Mr and Mrs Twins Return

পর্ব - ২৭

🟢

রজনীগন্ধার সুভাস হালকা ছড়াচ্ছে ঘরে। মিটমিটে আলোর আভায় চড়ুই পাখির মায়া ভরা মুখটা দেখা যাচ্ছে। লাল বউ একদম। কি দারুন মুখে লাজুক লাজুক ভাব নিয়ে বসে আছে সে। আবির একবার রুমের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। ঘর সাজানো একদম পার্ফেক্ট হয়েছে, সেও যে এত ভালো বাসর ঘর ডেকোরেট করতে পারে তা জানা ছিলো না আগে।

দরজার বাইরে সোরগোল চলছে। আবিরও হাসি মুখে এগিয়ে গেলো সেদিকে। সবাই মিলে আহিশকে আটকে রেখেছে, টাকা আদায় করা ছাড়া বউয়ের কাছে যেতে পারবে না। আবিরও এগিয়ে এসে ভাব নিয়ে বললো...

"বিশ হাজার,নইলে তোর বউ বিশ দিনের জন্য আমার।"

আহিশ মুখ গোমরা করে সেরোওয়ানীর পকেট থেকে মানি ব্যাগ বের করে বরাবর বিশ হাজার টাকা দিয়ে বললো...

"চড়াই পাখির মতো গুলুমুলু একটা বউ পেয়েছি, বিশ লাখ টাকা চাইলেও দিয়ে দিতে পারি। নে ধর.."

টাকা হাতে পেতেই আবির দরজার সামনে থেকে সরে দাঁড়ালো। আহিশও বুক ফুলিয়ে ভেতরে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে এগিয়ে গেলো চড়ুইয়ের কাছে। মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে চড়ুইয়ের ঘোমটা তুললো সে। তারপর এক হাতে চড়ুইয়ের থুতনি ধরতে নিলেই তড়িৎ গতিতে দয়ার মতো দরজায় এক লাথি মেরে ভেঙে ফেললো আবির বিন চৌধুরী। এক হাত টান টান করে বাপ্পারাজের 'নাআআ,,আমি বিশ্বাস করি না ' সীনের মতো করে আবির বলে উঠলো...

" নাহহ,আমার ওয়াইফিকে ছুঁবি না আহিশ..."

শরীর কাপিয়ে চোখ মেলে বসলো আবির। আশপাশে দ্রুত তাকিয়ে দেখলো কোথায় বাসর ঘর? কোথায় আহিশ আর কোথায় বা তার লাল টুকটুকে শাড়ি পড়ে বসে থাকা চড়ুই?

এটা তো তার নিউইয়র্কের এপার্টমেন্টের সোফা। তার মানে এতক্ষণ আবির...

বিষয়টা মাথায় আসতেই নিজের উপর রাগে রিরি করতে করতে টেবিলের উপর ফ্লাওয়ারভাস টা এক হাতে বাড়ি মেরে ফ্লোরে মারলো, চেচিয়ে বলে উঠলো..

"আবির, তুই একটা বোকাচো'দা..."

এই শীতল আবহাওয়ায়ও আবিরের শরীরে ঘাম দিচ্ছে। দু হাটুতে হাত ঠেকিয়ে মাথা নিচু করে বসে ঘন ঘন শ্বাস ফেলছে সে। আবিরের এমন দশা দেখে পাশ থেকে হেঁসে উঠলো যেন কেউ। আবির ঘাড় ঘুরিয়ে ফিরে তাকায়, চড়ুই পাখি এটা। খিলখিল করে হাসছে মেয়েটা। আবির এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার চড়াই পাখির দিকে। কি মায়া, কি মায়া। হাসির চোটে তার চোখ গুলো ছোট ছোট হয়ে যাচ্ছে বারবার। দু গালের জায়গাটা একদম লালছে আভায় পরিপূর্ণ, একেবারে গুলুমুলু...

আবিরের হঠাৎ মাথায় এলো,স্বপ্নে আহিশ চড়ুই পাখিকে গুলুমুলু বলেছে। মুহুর্তেই সকল মুগ্ধতা কেটে গেলো আবিরের, চোখের সামনে থেকে হাসতে থাকা চড়ুই পাখিও যেন হঠাৎ হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। আবির দু পাশে ঘন ঘন মাথা ঝাকায়..

মেয়েটা তার ভ্রম হয়ে ধরা দিচ্ছে কেন বারবার? এভাবে তো আবির টিকতে পারবে না।পাগল হয়ে যাবে তো সে।

স্বপ্নে যা দেখেছে তা যদি সত্যি হয় তো? কি করবে তখন আবির.. না নাহ, এমন কিছু হলে আবির নিশ্চয়ই আগেই খবর পেয়ে যেতো।

ভেবেই হাফ নিশ্বাস ফেলে ডায়নিং টেবিলের কাছে গিয়ে গ্লাসে জল ঢাললো আবির। একটু চুমুক দিতেই থেমে গেলো আবার,..

এক মিনিট.. আজ দু দিন ধরে আবিরের কারোর সাথে কন্টাক্ট নেই, না বাড়ির কারোর সাথে আর না পাখিদের সাথে। এর মধ্যে যদি সত্যি সত্যিই আবিরকে কিছু না জানিয়ে আহিশের সাথে চড়ুই পাখির বিয়েটা দিয়ে দেয় তো??

হাত থেকে গ্লাস নামিয়ে নিলো আবির। দ্রুত পেছনে দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সময় মিলিয়ে নিলো, বাংলাদেশে এখন রাত প্রায় একটা। আহিশ আর চড়ুইয়ের বিয়েটা যদি আজ হয়ে থাকে, তাহলে এখন নিশ্চয়ই তারা...

আবির আর ভাবতে পারছে না। রাগ, ভয় অসহায়ত্ব যেন চার দিক থেকে ঘিরে ধরেছে তাকে। দ্রুত ছুটে গিয়ে ফোন হাতে নিয়ে কল লাগালো আহিশের নম্বরে। প্রথম বারে রিসিভ হলো না, দ্বিতীয় বার রিসিভ হতেই আবির গর্জে উঠলো...

"আহিশ তুই কি করেছিস, তোকে আমি শেষ করে দেবো আহিশ..."

আহিশ পুরো কথাটা শুনলোই না, ওপাশ থেকে সে ও চিন্তা আর বিরক্তি মিশেলে গলায় বললো...

"থানায় ব্যস্ত আছি ভাই, পরে কথা বলবো। "

এত টুকু বলেই কল কেটে দিলো আহিশ। আবির হাফ নিশ্বাস ফেললো, যাক তাহলে আহিশ বাড়িতে নেই, চড়াই পাখির কাছে অন্তত নেই, ভেবেই একটু শান্ত হয়ে সোফায় বসলো আবার আবির। ঠিক দু মিনিটের মাথায় আবার চমকে উঠে বসলো সে। আপন মনেই বিরবির করে উঠলো...

"আহিশ এত রাতে থানায় কি করছে? কোনো ভাবে কি কম বয়সে বিয়ের অপরাধে ওকে পুলিশে ধরে নিয়েছে নাকি। আহিশের তো বয়স একুশ হয়নি, তার মানে আহিশ আর চড়ুইয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে? স্বপ্নে ঠিক যেমন দেখেছিলো..।ওরা বাসর ঘরে ঢুকার পর আবির দরজা ভেঙে ঢুকে বাঁধা দিয়েছে। কোনো ভাবে কি ঐ সময়ের আবিরের জায়গায় বাস্তবে পুলিশ চলে এসেছে, এমন হয়নি তো? "

--------------

মাত্র দু ঘন্টার মধ্যে ফ্লাইটের টিকিট ম্যানেজ করা খুব একটা সহজ কাজ ছিলো না আবিরের জন্য। কিন্তু মনের সেই অশান্ত ভাবটার জন্য পাঁচ গুন টাকা খরচ করে যাত্রা শুরু করেছে সে৷ ওহ, সাথে ছোট্ট একটা বাস্কেটে লিও ও আছে। আবিরের পাশের সীটে একজন ভদ্রলোক। লং জার্নি একা কাটানো বোরিং, তাই সখ্যতার খাতিরে পাশে তাকিয়ে খেয়াল করলো সে চেনে এই লোকটাকে। তাই উৎসাহিত নয়নে হাত বাড়িয়ে দেয় আবিরের দিকে। বলে ওঠে...

"হ্যালো মি. চৌধুরী। নাইস টু মিট ইউ। "

আবির পাশ ফিরে সৌজন্যবোধ করে। লোকটি আবার বলে ওঠে...

"আমি এডভোকেট অনন্ত হাসান। নাইস টু মিট ইউ। "

আবির আস্তে করে বললো...

"মি অলসো, "

কথা বলার মুড নেই মোটেও, তার মাথায় চলছে অন্য চিন্তা। নিজের অদ্ভুত চিন্তা গুলোর প্রতি সে নিজেই বিরক্ত প্রচুর। কিন্তু কিছু করার নেই। সে তো আর দশ ঘন্টার পথ তুড়ি মেরে পাড়ি দিতে পারবে না।

পাশের লোকটা একের পর এক কথা বলেই যাচ্ছে, আবির প্রফেশনালি হু হা করছে শুধু। হঠাৎ করেই আবির ঢোক গিলে লোকটির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে ওঠে...

" আপনি তো লয়ার, তাই না?"

অনন্ত নামের লোকটি উত্তর করলো..

"জ্বী.."

"আই ওয়ান্ট টু নো সামথিং এবাউট ল."

"ইয়াহ, শিউর। বলুন না কি জানতে চান,আমি চেষ্টা করবো।"

আবির একটু পাশ ফিরে বুঝিয়ে বলার ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করে...

"আচ্ছা ধরুন একজন আন এডাল্ট ছেলে। মানে আন্ডার টুয়েন্টি ওয়ান। ও যদি বিয়ে করে ফেলে তাহলে তার শাস্তি কি হতে পারে?"

"সিম্পল, কয়েক বছরের জেল আর জরিমানা "

"ওকেয়, তাহলে ধরুন সেই মুহূর্তে যদি ওর জেল হওয়া ঠেকাতে বিয়েটা ভেঙে দেওয়া হয় তো? "

"হ্যা, যাচাই বাচাই করলে মিমাংসা হতেও পারে। "

"আচ্ছা, তো ডিভোর্সের জন্য কতদিন সময় লাগতে পারে? "

"মিনিমাম তিনমাস, এপ্লাই করার পর.. "

"আচ্ছা, ধরুন এপ্লাই করার পর তো তাদের ডিভোর্সটা মোটামুটি কনফার্ম। তখন সেই ডিভোর্সি মেয়েটাকে অন্য কেউ বিয়ে তো করতে পারবে তাই না? "

আবিরের এমন উটকো কথায় অনন্ত এবার পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে তাকায় আবিরের দিকে। আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করেই ফেললো..

"আআ.. মি. চৌধুরী। কোনো ভাবে কি সেই ডিভোর্সি মেয়েটাকে আপনি বিয়ে করতে চাইছেন? "

আবির মাথা ঝাঁকিয়ে সাথে সাথেই বলে উঠলো..

"ইয়েস। "

"তা হলে সেই আন্ডার এইজ এর ছেলেটা কে? "

"আমার ভাই, আই মিন কাজিন ব্রাদার.."

অনন্ত চোখ গোল গোল করে বলে উঠলো..

"আপনি আপনার ছোট ভাইয়ের বউকে বিয়ে করতে চাইছেন? "

আবির তেতে উঠলো,চোখ মুখ কুঁচকে হালকা ধমক দিয়ে বলে ওঠে..

"এই ছোট ভাইয়ের বউ মানে কি হ্যা? ও আমার বউ, আমা ওয়াইফি, আর কারোর কিছু না।"

অনন্ত ঢোক গিলে বলে..

"ওকেয় ওকেয়, স্ সরি। আ্ আই হ্যাভ টু গো টু ওয়াশরুম.. "

বলতে বলতেই বিপত্তি কাটাতে অনন্ত উঠে চলে গেলো আবিরের পাশ থেকে। এই চৌধুরী সাহেব মনে হয় পাগল হয়ে গেছে।

আবিরের সে দিকে খেয়াল নেই। সে নিজের চিন্তাতেই ব্যস্ত, এখন বাড়িতে গিয়েই প্রথম কাজ হবে তার চড়ুই পাখিকে কিডন্যাপ করে নেওয়া। যাতে আহিশের কাছে না থাকতে পারে, তারপর যে করেই হোক আহিশ আর চড়ুইয়ের ডিভোর্সটা করাতে হবে, ওহ,সাথে নতুন করে আগে আগেই বিয়ের রেজিষ্ট্রি পেপার রেডি করে রাখতে হবে, যাতে ডিভোর্সের পর আবিরের বিয়েতে দেরি না হয়...

------

প্রায় ১৫ ঘন্টা জার্নির পর আবির এসে দাঁড়ায় নিজের বাড়ির সামনে। কলিং বেলে চাপ দিতেই দরজা খুলে দেয় জুলেখা। আবির ঘড়ির কাটায় সময় দেখে নেয়, সময়টা সন্ধ্যা সাতটা। জুলেখা তাকে দেখেই অবাক হয়ে বলে ওঠে...

"আবির বাবা, তুই? কেউ তো বললোও না তুই ফিরছিস যে আজ।.. "

আবির বলে..

"কাউকে জানাই নি চাচি।"

বলতে বলতেই ড্রয়িং রুমের সোফায় বসলো সে। জুলেখা রান্না ঘরে গিয়ে আবিরের জন্য পানি এনে দিলো। পানি টুকু খেয়ে আবির আশপাশে একবার তাকায়, এই সময় এত নীরব কেন বাড়ি? জুলেখার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে..

"বাড়ি এত ফাকা কেন চাচি?"

জুলেখার মুখে হালকা চিন্তার ছাপ। বললো..

"তোর বাবা চাচারা তো থানায় গিয়েছে একটু আগেই। আর তোর আম্মু আর নিবিড়, আহিশ হসপিটালে।"

চমকে ওঠে আবির। দাঁড়িয়ে গিয়ে বলে..

"হসপিটালে মানে? কার কি হয়েছে? আ্ আম্মু, আম্মু ঠিক আছে তো? "

জুলেখায় তাকে শান্ত করে বলে..

"আস্তে আস্তে, উতলা হোস না বাবা, তোর আম্মু একদম ঠিক আছে।"

"তাহলে হসপিটালে কেন?"

" পাখিদের কাছে আছে, ওদের কে কাল রাতে ভর্তি করানো হয়েছে। এখনো নাকি জ্ঞান ফেরেনি মেয়ে দুটোর।"

আবিরের মস্তিষ্ক যেন হুট করেই ফাঁকা হয়ে গেলো। পাখিরা হসপিটালে মানে? কি হলো তার ওয়াইফির? আবিরের বুকটা কেমন যেন মোচড় দিচ্ছে। কি হলো কেন হলো, এত কিছু জানার ইচ্ছে জাগলো না, শুধু মনে হলো যেন একটি নজর তার চড়াই পাখিকে দেখতে হবে। জিজ্ঞেস করলো..

"ক্ কোন হসপিটালে? "

জুলেখা হসপিটালের নাম বলতেই আবির দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে লাগলো। পেছন থেকে জুলেখা ডেকে ওঠে..

"আবির বাবা এত জার্নি করে এসেছিস, কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে যা.."

আবির হাটতে হাটতেই বললো..

"আই হ্যাভ টু গো চাচি। "

পায়ের কাছে লিও ও ছুটে আসছে, মিয়াও করে ডেকে উঠতেই, আবির নিচে তাকিয়ে বলে উঠলো..

"লিও, ইউ স্টে হিয়ার উইথ হার, গো ইনসাইড.. "

লিও বাধ্যের মতো বাড়ির ভেতরে গিয়ে সোফার কোনে বসে গেলো আবার, আবির দ্রুত রওনা হয় হসপিটালের উদ্দেশ্যে..

---------

হসপিটালের করিডোরে চেয়ারে বসে আছে নিবিড়। চোখ মুখ অন্ধকার তার। পাশেই সাবিহা ও রয়েছে, তাকে আগলে নিয়ে রেখেছে জেসি আর তারা। আহিশ ও বিষন্ন মুখে এপাশ থেকে ওপাশ হাঁটাহাটি করছে আর একটু পর পর কাউকে কল দিয়ে কথা বলছে। সকলেরই চোখ মুখের অবস্থা নাজেহাল, পাখিদের জ্ঞান না ফিরা পর্যন্ত কেউই শান্তি পাচ্ছে না ঠিক মতো৷ পাশাপাশি দুটো রুমে দুই পাখি।

একটু পরেই দোয়েলের কেবিন থেকে একজন নার্স বেরিয়ে এসে বললো...

"পেটেন্টের জ্ঞান ফিরেছে, কিন্তু হুট করেই প্যানিক করছে ভিষণ, সামলানো যাচ্ছে না। এমন হওয়ার কারনও বুঝতে পারছিনা... "

আহিশ ফোন পকেটে ঢুকাতে ঢুকাতে এগিয়ে এসে বললো..

"ওদের হসপিটালে ফোবিয়া আছে। তাই এমন করছে। "

বলতে বলতেই সে ছুটে গেলো দোয়েলের রুমে, সাথে নিবিড়, সাবিহা সহ বাকিরাও। দোয়েলের দিকে চোখ পড়তেই যায় নিবিড়। মেয়েটা ভীষণ ভাবে বাঁধন হারা হতে চাইছে যেন। নার্সরা মিলে চেপে ধরেও যেন আটকাতে পারছে না তাকে, নিজেকে ছাড়াতে ব্যস্ত দোয়েল, চিৎকার করে ডাকছে নিজের মাকে। এই যেন হারিয়ে যাচ্ছে, এই যেন কেউ হৃদপিণ্ড কেড়ে নিচ্ছে তার...

"আম্মু, আমাকে যেতে দাও আম্মুর কাছে। আম্মুকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে এরা, আম্মু.. আমাকে যেতে দাও, ছাড়ো না আমাকে... "

সাবিহা এগিয়ে গিয়ে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে দোয়েলকে। নিবিড়ও এগিয়ে গিয়ে ছুড়তে থাকা হাত চেপে ধরে দোয়েলের। তার চোখে পানি, বার বার উতলা হয়ে বলছে..

"ও্ ওরা নিয়ে যাচ্ছে তো, আ্ আমাকে যেতে দাও না..."

নিবিড়ের হাতটা শক্ত করে নিজের অজান্তেই চেপে ধরে আছে সে। সাবিহা ঘন ঘন মেয়েটার মাথায়, গায়ে হাত বুলিয়ে দিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছে..

"কিচ্ছু হয় নি পাখি,তোর আম্মুর কিচ্ছু হয় নি, শান্ত হ মা আমার। একটু শান্ত হ..."

বেশ কাটখর পুরিয়ে ডাক্তার দ্রুত দোয়েলের হাতে ইনজেকশন পুশ করে দেয়। একটু পরেই দোয়েল শান্ত হয়ে আসে, ঢলে পরে রয় সাবিহার বুকেই। সাবিহার চোখে জল, এখনো তিনি ঘন ঘন দোয়েলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। এমন দশা যে সইতে পারছেন না তিনি।

নিবিড় মুখ খুলে শ্বাস নিচ্ছে। বুকের ভেতরটা যেন এখনো কাঁপছে তার, প্রিয় প্রনয়ীনির এমন দশা যে সহ্য হচ্ছে না তার। আহিশ এগিয়ে এসে নিবিড়ের কাঁধে হাত রাখে, ঢোক গিলে বলে..

"নিবিড় ভাই, এতটা ভেঙে পরিস না। ওর কিচ্ছু হবে না।"

নিবিড় মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিয়ে সাবিহার থেকে দোয়েলকে নিয়ে বেডে শুইয়ে দেয়। মেয়েটার ভেজা চোখ দুটো মুছিয়ে দেয় নিজ হাতে, এলোমেলো চুল গুলোতে হাত বুলাতে বুলাতে ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে...

"ও্ ও ঠিক হয়ে যাবে তো? "

ডাক্তার বলে..

"জ্ঞান ফিরেছে যখন আর চিন্তার কিছু নেই। তবে এখানে রাখলে এমন কিছু আবার হতে পারে। "

নিবিড় বলে...

"বাড়িতে নিয়ে যাবো, রেগুলার চেকআপ ওখানেই হবে। "

"সেটাই ভালো, তবে আজকের রাতটা অবজারভেশনে থাক।কাল সকালেই না হয় ডিসচার্জ করিয়ে দেবো। "

নিবিড় মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়। নিজেকে ভীষণ অপারগ মনে হচ্ছে আজ তার। কেন সে আরো আগে পৌঁছাতে পারলো না পাখিদের কাছে.. কেন এতটা দেরি করে ফেললো।

কেবিন থেকে বেরিয়ে গেলো সে। কোন মুখে দাঁড়াবে দোয়েলের সামনে?

বের হতেই নিজের প্রতিরূপের সম্মুখীন হয় নিবিড়।কিছুটা চমকায়ও। নিজেকে সামলে নিয়ে আবিরের কাছে গিয়ে বলে...

"তুই এখানে? কবে এলি?"

আবির তারাহুরো করে উত্তর দেয়..

"একটু আগেই। প্ পাখিরা কেমন আছে? "

"বড় পাখির জ্ঞান ফিরেছে, হসপিটালে ফোবিয়ার কারনে প্যানিক করছিলো, তাই ঘুমের ইনজেকশন দিয়েছে।... "

"আর আ্।আমার ওয়াইফি?"

নিবিড় আস্তে করে বলে..

"জ্ঞান ফেরেনি এখনো। "

আবিরের শরীর ভেঙে আসে, চোখের পাতায় ভেসে ওঠে চড়ুই পাখির মিষ্টি হাসিটা। আস্তে করে জিজ্ঞেস করে..

"কোথায় ও? আমি যাবো।"

নিবিড় দু দিকে মাথা নেড়ে বলে...

"আম্মু তোকে ওর কাছে... "

বুঝতে পেরেই রাগে দেওয়ালে একটা ঘুশি মারে আবির। নিবিড় তাকে সামলে বলে...

"প্লিজ ভাই রিল্যাক্স, আ্ আমি চেষ্টা করছি আম্মুকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার। তারপর না হয় যাস... এখন একটু আড়ালেই থাক। "

আবির মানলো কি মানলো না তার কোনো জবাব দিলো না, রুষ্ট কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো...

"কি হয়েছিলো ওদের? "

নিবিড় শুকনো ঢোক গিলে, চোখের পাতায় পাখিদের কাতর অবস্থার চিত্রটা ভেসে উঠতেই বুকটা হুহু করে উঠলো তার। কি করে বলে সেই কথা?

আবির একটু চেচিয়ে বলে...

"চুপ করে থাকিস না নিবিড়, বল এই অবস্থা কি করে হয়েছে ওদের?"

নিবিড় ভাঙা গলায় বলে...

"ওদের সাথে ঠিক কি কি হয়েছে , আমি কিচ্ছু জানি না ভাই। ওদের জ্ঞান ফিরার আগে কিছু জানা সম্ভব নয়। তবে... "

"তবে? কি তবে কি নিবিড়? আমার থেকে আর কিছু লুকাস না প্লিজ, পাগল হয়ে যাচ্ছি আমি। সিরিয়াস কিছু? "

নিবিড় রুষ্ট কন্ঠে বলে...

" ডক্টর বলেছে ক্ষিধায় ইমিউনিটি কম হয়ে জ্ঞান হারিয়েছে অতিরিক্ত দূর্বলতার কারনে। "

আবির চমকায়, কথাটা তার কাছে গ্রহণ যোগ্য মনে হলে না যেন।...

" আর ইউ সিরিয়াস? ওরা না খেয়ে এমন হাল করেছে মানে? ওদের খাওয়ায় কি সমস্যা.. "

নিবিড় চোখ তুলে তাকায় আবিরের দিকে। বলে..

"আমি ঠিকই বলছি ভাই। প্রায় তিনটা দিন ওদের পেটে খাবার যায়নি।এমনকি এক ফোটা পানিও না। সার্ভাইব করতে না পেরে এইভাবেই...

Mr and Mrs Twins Return গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় টুইন রিলেটেড রোমান্টিক গল্প