Mr and Mrs Twins Return

পর্ব - ৪৬

🟢

সচরাচর তারাতাড়ি বাড়ি ফিরে এলেও আজ প্রায় দেড়টা বাজিয়ে ফেললো টুইনস ব্রাদার্স। গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিলো যে একটা। গোডাউনের বেজমেন্টে আজ বয়েছিলো র'ক্তগঙ্গা। আর তার বিরল নির্মাণ আজ আবির নয় বরং নিবিড় বিন চৌধুরীই করেছে। আবির শুধু চেয়ারে আয়েসি ভঙ্গিতে বসে দেখে গেছে সেই ধ্বংস লীলা। গতকালের সেই মদ্য মা'তাল বখাটে গুলো আজ নিশ্চিহ্ন। কোনো প্রকার খুত রাখেনি নিবিড় তাদের আলাদা করতে। অপার্থিব শক্তির অধিকারি হয়ে সেই চারজন বখাটের শরীরকে মোট তিনশত চৌষট্টি টুকরো করে তবেই নীড়ে ফিরেছে সে আজ। শুধু অক্ষত রেখেছে তাদের হাতগুলোকে। যেই হাত পড়েছিলো নিবিড়ের হৃদয়হরণীর শরীরে। সেই হাত গুলো রাখা হয়েছে বিশেষ ফ্রিজিং কক্ষে। বাংলাদেশে আসার পর এই নিয়ে সেথায় জমা হয়েছে মোট আটটি হাত, প্রতিটি হাতের সাথেই নম্বর ট্যাগ দেওয়া, আর সর্বপ্রথম নম্বর দেওয়া হাতটি হলো সেই নিশুতি রাতের চিহ্ন। যেদিন প্রথম বারের আবিরের সামনে এসেছিলো এক চঞ্চলা পাখি। যেদিন রাতে আবির তাকে মাঝপথে ফেলে এসে আবার নিজেই গিয়েছিলো ফিরিয়ে আনতে। সেই হাত যা সেদিন ছুঁয়ে দিতে চেয়েছিলো গুটিয়ে ঘুমিয়ে থাকা চড়ুই পাখির কোমল দেহখানা।

হ্যা, আবিরের মনে তখন ভালোবাসার ঠাই হয়নি, তবুও সে এক অজানা অনিশ্চয়তায় পড়ে সেই লোকটাকে বিদায় দিয়েছিলো পৃথিবী থেকে। এখন সেই লোকের সারা দেহের আর কোনো অস্তিত্ব নেই, শুধু রয়ে গেছে একটি হাত, যা তার কাল হয়ে নেমেছিলো।

সিঁড়ি বেয়ে উঠে দুজনই একসাথে বলে ওঠে...

" আমি একটু আসছি..."

থেমে যায় দু জনই। একে অপরের দিকে তাকিয়ে যেন ভাব গতি বোঝার চেষ্টা চালায়, কয়েক সেকেন্ডে বুঝেও ফেলে একে অপরের মনের কথা যেন। নিবিড় আলতো হেঁসে আবিরের কাঁধ জড়িয়ে নিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে বলে....

"চল একসাথেই যাই..."

আবির দ্বিরুক্তি করে না। সারাদিন দেখা হয়নি চড়াইকে, আর দেরি করতেও মন চাইছে না। দোয়েল চড়ুইকে একসাথে একই রুমে পেয়ে নিবিড় আস্তে করে বলে...

"আর সামনে যাওয়ার দরকার নেই, তোরটাও এখানেই আছে। "

দরজা হালকা ফাঁক করে দেখতে পায় দু বোনকে। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে নিশ্চিন্ত ঘুমাচ্ছে। আবিরের মনে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া না হলেও দোয়েল পাখির ক্লান্ততায় মাখা ঘুমন্ত মুখটার দিকে চোখ পড়তেই হুহু করে ওঠে নিবিড়ের মন। মেয়েটাকে সে একটু বেশিই কষ্ট দিয়ে ফেললো না? হয়তো হ্যা, তবে এবার নিবিড় শুধরে নেবে সকল মান অভিমান।

--------

সকালে অফিস যাওয়ার সময় দেখা পাওয়া যায়নি পাখিদের। আজ দোয়েলও যেন একটু দেরি করেই উঠছে। সময়টা বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা প্রায়। আবির বাড়ি ফিরেছে আজ একাই, প্রতিদিনের নিয়ম অনুযায়ী নিজের রুমে না গিয়ে এগিয়ে যায় চড়াই পাখির রুমের দিকে। কিন্তু ভেতরে ঢুকার আগেই তার পা থেমে যায়। আহিশ আর চড়ুইকে আলাদা এভাবে একটা রুমে দেখে তার মাথায় রাগ চেপে বসে।

সামনেই আহিশ আর চড়ুই খোশগল্পে মেতে আছে, হাসির সাথে সাথে একে অপরের গায়ে হেলে পড়ছে যেন। মেয়েটারও বলিহারি যা। আবির হাত মুষ্টি বদ্ধ করে এগিয়ে যেতে চায় রুমের দিকে, তারপর আবার কি ভেবে যেন থেমে যায় তার কদম।চড়ুইয়ের কাছে না গিয়ে পেছনে ঘুরে হাঁটা ধরে সে।

রান্নাঘরে সন্ধ্যার নাস্তা তৈরিতে ব্যাস্ত ছিলো সাবিহা, আয়েশা আর জুলেখা। সিঁড়ি দিয়ে গটগট পায়ে আবিরকে নেমে আসতে দেখেই তিনজনের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় সেথায়। আবির এসে থামে তাদেরই সামনে। রুক্ষ অথচ নিশ্চল সতন্ত্র কন্ঠে আয়েশার দিকে তাকিয়ে বলে....

" চাচি, তোমার ছেলেকে বলবে ওয়াইফির থেকে দূরে থাকতে। আমি যেন পরের বার আর কখনো ওকে আমার চড়ুইয়ের এতটা কাছে যেতে না দেখি। "

আয়েশা হতভাগের ন্যায় তাকায় একবার আবিরের দিকে তো আরেকবার সাবিহার দিকে। সাবিহা ভ্রু কুঁচকে দু কদম এগিয়ে এসে শান্ত স্বরে প্রশ্ন করে....

"যদি আহিশকে ছোটপাখির থেকে দূরে সরতে না বলি?"

আবিরের শান্ত কঠোর দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় সাবিহার চোখে। কাটখোট্টা স্বরে একই ভঙ্গিতে দৃঢ়তার সহীত উত্তর দেয়....

"তাহলে সেদিন শুধু ওর হাত পুড়িয়েছি এবার ওকে পুরোটাই পুড়িয়ে ফেলবো আমি। "

সাবিহার চোখ গরম হয়, ধমকের সুরে বলে.....

"আবির....!"

আবির আজ যেন বাঁধা মানতে নারাজ, মায়ের সাথে এক সচল যুদ্ধে নেমেছে যেন সে আজ। তীব্র কন্ঠে উত্তর দেয়...

"তুমি এবার তোমার ছেলেকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলছো আম্মু। তোমাকে আমি আগেও বলেছি এখনো বলছি, চড়াই পাখিকে উপরওয়ালা শুধু আমার জন্য সৃষ্টি করেছে। তুমি আমাদের আটকাতে পারো না আম্মু। "

আয়েশা বুঝতে পারছে আবিরের মেজাজ চরম পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে, এদিকে সাবিহাকেও শান্ত করার মতো নয়। আমতা আমতা করে আবিরকে শান্ত করার উদ্দেশ্যে বলতে নেয়....

"আবির বাবা, শান্ত হ একটু.... "

আয়েশাকে থামিয়ে সাবিহা চেচিয়ে বলে ওঠে...

" আয়েশা তুই থাম। এই ছেলে নিজের সাথে সাথে আমাদেরও সম্মান খোয়াতে বসেছে। নিজের ছোট ভাইয়ের বউকে বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে গেছে এই ছেলে, দুনিয়াতে কি চর মেয়ে নেই??"

আবির দ্বিগুন চেচিয়ে ওঠে....

"কে কার বউ হ্যা? কে কার বউ?? ওদের এঙ্গেজম্যান্ট হয়েছে? নো, আমার সাথে হয়েছে, আমি ওয়াইফিকে আংটি পড়িয়েছি,আর এই যে ওয়াইফির দেওয়া আংটি আমার আঙুলে... "

বলতে বলতেই বা হাত উঁচিয়ে নিজের সেই আংটিখানা দেখায় আবির। সাবিহা এক পলক সেথায় তাকিয়ে বলে....

"আহিশ ছোটপাখিকে ভালোবাসে আবির, আর ছোটপাখিও আহিশকে...."

"ফা'ক অফ দিস ভালোবাসা। কোনো ভালোবাসা নেই ওদের।আর ছোটপাখি ভালোবাসে মানে? ও মেয়ে আদেও বোঝে ভালোবাসা কি?"

"আবির তুই অতিরিক্ত করছিস। ছোটপাখির থেকে তোকে আমি বার বার দূরে থাকতে বলেছি। তুই অন্য মেয়ে খুঁজে আন, তার সাথেই তোর বিয়ে...."

"আমার ওকেই লাগবে, ওকে মানে ওকেই। আমি যদি ওকে না পাই তাহলে তুমি তোমার ছেলে হারাবে আম্মু।"

"আবির!!!"

আবিরের কন্ঠ কঠোর, বলবে না বলবে না করেও এগিয়ে একটা কথা সে বলেই ফেললো আজ...

"তুমি যদি চাও চড়াই পাখির চরিত্রে দাগ না লাগুক, তাহলে আহিশের থেকে দূরে সরাও ওকে। আমি কিন্তু খুব একটা ভালো ছেলে না আম্মু। আমার ওকে চাই মানে সব রকম ভাবেই চাই। "

সাবিহার সতর্ক কন্ঠ...

"কি বোঝাতে চাইছো তুমি?"

" আমি এটাই বোঝাতে চাইছি ওকে যদি আমার হাতে তুলে না দাও আমি বাধ্য হবো বিয়ের আগেই চড়াই পাখির সতীত্ব হরণ করতে। শুধু তাই নয়, সেটা আমি প্রমাণ সহ পুরো এলাকায় জানাবো, তুমি বাধ্য হবে আমার হাতে ওকে তুলে দিতে। এরমধ্যে যদি চড়াই পাখি উলটোপালটা কিছু করে বসে তাহলে ওর সাথে সাথে বড়পাখিও শেষ। আর চড়াইকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না,তাই আমার সাথে সাথে তুমি তোমার আরেক ছেলেকেও হারাবে আম্মু। এই ছিনিমিনি খেলায় তুমি যদি হার মেনে না নাও তবুও তোমারই হার হবে। এক ধ্বংসলীলা করেই আমি নিজেকে শেষ করে তোমাকে সর্বশান্ত করবো।সইতে পারবে তো আম্মু? নিজের গর্ভের দুই ছেলে আর পাতানো দুই মেয়ের লা'শ একসাথে দেখতে?"

সাবিহা হতভম্ব নয়নে তাকিয়ে থাকে তার ছেলের দিকে। আবির যে এতটা উন্মাদ হয়ে গেছে তা তো কল্পনাও করতে পারে নি সে। কি করে পারলো এত বড় কথাটা আবির বলতে? কি করে?

"কি হয়েছে এখানে? দানাবল এমন চেচাচ্ছেন কেন?"

মিষ্টি কন্ঠটা কানে আসতেই আবির ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় সিঁড়ির দিকে। চড়াই পাখি জিজ্ঞাসু দৃষ্টি নিচে তাকিয়ে কিচেনের দিকেই। চেচামেচির শব্দেই মুলত বেরিয়ে এসেছে সে আর আহিশ। আবিরের চোখ পড়ে চড়ুইয়ের হাতের দিকে। মেয়েটা এক হাতে প্রায় পেঁচিয়ে রেখেছে আহিশের হাত। আশপাশে এতক্ষণে জেসি, তারা, হৃদ এরাও বেরিয়ে এসেছে ড্রয়িং রুমে। আবিরের মেজাজ আরো বিগড়ে যেতে থাকে। সব রাগ গিয়ে পড়ে যেন চড়ুইয়ের উপরই। মেয়েটাকে পারছে না এই মুহুর্তেই গলা টিপে মে'রে ফেলতে সে। রাগে নিজের গায়ের কোর্টটা খুলে অদূরে ছুড়ে মারলো সে, তারপরই হনহনিয়ে বেরিয়ে গেলো বাড়ি থেকে। এখানে থাকলে নিশ্চিত একটা অঘটন ঘটে যাবে এক্ষুনি।

------------

ফুলের দোকানে এসে থামে নিবিড়ের গাড়ি। চঞ্চল চিত্তে দোকান থেকে এক গুচ্ছ সাদা গোলাপ নেয় সে। দোয়েলের সাদা গোলাপ পছন্দ এটা জানে সে। আজ সে সকল মান অভিমান চুকিয়ে মেয়েটাকে সম্পূর্ণ নিজের মনের দখলদারি দেবে। আর কষ্ট পেতে হবে না তাকে, আর নাহ...

ফুলগুলো কিনে নিয়ে গাড়ির ভেতরে রাখে নিবিড়। নিজে গাড়িতে উঠতে গেলেই হঠাৎ অদূরে একটা জিনিসের দিকে চোখ পড়লে থেমে যায় সে। পাশেই একটা বেঞ্চিতে একটা লেডিস পার্স পড়ে আছে অবহেলায়। ব্যাগটা ভীষণ পরিচিত মনে হলো তার, এমন ব্যাগ তো পাখিদের হাতে দেখেছিলো সে। কিন্তু এটা তো তাদের না ও হতে পারে। দোটানায় পড়ে নিবিড়। কিছু একটা ভেবেই বাড়িতে ফোন দিয়ে জানতে পারে দোয়েল বিকেলের দিকে বেরিয়েছে। এখনো ফিরেনি। কিছুটা চিন্তিত হয় নিবিড়। এগিয়ে গিয়ে ব্যাগটা হাতে তুলে নেয় সে। লক্ষ্য করে সাদা সুতার কাজের ব্যাগটায় ধুলোবালি আর এলোমেলো ভাবে রক্তের দাগ। এমনটা হওয়ার কারন বুঝতে পারে না সে। দ্রুত ব্যাগটা খুলে দেখে সেথায় কোনো ফোন বা টাকা নেই, আছে শুধু টুকটাক কিছু জিনিস। এর মধ্যেই একটা ভাজ করা কাগজ খুলতেই নিবিড় থমকে যায়। এটা সেই চিঠি , সেদিন ছাদে যেটা পড়ে দোয়েলকে প্রপোজ করতে বলা হয়েছিলো নিবিড়কে। তার মানে এটা দোয়েলেরই ব্যাগ। মেয়েটা এই সামান্য মজার ছলে লিখা চিঠিটাও সামলে রেখেছে কি দারুন ভাবে। কিন্তু এটা এখানে কেন?

নিবিড় আশপাশে তাকিয়ে ফুলের দোকানের লোকটাকে জিজ্ঞেস করে...

"এই ব্যাগটা কে রেখে গিয়েছে কিছু বলতে পারবেন? "

লোকটা ব্যাগের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে...

"ব্যাগে তো র'ক্ত লাইগা আছে সাহেব। ঐ কিছুক্ষণ আগে এই সামনে একটা মাইয়ার এক্সিডেন্ট হইলো না? মনে হয় তার। "

থমকে যায় নিবিড়। কি শুনলো সে...

"ক্ কিহ!!"

"হয় সাহেব। বড় ট্রাক আইসা পিইষা ফেলাইছে মাইয়াডারে। হাসপাতালে নিয়া যাওন হইছে, তয় মনে হয়না বাঁচবো। মাথাডার একপাশ হইতে খুলি পুরা গুড়া গুড়া হইয়া রাস্তার লগে মিইশা গেছে। "

বাক শক্তি হারিয়ে ফেলে নিবিড়। চারদিকের সব আওয়াজ যেন ক্ষীন হয়ে আসে তার। চোখের পাতায় যখন কল্পনা করতে যায় তার এটমের ঐ চিত্রটার কথা তখনই বুকের ভেতর তীব্র ভাবে যেন কেউ আঘাত করতে থাকে৷

কম্পমান হাতে নিবিড় চেপে ধরে নিজের বুকের বা পাশটা। তীব্র যন্ত্রণায় দগ্ধ হচ্ছে যেন বুকটা। কি হচ্ছে এসব, কেন হচ্ছে?

নিবিড়কে অস্বাভাবিক ভাবে বুকে হাত চেপে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ফুলের দোকানের লোকটা বলে..

"কি হইলো সাহেব? শইল খারাপ লাগতাছে? "

স্তম্ভিত ফিরে নিবিড়ের। এতটাও সে ভেঙে পড়বে না। মনের ভেতর দৃঢ় বিশ্বাসই যেন আজ তার এক মাত্র সম্বল। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে শুধু উচ্চারণ করে...

"ক্ কোন হসপিটাল?"

লোকটা নাম বলতেই নিবিড় ছুটে যায় গাড়ির দিকে

।তীব্র বুকে ব্যাথায় মনে হচ্ছে যেন এক্ষুনি প্রাণপাখিটা চলে যাবে তার। তবুও সে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এক হাতে বুক চেপে ধরেই আরেক হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং সামলাতে থাকে এলোমেলো ভাবে।

পথটা যেন অনেক বেড়ে গেছে। উন্মাদের মতো লাগছে নিজেকে। ভেতরে কি হচ্ছে তা সে নিজেও যেন অনুভব করতে পারছে না। পাগলের মতো আপন চিত্তেই বকবক করে যাচ্ছে...

"না নাহ, এটমের কিছু হবে না। ও্ ওকে তো আজ শুনতে হবে আমার মনের কথা। ও তো এখনো আমার বউ হওয়া বাকি, আ্ আমার সন্তানের মা হওয়া বাকি। আমাদের একটা সুন্দর সংসার হওয়া বাকি। এত কিছুর আগে ও যেতে পারে না। আ্ আমি যেতে দেবো না।ব্ ব্ বলতেই হলো এক্সিডেন হয়েছে? ব্ বাচবে না মানে কি হ্যা? ওকে বাচতে হবে। আ্ আমার জন্য হলেও বাঁচতে হবে। "

একদিকে নিজের বুকের যন্ত্রণা আরেক দিকে সেই অপ্রীতিকর কথাটা। নিবিড়ের মতো হাস্যরসাত্মক ছেলেটা আজ কাঁদছে। তার নিজের অজান্তেই চোখ বেয়ে নোনা পানি ঝড়ছে অঝোরে।

নিবিড় তীব্র ভাবে চাইছে তার শখের সেই মেয়েটাকে একটু ছুঁয়ে দিতে। কিন্তু আজ যেন পথটাই শেষ হচ্ছে না।

অতি প্রিয়রা কুয়াশার মতো হয়, কল্পনায় তাদের দেখা যায়, কিন্তু ছোঁয়া যায় না। নিবিড়ের কাছে ঐ একরত্তি মেয়েটা তেমনই কিছু। মাত্র কয়েকটা মাস, কয়েকটা মাসে মেয়েটা কিছু না করেও যে নিবিড়ের মনের সবটা জায়গা দখল করে নিয়েছে তা কি আদেও জানে ঐ মেয়ে?

নিবিড় তো আজ তাকে জানাতেই গিয়েছিলো, কিন্তু তার আগেই কেন বিধাতার নিয়মতান্ত্রিক সংকটে ভাসিয়ে দিচ্ছে তাকে? কেন এই জীবনের শ্রেষ্ঠ সুখ খানা তাকে অনুভব করার সুযোগ দিয়েও কেড়ে নিচ্ছে? একটা মাত্র মনের মানুষ দিয়ে আবার কেড়ে নেওয়ার মতো নিষ্ঠুর তো উপরওয়ালা নয়, তাহলে আজ নিবিড়ের ক্ষেত্রে কেন এমনটা?

ফোনের রিংটোনে ঘোর ভাঙে নিবিড়ের। নাক টেনে শার্টের হাতায় চোখ মুছে নিয়ে ত্রস্ত হাতে ফোনটা রিসিভ করে ভাঙা ক্রন্দনরত কন্ঠে বলে ওঠে...

"হ্ হ্যালো.. "

ওপাশ থেকে ভেসে আসে আবিরের এলোমেলো কন্ঠ...

" মাদারবোর্ড.. কি করেছিস তুই? আমার কেন বুকে ব্যথা করছে? তোরা আমাকে কি একটুও শান্তি দিবি না? বাড়ি তো ছেড়ে এলাম,জীবনটাও চাই তোদের? "

আবিরের কন্ঠ একটুও স্বাভাবিক নেই। কিন্তু সেদিকে লক্ষ্য করার মতো অবস্থা নেই নিবিড়ের৷ এই মুহুর্তে নিজের কাছের মানুষ হিসেবে এই ভাইটাকেই মনে হলো প্রয়োজন। কান্না চেপে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেও যেন পারছে না সে। ভগ্ন স্বরে বলে ওঠে...

"ভ্ ভাই, মিস এ্ এটমের এক্সিডেন হয়েছে... "

----

হসপিটালে হন্তদন্ত পায়ে প্রবেশ করে নিবিড়। এই কিছুটা সময়েই যেন ছেলেটা উন্মাদ হয়ে গেছে ৷ এদিক ওদিক তাকিয়ে শুধু খোঁজার চেষ্টা করলো তার প্রণয় পাখিকে। কিন্তু পাচ্ছে না সে,কোনো মতেই পাচ্ছে না।

বুকে হাত চেপে ধরে রিসেপশনিস্টের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো...

" আ্ আমার এটম কোথায়? এ্ একটু আগে এক্সিডেন্টের রোগী...."

নিবিড়ের কথা শেষ হওয়ার আগেই রিসেপশনিস্ট বলে ওঠে....

"আপনি সেই মেয়েটার ফ্যামিলিয়ার? দুঃখিত ট্রাকের চাপায় তার ব্রেইন সহ বেরিয়ে পিষে গেছে, তাই তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সি ইজ নো মোর।..."

Mr and Mrs Twins Return গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় টুইন রিলেটেড রোমান্টিক গল্প