আবির ব্যর্থ হয়েছে। হ্যা, সে পারেনি তার চড়াই পাখিকে আঘাত করতে।অনামিকা আঙুলে যখন ছু'রির শীতল স্পর্শ লাগলো, তখনো চড়ুইয়ে ঘুম গভীর হয়নি। সুরসুর করে নড়েচড়ে ওঠে সে । আধো খোলা চোখে আবিরকে এমন বিচলিত ভঙ্গিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে সরল মেয়েটি ভাবলো, হয়তো তার হাতে এখনো ব্যথা করছে। ঘুম জড়ানো কণ্ঠে সে বলে উঠলো...
"কী হলো? হাতে এখনো ব্যথা করছে? এদিকে দিন আমি আবার কিসি দিয়ে দিচ্ছি।"
আবিরের উত্তরের অপেক্ষা না করে, সে নিজেই টেনে নিয়ে আবিরের ব্যান্ডেজ করা ডান হাতটায় আলতো আলতো চুমুতে ভরিয়ে দিতে লাগলো। পরম যত্নে সে আবিরের হাত ধরে আছে, যেন সামান্য চাপ লাগলেই আবির ব্যথায় কুঁকড়ে উঠবে। ধীরে ধীরে সে আবার ঘুমের দেশে তলিয়ে গেল। আবিরের হাতখানা এমনভাবে নিজের এক হাত দিয়ে মুখের কাছে জড়িয়ে রেখেছে, যেন এটি একটি দুর্লভ সম্পদ; ছেড়ে দিলেই বুঝি হারিয়ে যাবে।
আবির নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে দেখছিল মেয়েটির এই আদুরে স্বভাব। নিজের অন্য হাতে আবদ্ধ থাকা চড়ুইয়ের কোমল বা হাতখানার দিকে সে করুণ দৃষ্টিতে তাকালো। এই হাতেই সে আঘাত করতে যাচ্ছিল! মেয়েটির তুলোর মতো নরম, গোলগাল, তৈলাক্ত হাতখানাও যেন একটি পূর্ণাঙ্গ মায়া, একটি স্নিগ্ধ ফুল, এক শিশুর দেহ। এই হাতটায় আঘাত করার সাহস তার মনে সায় দিল না। কী করে পারবে সে? মেয়েটি ঘুমের ঘোরেও তার হাতের যত্ন নিচ্ছে, আর আবির কিনা আঘাত করতে যাচ্ছিল? পারলো না আবির।
সার্জিক্যাল চাকু খানা নীরবে ফিরিয়ে রাখলো ফার্স্টএইড বক্সে। তার হাত কাঁপছে অবিরত। কী করতে যাচ্ছিল সে? মেয়েটিকে আঘাত করা মানে তো নিজের হৃদপিণ্ডে আঘাত করা। এতটা নিঠুর তো হতে পারবে না আবির।
কম্পমান হাতে সে চড়ুইয়ের হাতখানা মুষ্টিবদ্ধ করে নিল। মুখ নামিয়ে ঘন ঘন সেই কোমল হাতখানায় চুমু খেল, যেন এটি একটি অমূল্য রত্ন। তার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসছিল, গলা দিয়ে স্বর বের হতে চাইছিল না, তবুও বুক ডিঙিয়ে ফিসফিসিয়ে, যেন হাঁপানি রোগীর মতো, সে বলে উঠলো...
"আ'ম সরি পাখি। আমি এই নাজুক ফুলটিকে আঘাত করতে চেয়েছি। আ'ম রিয়েলি সরি। আর কখনো আবির এমন কিছু করবে না, কক্ষনও না। এই আবির বিন চৌধুরী শুধু তোমায় রক্ষা করবে, আঘাত নয়। তোমায় আঘাত করতে গিয়েই যে আমার চিত্ত কেঁপে উঠছে, পাখি। এর চেয়ে বেশি কিছু হলে তো আমি দুনিয়া থেকেই বিলীন হয়ে যাবো। আমায় ক্ষমা করে দিও চড়াই, আবির শুধু তোমায় ভালোবাসবে। একটুও কষ্ট দেবে না আর, একটুও না।"
নিজের উদ্দাম চিত্তকে বশ করে আবির আলতো হাতে ছুঁয়ে দিল চড়ুইয়ের ছোট্ট, মায়াবী মুখখানা। তার দু' ঠোঁটের মাঝে কিঞ্চিৎ ব্যবধান, সে তখন ঘুমিয়ে আছে ছোট্ট শিশুর মতো। আবিরের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ধরা পড়লো সেই দুর্লভ মায়ার প্রতিচ্ছবি। সামান্য ঝুঁকে সে তার চড়ুই পাখির ললাটে একটি পরিশীলিত চুম্বন এঁকে দেয়।
কম্ফোর্টার সরিয়ে, আবির মেয়েটির এলোমেলো ওড়নাটিকে সুচারুভাবে ঠিক করে তার বুক ঢেকে দিল। অতঃপর, চরম ধীরতা ও শান্ত মেজাজে, সে দুহাতে চড়ুইকে পাঁজা কোলে তুলে নেয় । পেশিবহুল বুকের উষ্ণতায় মিশে থাকা চড়ুইকে নিয়ে শব্দহীন পদক্ষেপে এগিয়ে গেল পাখিদের ব্যক্তিগত কক্ষের দিকে।
ওদিকে দোয়েলের কপালে নিবিড়ের কপাল তখনও নিবদ্ধ। এমন অপ্রীতিকর মুহূর্তে আবির দরজা ঠেলতে ঠেলতে একবার গলা খাঁকারি দিয়ে নিবিড়কে নিজের উপস্থিতি জানান দেয়। নিবিড় তৎক্ষণাৎ মুখ তুলে স্থির দৃষ্টিতে তাকালো আবিরের দিকে। ততক্ষণে আবির বিছানার অন্যপ্রান্তে পৌঁছে চড়ুইকে নরম বিছানায় শুইয়ে দিয়েছে। মাথার কাছ থেকে একটি কুশন নিয়ে চড়ুইয়ের পাশে রেখে তার হাতটি কুশনের ওপর জড়িয়ে দিল। পায়ের দিক থেকে ব্ল্যাঙ্কেটটি টেনে গলা পর্যন্ত আবৃত করে দেয়। চড়ুইও বাচ্চাদের মতো করে একটি গভীর নিঃশ্বাস ফেলে ঘুমের অতলে তলিয়ে যায় আবার
"আমি তো ভেবেছিলাম, ছোট পাখি আজ তোকে ঘুম পাড়িয়ে দেবে। আমাদের বাবুটার হাতে ব্যথা কি না..."
নিবিড়ের এমন মিচকে হাসি মেশানো বিদ্রূপ শুনে আবির কোণা চোখে তার দিকে তাকায়। টেবিলের ওপর রাখা ডিজাইনার ল্যাম্পটি নিভিয়ে দিয়ে সে এক ভারী কণ্ঠে বলল...
"আজ সারারাত কি বড় পাখির কাছেই থাকার পরিকল্পনা করছিস? যদি তাই হয়, এক্ষুনি বল। আমি আমার ম্যাডামকে অন্য ঘরে স্থানান্তরিত করে দিচ্ছি। তোর তো আবার নজরের সমস্যা আছে।"
আবিরের কথায় তীব্র আপত্তি জানিয়ে নিবিড় নিজের দুগালে আলতো চাপড় মেরে বলে...
"আসতাগফুরিল্লাহ, নাউজুবিল্লাহ। এ কথা তুই বলতে পারলি ভাই? ছোট পাখি তো আমার বোন, আমার একমাত্র সিস্টার ইন ল, আমি আমার স্ত্রী ছাড়া অন্য নারীর দিকে খারাপ নজরে তাকাই না। ক্যারেক্টারের দিক দিয়ে এখনও সলিড আছি, ব্রো।"
আবির নিবিড়ের এমন ফাউল কথায় আর মনোযোগ না দিয়ে কেবল নির্দেশ দিয়ে বলে...
"যাবি নাকি চড়াইকে নিয়ে যাবো?"
নিবিড় তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ায়। এক হাতে তখনকার ঔষধের পাতাটা নিয়ে বাইরের দিকে হাঁটতে হাঁটতে হালকা হাহাকার করা স্বরে বলে..
"চল চল, থেকে আর কী হবে? আমার রানী তো ডাবল পিল মেরে ঘুমাচ্ছে।"
আবিরও নিবিড়ের সাথে তাল মিলিয়ে হাঁটতে হাঁটতে জানতে চাইলো....
"ডাবল পিল?"
"হ্যাঁ ভাই, স্লিপিং পিল নিয়েছে সে। কষ্টে বুক ফাটবে, তবুও তার মুখ ফুটবে না।"
----------
ড্রয়িং রুমে গোল মিটিং বসেছে বিকেলে, আপাতত বাড়ির পুরুষ সদস্যরা ছাড়া বাকিরা উপস্থিত, ওহ আহিশও রয়েছে, যদিও সে এখনো পুন্যাঙ্গ পুরুষ হয়ে উঠতে পেরেছে কিনা তা সন্দেহের।
সামনেই সবাই মিলে দেখছে এঙ্গেজম্যান্টের জন্য আনা সমস্ত সাজ পোশাক৷ বাড়ির সকলের জন্যই কেনাকাটা করা হয়েছে। কনের লেহেঙ্গা একই রকম দেখতে দুটো দেখে চড়ুই পাখি বলে ওঠে...
"ওমাহ, বোন কি দুটো লেহেঙ্গা পড়বে একসাথে? "
সাবিহা হেঁসে বলে...
"নাহ রে পাগলি মেয়ে, একটা বড় পাখির আরেকটা তোর জন্য। "
"আমার জন্য মানে? আমার কি এঙ্গেজম্যান্ট নাকি? "
চড়ুইয়ের এমন কথায় সাবিহা দোয়েলকে চোখের ইশারা দিতেই দোয়েল বলে ওঠে...
"তুই তো জানিস বোন, আমি তোকে ছাড়া গকা একা কিছু করি না।"
"ওমাহ, এটা আবার কেমন কথা। এঙ্গেজম্যান্ট তো তোর বোন? "
দোয়েল বলে...
"আমার একার নয়, তোরও... "
চড়ুইয়ের মাথায় খেলে না মূলত কি বলতে চাইছে এরা। সাবিহা বলে ওঠে...
"হ্যা রে আম্মু, তোরা দুটো তো একই রকম ােখতে, ছোট বেলা থেকে সব যখন একই সাথে করে আসছিস, এবার ভিন্ন কেন হবে? তুইও কাল একদম দোয়েলের মতো করে সাজবি। আর এঙ্গেজম্যান্টও হবে আহিশের সাথে। "
চড়ুই চমকায়। সব ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলে...
"কি বলছো আম্মু,, আহিশের সাথে কি করে?.."
আহিশ চড়ুইয়ের কাঁধ চেপে ধরে বসিয়ে দিতে দিতে বলে...
"রিল্যাক্স ছোটপাখি, আমার তোর বর হতে বয়েই গেছে, আমার তো নাগা মরিচ আছে, তাইনা রে নাগা? "
আহিশের কথায় হৃদ নক মুখ কুঁচকে রাগী চোখে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আয়েশা আহিশকে ধমকে বলে ওঠে...
"আহ আহিশ, মেয়েটাকে খেপাচ্ছিস কেন, যা বলছিস সেটায় মন দে না... "
আহিশ হেঁসে আবার চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে বলে...
"ঐ যে ঠিক যেভাবে আমরা জিসান ভাইয়ের হলুদের সময় গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড হয়েছিলাম,সেভাবে এঙ্গেজম্যান্টও হবে। অন্নেক মজা হবে ছোটপাখিন, দু দুটো এঙ্গেজম্যান্ট বিয়ে, যদিও তোর আর আমারটা হবে যাস্ট ফর শো, আমরা সত্যি সত্যি কিন্তু বিয়ে করবো না। তবে সাজবো, ছবি তুলবো কাপল ডান্স করবো বল মজা হবে না? "
চড়ুই পাখি উচ্ছাসিত স্বরে চোখ বড় বড় করে বলে ওঠে...
"আসলেই তো? সেইম সেইম হয়ে তাহলে। "
আহিশও হাতে একটা তালি মেরে বলে..
"এক্সাক্টলি, আমিও একদম নিবিড় ভাইয়ের মতো সাজবো আর তুই বড় পাখির মতো। রিয়েল আর ফেইক চিনতেই পারবে না লোকে। "
চড়ুইও নাচতে নাচতে মাথা দুলিয়ে বলে দেয়...
"তাহলে শোন, তুই নাহ হ্যা। ঐ যে দানাবলকে আমার বর সাজিয়ে দে, তবেই না দুই ব্রাইড আর দুই গ্রুম সেইম হবে। কি বলো তোমরা? আচ্ছা, দানাবল বাড়ি আসুক আমিই উনাকে বলবো... "
ব্যস, হয়েই গেলো সবার।এতক্ষণের উৎসাহিত মুখ গুলো যেন বেলুনের মতে ফুটুস করে ফেটে গেলো। যার জন্য এত কিছু তাকেই নাকি বলে দেবে এই মেয়ে। তারা এগিয়ে এসে বসে চড়ুইয়ের পাশে, তারপর হাসি মুখে বলে...
" না নাহ ছোট পাখি, এটা তো করা যাবে না। তাহলে তো সবই একই হয়ে যাবে। বড় পাখির যে বিয়ে সেটা তো একটুও বোঝা যাবে না। এটা কি করে হয় বলো? "
চড়ুই মুখ করুন করে বললো...
"মানে?"
"মানে সব সেইম থাকবে শুধু বর আলাদা হবে আরকি দুজনের। সব একই হলে তোমার বোনকে আলাদা করে চেনা যাবে কি করে বলো?"
"তাই তো? আচ্ছা ঠিক আছে, আহিশসার বাচ্চা তুই-ই আমার বর সাজবি ওকেয়?"
"জো হুকুম রানীমা। তো এখন থেকে আমরা সবাইকে এটা ফিল করাবো যে আমরাও কাপল, মানে বলার সময়ও বলবো যে আমাদেরও বিয়ে। "
"ওকেয় ওকেয়, আমি রাজি। বোনের সাথে আমিও বউ সাজবো।"
চড়ুইকে মানাতে পেরে উপস্থিত সকলে যেন একটু সুস্থির নিশ্বাস ফেলে। যাক এই বারের মতো বাঁচা গেল। এবার শুধু এত টুকু খেয়াল রাখতে হবে যেন চড়ুই আবিরকে আবার কথাটা বলে না দেয়। তার জন্য তার থেকে দূরে রাখতে হবে আবিরকে কঠোর ভাবে।
সব কিছু ঠিকঠাক করে দোয়েল বের হলো বাড়ি থেকে। বিশেষ একটি কাজ আছে তার। সন্ধ্যা ঘনিয়েছে বেশ। এর মধ্যেই কাজটা সেরে ফেলতে হবে তার। বাড়ি থেকে বের হয়েই রিক্সায় চড়ে বসে সে। দ্রুততার সহিত একটি নম্বরে কল লাগায়...
" কোথায় আপনি?"
"........"
"আমি আসছি কিছুক্ষণের মধ্যে, সব কিছু গুছিয়ে নিয়েছেন তো? "
"......"
"ঠিক আছে। আমি শুধু চিনিয়ে দেবো, বাকিটা আশা করি আপনি সামলে নেবেন। "
নিজ গন্তব্যে হারিয়ে যায় দোয়েল। বুকের ভেতর সংশয়, সে জানে যা করছে তা ঠিক করছে না। কিন্তু উপরওয়ালা আর কোনো প্রকার পথ খোলা রাখে নি তার জন্য। এটাই শেষ রাস্তা তার।
রিক্সা থামতেই ভাড়া মিটিয়ে রাস্তার ফুটপাতে গিয়ে দাঁড়ায় দোয়েল।একটু পরেই মুনিয়া এসে হাজওর হয় সেখানে। বুকে দু হাত গুঁজে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে...
"বলো কি দরকার? "
দোয়েলের চোখ মুখ কঠিন হয়। জেদের তাড়নায় বলে ওঠে..
"আপনি এখনো কেন আমার নিবিড়ের পিছনে পড়ে আছেন? জানেন না কাল যে আমাদের এঙ্গেজম্যান্ট? "
মুনিয়া একদম স্বাভাবিক হয়েই বলে..
"তো? এটা তো ফেইক, সেদিন নিবিড় তো বললোই তোমায়। "
"কিচ্ছু ফেক নাহ, নিবিড় আমাকে ভালোবাসে আর আমি নিবিড়কে। তুমি আমাদের মাঝখানে কেন এসেছো? "
মুনিয়াও জোর গলায় বলে...
"নিবিড় নিজ থেকে আমার ভালোবাসার ডাকে সাড়া দিয়েছে, উই মেড ফর ইচ আদার..."
"মিথ্যা কথা, এসব কিছুই নাহ। নিবিড় কখনোই তোমায় ভালোবাসে নি। ও্ ওর ফোন থেকে আমি তোমায় মেসেজ দিতাম, কল দিলেও আমিই নিবিড়ের সাথে থাকতাম, তোমাকে নিবিড় সম সময়ই এড়িয়ে চলতে চেয়েছে। "
" তো এসব তুমি আমাকে বলছো কেন? নিবিড়কেই জিজ্ঞেস করে নাও না গিয়ে? আমাদের ভালোবাসা যথেষ্ঠ গভীর, আমরা প্রতিদিন মিট করি, ডেটে যায় আরো কত কি। আর তুমি নিবিড়ের মতো ছেলেকে বিয়প করার স্বপ্ন দেখো কি করে? কি যোগ্যতা আছে তোমার নিবিড় বিন চৌধুরীর বউ হওয়ার? না আছে ক্লাস, না আছে ফ্যামিলি, আর আছে কোনো স্মার্টনেস। কি নিয়ে এত লাফাচ্ছো তুমি? "
দোয়েলের চোখ মুখ কঠোর, ভেতর ভেতর দুমড়ে যাচ্ছে মেয়েটির প্রত্যেকটি কথার আঘাতে সে। কিন্তু আজ দোয়েল বসড্ড বেহায়া, ভালোবাসার মানুষটিকে পাওয়ার জন্য এত টুকু তো সহ্য করতে পারবে দোয়েল। নিরলায় মুনিয়ার প্রতিটি কথা কানে গ্রাস করছে সে, একটি কথারপ প্রতিত্তোর করছে না, যেন কোনো কিছুর জন্য আগাম অপেক্ষার চরম মুহুর্তে আছে সে।
দৃষ্টি ঘুরে এদিক ওদিক, কিছু একটার ইঙ্গিত, কিছু অদ্ভুত হতে যাচ্ছে এক্ষুনি। দোয়েল পাখি আভাস পায়, ঘন বাতাসের সাথে পাশে শো শো শব্দ তুলে এসে থামে একটি কালো রঙের গাড়ি। গুট করেই মুনিয়ার সমস্ত কথারা হারিয়ে যায়। দোয়েল দীর্ঘ একটা নিশ্বাস ফেলে, গাড়িটা আবার স্পিড বাড়িয়ে সামনে এগিয়ে যায়।দোয়েল পাখি এক পলক সেই গাড়িটার দিকে তাকিয়ে থেকে নিরবে পেছনে ঘুরে পা বাড়ায় রাস্তার দিকে। ওপাড়ে গিয়ে রিক্সা ডেকে আবার রওনা দেয় নীড়ে।
-----
আবির নিবিড় ফিরেছে বেশ কিছুক্ষণ আগে। আবির এসেছে ধরেই বার বার উঁকি দিচ্ছে চড়ুইয়ের ঘরে। কিন্তু সে ঘরে আজ চাঁদের হাট৷ সাবিহা, জুলেখা, আয়েশারা সবাই ঢ়েন আজ সেখানেই আসন পেতে বসেছে। আবির আন্দাজ করতে পারছে এটার কারন কি, সাবিহা কোনো ভাবেই চড়ুইয়ের কাছে ঘেসতে দিবে না আবিরকে। কিন্তু আদেও কি তা সম্ভব?
দোয়েলকে সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে দেখে নিবিড় উঠে এসে দাঁড়ায় তার বরাবর। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে এক বার পর্যবেক্ষণ করে নেয় মেয়েটিকে। দোয়েলের অসস্তি, এলোমেলো দৃষ্টি যেন বলে দিচ্ছে কিছু একটা অস্বাভাবিক, কিছু একটা ঘাপলা চলছে এই মেয়ের মধ্যে।
"এত রাতে কোথায় গিয়েছিলে? "
নিবিড়ের এমন প্রশ্নে চমকায় দোয়েল, তবুও নিজেকে সামলে মুখে হালকা হাসি এনে বলে...
"কেয়ার বাসায় গিয়েছিলাম। নোটস লাগতো কিছু৷ "
"ওহ, আহিশকে বললেই পারতে, ও নিয়ে আসতো। আর না হলে কাউকে সাথে নিয়ে যেতে। একা একা বেরোলে কেন? "
দোয়েলের মনে জৃবলে ওঠে এক তাপীয় অগ্নিশিখা, মনে মনে বলে..
"যার জন্য বেরিয়েছি তা যদি আপনি জানতেন একবার... "
চোখ তুলে নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে আলতো হেঁসে বলে..
"সমস্যা নেই, এই যে ফিরে এসেছি।"
"ঠিক আছে।"
বলতে বলতেই নিবিড় আবার একটু চিন্তিত চোখ ফোনে নিবন্ধ করে সোফার দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো।তার এমন চিন্তিত ভাব দেখে আলতো হাসে দোয়েল। ভান করে জিজ্ঞেস করে...
"কোনো সমস্যা? আপনাকে চিন্তিত দেখাচ্ছে। "
নিবিড় ফোনেই দৃষ্টি নিবন্ধ রেখে বলে...
"হুম , ঐ একটু আরকি। আসলে আমার হানি, আই মিন মুনিয়া লাস্ট এক ঘন্টা যাবৎ কোনো মেসেজ দিচ্ছে না। "
দোয়েল আপনাআপনি উৎফুল্ল চিত্তে বলে ওঠে....
"আলহামদুলিল্লাহ "