"এই মেয়ে, মাথা ঠিক আছে তোমার? প্রেগন্যান্ট মানে কি হ্যা? তোমার বিয়ে হয়েছে নাকি?"
আবিরের ধমক কানে যেতেই চোখ সরু করে তার দিকে তাকায় চড়ুই। রাগ হয় তার, লোকটা এই সময়ও তাকে বকে যাচ্ছে। রাগে খোবে আবিরের থেকে নিজেকে ছারিয়ে নিতে চায়। আবির তা বুঝতে পেরে নিজের সাথে চেপে ধরে চড়ুইকে। চড়ুইয়ের কথাটা একদমই আশানুরূপ ছিলো না আবিরের কাছে। এলোমেলো চিন্তায় শুকনো ঢোক গিলে সে। চড়ুইয়ের নেতিয়ে পড়া থুতনিটা আলতো করে দু আঙ্গুলে চেপে নিজের দিকে ঘুরিয়ে আস্তে করে জিজ্ঞেস করে....
" পিরি'য়ড মিস দিয়েছিলে তুমি?"
চড়ুই মুখ কুঁচকে নিয়ে বলে ওঠে....
"আপনাকে কেন বলবো? আমায় হসপিটালে নিয়ে চলুন? "
"ওয়াইফি মাথা গরম করিও না তুমি, যা জিজ্ঞেস করছি বলো?"
চড়ুই মুখ ফুলিয়ে বলে ওঠে...
"হ্যা, হয়েছে তো.. "
আবিরের শরীর ভেঙে আসে, তবে সত্যিই চড়ুই কারোর সাথে....
" আমি যখন ক্লাস টেনে ছিলাম তখন একবার মিস হয়ে গেছিলো, পাক্কা এক মাস পর.... "
"ক্লাস টেন? "
"হ্যা... "
"এখন ঠিকঠাক? "
"হ্যা এখন তো ঠিকই আছে। "
আবির হতভম্ব নয়নে তাকায় চড়ইয়ের দিকে। তার আর বুঝতে বাকি নেই গাধীটা আবোলতাবোল বকছে। হাফ নিশ্বাস ফেলে ডান হাত কাজে লাগিয়ে সূক্ষ্ম ভঙ্গিতে পেঁচিয়ে চড়ুইকে পাঁজা কোলে তুলে নেয় এক হাতেই, তারপর একটু নিচু হয়ে একটু আগের খুলে রাখা চড়ুইয়ের ব্ল্যাক স্টিলেটো জোড়া হাতে তুলে সটান ভঙ্গিতে হাটা ধরলো সামনে। পড়ে যাওয়ার ভয়ে চড়ুই দু হাতে গলা জড়িয়ে ধরে আবিরের। অভিমানি সুরে বলে ওঠে...
"কোলে নিলেন কেন? নামান আমাকে."
আবির কোনো প্রকার রাগ ছাড়া দৃষ্টি সামনে রেখেই বলে ওঠে.....
"তুমি হাটলে বাচ্চারা কষ্ট পাবে না? "
"কোন বাচ্চা? "
"ঐ যে, ওখানে যে আছে.. "
আবিরের দৃষ্টি অনুসরণ করে চড়ুই চোখ নামিয়ে নিজের পেটের দিকে তাকায়। হঠাৎ মনে পড়ে যায় তখনকার লোকটার সেই বাজে স্পর্শের কথা, ভেবে নিলো এক্ষুনি আবিরকে বলবে সে, পরে যা হওয়ার হোক...
"শুনুন না দানাবল?"
"বলুন আমার না হওয়া বাচ্চার মা? "
"তখন না ঐ লোকটা আমাকে...."
"আরেহ মি. চৌধুরী,, বাইরে যে? "
রায়হানের আগমনে থেমে যায় চড়ুইয়ের কথা। সামনে তাকিয়ে রায়হানকে দেখতেই কিছুটা তটস্থ হয়ে আবিরের গলা আরেকটু শক্ত করে দু হাতে চেপে ধরলো। আবির রায়হানের কথায় উত্তর দিয়ে বললো....
"আ'ম লিভিং, সি ইজ ফিলিং সিক... "
আবিরের কথায় রায়হান এক পলক চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো...
"উনি কে? "
রায়হানের প্রশ্নে আবির মাথা নামিয়ে চড়ুইয়ের দিকে তাকায়, চড়ুই কেমন যেন গুটিয়ে নিচ্ছে নিজেকে। আবিরের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে শিখিয়ে দেওয়ার ভঙ্গিতে বলে....
"উনাকে বলুন, আমি আপনার বোন হই। বলুন না?"
আবির মুখ কুঁচকে নেয়। চড়ুই বারবার ঠেলছে তাকে এই কথাটি বলার জন্য, আবির এবার বিরক্ত হয়ে চড়ুইকে নিয়ে এগিয়ে যায় নিজের গাড়ির কাছে। কোল থেকে নামিয়ে চড়ুইকে গাড়িতে বসিয়ে দরজা আটকে বলে....
"চুপচাপ এখানেই বসো, আমি কথা বলে আসছি। একদম দুষ্টামি নয়। "
চড়ুইকে রেখে আবির এগিয়ে যায় আবার রায়হানের কাছে। তখনকার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বলে....
"আমার ফিয়ন্সে.."
রায়হান ভ্রু কুটি করে নেয়, আবির তার অভিব্যাক্তি লক্ষ্য করে কিছুটা ঠোঁট এলিয়ে হাসে। রায়হান বেশ নাটকীয় ভঙ্গিতে হেঁসে বলে....
"টুইনস ব্রাদার কিনা শেষমেশ আন্ডারএইজের মেয়ে বিয়ে করবে?"
আবির হেঁসে ফেলে, মাথা দু পাশে নাড়িয়ে বলে....
"সি ইজ অলরেডি এইটিন, বেবিফেইসের কারনে বাচ্চা মনে হয়, এই আরকি৷ "
"ওহ৷ আই আন্ডারস্ট্যান্ড। যাই হোক, আপনার ওয়াইফ কিন্তু মাচ প্রিটি মি. চৌধুরী। "
"আবির বিন চৌধুরীর বউ বলে কথা, একটু তো প্রিটি হতেই হয়..."
"ওখেয় মি.আমিও চলে যাচ্ছি। একচুয়ালি, আমার গাড়িটা খারাপ হয়ে গেছে দেখছি৷ আপনি কি ডিরেক্ট এখন বাড়ি ফিরবেন? "
"হ্যা..."
"ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড, যদি সম্ভব হয় আমাকে কি একটু লিভ দেওয়া যাবে? সেম ওয়ে দ্যাটস ওয়াই...."
আবির একবার পেছনে ফিরে গাড়িতে বসা চড়ুইয়ের দিকে তাকায়, একটু ভেবে রাজি হয়ে বলে...
"ইয়াহ শিউর, যাওয়া যাক? "
দুজনই এগিয়ে যায় গাড়ির কাছে। চড়ুইয়ের পাশের দরজাটা খুলতেই আবির লক্ষ্য করে চড়ুইয়ের হাতে ফোন, বেশ মনোযোগ দিয়ে বাচ্চাদের মতো গেইম খেলছে সে।....
"আমার ফোন তোমার কাছে? "
চড়ুই গেইমে দৃষ্টি রেখেই বলে....
"হ্যা, আপনার পকেট থেকে নিয়ে নিয়েছি তখন। "
"লক কিভাবে খুললে?"
"আপনি তো পশুপাখি লালন পালন করেন, তাই ভাবলাম তেমন কিছু দিয়েই ট্রাই করি। Penguin লিখতেই লক খুলে গেলো।"
আবির হালকা চমকে বললো..
"হুমমম, ব্রিলিয়ান্ট। নিজেকে নিজে ভালোই চিনো তাহলে।"
চড়ুই উত্তর দেয় না। আবির এবার বলে....
"পেছনে গিয়ে বসবে উঠো। "
"কেন?"
"এখানে উনি বসবেন,আমাদের সাথে যাবে।"
আবিরের কথায় এতক্ষণে চড়ুই মুখ তুলে আবিরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রায়হানের দিকে তাকাতেই তার মেজাজ বিগড়ে যায়। রায়হান কেমন বাঁকা হেঁসে লোভাতুর দৃষ্টিতে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। চড়ুই রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে আবিরের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে ....
"উনি কেন যাবে আমাদের সাথে। উনি কে আমাদের সাথে যাওয়ার? উনাকে নেওয়ার দরকার নেই... "
চড়ুইয়ের এমন কথায় আবির চোখ রাঙায় তাকে। মেয়েটা যার তার সামনে হুটহাট এমন কথা বলে ফেলে...
"ওয়াইফি? এটা কি ধরনের কথা,এভাবে বলতে হয়?"
চড়ুইও জেদ দেখিয়ে বলে...
"এত কথা আমি জানি না, উনি আমাদের সাথে যাবে না মানে যাবে না ব্যস..."
"চড়াই, আমায় রাগিও না,,যা করছি করো। পেছনে যাও ফাস্ট..."
চড়ুই আর কিছু বলতে পারে না। রাগে রিরি করতে করতে আবিরের ফোনটা এক প্রকার ছুড়ে মারে পাশের সীটে। নেমে গিয়ে পেছনের সীটে বসে শব্দ করে দরজাটা আটকে দেয়।
আবির নীরবে শুধু দেখতে থাকে চড়ুইয়ের কান্ড। মেয়েটা আজ যেন একটু বেশিই করে ফেলছে। রায়হান সামনে থাকায় আবির খুব একটা ঘাটে না তাকে। চড়ুইয়ের শাড়ির আচলটা দরজার সাথে আটকে আছে দেখে এগিয়ে গিয়ে দরজাটা খুলে শারিটা ঠিক মতো ভেতরে দিয়ে রাগী লুকে একবার চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে দরজা লক করে এগিয়ে আসে সামনে।
"সরি মি. রায়হান,,, ও একটু... "
আবিরের কথায় রায়হান হেঁসে বলে...
"ইট’স ওকেয় মি. চৌধুরী। আমি কিছু মনে করিনি। "
রায়হান আবিরের পাশের সীটে উঠে বসে,আবিরও গাড়ি স্টার্ট দেয় নিজের মতো। লুকিং গ্লাসে চড়ুইকে ঝিমুতে দেখে বা হাতে ফোনটা নিয়ে চড়ুইয়ের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে...
"নাও, গেইম খেলতে চাইলে খেলো..."
চড়ুইয়ের এমনিতেই মাথা গরম, তার উপর আবিরের এহেন কাজে বিরক্ত হয়ে ফোনটা নিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয় বাইরে। চড়ুইয়ের কাজে হতভম্ব হয়ে যায় আবির। দ্রুত গাড়ি থামিয়ে রাগে চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে....
"কি হয়েছে তোমার? এটা কেন করলে?"
চড়ুইও মুখের উপর বলে বসে...
"যা করেছি বেশ করেছি। "
রায়হানের সামনে আবির কথা বাড়াতে চায় না, গাড়ি থেকে নেমে ফোনটা নিতে যায় বাইরে। এই সুযোগে রায়হান পেছনে ঘুরে বক্র হেঁসে বলে ওঠে.....
"বেশ ঝাজ তো তোমার মেয়ে। তোমাকে বিছানায় পেলে বেশ মজাই হবে। "
চড়ুই তর্জনী উচিয়ে বলে...
"আমি এক্ষুনি উনাকে আপনার কথা সবটা বলে দিবো। "
রায়হান বাঁকা হেঁসে বলে...
"কাকে? মি. চৌধুরীকে? আরেহ সে নিজেই তো তোমাকে বিক্রি করে দিয়েছে চওড়া দামে। একটু পরে দেখো, আমার সাথে তোমাকেও নামিয়ে দিবে, তারপর...."
বাঁকা হাসে রায়হান। চড়ুইয়ের মাথায় যেন বাজ পরে। আবির এসব কিছু জানে? ইচ্ছে করে চড়ুইকে নিয়ে এসেছে, বিক্রি করে দেবে?
ভাবনার মাঝেই আবির ফিরে এসে গাড়ি স্টার্ট দেয় আবার। চড়ুই ভয়ে তটস্থ,জানালা খোলা থাকলেও শরীরে চিকন ঘাম দেয় তার। কি করবে এখন সে? চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ মারবে? নাহ, তাহলে তো এমনিই মরে যাবে।
গাড়ি চলছে নিজ গতিতে। সামনে আবির আর রায়হান নিজেদের মধ্যে কতা বলছে। এদিকে চড়ুইয়ের মনে ভয়, নিজেকে গুটিয়ে শুধু ভাবছে কি করবে এখন। রাত গভীর হওয়ায় ঘুমও পাচ্ছে তার, কিন্তু এখন ঘুমালে তো চলবে না।...
বেশ কিছুক্ষণ পর রায়হানের বাড়ির সামনে গাড়ি থামায় আবির। রায়হান নেমে দাঁড়ায়, আবির পেছনে না ফিরেই সীটবেল্ট খুলে নেমে এসে চড়ুইয়ের পাশের দরজাটা খুলতেই আত্মা কেঁপে ওঠে মেয়েটার। ভয়ে তটস্থ হয়ে পিছিয়ে গিয়ে অন্যপাশে সেটে বসে সে।
"নেমে আসো? "
আবিরের এই টুকু কথাতেই চড়ুই দ্রুত দু পাশে মাথা নাড়ায়। আবির বুঝতে পারে না তার এমন করার কারন। তাই দ্বিতীয়বারের মতো বলে ওঠে....
"কি হলো নামো? "
"আ্ আমি নামবো না।"
আবির বারবার ডাকতে থাকে চড়ুইকে কিন্তু সে কিছুতেই গাড়ি থেকে নামবে না। আবিরের মেজাজ চরম বিগড়ে যায়। রায়হান পেছন থেকে শয়তানি হাসি দিয়ে বলে....
"মি.চৌধুরী,, আমি কি কিছু হেল্প...."
"নো মি. রায়হান। আপনি বাড়ি যান, আমি সামলে নেবো। "
রায়হায় মাথা ঝাঁকিয়ে হেঁসে নিজের বাড়িতে প্রবেশ করে। সে যেতেই আবির এবার আর শান্ত থাকতে পারে না, ভেতরে ঝুঁকে চড়ুইকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসে সে। চড়ুই কিছুতেই আসবে না, চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রুকণা। এদিকে আবিরও রেগে জোর করে চড়ুইকে বের করে সামনের সীটে বসিয়ে দিয়ে সীটবেল্ট বেঁধে দিয়ে দ্রুত নিজের সীটে এসে বসে আবার। গাড়ি স্টার্ট দিতে যাবে তখনই চড়ুই রাগে চেচিয়ে বলে ওঠে....
"আপনি আমায় বিক্রি করে দেওয়ার জন্য নিয়ে এসেছেন? কি দোষ করেছি আমি হ্যা? "
আবির রাগে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকায় চড়ুইয়ের দিকে, হিসহিসিয়ে বলে ওঠে....
"মাথা ঠিক আছে তোমার হ্যা? পুরোটা পার্টি জুড়ে দুষ্টুমি করে গেছো তুমি, পার্টি থেকে বের হওয়ার পরও একটা বাইরের লেকের সাথে যা তা আচরণ করেছো, বাচ্চা তুমি হ্যা? "
চড়ুই আর দমে যায় না, অস্থির চিত্তে কান্না করতে করতে বলে ওঠে....
"বাচ্চা না বলেই তো ঐ লোকটার কাছে এক রাতের জন্য বিক্রি করতে চেয়েছেন আপনি."
"চড়াই...!! "
"কি চড়াই হ্যা? জানেন আমার কতটা কষ্ট হচ্ছিলো, লোকটা কত বাজে ভাবে ছুয়েছিলো আমায়। এখানে কি বিচ্ছিরি ভাবে হাত বুলিয়েছে, এ্ এখানটায় চেপে ধরে...."
চড়ুইয়ের ইঙ্গিতকৃত স্থানে চোখ যেতেই আবির ঝাপিয়ে পড়ে তার উপর। হিংস্রতার চরম পর্যায়ে পৌঁছে চড়ুইয়ের শাড়ির ফাঁকে হাত চেপে ধরে। নিজের ধারালো আঙুলগুলোর বিষাক্ত ছাপ বসাতে বসাতে রক্তিম চোখে বলে ওঠে...
"এখানে হাত দিয়েছে মানে? এই এখানে হাত দিয়েছে মানে কি বল? "
তীব্র ব্যথায় চোখ খিঁচে বন্ধ করে নেয় চড়ুই। ব্যথাতুর কন্ঠে বলে ওঠে...
"কি করছেন আপনি, আমার লাগছে..."
"লাগুক, তোর পেট ছুয়েছে কোন মা"" পুত বল? এই,এতক্ষণ তুই চুপ করে ছিলি? উত্তর দে চড়াই..."
আবিরের রাগের চোটে চড়ুই দমে আসে, ভয় পাচ্ছে এবার সে। এতটা হিংস্র আবিরকে কখনোই হতে দেখে নি সে।
"ঐ লোকটা,য্ যে গাড়িতে করে এসেছে..."
আবিরের হাতের নখ আরো ডেবে যায় চড়ুইয়ের পেটের পাতলা চামড়ায়। উন্মাদের মতো মাথা দুলিয়ে ওঠে সে, হুঙ্কার দিয়ে বলে ওঠে...
"তোকে আমি শেষ করে ফেলবো চড়াই, কার ছোঁয়া শরীরে নিয়ে বসে আছিস তুই রাবিশ..."
বলেই চড়ুইয়ের কোমড়ে ডেবে রাখা হাতটা একটানে ছাড়িয়ে আনে সে। জলন্ত লাভার মতো পেটের চামড়া ছিলে জ্বলে ওঠে চড়ুইয়ের। চিৎকার দিয়ে কান্না করে ওঠে মেয়েটি।
"এখানেও হাত দিয়েছে তাই না? তোর শরীরটাকে আমি...."
"আবিরের হাত চড়ুইয়ের বুকের দিকে আসতে দেখেই দু হাতে নিজেকে ঢেকে চোখ খিঁচে বন্ধ করে নেয় চড়ুই। সারাটা শরীর থরথর করে কাঁপছে তার, ভয়ের চোটে কখন যে নিজের পা দুটো সীটে তুলে গুটিয়ে রেখেছে তা নিজেরও মনে নেই।
আবির হিংস্র গতিতে হাত বাড়াতে নিয়েও বিবেকের তাড়নায় থেমে যায় সে। চড়ুইয়ের কম্পমান ঠোঁট, গুনগুনিয়ে কান্নার আওয়াজ সব মিলিয়ে থমকে যায় সে। কি করছে না করছে সবটা ঘুলিয়ে যাচ্ছে তার। ঘন ঘন শ্বাস ফেলতে ফেলতে আর কোনো প্রকার বাক্য ব্যয় না করেই গাড়ি থেকে নেমে বড় কদমে ছুটে যায় রায়হানের বাড়ির ভেতর।
দরজার তীব্র আওয়াজে কেঁপে ওঠে চড়ুই,, চোখ খুলে দেখে আবির পাশে নেই। বাইরে তাকাতেই দেখতে পায় আবির রায়হানের বাড়িতে ঢুকেছে। কান্না আটকে চোখ খুলে ভাবতে থাকে কি করবে সে। দু মিনিট, তিন মিনিট কেটে যায়, আবির বের হয় না। হঠাৎ করেই বাড়ির ভেতর থেকে বিকট শব্দে একটা জানালার কাচ ভেঙে গুড়িয়ে পড়ে মুহুর্তেই। চড়ুই মাথা বের করে দেখার চেষ্টা করে, স্পষ্ট না হলেও ছায়ামূর্তির তরণে দেখতে পায় আবির ত্রস্ত হাতে রায়হানের গালে এক নাগাড়ে ঘুষি মেরেই যাচ্ছে। তা দেখেই চমকে গাড়ি থেকে নেমে দ্রুত বাড়ির ভেতর ছুটে চড়ুই।
সদর দরজা খোলাই ছিলো, হয়তো দরজা খুলার পর আর এক সেকেন্ডও রায়হানকে সময় দেয়নি আবির। ভেতরে ছুটে আসতেই দেখে রায়হানকে ইতোমধ্যেই রক্তাক্ত করে ফেলেছে আবির। বলিষ্ঠ দেহের তাগিদে রায়হান কোনো মতেই পেরে উঠছে না যেন।
সোফায় উপুর করে ফেলে মাত্রই আবির রায়হানের ডান হাত খানা তুলে ধরেছে মুছড়ানোর ভঙ্গিতে। তা দেখেই চড়ুই চেচিয়ে ওঠে...
" উনাকে ছেড়ে দিন, কি করছেন আপনি এসব। ম'রে যাবে তো..."
আবির যেন শুনেও শুনতে পায় না। এক মুছড়ে ভেঙে গুড়িয়ে দেয় রায়হানের একটি হাত। তীব্র আর্তনাদ আর হাড় ভাঙার মড়মড় আওয়াজে চড়ুইয়ের আত্মা কেঁপে ওঠে।আবিরকে থামাতে পারছে না সে। আবির থামার পাত্র নয়, নিটল ভঙ্গিতে রায়হানের আরেকটা হাত তুলে ধরতেই চড়ুই ছুটে গিয়ে সামনে থেকে দু হাতে জাপ্টে জড়িয়ে ধরে আবিরকে।.....
"প্লিজ থামুন, আমার ভয় করছে...."