মাথা চটে যায়, চড়ুইয়ের তীব্র ঝাঁঝালো কথা গুলো আর মেনে নেওয়ার মতো হচ্ছে না যেন। সপাটে একটা চর বসিয়ে দিলো চড়ুইয়ের গালে।
শান্ত হয়ে যায় চড়ুই।ঘন নিশ্বাস ফেলতে ফেলতে ছলছল চোখে তাকিয়ে থাকে আবিরের দিকে। আবিরও নীরব, হঠাৎ চড়ুই হেলে পড়ে যায় একপাশে কিছু বুঝে ওঠার আগেই। আবির তড়িৎ গতিতে ধরে তাকে। বুক কেঁপে ওঠে তার। এতক্ষণ রাগ রাখলেও এই মুহুর্তে মনে ভয় জেঁকে বসেছে লোকটার। চড়াই পাখির কিছু হলে যে আবির বাঁচবে না...
চড়ুইয়ের যখন জ্ঞান ফিরলো, পাশ থেকে কারোর নাক টানার শব্দ ভেসে আসে কানে। চোখ মেলে তাকাতেই দেখতে পায় আবিরের ভেজা চোখমুখ। লোকটা কাঁদতে কাঁদতে কি বেহাল অবস্থা করে ফেলেছে এই টুকু সময়েই।
চড়ুইয়ের মাথাটা ঠিক আবিরের বুকে ঠেকানো, ঝাপ্টে ধরে রেখেছে তাকে। মেয়েটার বুকটা হুহু করে ওঠে আবিরের কান্নায়, এই পাষন্ড লোকটাও কাঁদে?
ছোট গোলগাল একটি হাত আবিরের কোমর পেচিয়ে ধরতেই আবির মুখ তুলে চায়। চড়ুই নীরবে তারই বুকে মুখ গুঁজে রয়েছে। সারাটা দিনের এত এত ঝামেলাকে ছাপিয়ে শেষমেশ আবিরের বুকেই নিজের শেষ আস্থা বেছে নিয়েছে মেয়েটি। আদুরো হাত দিয়ে জড়িয়ে রেখেছে আবিরকেই। তখনকার সেই রাগ জেদ কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছে। এই নির্জন নিশিথে এসে ভীড়লো বাচ্চামো এক স্বভাব। আবিরকে জড়িয়ে রেখেই নির্মল কন্ঠে আবদার ছুড়ে চড়াই পাখিটি...
"বাচ্চাটাকে আনতে দিন না দানাবল? উপরওয়ালার দান কখনো ফিরিয়ে দিতে নেই, উনি নারাজ হবে তো। প্লিজ দানাবল, আমার বাচ্চাকে আসতে দিন না? আমি আপনি মিলেই ওকে বড় করবো, অনেক আদর করবো তো।.... "
আবির আস্তে করে চড়ুইয়ের চুলের ভাঁজে চুমু খায়। কোমল কন্ঠে প্রশ্ন করে....
"তুমি তোমার আদরের ভাগিদার আনতে চাইছো বউ? বাচ্চা আসলে তো তোমার আদর কমে যাবে... "
"আপনি আমায় ভালোবাসেন না? ভালোবাসলে কি কখনো আদর কমে যায়? এই যে তখন এত ঝগড়ার পরও আপনি আমায় আদর করছেন এখন... "
আবির নীরব হয়ে যায়। উত্তর খুঁজে পায় না সে। এক হাতে চড়ুইয়ের চুলের ভাঁজে হাত বুলিয়ে যায় নীরবে। একটু সময় পর জিজ্ঞেস করে...
"ক্লান্ত লাগছে পাখি?"
"হুম,, একটু.. "
"ঘুমাও তাহলে।"
"আপনি এভাবে থাকুন তাহলে? "
"আমি আছি, সব সময় আছি। "
চড়ুই আস্থা নিয়ে চোখ বুঝলো, শুধু ঘুম হারিয়ে গেলো আবিরের চোখ থেকে। সে ঠাওরও করতে পারলো না আগামীর প্রতিটা দিনই তার নিদ্রাহীন কাটবে। এই সময়টা শুধু মাত্র একটি আরম্ভ...
সময় কাটছে, রজনী দীর্ঘ হচ্ছে। চড়াই পাখিটি ঘুমিয়ে যাওয়ার পর আবির নিজের স্থান পরিবর্তন করে মেয়েটির কোমল পেটে আলতো করে মাথা রাখলো। গুনগুনিয়ে নিজে নিজেই কথা বলতে লাগলো অনাগত শিশুটির সাথে...
"তুমি আসতে চাইছো পৃথিবীতে? বাবার প্রতি রাগ করছো? বাবা তোমাকে আসতে মানা করিনি বাচ্চা, কিন্তু এত তারাতারি না আসলেও পারতে। তোমার মা নিজেই তো এখনো পরিপূর্ণ হয়ে ওঠেনি তোমাকে আনার জন্য। বাবা কি করবে এখন বলো?"
কোথাও থেকে কোনো উত্তর আসে না। আবির কি অপেক্ষা করে উত্তরের? হয়তো, আবার হয়তো না। হঠাৎ আপন মনেই মৃদু হেসে ওঠে সে। মনে মনে ভাবে.. ইশশ, লিওটার আদরও কমে যাবে। ও কি হিংসা করবে বাচ্চাটাকে? হয়তো করবে,হয়তো নয়, করবেই। করারই কথা।
আবির নড়েচড়ে বসে। দৃষ্টি দেয় চড়ুইয়ের উদরে। মুখ নামিয়ে দুটো, তিনটে, চারটে চুমু খেয়ে আবার বলতে শুরু করে..
"চলো তোমার সাথে বাবা আজই একটা ডিল করে নিই।বাবা তোমার যত্ন করবে। কোনো কষ্ট পেতে দেবে না। তার বদলে তুমিও মায়ের খেয়াল রাখবে কেমন? তোমার জন্য যেন তোমার মায়ের কোনো কষ্ট না হয়, তাহলে কিন্তু বাবা খুব রাগ করবে। বাবা তোমার মায়ের উপর রাগ করতে পারো না জানো তো বাচ্চা? কিন্তু মাকে কষ্ট দিলে তোমার উপর রাগ করবে। মায়ের যেন কষ্ট না হয় কেমন বাচ্চা?
আর শোনো, এখানে আসার পর তোমার পছন্দের সব কিছু বাবা এনে দিবে, কিন্তু মায়ের পছন্দের কিছুতে যেন ভাগ দিও না আবার৷ এই যেমন, মা যখন রসমালাই খাবে তখন একটুও কান্নাকাটি করবে না কেমন? মায়ের পছন্দের জিনিসের দিকে একদম নজর দিবা না তুমি, একদমই না..."