-❝ভাই, ভার্সিটিতে আসা নতুন একটা মেয়ে শুভকে থা*প্পড় মেরেছে।❞
❝হোয়াট! এই ভার্সিটির র্যা*গিং টিম আমরা আর আমাদের গ্রুপ মেম্বারকে থা*প্পড় মারলো নতুন একটা মেয়ে? এত সাহস পেয়েছে কোথায়?❞
আহাদের বলা কথা শুনে হতভম্ব ফাইজান। তাদের চারজনেরর ছোট্ট একটা গ্রুপ। যার সদস্য ফাইজান, আহাদ, শুভ আর রিজভী। মায়ের কল আসায় মাঠের একপাশে সরে যেতেই স্বল্প সময়ে আকস্মিক ঘটনাটা ঘটে গেলো। কোথাকার কোন মেয়ে এসে শুভকে থা*প্পড় মেরে বসেছে।
ভার্সিটির সিনিয়র হওয়ার সুবাদে ফাইজানদের এই চারজনের গ্রুপটা প্রায়ই নতুন আসা শিক্ষার্থীদের র্যাগ দেয়। আজ নতুন কারো প্রবেশ ঘটলে হিসাব মতে শুভ তাকে র্যাগ দিতো। কিন্তু হয়ে গেলো উলটো। ঘটনা কি ঘটেছে পুরোটা জানার জন্য ফাইজান এগিয়ে গেলো শুভ ও রিজভীর দিকে। তাদের সামনে নিষ্পাপ মুখভঙ্গি করে দাঁড়িয়ে আছে একটি মেয়ে। উজ্জ্বল গায়ের রঙে কমলা রঙের একটি থ্রি-পিস পড়নে। পিঠ পর্যন্ত চুলগুলো বেণী করা। ফাইজান সোজা তার পিছনে গিয়ে ডাক দিলো,
❝এই মেয়ে! তোমার সাহস কি করে হয় নিজের সিনিয়রকে থা*প্পড় মারার? এই ভার্সিটিতে থাকার ইচ্ছে নেই নাকি?❞
পরিচিত কন্ঠস্বর পেয়ে মেয়েটি ঘুরলো ফাইজানের দিকে। কয়েকবার পলক ফেলে সোজাসুজি তাকিয়ে রইলো তার শ্যামলা মুখশ্রীর দিকে।
অন্যদিকে ফাইজান ওকে দেখে বিস্ময়াভূত৷ অস্ফুটস্বরে বলে উঠলো,
"শায়রা, তুই!"
শুভ গাল থেকে হাত নামিয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকালো ফাইজানের দিকে। গোমড়ামুখে বলল,
”তুই একে চিনিস? তার মানে আমাকে থা*প্পড় মারার টাস্কটা তুই-ই দিয়েছিস? শা*লা আমার পিঠে ছুরি মারলি তুই?"
ফাইজান হতভম্ব হয়ে বলল,
"কিসব বলছিস? আমি ওকে এরকম কেনও করতে বলবো?"
শায়রা দাঁত দিয়ে জিভ কাটলো। ফাইজানকে নাজেহাল করার প্রথম ষ*ড়যন্ত্রটাই ব্যর্থ হলো তার। ভেবেছিলো, চ*ড় মেরে সুন্দর করে ফাইজানকে দেখিয়ে দেবে। এরপর মারগুলো পড়বে ফাইজানের কপালে। কিন্তু ফাইজান যে এর বন্ধু হবে সেটা কে জানতো?
ফাইজান শায়রার ভাব-ভঙ্গি দেখে ধমকে উঠলো,
"এই মুটকি! এত মি*থ্যে কোত্থেকে শিখেছিস তুই? আমি বলেছিলাম শুভকে চ*ড় মারতে? ভার্সিটিতে ঢুকতে না ঢুকতেই আমার নামে মিথ্যা বলা শুরু করলি? তুই কোনোদিনও ভালো হবি না নাকি?"
শায়রা হাত উঁচিয়ে ওকে থামিয়ে দিলো। ভরা ভার্সিটিতে বাড়ির নামে ডাকায় ক্ষেপে গেছে খুব। তেঁতে উঠে বলল,
"ওয়েট ওয়েট! আমাকে ধমকা-ধমকি বন্ধ করো তুমি। এই ভাইয়াটা আমাকে ডেকেছিলো র্যাগ দিতে। আর তুমি র্যাগিং টিমের মেম্বার? ভার্সিটিতে আসো গুন্ডামি করতে? ফুপ্পিকে গিয়ে বলবো তোমার এই খবর?"
ফাইজান হাসিতে উড়িয়ে দিলো শায়রার কথা। হাসতে হাসতে বলল,
"অ্যাই, গোল আলু! নতুন নতুন বাড়িতে ঢুকে সবার উপর দালালি করবি ভেবেছিস? যা মন চায় বল গিয়ে আম্মুকে। তোকে ভয় পাই নাকি?"
শায়রা ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো ফাইজানের নির্লিপ্ত মুখশ্রীর দিকে। মনে মনে কথা সাজিয়ে নিচ্ছে। তবে সেগুলো বলার সুযোগ পেলো না। তার আগেই শুভ জিজ্ঞেস করলো,
"এই মেয়ে তোর কি হয়, ফাইজান?"
ফাইজান বিরস মুখে বলল,
"আমার মামাতো বোন হয়। এক সপ্তাহ বাড়িতে এসেছে কি, আমার জীবন হারাম করে রেখে দিয়েছে।"
শায়রা রাগান্বিত হয়ে বলল,
"জীবন হারাম করে দিয়েছি? হারামের দেখেছো কি মিস্টার বাউন্ডুলে! এরপর দেখো ধীরে ধীরে কি হয়।"
ফাইজান তাচ্ছিল্যসূচক হেসে বলল,
"তুই আমার জীবন হারাম করবি? আগে নিজের খাওয়া-দাওয়া থেকে ছুটি পেয়ে নে। দিনের অর্ধেক সময় তো খাওয়ার পেছনেই বের করিস। অন্য কোনো কাজ করবি কি করে? খেতে খেতে তো দিনে দিনে আরও মুটকি হচ্ছিস!"
শায়রা গর্জে উঠে বলল,
"খবরদার মুটকি বলবে না আমাকে! মানি, আমার স্বাস্থ্য একটু ভালো। তবে এটাকে মুটকি বলে না। বাই দা রাস্তা, তোমার শশুড়বাড়ির খাবার খাচ্ছি নাকি, যে আমি মোটা হলে তোমার সমস্যা?"
ফাইজান প্রতিত্তোরে ব্যাঙ্গাত্মকভাবে বলল,
"শশুড়বাড়ির নয়। আমার মামাবাড়ির অন্ন ধ্বংস করছো।"
শায়রা একইরকম ভেঙচি কেটে বলল,
"আর তুমি আমার ফুপুরবাড়ির অন্ন ধ্বং*স করছো। যাই হোক, এবার বন্ধু বন্ধু নিজেদের ম্যাটার নিজেরা সামলে নাও। আর শুভ ভাইয়া, আমার থাপ্পড়ের বদলাটা চাইলে ফাইজান ভাইয়ার থেকে নিয়ে নিয়েন। আমি ক্লাসে যাই। টাটা এভ্রিওয়ান!"
বলেই বেশ ঠাট-বাট নিয়ে চলে গেলো সেখান থেকে। ফাইজান রাগান্বিত দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো ওর যাওয়ার পানে। শুভ বলল,
"শেষমেশ তুই আমাকে থা*প্পড় মারার অর্ডার দিলি, ফাইজান?"
ফাইজান মহাবিরক্ত হয়ে চাইল শুভ-র দিকে। বলল,
"ও একটা মিথ্যা কথা বলে গেলো, আর তুই বিশ্বাস করে নিলি? আমার ঠেকা পড়েছে ওকে এসব বলার?"
শুভ ক্ষ্যাপাটে স্বরে বলল,
"ওর ঠেকা পড়েছে মিথ্যা কথা বলার? আগেই তোকে দোষ দিবে কেন? আর কেউ ছিলো না?"
ফাইজান 'চ' সূচক শব্দ করে বলল,
"ব*লদের মতো কথা বলা বন্ধ কর! আমি..."
আচমকা কারো কল আসায় থামতে হলো ফাইজানকে। পকেট থেকে ফোন বের করে মায়ের নাম্বার দেখে সঙ্গে সঙ্গে রিসিভ করলো। অপরপাশ থেকে মালেকা বেগম জিজ্ঞেস করলেন,
"কি হয়েছে রে? ওইসময় হঠাৎ ওভাবে কলটা কেটে দিলি কেন?"
ফাইজান প্রতিত্তোরে বলল,
"তোমার ভাতিজি এসে পৌঁছেছে ভার্সিটিতে। ঢুকতেই তুফান নিয়ে ঢুকেছে৷ আর তুমি কি বলছিলে? ওর আজকে ফার্স্ট ডে, তাই আমি যেন দেখে রাখি?"
মালেকা বেগম কৌতুহলী হয়ে শুধালেন,
"তুফান নিয়ে ঢুকেছে? কি করেছে শায়রা?"
ফাইজান বলল,
"আমার বন্ধু শুভ আছে না? ওকে চ*ড় মেরেছে?"
ভদ্রমহিলা বিন্দুমাত্র বিচলিত হলেন না এই কথা শুনে। উলটো ভাতিজির পক্ষ নিয়েই বললেন,
"শায়রা সব রেখে চ*ড় মারার জন্য শুভকেই কেন পেলো? ভার্সিটিতে ঢুকেই তো কেউ কারণ ছাড়া অচেনা মানুষকে গিয়ে চ*ড় মারবে না, তাই না?"
উপযুক্ত জায়গায় হাত পড়ায় থতমত খেয়ে গেলো ফাইজান। খানিক ইতস্তত করে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে জবাব দিলো,
"মা, আমরা ভার্সিটির সিনিয়র। নতুন কেউ আসলে পরিচিত হওয়ার জন্য ডাকতেই পারে!"
মালেকা বেগম ঠিকঠাক বুঝে গেছেন আসল ব্যাপারটা। তিনি বললেন,
"ভার্সিটিতে সিনিয়ররা নতুনদের সাথে কিভাবে পরিচিত হয়, সেটা আমার জানা আছে। বাহানাবাজি বন্ধ করো। শায়রার মতো প্রত্যেক নবাগত একটা করে চ*ড় মেরে দিলে তোমাদের র্যা*গিং-এর ভূত ছুটে যাবে। এত করে বলি, তাও তো একটা কথাও শুনো না কোনোদিন!"
ফাইজান বিরক্ত হয়ে বিড়বিড়িয়ে বলল,
"আবার শুরু হয়ে গেলো রোজকার ডায়লগ! আমার লাইফ যে আমি একটু শান্তিমতো কাটাবো, সেটা আর হয় না।"
মালেকা বেগম আরও কয়টা আদেশ-উপদেশ দিয়ে কল কেটে দিলেন। অতঃপর ফাইজান শুভকে বোঝাতে শুরু করলো, তার দোষ নেই। কিছুক্ষণ গাঁইগুই করে শুভ মেনে নিলো ব্যাপারটা। বলল,
"এই থা*প্পড়ের কথা কিন্তু আমি ভুলছি না। তোর কাজিনকে সাবধানে রাখিস। নয়তো আমার হাতে পড়লে, বদলা নেয়ার সুযোগ ছাড়বো না।"
ফাইজান স্মিত হেসে মাথা নাড়লো। বাতাসের ঝাপটায় এলোমেলো চুলগুলো উড়লো অল্পস্বল্প। জিজ্ঞেস করলো,
"শায়রা দোষটা কার উপর চাঁপিয়েছে?"
শুভ জবাবে বলল,
"তোর উপর।"
"ইয়েস! তাই বদলাটাও আমিই নিবো।"
*********
সিলেটের মফস্বলে বসবাসরত ছোট্ট পরিবার আফজাল সাহেব ও দ্বীতির। স্বামী-স্ত্রী, একমাত্র মেয়ে শায়রা ও বৃদ্ধ মা। চাকরির সুবাদে বহুকাল আগেই এই পরিবারটি থিতু হয়েছেন এখানে। এরমধ্যে শায়রা এইচএসসি পাস করলো। রেজাল্ট বের হওয়ার পর জেদ ধরলো ঢাকায় গিয়ে অনার্সটা কম্পলিট করবে। একমাত্র মেয়ে! আফজাল ইসলাম মেয়ের কোনো ইচ্ছাই অপূর্ণ রাখে নি। কিন্তু এই জেদটা মানার সাহস করে উঠতে পারছিলেন না।
নিজের এই দ্বিধাদ্বন্দের কথা জানালেন বোন, মালেকা বেগমকে। তখন মালেকা বেগম নিজ থেকেই উপায় বললেন, ভাতিজিকে নিজের কাছে এনে রাখবেন। ঢাকায় এসে পড়তে চাইছে, তো পড়ুক। তার বাড়ি তো আছেই থাকার জন্য।
আফজাল সাহেব প্রথমেই আপত্তি করলেন বোনের কথায়৷ বোনের জামাই কি ভাববে, না ভাববে এসব চিন্তা করেই নাকচ করে দিলেন এই প্রস্তাব। কিন্তু শায়রাকে তাদের কাছে এনে রাখায় ফজল আহমেদ বিরূপ কোনো কথাই বললেন না। বরঞ্চ আরও খুশি হলেন এটা ভেবে, তার মেয়ের একজন সঙ্গী হবে। ছেলে তো একটা আছে, সারাদিন বন্ধু ও আড্ডা নিয়ে ব্যস্ত। বাসায় আসার কোনো ঠিকঠিকানা নেই। হাজার বলে-কয়েও শুধরাতে পারছেন না ছেলেকে।
বোন ও বোন-জামাইয়ের অনুরোধে অবশেষে রাজি হলেন আফজাল সাহেব। মেয়েকে নিজে এসে বোনের বাসায় রেখে ফিরে গেলেন সিলেট।
মালেকা বেগম ও ফজল আহমেদের এক ছেলে, এক মেয়ে। ছেলে ফাইজান আহমেদ মাস্টার্স পড়ছে। তবে ঠেলাগাড়ির মতো পড়াশোনা যাকে বলে আরকি! পাস করলেই হলো। এছাড়া জীবন নিয়ে এর কোনো চিন্তাই নেই। সকালবেলা ভার্সিটি যাচ্ছে, কারো সাথে মারামারি করে আবার বাড়িতে ফিরছে, বিকেলে আবার বের হচ্ছে, আসতে আসতে রাত এগারোটা পেরিয়ে বারোটার ঘর ছুঁইছুঁই।
ছেলে ছোট হলে তাকে মেরে-ধরে মানুষ করা যায়। কিন্তু এই গাট্টাগোট্টা পুরুষ মানুষকে কে মেরে-মেরে বুঝাতে যাবে? বকা দিয়ে, কথা শুনিয়ে মানুষ করার চেষ্টা করেছিলেন তারা। কিন্তু ফাইজান সেসবে কান দিলে তো?
অন্যদিকে তারই একমাত্র বোন আফরাহ আহমেদ। ডাকনাম আনুসা। ভাইয়ের সম্পূর্ণ বিপরীত। শান্ত-শিষ্ট, মা-বাবার বাধ্য মেয়ে সে। পড়ছে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে হাতে গোনা কয়েকজন বাদে বান্ধবিও তেমন নেই। বাবা থাকে সারাদিন অফিস। মায়ের সাথেই দিন কেটে যায় তার। তাই শায়রা আসায় খুব খুশি হলো আনুসা।
যেদিন বিকেলে শায়রার এই বাড়িতে প্রবেশ ঘটলো, ফাইজান সেই মুহুর্তে বাড়িতে ছিলো না। রাতে বাড়ি ফিরে ওকে দেখেই মুখটা অন্ধকার করে ফেলল। কথা-বার্তা নেই, কুশল বিনিময় নেই, সোজা গটগট করে নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো।
********
ভার্সিটির পুরোটা সময় ফাইজানের থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে থাকলো শায়রা৷ ফাইজান যেখানে, শায়রা তার উল্টোদিকে। চেহারা দেখলেও যেন মস্ত অন্যায় হয়ে যাবে তাদের।
এরকমভাবে পুরোটা সময় কাটিয়ে দুপুরের পর বাড়ি ফিরলো শায়রা। ফাইজানদের তিন রুমের মাঝারি সাইজের ফ্ল্যাট। সেটাও চারতলায়। শায়রা দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে কলিংবেল টিপলো অস্থির ভঙ্গিতে। মালেকা বেগম এসে দরজা খুলতেই হন্তদন্ত হয়ে ভেতরে ঢুকে দরজা আটকে দিলো সে। বলতে শুরু করলো,
"জানো ফুপ্পি, আজকে ভার্সিটিতে কি হয়েছে?"
মালেকা বেগম ওকে থামিয়ে বললেন,
"শুনেছি আমি সব। এখন আসতে না আসতেই বিচার সভা বসানো লাগবে না তোদের। আগে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া-দাওয়া কর। তারপর দেখা যাবে।"
শায়রা চুপসে গেলো এই কথায়। মনে মনে ভাবলো,
"মনে হচ্ছে বাউন্ডুলেটা আমাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। ভার্সিটির প্রথমদিনই গিয়ে অকাজ ঘটিয়ে ফেলেছি! এটা মা-বাবা জানলে কি যে হবে!"
*********
শায়রা আনুসার সাথে ওর রুমটাতেই থাকছে। তার রুমের এটাচ বাথরুমটাতেই গোসল সেরে বের হলো। চুলগুলো তোয়ালেতে প্যাঁচানো। আনুসার রুম থেকে বেরিয়ে ডাইনিংরুমে আসতেই দেখলো ফাইজান চেয়ারে বসে বসে ওর অপেক্ষারত। ঘর্মাক্ত অবস্থায় পড়নের শার্ট সেঁটে আছে গায়ে। উপরের বোতাম দুটো বরাবরের মতো খোলা।
ফাইজানের পাশের চেয়ারে আনুসাও বসে আছে। খানিক বাদে বাদেই ভয়ে ভয়ে তাকাচ্ছে বড় ভাইয়ের দিকে।
শায়রা ওকে দেখেও অগ্রাহ্য করলো সম্পূর্ণরুপে। টেবিলের কাছে এসে বলল,
"ফুপ্পি, খিদে পেয়েছে। খাবার দাও।"
ফাইজান টিপ্পনী কাটলো সঙ্গে সঙ্গে,
"খাবার আর ক্ষুধা ছাড়া তোর লাইফে আর কোনো জিনিস আছে, মুটকি? দু'দিন পর তো খাবারের ওভারলোড হয়ে ফেটে যাবি।"
শায়রা ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে ঘুরে চাইল ফাইজানের দিকে। কথার উত্তর না দিয়ে অন্য প্রসঙ্গে বলল,
"ফুপ্পি, তোমার ছেলের শার্টের উপরের বাটন দুটো কি আজীবন খোলাই থাকবে?"
ফাইজান ঝট করে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। তীব্র আক্রোশে গর্জে উঠলো,
"আমার শার্ট, আমার শার্টের বাটন। আমি খোলা রাখবো, লাগানো রাখবো, সোজা লাগাবো, পিঠের উপর লাগাবো সেটা সম্পূর্ণ আমার ব্যাপার। তুই নাক গলানোর কে?"
শায়রা ফাইজানের চেয়েও দ্বিগুন তেজে চেঁচিয়ে বলল,
"আমার পেট, আমার ক্ষুধা। আমি কখন খাবো, না খাবো সেটা সম্পূর্ণ আমার ব্যাপার। তুমি এতে নাক গলানোর কে?"