Mr and Mrs Twins Return

পর্ব - ১৯

🟢

উজ্জলরঙা আলোক রশ্মি ছড়িয়ে পড়েছে চার পাশে। এরকম ঝলমলে আলো বরাবরই পছন্দ চড়ুই পাখির। নিচ তলায় হলুদের প্যান্ডেলে বক্সে গান বাজছে। আর এদিকে দোতলার রুমেই এলোমেলো ভাবে নাচছে চড়ুই আর আহিশ। জেসি এক কোনে বসে আছে মুখে ফেইসপ্যাক লাগিয়ে। চড়ুইয়ের উদ্দেশ্যে হালকা গলা উচিয়ে সে বলে উঠলো...

"ছোটপাখি, ব্লাউজ ফিট হয় কিনা চেক করে নে একবার আগে আগেই। পরে তারাহুরো করলে বিগড়ে যাবে। "

কে শোনে কার কথা। এরই মধ্যে সাবিহা প্লেট ভর্তি বিরিয়ানি নিয়ে রুমে ঢুকলো। চড়ুইয়ের এমন পাগলামো দেখে হেঁসে উঠলেন তিনি। জেসির দিকে তাকিয়ে বললো...

"জেসি, দুই মিনিটের মাথায় মুখ ধুয়ে আয়, চার জনের জন্য একসাথে নিয়ে এসেছি। খেয়ে দেয়ে আস্তে ধীরে রেডি হওয়া শুরু কর। "

আহিশ নাচ থামিয়ে খাটে বসে বলে..

"সেই, তোরা আগে ভাগে রেডি হয়ে নিস, নাহলে হয় সানি মুনি নয়তো ইরিন এসে ব্যাগরা দিবে দেখিস। "

জেসি চোখ থেকে শসা খুলে বেসিনের দিকে যেতে যেতে বললো...

"হুহ, সানি মুনিরা অলরেডি পার্লারে ছুটেছে। ইরিন কি করবে জানি না ভাই। কিন্তু বড়আম্মু, তুমি প্লিজ ইরিন আপুকে অন্য একটা রুমে রাখার ব্যবস্থা করো। কাল রাতে আমাদের ঘুমাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। "

সাবিহা চড়ুইয়ের মুখে এক লোকমা ভাত তুলে দিয়ে বললো..

"সেসব কথা পড়ে হবে, আগে বল আরেকটা কোথায়? "

"বড়পাখিকে তো দেখলাম আমার মামি ডেকেছে কেন জানি। "

জেসির কথায় সাবিহা একটু চিন্তিত হয়, বেরিয়ে যেতে নিলেই দেখে আবির নিবিড় মাত্রই পাশ কাটিয়ে যাচ্ছিলো এই দিক দিয়েই। তাদের দেখেই সাবিহা বলে...

"নিবিড় বাবা, যদি কোনো কাজ না থাকে তাহলে বড়পাখিকে একটু ডেকে দিবি? জুলেখার ভাবির রুমে আছে মনে হয়, যাই করুন এখন নিয়ে আয় তো। সেই দুপুরে দুটো খেয়েছে, এরপর সন্ধ্যায় নাস্তা করেছে কিনা তাও খেয়াল করিনি। মেয়েগুলো খাওয়া দাওয়ার প্রতি এত্তো বেখেয়ালি... "

নিবিড় সম্মতি দিয়ে বলে..

"নিয়ে আসছি এক্ষুনি.. "

আবির এক পলক ভেতরে তাকায়। চড়ুই পাখি পুরো রুম জুড়ে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে। আর তার মা কেমন ঘুরে ঘুরে একটু পর পর খাবার তুলে দিচ্ছে মেয়েটার মুখে।রাগ হয় আবিরের, আজকাল কেমন যেন খুটিনাটি কারনেই মেয়েটার প্রতি ভিষণ রাগ হয় আবিরের। জায়গা ত্যাগ করে সে, ভালো লাগছে না এসব কিছুই।

জুলেখার ভাইয়ের বউরা যেই রুমে আছে সেই রুমে গিয়ে কড়া নাড়ে নিবিড়। মাত্রই জিজ্ঞেস করতে নিচ্ছিলো..

"দোয়েল আছে এখানে? "

কিন্তু তার আর প্রয়োজন হয়নি। রুমের ওয়াশ রুমের দিকে চোখ যেতেই চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো তার। দোয়েলকে দেখা যাচ্ছে এখান থেকেই স্পষ্ট। ত্রস্ত হাতে কতগুলো কাপড়ে সাবান মাখাচ্ছে। নিবিড় ছুটে গেলো তার কাছে..

"এটম? তুমি এসব কি করছো এখানে? "

দোয়েল মুখ তুলে তাকায় নিবিড়ের দিকে। পরক্ষণেই আবার নিজের কাজে লিপ্ত হয়ে উত্তর দেয়...

" কাজ করছি। কোন দরকার? "

"আম্মু ডাকছে তোমার। আর এসব জামা কাপড় ধুতে কে বলেছে তোমাকে? ওঠো এখান থেকে.. "

দোয়েল আড়চোখে একবার রুমের দিকে তাকাতেই নিবিড় বুঝে যায় এটা কার কাজ। দোয়েল উঠছে না দেখে তার বাহু চেপে টেনে দাড় করালো নিবিড়। হাত ধুইয়ে দিয়ে এক প্রকার টেনে নিয়ে আসলো ওয়াশ রুম থেকে। দোয়েল বলতে নিলো....

"আরেহ, কাপড় গুলো ধুয়ে দিয়ে আসছি তো আমি.. "

নিবিড় হঠাৎই ফিরে তাকায় শীতল দৃষ্টিতে। পুরুষালি রুক্ষ স্বরে উচ্চারণ করে..

" চুপ... "

দোয়েলের হাত ধরেই এসে দাঁড়ায় জুলেখার ভাইয়ের বউদের সামনে। সটান কন্ঠে বলে ওঠে...

"বাড়িতে ওয়াশিং মেসিন আছে, সেখানে দিয়ে দিলেই জামা কাপর কাঁচা হয়ে যাবে। আর অন্যান্য কোনো দরকার হলে সার্ভেন্টরা আছে, ওদের বলবেন করে দিবে। পাখিরা এখানে কাজ করতে আসেনি। তাই ওদেরকে কোনো প্রকার সিঙ্গেল অর্ডারও যেন দিতে না দেখি আমি। "

আর একটি মুহুর্তও না দাঁড়িয়ে দোয়েলকে নিয়ে এক প্রকার টানতে টানতে বেরিয়ে আসে নিবিড়। ইতোমধ্যেই হাসি খুশি চেহারাটায় কেমন রুক্ষ আবরনে ঢেকে গেছে। চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে তার। জেসির রুমে এসেই হাত ছেড়ে দেয় দোয়েলের সে। সাবিহাকে সরাসরি বললো..

"আম্মু, তোমার মেয়েদের বলে যাও যার তার ডাকে যেন এটা সেটা করতে ছুটে না যায়। আরেকবার আমি এমন কিছু দেখলে তুমি আমার খারাপ রুপটা দেখবে দোয়েল। "

নিবিড় বেরিয়ে যায়,সাবিহা আস্তে করে দোয়েলকে জিজ্ঞেস করে..

"কি হয়েছে রে? "

দোয়েল বিছানায় বসতে বসতে বললো..

" আরেহ, আন্টিদের জামাকাপড় কয়েকটা ধুয়ে দিতে বলেছিলো৷ উনি সেখান থেকে টেনে নিয়ে এসেছে আমায়।"

সাবিহা বিচক্ষণ ধাঁচের মহিলা। জুলেখার ভাইয়ের বউরা যে ইচ্ছে করেই এমন কিছু করেছে, তা বেশ বুঝতে পারছে তিনি। বলে উঠলো..

"বেশ করেছে নিবিড়। সামনে থেকে একদম কিছু করতে বললে যাবি না। এই আমি বলে দিলাম।"

----------

ধূসর রঙা পাঞ্জাবিখানা গায়ে জড়িয়ে ড্রেসিং টেবিল থেকে সানগ্লাসটা হাতে তুলে নিয়ে নিজ রুম থেকে বেরিয়ে এলো আবির। বাড়ি মোটামুটি খালি, নিচতলায় দু একজন সার্ভেন ছাড়া বাকি সবাই-ই বাইরের হলুদের প্যান্ডেলে। জিসানের অফিসের কলিগদের রিসিভ করতে করতেই এত দেরি আবিরের। মুখে সেই চিরচেনা শক্তপোক্ত ভাব নিয়েই করিডোর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলো সে। আজকার আবিরের একটা বদঅভ্যেস হয়েছে। যতবার এই পথ দিয়ে আসা যাওয়া করবে ততবারই জেসির রুমের দিকে তাকাবে সে। আজও তার বিপরীত হলো না। হাটা পথেই সে দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো দরজার পাশে একটি ছেলে কিছুটা আড়াল করেই দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমে স্বাভাবিক ভাবেই আবির এড়িয়ে গিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে যায়। কিন্তু মনে খটকা লাগে কেন যেন। দুটো সিঁড়ি ডিঙিয়ে আবার ধীর পায়ে এগিয়ে যায় জেসির রুমের দিকে। যত এগোচ্ছে ততই নারী কন্ঠের গুনগুনিয়ে গানের শব্দ জোড়ালো হচ্ছে।

আবিরের চোয়াল জোড়া আরো কঠোর হয়। লক্ষ্য করে ছেলেটি প্রলয়।মুখে ব্যগ্র হাসি নিয়ে ভেতরেই তাকিয়ে আছে। আবির ধীরে তার পেছনে গিয়ে দাড়িয়ে একবার ঘাড় নাড়িয়ে রুমের ভেতর তাকায়, দেখতে পায় একটি পাখি আপন মনে আয়নার দিকে তাকিয়ে চোখের পল্লবে মাসকারা লাগাচ্ছে আর কিছুটা দুলতে দুলতে গানের সুর তুলছে..

"আমি মিস ক্যালকাটা.... চাই না দিতে টিপস।

এখনো তো কেউ জানে না..........."

আবির মুখ ফিরিয়ে তাকায় প্রলয়ের দিকে। ধীর কিন্তু শীতল গম্ভীর স্বরে বলে উঠলো...

"সবাই তো বাইরে। এখানে কি তোমার?"

প্রলয় চমকে পেছনে তাকায়। আবিরকে দেখেই শুকনো ঢোক গিলে হাসার চেষ্টা করে বলে...

"ন্ নাথিং ভাইয়া। পাখি একা তো, তাই ভাবলাম একসাথেই যাই... "

আবির একবার ঘাড় ফিরিয়ে তাকায় চড়ুইয়ের দিকে। চুলগুলো রিবন দিয়ে বাঁকা করে রেখেছে, সেই ভাবে না বুঝলেও তার অস্থির চলন, উড়নচণ্ডীর ভাব দেখেই আবির নিশ্চিত হয় এটা চড়ুই ই।

চড়ুইও বাইরে থেকে কারোর কথার আওয়াজ পেয়ে ফিরে তাকিয়ে দেখে আবির আর প্রলয় দাঁড়িয়ে। প্রলয়কে খুব একটা চোখে রাখলো না সে। আবিরের দিকে তাকিয়ে চমৎকার হেঁসে বাচ্চাসুলভ কন্ঠে বলে উঠলো ...

"ওহহো দানাবল... লুকিং চার্মিং...."

বলতে বলতেই বা হাতের তর্জনী আর বৃদ্ধাঙুল গুটিয়ে 'ওয়াও' বুঝায়। পরক্ষণেই আবার আয়নায় তাকিয়ে নিজের কাজে ব্যস্ত হয়। আবির প্রতিত্তোর করে না তার কথায়। ঠোঁট গোল করে নিশ্বাস ফেলে প্রলয়কে বললো...

"এখান থেকে এখানে, ও ঠিক চলে যেতে পারবে একা। ইউ ক্যান গো... "

আবিরের শীতল ধমকের রেশ টের পায় প্রলয়, মাথা ঝাঁকিয়ে সায় জানিয়ে স্থান ত্যাগ করে সাথে সাথে। আবির এক পলক চড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে ঢোক গিলে। পার্পেল রঙা শাড়ির সাথে সাদা ব্লাউজ ম্যাচ করে পড়েছে মেয়েটা। বেশ দক্ষ হাতেই কেউ পড়িয়ে দিয়েছে হয়তো, দেখেই নারী দেহের লতানো ভাজ চোখ ধাধানোর মতো। আবির চোখ ফিরিয়ে নিয়ে চলে যেতে নিলেই চড়ুইয়ের উতলা কন্ঠের ডাক ভেসে আসে...

"এই দানাবল... হেল্প মি... "

থেমে যায় আবির। উপেক্ষা করবে ভেবে নেয় মনে মবে, সে যাবে না মেয়েটার কাছে। কিন্তু চড়াই পাখি আবার ডাকে...

"কি হলো, এদিকে আসুন একটু? "

আবির চেয়েও পারে না ফিরে যেতে, হাফ নিশ্বাস ফেলে রুমে প্রবেশ করে। তাকে আসতে দেখেই চড়ুই কানের দুলের সাথে সেট করা একটি চুলে লাগানো সিম্পল পুতির লর্ত দেখিয়ে বললো...

"এটা একটু চুলে লাগিয়ে দিন তো, আরেক পাশেরটার সমান করে। আমি পেছনে দেখতে পাচ্ছি না।"

আবির এগোয় না। বরং হালকা বিরক্ত নিয়ে ধমকের সুরে বলে উঠলো..

"দোয়েল, জেসি ওরা কোথায়? ওদের ডাকতে পারো না? "

"বোন, জেসি ওরা তো তৈরি হয়ে বাইরে গেছে। "

"তোমার এত লেট কেন? "

চড়ুই স্বাভাবিক ভাবেই বললো...

"ব্লাউজ লুজ ছিলো, ঐটা কমিয়ে নিতে নিতে দেরি হয়ে গেছে। এখন এত প্রশ্ন না করে এটা একটু লাগিয়ে দিন না? "

আবির কথা বাড়ায় না। নীরবে চড়ুইয়ের পেছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে লর্থটা চুলে লাগিয়ে দেয়। আয়নায় চোখ তুলে তাকাতেই দেখতে পায় একটু উজ্জ্বল মুখশ্রী। মেয়েটাকে যতটা খারাপ দেখতে ভাবে সে ততটাও খারাপ না।হুট করে কেউ দেখলে রূপবতী, মায়াবতী নির্দিধায় বলবে। আবিরের মন চাইলো আজ একটু কিছু বলতে, হ্যা সে মনের ইচ্ছে লুকিয়ে রাখলো না। আস্তে করেই প্রশ্ন করলো..

"একা একা সেজেছো? "

চড়ুই ব্যস্ত ভঙ্গিতে আবিরের দেওয়া চুরির বাক্স থেকে মিলিয়ে মিলিয়ে অনেক রঙের চুড়ি হাতে পড়ছিলো। উত্তর দিলো..

"হ্যা.. "

"শাড়ি কে পড়িয়েছে? "

"আমিই পড়েছি, বোনও হেল্প করেছে। "

"কাজল নেই? "

"আছে তো। "

"পরো নি যে? "

"আমি একা একা কাজল লাগাতে পারি না, জল চলে আসে চোখে। "

আবির মুহুর্তক্ষন চুপ রয়। পরক্ষণেই সকল রাগ এক দিকে রেখে মেয়েটাকে অপরূপায় রাঙানোর লক্ষ্যে নিঃশঙ্কোচে বলে উঠলো..

"কাজলটা দাও..পরিয়ে দিই "

চড়ুই পাখি চমক হাসলো আবিরের উপকারী ভাব দেখে। টেবিলের হাবিজাবি থেকে কাজলটা খুঁজে আবিরের হাতে দিয়ে আবিরের দিকে মুখ করে দাড়ায়। আবির এক পলক পুরো মুখটায় একবার চোখ বুলিয়ে নেয়। বা হাতের তর্জনী বাকিয়ে চড়ুইয়ের থুতনিতে ঠেকিয়ে আলতো করে মুখটা উঁচু করে তোলে। তারপর ধীর হস্তে ভীষণ নিরিক্ষনীয় ভঙ্গিতে চড়ুই পাখির চঞ্চল চোখের নিচে কাজল লাগিয়ে দিতে থাকে।

এক মিনিটের কাজ আবির পাঁচ মিনিটেও যেন শেষ করতে পারছে না। কাজল লাগানোর সময় অবচেতন মস্তিষ্কে চড়ুই পাখি নিজের বদ্ধ ঠোঁট দুটো হালকা খুলে রাখে। বুঝতেও পারে না মেয়েটা যে একজোড়া নিটেল চোখ তার ঐ চকলেট রঙা লিপস্টিকে আকা ঠোঁট দুটিতে বারবার বিমোহিত হয়ে হাতের কাজ ঘুলিয়ে ফেলছে।

চোখে হালকা আঘাত লাগতেই চড়ুই পাখি চোখ খিঁচে বন্ধ করে নেয়, আবিরও একটু সতর্ক হয়ে দ্রুত নিজের কাজ শেষ করে। কিন্তু তার ভেতর ঘরে অস্থির অনুভুতি গুলো চড়ুইয়ের থেকে দুরে যেতে দিচ্ছে না।আবির পারছে না সরে আসতে। বরং ধীরে ধীরে আরো এগিয়ে যাচ্ছে সে চড়ুইয়ের ঠোঁট জোড়ার দিকে। ভেতর থেকে যেন কেউ একজন বলে উঠছে..

"ডু ইট আবির, এটা লাগবে তোর এই মুহুর্তেই। লাগবেই... "

আবির নিজের মস্তিষ্কের বিরুদ্ধে গিয়ে মনের বাসনাকে সায় জানায়। আরো এগিয়ে যায় চড়ুইয়ের ঠোঁটের কাছে।যতটা কাছে আসলে নিশ্বাসের আওয়াজও তুফানের মতো ধেয়ে আসে অপরের কাছে।.....

"আপনার কি আ্যজমা প্রবলেম আছে, দানাবল? এমন হাঁপাচ্ছেন কেন? "

ব্যস, ছুটে গেলো আবির। মুডের ডিরেক্ট বারোটা বাজিয়ে দিলো গাধা মেয়েটা। আবির তড়াৎ করে ছিটকে দূরে সরে আসে। চড়ুইও চোখ মেলে তাকায়, উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করলো..

"কি হলো? বেশি কষ্ট হচ্ছে আপনার? ইনহেলার ইউজ করেন? "

আবির রাগে পারে না মেয়েটার মাথা দেওয়ালে ঠুকতে। নাক কুঁচকে হালকা ধমক দিয়ে বলে উঠলো...

"স্যাট আপ ইডিয়েট। কাজ শেষ হলে বাইরে যাও.. "

চড়ুই চোখ উচিয়ে আবিরকে একবার দেখে ফের আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজেকে দেখতে দেখতে বললো..

"ভালো কথা বললেও ধমকায়, এ জন্যই বলে কুকুরের পেটে ঘি হজম হয় না.. "

আবির শুনে ফেলে, কপট রাগ দেখিয়ে বলে..

"কি বললে তুমি? "

চড়ুই ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে প্রতিত্তোরে বললো...

"বলেছি আপনি কুকুর আমি ঘি.. এখন টাটা... "

বলতে বলতেই শাড়ির কুঁচি দু হাতে উঁচিয়ে ধরে দিলো দৌড় রুম থেকে সে। আবির ছুটতে গিয়েও থেমে যায়, একে তো পরে মজা দেখাবে সে। বাইরে হলুদের প্যান্ডেলে এসেই আবির নিবিড়ের কাছে যায়। তাকে দেখে নিবিড় হালকা হাসে দাত কেলিয়ে। আবির দৃষ্টি ঘুরিয়ে দুরে পাখিদের দিকে তাকিয়ে নিবিড়কে উদ্দেশ্য করে বললো...

"নিজের আমানত চোখে চোখে রাখবেন।"

আবিরের কথায় নিবিড়ের হাসি গায়েব হয়ে যায়। দূরে দোয়েলের দিকে একবার তাকিয়ে ফের প্রশ্নবোধক চাহনিতে আবিরের দিকে তাকাতেই আবির চোখের ইশারায় প্রলয়দের দেখিয়ে বললো..

"মতলব ভালো ঠেকছে না ওদের। জেসি ওদের নিজের কাজিন,সমস্যা নেই। কিন্তু পাখিরা ওদের কাছে ইনসিকিউর।দেখে রাখবি এই কয়েকটা দিন। "

নিবিড় কোনা চোখে প্রলয়, সাগর,টিটুর দিকে। মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দেয়।

জিসানের গায়ে হলুদ পর্ব শুরু হয়, বড়রা সবাই একে একে তাকে হলুদ ছুঁইয়ে যায়। দোয়েল চড়ুইও তাকে হলুদ ছুঁইয়ে নামতে গেলেই পাশ থেকে আহিশ আর জেসি উঠতে উঠতে বললো..

"এই দাঁড়া, আমরাও আসছি, ছবি তুলবো.."

দুজন উঠে দুই পাশে যায়, মাঝখানে জিসান তার দুই পাশে দুই পাখি। আর দোয়েলের পাশে জেসি দাড়ায়, চড়ুইয়ের পাশে আহিশ দাঁড়ায়। ক্যামেরা ম্যান ছবি তুলছে, তবুও নিবিড় এগিয়ে গিয়ে নিজের ফোনেও ওদের কয়েকটা ছবি তুলতে লাগলো। আবির দুরে বসে পরিচিত এক বিজনেস পার্টনারের সাথে টুকটাক কথা বলছে। কিন্তু তার দৃষ্টি সোজা স্টেজের দিকে। হুট করেই চোখে পড়লো আহিশের এক হাত গিয়ে ঠেকেছে চড়ুই পাখির কাঁধে, ব্লাউজের গলাটা বড় হওয়ায় আহিশের হাত শরীর স্পর্শ করে যায় চড়ুইয়ের।তাদের এতে কোনো ভাবান্তর নেই, নিজেদের মতোই ব্যস্ত নানা পোজে ছবি তুলতে।

হলুদ পর্ব শেষ হতেই দারুন আওয়াজে বক্সে গান বাজে। ইয়াং জেনারেশনের ছেলেমেয়েরা বড় ডান্স ফ্লোরে এলোমেলো নাচছে। ছেলেপুলেদের দৃষ্টি বারবার ঘুরে ফিরে যাচ্ছে সানিয়া মুনিয়া, ইরিনদের দিকে। সৌন্দর্যের দিক দিয়ে এরা কেউই কারোর থেকে কম নয়। যেমন সুন্দর ফিগার, তেমনি উচ্চতা আর স্টাইলের দিক দিয়েও এগিয়ে তারা ভীষণ।

এদিকে চড়ুই পাখি নিবিড়কে এক প্রকার টেনে নিয়ে গেছে তাদের ছবি তুলে দেওয়ার জন্য। নিবিড়ও এগিয়ে যায়, এতে করে দুটোকে চোখে চোখেও রাখা হয় বেশ। একটু পরেই আহিশ এসে দু হাতে দুই পাখিকে ধরে টেনে নিয়ে যায়, নিবিড়ও এগোয় ডান্স ফ্লোরের দিকে। বক্সে গান বাজছে 'সাইয়া সুপারস্টার..'

পাখিরা স্টেজে উঠার দু মিনিটের মাথায়ই সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা। এতক্ষণ সানিয়া মুনিয়াতে মেতে থাকা ছেলে গুলোও ধীরে ধীরে নাচের বাহানায় পাখিদের কাছে আসতে চায়।

বিষয়টা দোয়েল বুঝতে পেরেই কাচুমাচু করে। অবস্থা ভালো না বুঝে এদিক সেদিক তাকাতেই নিবিড় নাচার ভঙ্গিতে দুই ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করে..

"কি হয়েছে? "

দোয়েল আমতা আমতা করে বলে..

"নেমে যাবো "

নিবিড় আরেকটু এগিয়ে আসে দোয়েলের কাছে। ভরসার স্বরে বলে...

"আমি আছি, ডোন্ট ওয়ারি। "

দোয়েল তাকায় নিবিড়ের উজ্জ্বল হাসি মাখা মুখের দিকে। একটা ছেলে মাত্রই নাচের তালে এগিয়ে এসে হাত রাখতে যায় দোয়েলের কোমড়ের দিকে। তখনি নিবিড় দোয়েলের কোমড় চেপে ধরে একটু ঘুরিয়ে সরিয়ে নেয় ছেলেটির কাছ থেকে। নাচ থামে না নিবিড়ের, মুখের হাসি খানাও সরে না। তবে দোয়েল বুঝতে পারে লোকটা তাকে প্রোটেক্ট করছে কৌশলেই। নিবিড় আস্তে করে দোয়েলের এক হাত উঁচিয়ে এক পাক ঘুরিয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে বললো...

"এনজয় ইউর সেল্ফ মিস। ডোন্ট বি এফ্রেইড। নিজের মতো করে আনন্দ করো, তোমাকে দেখে রাখার দায়িত্ব আমি নিলাম। "

বলতে বলতেই নিবিড় দোয়েলের চারপাশে নাচার ভঙ্গিতে ঘুরতে থাকে, দোয়েল আলতো হেঁসে নরমাল হয়। গানের সাথে তাল মিলিয়ে নাচতে থাকে সেও। নিবিড় আর আহিশের চোখাচোখি হতেই নিবিড় আহিশকে কিছু একটা ইশারা করে। আহিশও সম্মতি জানিয়ে নাচতে নাচতে এগিয়ে যায় চড়ুইয়ের কাছে। হেলেদুলে নিজের দু হাত চড়ুই পাখির দুই কাঁধে ভর দিয়ে মুখ এগিয়ে নিয়ে বলে...

"ছোটপাখি.."

"বল.. "

"তুই তো ফাটিয়ে দিচ্ছিস ইয়ার... "

চড়ুইও ভাব নিয়ে হেঁসে বলে...

"দেখতে হবে না, আমি টা কে.. "

"সব গুলো ছেলে তোর দিকেই তাকিয়ে আছে। এদেরকে আমি জেলাস ফিল করাতে চাই.. "

"কিভাবে? "

" তুই আমার সাথে আমার গার্লফ্রেন্ডের মতো থাক, ওরা দেখবে আর জ্বলবে। "

চড়ুই বোকা চকিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো..

"সত্যি? মজা হবে তো? "

"আরেহ ভীষণ মজা হবে ইয়ার। দেখ নিবিড় ভাইও সেইম ট্রাই করছে বড়পাখির সাথে। "

চড়ুই লক্ষ্য করে দেখলো আসলেই আহিশের কথা সত্যি।খুশিতে গদগদ হয়ে বললো..

"ওকেয় ওকেয়, তুই আমার বয়ফ্রেন্ড এখন।তেমন ভাব নিয়েই থাক। তোর সানগ্লাসটা দে, একটু ভাব নিই আমি... "

আহিশ নাচতে নাচতেই বললো..

"আমারটা কেন? "

"কারন আমার সানগ্লাস নেই। "

"আবেহ, আমি সানগ্লাস পড়ে থাকলে একটু হিরো হিরো লাগবে। তুই এক কাজ কর, ঐ যে আবির ভাই বসে আছে দুরে। ওর সানগ্লাসটা পারলে হাতিয়ে নিয়ে আয়। পারলে দুই টাকার কুটকুডি খাওয়ামু তোরে... "

চড়ুই চোখ ছোট ছোট করে তর্জনী আঙুল উচিয়ে বললো..

"সত্যিই খাওয়াবি তো? "

" সত্যি, আগে পারলে নিয়ে তো আয়, শর্ত একটাই, বকা খেলে তুই হেরে যাবি। "

"ডিল ফাইনাল,,আই এম গোয়িং...ওও দানাবল...???"

Mr and Mrs Twins Return গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় টুইন রিলেটেড রোমান্টিক গল্প