Mr and Mrs Twins Return

পর্ব - ৩১

🟢

"রাহমান সাহেব, বাড়ি বসে এসেছেন কষ্ট করে, আমার এতে একটু উপকারই হয়েছে বটে। না হলে আমাকে যাওয়া লাগতো আরকি। "

পাশ থেকে লয়ারের থেকে একটি ফাইল নিতে নিতে বেশ রয়েসয়েই আজমল চৌধুরী কথাটা বললেন। ফাইলটি এগিয়ে দেয় আজিজ রাহমানের দিকে। এর মানে কিছু বুঝতে না পেরে আজিজ রাহমান জিজ্ঞেস করে...

"এটা কি? "

"আইডেন্টিটি ক্লিয়ারেন্স রিপোর্ট, পাখিদের। "

"মানে? "

আজমল চৌধুরী হালকা হেঁসে বলে...

"মানে? আপনার অনুমতি ছাড়াই আপনার একাউন্ট হিস্ট্রি চেক করা হয়েছে গত দশ বছরের। আপনার প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজনের থেকেও কিছু তথ্য নেওয়া হয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে এত টুকু স্পষ্ট হয়েছে যে আপনার দ্বিতীয় বিয়ের পর আপনার প্রথম ঘরের সন্তানদের প্রতি আপনি কোনো প্রকার দায়িত্ব পালন করেন নি। আর পাখিদেরও স্টেটমেন্ট নেওয়া হয়েছে, সব মিলিয়ে আইনি মতে এখন অন্য কেউ যদি পাখিদের দায়িত্ব নিতে চায় সেটায় কোনো প্রকার বাঁধা থাকবে না। আর সেই দায়িত্ব আমার ছেলেরা নিয়েছে। "

আমেনা বেগম আর আজিজের মাথায় যেন বাজ পড়লো। আজিজ হালকা চেচিয়ে ওঠে বলে...

"অসম্ভব, আমি এমনটা হতে দেবো না। আমার মেয়েদের দায়িত্ব অন্য কাউকে নেওয়ার অনুমতি আমি কাউকে দিবো না। "

আজমল চৌধুরী হেঁসে বলে..

"চূড়ান্ত রায় আমার হাতে রাহমান সাহেব। আমি যাস্ট আপনাকে জানিয়ে রাখছি, অনুমতি নিচ্ছি না তো।"

আজিজ রাহমান উঠে দাঁড়িয়ে যায়। গজগজ করতে করতে বললো...

"আপনি কি বলছেন বুঝতে পারছেন তো? ও্ ওরা আপনাদের কাছে কোন পরিচয়ে থাকবে?"

" আত্মিক ভাবে বলতে গেলে ওরা আমারই মেয়ে, আর যদি আপনি সামাজিক কোনো পরিচয় চান তাহলে বলবো ওরা আমার বাড়ির হবু বউ। আই মিন, আমার ছেলেদের বউ। "

আমেনা বেগম হা হয়ে গেলেন৷ চেচিয়ে ওঠে বলে...

"অসম্ভব, ওদের বিয়ে আমরা ঠিক করে ফেলেছি, আমার ভাতিজাদের সাথে। আপনার ছেলেদের কি যোগ্যতা আছে ওদের বিয়ে করার? "

আবিরের ঠোঁটের কোনে খেলে যায় তীর্যক হাসি। নিবিড় তার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে...

"দেখলি তো ভাই, হাফ প্যান্ট পড়ে থাকার কারনে আজ নিজের যোগ্যতাটুকুও ফুটিয়ে তুলতে পারছি না। জীবন যৌবন সবই বৃথা।"

আজমল চৌধুরী হেঁসে বলেন...

"আপনার ভাতিজাদের যোগ্যতা কি, দয়া করে যদি একটু জানাতেন?"

আমেনা বেগম বেশ ভাব নিয়ে বলে ওঠে...

"আমার ভাই ঐ এলাকার মেম্বার। "

"সে তো আপনার ভাই মেম্বার ভালো কথা।আপনার ভাতিজারা কি করে? বিয়ে তো ওদের সাথে হবে তাই না?"

" ভাতিজারা কি করে মানে? ওরা কেন কিছু করবে? ওদের বাপের কি টাকা পয়সার অভাব আছে নাকি? সব হিসেব মিলাতে গেলে লক্ষ লক্ষ টাকা আছে আমার ভাইয়ের। "

আজমল চৌধুরী হাসে আলতো। বলে...

"আচ্ছা, তবে আমার মেয়েটা আমার কাছে সুখে থাকবে, ভালো থাকবে। আর সম্মন্ধ করেছেন তা ভেঙে দিন, আমার মেয়েদের আমি এভাবে বিয়ে দিবো না এখন। আপনারা এবার আসতে পারেন। "

আমেনা বেগম বলে ওঠে...

"আসতে পারেন মানে? ওদের না নিয়ে আমরা কোথাও যাবো না।"

আবির প্যান্টের পকেটে দু হাত গুঁজে উঠে দাঁড়ায়

বাড়ির বাইরের দিকে যেতে যেতে বলে...

"অফিসার আহসান, আমি পাঁচ মিনিটে ব্যাক করছি। মেক শিওর,এসে যেন এদেরকে চোখের সামনে না দেখি।"

বলতে বলতেই আবির ঘরের পোশাকেই বেরিয়ে গেল বাড়ি থেকে। চিল্লাফাল্লা করেও লাভ হয়নি আমেনার, বাধ্য হয়ে বেরিয়ে আসতেই হলো আজিজ সহ। বাড়ির গেটের কাছে আসতেই নজরে পড়লো আবির নিজের গাড়ি ছুটিয়ে বেরিয়েছে মাত্রই। অফিসার এবার আমেনা বেগমকে উদ্দেশ্য করে বলে...

"জিজ্ঞেস করছিলেন না উনার ছেলেদের কি যোগ্যতা? ঐ যে দেখছেন যাচ্ছে? গাড়িটার দাম দুই কোটি চল্লিশ লক্ষ টাকা। নিজের টাকায় কেনা। এরকম মাসে দশটা গাড়ি কিনার ক্ষমতা রাখে উনারা এক এক জন।আপনাদের কপালে দুঃখ আছে বুঝলেন তো। আর মানুষের পিছে লাগার জন্য পেলেন না।"

------------

দুপুরে লাঞ্চ করে ঘুমিয়েছিলো চড়ুই। পাশে লিও ও আছে একদম শান্ত ভাবে। সন্ধ্যায় ঘুম ভাঙতেই নাকে এসে লাগলো মিষ্টি একটা সুভাষ।

চোখ মেলে তাকায় সে, লিও ও উঠে বসে। মুখে করে টেবিলের উপর থেকে একটা কাগজ এনে ধরিয়ে দেয় চড়ুইয়ের হাতে। চড়ুই কাগজটি খুলে দেখে টানা টানা হাতে লিখা একটি বাক্য...

"Thank you for the make me happy by your surprising and magical word..."

চড়ুই বুঝলো না এর মানে। আশপাশে তাকাতেই লক্ষ করলো বিছানার পাশে এক গুচ্ছ শুভ্র গোলাপ। পাশেই একটা শপিং ব্যাগ, চড়ুই হাতে নিয়ে দেখলো সুন্দর একটা ভেলভেট শাড়ি আর একটা পারফিউম। চড়ুই একটু স্প্রে করে দেখলো সুগন্ধটা যেন ভীষণ পরিচিত, একটু খানি চিন্তা করার পর বুঝলো শিউলি ফুলের ঘ্রাণ। শীতের শেষ ভাগ হওয়ায় শিউলি ফুলেরও যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে। বাকি সব নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ না থাকলেও পারফিউমটা পেয়ে ভিষন খুশি হয় চড়ুই। ইশশ, এবার থেকে মৌসুম চলে গেলেও ঘ্রাণটা থাকবে তার কাছে।

দরজার পাশে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে চড়ুইয়ের উজ্জ্বল মুখপানে তাকিয়ে আছে আবির। আজকের দিনটা স্মরণীয় রাখার জন্য কিছু একটা স্পেশাল প্রয়োজন ছিলো। শাড়ি আর ফুল নেওয়ার পরেও মন খুত খুত করছিলো তার। অন্যরকম কিছু চাই তার ওয়াইফির জন্য। অনেক ভেবে ছুটে যায় সে ফার্ম হাউজে, সেখান থেকে অনেক গুলো শিউলি ফুল কুড়িয়ে নিয়ে আবার যায় মার্কেটে। র শিউলি ফুলের ঘ্রাণের জন্য পারফিউম কাস্টমাইজ করে নেয় আবির। যত গুলো ফুল নিয়ে গিয়েছিলো সবগুলোই কাজে লাগায় সে। মোট চারটা পারফিউম তৈরি হয় এতে। সব নিয়ে বাড়িতে এসে দেখে তার চড়াই পাখি গভীর ঘুমে ব্যস্ত। সাবিহার জন্য মেয়েটার রুমের ধারেও ঘেসা যাচ্ছিলো না। একটু আগেই সন্ধ্যার নাস্তা বানানোর জন্য এ ঘর ত্যাগ করেন সাবিহা, ঐ সুযোগেই আবির জিনিস গুলো রেখে যেতে নেয়।সব গুলো পারফিউম দিবে ভাবলেও কি মনে করে যেন শুধু একটা পারফিউমই রেখে যায় চড়ুইয়ের জন্য। বাকি তিন খানা নিজের কাছেই মজুদ রাখে। মনে মনে নিজেকেই নিজে কথা দেয়.. একটা পারফিউম শেষ হওয়ার আগেই চড়ুই পখিকে নিজের ঘরে তুলবেে আবির।

-----

আজমল চৌধুরী দুপুরে যে এলেন আর অফিসে যায়নি আজ আর। তাই বাকি দুই ভাইও বিকেলের দিকেই ফিরে এসেছেন। জেসি আর আহিশ পাখিদের নিয়ে নিচে নামতেই খেয়াল করে আজমলরা তিন ভাই মিলে জিসানের পিন্ডি চটকাচ্ছে। তাদের কথোপকথন শুনে মিটমিটিয়ে হেঁসে দেয় পাখিরা, জেসি বলে ওঠে...

"আমার ভাই এত আনরোমান্টিক, বেশ হয়েছে বকে দিয়েছে। শা'লায় নতুন বিয়ে করে বউকে সময় না দিয়ে অফিসে ছুটছে। "

আহিশও বলে ওঠে..

"ঠিক ঠিক, আমি যখন বিয়ে করবো তখন কম করে হলেও ছয় মাসলর ছুটি নিয়ে রাখবো, বউকে তো সময় দিতে হবে, কি বলিস ছোট পাখি? "

আহিশ মজার ছলে কথাটা বললেও কানে যায় টুইন ব্রাদার্সের। নিবিড় কফিতে চুমুক দিয়ে আড়চোখে নিজের ভাইয়ের দিকে তাকায়। যার দৃষ্টি ইতোমধ্যেই আহিশ আর চড়ুইয়ের দিকে স্থির হয়ে রয়েছে। নিবিড় আস্তে করে বলে...

"আহিশের প্ল্যান কিন্তু জোস ভাই, ছোটপাখির সাথে একদম হানিমুন পিরিয়ড কাটিয়ে তারপরই কাজে জয়েন করবে। "

"মুখে তালা লাগা ভাই। "

আবিরের ঠান্ডা ধমকে হেঁসে ওঠে নিবিড়। চুপ হয়ে নিরবেই কফিতে চুমুক দিতে দিতে চারদিক পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। দোয়েলের দিকে চোখ পরতেই থমকে যায় নিবিড়। মনে পড়ে যায় আজ সকালের কথা...

হাতে ক্যানোলার কারনে বা হাত দিয়ে নিজের চুলে চিরুনি চালাচ্ছিলো দোয়েল। এতে করে জট ছাড়ানোর পরিবর্তে আরো জট বাঁধিয়ে ফেলছিলো সে। হঠাৎ হাতে কারোর স্পর্শ পেতেই আয়নায় দৃষ্টি দেয় দোয়েল। নিবিড় দাঁড়িয়ে তার পেছনে। আয়নায় দৃষ্টি মেলে দু জনার। দোয়েলের গায়ে ওরনা ছিলো না, কথাটা মাথায় আসতেই উঠতে নেয় সে। নিবিড় বুঝতে পেরে তার কাঁধ চেপে বসিয়ে বলে...

"রিল্যাক্স। ইট'স মি। তোমার লতানো উন্মুক্ত কেশ ছেড়ে বুকের দিকে নজর দেওয়ার মতো সীমা লঙ্ঘন করবো না। আমি অপেক্ষা করতে জানি৷ "

বলতে বলতেই দোয়েলের থেকে চিরুনিটা নিয়ে তার চুলের জট ছাড়াতে লাগলো নিবিড় আস্তে ধীরে। মুখে তার হালকা হাসি লেপটানো। নিরবে নৃভিতে নিজের কাজে মনোযোগ দেয় সে। চুলে বেনি পাকাতে লাগে পাকা হাতে৷ এতক্ষণে নীরবতা ছাড়িয়ে দোয়েল বলে ওঠে...

"এত যত্ন কেন দেখাচ্ছেন বলুন তো? আমি যেন এসব দেখে আপনার প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায় তাই জন্য? "

হাত থমকে যায় নিবিড়ের। চোখ তুলে আয়নায় তাকায় দোয়েলের দিকে। নিবিড়কে চুপ থাকতে দেখে দোয়েল আবার বলে ওঠে...

"কি হলো বলুন? আপনি ভাবছেন আমি এসবে গলে যাবো?"

নিবিড় বলে ওঠে...

",তোমার সত্যিই মনে হয় আমি শুধু মাত্র তোমাকে রাজি করানোর জন্যই যত্ন করছি?"

দোয়েল সাথে সাথে উত্তর দেয়...

"তা নয় তো কি? "

নিবিড়ের বুকের ভেতর যেন কেউ ছুরিকাঘাত করে। দোয়েল এই চিনলো তাকে? চোখ নামিয়ে নেয় নিবিড়। দ্রুত হাতে রাবার ব্যান্ট দিয়ে দোয়েলের চুল বেঁধে দিতে দিতে বলে...

"আর কখনো এই নিবিড় বিন চৌধুরী তোমার কাছে ভালোবাসার আর্জি নিয়ে আসবে না। "

------------

তখনকার কথা মনে পড়তেই চোখ নামিয়ে নেয় নিবিড়, দোয়েলের বুক পুড়ে যায় নিবিড়ের এমন আচরনে। লোকটাকে যে এভাবে দেখতে একদমই ভালো লাগছে না।

আবির উঠে এগিয়ে যায় চড়ুইয়ের সামনে। আহিশ বরাবর তাকিয়ে বলে....

"বিয়ে করার খুব শখ তোর?"

আহিশ লাজুক ভঙ্গিতে হেঁসে বলে....

"বিয়ে কার না শখ ভাই। তুই কি চাস না?? "

আবির বাঁকা হেঁসে বললো...

"হুম চাই, আর যা চাই তা আমি আদায়ও করে নিই, সেটা কারোর থেকে ছিনিয়ে হলেও নিয়ে নিই। "

আহিশ হেঁসে দেয়,বলে ওঠে...

"ঠিক,এই না হলে আমার ভাই। এবার চল পকোড়া খেতে যাই।গন্ধ নাকে লাগছে এখনি।"

বলেই আহিশ সিঁড়ির সামনে থেকে সরে গিয়ে বসে সোফায়। আবির মাথা ঘুরাতেই দেখে চড়ুইও যেতে নেয়। আবির ডাকে..

"ওয়েট চড়াই পাখি.. "

পা থেমে যায় চড়ুইয়ের। কিন্তু পেছনে ফিরে তাকায় না সে আবিরের দিকে। আবির নিজেই দু কদম এগিয়ে এসে দাঁড়ায় তার সামনে। হালকা ঝুঁকে বলে...

"নাইস স্মেল। লিও কোথায়? "

চড়ুই উত্তর দেয় না। আবিরের চিন্তার বাইরে গিয়ে হঠাৎ পাশ কাটিয়ে সামনে চলে যায় চড়ুই। হা হয়ে যায় আবির। এটা কি হলো? চড়ুই পাখি এতো চুপচাপ কেন?

চড়ুই মাত্রই গিয়ে আহিশের পাশে বসে। বোল থেকে একটি পকোড়া তুলে নিয়ে কামড় বসায়।আহিশ কথার ছলে নিজের বা হাত খানা চড়ুইয়ের কাঁধের উপর রাখতে গেলেই আবির ডেকে ওঠে...

" ওয়াইফি, কিচেন থেকে চিলি সস টা নিয়ে আসো তো। "

আবির ভেবেই রেখেছে চড়ুই এক্ষুনি খেঁকিয়ে বলে উঠবে...

"আমাকে কেন বলছেন, দেখছেন না আমি অসুস্থ? "

কিন্তু আবিরের আশানুরুপ কিছুই ঘটলো না।চড়ুই বরং বাধ্য মেয়ের মতো রান্নাঘর থেকে সসের বোতলটা এনে টেবিলে রাখে। তা দেখে আবির এবার নিবিড়কে টেনে তুলে এক ধাক্কা মেরে ফিসফিসিয়ে বলে...

"আহিশের পাশে বস গো..."

নিবিড় হুট করে বুঝতে পারলো না,,ধাক্কার ফলে স্থান পরিবর্তন করে বসলোও গিয়ে আহিশের পাশে। আহিশ জিজ্ঞেস করে ওঠে..

"কি রে ভাই, এটা তো চড়ুইয়ের জায়গা। "

নিবিড় আরো আরাম করে বসতে বসতে বলে...

"তো জায়গার কি অভাব পড়েছে নাকি? ছোটপাখি তুমি ঐ খানে বসো,ভাইয়ের পাশে জায়গাটা খালি আছে। "

চড়ুই একবার তাকিয়ে দেখে আবিরের দিকে। তারপর হুট করেই কাউকে কিচ্ছু না বলে কিচেনের দিকে চলে যায়।আবির ঘাড় কাত করে দেখে সে ওখানেই ডায়নিং টেবিলে সাবিহার পাশে বসে আছে।

অফিসের কাজ ছিলো প্রচুর।ভেবে রেখেছিলো দু ভাই মিলে সন্ধ্যার পরে কমপ্লিট করে ফেলবে। কিন্তু চড়ুইয়ের এমন বেপরোয়া ভাব দেখে আবির আজ আর রুমেই গেলো না। নিবিড়ই একা একা কাজ করতে গেলো। আবির বহু বাহানায় চড়ুইকে এটা সেটা জিজ্ঞেস করে।কিন্তু চড়ুই নীরব। বাকিদের সাথে মেয়েটা বেশ ভাব জমালেও আবিরের বেলায় সে যেন মুখে সুপার গ্লু লাগিয়েছে আজ।

পুরোটা সময় চড়ুইয়ের পিছু পিছু ঘুর ঘুর করেও লাভ হয় না আবিরের। স্পষ্ট বুঝতে পারছে মেয়েটা তাকে ইচ্ছে করো ইগ্নোর করছে। মাথায় রাগ চেপে বসে আবিরের।অপেক্ষা করতে থাকে সঠিক সময়ের।

ডিনার শেষ করে যে যার রুমে যায়। বিছানায় বসে আছে আবির।বুক জ্বলছে তার। বার বার শুধু এটাই মাথায় আসছে তার ওয়াইফি তাকে ইগ্নোর করছে। কিন্তু কেন? আজ রাতে এই ধোয়াসা ঠিক না করলে যে ঘুমও আসবে না তার। হেঁটে, বসে প্রায় দু ঘন্টা সময় পাড় করে দেয় আবির। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে একটা বেজে ছাপ্পান্ন মিনিট।।

আর বসে থাকতে পারলো না আবির।সে জানে কাজটা ঠিক হবে না,কিন্তু এ ছাড়া যে আর কোনো উপায়ও নেই। রুম থেকে বেরিয়ে এগিয়ে যায় পাখিদের রুমের দিকে, আস্তে করে ধাক্কা দিতেই দরজা খুলে যায় পাখিদের রুমের। হালকা ড্রীম লাইটের আলোয় বিছানায় দুটো পাখির চেহারা স্পষ্ট। আবির আস্তে করে এগিয়ে যায় সে দিকে। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে কে চড়ুই তা চিনতেই। দু জনের চুলেই দুটো বিনুনি করা। কোনগুলো সোজা চুল কোনগুলো বাকা চুল বোঝার উপায় নেই। চোখ বন্ধ থাকার কারনে চড়ুই পাখির চঞ্চল দৃষ্টি দেখে যে চিনবে তারও উপায় নেই। আবির ঘুরে ফিরে তাকায় কে চড়াই, কে চড়াই...

হঠাৎ মাথায় আসে চড়ুইয়ের গায়ে তার দেওয়া পারফিউমের স্মেল থাকবে। লাগিয়েছিলো মেয়েটা তখন আবিরের চোখের সামনেই।

ঢোক গিলে আবির। ধীরে ধীরে একটু সংকোচ নিয়ে মুখ এগিয়ে নেয় একটা পাখির কাছে। শিউলি ফুলের কড়া ঘ্রাণ নাকে এসে লাগে। আবির বুঝতে পারে এটাই তার ওয়াইফি। আর সময় নষ্ট না করে গায়ের উপর থেকে ব্ল্যাঙ্কেট সরিয়ে দু হাতে দ্রুত পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসে আবির।

নড়াচড়ার কারনে চড়ুইয়ের ঘুম ভেঙে যায় একটু পরেই। ততক্ষণে আবির নিজের রুমে এসে বিছানায় ফেলে দেয় পাখিকে। পাখি উঠতে নিলেই আবির দু হাতে শক্ত করে বিছানার সাথে তার বাহু চেপে ধরে৷ তার উপর ঝুঁকে হিসহিসিয়ে বলে ওঠে...

"কি সমস্যা তোমার ওয়াইফি? আমাকে ইগ্নোর করছো কেন? বাকিদের সাথে পক পক করছো ঠিকই, আমায় কেন এড়িয়ে যাচ্ছো? আন্সার মি ড্যাম ইট..."

আবিরের সবুজ রঙা মনি যুক্ত চোখের সাদা অংশ লাল রং ধারন করছে, কপালের পাশের রগ গুলো স্পষ্ট ফুলে উঠেছে। সেদিকে তাকিয়েই পাখি শুঁকনো ঢোক গিলে। আবির আবার তাকে ঝাঁকিয়ে জিজ্ঞেস করে ওঠে....

"চুপ করে থাকবে না চড়াই পাখি, আমার ভেতরটা জ্বলে যাচ্ছে, তুমি কি আদেও কিছু বুঝতে পারছো না? উত্তর দাও চড়াই..."

"আ্ আবির ভাইয়া... আ্ আমি দোয়েল..."

Mr and Mrs Twins Return গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় টুইন রিলেটেড রোমান্টিক গল্প