হৃদয়ের রঙিন ক্যানভাস

পর্ব - ২

🟢

ডাইনিং রুমটায় নেমে এলো পিনপতন নীরবতা। আনুসা এমনিতেই ভীতু প্রকৃতির। ভাইয়ের সাথে তার সখ্যতা নেই বললেই চলে। সেখানে ফাইজানের রাগান্বিত দৃষ্টির সামনে কথা বলা তার কাছে দূরহ ব্যাপার। মা-বাবাও ব্যর্থ হয়ে হাল ছেড়েছে। কিন্তু শায়রা? সে তো পালটা জবাব দিয়ে বসেছে! এরপর ফাইজানের প্রতিক্রিয়া কি হবে, সেটা ভেবেই শিউরে উঠছে আনুসা।

মালেকা বেগম চুপচাপ দেখলেন কয়েকপল। অতঃপর বললেন,

"তোরা ঠান্ডা হ। আর ফাইজান। ভার্সিটি থেকে এসেছিস, ফ্রেশ হয়ে খেতে বস। এটা তর্কাতর্কির সময় না।"

ফাইজান উচ্চশব্দে একটা কথাও বলল না। বরং একদম বরফশীতল কন্ঠে হুকুম জারি করলো,

"আম্মু, তোমার ভাতিজি এই বাড়িতে থাকবে ভালো কথা। আমি যেই ভার্সিটিতে পড়ছি, সেখানেই পড়বে তাও চলবে। শুধু আমার চোখের সামনে আসতে না করে দিবে। আমার ওকে সহ্য হচ্ছে না।"

শায়রা মাথা তুলল না এইবার। বজ্রাহতের ন্যায় মাথা নিচু করে ভাবলো কিছু একটা। হয়তো সিদ্ধান্ত নিলো কিছুর। মালেকা বেগম ভীষণরকম আহত হলেন ছেলের আচরণে। কিছু একটা বলতে মুখ খুলেছেন সবে, কিন্তু ফাইজান বলার সুযোগ দিলো না। গটগট করে হেঁটে রুম ছাড়লো। বের হওয়ার আগে জোরেশোরে দরজা টান দিতে ভুলল না।

আনুসা গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা লাগিয়ে এলো। শান্তভাবে জবাব দিলো,

"শায়রা আপু, বসো। খেয়ে নাও।"

মালেকা বেগম মেয়ের সাথে তাল মিলিয়ে বললেন,

"ফাইজানের কথায় মন খারাপ করিস না, মা। তুই তো জানিসই ফাইজান কেমন! একটু ছন্নছাড়া, কাউকে পরোয়া করে না। ওর কথা ধরে বসিস না, মা! ওর পক্ষ থেকে আমি ক্ষমা...."

শায়রা আঁতকে উঠে বলল,

"এসব কি বলছো, ফুপ্পি! তুমি ক্ষমা চাইবে কেন? আমি কি তোমাকে বলেছি, যে আমি রাগ করে আছি?"

ভদ্রমহিলা অনুতপ্ততার সুরে বললেন,

"তোকে শখ করে এই বাড়িতে আমিই এনেছি। এরপর যদি ছেলেটার থেকে এরকম ব্যবহার পাস, তোর মন খারাপ হবে স্বাভাবিক। আমার চুল তো আর বাতাসে পাকে নি!"

শায়রা স্মিত হাসলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে। বলল,

"কে বলেছে মন খারাপ করেছি? এই তো দেখো, হাসছি আমি। আর তোমার ছেলের কথায় পাত্তা দিতে যাবো, এরকমটা কেন মনে হলো তোমার? কোনোদিন পাত্তা দিয়েছিলাম নাকি?

মালেকা বেগম বললেন,

" তাহলে খেতে বস এক্ষুনি। খাবার বাড়ছি আমি।"

ফুপুর কথায় বাধ্য মেয়ের মতো চেয়ারে বসে পড়লো শায়রা। কিন্তু মনে তার অন্য চিন্তা। এই মুহুর্তে সেগুলো প্রকাশ করা সমিচীন মনে হলো না ওর। তাই চুপচাপ খেতে লাগলো মাথা নিচু করে।

*******

খাওয়া-দাওয়া শেষে মালেকা বেগম সব গুছিয়ে রেখে ড্রইংরুমের সোফায় এসে বসলেন। শায়রা ও আনুসা আগে থেকে বসেই কিছু একটা নিয়ে আলাপ করছিলো নিজেদের মধ্যে। তিনি এসে বসায় তাদের আলাপে ব্যাঘাত ঘটলো বোধহয়৷ চুপ হয়ে গেলো দু'জনেই।

মালেকা বেগম জিজ্ঞেস করলেন,

"কি হলো? আমাকে দেখে তোরা দু'জন চুপ হয়ে গেলি কেন?"

শায়রা বেশ কিছুক্ষণ ইতস্তত করে বলল,

"ফুপ্পি, তোমাকে একটা কথা বলতে চাইছিলাম।"

ভদ্রমহিলা বেশ আগ্রহী হয়ে শুধালেন,

"কি?"

শায়রা খানিক ভেবে কথা সাজিয়ে বলল,

"ফুপ্পি, আসলে কথাটা বললে তুমি কি ভাববে, সেটা ভেবেই বলা হচ্ছে না। কিন্তু বলতে তো হবেই। আমি কিন্তু এই সিদ্ধান্তটা সিলেট থেকে আসার আগেই নিয়েছিলাম। তাই আশা করি, তোমরা কোনো অ*পরাধবোধে ভুগবে না।"

মালেকা বেগম অধৈর্য হয়ে বললেন,

"কথাটা কি, সেটা তো বলবি শায়রা!"

"আমি হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা কন্টিনিউ করতে চাই।"

বলার সঙ্গে সঙ্গে শায়রা সোজাসুজি তাকালো ফুপুর চোখের দিকে। দৃষ্টিতে আকুতি, যেন অনুমতি দিয়ে দেয়। কিন্তু হলো না সেরকম। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,

"এটা আজকে ফাইজানের কথা শুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিস তাই না? বুঝি আমি! কিন্তু কি করবো বল? ছেলেটা যে একটা কথাও শুনে না। ও বাড়ি আসুক আজ, চ*ড়িয়ে সবক'টা দাঁত ফেলে দিবো। তাও তুই এরকম সিদ্ধান্ত নিস না। তোর বাবা তোকে ঢাকায় আমাদের ভরসায় রেখে গেছে। আমরা কি দায়িত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারি?"

শায়রা বলল,

"ফুপ্পি, আমি কিন্তু বলেছিলাম একদম নিজেকে দো*ষী বলা যাবে না। আমি সিদ্ধান্তটা সিলেট থাকতেই নিয়েছিলাম। এখন মানা করো না।"

মালেকা বেগমের শান্ত কন্ঠ গায়েব হলো আচমকা। রুষ্ট স্বরে বললেন,

"এসব আমাকে বললে কাজ হবে না। সিলেটে সিদ্ধান্ত নিলে ওখানে থাকা মা-বাবাকে বল। আমি এখন তোকে বাড়ি থেকে যেতে দিচ্ছি না।"

শায়রা মৃদু হেসে বলল,

"এখন না দাও, পরে দিও। বললেই তো আর হোস্টেলে উঠা যায় না। কিছু সময় লাগবে।"

"সময় হতে হতে সিদ্ধান্ত বদলে আমার ঘরে যেন পারমানেন্ট হয়ে যাস তুই!"

মালেকা বেগম সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। রুমে গিয়ে ছেলেকে কল করবেন একটা। সকাল থেকে কিচ্ছু খায় নি ছেলেটা। মায়ের মন! রা*গ থাকলেও ছেলে-মেয়ের খাবারের অনিয়ম মেনে নিতে পারেন না।

********

গোলগাল চাঁদটা আকাশের হাজারো তারার ভীড়ে বিশেষভাবে জ্বলজ্বল করছে। আজ পূর্ণিমার রাত্রি। আকাশ আলোকিত চাঁদের আলোতেই। ঘড়ি টিকটিক করে সময় জানান দিচ্ছে রাত প্রায় দশটা। সবার চোখ ঘুরেফিরে ঘড়ির দিকেই যাচ্ছে। পরমুহূর্তেই আবার সেটা ঘুরে যাচ্ছে রুমের দরজার দিকে। কিন্তু ফাইজানের আসার নাম নেই।

ফজল সাহেব অস্থিরচিত্তে ডাইনিং রুমের এ-মাথা থেকে ও-মাথা পায়চারী করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে বারকয়েক কল করা হয়েছে ফাইজানের নাম্বারে। কল করলেই ওপাশ থেকে নারীকন্ঠ জানান দিচ্ছে ফোন সুইচড অফ।

মালেকা বেগম চুপচাপ চেয়ারে বসে আছে ছেলের অপেক্ষায়। দুশ্চিন্তা থাকলেও চুপচাপ সেটাকে ভেতরে চেপে বসে রয়েছেন। মুখ দেখে বোঝা যাবে না, উনি আদ্যো বিচলিত কি না!

এসব তাদের ঘরের নিত্যদিনের ব্যাপার। ফাইজান সবসময় রাতে দেরি করে বাড়ি ফিরে। এরপর বাবার বকা খায়। তবে গায়ে লাগায় না সেসব। প্রত্যেকদিন ঘুরে-ফিরে তার একই রুটিন।

কিন্তু আজ একটু ব্যতিক্রম আছে। এমনিতে ফাইজান বাইরে থাকলেও ফোন সুইচড অফ করে রাখে না। দেরি করে আসলেও ফোন রিসিভ করে এক কথায় সেটা বলে কল কেটে দেয়। এটাতেও হয়তো শান্তি নিহিত! তাই তো আজ সম্পূর্ণ লাপাত্তা হওয়ায় সবাই দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে।

ফজল সাহেব পায়চারি করতে করতেই ক্ষ্যাপাটে গলায় বললেন,

"ছেলেটা দিনে-দিনে যেন আরও বেশি উচ্ছন্নে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, বেশি আদরে-আহ্লাদে ন*ষ্ট করেছি বেশি। ছোট থেকে মে*রে-ধরে ঘরে বন্দি করে রাখলে বুঝি ভালো হতো! অন্ততপক্ষে এখন ওর টেনশনে রাত জাগতে হতো না।"

মালেকা বেগম বিরক্ত ভঙ্গিতে বললেন,

"এখন আর এসব ব্যাপার টেনে লাভ আছে কোনো? হাজার বললেও কোনো কথা কানে যায় ওর? আজ তো পুরো লাপাত্তা হয়ে আছে। একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন না, কোথায় আছে ও!"

ফজল সাহেব চেঁচিয়ে বললেন,

"আমাকে দেখে কি দেশের মন্ত্রী-মিনিস্টার মনে হয় যে হাজারখানিক চ্যালা-প্যালা নিয়ে ঘুরবো? আর তারা ক্ষণেক্ষণে তোমার ছেলের খবর নিয়ে তোমাকে দিবে! তার সময় হলে নিজেই চলে আসবে। তোমরা ঘুমাতে যাও।"

এতগুলো কথা বলেও ফজল সাহেব নিজেই ঘুমাতে যেতে পারলেন না। ছেলের অপেক্ষায় প্রহর গুনতে লাগলেন। শায়রা ও আনুসা বসে থাকতে থাকতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। ঘুমে ঢুলে পড়তে নিলেই কলিংবেলের বিকট শব্দে ঘুম ছুটে গেলো দু'জনের৷ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো, বারোটা প্রায় বেজেই গেছে!

মালেকা বেগম হন্তদন্ত হয়ে উঠে গিয়ে গেট খুলে দিলেন। ছেলেকে দেখেই আঁতকে উঠলেন ভদ্রমহিলা। এলোমেলো শার্ট ও উষ্কখুষ্ক চুলে দেখতে ভীষণ আজব লাগছে তাকে।

হাতের তালুর উল্টোপাশে কিছুটা জায়গা কেটে রক্ত শুকিয়ে রয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে মারামারি করেছে আজ।

ফজল সাহেব এতকিছু খেয়াল করলেন না। ছেলেকে রেখেই খ্যাঁকিয়ে উঠলেন,

"কোথায় ছিলে এতক্ষন? বোধ-বুদ্ধি কি সব বেঁচে খেয়েছো? বাসায় সবাই যে তোমার জন্য চিন্তায় থাকে এই বুঝটুকু হয় নি তোমার? কমপক্ষে একটা ফোন তো করতে পারতে! জানো না, তোমার মা তোমার জন্য কত টেনশনে থাকে?"

ফাইজান কর্কশ কন্ঠে বলল,

"ভেতরে কি ঢুকতে দেবে? নাকি বাইরে থেকেই তোমার কথা গিলে চলে যাবো?"

ফজল সাহেব মহাবিরক্ত হলেন ছেলের আচরণে।

"চুলোয় যাও!" বলেই হনহন করে ঢুকে গেলেন নিজেদের রুমে। বাপ-ছেলের দ্ব*ন্দ্বে অতিষ্ঠ মালেকা বেগম নরম সুরে শুধালেন,

"কই ছিলি, বাবা? হাতটা অতখানি কাটলো কি করে?"

শায়রা চেয়ার থেকেই উঁকিঝুঁকি মেরে দেখলো ফাইজানের হাতটা। অনেকখানি জায়গা কেটে রক্ত জমে আছে দেখে একটু খারাপও লাগলো। কিন্তু মুখে প্রকাশ করলো না এসব। বলল ভিন্নকথা,

"এত ঘাবড়াচ্ছো কেনও ফুপ্পি? একটুখানিই তো কেটেছে। তোমার ছেলের জন্য তো এসব স্বাভাবিক ব্যাপার।"

ফাইজান রক্তচক্ষু মেলে চাইল শায়রার দিকে৷ ওর দৃষ্টিতে দৃষ্টি মিলিয়েও টললো না মেয়েটা। একইরকম ঠাঁট-বাট নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সোজা। ওর ভাব-ভঙ্গিতে ফাইজানের রাগ তুঙ্গে। বলল,

"আমি বলেছিলাম, ওকে আমার চোখের সামনে না আসতে। আবার কেন এসেছে ও? এতরাত পর্যন্ত তো ঘুমিয়ে যাওয়ার কথা। এখন বলো না, আমার অপেক্ষায় জেগে ছিলো! কোনোদিনও বিশ্বাস করবো না।"

শায়রা জবাবে বলল,

"তুমি বিশ্বাস করো বা না করো, আমি তো তোমার অপেক্ষাতেই বসে ছিলাম। তুমি কখন আসবে আর কখন তোমাকে কথা শুনাবো!"

আসন্ন ঝড়ের আভাস পেয়ে মালেকা বেগম দ্রুত ফাইজানকে টেনে ভেতরে ঢুকিয়ে দরজা আটকে দিলো। ভদ্রলোকের বাড়িতে এরকম রাত-বিরেতে চেঁচামেচি সইবে কেন অন্যান্য বাসিন্দারা?

ফাইজান আকস্মিক হাতে টান অনুভব করতেই সামলাতে পারলো না। ছিঁটকে ভেতরে ঢুকেই নিচে পড়তে পড়তে চেয়ার ধরে টাল সামলালো। পুনরায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল,

"তোর মনে হয় এতরাতে আমি তোর কথা শোনার জন্য বাড়িতে এসেছি?"

শায়রা বলল,

"আমার কথা শোনার জন্য আসো নি? তাহলে সারাদিন লুকিয়ে ছিলে কেন? আমার কথা শোনা থেকে বাঁচার জন্য?"

ফাইজানের রাগ স্তর পেরিয়ে পেরিয়ে সপ্তমে চড়ছে। মালেকা বেগম হতবিহ্বল হয়ে পড়লেন দু'জনের ব্যবহারে। খানিক উঁচু আওয়াজে বললেন,

"চুপ কর তোরা! এত রাতে চেঁচামেচি করে এলাকার লোক জড়ো করবি নাকি? আর ফাইজান, অনেক হয়েছে তোর এসব গু*ন্ডামি। আজ হাত কেটে আসিস তো কাল পা! এসব ক'দিন চলবে? এসব ছাড়তে পারছিস না তুই?"

ফাইজান গা-ছাড়া ভাব করে বলল,

"যেটা সম্ভব না সেটার অনুরোধ আমাকে করো না। আর হ্যাঁ আমি দেরি করে বাড়ি ফিরলে টেনশনের দরকার নেই। নিশ্চিন্তে খেয়ে-দেয়ে ঘুমাতে যাবে। আর এখনও যাও সবাই।"

মালেকা বেগম শুধালেন,

"কিন্তু তুই তো খেলি না কিছুই! আবার হাতটাও কেটে গেছে। আমি ব্যান্ডেজ করে দেই?"

ফাইজান সাফ-সাফ নাকচ করে দিলো,

"লাগবে না। ক্ষুধা নেই আমার। আর হাতের ব্যবস্থাও আমি নিজেই করে নিতে পারবো। কারো আমার প্র‍তি দয়া দেখিয়ে রাত জাগতে হবে না!"

শায়রা কটমট করে বলল,

"তুমি কোনো সেলিব্রেটি নও যে সবাই তোমার অপেক্ষায় রাত জাগবে। আগামীকাল থেকে ঠিক আটটার আগে বাসায় না ঢুকলে...."

ফাইজান ধমকের সুরে বলল,

"কি করবি? আটটার আগে না ঢুকলে কি করবি তুই? তোর হুমকিকে ভয় পাই আমি? দু'দিনে লাফিয়ে লাফিয়ে মাথায় চড়ার দরকার নেই। আমার যখন ইচ্ছে তখন আসবো। দেখবো, তুই কি করতে পারিস!"

শায়রা ভ্রু কুঁচকে চাইল ফাইজানের দিকে। চোখে-মুখে খেলা করছে অদ্ভুত চাতুরতার ভঙ্গি। শুধালো,

"আসলেই দেখতে চাও?

তাহলে তো তোমার সাধ পূরণ করতেই হবে!"

ফাইজান সামনের চেয়ারটাকে ধাক্কা মারলো সজোরে। দাঁতে দাঁত পিষে বলল,

"দেখে নেবো, কে কার কি করতে পারে?"

বলেই আর উত্তরের অপেক্ষা করলো না। রুমে গিয়ে দরজা আটকে দিলো ভেতর থেকে। আনুসা এতক্ষণ ছিলো নিরব দর্শক। এখনো কথা নেই তার মুখে। বাপ-ছেলের তুফান নতুন কিছু নয়! এখন শুরু হয়েছে ফাইজান ও শায়রার তুফান। কবে যে এসব পেরিয়ে একটু শান্তি পাবে তারা!

হতাশার দীর্ঘশ্বাস আপনা-আপনি বেরিয়ে এলো মালেকা বেগমের। বুঝলেন না, ছেলের এরকম হওয়ার পেছনে নিজেকে দায়ী করবেন কি না! তৎক্ষণাৎ তার হতাশায় স্বান্ত্বনা দিতে কাধে হাত রাখলো শায়রা। বলল,

"ছেলেকে ঠিক করতে নরম নয়, শক্ত হতে হবে তোমাকে। একটু কিছুতেই কেন অস্থির হয়ে যাও, ফুপ্পি? ও যেমন পুরো পরিবারের প্রতি ছন্নছাড়া ভাব দেখায়, তোমাদেরও এমনই দেখানো উচিত। তাহলে তো বুঝবে, ওর আচরণে তোমরা কতটা কষ্ট পাও।"

মালেকা বেগম শাড়ির আঁচল মুখে চাপলেন। কান্না আটকে বললেন,

"পারি তো ওকে অগ্রাহ্য করে চলতে। এই না খেয়ে থাকলে, হাত-পা কেটে ভে*ঙে একাকার করে আসলে আমার তো ক*ষ্ট হয়। ওর মুখটার দিকে তাকিয়ে কিভাবে অগ্রাহ্য করার ভান করবো আমি?"

শায়রা বোঝালো ফুপ্পিকে,

"করতে হবে। তাহলেই বুঝ আসবে তোমার ছেলের। আমি যতদিন এই বাড়িতে আছি, ততদিনে চেষ্টা করতেই পারি। কিন্তু শর্ত একটাই, তোমরা আমার কথার উপর গিয়ে তোমার বাউন্ডুলে ছেলের উপর মায়া দেখাতে পারবে না।"

হৃদয়ের রঙিন ক্যানভাস পর্ব ২ গল্পের ছবি