Mr and Mrs Twins Return

পর্ব - ৩৪

🟢

"আমার মনে হয় এই বিয়েটা না হওয়াই ভালো। "

আমোজের ছোট্ট একটা কথায় চমকে তাকায় উপস্থিত সকলেই।আবির নিবিড়ের তীর্যক দৃষ্টি তার দিকে পড়তেই আমোজ দু হাত জোর করে বলে ওঠে...

"মাফ করবেন স্যার, কিন্তু আপনারা হয়তো পাখিদের ব্যপারে খুব একটা জানেন না তাই এভাবে বিয়ের কথা বলছেন। কিন্তু আপনাদের পারিবারিক নিয়মনীতির সাথে আমাদের যায় না.. "

আবির উঠে দাঁড়ায় সটান হয়ে। আজমলের দিকে তাকিয়ে বলে...

"আমি যাচ্ছি আব্বু, কাজ আছে। "

এগিয়ে এসে আমোজের দিকে তাকিয়ে সতর্ক কন্ঠে বলে যায়...

"এই কথাটা যেন দ্বিতীয় বার না শুনি। আপনার মতে আমরা ভালো মানুষ নই। আমরা সত্যিই ভালো মানুষ নই তার প্রমাণ চাইলে দিতে পারি। পাখিদের বিয়ে হোক, না হোক ওরা আমাদের সাথেই আমাদের বাড়িতে চোখের সামনে থাকবে সারাজীবন। প্রয়োজনে আজীবন কুমারী থাকবে ওরা, কিন্তু অন্য কারোর সাথে বিয়ের কথাও যদি ওঠে, তাহলে ঐ ছেলের লা'শ ফেলতে আমার দু মিনিট ও লাগবে না। কথাটা মনে রাখবেন..."

আমোজ হা হয়ে যায়। আবিরের যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকে সে,

"কিছু মনে করবেন না, আমার ছেলে একটু রগচটা। যা বলে তা করেই। "

আজমলের কথায় স্তম্ভিত ফিরে আমোজের। হাত কচলে মাথা ঘুরিয়ে বসে। ধীর কন্ঠে বলে...

"আমি বুঝতে পারছি আপনারা পাখিদের বেশ আদরে রাখেন। কিন্তু আমাদের পরিবার সচ্ছল নাহ, ওদের জীবনটা খুব একটা সহজ ভাবে কাটেনি বলতে গেলে। আমার ভাবি, মানে ওদের মা মারা যাওয়ার পর মেয়ে দুটো বেশ ভেঙে পরে। ওদের বাবা যখন আরেকটা বিয়ে করে তার পর থেকে দূর্বিষহ অবস্থা মেয়ে দুটোর। আমার চড়ুই মা তখন নীরব হয়ে যায়। ওকে সবাই বাক প্রতিবন্ধী বলতো। অনেকেই বলতো যে ও আর কখনোই কথা বলতে পারবে না। মেয়ে দুটোকে ঐ সময়টা আমি নিজের চোখের সামনে দেখেছি। আমরা দুই ভাই এর আগে এক সাথেই ছিলাম। ভাবি যথেষ্ট ভালো মনের মানুষ ছিলো, কখনো তাদের জায়ে জায়ে ও ঝামেলা হতে দেখা যায় নি। কিন্তু ভাবি মারা যাওয়ার পর সব কিছু বদলে যায়। নতুন ভাবি মানে ভাইয়ার বর্তমান স্ত্রী ধুরন্ধর মহিলা। বয়সে ছোট, আর সম্মানের খাতিরে আমি তখন কিচ্ছু বলতে পারতাম না ভাই ভাবির মুখের উপর। কিন্তু পরিস্থিতি বিগড়ে যায় যখন সামান্য একটা ঘরোয়া বিষয় নিয়ে আমেনা ভাবি আমার স্ত্রীর গায়ে হাত তুলে। সেদিন আমি মুখ বুঁজে সবটা সয়ে আমার পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে চলে যাই। তারপর থেকে পাখিদের জীবন আরো বিভীষিকাময় হয়ে ওঠে। "

আমোজের কথায় পুরো কক্ষ নীরব হয়ে যায়। আমোজ একটু থেমে আবার বলতে থাকে...

"আপনারা হয় তো ভাবছেন আমি ওদের কোনো দায়িত্ব গ্রহন করিনি তাহলে আজ কেন কথা বলতে এসেছি৷ আমি চেয়েছিলাম মেয়ে দুটোকে আমার কাছে নিয়ে যেতে। ভাইকে কয়েকবার বলেছিলাম ছোট পাখিকে ভালো ডাক্তার দেখানোর জন্য। মেয়েটা এত ছটপটে ছিলো না তখন। বাচ্চা মেয়েটার মাঝে প্রাণ ছিলো কিন্তু কোনো অনুভূতি ছিলো না ঐ দুটো বছর। এত বকা খেতো, মার খেতো, আঘাত পেলেও কান্না করতো না সে, আর না টু শব্দ টুকু করতো। কেউ গেলে শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতো তার দিকে, আর কিছুই না। আমার দোয়েল তখন থেকেই যেন দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছে। সেদিনের পর থেকে ওদের মধ্যে আর মারামারি হয়নি কখনো। দোয়েল ছোট্ট হাতে খাইয়ে দিতো তার বোনকে। সারাক্ষণ চড়ুইয়ের সাথে কথা বলতো, সে নিজেও তো এই টুকুন ছিলো, ডাক্তার পর্যন্ত একা একা পৌঁছানোর সাহস পায় নি। কিন্তু ও বুঝতো যেন সব কিছুই। আমার কাছে দেয় নি মেয়ে গুলোকে। তাই ওদেরকে ঐ বাড়িতে একাই ছাড়তে হয় আমার৷ পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ থাকায় আমি শিশু অধিকার কমিটির সাথে যোগাযোগ করে ওদের স্কুল কন্টিনিউ করেছি। নিজেরাই পড়তো, আল্লাহ দোয়েলকে এই দিক দিয়ে সবল করেই পাঠিয়েছে।

চড়ুই স্বাভাবিক হতে প্রায় দুটো বছর সময় লাগে। এর পর থেকে সে নিজেকে খুঁজে নেয় চঞ্চলতার মাঝে। ওর উড়নচণ্ডী ভাবটা কমানোর সাহস আমরা কেউ দেখাই না। একবার গুটিয়ে গেলে মেয়েটা হয়তো আবারও সেই ছোটবেলার মতোই নীরব হয়ে যাবে।...."

আমোজ মুখ তুলে তাকায় নিবিড়ের দিকে। ভাঙা কন্ঠে বলে...

"আমার এই মেয়ে দুটোর একটাও স্বাভাবিক না স্যার। ওদের স্বভাব গুলো যে কেউ সহ্য করতে পারবে না। আপনারা বড় পর্যায়ের মানুষ। ব্যবসায়িক খাতিরে বেশ নাম ডাক আছে আপনাদের। সেই ক্ষেত্রে যখন মিডিয়া জানবে যে আপনাদের মতো কেউ এমন দুটো অস্বাভাবিক, চালচুলোহীন, পরিবারহীন মেয়েকে বিয়ে করেছে তাহলে কানাঘুষা হবে স্যার। ওদের নিয়ে কোথাও গেলে মানিয়ে নিতে পারবে না স্যার। আমার চড়ুই পাখি প্রফেশনাল লাইফ কাকে বলে জানে না। ও যার তার সাথে মিশতে চায়, কথা বলতে চায়, আনন্দ করতে চায়, বেশিক্ষণ চুপ করে থাকতে পারে না সে। এসব তো আপনাদেরকেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে ফেলবে ভবিষ্যতে। আর এসবের কারনে যে মেয়েগুলো আরো গুটিয়ে যাবে, লোক মুখের কথা শুনবে। আমার মেয়ে গুলোর চাহিদা খুব কমের মধ্যেও যেন বেশি। ওরা বিশাল অট্টালিকা চায় না, দামী বাড়ি গাড়ি ও চায় না। ওরা নিজেদের একটি পরিচয় চায়, একটা ভিত্তি খুঁজে, একটু ভালো থাকতে চায়। ওদের বিয়ে আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের সাথে হওয়াই ভালো মনে করি। একটু বুঝুন... আমি চাই না সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে আমার চড়ুই নিজেকে আবার হারিয়ে ফেলুক, দোয়েল কখনো নিজের জন্য চিন্তা করে না। ওর সব চিন্তা বোনকে নিয়ে, কিন্তু আমি তো জানি, মেয়েটার এখন উড়ার বয়স। সে ও তো একটু আনন্দ চায়, নিজের মতো করে বাঁচতে চায়। মাথার উপর হাত রাখার মতো একটা মানুষ চায়। যার উপর ভরসা করলে নিজের চিন্তাগুলো সরিয়ে নিতে পারবে সে। সেসব কি আদেও সম্ভব? "

দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে আবির। পেশি বহুল দু হাত ভাজ করে বুকে গুঁজে মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তখন চলে যাচ্ছে বললেও যাওয়া হয় নি তার। এইবার দরজার হাতলে হাত দিয়ে ভেতরের দিকে পা বাড়াতে যাবে এমন সময়ই সুহাস ডেকে ওঠে তাকে...

"স্যার, প্রজেক্ট রেডি, একবার দেখে দিলে আমি সাবমিট করে দিবো, বিকালের মধ্যেই কাজ শুরু হয়ে যাবে তাহলে।"

সুহাসকে নিজেদের কম্পানিতেই চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছে নিবিড়। সে বার দোয়েল যখন আচ্ছা করে নিবিড়কে কত গুলো কথা শুনিয়ে দিয়েছিলো তার পর দিনই নিবিড় আবার যায় সুহাসের বাড়িতে। ক্ষমা হিসেবে তাকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়। অনভিজ্ঞ সুহাস কাজ নিয়ে ভয় পেলেও আবির নিবিড় দুজনই স্বাভাবিক ভাবে তাকে কাজ শিখতে সাহায্য করছে।

আবির আর গেলো না ভেতরে। নিজের কেবিনের দিকে হাটা ধরে সুহাসকেও যেতে বলে।

"আপনি হয়তো ভাবছেন যে আমরা পাখিদের চিনি না। তা ঠিক, কয়েক মাসে কিইবা চেনা যায় আর। কিন্তু আমার আম্মু ওদেরকে চোখে হারায়। যত বছর ধরে আহিশ ওদের চেনে ঠিক তত বছর ধরেই আম্মু চেনে। তাই আমাদের পরিবারে পাখিদের কোনো সমস্যা হবে না। আর ওরা অস্বাভাবিক না, এতিম ও না। ওদেরকে আমার আম্মু আব্বু নিজের মেয়ের মতোই ভাবে। আমরা সবাই আছি ওদের জন্য। ওরা পরিস্থিতির স্বীকার। কিন্তু আপনার মনে যেহেতু এখনো আশঙ্কা রয়েছে, তাই আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি, দোয়েলকে আমি মার জীবনের সকল উপভোগ্য বস্তু দেখাবো, ওকে আমি স্বাভাবিক করে তুলবো, একটা মুক্ত পাখির মতো। আমি ওকে নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসি বিশ্বাস করুন, আর ছোটপাখি আমার বোনের মতো। ওর চঞ্চলতা হারাতে দেবো না আমরা কেউ। ওরা ওদের মতোই বাঁচবে, সুন্দর স্বাভাবিক একটি জীবন পাড় করবে কথা দিলাম। আর টুইনস ব্রাদার্স কখনো কথার খেলাপ করে না কাকাই। "

আমোজ চুপ রয়, নিবিড় এমন ভাবে দৃঢ়তার সহীত কথা গুলো বললো যে তিনি আর কিছু বলার মুখ রইলোই না তার। আজমল চৌধুরী পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হালকা হেঁসে বললেন...

" আর দ্বিমত করবেন না আমোজ সাহেব। আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি। আগামী শুক্রবার ওদের পক্ষ থেকে অন্তত আপনি, আপনার স্ত্রীকে নিয়ে উপস্থিত থাকবে। আপনাদের দেখলে ওরা খুশি হবে। আর.... হৃদ মামনি? কলেজে তো ভর্তি হয়ে গেছো। থাকা কোথায় হচ্ছে..?"

হৃদ উত্তর দেয়...

"হস্টেলে সীট পেয়েছি আঙ্কেল। ওখানেই উঠবো। "

"যখ ভালোই, তবে এই কয়েকটা দিন আর যেতে হবে না। আমাদের বাড়িতেই চলো, তোমায় দেখলে তোমার আপুরা খুশিই হবে। অনুষ্ঠানের পরে না হয় একেবারে সিফট করো হস্টেলে। "

আমোজ বলতে নেয়...

"হৃদ কেন..."

"প্লিজ আমোজ সাহেব, দ্বিমত করবেন না। ও আমার মেয়েরই মতো। আপনার মেয়ের কোনো যত্ন আত্তির কম হবে না আমাদের বাড়িতে। "

নিবিড় উঠে দাঁড়ায়, ঘড়িতে সময় দেখে বলে..

"আহিশ, লেট হচ্ছে। আংটির অর্ডারটা দিয়ে আসতে হবে চল। "

এগিয়ে গিয়ে আমোজকে জড়িয়ে ধরে নিবিড়। বলে ওঠে...

" খারাপ ব্যবহার করার জন্য দুঃখীত কাকাই। আমি বা ভাই কেউই পাখিদের ছাড়তে পারবো না। আপনি নিঃচিন্তে থাকুন, ওরা ভালো থাকবে।"

আমোজ মাথা ঝাকায়, পরিস্থিতি মেনে নেওয়া ছাড়া যে কিছুই করার নেই তার আর। নিবিড় হৃদের দিকে তাকিয়ে বলে...

"তো হৃদ, তুমি বরং আমাদের সাথেই চলো। রিং অর্ডার দেওয়ার পর আহিশের সাথে বাড়ি যাবে। আব্বু, আমরা বেরুচ্ছি তাহলে। তুমি সাবধানে যেও.."

-------

জুয়েলারী শপের এক কোনায় বসে আছে আবির। সামনেই আহিশ আর নিবিড় আংটি দেখতে ব্যস্ত। হৃদও দেখছে তাদের সাথে। একটু পরেই নিবিড় এগিয়ে আসে একটি ট্যাব হাতে নিয়ে। সেখানেই একটি আংটির ডিজাইন দেখিয়ে আবিরকে বলে...

"দেখতো দোয়েলের জন্য এই ডিজাইনটা কেমন হবে? "

আবির তাকায় ট্যাবে। পাশেই সপের ম্যানেজার এসে দাড়িয়েছে। আহিশও আরেকটা ট্যাব নিয়ে এসে আরেকটি আংটির ডিজাইন দেখিয়ে বলে...

"আবির ভাই লুক, এটা ছোট পাখির হাতে বেশ মানাবে তাই না? "

আবির ধীরে একবার আহিশের ট্যাবের দিকে তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নেয়। মেনেজারকে বুঝিয়ে দিতে দিতে বলে...

" হোয়াইট পার্লের হবে, পার্ল একটা চার পাশে মিনি ডায়মন্ডের বর্ডার থাকবে মাল্টিকালার কম্বিনেশনে। আর রিং গোলটা যেন পিওর প্ল্যাটিনামের হয়, গ্লাসি এন্ড নো স্ক্র্যাচ। "

ম্যানেজার ট্যাব নিয়ে দেখে বললেন...

"স্যার, আপনি যেভাবে বলেচেন সেভাবে ডিজাইন করলে কস্ট আসবে এক লক্ষ ২৩ হাজার... "

আবির সাথে সাথেই বলে...

" সেইন ডিজাইনের দুইটা রিং, ফিঙ্গার সাইজ পাঠিয়ে দেওয়া হবে রাতের মধ্যে।"

নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে বলে...

"তুই নিজের রিং চয়েজ করেছিস?"

" হ্যা, ডিজাইন দিয়েছি। "

আবির আবার ম্যানেজারের দিকে তাকিয়ে বলে..

"ওকেয়,ও যে ডিজাইন দিয়েছে সেটারও সেইম দুইটা হবে। ফিঙ্গার সাইজও সেইম.."

আবিরের কথা শুনে আহিশ বলে ওঠে...

"এ ভাই, নিবিড় ভাইয়ের আঙুলের মাপে কেন দুইটা নিচ্ছিস? আরে আমার হাতে লুজ হবে তো... "

নিবিড় মুখ লুকিয়ে হাসে নিরবে। সে আবিরের কাহিনি বেশ ভালোই বুঝতে পারছে।

আবির ম্যানেজারকে অর্ডার কনফার্ম করে দোকান থেকে বেরোতে নেয়। আহিশ ভ্যাবলার মতো তার পাশে হাটতে হাঁটতে আবার বলতে লাগলো...

"আরেহ ভাই। আমি তো এখানেই আছি, আমার আঙুলের মাফ নিলেই তো হয়।নিবিড় ভাইয়ের মাপে দিলি কেন? লুজ হবে না?"

"পার্ফেক্ট হবে,চিন্তা করিস না।"

আবিরের সাথে নিবিড়ও তাাল দিয়ে বলে..

"হ্যা, কচি বয়সে বিয়ে করছিস, সব কিছু একটু বড় দেখেই নে না,,বয়সের তুলনায় তোর বউটাও সমান... "

আহিশ হাঁটতে হাঁটতে বলে...

"বয়সে আর বর হই,আমার থেকে এক বছরের ছোট হয় ছোটপাখি। আর দেখে মনেও হয় না আমরা সেইম এইজ যে, ওকে আমার বউ হওসেবে পার্ফেক্ট লাগবে। কিন্তু আংটিটা কি করো পার্ফেক্ট হবে আমি তো সেটাই বুঝতে পারছি না।"

আবির বা হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে কপালের পাশে চুলকায়। আশপাশে চোখ বুলিয়ে নিয়ে ধীর কন্ঠে বলে ওঠে...

"টেনশন নিস না, ছেলেদের আঙুল কাজের সময় হলে আপনা আপনিই বড় হয়ে যায়। "

নিবিড় আরচোখে তাকিয়ে দেখে হৃদ বেশ খানিকটা এগিয়ে আছে। আহিশও আর কথা না বাড়িয়ে মুখ ফুলিয়ে এগিয়ে যায়,একা পেয়েই নিবিড় আবিরকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠে....

" কথাটা হাতের আঙুলের জন্যই ছিলো তো ব্রো?"

আবির কিছু বলে না।চোখ কোনা করে নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে বক্র হাসি দেয়। তা দেখেই নিবিড় বুঝে ফেলে। মুখ কুঁচকে বলে ওঠে...

"শা'ললা ডাবল মিনার..."

আবিরও উত্তর দেয়..

" তুই বুঝেছিস না? অশ্লী'ল মাইন্ড ব্যাটা..."

---------

রাত প্রায় সাড়ে দশটা। তখন বিকেলে আহিশের সাথে হৃদকে পাঠিয়ে দিয়ে আবির নিবিড় আবার ফিরে গেছে নিজেদের কাজে। মাত্রই ফিরেছে দু জন। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই ক্যাচক্যাচে চেচামেচির আওয়াজে ভ্রু কুঁচকে আসে আবিরের। বামে তাকাতেই সোজা বরাবর দেখা যায় আহিশের রুমের দরজা খোলা। সেদিক থেকেই এতো আওয়াজ আসছে। আবির এগিয়ে যায়, দরজার সামনে দাঁড়াতেই ভেতরের দৃশ্য দেখে তার চোখ জোড়া লাল হয়ে উঠলো৷ সামনেই বিছানার উপর চড়ুই লাফাচ্ছে সমান তালে। লাফাচ্ছে বললে ভুল হবে, লাফিয়ে লাফিয়ে আহিশের পিঠে উঠছে আর নামছে। আহিশকে উপুর করে শুইয়ে দিয়ে জেসি তার পা দুটো চেপে রেখেছে আর হৃদ তার হাত দুটো চেপে রেখেছে। দুজন মিলে বার বার চড়ুইকে চিয়ার আপ করছে। এদিকে আহিশ প্রায় চ্যাপটা, বার বার নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে বলছে...

"মাফ কর,আর নাহ,আমি শেষ। পেটের সব বেরিয়ে যাচ্ছে, প্লিজ বোইন, ছাইরা দে..."

চড়ুইয়ের খিলখিলিয়ে হাসির আওয়াজ কানে বাজছে আবিরের, সাথে নুপুর জোড়ার রুনুঝুনু শব্দ। কিন্তু আবিরের মেজাজ বিগড়ে আছে চড়ুইয়ের অবস্থা দেখে। পড়নে একটা ফ্লাজু আর গেঞ্জি, ওড়না কোথায় মেয়েটার? আহিশের সামনে এভাবে কেন সে?

হিসহিসিয়ে রুমে ঢুকে এক হাতে হ্যাচকা টানে চড়ুইকে বিছানা থেকে নামায়। পড়তে নিয়েও আবিরের শার্ট খামছে ধরে কোনো মতে দাঁড়িয়ে যায় চড়ুই। মুখ তুলে মাত্রই কিছু বলতে যাচ্ছিলো সে, কিন্তু তার আগেই আবিরের কড়া কন্ঠের ধমক শুনে কেপে ওঠে মেয়েটার তনুমন....

"কি শুরু করেছো এসব? বাচ্চা তুমি? এভাবে লাফাচ্ছো কেন? "

চড়ুইয়ের মুখে লেপ্টে থাকা হাসি গায়েব হয়ে যায় মুহুর্তেই। ভ্রু জোড়া কুঁচকে আবিরের মুখের দিকেই তাকিয়ে থাকে ফ্যালফ্যালিয়ে। আবির এবার জেসির দিকে মুখ তুলে ধমকে বলে...

"এসব কি করছিলি হ্যা? ওকে বাঁধা না দিয়ে চিয়ার আপ করা হচ্ছে? অসুস্থ যে জানিস না তোরা? "

জেসি ভয়ে ভয়ে বলতে নেয়...

"সরি ভাইয়া, আ্ আমরা তো মজা করছিলা..."

"কিসের মজা এসব? আরেক জনকে দেখো, বা'ল পাকনামি করে প্রেম করেছে, দুধের দাত না পড়তেই নাচছে বিয়ে করার জন্য। বিয়ের মানে বুঝিস তুই? ওর খেয়াল না রেখে আরো অসুস্থ বানিয়ে দিচ্ছে.. এই তুই বিয়ে করবি?"

আহিশ উঠে বসে, বলতে নেয়...

"ভাইয়া এটা এমনিই আমরা... "

"সাট ইউর মাউথ... ডোন্ট সে এনি মোর ফা'কিং ওয়ার্ড। রাসকেল কোথাকার..."

ঘন ঘন নিশ্বাস ফেলছে আবির৷ আহিশের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে চোখ বুজে নিজেকে শান্ত করার প্রয়াস চালায়। ঠোঁট গোল করে নিশ্বাস ফেলে তাকায় চড়ুইয়ের দিকে। গাল ফুলিয়ে এখনো কেমন ড্যাবড্যাব তাকিয়ে আছে মেয়েটা তার দিকেই। আবির নিজেকে সামলে নেয়, চড়ুইয়ের কোমল হাতটা এখনো তার হাতে আবদ্ধ। আলতো করে তুলে ধরে এতদিনের ক্যানোলা লাগিয়ে রাখা জায়গাটায় হাত বুলিয়ে দেয় অল্প করে। কোমল কন্ঠে জিজ্ঞেস করে...

"ক্যানোলা কে খুলে দিয়েছে? হাতে তো দাগ পড়ে গেছে... "

চড়ুই চুপ রয়। আবির আবার মুখ তুলি তাকায় তার দিকে। মেয়েটার বক্ষস্থল ঘন ঘন ওঠানামা করছে, ভেতরগত নিশ্বাস নেওয়ার শব্দ আবির বেশ ঠাওর করছে। নাকের পাটা একটু পর পর ফুলে উঠছে, ইতোমধ্যেই তা লাল রঙ ধারন করেছে। আবিরের একটা মিনিটও দেরি হয়না বুঝতে তার প্রনয়ী রাগে ফুঁসছে।

চড়ুইয়ের এমন মিষ্টি চেহারাটা দেখেই আবিরের কেমন যেন হাসি পাচ্ছে, কিন্তু সে চেপে রাখছে হাসি খানা। হাসলে যে চড়াই পাখি আরো রেগে যাবে।

আবির গলা পরিষ্কার করে নিয়ে আরো কিছু বলতে যাবে, তখনই আকষ্মিক চড়ুই পাখি ঝামটি মেরে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে দ্রুত কদম ফেলে ছুটে বাইরে চলে যায়। আবির পেছন থেকে ডেকে ওঠে..

"ওয়াইফি, শোনো তুমি... "

চড়ুই ফিরেও তাকায় না তার দিকে। সোজা হাটতে থাকে নিজের রুমের দিকে। আবির ও তার পিছু নেয় ডাকতে ডাকতে।

চড়ুই রুমে ঢুকেই লিওকে দেখতে পেয়ে কড়া কন্ঠে বলে...

"এনাকে বলে দে আমি তার সাথে কোনো কথাই বলতে চাই না। ওনার মুখ ও দেখতে চাই না আমি.. "

বলেই দরজা বন্ধ করে দেয় চড়ুই। আবির থমকে যায়। পা দুটো আপনা আপনিই থেমে যায় তার। সামনেই লিও মিয়াও মিয়াও করে ডেকে যেন বুঝিয়ে দিচ্ছে চড়ুইয়ের বলা কথাটাই। কিন্তু আবিরের সে দিকে ধ্যান নেই, তার দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে সামনে দরজার দিকে। বুকটা হুট করেই যেন খিঁচে ধরছে কেউ। আবির তে দূর্বল হৃদয়ের ব্যাক্তি নয়, তাহলে আজ হঠাৎ এতটা যন্ত্রনা হচ্ছে কেন চড়ুইয়ের সামান্য একটি কথায়? মেয়েটা তো অবুজ মনেই বলে গেলো,আবির বুঝে তো তা, কিন্তু মানতে কেন পারছে না?

" আমায় জ্বালিও না চড়াই, আমায় জ্বালিও না। কথা সামান্য নয়, কথার আঘাতেই মানুষের গন্তব্য বদলায়। কিন্তু আমি যে ভালোবেসে ফেলেছি তোমায়। আমার ভালোবাসি যদি সত্যিই ভাগ্য হয়, তাহলে তুমি আমার জীবনে সৃষ্টিকর্তার দেওয়া সবচেয়ে সুন্দর উপহার। দয়া করে আমায় এতটা জ্বালিও না, তুমি নিজেই পুড়ে ছাই হবে তাতে...."

----------

কফির কাপ হাতে নিয়ে নিবিড়ের রুমের সামনে এসে দাড়িয়েছে দোয়েল। বিষন্ন চিত্তে নিজেকে প্রস্তুত করছে আরেকটি নতুনত্বের জন্য। নিবিড়ের কাছে ক্ষমা চাইবে সে। তাই তো ইচ্ছে করেই কফির বাহানায় এসে দাঁড়িয়েছে সে নিবিড়ের দোরগোড়ায়। দরজাটা হালকা ধাক্কা দিতেই ভেতর থেকে ভেসে আসে পুরুষালী রুক্ষ কন্ঠের সুর, সাথে হালকা আওয়াজে গিটারের টুংটাং শব্দ। কানে বাজে কয়েকটি লাইন...

"hiree moti, main na chahu..

Main to chahuu sanggam tera..

Main na janu, tu hi janee,main to teri..

Tu hain mera..."

রুমটা অন্ধকার, বাইরের ল্যাম্পপোস্টের আলোয় হালকা ছায়া মানবকে বেশ দেখছে পেছন থেকে দোয়েল। ক্লান্ত চোখে ঘাড় কাত করে তাকিয়েই রয় এক দৃষ্টে নিবিড়ের ছায়ার দিকে। তার গানের সাথে আপন মনেই ঠোঁট নেড়ে ওটে দোয়েল...

"Tu jo choule peaar se, araam se mar jau..

Aaja chanda baahon main,

Tujh main hi ghum ho jaaun main.."

হাত থামিয়ে দেয় নিবিড়। গলা দিয়েও আর সুর বের হয় না তার। দোয়েল ভাবে, কি হলো? থেমে গেলো কেন?

কিন্তু মুখ দিয়ে কোনো শব্দ উচ্চারণ করে না সে। নিবিড় পেছনে না তাকিয়েই বলে ওঠে...

" কফিটা টেবিলে রেখে চলে যাও... "

দোয়েল নড়েচড়ে ওঠে। ধীর পায়ে গিয়ে কফির কাপটা রেখে আবার আগের জায়গায় এসে দাঁড়ায় সে। আস্তে করে বলে ওঠে...

"আপনার সাথে কিছু কথা.... "

"মুনিয়াকে কেমন লাগে তোমার? "

কথার মাঝে নিবিড়ের এমন কথা শুনে থেমে যায় দোয়েল। নিবিড় হঠাৎ মুনিয়ার কথা কেন বলছে? দোয়েল সামলে বলে..

"ভ্ ভালো। কেন?"

নিবিড় গিটার পাশে রেখে উঠে দাঁড়ায়। ফোন হাতে নিয়ে মুখে মিষ্টি হাসি বজায় রেখে এগিয়ে আসে দোয়েলের কাছে৷ ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছে সে ভীষণ খুশি। বলে...

"ভালো না? খুব স্টাইলিশ, দারুন ফিগারও। "

চোখ কুঁচকে যায় দোয়েলের। হালকা অবাক হয়ে বলে ওঠে...

"আপনি এভাবে অন্য মেয়ের ফ্ ফিগার নিয়ে কথা বলছেন? "

নিবিড় চোখ তুলে ভীষণ স্বাভাবিক ভাবে বলে ওঠে..

"হ্যা, তো কি হয়েছে? বলার মতোই তো ফিগার ওর। বয়সও পার্ফেক্ট, লম্বা, ফর্সা সব দিক দিয়েই পার্ফেক্ট। আর অন্য মেয়ে কাকে বলছো? ও তো আমারই গার্লফ্রেন্ড, কিছুদিন পর বউ ও হবে। "

অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে দোয়েলের৷ নিবিড় এসব কি বলছে? না না, এটা হতে পারে না। নিবিড় তো তাকে ভালোবাসে, শুধু দোয়েলকে ভালোবাসে৷ কন্ঠ কাপে দোয়েলের...

"আ্ আপনি আমার সাথে মজা করছেন না? "

নিবিড় হেঁসে বলে..

"আজব মজা করবো কেন? আ'ম সিরিয়াস। তুমি কি ভেবেছো আমি তোমার জন্য মরিয়া হবো? নো ওয়ে, আমার সাথে এসব যায় না ইয়ারর।তুমি চিল থাকো, তোমাকো আর জ্বালাবো না বুঝলে। এইবার আমি সম্পূর্ণ মুনিয়াকে সময় দেবো। মেয়েটা সত্যিই আমাকে অনেক ভালোবাসে, দেখো দেখো... "

বলতে বলতেই দোয়েলের মুখের সামনে ফোনটা তুলে ধরলো নিবিড়। দোয়েল দেখতে পায় জিনিয়ার মেসেজ, আসছে তো আসছেই৷ কত কথা..

"খেয়েছো? অপিস করে টায়ার্ড হয়ে গেছো না খুব? রেস্ট নাও বেবি,না হলে শরীর খারাপ করবে তো তোমার... "

চোখ সরিয়ে নেয় দোয়েল। ভেতর থেকে কান্না আসছে তার। কিন্তু সে তো ম্যাচিউর। নিজের দূর্বলতা যে কারোর সামনে প্রকাশ করতে নেই৷ ঘন ঘন দম নিয়ে নিজের কান্না আটকানোর চেষ্টা করে যায় সে। নিবিড় ফোনে নজর দিয়েই হাসি মুখে বলে ওঠে...

"আমার সাথে মুনিয়াকে বেশ মানাবে তাই না বলো? যেন মেড ফর ইচ আদার..."

দোয়েলের গলা ভেঙে আসে। তবুও কোনো মতে উচ্চারণ করে...

"ম্ মানাবে। "

আর এক মুহুর্ত ও দাঁড়ায় না সে। এক প্রকার ছুটে বেরিয়ে যায় রুম থেকে। সে যেতেই মুখ তুলে তাকায় নিবিড়। মুখের হাসিটা গায়েব হয়ে যায় তার। আপন মনেই বলে ওঠে...

"সরি এটম। তুমি আমায় রিয়েলাইজ না করা পর্যন্ত আমরা কেউ কারোর নাহ। একটু কষ্ট পাও তুমিও, এটা তোমার প্রাপ্য। "

দীর্ঘ এক নিশ্বাস ফেলে উপরে মুখ তুলে তাকায় নিবিড়। বিরস কন্টে বলে ওঠে...

"আল্লাহ, আমায় তুমি শাস্তি দিও। আমি জেনে শুনে আমার কলিজাকে আঘাত করছি। "

-------

ভিষণ জরুরি তলবে রান্না ঘর থেকে এক প্রকার টেনে নিয়ে এলো সাবিহাকে রুমে আবির। আজমল চৌধুরী আগে থেকেই সেখানে বসা ছিলো। আবিরের চোখ মুখ ফ্যাকাশে। অফিস থেকে আসার পরও তো ঠিক ছিলো। হটাৎ আবার কি হলো?

সাবিহা জিজ্ঞেস করে..

"কি হয়েছে বলো তো? তোমার ছেলে এভাবে টেনে আনলো কেন আমায়? "

আজমল উত্তর দেয়..

"তা তো আমিও জানি না। আবির বাবা? তুই কোনো কিছু নিয়ে চিন্তিত? অফিসে কোনো ঝামেলা হয়েছে? "

প্রশ্নটা নেহাতই বোকা প্রশ্ন, তা জানে আজমল চৌধুরী। কারন আবির কখনোই নিজের ব্যবসায়িক সমস্যা নিয়ে এতটা চিন্তিত থাকে না। ভিষণ বুদ্ধিদীপ্ত ছেলেটি যে কোনো সমস্যাই নিজের মতো করে মিটিয়ে নেয় সব। কখনোই কারোর কাছে যায় না এসব ব্যাপার নিয়ে। তবুপ প্রশ্নখানা করেছে আজমল চৌধুরী। সাবিহা আবার বলে ওঠে...

"কিরে বল? কেন ডেকেছিস? "

আবির এসে বসে বিছানার এক পাশে। ঢোক গিলে সরাসরি মুখ তুলে তাকায় সাবিহা আর আজমলের দিকে।...

"তোমাদের সাথে একটা জরুরি কথা ছিলো আমার.. "

আজমল বলে..

"তো বল না কি বলবি? এত ভাবছিস কেন? "

আবির একটু নীরবতা রেখে শীতল কন্ঠে বলে ওঠে...

"আমি বিয়ে করবো... "

এমন কথা শুনেই সাবিহা আর আজমল একত্রে বলে ওঠে..

"আলহামদুলিল্লাহ.. "

"গিন্নি শুনছো? তোমার আরেক ছেলেও রাজি হয়ে গেছে।"

আজমলের কথায় সাবিহাও হেঁসে বলে..

"হ্যা শুনছিই তো। আমার এই ছেলের জন্য এবার মেয়ে খোঁজা শুরু করি তাহলে। একসাথে তিন ছেলের বিয়ে হবে তাহলে বাড়িতে। নিবিড় আহিশের তো ঠিক হয়েই আছে৷ তা আবির বাবা, তোর জন্য তাহলে পাত্রী দেখা শুরু করি আমরা?"

আবির ঘন একটা দম নেয়। দৃষ্টি নড়ে না তার। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সে গুড়িয়ে যাচ্ছে। সাহসী ছেলেটা আজ ভয় পাচ্ছে ভাবা যায়? জিহ্বা দিয়ে শুষ্ক ঠোঁটটা ভিজিয়ে নেয় একবার। বুকে দম নিয়ে এক নিমেষেই বলে ওঠে...

"আমি চড়াই পাখিকে বিয়ে করতে চাই... "

Mr and Mrs Twins Return গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় টুইন রিলেটেড রোমান্টিক গল্প