Mr and Mrs Twins Return

পর্ব - ২০

🟢

ইরিন আর আবির নিবিড় সমবয়সী। ছোট বেলায় তাদের সাথেই আমেরিকার পথে পাড়ি দিয়েছিলো পড়ালেখার উদ্দেশ্যে। তারপর স্কলারশিপ কমপ্লিট করে ইরিন দেশে ফিরে আসে আর আবির নিবিড় নিজেদের ব্যবসার জন্য থেকে যায় সেখানেই। তীক্ষ্ণ বুদ্ধির ভারে সফটওয়্যার কম্পানির লক্ষ্য শুরু থেকেই গেথে বসেছিলো আবির নিবিড়ের মাথায়।আজ তারা সফল, 'মায়োগ্রেট কম্পানি এখন বিশ্বের মোট ছাব্বিশটা দেশে নিজেদের ব্রাঞ্চ ছড়িয়েছে।

ইরিন সম্পর্কে তাদের ফুফাতো বোন, তবে আবিরের প্রতি অন্যরকম কিছুই অনুভুত হয় বরাবরই। এই যে এখন আবিরের পাশে বসে গোলগোল চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। স্টেজ থেকে একটু আগেই নেমে এসে বসেছে সে আবিরের পাশে। আবিরের প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক হলেও মোটামুটি সে বিরক্ত এই মেয়েটার উপর। কিছুটা গায়ে পড়া স্বভাবের। এখনো একটু পর পর কথার ছলে বারবার আবিরের পেশিতে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। স্টেজের কাছ থেকে দু হাতে পড়নের শাড়ি উঁচিয়ে লাফাতে লাফাতে ছুটে এলো চড়ুই। এসেই এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলো আবিরের এক পাশে চেয়ারে ইরিন বসা, আর আরেক পাশে চেয়ারই নেই। বোকা চড়ুই নিজের বত্রিশ পাটি দাত বের করে হেঁসে হুট করেই এগিয়ে এসে আবিরের এক পায়ের থাইয়ের উপর বসলো।তারাহুরোয় পড়ে যেতে নিলেই আবির দ্রুত বা হাতে কোমড় জড়িয়ে ধরলো পাখির। চড়ুই আবারো চমৎকার হাসলো।

আবির ঘাড় ঘুরিয়ে সাবিহার দিকে তাকাতেই দেখলো সাবিহা ঠিক তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে। চোখ ফিরিয়ে নেয় সে। আস্তে করে চড়ুইয়ের কোমড় থেকে হাতটা সরিয়ে নেয়। এত দিকে খেয়াল নেই চড়ুইয়ের। সে নিজের মতো চুড়ির রিনরিনে আওয়াজ তুলে দু হাতে আলতো করে আবিরের গলা জড়িয়ে ধরে নাটকীয় ভঙ্গিতে মাথা দুলাতে দুলাতে বললো...

"দানাবল? আপনি তো ভীষণ ভালো মানুষ তাই না? কাউকে একটুও বকাঝকা করেন না, সবাইকে খুশি রাখেন, কারোর মনে কষ্ট দেন না, আপনার মতো ভালো মানুষ বিশ্বাস করুন, আমি এই জীবনে আর কাউকে দেখি নি। "

এই কয়েক দিনে এই মেয়ের এসব ছলচাতুরী বহু দেখে ফেলেছে আবির। তাই এসবে ভাউ না দিয়ে চড়ুইয়ের দিকে সরাসরি তাকিয়ে বললো...

"কি সমস্যা? "

চড়ুইও নিজের মতো দুলতে দুলতে বললো...

"আসলে না, আমার নিউ বয়ফ্রেন্ড বলেছে আপনার থেকে এই চশমাটা নিতে, কিন্তু শর্ত একটাই, আপনি কোনো বকাঝকা করলে সে আর আমাকে দুই টাকার কুটকুডি খাওয়াবে না।"

আবির পারছে না মেয়েটার মাথা ফাটিয়ে দিতে, পাগলের প্রলাপ যেখানে সেখানে শুরু হয়ে যায় তার।

এদিকে চড়ুইকে আবিরের এতটা ক্লোজ দেখে পাশে বসা ইরিন তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে। রাগে রিরি করতে করতে চড়ুইয়ের বাহু চেপে ধাক্কা মেরে ফেলতে চায় তাকে..

"এই মেয়ে, তোমার সাহস কি করে হয় আবিরের কাছে আসার..."

চড়ুই তাল সামলাতে না পেরে মাটিতে পড়তে নিলেই আবির ত্রস্ত হাতে তার বাহু চেপে ধরে। নিজেকে সামলে উঠে দাঁড়িয়ে বোকার মতো চোখ কুচকে ইরিনের দিকে তাকায় চড়ুই। বলতে নেয়...

" ইরিন আপু. তুমি আমাকে ধাক্কা মারলে কেন? এভাবে বকছো কেন? আমি তো শুধু দানাবলের থেকে...."

সম্পূর্ণ কথা শেষ করার আগেই ইরিন তেতে বললো..

"বেশ করেছি ধাক্কা মেরেছি,বারাবারি করলে ঠাটিয়ে একটা থাপ্পরও মারবো।..."

চড়ুই আরো কিছু বলতে চায়, কিন্তু আবির তখনি নিজের চোখ থেকে চশমাটা খুলে চড়ুইয়ের হাতে ধারিয়ে দিয়ে বললো..

"যাও.. "

চড়ুই পাখি সব ভুলে আবারো হেঁসে উঠলো। খুশিতে এগিয়ে এসে আবিরের দু গাল টেনে দিয়ে বললো..

"থ্যাংকিউ দানাবল, ইউ আর সো সুইট.. "

তারপরই ভো দৌড় দিলো স্টেজের দিকে। আবির নিরলস তাকিয়ে রইলো স্টেজে নাচতে থাকা চড়ুই পাখির দিকে। ইতোমধ্যেই আবিরের চশমাটা স্থান পেয়েছে তার চোখে।

"তোমার ওর সাথে এমন বিহেভ করা উচিৎ হয় নি ইরিন। "

ইরিন অবাক চোখে তাকায় আবিরের দিকে। বলে ওঠে..

"ও তোমার কোলে চড়ে বসেছিলো আবির, আর তুমি কিনা..."

"এসব ওর বাচ্চামো৷ এত আগপাছ ভেবে ও কাজ করতে পারে না, বোকা স্বভাবের। তোমার বোঝা উচিৎ ছিলো। "

ইরিন ঘন ঘন নিশ্বাস ফেলতে ফেলতে বলে..

"তুমি কি বুঝাতে চাইছো আমি ভুল করেছি? এখন আমাকে এই রাস্তার মেয়েটার কাছে সরি বলতে হবে? "

আবিরের কন্ঠ ঘন হয়, হালকা চেঁচিয়ে বলে ওঠে...

"রাস্তার মেয়ে নয় ইরিন।আহিসের ফ্রেন্ড ও। এখানে ইনভাইটেড। "

"আহিশের ফ্রেন্ড না, বলো গার্লফ্রেন্ড। তাকিয়ে দেখো? "

ইরিন না বললেও আবির আগে থেকেই লক্ষ্য করছে তাদের। কথার প্রসঙ্গ পালটে বললো...

"যাই হোক। আর তোমার ওর কাছে সরি চাইতে হবে না, ও এসব মাথায়ও রাখে না। কিন্তু নেক্সট টাইম থেকে ওর সাথে ভালো করে কথা বলবে, ইভেন বড় পাখির সাথেও।"

---------

"তখনকার বিহেভিয়ারের জন্য সরি... "

দোয়েল পাখির দু হাত ভর্তি মেহেদী। আধো শুকিয়েছে এতক্ষণে। কথা ছিলো জেসি আর দোয়েলকে, চড়ুই মেহেদী লাগিয়ে দিবে। কিন্তু দোয়েলের হাতের ডিজাইনটা দেখার পর সানিয়া মুনিয়াও চড়ুইয়ের হাতেই মেহেদী দিতে বসেছে। বাদ বাকিরা যে যার মতো একে ওকে দিয়ে আর্ট করিয়ে নিচ্ছে।

নিবিড় ঘাসের উপর অর্ধ সোয়া অবস্থায় হাতের তালুতে গাল ঠেকিয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দোয়েলের দিকে। দোয়েল জিজ্ঞেস করে...

"কোন বিহেভিয়ার? "

"সন্ধ্যায় বকেছিলাম যে তোমায়। তুমিও না একটা, ওরা বললেই যা তা করতে চলে যাবে? "

দোয়েল আলতো হেঁসে বলে..

"এসব তো টুকটাক এমনিই করা যায়।আর উনারা তো ভালো ভাবেই বলেছে, তাই... "

নিবিড় মুখ ফিরিয়ে বলে..

"ভালো না ছাই, তুমি চেনোও না ওদের।"

দোয়েল দু হাতে ফু দিয়ে বলে...

"আপনার উনাদের সাথে এত রুড হওয়া উচিৎ হয়নি। ভবিষ্যৎ শাশুড়ী বলে কথা..."

নিবিড় মাথা দুলিয়ে বলে...

"সব জানেন তাহলে আপনি,তাই না?"

দোয়েলও দুষ্টুমির ছলে বলে ওঠে..

"হুম,তখন দেখলাম তো, সানিয়া আপু আপনার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে, বেশ পছন্দ করে মনে হয়.. "

নিবিড় সোজা হয়ে এগিয়ে এসে বসে দোয়েলের কাছে। পাঞ্জাবির পকেট থেকে ফোন বের করতে করতে বলে...

"আরো এগিয়েছে মিস.. ওয়েট দেখাই.. "

নিবিড় ফোনে মেসেনজার রিকুয়েষ্ট বক্স ওপেন করে দোয়েলের কোলের উপর রাখলো ফোনটা। চোখের ইশারায় দেখতে বলে নিবিড় আলতো করে দোয়েলের মেহেদী রাঙা বা হাতটা টেনে এনে ফু দিতে লাগলো। দোয়েলও এক হাতের আঙুলের ডগা দিয়ে স্ক্রল করতে করতে মুনিয়ার আইডি থেকে আসা প্রতিটি মেসেজ পড়তে লাগলো..

''''' Hello nibir

How are you?

Ami muniya, chinte perecho?

তুমি কি ব্যস্ত? আসলে আমার তোমাকে কিছু বলার ছিলো।

....

...

............

পাঞ্জাবী খুব হ্যান্ডসাম লাগছে তোমাকে। আই ওয়ান্ট টু ক্লিক এ ফটো উইথ ইউ মি.""""

সব গুলো মেসেজ পড়েই দোয়েল মিটিমিটি হাসছে। জিজ্ঞেস করলো..

"আহারে বেচারি। আপনি রিপ্লাই দেন নি কেন একটারও? এটা তো ভারি অন্যায়.. "

নিবিড়ও নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে বললো..

"এতো সময় নেই গো এটম.."

দোয়েল একটু ভেবে চোখ ছোট ছোট করে বললো..

"আপনার অসম্পূর্ণ কাজটা আমিই করে দিই?"

নিবিড় চোখ তুলে তাকায় দোয়েলের দিকে। বলে..

"যা ইচ্ছে করো, অনুমতি চাইতে হবে নাকি। "

দোয়েলকে আর পায় কে। সাথে সাথেই মুনিয়াকে মেসেজ দিলো..

"তোমাকেও শাড়িতে ভীষণ হট লাগছিলো আজকে।"

মেসেজটা যাওয়ার সাথে সাথেই ওপাস থেকে রিপ্লাই আসলো..

"ধুর কি যে বলো না তুমি.. "

দোয়েল মুখ টিপে হেঁসে লিখলো..

"সত্যি বলছি মুন.. আজ আমি তোমার দিক থেকে চোখ সরাতেই পারছিলাম না। সবার থেকে আলাদা লাগছিলো তোমায়, আর , তুমি তো এমনিতেই সবার থেকে বেশি সুন্দর আমার চোখে। "

নিবিড় আড়চোখে দোয়েলের কান্ড দেখে, বাঁধা দেয় না। প্রিয় নারীর সর্বোচ্চ অপরাধও ক্ষমা করে দেওয়া যায়, আর সেখানে তো দোয়েল মাত্র নিবিড়ের এত দিনের ভাবের উপর পানি ঢালছে। আস্তে করে দোয়েলের হাতের শুকিয়ে যাওয়া মেহেদী গুলো তুলতে তুলতে বললো...

"তুমি খুব দুষ্টু আছো মিস এটম..উপরে উপরে শান্ত থাকো বলে সবাই শুধু ছোট পাখির দুষ্টুমি গুলোই দেখতে পায়। "

দোয়েল মেসেজ করতে করতে উত্তর দেয়..

"আপনিই তো আশকারা দিয়েছেন, আমার দোষ নেই। "

নিবিড় উত্তর দেয় না, দোয়েলও নিজের মতো মজায় ব্যস্ত হয়। একটু পরেই নিবিড় দোয়েলের হাতে ফু দিতে দিতে নাক ছোয়ায় তার হাতে। ধীরে ধীরে দোয়েলের হাত বেয়ে উপরের দিকে উঠতে গেলেই ফোনের বিকট শব্দে মুখ তুলে তাকায় সে। কিছু বুঝে উঠার আগেই দোয়েল কল রিসিভ করে নিবিড়ের মুখের সামনে ধরে। সাথে সাথেই ও পাশ থেকে মুনিয়ার মুখটা ভেসে ওঠে। নিবিড় চোখ গরম করে দোয়েলের দিকে তাকাতেই দোয়েল হাসতে হাসতে ইশারা করে বলে 'কথা বলুন.. "

"হ্যালো নিবিড়.."

মুনিয়ার কথায় স্ক্রীনে চোখ দেয় নিবিড়, লজ্জা লজ্জা মুখ করে মুনিয়া কথা বলছে একের পর এক, নিবিড় না পারতে শুধু হু হা করে যাচ্ছে। একটু পরে বিরক্ত হয়ে বললো..

"আ্ আচ্ছা, আমি একটু বিজি আছি তো। রাখছি এখন.. "

বলেই কলটা কেটে দেয় নিবিড়। এদিকে নিবিড়ের এমন নাজেহাল অবস্থা দেখে হাসতে হাসতে ঘাসে লুটিয়ে পড়ে। নিবিড়ও কম কিসে, দোয়েলের উপর ঝুঁকে ঘিরে ধরে তাকে..

"আমার সাথে ফাইজলামি না? আপনি তো একসের ফাজিল মেয়ে, দেখাচ্ছি মজা। "

বলতে বলতেই নিবিড় এক হাতে ঘাসের উপর ভর দিয়ে আরেক হাত দিয়ে দোয়েলের কোমরে সুরসুরি দিতে থাকে। দোয়েল হাসতে হাসতে পেটে ব্যথা উঠিয়ে ফেলার মতো অবস্থা। চেয়েও ছুটতে পারছে না নিবিড়ের থেকে। একটু পর হাসতে হাসতে কোনো মতে বললো...

"উফ.. আর পারছি না, প্লিজ এবার থামুন। দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তো... "

নিবিড় থামে, হাসি থামিয়ে শাড়ির ভাঁজ গলিয়ে হাত রাখে দোয়েলের পাতলা কোমড়ে। দৃষ্টিতে নিবন্ধ হয় দোয়েলের ঘন ঘন শ্বাস নেওয়ার ফলে উদয়মান বক্ষস্থলে।

দোয়েলও তাকায় তার দিকে। উদয় তরীর ন্যয় পুরুষ সত্তা এগিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘ এক ললনার মোহনীয় রঙ্গনে। নিবিড় এগিয়ে আসে দোয়েলের মুখের কাছে। দৃশ্য ঘুরিয়ে বারবার তাকায় মেয়েটার মোহনীয় ঠোঁটে। তারপর চোখে চোখ রেখে বলে...

"লিপস্টিক লেপ্টে গেলে আপনার ঠোঁটজোড়া অনেকের চোখে পড়ে যাবে তাই না মিস? "

দোয়েল উত্তর দিতে পারে না। নিবিড় কাছে আসলেই তার বাকশক্তি রোধ হয় যেন। আজও তার বিপরীত নয়। নিবিড় আবার বলে...

"নিবিড় তো বুদ্ধিমান লোক, আজ আর আপনার লিপস্টিক এলোমেলো করবে না সে। "

দোয়েল শুধু শুনে যায় নিবিড়ের একের পর এক লাগামহীন কথা। নিবিড় একটু সরে আসে, তবে পুরোপুরি নয়। মুখ নামিয়ে হুট করেই ঠোঁট ছুইয়ে দেয় দোয়েলের কন্ঠনালিতে। কোমরে থাকা হাতটা আলতো চেপে ধরতেই দোয়েল কেঁপে ওঠে। নিবিড় আলতো আলতো চুমুতে ভরিয়ে দিতে থাকে দোয়েলের গলদেশ। নিবিড়ের ওষ্ঠের ছোয়া ঘন আর গভীর হতে গেলেই দোয়েল হাতের কনুই দিয়ে ধাক্কা দিয়ে সরাতে চায় তাকে৷ নিবিড়ের জোড়ালো অনুভুতি বাঁধা মানতে চায় না যেন। মত্ত থাকে নিজের কর্মে। দোয়েল বেশ কষ্টে ফিসফিসে কন্ঠে বলে ওঠে...

"শ্ শ্বাস আটকে আসছে আমার। প্লিজজ..."

নিবিড় থেমে যায়। গা আলগা করে মুখ তুলে তাকাতেই দোয়েল এক ধাক্কায় তাকে নিজের থেকে সরিয়ে দেয়, তারপর দ্রু কদমে ছুটে পালায় বাড়ির অন্দরের দিকে।

Mr and Mrs Twins Return গল্পটি অভ্রায়ীনি ঐশি -এর লেখা একটি জনপ্রিয় টুইন রিলেটেড রোমান্টিক গল্প