Mr and Mrs Twins Return

পর্ব - ২৮

🟢

" দু দিন ধরে এটমের দেখা পাই না আমি। যেই বারান্দাটা দিয়ে ওকে দেখার তৃষ্ণায় তাকিয়ে থাকতাম আমি, সেই বারান্দায় আলো নেই, জানালা গুলোও বন্ধ। পুরোটা রাত দাঁড়িয়ে থাকার পরও জানালা খোলে নি ও। আমার আর সহ্য হচ্ছিলো না। আহিশের থেকে খোজ নিয়ে জানতে পারি ওর বা জেসি, কারোর সাথেই পাখিদের যোগাযোগ হয়নি, ভার্সিটিও যায়নি দু দিন। আমি আর না পেরে দেওয়াল টপকে বাড়ির আঙিনায় প্রবেশ করি ওদের। দরজায় তালা দেখে বুঝে নিলাম বাড়িতে কেউ নেই। ফিরে আসতে নিয়েও পেছনের দিকে গিয়ে মন চাইলো একবার পাখিদের রুমটার কাছে যাই। আমি তাই করি, কি মনে করে যেন এগিয়ে গিয়ে বদ্ধ থাই জানালা দিয়ে তাকাই ভেতরে। তখন সূর্য অস্ত যাবে যাবে সময় । যার কারনে সূর্যের কিরন এসে পড়তেই ভেতরের দৃশ্য আবছা আবছা দেখতে পাচ্ছিলাম আমি। একটি ছায়ামূর্তি এলোমেলো পড়ে আছে ফ্লোরে। সেটা যে পাখিদের মধ্যেই কেউ তা অবয়ব দেখেই বুঝেছিলাম। আমি ডাকি, কিন্তু কোনো সাড়া নেই। তাই বাধ্য হয়ে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে ঢুকি আমি। তারপর সবটা স্পষ্ট দেখতে পাই। ছোটপাখি ছিলো ওটা। প্রতিবারের মতো চঞ্চল মেয়েটি সেদিন ছিলো না, ছিলো নির্জীব একটা নিথর দেহ মাত্র, দু হাত পেছনে নিয়ে বাঁধা, পায়েও মোটা দড়ির বাঁধন। মুখেও কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখা। আমি পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম ঐ সময়টায়। এটমকে খুজছিলাম, আরেকটা রুমে ওকেও একই অবস্থায় পাই, তারপর..."

এত টুকু বলেই দম ফেললো নিবিড়। আবির স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে, কল্পনা করতে গেলেও যেন বুকে ব্যাথা হচ্ছে তার। চড়াই পাখি এতটা সময় বদ্ধ ছিলো। দুটো দিন ধরে সে আবিরের মেসেজ ইগ্নোর করে নি।আবির কি না কি ভেবে বসেছিলো, বিয়ে বাসর, যা তা সব।

চোখ তুলে তাকায় আবির, আস্তে করে বলে...

"ওয়াইফির কাছে যাবো। "

নিবিড় জিজ্ঞেস করলো..

"কেন? তুই তো পছন্দ করিস না ওকে।"

আবির হালকা উতলা হয়ে বললো..

"কিন্তু আমার ওকে প্রয়োজন, আমার মনে হচ্ছে আমার কোথাও একটা শূন্য হয়ে যাচ্ছে। শুধু মাত্র একটা দুঃস্বপ্নের কারনে আমি ছুটে এসেছি দেশে। "

বড় বড় দম ফেলছে আবির, একটু থেমে কন্ঠের রেশ কমিয়ে ক্লান্ত স্বরে বলল...

"আমার চড়াই পাখিকে চাই, ভাই। জানি না কেন, কিন্তু আমার ওকে লাগবেই।"

নিবিড় বিরল হাসলো এই অসময়েও। দূরত্ব ভালোবাসা বাড়ায়। আবিরও বুঝে গেছে, নিজের মনে আশকারা দিতে থাকা এতগুলো দিনের অনুভূতি গুলো শেষমেশ বুঝেই গেছে আবির। যেই চড়ুই পাখিকে সে দু চোখে দেখতে পারতো না, সেই একরত্তি মেয়েটাকেই ভালোবেসে ফেললো সে। কিন্তু আদেও কি তা পূর্ণতা পাবে?

"আম্মু আমাকে দেখলে যেতে দেবে না ওয়াইফির কাছে। তুই প্লিজ দ্রুত আম্মুকে বাড়ি পাঠিয়ে দে। "

নিবিড় হাফ নিশ্বাস ছেড়ে সম্মতি দিয়ে বলে..

"তুই লুকিয়ে পর, আম্মু চলে গেলে আসিস। "

বলেই নিবিড় এগিয়ে যায় আবার দোয়েলের কেবিনের দিকে। সাবিহা এখনো দোয়েলকে জড়িয়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। নিবিড় আহিশের দিকে তাকিয়ে বলে...

"ভাবি আর আম্মুকে নিয়ে বাড়ি যা তুই। আমি আছি এখানে, আর জেসিও থাকুক। "

সাবিহা বলতে নেয়...

"আমি থাকি না ওদের..."

তারাও সাবিহাকে বুঝিয়ে বলে..

"বড়আম্মু, তুমি কাল রাত থেকে এখানে। এখন বাড়ি যাওয়া উচিৎ, না হলে তুমিও তো অসুস্থ হয়ে যাবে। জেসি তো একটু আগেই এসেছে, ও থাকুক। আর কাল সকালেই তো পাখিদের রিলিজ দেওয়া হবে। "

সাবিহা রাজি হয়। দোয়েলকে ছেড়ে দরজার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে...

"তোদের আব্বু কড়া নির্দেশ দিয়েছে পাখিদের যেন আমাদের বাড়িতেই নিয়ে যাওয়া হয়, ওরা যেতে না চাইলেও নিযে যাবি। আমি আর মেয়ে দুটোকে ও বাড়ি পাঠাবো না। "

আহিশও এগিয়ে এসে বলে..

"তুমি চিন্তা করো না বড় আম্মু, কেইস ফাইল করা হয়ে গেছে অলরেডি। ওরা আর ফিরবে না ও বাড়ি।"

সাবিহা একবার চড়ুইয়ের কেবিনে গিয়ে দেখে বেরোয় হসপিটাল থেকে। কাল রাত থেকে আহিশের চোখেও ঘুম নেই, তাই তাকেও পাঠিয়ে দেয় নিবিড়।ওরা চলে যেতেই আবির বেরিয়ে আসে আড়াল থেকে। চড়ুইয়ের কেবিনে ঢুকতে দেরি করলো না এক মুহুর্ত ও। দরজাটা হালকা ভিড়িয়ে দিয়ে তাকায় বিছানায় এলোমেলো হয়ে ঘুমিয়ে থাকা চড়ুই পাখির দিকে।

হাতের দিকে তাকাতেই আবির দ্রুত ছুটে আসে তার কাছে। মেয়েটা এই অবস্থায়ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঘুমাচ্ছে। জ্ঞান ফিরেছিলো হয়তো, ইনজেকশনের প্রভাবে ঘুমাচ্ছে। কিন্তু উল্টো হয়ে থাকার কারনে তার স্যালাইন লাগানো হাতটা শরীরের নিচে পড়েছে তার। পাইপ বেয়ে রক্ত উঠছে। হয়তো ব্যাথাও পাচ্ছে, ঘুমের কারনে বুঝতেও পারছে না মেয়েটা।

আবির দ্রুত গিয়ে চড়ুই পাখিকে সোজা করে শোয়ালো। স্যালাইন লাগানো হাতটা ঠিক করে দিতেই রক্ত গুলো আবার নেমে গেলো,স্বাভাবিক নিয়মে স্যালাইন প্রবেশ করতে লাগলো শরীরে।

আবির একটু শান্ত হয়। ঢোক গিলে তাকায় মেয়েটার ফ্যাকাসে মুখের দিকে। কি অবস্থাটাই না হলো এই টুকুতে। ঠোঁট শুকিয়ে চামড়া উঠে আছে।

আবির আলতো করে নিজের ডাক হাত ছোয়ালো চড়ুইয়ের বাম গালে। বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে আস্তে করে মেয়েটার সেই শুস্ক ফাটা ঠোঁটে স্লাইড কটতে লাগলো। বুকটা খা খা করছে আবিরের। চড়ুই পাখির প্রতিটি নিশ্বাসের সাথে ভেসে আসছে গড়গড় আওয়াজ। ঠান্ডা লেগে গলায় কফ বেঁধেছে নিশ্চিত। শব্দটা যেন আবিরকে আরো চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিচ্ছে। হিসেব মিলাতে মিলাতে নিজের দিকেই দোষটা দিচ্ছে সে। আজ পাখির এই অবস্থার জন্য তো সেই দায়ী। সেদিন যদি আবির চিঠিটা নিয়ে চড়ুইকে বাজে কথা না শুনাতো, তাহলে হয়তো অভিমানী মেয়ে দুটো তাদের বাড়ি থেকে চলেও যেতো না, আর না আজ এই অবস্থা হতো তাদের।

চোখ বুঝে নেয় আবির। দীর্ঘ এক নিশ্বাস ফেলে ঝুকে চড়ুইয়ের দিকে। ধীরে সুস্থে মুখ নামিয়ে চড়ুই পাখির কন্ঠ নালিতে একটু গভীর চুমু দিয়ে হিসহিসিয়ে বলে..

"আ'ম সরি। তোমার খেয়াল রাখা উচিত ছিলো আমার। তোমায় কষ্ট দিয়েছি আমি, আমায় ক্ষমা করবে পাখি? নিজের করে নিবে তুমি? "

ঘুমন্ত চড়ুই পাখির দিক থেকে কোনো উত্তর এলো না। আবির মুখ উঁচিয়ে চড়ুইয়ের কপালে একটা চুমু খায়। হুট করেই আবিরের ভিষণ সুখ সুখ অনুভুত হচ্ছে। হয়তো পবিত্রতার ছোয়ায় এমন লাগছে। আবিরের লোভ হলো, হুট করেই মন চাইলো এমন সুখ যেন সারাটা জীবন সে পায়। আরো একটি বার নিজের মনের কাছে হেরে গেলো আবির। কিন্তু হেরে যাওয়ার কারনে কেন যেন কোনো কষ্ট অনুভুত হচ্ছে না তার। বরং ভালো লাগছে। আলতো হেঁসে আবির নিজের পুরু ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয় চড়ুইয়ের শুষ্ক ঠোঁটে। সুধা বিহিন ঠোঁটে আবির নামিয়ে দেয় বর্ষন। নাহ, আজ কোনো কামনা থেকে নয়। বরং এক রত্তি মেয়েটার মায়া মুখটার ভালোবাসায় ডুবে সজ্ঞানে আবির তার ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়েছে। তারাহুরো ছাড়া, কোনো প্রকার আঘাত ছাড়াই সে আজ চড়ুই পাখির ঠোঁট চুষছে।দীর্ঘক্ষণ নয়, একটু পরই আবির চড়ুইয়ের ঠোঁট ছেড়ে দেয়, এই এতক্ষণে মেয়েটার ঠোঁটে যেন জোয়ার নেমেছে, হালকা ভেজা আভাস পেয়ে একটু টসটসে ভাব ঠারন করছে। আবির এক শীতল তৃষ্ণায় বিমোহিত হয়। প্রজ্জ্বলিত শিখার ন্যায় দৃষ্টি দিতে নেয় চড়ুইয়ের দিকে। সম্পুর্ন চড়ুই পাখিটাই আজ যেন শুধু মায়া, মায়া, আর মায়া।

আবিরের দৃষ্টি লোকনের মাঝেই একটু নড়ে ওঠে চড়াই পাখি। মুখ কুঁচকে এপাশ থেকে ওপাশ এবরোথেবরো হয়ে ফিরতে নিলেই আবির চট করে তার ক্যানোলা যুক্ত হাতটা ধরে ফেলে। যাতে লতাটায় টান না খায়।চড়ুই পাখি সম্পূর্ণ নড়লেও আবিরের যত্নে ধরে রাখা হাতটা স্থির রইলো।

তাকে চোখ মুখ কুঁচকাতে দেখেই আবির আরেক হাত ঠেকায় চড়ুইয়ের গালে। আস্তে করে জিজ্ঞেস করে...

"পাখি? কি হয়েছে? "

চড়ুই ঘুম ঘুম কন্ঠে আবিরের হাতে থাকা হাতটা একটু নাড়িয়ে কাঁদো কাঁদো স্বরে উচ্চারণ করলো...

"ব্যাথা..."

আবির ফিরে তাকায়। আস্তে করো ক্যানোলার একটু উপরে নিজের তিন আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো মালিশ করতে থাকে।

চড়ুই পাখি ঘুমের মাঝেই নিজের অপর হাত খানা দিয়ে ধরতে চায় আবিরকে। পেয়েও যায় আবিরের হাতার শার্টের অংশ। সেখানটায় মুঠ করে ধরে বিরবির করে বলে ওঠে..

"আপনি যাবেন না,অন্ধকার, ভয় করে.."

আবির আলতো করে নিজের হাতে থাকা চড়ুইয়ের ছোট্ট হাতের উল্টো পিঠে ক্যানোলার পাশে নিজের ঠোঁট ছুইয়ে হালকা শব্দ করে চুমু খেয়ে আস্থার স্বরে বলে...

"আমি আছি, ভয় পায় না। ঘুমাও। "

চড়ুইয়ের দিক থেকে আর কথা এলো না। আবার ঘুমের রাজ্যেই তলিয়ে গেলো যেন সে। আবিরও নীরবে নীজের কাজে মন দিলো।

--------

ভোরের আলো ফুটছে ধীরে ধীরে। হসপিটালের করিডোরে মানুষের আনাগোনা বাড়ছে রোজকার নিয়মে। দরজায় খিল দেওয়া না থাকলেও নিবিড় নক করে। কান পাতলা আবিরের ঘুম ছুটে যায় তখনই। মুখ তুলে তাকিয়ে দেখে চড়ুই পাখিকে। সারাটা রাত মেয়েটা বেশ জ্বালিয়েছে নিজের অদ্ভুত ঘুমের কারনে। হাতে গোনা দশ মিনিট, এর বেশি আর সে এক জায়গায় স্থির থাকতে পারে না৷ একটু পর পর এক উল্টানি দেবেই দেবে৷ সারা রাত আবির বসে বসে তার স্যালাইন দেওয়া হাতটা ধরে ছিলো। কখন আবার টান লাগিয়ে রক্ত বের করে ফেলে মেয়েটা। তারপর চারটার দিকে স্যালাইন শেষ হতেই নার্স ডেকে হাত থেকে সুই খুলিয়ে নিয়েছে তার।এরপরই আবির একটু মাথা রেখেছে বিছানায়। তিনটা দিনের ক্লান্ততায় চোখ লেগে এসেছিলো তার।

"আয়.."

অনুমতি পেয়ে নিবিড় ভেতরে ঢুকে। দেখতে পায় আবির মাত্রই চড়ুই পাখির এলোমেলো করে ফেলা চাদরটা বুক পর্যন্ত টেনে দিয়েছে। নিবিড় বলে...

"আমাদের যেতে হবে। "

আবির ঘাড় ফিরিয়ে তাকায় নিবিড়ের দিকে। তা দেখে নিবিড় বলে..

"ওদের ঘুম ভাঙলে যদি হসপিটাল দেখে তাহলে প্যানিক করতে পারে। তাই ইনজেকশনের প্রভাব শেষ হওয়ার আগেই বাড়ি নিয়ে যাবো। "

আবির চড়ুইয়ের দিকে ফিরে তাকায়। জিজ্ঞেস করে...

"বড় পাখি কোথায়? "

"গাড়িতে দিয়ে এসেছি। হসপিটালের সব টার্মস শেষ, আমি যাচ্ছি, তুই ছোটপাখিকে নিয়ে আয় তাহলে কষ্ট করে। আহিশ তো নেই, ও থাকলে ওকেই বলতা..."

এটুকুতেই আবিরের মাথার কাছের রগ ফুলে উঠলো। তীর্যক চোখে নিবিড়ের দিকে তাকাতেই নিবিড়ের কথা বন্ধ হয়ে গেলো। আবির চট করে বাইরের দিকে হাটা ধরে বললো...

"পারবো না ওকে আনতে, আ'ম গোয়িং.."

নিবিড়ও সাথে সাথে বলে..

"ঠিক আছে তাহলে আমিই নিচ্ছি ওকে, একটু আগে বউকে নিলাম, এখন না হয় শালিকেও ওভাবেই... "

"সর.."

বলতে বলতেই নিবিড়কে এক প্রকার ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিলো চড়ুইয়ের কাছ থেকে আবির। নিবিড় মিটমিটিয়ে হেঁসে উঠলো। তা দেখে আবির তর্জনী উঁচিয়ে দরজার দিকে তাক করে বললো...

"গেট আউট, ওয়াইফি আমার সাথে আমার গাড়িতেই যাবে। "

নিবিড় একটু ভাব নিয়ে বললো..

"সেকি, তাহলে আম্মু যে তোকে বললো ওর থেকে দূরে.. "

আবির চড়ুইয়ের দিকে ঝুকে তাকে নিজের কোলে তুলতে তুলতে বলে...

"আই কান্ট ব্রো। সরি.. "

বলেই চড়ুইকে সম্পূর্ণ নিজের আয়ত্তে এনে কপালে চুমু খায় আবির তার। তারপর গটগটিয়ে বাইরের দিকে হাটা ধরে।। নিবিড়ও একটু হেলেদুলে বাইরে আসতে না আসতেই দেখে আবির ইতোমধ্যেই নিজের গাড়ি ছুটিয়েছে। চড়ুইকে নিজের কোলে রেখে এক হাতে আগলে রেখে আরেকক হাতে স্টিয়ারিং এ হাত ঘুরিয়েই ছুটলো সে। নিবিড় বিরবির করে বলে ওঠে...

"তুমি ফাইসা গেছো ব্রো। আম্মু তোমাকে এত সহজে ছাড় দিবে না। এন্ড আই উইল হেল্প হার।"

----

ঘুম ভাঙতেই নিজেকে পরিচিত এক কক্ষে আবিষ্কার করে দোয়েল। উঠে বসার চেষ্টা করায়,বুঝতে পারলো শরীর ভীষণই দূর্বল। কিছু নিন্দনীয় সময়ের কথা মনে পড়তেই বুকটা কেঁপে ওঠে তার। গোঙানির আওয়াজে ডেকে ওঠে বোন বলে। তার কন্ঠের রেশ পেয়ে বাইরে থেকে ছুটে আসে আয়েশা, নিবিড়,তারা, আজমলরা তিন ভাই।নিবিড় দ্রুত এগিয়ে এসে দোয়েলের পাশে বসে তার এক হাত ধরে শান্ত করতে থাকে।

"কি হয়েছে এটম? শান্ত হও, তুমি সেইফ আছো এখন।"

দোয়েল মুখ তুলে নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে....

"আমার বোন কোথায়?ও ভয় পাচ্ছে, কাদছিলো ভীষণ। ও কোথায়? আ্ আমি বোনের কাছে যাবো, ও কষ্ট পাচ্ছে তো.."

নিবিড় দ্রুত হাতে দোয়েলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে..

"রিলাক্স রিলাক্স,, ছোট পাখি একদম ঠিক আছে। অন্য রুমে আছে, ঘুমাচ্ছে ও। তুমি প্লিজ শান্ত হও। ওর কিছু হয় নি। "

আজমলও এগিয়ে এসে বেশ বুঝালেন দোয়েলকে। একটু শান্ত হতেই সকলে সুস্থির নিশ্বাস ফেলে। আয়েশা উঠে বলে...

"তারা মা, জেসি তো ঘুমাচ্ছে, তুমি একটু বড়পাখির সাথে থাকো।আমি কিছু খাবার নিয়ে আসছি ওর জন্য, ততক্ষণে ফ্রেশ হয়ে নিক ও।"

আায়েশা যেতেই তারা এগিয়ে এসে দোয়েলকে ধরতে নেয়, তখন দোয়েল বলে..

"আ্ আমি পারবো ভাবি, তোমাকে কষ্ট করতে হবে না.. "

দোয়েলের সঙ্কোচন দেখে তারা আস্তে করে একবার আজমলের দিকে তাকিয়ে আবার দোয়েলের দিকে ফিরে বললো..

"আব্বু চাচুরা এখানে না থাকলে এক্ষুনি তোমা পিঠে একটা কিল বসিয়ে দিতাম আমি। আমাকে কি এই বাড়ির কেউ মনে হয় না? পছন্দ হয়নি আমাকে? কুটনামি করলে ভালো লাগবে বুঝি? "

তারার এমন মিষ্টি শাসন দেখে হেসে ফেলে আজমলরা। দোয়েলও মুখ নামিয়ে হালকা হাসে, তা দেখে তারা হাত বাড়িয়ে বলে...

"আসো এবার। না হলে আর আব্বু চাচ্চু মানবো না, সত্যিই মারবো। "

তারার হাত ধরলেও নিবিড়ই তাকে ধরে ধরে এগিয়ে দিয়েছে ওয়াশরুম পর্যন্ত। তারপর নিজ দায়িত্বে কেবিনেট থেকে দোয়েলের আগের রেখে যাওয়া ড্রেস থেকে এক স্যুট বের করে তারার হাতে ধরিয়ে দিতে দিতে বলে...

"শরীর একটু মুছিয়ে দিও ভেজা কাপড় দিয়ে, মাথায় যেন পানি না দেয় আজ আর। হাতের ক্যানোলার দিকেও একটু খেয়াল রেখো তো ভাবি, ইনজেকশন বাকি আছে দুটো। পানি যেন না লাগে। "

তারা দোয়েলকে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকতেই নিবিড় এগিয়ে আসে নিজের বাবাদের কাছে৷ গম্ভীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করে...

"ওদিকের কি খবর? "

আলভি বলে...

"আহিশ গিয়েছে একটু আগে থানায়, পুলিশ যাবে বাড়ি সার্চ করতে। আর পাখিদের স্টেপম্যান্ট লাগবে, সেটা ছাড়া এগোনো যাবে না। "

আজমল চৌধুরী বলেন...

"বড় পাখি মনে হয় না কিছু বলবে। মেয়েটা প্রথম থেকেই চাপা স্বভাবের, নিজের সমস্যার কথা কাউকে বলেই বিপদে ফেলতে চায় না। আমার মনে হয় ওকে কিছু জিজ্ঞেস না করাই ভালো। আর এই মুহুর্তে প্রেশাল ক্রিয়েট করলে উল্টো আমার মেয়েদেরই ক্ষতি হতে পারে। "

আসমত বললো...

"তাহলে ছোট পাখির ঘুম ভাঙুক, তারপরই না হয় জানা যাবে সব। ও বলে দেবে৷ "

নিবিড় বললো...

"হুম, তবে পুলিশি ঝামেলার কথা যেন না জানে। ঘাবড়ে যেতে পারে। নর্মালি জিজ্ঞেস করে দেখবো, আর রেকর্ড আড়াল থেকে রেকর্ড করে নিলেই হবে। "

সকলে সম্মতি জানায়। নিবিড় জিজ্ঞেস করলো..

"ছোট পাখির রুমে কে আছে? "

আলভি উত্তর দেয়..

"আবির বাবা আছে৷ আর আসার সময় তোর আম্মুকেও যেতে দেখলাম।"

কথাটা শুনেই নিবিড় দু হাত কোমড়ে চেপে ঠোঁট গোল করে নিশ্বাস ফেলে বললো..

"আবার লাগবে আরেকটা যুদ্ধ। "

আজমল বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করে..

"মানে? "

নিবিড় বিছানায় বসতে বসতে বলে..

"মানে কিছুই না, তোমার ছেলে প্রেমে পড়েছে। "

আজমল রয়েসয়ে বললো..

"সে তো আমরা আগে থেকেই জানি তুই যে বড়পাখিকে প্রেম প্রস্তাব দিয়েছিস। এতে আর নতুন কি? "

নিবিড় বলে উঠলো..

"আমার কথা বলছি না আব্বাজান। বলছি তোমার আরেক ছেলের কথা। সেও ফেঁসে গেছে। "

আজমল অবাক হয়ে বলে....

"ভাবা যায়? আমার এক রোখা, নাকের ডগায় রাগ নিয়ে ঘুরতে থাকা ছেলেটাও নাকি প্রেমে পড়েছে। "

নিবিড় হেঁসে বলে..

"হুম,তাও আবার যার তার প্রেমে না, তার পেঙ্গুইনের প্রেমে। আর সেই প্রেমে খসেটি বেগম হলেন তোমার একমাত্র স্ত্রী, মানে আমাদের আম্মাজান। আগে আগে দেখো হোতাহে কেয়া। ছোটপাখিকে তো যেমন তেমন করে রাজি করিয়ে ফেলবে ভাই। এদিকে ওর জন্য যে আমার রানী আমাকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে, শালার আসলেই একটা এটম বোম, ভাইয়ের মতো রাগ দেখাতে গেলে সে নিজেই দ্বিগুন গরম হয়ে ব্লাস্ট করে আমায় উড়িয়ে দেয় কিনা সেই ভয়েই আছি আমি৷ জিন্দেগী বেকার হেয় মেরা।..."

Mr and Mrs Twins Return গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় টুইন রিলেটেড রোমান্টিক গল্প