সন্ধ্যা ঘনিয়েছে প্রায়, বিবাহ কার্য সম্পন্ন করে কনে বিদায়ের সময়টা বেশ আবেগপ্রবণই বলা যায়, সামনেই তারা তার মা বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। এদিকে এত কষ্টকর একটা মুহুর্ত দেখে চড়ুই পাখিও নাক টেনে টেনে কাঁদছে। দোয়েল পাশ থেকে বারবার ওকে থামতে বলছে। নিবিড় তার কান্না দেখে এগিয়ে এসে ভ্যাবলার মতো জিজ্ঞেস করলো..
"ছোট পাখি, তুমি কেন কাঁদছো? কনে বিদায় গো তারা ভাবির হচ্ছে.. "
চড়ুই নাক টেনেই নিজের কষ্টের কথা শেয়ার করে বললো...
"আসলে আমাদের বিয়েতে তো বিদায়ের সময় আমি কাদবো না, খুশি হয়েই ঐ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবো। তাই এখন সেই ফিলটা নেওয়ার জন্য কাঁদছি। "
আহা.. এত আবেগপ্রবণ কথা শুনে নিবিড় নিজের আবেগকে কন্ট্রোল করতে পারলো না আর পকেট থেকে টিস্যু বের করে চড়ুইয়ের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো...
"ওহ, তা হলে কাঁদো, থেমো না হ্যা..তোমার বোনকেও বলো একটু কাঁদতে.. "
চড়ুই পাখি সামনে তাকিয়েই বললো...
"ওকে বলেছি তো, ওর নাকি লজ্জা করছে কাঁদতে। "
নিবিড় মুখ চেপে হেঁসে দোয়েলের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে একটি শাল এগিয়ে দিলো...
"বাইরে ঠান্ডা, আর গাড়িতেও বাতাস লাগবে। এটা পড়ে নিও।"
দোয়েল হাতে নিয়ে দেখে সাদা মখমলের শাল, জামার সাথে পড়লে মনে হবে যেন ম্যাচিং করেই কেনা। নিবিড় চড়ুইয়ের শালটাও দোয়েলের হাতে দিয়ে বললো..
"ওহ কান্না করা শেষ হলে দিয়ে দিও। ঠান্ডা লাগালে খবর আছে। "
গাড়ির কাছে আসতেই সাগর পাখিদের কাছে এগিয়ে বলে...
"তোমরা দাঁড়িয়ে আছো যে? চলো আমাদের গাড়িতে আসো? "
সাগরের কথায় দোয়েল চুপ থাকলেও চড়ুই বলে ওঠে...
"কেন, আপনাদের গাড়িতে কি স্পেশাল কিছু আছে নাকি। আমি যে গাড়িতে এসেছি, সেই গাড়িতেই যাবো।"
পাশ দিয়েই আবির যাচ্ছিলো। সাগরের দিকে একবার তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নেয় সে, ভরা মানুষের সামনে সিনক্রিয়েট করার মতো ছেলে আবির নয়। পাখিদের দিকে তাকিয়ে হাতের ইশারায় বললো...
"গাড়িতে বসো যাও.. "
আবিরের সাথেই এগিয়ে এসে গাড়িতে বসলো পাখিরে। চড়ুই জানালার সাইডে বসে এখনো নাক টানছে বারবার। বিরক্ত হয় আবির। এগিয়ে এসে হিসহিসিয়ে বলে ওঠে...
"এই মেয়ে, চুপ করো। তখন থেকে তোমার এসব সহ্য করে যাচ্ছি। চুপপ.."
চড়ুই থামবে কি, আরো নাক ফুলিয়ে বললো..
"বকছেন কেন? "
এই বকছেন কেন এর উত্তর আবির দিতে পারে না কোনো কালেই। সে নিজেও জানে না কেন বকছে, এতগুলো মানুষের সমস্যা হচ্ছেনা, আবিরেরই মন নিসপিস করছে মেয়েটাকে ধমকানোর জন্য বারবার। তাই চড়ুইয়ের এই কেন এর উত্তর আবিরের কাছে নেই। প্রসঙ্গ পাল্টাতে আবির চড়ুইয়ের কোলের উপর থেকে শালটা নিয়ে বললো..
"এটা কোলে রাখার জন্য দিয়েছে? "
বলতে বলতে নিজেই দ্রুত হাতে শালটা দিয়ে চড়ুইয়ের মাথায় ঘোমটার মতো করে একদম ভুতের মতো পেঁচিয়ে দেয়। চড়ুই বিরক্ত হয়ে খুলতে গেলেই আবির সতর্ক করে বলে...
"জানালার পাশে বসেছো। পরে যদি দেখি ঠান্ডা লাগিয়ে আমার সামনে ঘ্যাৎ ঘ্যাৎ করে নাক টেনেছো, একদম বরফ পানিয়ে চুবিয়ে মারবো তোমার। "
----------------
দেখতে দেখতে আরো দুটো দিন কাটলো, জিসানের রিসেপশনও হলো ধুমধাম করে। আত্মীয়স্বজন মোটামুটি কমে এসেছে। সানিয়ারা আগামী কাল চলে যাবে। আর ইরিন ও তার আম্মু আরো কিছুদিন থাকবে।
রাতের আকাশ উজ্জ্বল তারায় ঝলমল করছে। ছাঁদে পাটি বিছিয়ে বসেছে ছোটরা সবাই। ছোটখাটো একটা আড্ডা দেওয়ার জন্য। আহিশ গিটার হাতে টুংটাং সুর তুলছে। নতুন কিছুর চেষ্টা। জেসি সবার উদ্দেশ্যে বললো...
"এই চল না সবাই মিলে কিছু খেলি? "
মুনিয়া জিজ্ঞেস করলো..
"কি? "
"উমম, মিউজিকাল পিলো।"
ইরিন বেশ ভাব জমাচ্ছে চড়ুইয়ের সাথে। আগের মতো কেন যেন দূরছাই ও করছে না। নিবিড় ব্যস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজে। একটু আলাদা হয়ে গিয়েই আহিশকে মেসেজ দিলো,আহিশ মেসেজ পেয়ে জেসি আর চড়ুইকে নিয়ে উঠে নিবিড়ের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। নিবিড় মিনতির সুরে বললো..
"তোরা কি আমাকে এই টুকু সাহায্য ও করতে পারবি না? একটা ওয়ে তো বের করে দে..."
চড়ুই আলগোছে আহিশের কাঁধে কনুই ঠেকিয়ে দাঁড়ায়। আহিশও চড়ুইয়ের দিকে দুষ্টুমির স্বরে বলে উঠলো..
" কি বলিস বেইবি? কিছু কি করা যায়?"
চড়ুই ভাব নিয়ে বললো..
"আমরা আপনার কাজটা সহজ করে দিতে পারি, আর এমনিতেও আপনি ভালোই আছেন, দানাবলের মতো গন্ডার নাহ, তাই আমার বোনের দায়িত্ব দিতেই পারি আপনাকে। তবে..."
নিবিড় বলে..
"তবে কি? "
এবার আহিশ জেসি আর চড়ুই একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেঁসে উঠে এক সাথেই গেয়ে উঠলো...
"পেয়সা ফেক, তামাশা দেখ
নাচেঙগে পিংকি ফুল টু... "
"হয়েছে হয়েছে বুঝতে পেরেছি। কি চাই বল? "
চড়ুই একটু ভাবুক দৃষ্টিতে বলে..
"উমমম,,বোনকে রাজি করাতে পারলো আমাদের ঘুরাইতে নিয়ে যেতে হবে। লং ট্যুর। কক্সবাজার? "
নিবিড় সাথে সাথে দু দিকে মাথা নাড়িয়ে বললো..
"উহু, ওটা কাপলদের জায়গা, ওখানে বউ নিয়ে যেতে হয়। "
জেসি বলে ওঠে..
"তাহলে রাঙামাটি? "
আহিশ বাঁধা দিয়ে বললো...
"ধুর, সমুদ্র দেখতে মন চাইছে। "
নিবিড় হাফ নিশ্বাস ফেলে বললো..
"সেন্ট মার্টিন ডান। আগে কাজ টা কর তো? "
"যাস্ট তাল মেলাও ব্রো.."
বলেই চড়ুইরা আবার গিয়ে বসলো গোল মিটিং এ। আবির এবার নিবিড়ের কাছে এগিয়ে এয়ে বলে..
"চ্যালেন্জ এর কথা ভুলে গেলি? আমি তো আমার কাজ করে ফেলেছি, তোরটা কবে হবে? "
নিবিড় ক্যাবলা হেঁসে বলে..
"আজকের দিনটা যাক ভাই। ছোট পাখি একটু মজা করছে, এখন যদি ওকে সাইলেন্ট হওয়ার কথা বলি, তাহলে তো কষ্ট পাবে বল। কাল পাক্কা কাজ হয়ে যাবে। এখন চল গিয়ে বসি। "
আবিরকে সহ নিবিড়ও গিয়ে বসলো। জেসি আবার বলে উঠলো..
" ওকেয় তো নিয়ম হচ্ছে, যার কাছে গিয়ে পিলো থামবে তাকে যা বলা হবে তাই করতে হবে। "
শুরু হয় মিউজিক্যাল পিলো। মিউজিক কন্ট্রোল এর দায়িত্ব দেওয়া হয় তারাকে। প্রথমেই পিলো থামে প্রলয়ের কাছে। প্রলয়কে জেসি ডেয়ার দেয় মুনিয়ার গালে একটা ঠাটিয়ে চড় মারতে। প্রলয় উঠতে উঠতে বলে..
"এটা তো এক সেকেন্ড এর ব্যপার।"
মুনিয়া মাত্রই বলতে যাচ্ছিলো
"না প্রলয়, খবর আছে কিন্তু... "
তার আগেই প্রলয় নিজের কাজ করে ফেলে। জেসি আর নিবিড় মুখ টিপে হাসতে থাকে, আহিশ তো আরো এক ধাপ উপরে, গড়াগড়ি খাওয়ার মতো অবস্থা হাসতে হাসতে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে দোয়েল তারাকে ইশারা করে মিউজিক প্লে করতে। তারাও তাই করে, আবার খেলা শুরু হয়। আবিরের হাত পিলো পাস করলেও তার দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে একটু দুরে চড়ুই পাখির দিকে। খাতায় বসে বসে দ্রুত হাতে কিছু একটা লিখছে সে বেশ কিছুক্ষণ ধরে। কি করছে মেয়েটা? একটু পরেই ফিরে এসে আগের জায়গায় বসে আহিশের কানে কানে কিছু একটা বলে দু জনই মিটিমিটি হাসতে থাকে খেলার মাঝে।
পিলোটা নিবিড়ের হাতে থামতেই চড়ুই লাফিয়ে বলে ওঠে...
"আমি দেবো আমি দেবো ডেয়ার.."
নিবিড় নিশ্বাস ফেলে বলে..
"দাও কি দেবে। "
চড়ুই হাত থেকে ভাজ করে একটা কাগজ এগিয়ে দেয়। বলে...
"এখানে থাকা যে কোনো একটি মেয়েকে প্রপোজ করতে হবে। "
নিবিড় তুড়ি বাজিয়ে বলে..
"এই ব্যাপার, এক্ষুনি করে দিচ্ছি... মিস..... "
আহিশ তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে..
"এক মিনিট এক মিনিট। এত সহজ নাকি ব্রো? প্রপোজ তো করবি, কিন্তু এই কাগজে যা লিখা আছে তা বলেই করতে হবে।, প্রথমে প্রিয় এর পরে যাকে প্রপোজ করবি তার নামটা নিবি, বাকি সব পড়ে যাবি শুধু.. "
মুনিয়া লজ্জা লজ্জা মুখ করে নিবিড়ের দিকে তাকায়।এই তো নিবিড় এখন সবার সামনে তার না ম নিয়ে চিঠিটা পড়বে। মুনিয়া মনে মনে কল্পনা করতে থাকে, প্রপোজটা করে ফেললেই মুনিয়া লাজুক হেঁসে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিয়ে ফেলবে। তারপর নিবিড়ের সাথে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস দিবে সে। সক্কাল সক্কাল ঘুম থেকে উঠে তার সব গুলো বন্ধু বান্ধবীরা এই স্ট্যাটাস দেখবে আর মুনিয়াকে কল করবে, জানতে চাইবে, এত হ্যান্ডসাম ছেলে কিভাবে পটিয়েছিস মুনি? আহ, কি যে লজ্জা, মুনি পারছে না এক্ষুনি সব করে ফেলতে শুধু।
চড়ুই নিবিড়কে চোখের ইশারায় বোঝায়, এখনই সময় করে দেন বোনকে প্রপোজ।
নিবিড় তো সেই খুশি। এরা যে এত তারাতারি নিজেদের কাজ কমপ্লিট করবে তা ভাবতে পারে নি নিবিড়। যাই হোক, ঢোক গিয়ে একবার দোয়েলের মুখের দিকে তাকিয়ে কাগজটা খুলে, তারপর দেখে দেখে নিজের মনের মাধুরি মিশিয়ে পড়তে শুরু করে...
"প্রিয়.... দোয়েল পাখি। "
দোয়েল চোখ খিঁচে বন্ধ করে নেয়। লোকটা এভাবে সবার সামনে তার নাম নিচ্ছে কেন।সবাই নিশ্চয়ই এখন দোয়েলের দিকে কেমন করে চেয়ে থাকবে।
নিবিড় মুখে হালকা হাসি টেনে পড়তে থাকে..
"ভালোবাসায় কোনো বাঁধা নিষেধ থাকবে না, তা কখনো হয় নাকি বলো। আমাদের ও আছে। তবুও আমার মনের কোনের এক টুকরো জায়গা আমি তোমায় দিয়ে ফেলেছি। তোমাকে চোখে হারাই আমি। ভালোবাসার মানে কিন্তু ভালো কোনো বাসা নয়, এর মানে হলো ভালোবাসা। ভালো কোনো বাসায় টিভি, ফ্রিজ, সোফা এসব থাকলেও আমার ভালোবাসায় আছো শুধু তুমি। তুমিই আমার টিভি, কারন তোমাতে আমি বিনোদন খুঁজে পাই, তুমিই আমার ফ্রিজ, কারন তোমার মাঝে আমি নিজেকে শান্ত করতে পারি, শীতল রাখতে পারি। আবার তুমিই আমার সোফা, কারন তোমার কোলে মাথা রেখে আমি আজিবন ঘুমাতে পারি।
আজ মনের গহিন থেকে আমার গোপন ইচ্ছে টুকু প্রকাশ করছি তোমার কাছে। তোমাকো আমি ভালোবাসি, তোমার জন্য আমি সব করতে পারি। যদি তুমি চাও, প্রয়োজনে আমি আমার সবচেয়ে মুল্যবান সম্পদ, আমার বাহাত্তর লক্ষ্য টাকার সম্পদও তোমার নামে লিখে দিতে.... "
নিবিড়ের পড়া থেমে গেলো। শেষের কথাটার মানে মাথায় খেলতেই মুখ তুলে সামনে বরাবর দোয়েলের দিকে তাকিয়ে দেখে মেয়েটা মুখে হাত চেপে হেসেই যাচ্ছে। চারদিক থেকে উচ্চ হাসির আওয়াজ কানে আসতেই আউলিয়ে যায় নিবিড়। চিঠিখানা হাতের মুখোয় মুছড়ে নিতে নিতে বলতে লাগলো...
" এই না না না, আ্ আ্ আমি এসব জানি না। ইয়া আল্লাহ... আহিশ, ছোটপাখি, তোমরা আমার প্রেসটিস পানচার কেন করলে... মিস এটম... মিস এটম, আম সরি...."
কে শুনে কার কথা, সবাই ব্যস্ত হাসতে। এমন কি আবিরও চোখ মুখ খিঁচে হাসছে শরীর কাঁপিয়ে।
আহিশ হাসতে হাসতে চড়ুইয়ের কাঁধে চাপর দিতে দিতে বললো...
"ছোট পাখি, তুই তো যাস্ট ফাটিয়ে দিয়েছিস বোইন... "
আবির হাসতে হাসতেই চোখ তুলে তাকায় চড়ুইয়ের দিকে। এই মেয়ের মাথায় এই সবও আসে, মাবুদ.. কি পিস পাঠাইলা তুমি...
নিবিড় দিক বিদিক না পেয়ে উঠে দৌড়ে যায় দোয়েলের কাছে। মেয়েটার দু হাত চেপে ধরে বলতে লাগলো...
"মিস এটম, আই নো এটা একটা ব্ল্যান্ডার। বাট সুযোগ যখন এসেছে আমি আজ বলবোই। আই রিয়েলি লাভ ইউ ইয়ার.. আমি তোমাকে নিয়ে যা ফিল করি তা এসব চিঠিতে, মুখে বলে বুঝাতে পারবো না। কিন্তু আমি জানি তোমার জন্য আমার অনুভূতি শেষ হওয়ার নয়।"
দোয়েল কোনো মতে হাসি থামিয়ে তাকায় নিবিড়ের দিকে। দোয়েলের উজ্জ্বল রঙা দৃষ্টি জোড়ায় নিবন্ধ হয় এক বিরল অনুভূতি, নিবিড়ের প্রতি যে তার মন থেকে কিছু একটা অনুভব হয় সেটা মেয়েটা অস্বীকার করতে পারবে না। কিন্তু সব দিক চিন্তা করে দেখলে সরাসরি স্বীকার করাটাও চরম ভুল। আস্তে করে দোয়েল বলে...
"আমি প্রেমে বিশ্বাসী নই। "
নিবিড়ের হাতের বন্ধন আরো শক্ত হয়। কন্ঠের উচ্ছাস আরেকটু বাড়িয়ে দিয়ে বলে...
"আমি তোমায় প্রেম প্রস্তাব দিচ্ছি না তো, আই নিড টু ম্যারি ইউ..?"
দোয়েল ভ্রু কুঁচকে বললো..
"নিড টু? "
"হ্যা, নিড টু। আমি তোমাকে বিয়ে করতে হবেই। আর কোনো অলট্রানেটিভ কিছু নেই আমার কাছে। "
দোয়েল মাথা নিচু করে নেয়, নিবিড় চাতক পাখির ন্যয় চেয়ে থাকে দোয়েলের আখি দুটির দিকে। কিছু প্রত্যাশা, আকাঙ্খার উদ্দেশ্যে...
আবিরের কন্ঠ ভেসে ওঠে পেছন থেকে...
"হি রিয়েলি লাভস ইউ বড় পাখি। ঠকবে না তুমি.. "
নিবিড়ের সাথে চোখাচোখি হতেই আবির তাকে ইশারায় বুঝিয়ে বলে..
"ওকে সময় দে, প্রেশার দিস না। "
নিবিড় ঢোক গিলে।আবিরের কথাই সই, দোয়েল নার্ভাস হচ্ছে তা দেখেই বুঝা যাচ্ছে। নিবিড় এক হাত ছাড়িয়ে দোয়েলের চুলে বুলিয়ে দিয়ে আশ্বাসের বুলি ছাড়লো....
"ওকেয়, টেক ইউর টাইম এটম। আমি অপেক্ষা করবো তোমার। "
দোয়েল মুখ তুলে তাকায় না, হ্যা অথবা না এর মধ্যে দোটানায় পড়েছে সে। মন মস্তিষ্কের যুদ্ধ লেগেছে দারুন ভাবে। দেখা যাক কে জিতে...
"লাভ লাভ লাভ, উফ, চারদিকে এত প্রেম প্রেম হাওয়া। এই যে দানাবল, এই নিন। এইবার আপনার বিষয়টাও সল্ট আউট করুন... "
বলতে বলতেই চড়ুই পাখি আরেকটি ভাজ করা কাগজ এগিয়ে দিলো আবিরের দিকে। আবির কোনা চোখে তাকিয়ে ভেবে নিলো, তার সাথে এবার কি ধান্ধামি করছে মেয়েটা? নিবিড়ের মতোই ইজ্জত ফালুদা করা টাইপ কিছু থাকার ভয়ে আবির চোখ বুলিয়ে মনে মনেই পড়তে লাগলো চিঠিটি। সম্পূর্ণ চিঠিটা পড়তেই আবিরের মথায় ধপ করে যেন আগুন জ্বলে উঠলো। অগ্নি দৃষ্টিতে চড়ুইদের দিকে তাকিয়ে দেখলো মেয়েটা চমৎকার হাসছে। জেসি আর আহিশের সাথে দুষ্টুমিতে মেতে উঠেছে।
এদিকে আবিরের এমন দৃষ্টি দেখে বাঁকা হাসে ইরিন। বলে ওঠে...
"তুমি এভাবে তাকিয়ে আছো কেন আবির। চিঠিতে কি আছে আমাদের ও শুনাও? "
আবিরের কোনো নড়চড় হয় না, চোয়াল শক্ত হয় তার, দৃষ্টি যেন সরতেই চায়না চড়ুইয়ের দিক থেকে। ইরিন এবার এক টানে আবিরের থেকে চিঠিটা ছিনিয়ে নিয়ে বলে..
"ছাড়ো, আমিই পড়ে শুনাই সবাইকে। "
বলেই ইরিন জোড়ে জোড়ে পড়তে থাকে...
"হ্যান্ডসাম আবির...
যেদিন থেকে তোমাকে প্রথম দেখলাম, আমার সকল কামনা বাসনা তোমাকে নিয়েই জন্মায়। তোমার ঐ নেশার মতো ঠোঁট দুটি আমাকে বার বার তোমার দিকে আকৃষ্ট করে, আমার সত্বা নড়ে ওঠে, বার বার ভেতর থেকে কাছে ডেকে ওঠে, তারা যেন বলে, কাম আবির, ইট মি হানি..। মল্ট মি লাইক এ স্পন্স সুইটস..।
আমার যৌবন বারবার তোমাকেই কাছে পেতে চায়। একটা রাতের জন্য হলেও তোমার ঐ সুঠাম দেহের স্বাদ নিতে চাই আমি। প্লিজ আবির, কাম টু মি। এই চড়ুই তোমাকে সর্বশ্রেষ্ঠ সুখ দেবে, আমার দেহের প্রতিটি কোমল ভাঁজে তোমার অস্তিত্ব ঠাই পাবে। শুধু একটা রাত, ব্যাস। তোমার একটা রাত আমার নামে করে দাও।
ইতি চড়ুই..... "