কক্ষের নীরবতায় যেন আজ বেশ ভারি পরিবেশ সৃষ্টি করছে। আজমল চৌধুরী আর সাবিহার দৃষ্টির রহস্য ঠাওর করতে পারছে না আবির। কি বলে, না বলে কিচ্ছু জানে না সে। কিন্তু আজ এক ভালোবাসা তাকে এভাবে এই জায়গায় এসে দাঁড় করিয়েছে। চড়াই পাখি কি আদেও বুঝবে কখনো, আবিরের ভেতর ঘর ঠিক কতটা উতলা হচ্ছে তার জন্য?
"আবির বিন চৌধুরী কখনো কারোর কাছে মাথা নোয়াতো না, এতদিন তো আমি এটাই জানতাম... "
আজমলের কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আবির উত্তর দেয়...
" তোমরা তো আমার বাবা মা। আমার ব্যক্তিত্ব গোটা দুনিয়ার কাছে কঠোর, দৃঢ় হলেও তোমাদের কাছে তো স্বাভাবিক হওয়ার কথা।"
আজমল জিজ্ঞেস করে ওঠে..
"সেটা এতদিন তো ছিলো না। আজ হঠাৎ? "
"ছোট বেলায় নিশ্চয়ই ছিলো। আমি কি কখনো বায়না করিনি তোমাদের কাছে? এর পর কাছে ছিলাম না, তেমন প্রয়োজনও পড়ে নি। এই সাতাশ বছরের জীবনে ধরে নাও আজই মহা মূল্যবান কিছু চাইছি তোমাদের কাছে৷ "
আজমল আর সাবিহা চোখে চোখে তাকায়। নিজেদের মধ্যে ঠিক কি বোঝাবুঝি হলো তা জানে না আবির। এই এতক্ষণে সাবিহা কঠোর গলায় বললো..
"আহিশ আর ছোটপাখি একে অপরকে ভালোবাসে। এতদিন যখন তুমি ছিলে না আজও ওদের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে এসো না। আর সেদিন তুমিই তো বলেছিলে ওকে তোমার অসহ্য লাগে। "
"তখন আমি বুঝতে পারি নি। এখন বুঝতে পারছি, তাই এখন আমার চড়াইকে চাই। "
" তা সম্ভব নয়। শুক্রবার ওদের এঙ্গেজম্যান্ট জানোনা তুমি?"
"ওসব কিচ্ছু হবে না। চড়াইকে অন্য কেউ বিয়ে করতেই পারে না।"
" এত উগ্র কথাবার্তা বলছো কেন? তুমি তো চড়ুইকে পছন্দ করো না। তোমার হাতে তুলে দিলে ও ভালো থাকবে না। "
আবির চোখ তুলে তাকায় সাবিহার দিকে। দীপ্ত কন্ঠে বলে ওঠে...
"ওকে আমার থেকে বেশি ভালো কেউ রাখতে পারবে না।"
নিরবতা বিরাজ করে পুরো ঘরে৷ আবিরের বুক কাপে। পরবর্তী পদক্ষেপ কি হওয়া উচিত তা জানে না সে। শুধু এটুকুই জানে তার চড়াইকে চাই।
সাবিহা হাফ নিশ্বাস ফেলে বলে...
" তোমার এসব আজগুবি কথা শোনার কোনো ইচ্ছে নেই আমার। ও তোমার ছোট ভাইয়ের হবু বউ। আজ থেকে যেন চড়ুইয়ের ধারে কাছেও না দেখি তোমায়। যদি কথার অমান্য হয়, তাহলে আমি নিজে গিয়ে তোমার নামে হ্যারাসম্যান্টের মামলা দেবো।"
"আর ইউ কিডিং উইথ মি? কি সব যা তা বলছো আম্মু তুমি? "
"আমি ঠিকই বলছি, এবার তুমি আসতে পারো।ওর থেকে দূরে থাকবে। "
"দূরে থাকবো মানে? বমি ওর সাথে... "
"আরো দূরে থাকবে। চাইলে ওদের বিয়ে পর্যন্ত সময়টা বাড়িতেই থেকো না তুমি। আমি চাই না তোমার বদ মেজাজের জন্য আমার মেয়েটার উপর কোনো প্রভাব পরুক। "
"আম্মু..."
"যাও এখন... "
ভঙ্গুর হৃদয় নিয়ে আবির অপলক তাকিয়ে থাকে তার মায়ের দিকে। এক একটি কথা যেন বিষের বান হয়ে বিধছে তার বুকে। তার ভালোবাসা কি সত্যিই চড়াই পাখির জন্য ক্ষতির কারন?
ক্ষত বিক্ষত হৃদয় নিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসে আবির। কিন্তু এত সহজে হার মেনে নেওয়ার মতো ছেলে তো সে না। যে কোনো প্রকারেই হোক ওর চড়াইকে লাগবে। বাড়ি থেকে ভুলেও বের হবে না আবির এখন, যে যাই বলুক না কেন। সে এখন একটা মুহুর্ত ও চড়ুই পাখির থেকে দূরে থাকতে চায় না।
----------
বারান্দার গ্রীলে হেলান দিয়ে বসে ফুফিয়ে কাঁদছে দোয়েল। এই কঠিন হৃদয়ের মেয়েটার ভেতর ঠিক কি বয়ে যাচ্ছে তা এক মাত্র সেই জানে। সে পারে না কারোর সামনে নিজের কষ্ট গুলো তুলে ধরতে। তাইতো নীরবতা আর অন্ধকারই তার কান্নার সাক্ষী হয়ে থেকে যায় সব সময়।
"আপনার কথা এত কেন মনে পড়ে আমার নিবিড় ভাইয়া, বোকা সোকা পেয়ে কালোজাদু করছেন? কেন আপনার অবহেলা নিতে পারছি না আমি? "
আপন মনেই বিড়বিড় করে যায় মেয়েটি। কেউ শুনে না, কেউ দেখে না। কিন্তু এই বুক ফাটা যন্ত্রণা যে আর সহ্য হচ্ছে না তার। কি করে বোঝায় সে।
"আপনারে জড়াইয়া ধরতে ইচ্ছে করতেছে নিবিড় ভাইয়া। আমার আর সয়না এত যন্ত্রণা। একটু আমার কাছে আসুন না? আমার তো কেউ নেই, আমার মাথায় আপনার মতো যত্ন করে হাত বুলিয়ে দেওয়ার মতো ও কেউ নেই। আমারে পর করে দিয়েন না প্লিজ।।আমি মরে যাবো..."
কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। কেউ নেই সামনে, তাও যেন পাগলের প্রলাপ বকছে সে। কি যন্ত্রণা, কি যন্ত্রণা। বারান্দার দরজায় টোকা পড়তেই সোজা হয়ে বসে দোয়েল।দ্রুত হস্তে চোখ মুছে নেয় এলোমেলো ভাবে। সচেতন দৃষ্টি দিতেই দেখে আহিশ সামনে দাঁড়িয়ে। অন্ধকারের কারনে দোয়েলের চোখমুখ স্পষ্ট দেখার জো নেই।
"কিরে, এখানে বসে কি করছিস? ডিনার করবি আয়। "
"ত্ তোরা করে নে। আমার ক্ষিদে নেই।"
আহিশ দোয়েলের হাতে টান দিয়ে বলে..
"ক্ষিদে নেই বললেই হলো? বড় আম্মু ডাকছে আয়.."
দোয়েল ঝামটি মেরে ছাড়িয়ে নেয় আহিশের হাত। হালকা চেচিয়ে বলে ওঠে...
"বললাম তো ক্ষিদে নেই। জোর করছিস কেন? আমাকে তোদের সবার পুতুল মনে হয়? যখন যেভাবে খুশি নাচাবি হ্যা? অনেক তো হয়েছে, আর কত?"
আহিশ থেমে যায়। এতক্ষণের উৎফুল্ল কন্ঠ মিইয়ে যায় তার। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে...
"কি হয়েছে তোর? এভাবে কথা বলছিস কেন? "
"আমার কিচ্ছু হয়নি। আমি শুধু একা থাকতে চাই। ব্যস, প্লিজ যা এখান থেকে। "
দোয়েলের চিৎকারে আহিশ কিছুক্ষণ সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে৷ তার পর কিছু একটা ভেবেই বেরিয়ে আসে বারান্দা থেকে। সে যেতেই দোয়েল আবার হাটুতে মুখ গুঁজে ডুকরে কেঁদে ওঠে।
একটু পরেই মনে হলো কেউ যেন তাকে পর্যবেক্ষণ করছে খুব কাছ থেকে। কান্নার গতি কমিয়ে নেয় দোয়েল, নাক টানতে টানতে ভেজা চোখ তুলে তাকায় সামনে। একটি ছায়া মূর্তি দাঁড়িয়ে সটান হয়ে বারান্দায় দরজায় হেলান দিয়ে। দোয়েল ভাঙা কন্ঠে উচ্চারণ করে...
"ক্ কে? "
অপর পাশ থেকে কোনো উত্তর আসে না। শুধু ফোনের ফ্ল্যাস এসে পড়ে দোয়েলের মুখের উপর। চোখ খিঁচে বন্ধ করে নেয় সে। হঠাৎ করে আলো পড়ায় ঠিক মতো তাকাতে পারছে না সে। একটু পরে চোখ মেলে তাকাতেই দেখলো নিবিড় এগিয়ে আসছে তার দিকে। ফোনের স্থান এলোমেলো হওয়ায় আলো পড়ে স্পষ্ট হয় তার মুখ আর বেগুনি চোখের মনি জোড়া। হঠাৎ যেন দোয়েলের সুখানুভব হয়, ঠোঁটের কোনে হাসি টেনে ডেকে ওঠে..
"নিবিড় ভাইয়া.."
বলতে বলতেই দু হাত বাড়িয়ে জাপ্টে ধরতে চায় নিবিড়কে, তার আগেই নিবিড় তার দিকে ঝুঁকে ত্রস্ত হাতে পাঁজা কোলে তুলে নেয় তাকে।কোনো প্রকার টু শব্দ ও না করে হাটা ধরে বাইরের দিকে। দোয়েল ভেজা চোখ নিয়েই অপলক তাকিয়ে থাকে নিবিড়ের দিকে।
নিচ তলায় এসেই ডায়নিং টেবিলের চেয়ারে বসায় তাকে। কেউ না দেখার মতো করে এগিয়ে এসে নিজের পেটের সাথে চেপে ধরে দোয়েলের মাথাটা। এদিক সেদিক একটু নাড়ি নেয় যেন মেয়েটার চোখের পানি আড়াল হয়। জুলেখা আসতেই সরে গিয়ে পাশে চেয়ার টেনে বসে সে। মুখে হাসি ফুটিয়ে জিজ্ঞেস করে...
"ভাই আসে নি? "
সাবিহা কিচেন থেকে একটি খাবারের বাটি এনে টেবিলে রাখতে রাখতে বলে..
"খাবে না বলেছে। আচ্ছা করে দিয়েছি আজ বকে। রুমের দরজা আটকে বসে আছে। "
নিবিড় বলে..
"একটা প্রপার প্ল্যান রেডি করা দরকার। ছোটপাখি কোথায়? "
জেসি বলে..
"ও তো ঘুমাচ্ছে দেখলাম।আবির ভাইয়া বকেছে, তারপর যে রুমে গিয়ে ঘুম দিয়েছে আর জাগে নি। "
"তোমরা খেয়ে নাও, ছোট পাখিকে খাওয়ানোর দায়িত্ব আমার আজ। "
বলেই নিবিড় নিজের খাওয়ায় মনোযোগ দেয়। এক লোকমা মুখে তুলে পাশ ফিরে দোয়েলের দিকে তাকাতেই দেখলো মেয়েটা তার দিকেই তাকিয়ে আছে। তা দেখে নিবিড় বেশ স্বাভাবিক ভাবেই বলে ওঠে..
"ওয়ে মিস এটম, কি হলো? খাও? "
দোয়েলের স্তম্ভিত ফিরে। নড়েচড়ে উঠে আজমলের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে...
"আ্ আব্বি, আমি কিছু বলতে চাই তোমাদের সবাইকে। "
আজমল বলে..
"হ্যা বল না? "
দোয়েল ঢোক গিলে নিজেকে শক্ত করে। আজ তাকে বলতেই হবে। মিথ্যা সম্পর্কের জালে যে সে জড়াতে পারবে না আর।...
"আ্ আমার এই এঙ্গেজম্যান্টটা..."
দোয়েল সম্পুর্ন কথা শেষ না করতেই নিবিড় তার কথা কেড়ে নিয়ে বলে...
"হ্যা, এঙ্গেজম্যান্টটা নিয়ে তো কোনো প্ল্যানই হলো না। আব্বু, আমি চাইছিলাম যে যতটা সম্ভব ঘরোয়া ভাবেই করতে। যতটা সিমপ্লিস্টিক করা যায় আর কি। কারন আমার মনে হচ্ছে ভাই কোনো না কোনো সিনক্রিয়েট করবেই সেদিন।"
সাবিহা হালকা হাসে। বলে..
" ঠিক আছে, তবে আমার মেয়েদের যেন একদম পরীর মতো লাগে সেদিন। ওদের কোনো কিছুতে যেন কমতি না থাকে। "
নিবিড় আড়চোখে দোয়েলের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে...
"তোমার মেয়েদের পরীর মতো সাজানোর দায়িত্বটা আমাকেই নিতে দাও। চিন্তা করো না এটা নিয়ে। "
আসমত বলে..
"যাক, তাহলে তোরা কেনাকাটা শুরু করে দে। আর তো মাত্র তিনদিন বাকি। "
নিবিড় মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দেয়।আহিশের দিকে তাকিয়ে বলে..
"আহিশ, মনে আছে তো তোকে কি কি করতে হবে? "
আহিশ মাথা নাড়িয়ে হ্যা বোঝায়।হৃদ মিচকে হেঁসে বলে...
" নিবিড় ভাইয়া, কাকে কি বলছেন, এ তো ভয় পাচ্ছে। "
আহিশ হৃদের মাথায় চাটি মেরে বলে..
"আবে নাগা মরিচ,আমাকে হেল্প করার জন্য প্ল্যান বলেছি তোমায়, পচানোর জন্য নাহ। "
"এহ, আবির ভাইয়ের ভয়ে কবে জানি প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলে, তার ঠিক নেই। আসছে আমারে প্ল্যান বোঝাইতে৷ আগে গিয়ে দোকান থেকে প্যামপাস কিনে আনুন, এই কয়েকদিন রেগুলার প্যামপাস পড়ে থাকবেন, কখন কি হয়ে যায় বলা তো যায় না। "
হৃদের কথায় হাসির রোল পড়ে সবার মাঝে। শুধু আহিশই চোখ পাকিয়ে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। আর দোয়েল বিষন্ন চিত্তে তাকিয়ে থাকে নিবিড়ের উজ্জ্বল হাসি মাখা মুখটির দিকে। এ ছাড়া যেন দিন দুনিয়ার হুশ নেই তার।
--------
দরজায় দু তিন বার নক করেও ভেতর থেকে কোনো আওয়াজ পাওয়া গেলো না তাই বাধ্য হয়েই নিবিড় অনুমতি না দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলো। আবিরকে না দেখতে পেয়ে ওয়াশরুমে গিয়ে চেক করলো নাহ, দরজা খোলাই আছে। ভেতরে নেই সে। আস্তে করে একবার ডাকে...
"ভাই? "
"এদিকে আছি.. "
বারান্দার দিক থেকে কন্ঠ পেয়ে সেখানে গেলো নিবিড়। আবিরকে দেখেই হাফ নিশ্বাস ফেলে কোমড়ে দু হাত গুঁজে দাঁড়ায় সে। বলে ওঠে...
" আজ দেখি সবাই বারান্দায় দুঃখ বিলাস করছে। তা তোর কি দুঃখ বইলা ফেল তো ফটাফট... "
আবির গ্লাসে চুমুক দিয়ে মুখ তুলে তাকায় নিবিড়ের দিকে। চোখ দুটো টকটকে লাল রঙ ধারন করেছে তার। নিবিড় এসে পাশে বসলো। পাশে কয়েকটি বোতলের দিকে তাকিয়ে বলে...
"র গিলছিস? কাল সকালে কি অফিস যাওয়ার ইচ্ছে নেই নাকি? "
আবির একটা গ্লাস এগিয়ে দেয় নিবিড়ের দিকে। বলে ওঠে...
"ওয়ানা ট্রাই? "
নিবিড় নাকোচ করে বলে...
"আজ নাহ, শুনলাম তুই ডিনার করিস নি, তুই ই পেট ভরা এসব খেয়ে। ওহ পারলে ছোটপাখিকেও একটা বোতল দিয়ে আয়, সে ও তো ডিনার করে নি৷ "
কথাটা কানে যেতেই মুখ ফিরিয়ে তাকায় আবির। মুখ থেকে গ্লাস নামিয়ে বলে ওঠে..
"ওর কি হলো? খায়নি কেন? "
"তেমন কিছুই না, ঘুমাচ্ছে। "
আবির বিরক্ত হয় চরম পর্যায়ে। সব ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলে..
"বান্দীর এই নিরালার ঘুম কবে যে আমার ভবিষ্যৎ আনতে বাঁধা দেয়।কে জানে.. "
বলতে বলতেই রুম থেকে ঢুলতে ঢুলতে বেরিয়ে আসে আবির। নিবিড় হেঁসে ফেলে, তার আর কিছুই করা লাগবে না এখন।
ঢুলু ঢুল পায়ে অন্ধকার মারিয়ে চড়ুইয়ের রুমের দিকে এগিয়ে যায় আবির। রাত গভীর হওয়ায় বাড়ির সবাই ঘুমেই। দরজা ঠেলতেই দেখতে পায় এলোমেলো এয়ে বিছানায় উপুর হয়ে ঘুমাচ্ছে চড়ুই। দোয়েল অন্য রুমে।
মাথার কাছে লিও ও ঘুমিয়ে আছে। আবির বিরক্তিতে চ উচ্চারণ করে৷ মেয়েটা নিজে তো তকটা কুম্ভকর্ণ, সাথে তার লিও বাচ্চাটাকেও বানাচ্ছে আরেক কুম্ভকর্ণ। সারাদিন ঘুমায় শুধু।
বিছানার কাছে এগিয়ে গিয়ে কম্বল সরায় আবির। চড়ুইয়ের হাতের অস্তিত্ব খুঁজে পেতেই তা ধরে হেঁচকা টান মেরে বসায় মেয়েটাকে।
চড়ুই ঘুমে বিভোর, এমন অবস্থায় এভাবে বিরক্ত করার মানে খুঁজে পেলো না সে। চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে রেখে গুঙিয়ে উঠলো সে। আবির তার ঘুম ভাঙানোর চেষ্টা করতে করতে বলতে থাকে...
"এই মেয়ে, না খেয়ে ঘুমাচ্ছো কেন? একবার না খেয়ে কি অবস্থা হয়েছে মনে নেই? চলে ডিনার করবে.. "
চড়ুই ঘুমের ঘোরেই দু দিকে মাথা নাড়িয়ে বোঝায় সে খাবে না। আবির নাছোড়বান্দা , টানতেই থাকে তাকে। চড়ুই এবার কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলে ওঠে...
"আমি ডিনার খাবো না... "
"না খেয়ে ঘুমানো যাবে না ওয়াইফি, ওঠো, অল্প একটু খেয়ে নেবে চলো... "
চড়ুই আবার ঢুলতে ঢুলতে বলে ওঠে...
"নাহহ, আমি ডিনার খাবো না, ব্রেকফাস্ট খাবো... "
আবির থেমে যায়।এই মেয়ের কান্ড দেখে এত চিন্তার মাঝেও হাসি পাচ্ছে তার। হাফ নিশ্বাস ফেলে নিজেকেই নিজে বলে ওঠে...
" ম'দ গিলেছি আমি, আর নেশাখোর লাগছে এই মেয়েকে। আল্লাহ মনের মিল দিবা ভালো কথা, তাই বলে এই ভাবে? "
পাগলের সাথে পাগলামিই সাজে, এই ভেবেই আবির কোমল কন্ঠে ঘুমন্ত চড়ুইকে নিজের সাথে আগলে নিয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে...
"এখন ব্রেকফাস্ট খাবে? "
চড়ুইয়ের চোখ বন্ধ, ওভাবেই আবিরকে আরেকটু জড়িয়ে ধরতে ধরতে বলে..
"হুম.."
"আচ্ছা ব্রেকফাস্টে কি খাবে? "
চড়ুইয়ের চোখ মুখের ভাব হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে যায়, কেমন যেন বাচ্চাদের মতো কাদো কাঁদো মুখ করে নেকি সুরে বলে ওঠে...
"আহিশসা কুডকুডি খাওয়ায় না... "
ব্যাস গেলো আবিরের মাথা চটে৷ হালকা রেগে বলে..
"আহিশের নাম নিবে একদম থাপড়িয়ে দাত ফেলে দেবো। "
চড়ুই শুনলো কি না কে জানে, শুনলেও বুঝার মতো অবস্থা যেন নেই তার। ঘুমের মাঝেই বায়না ধরলো..
" লুটুস খাবো। "
আবির বুঝতে পারে না, মুখ কুঁচকে বলে..
"লুটুস? এটা আবার কি? "
"লম্বা লম্বা কেঁচোর মতো ইয়াম্মি লুটুস খাবো.."