রুমের বাইরে পর্যন্ত পৌঁছে গেছে চড়াই পাখির গুনগুনিয়ে গানের শব্দ। লক্ষ্যান্বিত আবির তার চিরপরিচিত রাজকীয় ভঙ্গিমায় গিয়ে সোজা দাঁড়ালো চড়ুইয়ের রুমের দরজায়। ঐ যে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক রঙ্গিন প্রজাপতি। উপর থেকে নিচ পর্যন্ত একবার পরখ করে দাঁতে দাঁত চেপে ধরে আবির।পকেটে দু হাত গুঁজে একপা একপা করে এগিয়ে যেতে যেতে জোড়ালো স্বরে বললো....
"শাড়িটা কি আহিশ গিফট করেছে নাকি?"
চড়ুই শাড়ির সাথে মিলিয়ে কানে বড় অক্সিডাইসের দুল পড়তে নিচ্ছিলো, আবিরের কন্ঠ পেয়ে ওভাবেই ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় সে। উত্তর দেয় না সে, উল্টো উৎসাহিত কন্ঠে বলে ওঠে....
"ওহ দানাবল? আপনাকে ভীষনন মিস করছিলাম। "
একটি কথা, আবিরের মনে দোলা দিয়ে যায় হাজারো প্রজাপতির মতো। তার ছোট্ট চড়াইটা তাকে মিস করেছে,এর থেকে সুখের খবর আর কি।
আবির আগ বাড়িয়ে কিছু বলবে, তার আগেই চড়ুই আবার ব্যস্ত ভঙ্গিতে বলে ওঠে...
"কেন জানেন? বোনকে নিয়ে নিবিড় ভাই তো অলরেডি চলে গেলো, জেসি, হৃদ, তারা ভাবিও বেরিয়ে গেছে। এখন দেখুন, আমার এই সাজের সাথে কাজলটা ছাড়া একটুও মানাচ্ছে না। আপনি একটু সেদিনের মতো আমায় কাজল লাগিয়ে দিন না? আহিশ বেচারা সেই কখন থেকে আমার জন্য অপেক্ষা করছে বাইরে। "
চড়ুইয়ের এক দমে বলা কথা গুলোই আবিরকে আবার সেই রুক্ষ মেজাজে নিয়ে আসার জন্য যথেষ্ট ছিলো। চোয়াল শক্ত করে বিরবির করে বলে ওঠে....
"ওয়াও,আমায় মিস করছে তাও আহিশের জন্য।"
চড়ুই ব্যস্ত ভঙ্গিতে বাকি জুয়েলারি গুলো পরতে পরতে নিজ থেকেই জিজ্ঞেস করে.....
"শাড়িটা সুন্দর না?"
আবির সাথে সাথে উত্তর দেয়...
"একদমই নাহ।"
তবে চড়ুই তার মন্তব্যে পাত্তা না দিয়ে আবার প্রশ্ন করে....
"ব্লাউজটার সাথে হেব্বি মানিয়েছে, বলুন? জানেন, এত হিবিজিবি ব্লাউজটা আমার একটুও পড়তে ইচ্ছে করছিলো না, কিন্তু কি আর করার, আজ ছবিতো সুন্দর আসতে হবে তাই না? "
"হুম,তা শাড়ি ব্লাউজের সাথে আর কি কি দিয়েছে আহিশ? ভেতরের জিনিসও সেই পছন্দ করে এনেছে তাই না? "
আবির ঠিক কিসের কথা বলছে তা বুঝতে পারে চড়ুই। তাইতো কোমড়ে দু হাত গুঁজে ফিরে ভ্রু গুটিয়ে রাগী লুকে তাকিয়ে বলে ওঠে সে....
"আপনি না দানাবল, দিন দিন ভিষণ পঁচা হয়ে যাচ্ছেন।পঁচা পঁচা কথা বলেন শুধু, আমি আপনার ভাইয়ের হবু শালিকা বুঝলেন? নোংরা কথা বললে আমি কিন্তু আম্মুর কাছে বিচার দিবো। "
আবিরের মাথা এমনিতেই গরম,তার উপর চড়ুইয়ের এমন খাপছাড়া কথায় আরো বিগড়ে যাচ্ছে। পকেটের ভেতর থাকা হাত দিয়ে তখনকার নিবিড়ের দেওয়া মেডিসিন গুলো বের করে নীরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সেথায়।কিছু একটা ভাবছে সে, দাত কিড়মিড় করছে৷ একবার হাতের দিকে তো আরেকবার সামনে থাকা কিশোরীর দিকে চেয়ে দেখে সে। কতটা উচ্ছাসে উদ্দোলিত সে। আর কিছুক্ষণ পরে মেয়েটার কান্না মাথা মুখটি কেমন দেখাবে? আবিরের দেওয়া সুখময় যন্ত্রণা গুলো সয়ে নেওয়ার মতো সক্ষমতা আছে তো মেয়েটির?
"কি হলো, এদিকে আসুনন,কাজলটা পড়িয়ে দিন না? আমার লেট হচ্ছে দানাবল..."
চড়ুইয়ের কথায় ঘোর কাটে আবিরের। হাতে থাকা মেডিসিন গুলো মুঠোবন্দি করে আবার পকেটে গুঁজে নেয় সে। ঠোঁটের কোনো এক রহস্যময় হাসি নিয়ে নীরবে পা ফেলে এগিয়ে যায় চড়ুইয়ের কাছে। চড়ুইও টেবিল থেকে কাজলটা নিয়ে আবিরের হাতে ধরিয়ে দেয় নিঃসঙ্কোচে। তারপর এক পা এগিয়ে মুখটা হালকা তুলে চোখ উচিয়ে দাড়ায় আবিরের বরাবর। আবিরও কোনো বাক্য ব্যয় না করে সেদিনের মতোই স্বযত্নে কাজল একে দেয় চড়ুইয়ের চোখে। আজ একটু টান টান করেই দিয়েছে, পড়নের কালো পাড় যুক্ত উজ্জ্বল বোল্ড রেড শাড়িটার সাথে ওভাবেই যেন মানাচ্ছে তাকে। হেভি মেকআপের কারনে আজ কিছুটা গর্জিয়াসই লাগছে চড়ুইকে।
কাজল দেওয়া শেষ হলে আবির নীরবে একটু পর্যবেক্ষণ করে নেয় তাকে। ধীর কন্ঠে বলে....
"লিপস্টিকটা মানাচ্ছে না।"
চড়ুই চোখ খুলে আয়নায় নিজেকে দেখতে দেকতে বলে...
"মানাচ্ছে না? তাহলে কোন কালার দিবো?"
"ডার্ক রেড..."
"ওমন কালারতো নেই।"
আবির ঠোঁট গোল করে নিশ্বাস ফেলে চড়ুইয়ের সাথে গিয়ে লিপস্টিক গুলো উল্টে পাল্টে দেখতে লাগলো,খুঁজে খুঁজে একটি চকলেট কালার লিপস্টিক নিয়ে বলে...
"কাম হিয়ার.."
চড়ুই তার হাতে লিপস্টিক টা দেখে বলে...
"এটা তো ডার্ক রেড নাহ.."
"এদিকে আসতে বলছি"
আবিরের মুক চোখ এমনিই কেমন গম্ভীর লাগছে চড়ুইয়ের কাছে, তাই আর কথা না বাড়িয়ে এগিয়ে যায় আবিরের কাছে।
কৃত্রিম রাঙা ঠোঁট গুলো বরাবরই আবিরের দূর্বলতার স্থল।আজ সেই ঠোঁটকে সাজানোর দায়িত্ব নিলো যেন সে৷ আলতো করো চড়ুইয়ের থুতনি ধরে সুচারু ভঙ্গিতে লিপস্টিক পড়িয়ে দিতে লাগলো চড়ুইয়ের ঠোঁটে। চকলেট কালার লাগানোর পর আবার টকটকে লাল লিপস্টিকটাও একটু লাগিয়ে চড়ুইকে বললো...
"স্মেশ করো?"
চড়ুই বোকার মতো প্রশ্ন করে...
"কি করবো?"
"ইয়ে আরকি.. করো?"
"কি ইয়ে করবো?"
আবির পারছে না বুঝিয়ে বলতে,আর বোকা পাখিটা বুঝছেও না। শেষমেশ আর কিছু না পেয়ে আবির নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে চড়ুইয়ের ঠোঁটে স্লাইড করলো একটু চেপে চেপে, যেমন লিপস্টিক গুলো ভালো করে মিশে যায়।
নরম, তুলতুলে ঠোঁট গুলোতে হাত ছোঁয়াতেই আবিরের শরীরকে কেমন যেন শীত শীত অনুভুত হয় হঠাৎ। নিজের পৌরুষ চিত্তে তরান্বিত হতে বোধয় আর বেশি দেরি নেই। আবারো সেই অবাদ্ধ বাসনার দিকে ধাবিত হচ্ছে সে, মেয়েটার ঠোঁট গুলো নিজের দখলে নেওয়ার ইচ্ছে। ইশশ, কি করে নিজেকে সামলায় এবার সে?
"আমার লেট হচ্ছে তো,,কি করছেন আপনি?"
চড়ুইয়ের কথায় তড়িৎ গতিতে আবির হাত সরিয়ে নেয়। মুখাবয়ব আবার গম্ভীর করে বলে..
"হয়েছে। "
চড়ুই আয়নায় নিজেকে দেখে চমৎকার হাসে। আবিরের বুদ্ধি আছে বটে, কেমন দুটো মিলিয়ে পার্ফেক্ট রংটা আনলো...
"আপনাকে আপনার গার্লফ্রেন্ড এসব শিখিয়ে দিয়েছে তাই না?"
"কি সব?"
"এই যে, মেয়েদের সাজগোজ.."
আবির চোখ সরু করে তাকায় মেয়েটার দিকে। আবিরের থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে তেমন আর ঘাটলোও না চড়ুই। টেবিল থেকে ম্যাচিং পার্সটা হাতে নিয়ে রুম থেকে বের হতে হতে চেঁচিয়ে বলে....
"থ্যাংকিউ দানাবল৷ টাটা, বায় বায়, সি ইউ লেটার, গুড নাইট..."
আবির তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে হাফ নিশ্বাস ফেলে। বিরবির করে বলে ওঠে...
"আস্ত একটা পাগলী।।"
পরক্ষণেই কিছু একটা ভেবে বাঁকা হেঁসে নিজেও হেলতেদুলতে বেরিয়ে যায় রুম থেকে। আয়েশি ভঙ্গিতে নিচে নেমে কিচেনের দিকে এগিয়ে যায় নীরবে।
সাবিহা সেখানেই ছিলো,আবিরের দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো ছেলেটার মাথায় কি চলছে। নাহ,সকালের মতো রেগে নেই। তবে কি সে ছোট পাখিকে আহিশের সাথে মেনে নিয়েছে?
"বাকিরা সবাই কোথায় আম্মু?"
আবিরের এমন স্বাভাবিক প্রশ্নে সত্যিই কিছুটা অবাক হয় সাবিহা। তবুও নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করে বললো...
"ওরা বেরিয়েছে ফটোসেশনের জন্য। সকালেই তো বললাম।"
"ওহ,আচ্ছা আমি বেরোচ্ছি।"
বলতে বলতেই আবির সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে নিলে সাবিহা জিজ্ঞেস করে...
"তুই কোথায় যাচ্ছিস?"
আবির না থেমেই বললো...
"একজন ক্লায়েন্টের মেয়ের বার্থডে পার্টির ইনভিটেশন আছে পুরো ফ্যামিলির।ইউ ওয়ানা গো?"
"নাহ, তুই-ই যা।"
আবির মুচকি হেঁসে দ্রুত নিজের রুমে গিয়ে ফর্মাল কোর্ট চেঞ্জ করে নেয়। সিম্পল রাউন্ড হাই-নেক টি-শার্টের উপর কালো লেদার জ্যাকেট চড়িয়েছে ত্রস্ত হাতে। স্লিম ফিট জিন্স আর হাই টপ বুট আবিরের জন্য যেন একটি ক্যাজুয়াল লুক। পোনটা পকেটে গুঁজে দ্রুত হাতে চুলগুলো পেছনে ব্রাশ করতে করতে তিন মিনিটের মাথায় নেমে আসে আবার সে। হাতের তর্জনীতে নিজের প্রিয় গাড়ির চাবিটা ঘুড়াতে ঘুরাতে গলা ছেড়ে শুধু সাবিহাকে বলে যায়..
"আ'ম লিভিইং আম্মু। ফিরতে লেট হবে। গুড বায়। "
সাবিহা নজর ফেলে দেখে আবিরকে। নাহ, কোনো ভাবেই তিনি এই ছেলের ভাবগতি বুঝতে পারছে না। ছোট পাখিকে নিয়ে আহিশ গেলো, অথচ এর কোনো হেলদোলই নেই? কি দারুন সেজেগুজে ক্লায়েন্টের মেয়ের বার্থডে পার্টিতে চলে যাচ্ছে। অদ্ভুত না?
-------
নিবিড়ের কাঁধে মাথা দিয়ে এক হাত জড়িয়ে ধরে আছে সে৷ নিবিড় দক্ষ ভঙ্গিতে ড্রাইভ করছে আর একটু পর পর দোয়েলের পানে তাকাচ্ছে। মেয়েটা আজ আবার সেজেছে এই নিবিড়ের জন্যই। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় লোকটা আজও তার একটু প্রশংসা করছে না। সেই নিয়েই কিছুটা মুখ গোমড়া করে আছে দোয়েল। নেহাত নিবিড়ের আদেশে এতটা চিপকে বসেছে, নাহলে ভুলেও এখন নিবিড়ের দিকে তাকাতো না সে।
দোয়েলকে মন মরা হয়ে বসে থাকতে দেখে নিবিড় ড্রাইভ করতে করতেই প্রশ্ন করে....
"মিস এটম? তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে?"
দোয়েল মুখ গোমড়া করে বলে...
"নাহ.."
"প্লিজ আমার থেমে কিছু লুকিও না। কোনো প্রকার সমস্যা হলে আমায় সাথে সাথে বলবে। জানি না ভাই আবার ছোটপাখির সাথে কোনো অপশনটা এপ্লাই করে। আমি তো ভুলেই গেছিলাম তোমাদের বার্থ কানেকশনের কথা...."
শেষের কথাটা বেশ বিরবির করেই বলে নিবিড়।দোয়েল বুঝতে না পেরে মুখ তুলে চেয়ে বলে...
"কিছু বললেন?"
নিবিড় ঘোড় কাটিয়ে একবার তাকিয়ে বলে..
"নাহ, তেমন কিছুই নয়।"
দোয়েল আবার মুখ নামিয়ে নেয়।একটুক্ষন নীরবতার পর মেয়েটা বলে ওঠে...
"ভাবি জেসি আর হৃদকে আমাদের সাথে আনলেই হতো। শুধু শুধু ওরা আলাদা গাড়িতে যাচ্ছে। "
নিবিড় এক পলক দোয়েলকে দেখে মুচকি হেঁসে আরেকটু জড়িয়ে নেয় তাকে নিজের সাথে...
"ওদের সাথে আনলে কি এত সুন্দর একটা চাঁদের সাথে এভাবে বসতে পারতাম?"
ইশশ,দোয়েল কি একটু লজ্জা পেলো? হয়তো। কিন্তু নিবিড়ের প্রশংসা না করার অভিমানে যেন লজ্জাটা চাপা পড়েই রইলো। তাই চুপচাপ বসে রইলো সে নিবিড়ের কথার উত্তর না দিয়ে৷
নিবিড় অপেক্ষা করে তার উত্তরের, কিন্তু একটু পরও দোয়েলকে চুপ থাকতে দেখে নিজেই বলে ওঠে....
"আমরা কি থেমে যাবো এটম?"
"কেন?"
"ড্রাইভ করতে সমস্যা হচ্ছে, চোখ দুটো শুধু বার বার বামে ঘুরে যাচ্ছে আমার।কি করা যায় বলো তো?"
দোয়েল এবার লাজুক হেঁসে মুক লুকিয়ে নেয় নিবিড়ের বাহুতে। নিবিড় হেঁসে বলে....
"ওহে আমার প্রণয়িনী, রাত বিরেতে এতটা লাবন্যময়ী সেজে আমার কাছে আসা কি উচিত হলো? এখন কোনো ভুল হলে তা ফুল হিসেবে গ্রহন করতে পারবে তো মেয়ে?"
-----------
"আহিশসার বাচ্চা, ওওঠ... এ আহিশসাআআআ,উঠ না? এবার আমায় কে নিয়ে যাবে? আরে ঘুমাচ্ছিস কেন তুই?"
এত এত ডেকেও ঘুম থেকে তোলা গেলো না আহিশকে। গাড়িতে বসেই নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে সে৷ এদিকে চড়ুইয়ের মুখটা কাঁদো কাদো হয়ে গেছে। মেয়েটা আর একটু হলেই কেঁদে ফেলবে। এত সাজ, এত শখ সবই যেন বৃথা লাগছে।
"কি হলো?"
পেছন থেকে কারো আওয়াজ পেয়ে চড়ুই ছলছল চোখে ফিরে তাকায় সেথায়।আবির দাঁড়িয়ে আছে দেখে বিচার জানানোর ভঙ্গিতে মুখ গোমড়া করে বলে...
"দেখুন না দানাবল, আহিশ কেমন পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে, এবার আমায় কে নিয়ে যাবে? আমি কত কষ্ট করে সাজলাম।"
আবির ঘাড় ফিরিয়ে একবার দেখে নেয় আহিশকে। গোপনে তার ঠোঁটের কোনো খেলে যায় এক রহস্যময় হাসি। কাজ হয়ে গেছে। মোক্ষম চালটা আজ আবিরই চেলেছে।...
"তুমি চাইলে আমি তোমায় পৌঁছে দিতে পারি।ইউ ওয়ানা গো?"
আবিরের এই একটা কথাই যথেষ্ট চড়ুইয়ের মুখে হাসি এনে দেওয়ার জন্য। মেয়েটা উচ্ছাস নিয়ে বলে...
"সত্যি? আপনি আমায় নিয়ে যাবেন?"
"যেতেই পারি, তবে আহিশ এমন ঘুমাচ্ছে, তোমাদের তো কাপল পিকচার...."
"আরেহ রাখুন তো আপনার কাপল পিকচার।আমি কি গন্ডার নাকি ওর সাথে ছবি তুলবো? ঘুমাক ও পরে পরে।আপনি আমায় নিয়ে চলুন,,প্লিজজজ দানাবল.."
আবির হাফ নিশ্বাস ফেলে একটু নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে ওঠে...
"এত করে বলছো যখন.. কি আর করার।চলো?"