Mr and Mrs Twins Return

পর্ব - ২৬

🟢

" অল্প বয়সে পাকিলে বা'ল, দুঃখ থাকে চিরকাল"

অপরিচিত নম্বর থেকে এমন একটা মেসেজ পেয়ে থ হয়ে বসে আছে আহিশ। ইন্সটাগ্রামে আজ নিয়ে মোট চারটিন এমন মেসেজ এসেছে, সহজ কথায় নিরলা হুমকি যাকে বলে আরকি...

"বয়সের থেকে যৌবনে বেশি টান পড়েছে খোকা? প্রেম পিরিতির বয়স এখনো বাকি আছে তো.."

আহিশ নিরলায় গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখলো। নাহ, হাতে পায়ে তো মোটামুটি বড়ই হয়েছে সে। তাহলে খোকা কে বললো?

সেদিন ভার্সিটি থেকে বের হওয়ার পর পাখিরা জানায় তাদের চাচাতো বোন এসেছে এক্সাম দিতে। পরিচিত হওয়ায় হৃদকে আরো আগে থেকেই চেনে আহিশ। চাইল্ডহুড ক্রাশ যাকে বলে। কিন্তু হৃদ তো আরেক ওলি আওলা ভন্ড। আহিশের সাথে তার সাপে নেউলে সম্পর্ক, কোনো কারন ছাড়াই ঝগড়া লেগে যায় দুটোতে। আর আহিশ তো তাকে পচাতে পারলেই খুশি। তাই সুযোগ পেয়ে লাফাতে লাফাতে পাখিদের সাথে গেলো হৃদের সাথে আরেক দফায় ঝগড়া লাগাতে।

দেখা হতেই হৃদ দু হাত বাড়িয়ে দৌড়ে এসে ঝাপটে ধরলো চড়ুই পাখিকে। চড়ুইও বেশ খুশি। দোয়েল আলতো হেঁসে এগিয়ে গিয়ে চাচার সাথে কুশল বিনিময় করলো।

"কেমন দিলা এক্সাম? নাগা লঙ্কা?"

আহিশের কথায় তার দিকে ঠোঁট চেপে চোখ কুঁচকে তাকালো হৃদ। পাখিদের দিকে তাকিয়ে বললো...

"এই হনুমানটাকে কেন আনলি তোরা? এবার নির্ঘাত আমি চান্স পাবো না আর।"

আহিশ মুখ ভেঙিয়ে বললো...

"এএএহ, নিজে এক্সাম খারাপ দিয়েছে এটা না বলে বলছে আমার জন্য চান্স পাবে না। আমি কি কপালে নো চান্স লিখে ঘুরতেছি নাকি? "

হৃদও কথার উপর বলে দিলো...

"লিখা লাগে না, আপনার মুখটা দেখলেই রেড সাইরেনের কথা মনে পড়ে যায়। "

আহিশ এবার কোমড়ে দি হাত ঠেকিয়ে মাথা ঘুরিয়ে আজিজকে বললো...

"চাচা,তোমাকে সম্মান করি বলে এই নাগা লঙ্কাকে কিছু বলতেছি না কিন্তু। না হলে.... "

আজিজ হেঁসে আহিশের কাঁধে দুটো চাপড় মারে।এই ছেলেটাকে সেই ছোট থেকে চেনেন তিনি। মাঝে মধ্যে মনে হয় আহিশ পাখিদের বন্ধু না, আজিজের নিজের কেউ, এত দারুন ভাবে মিশতে পারে ছেলেটি।...

"থাক বাবা, এখন আর কিছু বলতে হবে না। তোরা দুটো যে এক সাথে হলে তো যুদ্ধ বাঁধিয়ে দিস। জেসি মা কোথায়? আসে নি?"

দোয়েল বললো...

"না চাচা, এই আহিশসার বাচ্চাটা ওকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে।"

আহিশ একটু হেঁসে মাথা চুলকে বলে...

"ইয়ে মানে চাচা, ঐ গাঁধিটার মুখের ঠিক নেই। আপনার সামনে আমার বদনাম করলে তো ভবিষ্যতে সমস্যা। তাই পাঠিয়ে দিয়েছি। "

আজিজ হাসে।বলে..

"আচ্ছা ঠিক আছে এবার চল, ভীড় থেকে বের হই। "

হৃদ উৎসাহিত হয়ে চড়ুই পাখির হাত চেপে ধরে বললো...

" পাখিরে, আব্বু আমাকে আজ নতুন ফোন কিনে দিবে, এবার থেকে আর আম্মুর ফোন দিয়ে তোদের সাথে কথা বলতে হবে না।আমি সারাক্ষণ জ্বালাবো তোদের। "

আজিজ এগিয়ে যায়,সাথে বাকিরাও। আজিজের পাশাপাশি হাটছে দোয়েল। চড়ুই হৃদ আর আহিশ পেছনে আসছে।

"মা রে, তোর কথায় ওকে এক্সাম দেওয়াতে আনলাম এখানে। এখন বলচে তো ভালোই হয়েছে, টিকে গেলে যে হৃদ বায়না করবে ভর্তি হওয়ার জন্য এখানে। "

আজিজের কথায় দোয়েল বলে ওঠে...

" তুমি এত চিন্তা করছো কেন চাচা? আমরা তো আছিই এখানে। আর এই কলেজে চান্স পেলে তো হৃদের জন্য ভালোই। আর ওর উছিলায় হলেও তুমি তো অন্তত আসা যাওয়া করবে মাঝে মধ্যে। আমরাও দেখা করতে পারবো। "

আজিজ তাকায় দোয়েলের চুপসানো মুখের দিকে। আস্তে করে বলে...

"হাত পুরিয়েছিস কি ভাবে?"

আজিজের কথায় দোয়েল নিজের হাতখানা একটু উঁচু করে তাকায় সেথায়। একটু অপ্রস্তুত হাসার চেষ্টা করে বলে...

" কই পুড়েনি তো। সকালে রান্না করার সময় তেলের ছিটে পড়েছে একটু। এ এমন কিছুই না। "

আজিজ একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে। এই মা হারা মেয়ে দুটোর জন্য চেয়েও কিছু করতে পারে না সে। সেই ছোট থেকে দেখেই যাচ্ছে শুধু মেয়ে দুটোর কষ্ট। আলতো হাত খানা দোয়েলের মাথায় রেখে আজিজ বললো...

"মা রে, তোকে একটা কথা বলি শোন। কোনো চাচাই হয়তো এমন কিছু বলে না। বলাটা উচিতও না। তবুও আমি বলছি তোদের। নিজেদের পছন্দ মতো কাউকে বিয়ে করে নে। এভাবে আর কতদিন ও বাড়িতে পড়ে থাকবি বল? শরীরের অবস্থা দেখেছিস নিজেদের? "

দোয়েল পেছনে ফিরে একবার তাকায় চড়ুইয়ের হাস্যজ্জল মুখের দিকে। ফের আবার সামনে তাকিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বলে..

"যদি বিয়ের পরও ঠিক এমন একটা পরিবারে যাই তো? আর কত সইবো চাচা? "

আজিজের বুকটা হুহু করে ওঠে। ভাগ্য তো সে লিখতে পারে না, দোয়েলের মতো সে নিজেও তো কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছে না মেয়ে দুটোর ভবিষ্যতের। দোয়েল ধীরে বলে ওঠে...

"বোনকে একটা সুন্দর জীবন দিতে চাই চাচা। অন্তত ওর শশুর বাড়িটা যেন মন মতো হয় সেই চেষ্টা করবো। আর নিজেদেরও তো একটা কিছু থাকা লাগে বলো,না হলে তো যে কেউ আমাদের হেলাফেলা করেই চলবে। "

"তোরা তো ভালো মেয়ে, আল্লাহ নিশ্চয়ই তোদের প্রতি সদয় হবে। তার উপর ভরসা রাখ। "

দোয়েল মাথা নাড়িয়ে সম্মতও জানায়। সেদিন মোবাইল কিনে দেওয়ার পর আজিজের অনুমতি নিয়েই হৃদকে ওয়াটসপ একাউন্ট খুলে দিয়েছিলো দোয়েল। আহিশও কম যায় নাকি, কৌশলে নম্বর নিয়ে সাথে সাথেই কল দিয়ে বসলো হৃদের ওয়াটসপে। ফোন হাতে নিয়ে আহিশের নম্বর দেখতেই হৃদ চোখ গরম করে সামনে তাকিয়ে বলে...

"ঐ মিয়া, মাথায় সমস্যা? ঝগড়া করার হলে সামনে বসে আছি। কল করে ডএমবি খরচ রকতে চান কেন? টাকা পয়সা কি আপনার হা'গুর সাথে বেরিয়ে আসে নাকি? "

আহিশ একটা বিশ্ব জয়ের হাসি দিয়ে বললো..

"এবার থেকে দুরে গেলেও যাতে ঝগড়া করতে পারি তাই নম্বর নিয়ে নিলাম। "

সেই থেকে শুরু করে আহিশ ইচ্ছে করেই জ্বালানোর জন্য হৃদকে হুটহাট উষ্কে দিতো মেসেজ করে নয়তো কল করে। মাঝে মধ্যে ছবিও পাঠায়, কেমন ছবি? কুকুর জিহ্বা বের করে লালা ফেলছে, এটা সেন্ড করে আহিশ বলবে

"এই দেখো, পুরো তোমার মতো দেখতে। "

তারপর ধরুন আবার আহিশ নিজের নাক চেপে ধরে ছবি তুলে তা পাঠিয়ে বলবে..

"উহ, তুমি কত দিন গোসল করো না বলোতো? তোমার গায়ের দুর্গন্ধ ওয়াটসপ হয়ে এখানে পর্যন্ত চলে আসছে। "

হৃদও কম না, হেঁসে হেঁসে বাশি ঠিকই বাজাতে পারে। আহিশের মেসেজের উত্তর দিবে...

"নিজে হাগতে বসে গুয়ের গন্ধে নাক চেপে ধরে আছেন এটা বলতে লজ্জা লাগছে নাকি? ছবিতে তো কমোডের পেছনের ফ্ল্যাসবক্স দেখা যাচ্ছে। "

---

এসব ঘটনা মিলিয়ে নিয়েই আহিশের মাথা বিগড়ে গেলো, দ্রুত ফোন হাতে নিয়ে হৃদের নম্বরে কল লাগালো। রিসিভ হতেই বললো....

"এই নাগা, তুমি কি তোমার বয়ফ্রেন্ডকে দিয়ে আমাকে হুমকি দেওয়াতে চাইছো? "

-----------

আবির দেশ ছেড়েছে আজ নিয়ে প্রায় পনেরো দিন হতে চললো। সাবিহা কল দিলেই আবিরকে ফিরে আসতে বলে। আবির সাফ জানিয়ে দিয়েছে...

" ঐ পেঙ্গুইন ও বাড়িতে থাকলে আমি যাবো না বাড়ি আর। "

সাবিহাও কথার প্রেক্ষিতে বলে...

"তাই বলে কি বাড়ির বউকে বাইরে রাখবো নাকি? তারা যেমন জিসানের বউ তেমনি ছোট পাখিও তো একদিন আহিশের বউ হবেই। তখন তো.... "

ব্যাস এতটুকু বলতেই টুট টুট করে কল কেটে গেলো।এটা প্রতিদিনের নিয়ম, আহিশ আর চড়ুইয়ের বিয়ের কথা উঠলেই আবির কল কেটে দেয় সবার। যেন সে শুনতেই চাইছে না এই বিষয়ে কিছু।

------

লিওকে নিয়ে আজ বহুদিন পর ওয়াকিং এ বেরিয়েছে আবির। লিও আবিরকে ছেড়ে পালানোর নয়, তবুও ফর সেফটি ক্যাটবেল্টটা গলায় পড়িয়েই বেরিয়েছে সে। আবিরের পাশে এসে হাটতে লাগলো একটি মেয়ে। স্টাইলিশ ভঙ্গিতে আবিরের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য বলে উঠলো...

"হেয় হ্যান্ডসাম? "

আবির একবার পাশে তাকিয়ে আবার সামনে চোখ দিয়ে হাটতে হাঁটতে বললো...

"হ্যালো.. "

"উইল ইউ বি মাই কফি পার্টনার?"

আবির নিজের হাটার গতি আরেকটু বাড়িয়ে দিতে দিতে বললো..

"নট ইন্টারেস্টেড।"

বেশ কিছুদূর গিয়ে একটা বেঞ্চিতে বসলো আবির।পকেট থেকে ফোন বের করে চেক করলো তার ওয়াইফি রিপ্লাই দিয়েছে কিনা। নাহ, দেয় নি। বিরক্ত হয় আবির। একবার কল দিতে গিয়েও দেয় না কি মনে করে যেন।তীর্যক হাতে আবারও টাইপ করলো...

"Why don't you accept my friend? "

এইবার সাথে সাথে চড়াই পাখির উত্তর এলো...

"কারন আমি আপনার ফ্রেন্ড হতে চাই না.."

আবির আকাশের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট গোল করে একটা শ্বাস ছাড়লো। তারপর হুট করেই লিওর একটা ছবি তুলে চড়ুইকে পাঠিয়ে বললো...

"But you can be Leo's mother if you want."

চড়ুই দেখলো, সাথে সাথে লিওর ছবিতে একটা লাভ রিয়েক্ট দিয়ে বললো...

"হতে পারি, তবে এর জন্য লিওকে আমার চাই.."

আবির মুখ কুঁচকে আপনা আপনিই বলে উঠলো...

"পাগল নাকি, আমি এখান থেকে লিওকে নিবো কি করে। "

সাথে সাথেই পায়ের কাছ থেকে লিও মিয়াও করে উঠলো, যে বলতে চাইছে সে যেতে চায়...

আবির চোখ গরম করে লিওর দিকে তাকিয়ে বললো..

"Don't say it leo.."

কথার মাঝেই চড়ুইয়ের দিক থেকে আবার মেসেজ এলো...

"না পারলে অন্য কাউকে বানিয়ে নিন তার আম্মা। আমাকে আর মেসেজ দিবেন না অযথা। আমি অপরিচিতদের সাথে কথা বলতে অভস্ত্য নই। জামাই মারবে... "

শেষের কথা টুকু দেখেই আবির হেঁসে দিলো। মেয়েটা পারেও বটে। সীমা ছাড়া দুষ্টুমি যার তার সাথে শুরু করে দেয়।

দেখতে দেখতে কেটে যায় প্রায় দু মাস। নিবিড় রোজকার মতো দাঁড়িয়ে থাকে দোয়েলের অপেক্ষায়। কয়েকবার ভার্সিটিতে গিয়েও মেয়েটার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছে, তবে কোনো লাভ হয়নি। দোয়েল সম্পূর্ণই এড়িয়ে চলে তাকে। আজকাল বারান্দায় আসাও কমিয়ে দিয়েছে। তবুও নিবিড় হার মানে না। হাড় কাঁপানো শীতের শেষ সময় চলছে, নিবির এসবের তোয়াক্কা করে না। কি করবে সে? উনত্রিশ বছরের জীবনে এক নারীকে এমন ভাবেই চেয়েছে, আজকাল তাকে ছাড়া ভাবতে গেলেও পাপ মনে হয় নিবিড়ের।

ওদিকে আবিরের বেশ চলছে মিথ্যা নাটক। ইগো আর মন দোটানায় পড়ে সরাসরি কল ও দিতে পারে না চড়ুইকে। আবার কথা না বলেও থাকতে পারে না আজকাল সে। চড়ুই পাকির এবরোথেবরো কথা যেন আবিরের রেগুলার রুটিনে পরিনত হয়েছে। তবে চড়ুই পাখি বেশ বিরক্ত, হুমকি ধামকি দেয় আবিরকে বেশ। আবির কে নয় বরং লিওর আব্বুকে। কারন এই অজ্ঞাত ব্যক্তি যে আবির তা এখনো ধারনাও করতে পারেনি বোকা চড়াই পাখি। মাঝে মধ্যে কয়েকবার ব্লক ও করে রেখেছিলো তাকে। কিন্তু একটু পরেই মোবাইল হাতে নিয়ে দেখতো আবার ঐ অপরিচিত আইডি থেকে মেসেজ এসেছে। কিন্তু কি করে? তা বুঝতে পারে না চড়ুই। সারাদিনে আবির একশ টা মেসেজ করলে চড়ুই যাস্ট একটার উত্তর দেয় এমন। আর আবিরের ওটাই প্রশান্তি, কিছু তো অন্তত বলে মেয়েটা।

টানা দুইদিন চড়ুই আবিরের কোনো মেসেজের উত্তর দেয় নি। এমনকি অনলাইনেও আসে নি। আবিরের চোখে ঘুম নেই এই দুটো দিন, ঘুমের সময়ও সে অবিরাম ফোনের দিকে তাকিয়ে ছিলো কখন মেয়েটা মেসেজ দেয় সেই আশায়। কিন্তু আবিরের আশা পূরন হলো না। কিছু একটা ভেবেই আবির চড়ুইয়ের আইডি লগইন করলো। যেটা আরো দু মাস আগেই আবির তার আইডি হ্যাক করে নিয়েছে। আইডি চেক করে বুঝলো চড়ুই পাখির কোনো প্রকার এক্টিভিটি নেই৷ আবির ভাবলো দোয়েলকে জিজ্ঞেস করবে একবার। কিন্তু চেক করে দেখলো দোয়েললর আইডি থেকেও কোনো এক্টিভিটি নেই, এমনকি তাদের যে ছোটখাটো বিজনেস পেইজ আছে তাতেও নেই।

চরম বিরক্ত হয়ে আবির কল করে নিবিড়কে। কিন্তু নিবিড় রিসিভ করছে না।প্রায় পাঁচ ছয়বার কল করার পর নিবিড় ব্যস্ততা দেখিকে কেটে দিলো। পরে ফোন করছি বলে পুরো দু ঘন্টা পাড় হলেও আবিরকে সে আর কল দেয় না।

আবির বিচলিত হয়, এলোমেলো মস্তিষ্কে আজ অফিসও যায়না সে। এপার্টমেন্টের ড্রয়িং স্পেসে এদিক থেকে ওদিক হাটতে থাকে শুধু। বুকের ভেতর তীব্র অস্থিরতা কাজ করছে। কিচ্ছু ভেবে পায় না কি করবে না করবে। সোফায় বসে ডিভানে হেলান দিয়ে পড়ে রইলো সে। কখন যে চোখ লেগে এসেছে বুঝতেই পারলো না।

-----

পাখিরা বউ সেজেছে। পড়নে সূক্ষ্ম কারুকাজের লেহেঙ্গা। প্রতিটি পদক্ষেপে যে কেউই মন মুগ্ধকর দৃষ্টি ফেলছে তাদের উপর। একই রকম দেখতে মিষ্টি দুটো ফুল বসে আছে যেন। লজ্জায় রাঙা মুখগুলো দেখে বুকের ভেতর সুখ সুখ অনুভুত হয় পাশে বসা দুটো পুরুষের।তারাও আজ বর সেজেছে। এক আকাশ সমান বাসনা নিয়ে শুভ্র ফুল দুটিকে নিজের অর্ধাঙ্গিনীর স্থান দিতে চলেছে যেন। নিবিড় আস্তে করে হাত রাখে দোয়েলের মেহেদী রাঙা হাতে। আস্তে করে ফিসফিসিয়ে বলে...

"এমন একটা দিনের অপেক্ষাতেই তো ছিলাম মিস এটম? "

দোয়েল লাজুক হেঁসে মাথা নুইয়ে নেয়।

কাজি সাহেব বিয়ে পড়ানো শুরু করে দুই নব দম্পতির....

দুই কনে কবুল বলার পর কাজি সাহেব দুই বরের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো...

"নির্দিষ্ট পরিমান দেনমোহর ধার্য করিয়া জনাব আমোজ রাহমানের দুই সুকন্যা, দোয়েল রহমান এবল চড়ুই রহমানকে নিজের স্ত্রী রুপে কবুল করছেন? রাজি থাকলে বলুন বাবা, কবুল? "

মুখে প্রাপ্তির হাসি এনে নিজেদের পাশের দুই রমনীর দিকে তাকিয়ে নিবিড় আর আহিশ একত্রে বলে উঠলো...

"আলহামদুলিল্লাহ কবুল... "

Mr and Mrs Twins Return গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় টুইন রিলেটেড রোমান্টিক গল্প