চা বাগান নামক সবুজ অরণ্যের জন্য বিখ্যাত জেলা সিলেট। তবুও মফস্বলে এসব নেই বললেই চলে। অর্ধ চন্দ্রের আলোয় পরিচ্ছন্ন আকাশ। সন্ধ্যা নেমেছে কিছুক্ষণ আগেই।
আফজাল সাহেবের বাড়ির কাছাকাছি একটি হসপিটালে ভর্তি আছেন মনোয়ারা বেগম।
সকালে স্ট্রোক হওয়ার পরপরই হসপিটালে নিয়ে আসায় এই যাত্রায় রক্ষা পেয়েছেন বৃদ্ধা। ডক্টর জানিয়ে দিয়েছেন, যেহেতু ইতিমধ্যেই তার দু'বার স্ট্রোক হয়ে গেছে, তাই পরবর্তীতে বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম।
কেবিনে শিফট করা হয়েছে মনোয়ারা বেগমকে। জ্ঞান ফিরেছে কিছুক্ষণ আগেই৷ আফজাল সাহেব ও দ্বীতি বেগম কেবিনে ঢুকার আগেই এসে হাজির হলো সকলে। সিএনজি থেকে নেমে ছুটতে ছুটতে আসায় হাঁপাচ্ছে শায়রা ও আনুসা। প্রথমে শায়রাই জিজ্ঞেস করলো,
"দাদি কেমন আছে এখন?"
আফজাল সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
"আপাতত সুস্থ আছে। মিনি স্ট্রোক ছিলো তাই বেশি সমস্যা হয় নি। সবাই এসেছে? বাকিরা হই?"
কয়েক মুহুর্তের ভেতর ফজল আহমেদ, মালেকা বেগম ও ফাইজান এসে উপস্থিত হলো। মালেকা বেগম অস্থিরচিত্তে শুধালেন,
"মা কেমন আছে?"
দ্বীতি বেগম স্বান্ত্বনা দিয়ে বললাম,
"টেনশনের কিছু নেই, আপা। মা ঠিক আছে এখন।"
আস্তে-ধীরে পুরো ঘটনাটাই ব্যাখ্যা করলো স্বামী-স্ত্রী মিলে। ফাইজান সব শুনে বিড়বিড়িয়ে বলল,
"সুস্থ আছে! তার মানে এখন কেবিনে ঢুকলেই নাতবউ খুঁজবে।"
হলোও তাই! কেবিনে ঢুকলো সকলে অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে। সফেদ বেডে নিশ্চল পড়ে আছেন ভদ্রমহিলা। রক্ত প্রদান চলমান। ছেলে-মেয়ে সকলকে দেখে ধীরগতিতে ঘাড় ঘুরালেন।
কথার ফাঁকে ফাঁকে আফজাল সাহেব আড়চোখে চাইছেন ফাইজানের দিকে। ছেলেটা বেডের এক সাইডে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। ওর বেশভূষায় অনেকটা পরিবর্তন লক্ষ করছেন তিনি। শুধু হাতে ব্যান্ডেজটাই দেখা যাচ্ছে। ভদ্রবাড়ির ছেলে মনে হচ্ছে আজ!
বেশ কিছুক্ষণ পর মনোয়ারা বেগম ফাইজানকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
"নানুভাই, তুমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছো কেন? এদিকে এসো।"
ফাইজান এগিয়ে আসতেই বৃদ্ধা পুনরায় বললেন,
"বিয়ে কবে করছো, নানুভাই? ম*রার আগে তোমার বউটা দেখে যাবো না?"
হতাশায় হাবুডুবু খেয়ে মাথা চুলকাল ফাইজান। শায়রা ওর দিক চেয়ে মুখ চেপে হাসতে শুরু করেছে। মালেকা বেগম মুখ বেঁকিয়ে বললেন,
"ওর আর বিয়ে! কয়দিন পর সন্ন্যাসী হয়ে বনবাস যাবে। আমি ওর জন্য হিমালয়ের টিকেট কাটবো।"
শায়রা আর আনুসা মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো একে-অপরের। দু'জনের ঠোঁটেই চাপা হাসি। ফাইজান মায়ের খোঁ*চা শুনে তাকিয়েছিলো ওদের দিকেই। তৎপর ওদের হাসি দেখেই তেলে-বেগুনে জ্ব*লে উঠলো। বরাবরের ন্যায় কর্কশ কন্ঠে বলল,
"বউ কি ফলমূল নাকি জামা-কাপড়? যে বাজারে কিংবা মার্কেটে গেলেই পাওয়া যাবে? এমনভাবে তোমরা বিয়ে করার কথা বলো যেন সেটা কত্ত সহজ কাজ! অথচ বিয়ে করে সংসার করার মতো কঠিন কাজ আর দু'টো নেই। বিশ্বাস না হলে বাবা আর মামাকে জিজ্ঞেস করে দেখো।"
আফজাল সাহেব ও ফজল সাহেব, দুই ভদ্রলোকের মুখখানা হয়েছে দেখার মতো। হতবিহ্বলতায় বাক্যব্যয় করতে ভুলেছেন। মালেকা বেগম ও দ্বীতি বেগম ভ্রু কুঁচকে তাকিয়েছেন নিজ নিজ স্বামীর দিকে। দু'জনেই সমস্বরে বললেন,
"আমার সাথে সংসার করা কঠিন কাজ?"
কন্ঠস্বরে তাদের স্পষ্ট রা*গ। ঢোক গিললেন ভদ্রলোকদ্বয়। চোরের মতো দৃষ্টি বিনিময় করলেন একে-অপরের সাথে। ফজল সাহেব বললেন,
"কিসব বলছো? তুমিও তোমার ছেলের কথা বিশ্বাস করো নাকি? ওর কথার লাইন থাকে কখনো? ভুলভাল বলে বসে শুধু! ওর মতো ভবঘুরে ছেলে সংসার কঠিন নাকি মজার সেটা বুঝবে কি করে?"
ফাইজান অবাক হওয়ার ভান করে ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
"ওহহো! সংসার তাহলে মজার?"
শায়রা বসা থেকে উঠে এসে দাঁড়ালো ফাইজানের পাশাপাশি। চাপা স্বরে বলল,
"কি করছো এসব? হসপিটালে অসুস্থ রোগী দেখতে এসেছি আমরা। আর তুমি ওদের মধ্যে ভেজাল লাগাতে চাইছো?"
ফাইজান ওরই মতো চাপা কন্ঠে বলল,
"তোদের মেয়েজাতির এই এক সমস্যা! অল্প কথায় ভেজাল লাগিয়ে বসিস। ঠিক এই কারণেই আমি বিয়ের ভেজালে পড়তে চাই না। দেখ মা আর মামি কেমন বাঘিনীর মতো ফুঁসে উঠেছে। আমার বউ-ও যদি এরকম করে?"
শায়রা 'চ' সূচক শব্দ করে বলল,
"বিয়ে করো না তুমি। চিরকুমার সংঘে নাম লেখাও নিজের। তাও এসব উদ্ভট ভেজাল লাগিও না।"
দ্বীতি ওদের ফিসফিসানি লক্ষ্য করতেই খ্যাঁকিয়ে উঠলো,
"অ্যাই! কি নিয়ে ফুসুরফাসুর করছিস দুটো মিলে?"
ফাইজান ভণিতাহীন উত্তর দিয়ে বসলো,
"বিবাহিত জীবনের অসুবিধাসমূহ নিয়ে।"
অসুস্থ বৃদ্ধা এতক্ষণ চুপচাপ ওদের কাহিনি দেখছিলেন। এখন ফাইজানের কথায় আর আটকাতে পারলেন না নিজেকে। বললেন,
"ফাইজানের বিয়ে বি*দ্বেষী স্বভাব দূর করতে ওকে বিয়ে দিয়ে দাও। শায়রার সাথেই। আমার বহুদিনের শখ ওদের দু'জনের বিয়ে দেখবো। কবে ম*রে যাই ঠিক নেই। দুনিয়া থেকে যাওয়ার আগে সাধ পূরণ করে যাই।"
মনোয়ারা বেগমের কথায় ছোট-খাটো বজ্রপাত হলো যেন। পুরো কেবিনরুম নিস্তব্ধ হয়ে পড়লো মুহুর্তেই। শায়রার মুখটা অল্প খানিক হা হয়ে রয়েছে বিস্ময়ে৷ একটুখানি ধাতস্থ হতেই চিৎকার ছুড়লো,
"এই বাউন্ডুলেকে বিয়ে করবো আমি?"
ফাইজান একপলক ওর দিকে তাকিয়ে নিজেও অনুরূপ চেঁচাল,
"সেম টু ইউ! এই মুটকিকে বিয়ে করবো আমি? নানু, তোমার কোনো আইডিয়া আছে তুমি কি বলেছো? ঝা*মেলার ভয়ে বিয়েই করতে চাইছি না আমি। সেখানে তুমি আস্ত এক ঝা*মেলার কারখানা আমার ঘাড়ে চাপানোর কথা বলছো?"
শায়রা কটমট করে চাইল ফাইজানের দিকে। ক্ষু*ব্ধ স্বরে বলল,
"আমি না, তুমি ঝামেলার কারখানা। দাদি, তুমি এর সাথে আমাকে বিয়ে দেয়ার কথা বলছো? দেখো, এখনই কেমন সারাদিন মুটকি মুটকি বলে ক্ষ্যাপায়। বিয়ে করলে ও আমার খাওয়া বন্ধ করে রাখবে।"
ফাইজান বিরক্তিতে নাক-মুখ কুঁচকালো। বলল,
"এই মেয়ে আমার বাড়িতে যাওয়ার পর সবকিছু উলটপালট করে রেখেছে, জানো? রাত আটটার পর আমার বাড়িতে আমাকেই ঢুকতে দেয় না। ওর জন্য নিজের মর্জিমতো কাপড়ও পড়তে পারি না৷ একে বিয়ে করলে ও আমাকে কি করবে জানো? কিছু তে কিছু হলেই বাথরুমেও বন্ধ করে রেখে দিতে পারে!"
আফজাল সাহেব ফাইজানের কথা শুনেই চোখ ছোট ছোট করে চাইলেন মেয়ের দিকে। স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
"দ্বীতি, মেয়েটা কি তবে তোমার মতো হলো? না মানে, বাড়িতে দেরি করে আসলে ঢুকতে না দেয়ার অভ্যাস তো তোমারই ছিলো!"
দ্বীতি অ*গ্নিদৃষ্টিতে তাকালেন স্বামীর দিকে। পরপর শায়রার দিকে ফিরেই হুকুম ছুড়লেন,
"শায়রা, একদম চুপ করো। দু'জনে কি যুক্তিহীন ঝ*গড়া লাগিয়ে রেখেছো এগুলো? বাইরে আসো আমার সাথে!"
বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নাড়লো শায়রা। পরমুহূর্তেই ফাইজানের দিকে ঘুরে মুখ ভেঙচি দিয়ে মায়ের পিছু পিছু বেরিয়ে গেলো। আফজাল সাহেবও গেলেন বউ ও মেয়ের পরেই।
*********
শায়রা মাথা নিচু করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে মায়ের সামনে। দ্বীতিও শায়রাকে কোনো প্রশ্ন করে নি, আর শায়রাও কোনো কথা বলে নি। দ্বীতি নিজেকে প্রস্তুত করে করছেন কথাগুলো বলার জন্য। সেই মুহুর্তে আফজাল সাহেব আসতেই তাকে বললেন,
"ব্যাপারটা ঠিক হলো? আমরা তো মাত্র একদিন আগেই মা-কে না করে দিলাম। তাও কেন আজ ওদের বিয়ের কথা তুলল? কিরকম একটা পরিস্থিতির আবির্ভাব হয়েছে বুঝতে পারছো?"
আফজাল সাহেব হতাশ শ্বাস ফেলে বললেন,
"বুঝলেই বা কি করবো, বলো? মা তো বলেছেন তার শখ শায়রা ও ফাইজানের বিয়ে দেখা। উনি নিজের শখ ব্যক্ত করেছেন। আমরা কি করতে পারি?"
দ্বীতি বেগম তিক্ত স্বরে বললেন,
"কারো পুরো জীবনের ব্যাপারটা কোনো শখের মধ্যে পড়ে না, শায়রার আব্বু। এই সম্পর্কটা কিভাবে মেনে নেই বলো? শায়রা যেটা বলেছে সত্যিই! দেখলে না, আমাদের সামনেই তো ওকে মুটকি বলল।"
এইবার আর শায়রার চুপ থাকা হলো না। মৃদু প্রতিবাদের সুরে বলল,
"মা, এইখানে কি বলে ডাকে না ডাকে এই ব্যাপারে বলার কিছু নেই। ও আমাকে রাগাতেই এই নামে ডাকে। নাহলে আমি না খেয়ে থাকলেও নিজ থেকে সেধে খাবার দেয়ার কাজ ওই বাউন্ডুলে কোনোদিন করতো না।"
বিভ্রান্ত হলেন উভয়েই। কথার মানে বুঝতে না পেরে শুধালেন,
"মানে?"
শায়রা শান্ত স্বরেই বর্ণনা করলো পরশু রাত্রের ঘটনা। সাথে যোগ করলো,
"ওর মধ্যে যত্নশীলতা আছে। আর কি কি আছে আমি জানি না, তবে ও নিজেকে প্রকাশ করে খুব কম।"
দ্বীতি বেগম ক্ষি*প্ত কন্ঠে বললেন,
"তুই ওর হয়ে সাফাই দিচ্ছিস কেন? তাহলে ধরে নিবো এই বিয়েতে তুই রাজি?"
শায়রা বলল,
"এরকমটা আমি কখন বললাম? আমি অবশ্যই এই বিয়েতে রাজি নই, কিন্তু তাই বলে তোমরা কারো ব্যাপারে ভুল ধারনা নিয়ে থাকবে, তার ব্যাপারে ভুলভাল কথা বলবে সেটা তো ঠিক না। আমি শুধু সঠিকটা ধরিয়ে দিয়েছি। এখানে বিয়ের কথা এলো কোত্থেকে?"
দ্বীতি বেগম হতাশ শ্বাস ছাড়লেন। স্বামীকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
"তোমার বোনের তো আগে থেকেই ইচ্ছে ছিলো, তোমার মা আজ তাতে নতুন মশলা যোগ করেছে। না করার পরও উনি শখ ছাড়ছেন না। এই বিয়েটা সম্ভব না। তুমি প্লিজ ওদের বুঝিয়ে বলো।"
আফজাল সাহেব বললেন,
"তুমি মা-কে বোঝানোর চেষ্টা করো নি? মা বুঝেছে কিছু? যদি বুঝতোই তাহলে আজ সবার সামনে এমন অদ্ভুত আবদার করে বসতো না। আমি তাদের মুখের উপর কিভাবে না করে দেই?"
দ্বীতি বেগম উত্তেজনায় চেঁচিয়ে বললেন,
"তাহলে কি হ্যাঁ করে দিবো? মেয়ে দিয়ে দেই? এটাই চাইছো তুমি?"
দ্বীতি যতটা উত্তেজিত, আফজাল সাহেব ততটাই শান্ত। তিনি পুনরায় স্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন,
"মা এখনও পুরোপুরি সুস্থ নয়। এখন এই ব্যাপারে কথা না বললেই ভালো হয়। আর আরেকটা কথা আমি শায়রাকে জিজ্ঞেস করবো। ফাইজান যেগুলো বললো সেগুলো সত্যি?"
বলা বাহুল্য, শায়রার বুঝতে সময় লাগলো না তার বাবা কিসের কথা বলছে। সে সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে বলল,
"হ্যাঁ। আমি ওইদিন আটটার টাইমিং বেঁধে দেয়ার পরও ও দেরি করে এসেছে। দশটায় এসেছিলো বলে আমি বারোটা অব্দি কাউকে দরজা খুলতে দেই নি। ওভাবেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে ওকে। এটা সত্যিই!"
আফজাল সাহেব কিছু একটা ভেবে বললেন,
"তুমি কেবিনে যাও। দাদির কাছে। আমরা একটু পর আসছি।"
শায়রা ভয়ে ভয়ে মাথা নেড়ে রওনা করলো কেবিনের উদ্দেশ্যে। আকস্মিক আজকের ঘটনাটায় ঘাবড়ে গেছে ভীষণ। কি থেকে কি হবে কিছুই ধারনা করতে পারছে না। হৃৎপিন্ডে যেন কেউ অনবরত হাতুড়ি পেটা করছে৷
শায়রা চলে যেতেই দ্বীতি বেগম বললেন,
"ওকে পাঠিয়ে দিলে কেবিনে? খুব ভালো। আচ্ছা, আমি কি বলছি সেটা শুনো। শায়রা সিলেট ফিরে এসেছে, ব্যস এসেছে। আমরা আর ওকে ঢাকা যেতে দিচ্ছি না। আর এই বিয়ের ব্যাপারটা যত দ্রুত সম্ভব শেষ করবে।"
আফজাল সাহেব বললেন,
"একটু পজিটিভ ভাবো, দ্বীতি। আমাদের সমস্যাটা আসলে কোথায়? ছেলের মধ্যে কি সমস্যা? নাকি ছেলের ভবঘুরে স্বভাবে? যদি ওর স্বভাবটাই আসল সমস্যা হয়, তাহলে শায়রা না হয় পরিবর্তন করে ফেলল সেটা!"
দ্বীতি বেগম চুপ রইলেন খানিক। স্বামীর দিকে পলকহীন তাকিয়ে পুনরায় বললেন,
"তোমার আসল দুর্বলতা তোমার মা। মায়ের কথায় এখন তুমি রাজি হয়ে বসেছো? আর পরিবর্তনের কথা বলছো? ফাইজান যদি পরিবর্তন না হয় তো?"
"এক সপ্তাহে যদি এতটুক পরিবর্তন আসতে পারে, বাকিটুকও পারবে। বললেই তো সাথে সাথে মেয়ে দিয়ে দিচ্ছি না!"
আফজাল সাহেব অবিরাম বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবুও দ্বীতি বেগম নারাজ। তিনি বিশাল চিন্তিত হয়ে বললেন,
"পরিবর্তনটা যদি লোক দেখানো হয়? মেয়ে দেয়ার পর ও যদি আবার আগের মতো হয়ে যায়।"
আফজাল সাহেব মৃদু হেসে বললেন,
"লোক দেখানোর জন্য কিছু করবে ফাইজান? এটা আদ্যো তার স্বভাবের সাথে যায়? ভাগ্না হিসেবে আমি যতটুকুই চিনেছি একমাত্র এই ভবঘুরে স্বভাব বাদে খারাপ কিসে? ওরকম বয়সে এসব একটু-আধটু হয়। পরে সব ঠিক হয়ে যাবে।"
দ্বীতি বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
"সব ঠিক হয়ে যাবে এই ভরসায় কি মেয়ে দেয়া উচিত হবে?"
"আহহা, দ্বীতি! তুমি তো এমনভাবে বলছো যেন আমরা কালই মেয়ে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছি। আমরা সময় নিবো। আল্লাহ অবশ্যই সঠিক পথ দেখাবেন।"