আবির, যেএই মুহূর্তে তাঁর রন্ধন-নিপুণতা প্রকাশে মগ্ন, সুচারু দক্ষতায় রান্নাঘরের অত্যাধুনিক সেল্ফের ওপর স্থাপিত মসৃণ ফলকের উপর তাঁর তীক্ষ্ণ ছুরিটি পরিচালনা করছে। এই বিশেষ মুহূর্তের জন্য নির্বাচিত উপকরণের মধ্যে রয়েছে নুডলসের জন্য অপরিহার্য উৎকৃষ্ট পেঁয়াজ এবং তাজা কাঁচা মরিচ। তাঁর হাতের প্রতিটি গতিশীলতা যেন এক অনায়াস শৈল্পিক নৈপুণ্যের পরিচয় বহন করছে।
একাকীত্বের সামান্য বিরক্তি দূরীকরণের উদ্দেশ্যে, সে কিছুক্ষণ পূর্বে এক মনোরম সুরের মূর্ছনা সৃষ্টি করেছেন—তাঁর কাছাকাছিই স্থাপিত মিনি মিউজিক প্লেয়ার নামক যন্ত্রটি থেকে ভেসে আসছে মৃদু, সুমধুর গান , যা এই নিরিবিলি পরিবেশে এক সূক্ষ্ম বিলাসী আবেশ যুক্ত করেছে। আবির ও সেই সাথে নিজের রুক্ষ পুরুষালী গলায় হালকা সুর মিলিয়ে গাইছে..
You know you love me, I know you care
Just shout whenever and I'll be there
You want my love, you want my heart
And we will never ever ever be apart
Are we an item? Girl, quit playing
We're just friends, what are you saying
Say there's another and look right in my eyes....."
সকল উপকরণ পরিপাটি করে কাটা শেষ হলে সে ইন্ডাকশন চুলার ওপর ফ্রাই প্যানটি বসালো। তারপর, অত্যন্ত ধীর ও সাবলীল ভঙ্গিতে সামান্য ওপর থেকে তেলের পাত্রটি ঘুরিয়ে তাতে তেল ঢাললেন।
তাঁর হাতের দৃঢ় শিরা গুলো এবং মসৃণ কব্জির প্রতিটি মোচড় স্পষ্টতই জানান দিচ্ছিল যে সে এই শিল্পের একজন প্রখ্যাত কারিগর। তাঁর শরীরের সামগ্রিক ভঙ্গি ও নিখুঁত নড়াচড়া যেন সাক্ষ্য দিচ্ছে—তিনি কোনো সাধারণ রাঁধুনি নন, বরং একজন সুপরিচিত শেফ। সাথে হালকা দুলতে দুলতে গলার স্বর তো আছেই..
My first love broke my heart for the first time and I was like
Baby, baby, baby oh
I'm like baby, baby, baby no
I'm like baby, baby, baby oh
I thought you'd always be mine, mine
Baby, baby, baby oh
I'm like baby, baby, baby no
I'm like baby, baby, baby oh
I thought you'd always be mine, mine
আবির বিন চৌধুরীর মতো ব্যক্তিত্ব, যার সামান্য ইশারায় মানব শরীরও যেন মোচড় দিয়ে ওঠে, যে রাজার মতো রাজত্ব করে এসেছে বিশ্বজুড়ে, কখনো কারো গোলামি স্বীকার করেনি—সেই আবিরই আজ এক নতুন, অবিশ্বাস্য ভূমিকায়।
নিয়ম ভাঙার সেই প্রতিমূর্তি, যার কাছে 'অসম্ভব' শব্দটি ছিল অভিধান বহির্ভূত, সেই আবিরের হৃদয়রাজ্যে আজ অন্যরকম শাসন!
তাঁর প্রণয়ী পাখির একটি আবদারে, রাত দুটোর নিস্তব্ধতা ভেঙে সে নেমে পড়েছেন এক রান্না-যুদ্ধে।
"লম্বা লম্বা কেঁচোর মতো লুটুস" – চড়ুই পাখির এই আপাত-দুর্বোধ্য শব্দগুলি, সূক্ষ্ম বুদ্ধি সম্পন্ন আবির অর্থোদ্ধার করতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি। সে বুঝেছে তার প্রণয়িনী ঠিক কী চেয়েছে।
আর সেই মুহূর্তেই, উপরওয়ালার নাম নিয়ে সে রাজকীয় মেজাজে ঘোষণা করেছেন – তার ওয়াইফি কিছু চাইবে আর আবির তা পূরন করবে না,এমন বাক্য সেই দিনই সম্ভব, যেদিন সূর্য পশ্চিম আকাশে উদিত হবে!
তার প্রেম নিবেদনে আজ রান্নাঘরের ধোঁয়া নয়, চেহারায় জ্বলছে অদম্য ভালোবাসার দ্যুতি।
সে শুধু রান্না করছে না, তার চড়াই পাখির জন্য একবুক ভালোবাসা আর সেই "কেঁচোর মতো লুটুস"-এ ভরা এক থালা রাজকীয় মনোযোগ পরিবেশন করছেন।
কিন্তু এমন একখানা মোহনীয় সময়ে সাবিহার আগমন মোটেও আশা করে নি সে। সাবিহাকে দেখেই গান থামিয়ে দেয় সে। ফ্রাই পেনে ডিম ভেঙে দিয়ে খুন্তি নাড়াতে নাড়াতে অল্প আওয়াজে জিজ্ঞেস করে...
" তুমি এখানে? এই সময়?"
সাবিহা আড়চোখে দারুন ভাবে পর্যবেক্ষণ করে আবিরের কাজ। আবির রান্না পারে তা শুনেছে সে,
কিন্তু নিজ চোখে দেখছে এই প্রথম বার। কি দারুন ভঙ্গিতে কথার মাঝেই সে নুডলস নাড়ছে, মসলা ছিটাচ্ছে।
"এই সময় রান্না ঘরে কেন? আমায় ডাকলেই তো বানিয়ে দিতাম।"
আবির আড়চোখে একবার সাবিহার দিকে তাকিয়ে আবার কাজে মন দিয়ে বলে...
"সমস্যা নেই,আমি পারবো। তুমি ঘুমাতে যাও। "
সাবিহা লক্ষ্য করে দেখে আবিরের রান্না ইতোমধ্যেই শেষের দিকে। তাই আর কথা না বাড়িয়ে বোলতে পানি নিয়ে চলে যায় নিজের ঘরে।
আবিরও নিজের মতো করে গরম গরম নুডলস বাটিতে ঢেলে নেয়। ফ্রিজ থেকে সস নিয়ে উপর সুন্দর ভাজে ঢেলে নেয় একটু। তারপর সেল্ফ থেকে একটা কাটা চামচ নিয়ে এগিয়ে যায় ট্রে হাতে চড়ুইয়ের রুমের দিকে। কিছু একটা ভেবেই থেমে যায় সে। পেচনে ঘুরে এগিয়ে যায় নিজের রুমের দিকে। ভেতরে ঢুকে দেখে নিবিড় তখনকার সেই বোতলটা নিয়ে সমানে গিলছে। আবিরকে দেখে ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করে..
"কি হলো?"
আবির এক পলক নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে বলে...
"ভেতর থেকে দরজাটা লাগিয়ে দে। আম্মু এসে আমাকে খুজলে বলিস ভেতরেই আছি। "
নিবিড় পাল্টা প্রশ্ন করে..
"তুই কোথায় যাস?"
"ওয়াইফির ঘরে আছি।"
বাকা হাসে নিবিড়, জিজ্ঞেস করে..
"রাতে থাকবি? যাহ, সকালে উঠে মনে করে ছোটপাখিকে গোসল করিয়ে নিস। "
আবির বিরক্তিকর চাহনি নিক্ষেপ করে বলে...
"খাবার খাইয়ে দিয়ে ফিরে আসছি। ইডিয়েট।দরজা লক কর, আম্মু জেগে আছে। "
বলতে বলতেই বেরিয়ে যায় আবির। নিবিড়ও হাসতে হাসতে ভেতর থেকে দরজায় খিল দেয়।
চড়ুই পাখি আবার ঘুমিয়ে পড়েছে এই অল্প সময়েই। আবির গিয়ে পাশ টেবিলে ট্রে খানা রেখে দরজায় খিল দিয়ে ফিরে আসে চড়ুইয়ের কাছে। গলার দিক থেকে এক টানে ব্ল্যাঙ্কেটটা সরাতেই চোখ আটকায় চড়ুইয়ের উন্মুক্ত পেটে। যেই স্থানের জামা ইতোমধ্যেই উচ্চে উঠে ঠেকেছে৷ সাথে সাথেই ঘাড় ঘুরিয়ে নেয় আবির। শরীরের প্রতিটি শিরায় যেন বিদ্যুৎ বেগে রক্ত বেয়ে যায় তার। মেয়েটা এত বেখেয়ালি, কি করে সামলে রাখবে আবির তাকে?
শুকনো এক ঢোক গিলে ধীরে ধীরে ফিরে তাকায় আবির আবার। এমনিতেই সে ড্রাংক, তার উপর চড়ুই পাখির এই অবস্থায় নিজেকেই সামলে রাখা দায় হয়ে যাচ্ছে তার। কি করবে না করবে মাথায় কাজ করছে না যেন। নেশার মতো টানছে আবিরকে চড়ুইয়ের উন্মুক্ত পেটটা। প্রতিটি নিশ্বাসের গতির সাথে তাল মিলিয়ে ওঠা নামা করছে সেই অংশ। আবির কি করে আটকায় নিজেকে?
বিছানায় এক হাত ভর দিয়ে সে ঝুঁকতে থাকে চড়ুইয়ের পেটের দিকে। মস্তিষ্ক বার বার তাকে বাঁধা দিচ্ছে। কিন্তু আবির তো যুদ্ধে হেরে যাচ্ছে..
"আমি এই মুহুর্তে এমন কিছু হোক তা চাইছিনা চড়াই। সত্যিই চাইছি না। প্লিজ ওয়েক আপ এন্ড ডাইভার্ট মি। আই স্টিল ট্রায়িং, বাট আই কান্ট কন্ট্রোল মাই সেল্ফ৷ প্লিজ চড়াই, ওয়েক আপ। "
আবিরের বিরবিরিয়ে বলা কথা গুলোয় কোনো কাজই হলো না। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন চড়াই যে শুনতেই পেলো না তা।
বিছানার চাদর খামছে ধরে আবির। নিজেকে আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে সে। আজ কিছু হলে তার চড়াই পাখির সম্মানে আঘাত লাগবে, চড়াই পাখি কষ্ট পাবে। আর আবির তার সাময়িক সুখের জন্য অন্তত চড়াইকে কষ্ট দিতে পারবে না।
সচেষ্ট হয়ে চড়ুইয়ের পেটের দিক থেকল মুখ সরিয়ে নেয় আবির। দ্রুত এগিয়ে এসে চড়ুইয়ের মুখের উপর ঝুকে কপালের মাঝ বরাবর কয়েকখানা চুমু খেয়ে নেয় শব্দ করে। কম্পমান হাতে টেনে চড়ুইয়ের জামা দিয়ে ঢেকে দেয় উন্মুক্ত স্থান।
নিজেকে সামলে নিয়ে চড়ুইয়ের দু কাধ ধরে টেনে বসিয়ে দেয় তাকে। সাথে সাথেই চড়ুইয়ের ঘুম আলগা হয়ে যায়। চোখ মুখ কুঁচকে এই কান্না শুরু করলো বলে। এভাবে কাঁচা ঘুম থেকে কে জাগায়?
"এই মেয়ে, চোখ খোলো এবার দেখি? "
চড়ুই পাখি মুখ কুঁচকে পিটপিট করে চোখ খুলে। ঘোলা চোখে ঠাওর করতে পারে না এটা আবির না নিবিড়। নিজের মতো করেই বিরক্তি নিয়ে বলে ওঠে...
"কোন খচ্চর রে আপনি? এভাবে তুলছেন কেন, ভাল্লাগে না একটুও..."
আবির পাশ থেকে ট্রে টা নিয়ে চামচে তুলে নিতে নিতে বলে...
"তোমার লুটুস, খেয়ে নিয়ে তারপর ঘুমাও, আর জাগাবো না। "
চড়ুই চোখ নামিয়ে নাক কুঁচকে তাকায় বাটির দিকে। বলে ওঠে...
"আমি এটা খাবো না। "
আবির থেমে যায়। বলে কি এই মেয়ে, এতক্ষণ ধরে তার জন্য এত কষ্ট করে নুডলস বানিয়ে আনলো আর এখন বলে কি না সে খাবে না?
আবির হালকা ধমক দিয়ে বলে...
"খাবে না মানে কি? একটু আগেই তো বলেছিলে খাবে। "
চড়ুই অবুজের মতো করে বলে ওঠে..
"কখন বলেছিলাম? আমি তো ঘুমাচ্ছিলাম। "
আবিরের এবার চরম পর্যায়ে বিরক্ত লেগে ওঠে। দ্রুত হাতে চামচে নুডলস তুলতে তুলতে বলে..
"মনে না থাকলে বাদ, এখন খেয়ে নাও। রাতে ডিনার না করে ঘুমাও কেন হু?"
বলতে বলতে চড়ুইয়ের মুখের দিকে নুডলস এগিয়ে দিলেই চড়ুই আবিরের হাত চেপে ধরে। চোখ মুখ কুঁচকে বলে...
"না, ইচ্ছে করছে না। "
আবিরও একটু করুন কন্ঠে বলে..
"একটু তো খেতেই হবে। খালি পেটে ঘুমানো যাবে না। "
চড়ুই বিজ্ঞদের মতো করে বলে ওঠে..
"ওহ তাই তো। খালি পেটে ঘুমালে তো আমার পেটের ভেতর থাকা বাচ্চাটা কান্না করবে। "
সপ্তম আকাশ থেকে ছিটকে পড়লো যেন আবির। চমক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে সে চড়ুইয়ের মুখের দিকে। মাথায় খেলছে যেন স্পষ্ট কিছু, ভাবতেই রাগে ধীরে ধীরে কপালের পাশের শিরা গুলো ফুলে উঠতে লাগলো তার..
" কি বললে তুমি? পেটে বাচ্চা কে দিয়েছে তোমার? "
চড়ুই উত্তর দেয়...
" কেন? আপনি জানেন না মেয়েদের পেট থেকে যে বাচ্চা হয়? আমারও তো হবে।,, আচ্ছা ও এখন কতটুকু হতে পারে জানেন? এতটুকু হবে তাই না? "
বলতে বলতেই উৎফুল্ল হয়ে দু হাত হালকা প্রসারিত করে দেখায় আবিরকে। আবির তার হাতের দিকে তাকিয়ে আবার তাকায় চড়ুইয়ের উজ্জ্বল মুখের দিকে। মাথা ঘুলিয়ে যাচ্ছে তার। হাত কাঁপছে ভীষণ। পৈশাচিক এক কান্ড ঘটিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে তার এই মুহুর্তে। ক্ষিপ্র গতিতে চামচটা বাটিতে রেখে হাত মুষ্টি বদ্ধ করে তড়িৎ গতিতে একটা ঘুষি বসাতে যায় চড়ুইয়ের পেটের দিকে...
"জানেন, সবাই বলে বিয়ের পরে নাকি পেটে বাচ্চা আসে, কিন্তু আমি তা মোটেও বিশ্বাস করি না। হুট করে কিভাবে পেটে একটা বাচ্চা চলে আসে বলুন তো, এটা নিশ্চয়ই আমাদের জন্ম থেকেই ছোট্ট আকারে আমাদের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। তারপর বিয়ের পর যখন ও বুঝতে পারে ওর একটা বাবাও আছে এখন, তো তখন সে বেরিয়ে আসে। তাই না? "
থেমে যায় আবিরের হাত। বোকা চড়াই যে কি বলেছে তা মাত্রই বুঝেছে সে। এই মেয়ে বড় হয়েছে কে বলবে? বইয়ের ভাষা তার জন্য ভুল, নিজের কথাই শ্রেষ্ঠ।
আবির দম ফেলে, রাত বিরেতে আবিরকে যে কি পরিমাণ ভয় পাইয়ে দিয়েছে তা কি চড়াই বুঝতে পারছে আদেও? আবির ঘন ঘন নিশ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করে। চড়ুইয়ের পেটের কাছে মুষ্টিবদ্ধ হাতে নজর পরতেই নিজের কাজে নিজেকেই ধিক্কার জানায় সে৷ আল্লাহ, কি করতে যাচ্ছিলো সে এটা। চড়াই তো কষ্ট পেতো।
এদিকে আবিরের থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে চড়ুই নিজেই বলে ওঠে...
"আমি আলুর পাপড় ভাজা খাবো। "
আবির করুন চোখে চড়ুইয়ের মুখের দিকে তাকায়। মানা করবে ভেবেও মেয়েটার ঘুম জড়ানো ফোলা ফোলা চোখ দুটির দিকে তাকিয়ে কেন যেন আর না করতে পারলো না।
টেবিলে নুডলসের বাটিটা রেখে উঠে দাঁড়ায় সে।
"আমি পাঁচ মিনিটে পাপড় নিয়ে আসছি। কিন্তু ততক্ষণ তুমি জেগে থাকবে। ঘুমাবে না কিন্তু। "
চড়ুইও মাথা কাত করে বলে..
"ওকে"
আবির হাফ নিশ্বাস ফেলে বেরিয়ে যায় দরজা খুলে। ম্যাডামের জন্য এবার পাপড় ভাজতে হবে। রান্না ঘরে গিয়ে ভেবেছিলো আলু কেটে ড্রাই করতে হবে। কিন্তু ভাগ্য ভালো থাকায় আগে থেকেই আলু ড্রাই করা ছিলো, আর সেটা পেয়েও যায় আবির। তাই আর দেরি না করে ফটাফট সেগুলো তেলে ভেজে নেয় সে। দেরি করা যাবে না, মেয়েটা আবার ঘুমিয়ে পড়লে ঝামেলা, তখন যদি উঠে আবার মত বদলে যায় তো?..
পাপড়ের বাটি নিয়ে আবার চড়ুইয়ের রুমে ঢুকতেই আবির দেখে চড়ুই আরামসে বসে নুডলস খাচ্ছে। কোলে লিও তার। একটু আগেই না বললো নুডলস খাবে না? এখন আবার মত বদলে গেলো?
দরজার দিকে চোখ পড়তেই চড়ুই দেখলো আবির পাপড়ের বাটি হাতে দাঁড়িয়ে। তা দেখে চড়ুই আরেক চামচ নুডলস মুখে পুরে দিয়ে বললো..
" এটা খুব ইয়াম্মি হয়েছে। কে বানিয়েছে এখন? "
আবির উত্তর দেয় না। এগিয়ে গিয়ে তার সামনা সামনি বসে ট্রের এক পাশে পাপড়ের বাটিটা রাখে। চড়ুই নিজের মতো করে চামচে নুডলস তুলতে তুলতে বলে..
"এত্তো টেস্টি হয়েছে না, না খেলে বুঝতে পারবেন না। ট্রাই করে দেখুন? "
বলতে বলতেই চাচমটা এগিয়ে ধরলো আবিরের মুখের সামনে। আবির তাকায় তার হাতের দিকে। চড়ুই এইবার স্পষ্ট ভাবে আবিরের চোখের দিকে তাকাতেই তার হাসি গায়েব হয়ে যায়।চোখের সাদা অংশটা লাল হয়ে আছে, তার মাঝে সবুজ রঙের নেকড়ের মতো মনিটা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে এটা আবির।
বুঝতে পেরেই হাত নামিয়ে নিতে গেলেই আবির বা হাত দিয়ে খপ করে চেপে ধরে চড়ুইয়ের হাতের কব্জি। দৃষ্টি স্থির রেখেই মুখ এগিয়ে চামচের নুডলস টুকু মুখে পুরে নেয়। চড়ুই মুখ গোমরা করে নিচের দিকে তাকিয়ে বা হাতের দু আঙুলের সাহায্যে একটা পাপড় তুলে মুখে দেয়।মচমচে আওয়াজে আবিরও লক্ষ্য করতে থাকে মেয়েটার মুখের নড়চড়ে ভাব খানা। আবির ভেবে পায় না,প্রেমে পড়লে বুঝি অপর পাশের মানুষটার এই সামান্য ভঙ্গিমা ও এত আকুল হয়ে দেখে যেতেই ইচ্ছে করে?
এদিকে বরাবরের মতো আবিরকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা চালিয়ে যায় চড়ুই। তাকাবে না তাকাবে না করেও আড়চোখে ঠিকই বার বার আবিরকে দেখছে সে। লোকটার এলোমেলো চুল, লাল লাল চোখ গুলো কেমন যেন একটা৷ খেয়াল করলো আবির তার দিকে তাকিয়েই হালকা হা করেছে। সে কি আরেকটু নুডলস খেতে চাইছে?
চড়ুই নিরবে নুডলসের বাটিটা এগিয়ে দেয় আবিরের দিকে। কিন্তু আবির তা হাতে তুলে নেয় না। হাস্কি স্বরে বলে ওঠে..
"খিদে পেয়েছে খুব, হাতেও কেন জানি ব্যথা করছে, নাড়াতেই পারছি না। কেউ যদি একটু খাইয়ে দিতো তাহলে ভালো লাগতো৷ "
চড়ুই নাক কুঁচকায়, চোখের মনি জোড়া উঁচিয়ে আবিরের মুখ পানে তাকায়। লোকটা চায় কি তার কাছে? রাগ ও হচ্ছে আবার মায়াও হচ্ছে খুব। তিনিও কি রাতে ডিনার করে নি?
নরম মনের পাখি আর অভিমানে তীব্রতা বাড়ায় না। একটু একটু করে নুডলস খাইয়ে দিতে থাকে আবিরকে। আবির এসব অয়েলি ফুড তেমন একটা খায় না, কিন্তু আজ এই মুহুর্তে চড়াই পাখির হাতে খাওয়ার লোভটাও সামলাতে পারছে না সে। তাই নীরবে খেয়ে নিচ্ছে চড়ুইয়ের হাতে। খাওয়া শেষ হতেই উঠে দাঁড়ায় আবির। মাথা ঘুরছে সামান্য। পুরোপুরি না হলেও আ্যলকোহলের প্রভাব একটু হলেও তো পরছে৷ তাই এখানে বেশিক্ষণ থাকাটা ঠিক মনে করলো না সে। চড়ুই পাখির কাছে থাকলে এমনিই মাথায় উল্টাপাল্টা চিন্তা বিরাজ করে।
যাওয়ার আগে চড়ুইয়ের কোলে থাকা লিওর দিকে ঝুকে কয়েকটা চুমু খায় সে লিওকে। বাদামী লোমে হাতের আঙুল চালিয়ে জিজ্ঞেস করে...
" আম্মুকে বিরক্ত করছো না তো? "
লিও সাথে সাথে মিয়াও করে চড়ুইয়ের বিভাজিকায় মুখ দিতে যায়, সাথে সাথেই আবির এক হাতে লিওর ঘাড় ধরে একটু সরিয়ে নিয়ে সতর্কতার সহীত বলে..
"ওটা আমার ব্যক্তিগত জায়গা। স্টে এওয়ে ফ্রম হিয়ার.. "
লিও গোল গোল চোখ করে তাকিয়ে থাকে আবিরের রাঙানো চোখের দিকে। আবির সম্পূর্ণ না সরে এসেই ঘাড় ঘুরিয়ে চোখ উঁচিয়ে চড়ুইয়ের মুখের দিকে তাকায়।
"ওকে এত কাছে রাখো কেন?"
জিজ্ঞেস করতে গিয়েও আর জিজ্ঞেস করা হয়ে ওঠেনা আবিরের। সে ইতোমধ্যেই চড়ুইয়ের আলগা হয়ে আসা ঠোঁট জোড়ায় আটকায়।পাপড়ের তেল লেগে আছে চড়ুইয়ের ঠোঁট জোড়ায়, যার কারনে আরো বেশি টসটসে লাগছে সেগুলি।
এদিকে আবির এভাবে এতটা কাছে থাকায় চড়ুইয়ের নাকে কড়া একটা গন্ধ লাগে। কিসের গন্ধ এটা? কৌতুহলী মেয়েটা প্রতিবারের মতোই নিজের কৌতুহল দমিয়ে রাখতে পারলো না।গোলগোল চোখ নিয়ে ওভাবেই আরেকটু মুখ এগিয়ে নেয় আবিরের কাছে। গন্ধটার উৎস যে আবিরের মুখ তা বুঝতে পারছে সে। কিন্তু এমন কড়া কেন?
চড়ুই আবিরের মুখের দিকে আগানোর ধরনটা ছিলো যে হুট করেই যে কোনো পুরুষের চিত্ত কাঁপিয়ে দিতে পারে৷ সেই ক্ষেত্রে আবির মোটামুটি ড্রাংক, হৃদ রঞ্জনের ভাব খানা আর আটকে রাখতে পারলো না এই হট ব্লাডেড লোকটা। এক হাতে টান মেরে লিওর ঘাড় চেপে ধরে ছুড়ে ফেললো বিছানার অন্য কোনে। তারপর হাত খানা দিয়ে চড়ুইয়ের লতানো কোমড় জড়িয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয় সে। আরেক হাত চড়ুইয়ের মাথার পেছনে দিয়ে শক্ত করে ধরে ওষ্ঠে ওষ্ঠ মিলিয়ে দেয় সে। মিটিয়ে নিতে থাকে হৃদয় তৃষ্ণা, এত ডেস্পারেটলি সে চড়ুইয়ের ঠোঁট দুটি চুষে নিচ্ছে যে চড়ুই বুঝে উঠতেই বেশ সময় লাগিয়ে ফেললো বিষয়টি। শরীর কেঁপে ওঠে তার। লজ্জায় কুঁকড়ে গিয়ে মেয়েটা অজানা ভাবেই দু হাতে খামছে ধরে আবিরের কোমড়ের দিকের টিশার্টে। সারাটা শরীর যেন অবশ হয়ে আসছে তার, না পারছে আবিরের সাথে তাল মিলাতে, আর না পারছে আটকাতে। আবির নিজের মতোই উন্মাদনায় মত্ত।চড়ুইয়ের কোমরে থাকা হাতটা অবাধ্য বিচরণ চালাচ্ছে। চেপে ধরছে নিজের সাথে, শুধু পারছে না ছোট্ট চড়ুইকে বুকের ভেতর চেপে ভরে ফেলতে৷
নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে চড়ুইয়ের, কিন্তু আবির তাকে ছাড়ছে না কোনো মতেই, না পারতে সে আবিরের কোমরের কাছে আরেকটু চেপে ধরে মুখ দিয়ে উমম উমম আওয়াজ বের করতে লাগলো ছাড়া পাওয়ার জন্য। আবির হয়তো বুঝতে পেরেছে, তাই ঠোঁট ছেড়ে দেয় চড়ুইয়ের। কিন্তু পরক্ষণেই আবার এগিয়ে গিয়ে চড়ুইয়ের গলায় কিস করতে থাকে পাগলের মতো। আবির আজ আর মস্তিষ্কের কথা শোনেনি। বুঝেই নিয়েছে পরে যা হওয়ার হবে, এই মুহুর্তে তার চড়ুইকে চাই সম্পূর্ণ নিজের অস্তিত্বে। প্রয়োজনে কালই কাজি অফিস গিয়ে বিয়ে করে নেবে সে চড়ুইকে, কিন্তু আজ আর নিজেকে আটকে রাখা সম্ভব না।
চড়ুইয়ের গলায় কিস করতে করতে নিচে নেমে আসে সে, উন্মাদ হয়ে তার নেক বোনে আলতো কামড় দিতেই চড়ুই 'আহ' করে কুঁকড়ে ওঠে, হাতের নখ ডেবেনযায় আবিরের পেটের কাছে কিন্তু সে দিকে তার কোনো খেয়াল নেই যেন।
তখনই পকেটে থাকা ফোনটা বেজে ওঠে তার, হঠাৎ গর্জনে কেঁপে ওঠে চড়ুই আবির দুজনই। চড়ুইয়ের গলায় মুখ গুজেই পকেট থেকে দক্ষ হাতে ফোন বের করে রিসিভ করে কানে ধরে। ওদিক থেকে ভেসে আসে নিবিড়ের হাঁপানি যুক্ত আওয়াজ...
"ভাই প্লিজ এবার থাম৷ আমার হাতের কাছে কোলবালিশ ছাড়া কিচ্ছু নেই। আর পারতেছি না ভাই.. থাম, না হলে এক্ষুনি এটমের রুমে ছুটে যাবো আমি।"
আবিরের চোখে মুখে ফুটে ওঠে চরম বিরক্তি, না চাইতেও মুখ থেকে বেরিয়ে আসে অশ্রাব্য গা'লি...
"শা'লা মাদারবোর্ড... মন ভরে রোমান্সও করতে পারি বা'লটার জন্য। বারোটা বাজিয়ে দিলো মুডের..."
এদিক থেকে নিবিড় ক্লান্ত স্বরে বলে ওঠে...
" রাত দুটো বাজতেছে ভাই.."