হৃদয়ের রঙিন ক্যানভাস

পর্ব - ৫

🟢

সূর্যের তাপ জ্বলজ্বল করছে বাইরে। নগরীর প্রত্যেকে ব্যস্ত নিজের নিজের কাজে। সকালের সুন্দর প্রকৃতি দেখার সময় কই তাদের? এই যে সূর্যের কোমল তাপ, পাখিদের কিচিরমিচির, এসবের আনন্দ ক্ষীণ তাদের মনে। ছুটছে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে।

জানলার পর্দা অল্প একটু ফাঁক করা। অতটুক জায়গা গলেই রৌদ্রের তাপ প্রবেশ করলো ভেতরে। প্রতাপ চালালো সোজাসুজি বিছানায় আরামসে শুয়ে থাকায় ছেলেটার উপর।

ফাইজানের শ্যামলা মুখবিবরে রোদ পড়তেই কপাল কুঁচকালো সে। ছোট ছোট চক্ষুদ্বয়ের উপরাংশে থাকা থাকা ভ্রুযুগল ঠিক মাঝখানটায় এসে সন্ধি জমালো। মুখ থেকে আপনা-আপনি বেরিয়ে এলো 'চ' সূচক শব্দ।

ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে রোদ একাই যথেষ্ট নয়। সঙ্গে যোগ হলো এলার্ম। বিকট শব্দে বেজে চলল কিছুক্ষণ। ফাইজান আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসে এলার্মটা বন্ধ করে দিলো। খানিকটা সময় বেহুদা বসে থেকে উঠে গেলো ফ্রেশ হতে।

*******

ফাইজান সাধারণত ক্লাস শুরু হওয়ার অনেক আগেই ভার্সিটি চলে যায়। বন্ধুদের সাথে আড্ডা, অন্যদের হয়রানি কিংবা মা*রামা*রিতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে এরপর ক্লাসে যায়। যেহেতু শায়রার এসব ভেজাল নেই, তাই মেয়েটা আরও দেরি করেই যায় ভার্সিটি।

ফাইজান রুম থেকে বেরিয়ে এসে চেয়ারে বসতে বসতে বলল,

"আম্মু, নাস্তা দাও।"

মালেকা বেগম রান্নাঘরের থেকে বেরিয়ে ছেলেকে দেখে নিলেন। পুর্বের ন্যায় আজও শার্টের উপরের বোতাম দু'টো খোলা। চুলগুলো এলোমেলো, মনে হচ্ছে শুধু হাত চালিয়ে গুছিয়ে রাখার ব্যর্থ প্রয়াস। গায়ের রঙটা তার চাপা হলেও চেহারাটা বিশেষ নজরকাড়া। মুখশ্রীর ভাব-ভঙ্গি দেখেই বুঝা যায়, হঠাৎ হঠাৎ রেগে যাওয়ার বাজে স্বভাব এই ছেলের। কারো কথা না শোনা বেপরোয়া এক বাউন্ডুলে!

মালেকা বেগম ছেলের জন্য নাস্তা পরিবেশন করলেন। ফাইজান দ্রুততার সাথে খেয়ে উঠে গেলো। বাসা থেকে বের হবে, এমন মুহুর্তে আনুসার রুম থেকে বের হলো শায়রা। কাছাকাছি এসে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ফাইজানকে সম্পূর্ণ স্ক্যান করে বলল,

"তোমার শার্টের উপরের দু'টো বাটন কি জীবনেও লাগবে না?"

ফাইজান থামলো। শায়রার দিকে ঘুরে তাকিয়ে বিরক্তি সহকারে বলল,

"আমি ওইদিন কি বলেছি, শুনিস নি? আমার শার্টের বাটন আমি যা মন চায় করবো। বাটন লাগাবো না আমি। কি করবি তুই?"

শায়রা বরফ-শীতল কন্ঠে বলল,

"তাহলে ধরেই নিলাম, তুমি বাটন লাগাবে না। রাইট?"

ফাইজান তেজ দেখিয়ে বলল,

"ইয়েস। আর তুই! জীবনের ধ্যান-জ্ঞান খাবারকে দিয়ে রেখেছিস, ওটাকেই দে৷ আমার কাজেকর্মে নাক গলানো বন্ধ কর, মুটকি।"

শায়রা একপেশে হাসলো। তাচ্ছিল্য মিশ্রিত স্বরে বলল,

"কাজ-কর্ম করলে তো নাক গলাবো! শুনো মিস্টার বাউন্ডুলে, তোমার অ-কাজে নাক গলানোর ইচ্ছে আমার নেই। তোমারই শখ লাগে আমার খাবার নিয়ে নাক গলাতে!"

শেষের কথাটায় উঁচু হলো কন্ঠস্বর, যেন ধমকাচ্ছে। ফাইজান ওর ধমকে পাত্তা দিলে তো? সে উলটো তাচ্ছিল্যের সুরে বলল,

"এ মুটকি, শোন! তোর খাবারের টপিকে কথা বলার বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্ট নেই আমার! তুই খেয়ে খেয়ে আলুর বস্তা হয়ে গেলেই বা আমার কি? জাস্ট আমার শার্টের বাটন, চুল, ভার্সিটির কাজ, এগুলো নিয়ে কথা বলবি না।"

শায়রা কটমট করে বলল,

"প্রত্যেক কথায় আমার স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলার ভূত আমি ছুটাচ্ছি! ওর শার্টের বাটন তো আমি..."

স্বাভাবিকভাবেই মুখ থেকে একটা গালি বেরিয়ে আসতে নিয়েছিলো ফাইজানের। কিন্তু মায়ের কথা ভেবে সংবরণ করলো নিজেকে। আশেপাশে তাকিয়ে দেখে নিলো, তার মা ডাইনিং টেবিলের সামনেই দাঁড়ানো। আর বাবা খাবার হাতে নিয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে তামাশা দেখছে। ফাইজান বলবে কি বলবে না, ভাবলো কিছুক্ষণ! অতঃপর মা-বাবা যেন শুনতে না পায় এরকম চাপা স্বরেই বলল,

"বা*ল ফালা তুই!"

বলেই ঠা*স করে দরজাটা টেনে চলে গেলো। শায়রা হতভম্ব হয়ে গেলো কয়েক মুহুর্তের জন্য। ফজল সাহেব কৌতুহল দমন করতে না পেরে জিজ্ঞেস করে বসলেন,

"শায়রা, ও কি বলে গেলো তোমাকে?"

শায়রা থতমত খেয়ে কোনোরূপ বলল,

"অনেক আস্তে বলেছে, ফুপা। আমিও ঠিকঠাক শুনতে পাই নি।"

ভদ্রলোক মেনে নিলেন সেটা। এর পরপরই শায়রা চেঁচিয়ে ডাকলো,

"আনুসা, একটা কাঁ*চি নিয়ে আয় তো!"

বলতে দেরি, মেয়েটার হুকুম তামিল করতে দেরি না। কাঁ*চি নিয়ে আসতেই দু'জনে ঢুকে গেলো ফাইজানের রুমে।

ডাইনিং টেবিলে বসা দু'জন মানুষ হতভম্ব। ফজল সাহেব বেশ কিছুটা সময় নিয়ে বললেন,

"ফাইজানের আম্মু, একটা কথা বলবো?"

ভদ্রমহিলা আস্তে উচ্চারণ করলেন, "হু।"

"তোমার ছেলেকে সোজা করার কাজটা শায়রাই করতে পারবে। দেখছো না, কদিনেই কিভাবে টাইট দিচ্ছে? এরপর দায়িত্বটা কি শায়রাকে দেয়া যায়?"

স্বামীর কথার ইঙ্গিতে অন্যকিছু খুঁজে পেলেন মালেকা বেগম। নিশ্চিত হতে ঢোক গিলে শুধালেন,

"কি বলতে চাইছো, তুমি?"

ফজল সাহেব তাকালের স্ত্রীর দিকে৷ বললেন,

"দু'জনকে পাশাপাশি দাঁড়ানো অবস্থায় দেখেছো? ভালো মানায় না?"

মালেকা বেগম তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর খুঁজে পেলেন না। বেশ কিছুক্ষণ ভেবে রয়ে-সয়ে বললেন,

"পাশাপাশি দাঁড়ালে মানায়, এটা দেখেছো। কিন্তু পাশাপাশি দাঁড়িয়ে যে ঝগড়া করছিলো, সেটা দেখো নি?"

ফজল সাহেব আগ্রহী হয়ে জানতে চাইলেন,

"তুমি বলতে চাইছো, ওদের দু'জনের মধ্যে বনবে না?"

ভদ্রমহিলা ঘনঘন মাথা নাড়লেন। আত্মবিশ্বাসী সুরে বললেন,

"উহু। অসম্ভব। ফাইজান শায়রাকে সহ্যই করতে পারে না। আর বড় কথা, ভাইয়া এই ব্যাপারটা মানবে বলে আমার মনে হয় না। তোমার ছেলের স্বভাব জানো না তুমি? কোন মেয়ের বাবা-মা চাইবে একজন ভবঘুরে ছেলের হাতে মেয়ে তুলে দিতে? ছোট বোন বলে কি এমন অন্যায় আবদার করতে পারি?"

ফজল সাহেব মৃদু হেসে বললেন,

"তোমার ছেলে যে খুব একটা খা*রাপ, তাও কিন্তু নয়। হ্যাঁ, বন্ধুদের সাথে মিশে উ*চ্ছন্নে গিয়েছে এটা আমিও মানি। কিন্তু সময় কি শেষ হয়ে গেছে? জীবনটা তো সবে শুরু। ও চাইলে এখনও সব গুছিয়ে নিতে পারে। ফিরতে পারে এই ভবঘুরে জীবন থেকে। একটা জিনিস খেয়াল করেছো? এতগুলো দিনে তোমার ছেলের রাস্তা-ঘাটে মা*রামা*রির অ*ভিযোগ অনেক পেয়েছি। তবে কোনো মেয়েকে বিরক্ত করে, এরকম অ*ভিযোগ আজও পাই নি। এটা একটু হলেও পজিটিভ খবর আমাদের জন্য।"

মালেকা বেগম তবুও আপত্তি করে বললেন,

"গুছিয়ে নিতে পারে। তবে তোমার ছেলে কি গুছিয়ে নিয়েছে? দিনে দিনে আরও বিগড়ে যাচ্ছে। আদ্যো কোনোদিন ভবঘুরে জীবন থেকে ঘরোয়া হবে ও? কোন বিশ্বাসে একটা মেয়ের জীবন ন*ষ্ট করার কথা ভাববো আমি? আর তুমি তো আরও অবাস্তব কথা বলছো! ভাইয়ার কাছে এই আবদার আমি করতে পারবো না।"

ফজল সাহেব হাল ছাড়লেন না। বললেন,

"চেষ্টা করতে দোষ কই? হতেও তো পারে বিয়ের পরপর তোমার ছেলে সংসারী হয়ে গেলো। আর শায়রার জে*দের কবলে পড়লে ওকে শুধরাতেই হবে! তুমি আফজাল ভাইকে বলেই দেখো!"

মালেকা বেগম অনেকক্ষণ গাঁইগুই করে অনিচ্ছাসত্ত্বেও রাজি হলেন৷ তবে আফজাল ও দ্বীতি যে প্রস্তাবে রাজি হবেন না, এটা সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত তিনি। ফাইজানের প্রত্যেকটা অভ্যাস জানা আছে তাদের। উপরন্তু ফাইজানের শায়রার সাথে করা আচরণ! এতকিছু জেনেও কোন বাবা চাইবে মেয়ের জীবন ন*ষ্ট করতে?

********

রাত্রি আটটা বাজার ঠিক পাঁচ মিনিট আগেই অপ্রত্যাশিতভাবে কলিংবেল বেজে উঠলো। ফজল সাহেব বাড়িতে আসেন রাত্রি সাড়ে আটটা কিংবা নয়টায়। কখনো-সখনো বেশি কাজ থাকলে দশটাও বাজে। এই আটটায় তো তার আসার কথা নয়! তাহলে কে?

দরজা খুলে দিলো আনুসা। ফাইজানকে দেখে মেয়েটা নিজেই ভড়কালো। শায়রার একদিনের ডোজেই যে কাজ হয়ে যাবে, এটা ভাবতেই পারে নি ও।

ঘামে ফাইজানের শার্টের পিঠের দিকটা ভিজে আছে। ক্লান্ত ভঙ্গিতে ভেতরে ঢুকলো ছেলেটা। সোফায় বসেই গতকালের মতো পানি আনার হুকুম দিলো আনুসাকে। মালেকা বেগম ফাইজানের মুখোমুখি সোফাটায় বসে শুধালেন,

"কিরে? আজ এত তাড়াতাড়ি কিভাবে?"

খ্যাঁক করে উঠলো ফাইজান,

"আটটার পর আসলে তো তোমার গুনধর ভাতিজি ঘরে ঢুকতে দেয় না। কাল প্রায় দু'ঘন্টার মতো দাঁড় করিয়ে রেখেছে আমাকে। এরমধ্যে উপর-নীচ ছুটিয়ে মে*রেছে। আজকে আবার কে যাবে দু'ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকার ডিউটি করতে? এজন্য আড্ডা শেষ করে জলদি এসে পড়েছি।"

মালেকা বেগম মনে মনে বেশ খুশি হলেন। বাহবা দিলেন শায়রার বুদ্ধিকে! অবশেষে তবে ছেলের মাথায় সুবুদ্ধির উদয় হতে চলল!

রাত্রিবেলায় আর মুখোমুখি হয় নি দু'জন। ফাইজান আগে আগেই খেয়ে রুমে চলে গেছে। শায়রা দেরি করে বসেছিলো বাকিদের সাথে। তাই আর কোনো ভেজালের মুখে পড়তে হলো না।

**********

রাত্রিবেলায় সব ভালোয় ভালোয় মিটে গেলেও বিপত্তি বাঁধলো পরদিন সকালে। সকাল সকাল উঠে ফাইজান রেডি হয়ে কাবার্ড থেকে শার্ট বের করলো। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে শার্টের বোতাম লাগাতে গিয়ে বিস্মিত হয়ে লক্ষ্য করলো, শার্টের একটাও বোতাম নেই।

ফাইজান হতভম্ব হয়ে হা করে রইলো কিছুক্ষণ। হুশে আসতেই প্রথমে মনে এলো শায়রার নাম। নিশ্চিত এই কু*কর্মের পেছনে শায়রার হাত আছে। সকাল সকাল মেজাজটা সপ্তমে চড়ে গেলো ফাইজানের।

পড়নের শার্টটা খুলে ছুড়ে ফেলল বিছানায়। গটগট করে হেঁটে গিয়ে কাবার্ড থেকে আরেকটা শার্ট বের করলো। এটারও একই অবস্থা। একটাও বোতাম নেই। ফাইজান রে*গেমেগে ওটাকেও ছুড়ে ফেলল। পরবর্তী শার্ট হাতে নিতেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। পরপর চার-পাঁচবার একই ঘটনা দেখেই বিরক্তি আর রা*গে ফুঁসতে শুরু করলো ছেলেটা। বন্ধ রুম থেকেই বাজখাঁই গলায় চিৎকার ছুড়লো,

"শায়রা!"

ফাইজানের গর্জন শুনেই লাফিয়ে নিজের রুম থেকে বেরিয়ে গেলো আনুসা। ভয়ে গুটিসুটি মেরে কিচেনে থাকা মায়ের পেছনে গিয়ে লুকালো। অথচ শায়রা নির্বিকার। ধীরে-সুস্থে প্লেটগুলো রাখছে ডাইনিং টেবিলে। ভাবখানা এমন, যেন চিৎকারের শব্দ তার কানেই যায় নি!

ফাইজান ডাইনিং টেবিলের কাছে তেড়ে এলো একপ্রকার। গর্জে উঠে বলল,

"সমস্যা কি তোর, মুটকি? আমার শার্টের বাটনগুলো কই?"

ফাইজান শার্টবিহীন খালি গায়েই বেরিয়ে এসেছে। শায়রার হাসি পেলো ভীষণ। তবুও দমন করলো সেটাকে। মুখশ্রীতে গুরুগম্ভীর ভাব ধরে রেখে বলল,

"আহা, আস্তে চেঁচাও। তোমাকে বারবার বলি এটা ভদ্রলোকের বাড়ি। এভাবে চেঁচালে পুরো বিল্ডিংয়ের মানুষ লাঠি-সোঁটা নিয়ে তোমাকে পি*টাতে আসবে। এসব আমাদের ভালো লাগবে, বলো? এজন্যই বারবার সাবধান করি। তুমি তো শুনতেই চাও না!"

ফাইজান দাঁতে দাঁত পিষে ধ*মকে উঠলো,

"চুপ একদম! ভদ্রতার জ্ঞান আমাকে দিতে আসিস না। কি অকাজ করেছিস কাল? আমার একটা শার্টেও বাটন নেই কেন?"

শায়রা কিছু একটা মনে পড়ার ভঙ্গিতে ঠোঁট গোল করে বলল,

"ওহহো, শার্টের বাটন? দেখো, তুমি তো শার্টের বাটন লাগাবে না। তাই আমি ভাবলাম ঝামেলা রেখে কি হবে? তাই তোমার সব শার্টের বাটনগুলো ছুটিয়ে নিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছি। ভালো করেছি না?"

ফাইজান হাতের মুঠো শক্ত করে রাগ দমনের চেষ্টা করলো। মালেকা বেগম ওদের কাহিনি দেখে ঘনঘন চোখের পলক ফেলছেন। শায়রার কর্মকান্ডে হাসিও পাচ্ছে। আবার ছেলের কথা ভেবে হাসতেও পারছে না। কি যে মুসিবতে আছেন, সেটা তিনি নিজেই বুঝতে পারছেন!

শায়রা কৌতুহলী হয়ে চেয়ে আছে ফাইজানের দিকে। জানতে চায়, কি হবে ফাইজানের প্রতিক্রিয়া। ছেলেটা বেশ কষ্টে রাগ দমিয়ে বলল,

"তুই একটা মাথামোটা। খেতে খেতে নিজের মাথার ব্রেইনটাও খেয়ে ফেলেছিস। কয়দিন এই বাড়িতে থাকলে আমারটাও খেয়ে ফেলবি। উফফ, অ*সহ্য একটা!"

শায়রা বুঝতে পারার ভঙ্গি করে বলল,

"ওহহ আচ্ছা।"

ফাইজান ধমকে উঠলো পুনরায়,

"কি আচ্ছা? তোকে আমার কাবার্ডে হাত দেয়ার সাহস কে দিয়েছে? আবার আমার শার্টগুলো নিয়ে ন*ষ্ট করে রেখেছিস। তোকে আমার রুমে ঢুকার পারমিশন কে দিয়েছে?"

শায়রা মুখখানা গোমড়া করে বলল,

"আচ্ছা, আর যাবো না। আজকেই লাস্ট। কাল থেকে আর তোমার রুমে যাবো না।"

"আজকে আবার কি করতে যাবি?"

শায়রা ভালো মানুষের ন্যায় মুখ করে জবাব দিলো,

"কাল তোমার চিরুনিটা ফেলতে ভুলে গিয়েছিলাম। তুমি তো এমনিতেও চুল আঁচড়াও না। তাহলে চিরুনি রেখে কি লাভ? ওটাকেও ডাস্টবিনে ফেলে দিবো। শুধু শুধু ঘরে ঝা*মেলা রেখে লাভ আছে?"

ফাইজান ক্ষিপ্ত কন্ঠে বলল,

"আমার জিনিসপত্রের উপর থেকে নজর সরা, মুটকি। এগুলোর ভাগ তোকে দেই নি আর কোনোদিনও দিবো না। খবরদার আমার কোনো জিনিসে যদি আর হাত দিয়েছিস! তাহলে..."

শায়রা ভ্রু নাঁচিয়ে শুধালো,

"তাহলে কি?"

ফাইজান জবাব দিলো,

"তাহলে তোকে আমি ডাস্টবিনে নয়, ময়লার স্তুপে ফেলে আসবো। কারণ তুই নিজেই একটা ঝা*মেলা!"

বলেই আর বিপরীর জবাবের অপেক্ষা করলো না। গটগট করে হেঁটে রুমে প্রবেশ করলো। খানিক বাদে বেরিয়ে এলো টি-শার্ট গায়ে দিয়ে। চিরুনির কথা মনে করানোতে চুলও আঁচড়েছে। আজ যেন এক অন্যরকম ফাইজানকে দেখলো তারা। সে যখন নাস্তা খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো, তৎক্ষনাৎ শায়রা পাশে বসা আনুসার কানে কানে বলল-

"তোর ভাইকে আজ পুরোই একটা ভদ্রতার প্যাকেজ লাগছে!"

হৃদয়ের রঙিন ক্যানভাস পর্ব ৫ গল্পের ছবি