ব্যাগের ভিতর যেন গুপ্তধন খুজছে চড়ুই।কিন্তু সন্ধান মিলছে না কোনো ভাবেই,ড্রাইভিং করতে করতে আবির আড়চোখে দেখে যাচ্ছে চড়ুইয়ের কান্ড।তবে কোনো প্রকার প্রশ্নই করছে না। একটু পর চড়ুই নিজে থেকেই বললো...
"গাড়িটা ঘুরান, আমি বাড়ি যাবো।"
"হুয়াই?"
"আরে আমি ফোনটাই নিয়ে আসি নি।"
"অনেকটা পথ চলে এসেছি ওয়াইফি। এখন আর ফিরে যাওয়া পসিবল নাহ.."
চড়ুই ঠোঁট উল্টে তাকায় আবিরের দিকে, আবির সেসবে পাত্তা না দিয়ে বলে...
"বাই দা ওয়ে,তোমরা কোথায় যেন যাওয়ার কথা? কোথায় গিয়েছে ওরা? "
চড়ুই সাথে সাথে বলে ওঠে...
"তা তো জানি না, আহিশ জানে। "
"ওমাহ,আমিও তো জানি না "
ব্যস, এতটুকু শুনেই চড়ুইয়ের চোখ দুটো বড়বড় হয়ে যায়। লোকটা চেনে না মানে? তাহলে কি আজ আর যাওয়াই হবে না? কিছু একটা মাথায় আসতেই আবিরকে সাথে সাথে বলে...
"নিবিড় ভাইকে ফোন করে জিজ্ঞেস করুন?"
আবির চড়ুইয়ের কথায় ফোন হাতে তুলে নেয়। হঠাৎ কিছু একটা ভেবে বলে ওঠে....
"আআআ, আমার ফোনে তো ব্যালেন্স নেই?"
চড়ুই চোখ পাকিয়ে বলে...
"আপনার মতো ইয়া বড় একটা টাকাওয়ালার ফোনে ব্যালেন্স নেই?"
আবির চোখ পাকিয়ে তাকায় চড়ুইয়ের দিকে। সাথে সাথেই চড়ুই ফিক করে হেঁসে জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়। আবির আর কথা বাড়ায় না। নীরবে ড্রাইভ করতে থাকে।
চড়ুই ভেবেছিলো আবির তাকে বাড়িতে নিয়ে আসবে, কিন্তু গাড়িটা যখন একটি সাজানো হলের সামনে থামলো তখন চড়ুই কিছুটা অবাক হয়।
"এটা কোথায়? "
"আমার ক্লায়েন্টের মেয়ের বার্থডে পার্টিতে। "
বলতে বলতেই আবির নেমে এসে চড়ুইয়ের দিকের দরজাটা খুলে দেয়। চড়ুই নিজের চির পরিচিত ভঙ্গিতে হাত নাড়িয়ে বলে ওঠে...
"আপনার ক্লায়েন্টের মেয়ের বার্থডেও হচ্ছে, আর আপনি এখনো একটা বিয়েও করতে পারেন নি, সো লজ্জা দানাবল।"
"তুমি নামবে?"
"আমি গিয়ে কি করবো,আমাকে কি দাওয়াত দিয়েছে নাকি তারা?"
"ছোট বাচ্চাদের দাওয়াত দিতে হয় না,ছোট বেলায় আব্বুর সাথে এমনি এমনিই যাওনি কখনো?"
চড়ুই ভ্যাবলার মতো বলে ওঠে...
" আপনি কি আমার আব্বু? ভেতরে কেু জিজ্ঞেস করলে কি বলবো? আব্বুর সাথে এসেছি বলবো? আব্বুর নাম জিজ্ঞেস করলে দানাবল বলবো?"
"একটা থাপ্পড় মারবো, ফাজিল মেয়ে। কাউকে কিচ্ছু বলতে হবে না তোমার। আমার সাথে সাথে থাকবে চলো।"
বলতে বলতেই এক হাত দিয়ে চড়ুইয়ের বাহু টেনে নিচে নামিয়ে দাঁড় করায়।চড়ুই এলোমেলো হাতে নিজের শাড়ি ঠিক করতে করতে বলে...
"আমায় সুন্দর লাগছে?"
"লাগছে"
"তাহলে এখানেই কয়েকটা ছবি তুলে দিন? জায়গাটা সুন্দর না?"
চড়ুইয়ের নিরলস আবদার আবির ফেলতে পারে নি। পকেট থেকে ফোন বের করে আশপাশে তাকায় একবার। চড়ুইকে নিয়ে ভালো দেখে একটা জায়গায় দাঁড় করিয়ে বেশ কয়েকটা ছবি তুলে দেয়। তারপর চড়ুইকে এক হাতে জড়িয়ে নিয়েই ভেতরে এগিয়ে যায় নিজস্ব ভঙ্গিমায়।
"এখানে একদম দুষ্টুমি করবে না হুম? ভালো মেয়ের মতো থাকবে,ইউ নো ইটস মাই প্রফেশনাল প্লেস,তুমি কি চাইবে তোমার দুষ্টামির জন্য আমার উপরও কেউ হাসাহাসি করুক? "
চড়ুই একদম সরল বাচ্চাদের মতো দু দিকে মাথা নাড়িয়ে বলে..
"একদম চাই না।"
আবির আলতো হেঁসে চড়ুইয়ের নাকের ডগায় নিজের তর্জনী আঙুল একটু ছুঁইয়ে দেয়..
"দ্যাটস মাই গুড গার্ল।লেটস গো?"
ভেতরে প্রবেশ করতেই বেশ কয়েকজন স্যুটেড বুটেড লোকজন এসে আবিরের সাথে সাক্ষাৎ করে। আবিরও বেশ প্রফেশনাল ভঙ্গিতে সবার সাথেই কথা বলতে থাকে।
ছোট্ট চড়ুই চারদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে শুধু দেখে যাচ্ছে চারপাশটা। বার্থডে গার্ল কোথায়? ইশশ, আগে জানলে বাচ্চাটার জন্য কিছু গিফট বানিয়ে নিয়ে আসতো সে৷ দানাবলটা বললোও না একবার।
এরই মাঝে সামনে থেকে উঁচু হিলের আওয়াজ তুলে এঁকেবেকে একটি মেয়ে এসে দাঁড়ায় আবিরের সামনে বরাবর। সাথে একটু বয়স্ক একজন লোক। আবিরের দিকে ইশারা করে লোকটি নিজের মেয়েকে বলে...
"মামনি,হি ইজ মি. চৌধুরী। ওয়ান অফ দ্যাট টুইনস। "
মেয়েটি এগিয়ে এসে দারুণ হেঁসে হাত বাড়িয়ে দেয় আবিরের দিকে...
"হ্যালো হ্যান্ডসাম.. নাইস টু মিট ইউ.."
আবিরও সৌজন্যতার খাতিরে হাত মেলানোর উদ্দেশ্যে হাত বারিয়ে বলতে নেয়..
"নাইস টু মিট ইউ ঠু..."
তার আগেই হুট করে পাশ থেকে চড়ুই তড়িৎ গতিতে আবিরের হাতটা টেনে সরিয়ে দেয়। তার এমন কাজে মোটামুটি সবাই এবার তার দিকে নজর দেয়। আবির অপ্রস্তুত হয় কিছুটা, চড়ুই যে এমন কিছু করবে সে মোটেও তা ভাবে নি। চড়ুইয়ের দিকে একবার তাকিয়ে আবার দ্রুত সামনে তাকিয়ে হালকা হাসার চেষ্টা করে বলে...
"আআ.. সো সরি, সো সরি ইটস যাস্ট আ মিসটেক। এক্সকিউজ মি..."
বলেই চড়ুইয়ের বাহু চেপে ধরে সবার সামনে থেকে একটু দূরে সরে গিয়ে চোখ রাঙিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিসিয়ে বলে...
"কি সমস্যা তোমার? ওরকম কেন করলে?"
চড়ুইও চোখ ছোট ছোট করে সাথে সাথেই উত্তর দিলো...
"মেয়েটাকে দেখেননি কেমন টাইট করে হাটু, পেট,গলা সব দেখিয়ে কেমন একটা ড্রেস পড়েছে। ওর হাত মেলানোর ধরন দেখেছেন একটুও ভালো নাহ।আপনাকে বাজে মেয়েদের সাথে মিশতে দিতাম আমি? আম্মু বকবে না? এদের সাথে মিশলে তো আপনিও খারাপ হয়ে যাবেন, শুনেন নি সঙ্গ দোষে লোহ ভা...."
"চুপ,একদম চুপ। তোমাকে ভেতরে আসার আগে কি বলেছি মনে নেই? "
চড়ুই প্রতিবাদী কন্ঠে বললো...
"তো আমি কি এখন দুষ্টামি করছি? আমি তো আপনার ভালোর জন্যই... "
"স্যাট আপ ওয়াইফি। একদম বাজে বকবে না আর। "
আবির রাগে ফুঁসছে, চড়ুই চোখ গোলগোল করে দেখছে শুধু আবিরকে।এখানে কোনো ভাবেই নিজের দোষ খুঁজে পাচ্ছে না সে।
"তুমি কি পুরো পার্টিতে এভাবেই আমার ইমেজ নষ্ট করে যাবে? "
পাখিটার মনে আঘাত লাগে। আবির তাকে বকছে ভেবেই অভিমানে মুখ ভার করে ফেলে মেয়েটি। আস্তে করে বলে ওঠে...
"আমি বাইরে গিয়ে গাড়িতে বসছি। আপনি পার্টি শেষ করে আসুন,আমি অপেক্ষা করবো।"
"তার কোনো প্রয়োজন নেই।"
"সমস্যা নেই তো,আমি না হয় গাড়িতেই..."
"তুমি এখন জেদ দেখাচ্ছো পাখি? তুমি কি চাও আমার মাথাটা আরো গরম হয়ে যাক?"
চড়ুই সাথে সাথে দু পাশে মাথা নেড়ে না বোঝায়।আবির বলে...
" তাহলে চুপচাপ এখানেই থাকো, বাইরে যাবে না। আশপাশে দেখো, ঘুরো ফিরো। আমি আছি।"
চড়ুই মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দেয়। সে কোনো ভাবেই চায় না এই দানাবলটাকে রাগিয়ে দিতে, তাহলে যদি তাকে এখানেই ফেলে রেখে চলে যায় লোকটা?
আবির এগিয়ে গিয়ে নিজের পরিচিতদের সাথে জয়েন করে এক পাশে। চড়ুইও মুখ গোমড়া করে এগিয়ে গিয়ে একটা সোফায় বসে চুপচাপ। আবিরও তাকিয়ে চড়ুইকে বসে থাকতে দেখে একটু সস্থি পায় যে মেয়েটা শান্ত আছে,চোখের সামনেই আছে৷
একটু পরেই উচ্চশব্দে গান বাজে, ডান্স ফ্লোরে অনেকেই নিজেদের মতো নাচছে, আনন্দ করছে। আবির দূরে বসে আছে, কয়েকজনের সাথে কিসব কথায় মসগুল।
কিছুক্ষণ পর চড়ুইয়ের পাশে কেউ একজন এসে বসতেই তার দিকে ফিরে তাকায় সে। একটা লোক, হাতে একটা গ্লাস ভর্তি তরল পানীয় নিয়ে চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে হালকা হাসি দিয়ে বললো...
"হাই কিউট লেডি?"
চড়ুই অপ্রস্তুত হয় কিছুটা, তবুও আবিরের কথা চিন্তা করে হালকা হেঁসে বললো...
"হ্যালো.."
"দেখে তো ইন্ড্রাস্টির কেউ মনে হয় না। কার সাথে আসা হয়েছে? "
"ঐ যে দানাব.... আ্ আই মিন.. আবির বিন চৌধুরীর সাথে। "
লোকটি একবার দূরে বসে থাকা আবিরের দিকে তাকিয়ে বাকা হেঁসে বললো...
"ওওউ, মি.চৌধুরীর ফ্যামিলিয়ার।নট ব্যাড..."
চড়ুই কিছু বলে না আর, চুপচাপ আবিরের দিকে তাকায়। হঠাৎই নিজের হাতের উপর লোকটির ছোঁয়া পেয়ে চমকে তাকায় সে পাশে...
"টুইনস ব্রাদার্সের বাড়িতে যে এতো সুন্দর একটা পরী আছে তা আগে জানতাম না তো... "
চুম্বকের গতিতে চড়ুই হাত ছাড়িয়ে উঠে দাঁড়ায়, লোকটির দিকে চোখ রাঙিয়ে তর্জনী আঙুল তাক করে বলে ওঠে...
"এসব কি করছেন হ্যা? একদম গিয়ে দানাবলকে বলে দিবো আমি... "
বলতে বলতেই চড়ুই ঘুরে দাঁড়িয়ে এগিয়ে যায় আবিরের কাছে। গিয়েই এক দমে বলতে নেয়....
"এই দানাবল... দেখুন না ঐ লোকটা...."
এতটুকু বলতেই আবিরের চোখের দিকে তাকিয়ে কেঁপে ওঠে চড়ুই। আবির চোখ দুটো এত বড় বড় করে তাকিয়ে আছে যে চড়ুইয়ের আত্মা উড়ে যাওয়ার দশা। কথা ওখানেই বন্ধ হয়ে যায় তার। ভয়ে দু পাশে মাথা নেড়ে "ক্ কিছুনা " বলে সরে আসে আবিরের কাছ থেকে। চারদিকে লোক সমাগম বাড়তে থাকে। একের পর এক আইটেম সং এ নেচে চলেছে লোকজন। রঙিং লাইটিংয়ের দরুন এদিকের জিনিস ওদিক থেকে দেখা দায়। চড়ুইয়ের এবার আর ভালো লাগছে না। অসহ্য লাগছে। একবার ভাবলো বেরিয়ে যাবে এখান থেকে, গাড়িতে বসে অপেক্ষা করবে আবিরের। পরক্ষণেই মাথায় এলো আবির তাকে বারণ করেছে বের হতে। তাই আর কোনো উপায় না পেয়ে এদিক ওদিক হাঁটতে থাকে নিজ মতো করেই, সমাগম ঠেলে এক কোনায় গিয়ে দাঁড়ায় সে। একটু পরেই নিজের কোমড়ে কারোর হাতের স্পর্শ, তীব্র লাইটিং এর কারনে পাশে কে তা দেখা দায় যেন। চড়ুইয়ের বোকা মন ভেবে নিয়েছে এটা আবির। তার রাগ ভাঙানোর জন্যই এসেছে৷ কিন্তু চড়ুই পাখির রাগ কি এত সহজে গলবে? একদম নাহ, তাই চুপ করে কোনো প্রকার অঙ্গভঙ্গি না করে সটান দাঁড়িয়ে রইলো সে৷ ক্ষনে ক্ষনে কোমড়ে থাকা হাত খানার বিচরন বেড়ে চলেছে হঠাৎ। চড়ুইয়ের পাতলা কোমড় টেনে পেছন থেকে কেউ তাকে নিজের সাথে চেপে ধরেছে। মেয়েটার শরীর কাপে। স্পর্শ গুলো মোটেও তার ভালো লাগছে না। কি বাজে ভাবে চড়ুইয়ের কোমড় পেট জুড়ে বিচরন চলছে সেই হাতের। হঠাৎ চড়ুইয়ের মনে হলো এটা তার দানাবল নয়, সে কখনো এত বিচ্ছিরি ভাবে ছোঁয় না চড়ুইকে। আবিরের প্রতিটা স্পর্শ ভীষণ কোমল হয়।ধীরে ধীরে হাতটা পেট ছাড়িয়ে আরো নিচের দিকে যেতে নিলেই আর সহ্য হয় না চড়ুইয়ের। সাথে সাথে নিজের সর্ব শক্তি দিয়ে ধাক্কা মেরে সরে আসে চড়ুই।পেছন ফিরে তাকাতেই দেখে তখনকার সেই লোকটি কেমন লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছে চড়ুইকে।
বুক কাঁপছে চড়ুইয়ের, আবির কোথায়।তার কাছে যাবে চড়ুই।ছুটতে গেলেই পেছন থেকে লোকটি তার হাত চেপে ধরে, দ্রুত বলে ওঠে...
" তুমি এখন গিয়ে মি.চৌধুরীকে এসব কিছু বললে কিন্তু একটুও ভালো কাজ হবে না মিস।এতে মি.চৌধুরীরও সম্মান নষ্ট হতে পাারে, দেখো,এখানে বেশিরভাগ লোকের কাছেই মি. চৌধুরী কিন্তু একজন সম্মানীয় ব্যাক্তি। "
চড়ুই দমলো কিনা জানা নেই। তবে লোকটির সাথে আর একটি বাক্য ব্যয় না করে দূরে দাড়িয়ে থাকা আবিরের নীকট ছুটে যায়। গিয়েই আবিরের বাহু চেপে ধরে বলে ওঠে....
"শুনুন.. আ্ আমি এখানে থাকবো না। বাড়ি যাবো আমি। "
আবির বিরক্ত হয়,,চড়ুই যে দুষ্টু, এখনো সেই দুষ্টুমির রেশ কাটিয়ে উঠতে পারছে না মেয়েটি। আবির শান্ত তবে কিছুটা গম্ভীর স্বরে বলে....
"কি সমস্যা তোমার?"
চড়ুই কিছু বলার উদ্যোগ নেয়,কিন্তু তার আগেই আগের সেই লোকটি এসে দাঁড়ায় সেখানে। আবিরকে উদ্দেশ্য করে বলে...
"মি. চৌধুরী, ওয়াটসআপ?"
আবির চড়ুইকে ছেড়ে ব্যাস্ত হয় লোকটির সাথে কথা বলতে...
"ওহ রায়হান, অনেকদিন পরে দেখা।"
এদের কথার ধরন দেখে চড়ুই বুঝতে পারে এরা দুজন দুজনকে বেশ আগে থেকেই চেনে,হয়তো ভালো বন্ধু। চড়ুইয়ের কথা কি আবির বিশ্বাস করবে? চড়ুইয়ের মন বলছে আবির তাকে বিশ্বাস করবে, আবির তো জানে চড়ুই মিথ্যা বলে না। কিন্তু মস্তিষ্ক বলছে আবির নিজের বন্ধুকেই বিশ্বাস করবে,চড়ুই তো তার আপন কেউ না, কেনই বা বিশ্বাস করবে তাকে। কে হয় সে আবিরের?
সময় কাটছে বিরক্তিতে, চড়ুই পারে নি আবিরকে বলতে। আবিরও নিজের মতো ব্যস্ত, একা দাঁড়িয়ে থাকতেও কেমন যেন ভয় করছে চড়ুইয়ের। চার পাশের প্রতিটি মানুষকে বিষের মতো লাগছে। লোকটা আবার এগিয়ে এসে দাঁড়ায় চড়ুইয়ের পাশে। তাকে দেখেই চড়ুই সরে যেতে নিলেই লোকটি দ্রুত এক সেকেন্ডের মাঝে চড়ুইকে টেনে ধরে অপ্রত্যাশিত ভাবে চড়ুইয়ের সংবেদনশীল স্থানে চাপ দেয়। গা গুলিয়ে ওঠে মেয়েটার। নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে এক ছুটে পালায় ওয়াশরুমের দিকে। চড়ুইকে দূর থেকে এভাবে শাড়ির কুচি ধরে ছুটতে দেখে আবির দ্রুত কদম ফেলে এগিয়ে আসে তার দিকে। সামনাসামনি আসতেই আবিরের সাথেই ধাক্কা খেয়ে পায়ের হিলের ব্যালেন্স হারিয়ে পড়তে নেয় চড়ুই। আবির ত্রস্ত হাতে ধরে নেয় তাকে। ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে...
"ছুটছো কেন? কি হয়েছে?"
চড়ুই উত্তর দেয় না, উল্টো ঝারি মেরে আবিরের হাত ছাড়িয়ে আবার ছুটে যায় ওয়াশরুমের দিকে। আবিরও তার এমন প্রতিক্রিয়া দেখে পেছন পেছন এগিয়ে যায়।
ওয়াশরুমে এসেই বেসিনে গলগলিয়ে বমি করে দেয় চড়ুই। শরীর কাপছে তার। মাথা দুলিয়ে পড়তে নিলেই আবির পেছন থেকে আগলে ধরে তাকে। চড়ুই ভর ছেড়ে দেয় আবিরের উপর। আবির উতলা হয়ে চড়ুইয়ের চুলে মুখে হাত বুলিয়ে দিতে থাকে ঘন ঘন। উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলতে থাকে...
"ওয়াইফি? ঠিক আছো তুমি? তাকাও না? কি হলো হঠাৎ? "
চড়ুই হাঁপাচ্ছে, যার দরুন কথা ঠিক মতো বলতে পারছে না সে৷ আবির সময় দেয় তাকে, নিজের সাথে জড়িয়ে রেখে এক হাতে বেসিনে ছড়িয়ে থাকা বমি পরিষ্কার করে নেয়। চড়ুইকেও হাত মুখে জল ছিটিয়ে ধুইয়ে দেয় সাবধানে। বেশ কিছুক্ষণ পর চড়ুই হাঁপাতে হাঁপাতে নিজ থেকে বলে ওঠে....
"শুনুন না দানাবল.. আ্ আমার মাথাটা কেমন ঘুরছে,গা গুলাচ্ছে খুব। আমি... আমি মনে প্রেগন্যান্ট হয়ে গেলাম। চলুন না হসপিটালে গিয়ে টেস্ট করে দেখি ছ্ ছেলে নাকি মেয়ে...."