Mr and Mrs Twins Return

পর্ব - ৪৮

🟢

সকালের মিষ্টি কোলাহল, পাখিদের কলকলানির মৃদু আওয়াজে ঘুম হালকা হয়ে আসে আবিরের। মস্তিষ্ক সচল হতেই অনুভব করে মাথাটা বেশ ধরেছে, এর কারন অবশ্য অজানা নয় তার কাছে। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত লালপানি গলায় ঢাললে তো এমন হবেই।

শিউলিফুলের মিষ্টি একটা ঘ্রাণে নেশা ধরার মতো বিমোহিত হয় আবির। ঘ্রাণের উৎস উন্মোচন করার লক্ষ্যে পিটপিট করে চোখ মেলে তাকাতেই অন্ধকার দেখতে পায় সে। মনে হচ্ছে যেন সামনে একটি ঘন পর্দার ন্যয় কিছু। নিজের চুলের ভাঁজে কারোর হাতের আলতো পরশ চলছে ধীরে ধীরে, কেউ যেন ভীষণ যত্নে আবিরের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।

চোখ তুলে তাকাতেই চোখে ভেসে ওঠে চড়াইয়ের নির্মল হাসিমাখা মুখখানা। মেয়েটা সরল আবিরের দিকেই তাকিয়ে হাসছে।

নরম বিছানায় আবির তখনো যেন স্বপ্নের গভীরে। তার চোখের পাতায় লেগে থাকা ভোরের আলো আর রাতের আঁধারের এক অদ্ভুত দোলাচল। এই সকাল কি বাস্তবের তুলিতে আঁকা, নাকি কেবলই এক সুখদ ঘোর?

ঠিক তখনই একটি ক্ষুদ্র কণ্ঠস্বর তার ভাবনার জট ছাড়াতে চাইল। চড়াই পাখি তার চুলের ভাজে হাত চালাতে চালাতেই মাথা দুলিয়ে দুষ্টুমির সুরে বলল.....

"কী খবর, দানাবল? শুনলাম কোনো এক রমণীর প্রেমে নাকি আপনি উন্মাদ হয়ে গেছেন? বাড়ি থেকে ঝগড়া করে বেরিয়ে গেলেন। সেই বিরহের জ্বালাতেই কি তবে সারা রাত ধরে সেই লাল পানি পান করেছেন?"

আবির উঠে বসার কোনো চেষ্টাই করল না। চোখ বন্ধ অবস্থাতেই, কেবল আলস্যে মুখটি সামান্য তুলে ঘুমঘুম কন্ঠে জিজ্ঞেস করল.......

" তুমি কি ঠিক আছো?"

চড়াই পাখিটি খুব স্বাভাবিকভাবেই জবাব দিল.....

"হ্যাঁ, আমার আবার কী হবে? আমি তো দিব্যি আছি।"

আবিরের মস্তিষ্কে তখনো গতকাল রাতের একটি কথা ঘুরপাক খাচ্ছে। নিবিড়ের বলা সেই আতঙ্কজনক খবরটা 'বড় পাখির এক্সিডেন্ট হয়েছে।'

সেই মুহূর্তে সে কী তীব্র বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরেছিল, তা শুধু তারই জানা। এখন চড়াই পাখিটিকে অক্ষত দেখে তার মন যেন দ্বিধার কবলে। সবকিছু ঠিকঠাক আছে, কিন্তু তার বিশ্বাস করতে সময় লাগছে।

সে ধীরে ধীরে একটি হাত চড়ুইয়ের দিকে এগিয়ে দেয়। ঘুম জড়ানো কণ্ঠে আদেশ করে.....

"এসো তো, একটা কামড় দাও।"

চড়াই পাখি হাসিমুখে কৌতুকভরা চোখে ভ্রু কুঁচকে তাকায় আবিরের দিকেই। মিচকে হেঁসে বলে....

"কী মশাই? এখনো ঘোর কাটেনি? আমি জানতাম এমনই হবে! সেই জন্যই তো আম্মু আগেই লেবুর শরবত পাঠিয়েছেন। এবার উঠে বসুন! আপনার এইসব দাঁড়ির জন্য আমার পেটে সুড়সুড়ি লাগছে!"

কিন্তু আবির যেন শুনতেই পেল না। উল্টো, সে আরও একটু এগিয়ে চড়াইয়ের নরম পেটের দিকে নিজের মুখটা ঘষতে লাগলো। ওভাবে থেকেই আবার বললো....

"আগে কামড় দাও। নইলে আমি উঠছি না।"

ঘরের শীতলতা ছাপিয়ে আবিরের সেই অদ্ভুত আবদার শুনে চড়াই খিলখিলিয়ে হেসে উঠল। হাসি থামিয়ে, দুষ্টুমি মাখা চোখে আবিরের হাতটা আঁকড়ে ধরল সে। যদি এতই কামড়ের শখ, তবে সে নিক...

এই ভেবে চড়াই তার সমস্ত জোর দিয়ে আবিরের হাতের কব্জিতে দাঁত বসিয়ে দেয়। প্রায় পাঁচ সেকেন্ড পর যখন মুখ তুলল, দেখল আবিরের ত্বকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তার দাঁতের চিহ্ন। কিন্তু আবিরের মুখে নেই কোনো কষ্টের রেখা, নেই কোনো প্রতিক্রিয়া। চড়াই ভ্যাবলার মতো ঠোঁট গোল করে জিজ্ঞেস করল.......

"আপনি… আপনি একটুও ব্যথা পাননি?"

আবির উত্তর দিল না। কেবল শান্ত, নিবিড় দৃষ্টিতে চড়াইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। মেয়েটি যে এভাবে তার দুর্বলতার সুযোগ নেবে, তা সে কল্পনাও করেনি।

আবিরের দিক থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে, চড়ুই এবার দ্রুত আরেকবার সর্বশক্তি দিয়ে কামড় বসিয়ে দিলো আবিরের হাতে। এবারও একই চিত্র। আবিরের না কোনো যন্ত্রণার প্রকাশ, না হাত সরানোর চেষ্টা। চড়াই স্তম্ভিত চোখে তাকিয়ে রইল।

হঠাৎ, বিছানায় ভর দিয়ে ঘুরে বসল আবির। বিদ্যুৎ গতিতে চড়াইকে বিছানায় ফেলে দিয়ে তার দু'টি হাত শক্ত করে চেপে ধরে। তার কণ্ঠে এক তীব্র, দখলদারিত্বের সুর......

"একটা কামড় দিতে বলেছিলাম, দুটো কেন দিলে? এটার ফেরত তোমাকেও নিতে হবে, এখনই।"

চড়ুই ছটফট করে উঠল মুহুর্তেই....

"এই! এই কী করছেন? আপনার মাথা খারাপ হয়ে গেছে! আপনি কামড়ালে তো মাংস তুলে নেবেন! প্লিজ, ছেড়ে দিন!"

কার কথা কে শোনে? আবির একবিন্দু তোয়াক্কা না করে চড়াইয়ের দিকে ঝুঁকে আসতে লাগল। পুরুষালী শক্তির কাছে চড়াইয়ের প্রতিরোধ নিতান্তই শিশুসুলভ। আবিরের মুখ নেমে এল চড়াইয়ের গলার দিকে।

আবিরের রুক্ষ ঠোঁটের উষ্ণ স্পর্শ গলায় লাগতেই মেয়েটি শিরশির করে কেঁপে উঠে। তার ছটফটানি থেমে যায়। কম্পমান ঠোঁট দুটো দিয়ে কেবল বলতে চেষ্টা করলো.....

"দূ... দূরে যান? আ... আমার কেমন যেন লাগছে।"

আবির শুনল না। নিজ চৈতন্যে মগ্ন হয়ে চড়াইয়ের গলায় নাক ঘষতে লাগল। তার কণ্ঠে এক ঘোরলাগা নিচু স্বর.....

"কাজের মাঝে ব্রেক নিতে পারবো না আমি। এখন থেকে আমার উপস্থিতি সহ্য করার অভ্যাস করো, মাই ফা'কিং ওয়াইফি।"

চড়ুই যেন জমে যাচ্ছে। আবিরের প্রতিটি ছোঁয়া তার শিরা-উপশিরায় যেন এক তীব্র, উন্মত্ত স্রোত বইয়ে দিচ্ছে। আবির এবার চড়াইয়ের গলার নরম অংশে ঠোঁট ছুঁইছুঁই করে আরও গভীর হাস্কি স্বরে বলে......

"Can I bite there?"

চড়াইয়ের বক্ষস্থলের সংকোচন-প্রসারণ দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছে। ঠোঁট কাঁপছে তীব্রভাবে। কিছু বলতে গিয়েও যেন শব্দগুলো গলায় আটকে যাচ্ছে তার।

"Don’t seduce me with your breathing process, I really can’t control myself."

চড়াইয়ের মুখ দিয়ে কথা সরছে না। ভেতর থেকে এক তীব্র আকর্ষণ তাকে আবিরের আরও কাছে টেনে নিচ্ছে। লোকটা নিশ্চয়ই নেশার ঘোরে এমন পাগলামো করছে। চড়াই কম্পমান হাতটি ধীরে ধীরে তুলে আনল আবিরের চুলের ভাঁজে। লোকটাকে সরাতে হবে এক্ষুনি, নয়তো তার দম বন্ধ হয়ে যাবে এমন পাগলামিতে।

আবিরের চুলের ভাঁজে তার হাতটি রাখতেই চড়ুই নিজের গলায় অনুভব করল জোরালো ঠোঁটের একটি উষ্ণ ছোঁয়া, যা তাকে আরেকবার কাঁপিয়ে দিলো। লোকটা কামড়াচ্ছে না, কিন্তু ঘন ঘন চুম্বন করে চলেছে চড়াইয়ের গলার সেই নরম স্থানে। মেয়েটির সারা শরীরে যেন বিদ্যুৎ খেলে যায়। মোচড় দিয়ে আবিরের মাথাটা আরও শক্ত করে চেপে ধরলো নিজের সাথে।

চড়ুইয়ের এমন আচরণে আবিরের ঠোঁটে এক বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। ঠোঁটের কোণেই হাসি রেখে সে ফিসফিস করে বলল.....

"You are much fu*king ho*ny, you know? I like this…"

কথাটা শেষ করেই, চড়াই কিছু বুঝে ওঠার আগেই আবির তার মুখ নামিয়ে আনলো চড়াইয়ের বিভাজিকায়। সেই প্রবল, প্যাশনেট কিসে লোকটা যেন চড়াইকে উন্মাদের মতো করে তুলছে। এদিকে চড়াইয়ের মরি মরি অবস্থা। কোনোভাবেই লোকটাকে থামানো যাচ্ছে না। আবিরের চুল টেনেও তাকে সরানো যাচ্ছে না।

চড়াই ভাঙা, হাঁপানো কণ্ঠে মৃদু আর্তনাদ করে উঠল.....

"দ... দানাবল! আ… আমি মরে যাচ্ছি…"

আবিরকে থামানোর জন্য ঐ একটি বাক্যই যথেষ্ট ছিল। চট করে উঠে বসল সে, সাথে চড়াইকেও টেনে বসিয়ে দিল। তার কণ্ঠস্বরে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক শীতলতা......

"শান্ত হও বেইব। সামান্য বিষয়ে হার্টবিট এতটা বেড়ে গেলে পরে কী হবে?"

চড়াই দ্রুত বিছানা থেকে নেমে দাঁড়াল। পাশের টেবিল থেকে লেবুর শরবতের গ্লাসটি তুলে আবিরের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল......

"আপনি আগে এটা খান। নেশা কেটে গেলে তবেই আপনার পাগলামো বন্ধ হবে।"

আবির বাঁকা হাসল। এই বোকা মেয়েটি এখনো ভাবছে, এসব কেবল আ্যল'কোহলের প্রভাব। মনে মনে ভাবল, মাঝে মাঝে এমন মাতাল সাজার ভান করলে মন্দ হয় না.অন্তত এই বোকা পাখির কাছে আসার একটা সুযোগ তো তৈরি হয়। গ্লাসটা হাতে তুলে নিয়ে এক চুমুক দিল সে, তারপর জিজ্ঞেস করলো......

"বড় পাখি কোথায়?"

চড়াই উত্তর দেয়....

"পাশের রুমে আছে। কাল নিবিড় ভাইয়ের সাথে বেশ রাত করে ফিরেছে। আচ্ছা, দানাবল , ওরা ডেটে গিয়েছিল তাই না? খুব মজা হয়েছে নিশ্চয়ই?"

আবির স্বভাবসুলভ রগরগে কণ্ঠে বলল.....

"You wanna go?"

চড়াই খুশি মনে মাথা নেড়ে জবাব দিল.....

"হ্যাঁ, যেতে তো চাই। তবে পার্টনার নেই যে। আসুক, আমি রোজ ডেটে যাব।"

"কোন ধরনের ডেট পছন্দ তোমার?"

আবিরের প্রশ্নে চড়াইয়ের চোখে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি। সে বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করল.....

"মানে?"

আবিরের কণ্ঠে এবার এক শ্লেষাত্মক, প্ররোচনামূলক সুর ভেষে এলো....

"মানে... খোলামেলা ডেট চাও, নাকি... বদ্ধ ঘরে, একটি মাত্র বিছানা, আর ওয়াশরুমের বাথটাব?"

আবিরের কথার ভঙ্গি বুঝতে পেরেই চড়াই নাক কুঁচকে উঠল....

"ছিহ! আপনার এখনো নেশা কাটেনি। নাক টিপে ধরে গ্লাসটা পুরো খালি করুন তো! আপনি ভীষণ পাজি, যার জন্য পাগল হলেন, সে মেয়ের কপালে দুঃখ আছে বটে!"

এই বলে সে ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যত হয়। পেছন থেকে আবির প্রশ্ন ছুঁড়ল....

"কোথায় যাচ্ছো?"

"আম্মুকে বলে আসি যে, তাঁর ছেলের ঘুম ভেঙেছে, কিন্তু নেশা কাটেনি।"

"ওড়নাটা নিয়ে যাও। আমার থেকে প্যাশনেট কিস নিতে নিতে বেদিশা হয়ে গেলে চলবে?"

---------

গতকাল রাতে যখন দোয়েলকে কোনোভাবেই শান্ত করা যাচ্ছিল না, তখন নিবিড় নিরুপায় হয়ে তার উপর নিজের অপশক্তির প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়। এই টুইন্স ব্রাদার্সরা ব্যবসায়িক কারণে বেশ কিছু শত্রু সৃষ্টি করেছে ইতোমধ্যেই। তাই আত্মরক্ষার জন্য তাদের নানা কৌশল শিখতে হয় প্রতিনিয়ত । তারই একটি কৌশল হলো ঘাড়ের নির্দিষ্ট রগে কৌশলে চাপ প্রয়োগ করলে দ্রুত সাময়িকভাবে জ্ঞান হারানো যায়। দোয়েলের উপর সেটাই প্রয়োগ করে কোনোমতে তাকে বাড়ি নিয়ে এসেছে নিবিড়।

দোয়েলকে শান্ত করতে পারলেও নিবিড়ের মনে শান্তি নেই। তার আশঙ্কা মেয়েটির জ্ঞান ফিরলেই সে বাড়ির সবাইকে এই বিয়ে ভেঙে দেওয়ার কথা বলবে। এই দুশ্চিন্তায় নিবিড় দোয়েলের ঘরের দরজার সামনে হাত পা গুটিয়ে বসে আছে। চড়াইকে আসতে দেখেই সে সোজা হয়ে উঠে দাঁড়ায়...

"ভাই উঠে গেছে?"

চড়াই তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে উত্তর দেয়....

"হ্যাঁ, কিন্তু নেশা কাটেনি। আপনার নেশা ধরেনি?"

নিবিড় ক্যাবলার মতো হাসে। তাদের দুই ভাইয়ের নেশা যে এত সহজে হওয়ার নয়, তা সে ভালো করেই জানে। কিন্তু এই মুহূর্তে আবিরের নেশার থেকেও বড় চিন্তা দোয়েলকে নিয়ে। মেয়েটা যদি চড়াইয়ের মতো সহজ-সরল হতো! বেশি বুঝদার হলে এই এক সমস্যা। কী করবে সে এখন?

"আমি বোনকে জাগিয়ে দিই যাই..."

এই বলে চড়াই যেই ঘরে প্রবেশ করতে যায়, নিবিড় ত্রস্ত ভঙ্গিতে তার পথ আটকে দাঁড়ায়...

"এই! এই! ছোটপাখি, ওয়েট...."

"কী হলো ভাইয়া?"

"ইয়ে মানে... কাল অনেক রাত করে ঘুমিয়েছে তো। এখন একটু ভালো করে ঘুমিয়ে নিক।"

চড়াই চঞ্চল হেসে বলল...

"ওহ আচ্ছা। আপনিও এখানে বসে আছেন কেন? অফিসে যাবেন না?"

প্রশ্নটি শোনা মাত্রই নিবিড়ের মাথা নাড়তে দেরি হলো না....

"ভুলেও না। ভার মে যাক অফিস! আজ আমি এক মুহূর্তও তোমার বোনের পিছু ছাড়ব না।"

চড়াই দুষ্টু হাসি দিয়ে চোখ টিপে বললো....

"ওওওও... টুরু লাভ, হ্যা?"

নিবিড় দীর্ঘ এক কষ্ট দুঃখ বেদনা সব মিলিয়ে নিশ্বাস ত্যাগ করে বিরবির করে বললো...

" আআর টুরু লাভ, এটম আমায় কখন যে নিজের বোমার আগুনে উড়িয়ে দেয় তাই ভাবছি শুধু... "

Mr and Mrs Twins Return গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় টুইন রিলেটেড রোমান্টিক গল্প