রাতের নিস্তব্ধতা বাড়ছে ধীরে-ধীরে। নিরবতা যেনও আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে আছে পুরো বাড়িটাকে। কেবলমাত্র ঘড়ির কাঁটার টিকটিক শব্দটা স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। সকলেই হয়তো গভীর নিদ্রায় ডুবে আছে।
শায়রার চোখে ঘুম নেই। কেমন এক অ*পরাধবোধ ঘিরে ধরে রেখেছে তাকে। ফাইজান বাড়িতে আসলো হাতে আঘাত নিয়ে। কিন্তু চিকিৎসাবিহীন কা*টা হাতটা নিয়েই রুমে ঢুকলো। আবার কথা কা*টাকাটির তালে তেজ দেখিয়ে খাবারও খেলো না। কোনো না কোনোভাবে কারণটা শায়রা নিজেই। কারণ ফাইজানের রাগটা শায়রার উপরেই।
এসব ভেবেই ঘুম হচ্ছে না মেয়েটার। কতক্ষণ এপাশ-ওপাশ করে বিছানা ছাড়লো। ঘুম না আসায় উঠে হাঁটাহাঁটি শুরু করলো। কিছু সময়ের জন্য রুমের লাগোয়া বারান্দাটা থেকেও ঘুরে আসলো। রুমে ঢুকেই দেখলো আনুসাও উঠে বসে আছে বিছানায়৷ ওকে দেখেই থতমত খেলো শায়রা। শুধালো,
"এত রাতে তুই জেগে আছিস কেন?"
উত্তরের বদলে পালটা প্রশ্ন করলো আনুসা,
"তুমি জেগে আছো কেন, আপু?"
শায়রা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
"ঘুম আসছে না রে! তোর ভাইটা আমার উপর রাগ দেখিয়ে খেলো না। আবার হাতেরও অবস্থা নাজেহাল! কারো একটা কথাও শুনে না। এর কি করা যায় বল তো!"
আনুসা বলল,
"তুমিই তো বললে, কি যেন করবে! আমরা যেন বাঁধা না দেই। আমার পক্ষ থেকে বাঁধা দিবো না, নিশ্চিত থাকো। আমি এমনিতেই ভাইয়াকে খুব ভয় পাই।"
শায়রা মুচকি হেসে বলল,
"তাহলে আমি যা করতে চাই, সেটাতে সাহায্য কর। আয় তোর ভাইয়ের হাতটা ব্যান্ডেজ করে আসি ওর রুমে গিয়ে।"
আনুসা আঁতকে উঠলে একপ্রকার। বসা থেকে খানিক পিছিয়ে গিয়ে বলল,
"এত রাতে ভাইয়ার রুমে যাবো? যদি জেগে থাকে, আমাকে ডিরেক্ট একটা চ*টকনা মারবে। এই রিস্ক আমি নিবো না ভুলেও! আর ভাইয়া দরজা খোলা রাখবে এটাই কেন মনে হলো তোমার? দেখো গিয়ে, দরজা ভেতর থেকে লক।"
শায়রা আনুসার হাত টেনে বিছানা থেকে নামালো। বলল,
"দরজা খোলা নাকি লক সেটা তো তুই চেক করবি। দেখা যাক কি হয়!"
আনুসা বারবার বাঁধা দিলেও কোনো লাভ হলো না। শায়রা ওকে টেনেটুনে ঠিকই ফাইজানের রুমের সামনে হাজির করলো। এতেই মেয়ের রূহ উড়ে যাওয়ার জোগাড়। ইতিমধ্যেই ঘাম ছুটতে শুরু করেছে আনুসার।
কপাল ভালো তাদের! আনুসা কম্পিত হাতের স্পর্শে দরজার নব ঘোরাতেই টের পেলো দরজা ভেতর থেকে লক করা হয় নি। হয়তো রাগের মাথায় ভুলে গেছে ফাইজান। শায়রা খুশিই হলো এতে। কিন্তু বিপরীত চিত্র আনুসার ক্ষেত্রে! ওর বিবর্ণ মুখটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, দরজা খোলার থেকে লক করা থাকলেই বুঝি বেশি খুশি হতো। আনুসা গোমড়ামুখে বলল,
"ভাইয়া যদি জেগে থাকে তাহলে তোমাকে আর আমাকে, দু'জনকেই তুলে আ*ছাড় মারবে।"
শায়রা জবাবে বলল,
"সময় দেখেছিস, কয়টা বাজে? দেড়টা বেজে গেছে। তোর ভাই কি এতক্ষণে জেগে জেগে ঘাস কা*টবে? আর তোকে আ*ছাড় মারলেও আমাকে মারতে পারবে না! এমনিতেই সারাক্ষণ যেই মুটকি মুটকি নাম জঁপে, তাতে আমাকে তুলে আ*ছাড় মারা তার কর্ম নয়!"
আনুসা একইরকম নত মুখে বলল,
"ঘাস না কা*টুক, ফোন তো কা*টতে পারে। থুক্কু, ফোন টিপতে পারে আরকি!"
"চুপ! তোর কথা শুনে যারা ঘুমিয়ে আছে তারাও জেগে যাবে।"
বলেই আনুসাকে সরিয়ে দিয়ে নিজে দরজাটা একটুখানি ফাঁক করে ভেতরে উঁকি দিলো। বিছানার দিকে তাকাতেই দেখলো ফাইজান উপুড় হয়ে ঘুমাচ্ছে। রুমে ঢুকেই শার্ট খুলে ছুড়ে ফেলেছে কোথাও! ফ্রেশ হয়েছে কি না, বোঝা যাচ্ছে না। শুধু প্যান্টটা পড়নে। আর কাটা হাতটায় আলগা কোনো কাপড় বাঁধা বোধহয়!
শায়রা খুব সন্তপর্ণে রুমের ভেতরে ঢুকলো। খুব সাবধান রইলো যেন একটুখানি শব্দও না হয়। আনুসা বাইরে থেকেই পালাই পালাই করছিলো, কিন্তু শায়রা একপ্রকার ওকে জোর করেই রুমে ঢুকিয়েছে। ফাইজানের পুরো রুমটায় একবার চোখ বুলিয়েই যেন তার মাথা ঘুরে যাওয়ার জোগাড়!
ফাইজানের অগোছালো মাথাভর্তি চুলগুলোর মতো, ও মানুষটাও খুব অগোছালো। এর প্রমাণ তার দৈনন্দিন জীবনের কার্যক্রম ও তার কক্ষটা। একদমই এলোমেলো! কোনোকিছুর ঠিকঠিকানা নেই! মালেকা বেগম চেষ্টা করেন গুছিয়ে রাখার, কিন্তু যার রুম তার নিজের চিন্তা-ভাবনা না থাকলে চলবে কি করে?
শায়রা সেসব দেখে বলেই ফেলল,
"রুমটার কি অবস্থা করে রেখেছে বাউন্ডুলেটা! এই রুমে মানুষ থাকতে পারে? আমাকে তো লক্ষ টাকা দিলেও থাকবো না।"
আনুসা ফট করে বলে বসলো,
"যদি এক টাকাও না দেয় তাহলে থাকবে?"
শায়রা চোখ রাঙালো। চাপা স্বরে ধমকে উঠলো,
"গিয়ে ফার্স্ট এইড বক্সটা নিয়ে আয়। তোর হাতুড়ে ডাক্তার ভাইয়ের ত্যানা খুলে ব্যান্ডেজ প্যাঁচাই।"
আনুসা দ্রুত গিয়ে হুকুম তামিল করলো। শায়রা খুব সাবধানতা অবলম্বন করে বসলো ফাইজানের পাশে। আস্তে করে ফাইজানের হাতটা স্পর্শ করে তুলে নিলো নিজের হাতে। চোখের ভাষায় আশঙ্কা, এই বুঝি ফাইজান উঠে গেলো! আনুসা ওকে আশস্ত করে বলল,
"ভাইয়ার ঘুম খুব গভীর! একটুতে উঠবে না। টেনশন করো না।"
তবুও একটুখানি ভয় থেকেই যায়! শায়রা একটু একটু কাজ করছে আবার ফাইজানের দিকে তাকাচ্ছে। তবে ওকে দেখে মনে হচ্ছে না উঠার সম্ভাবনা আছে! ঘুমে মগ্ন ছেলেটার গভীর নিশ্বাসের শব্দ আসছে একটু পরপরই।
পুরোটা সময় আনুসা মনোযোগ দিয়ে দেখে গেলো শায়রার ব্যান্ডেজ করা। সবশেষে সস্থির নিশ্বাস ছাড়লো দু'জন। ফার্স্ট এইড বক্সটা গুছিয়ে নিয়ে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে।
*********
রাত আরও গভীর হতেই পেটের ক্ষিধেটা যেনও বেশি করে জ্বালাতে শুরু করলো। সারাদিন না খেয়ে থাকলে বাইরের খাবারে আর কতটুকুই পেট ভরে?
ঘুম ভেঙে গেছে ফাইজানের। অতীষ্ট হয়ে উঠে বসলো ছেলেটা। আচমকা আ*ঘাতপ্রাপ্ত হাতে চোখ পড়তেই দেখলো সেটা সুন্দরমত ব্যান্ডেজ করা।
ফাইজান অবাক হলো খুব! ঘুমানোর আগে র*ক্ত পড়ার ফলে পুরোনো একটা শার্ট ছিড়ে বেঁধে রেখেছিলো। আর ঘুম থেকে উঠে দেখছে ব্যান্ডেজ করা। ভাবনার দোলাচলে ভুগে রুমের দরজার দিকে তাকাতেই দেখলো, ঘুমের আগে দরজা লক করেনি সে! অতঃপর যে ভাবনাটা তার মাথায় এলো, দরজা খোলা পেয়ে হয়তো তার মা ঢুকেছিলো রুমে। কা*টা হাতে ব্যান্ডেজটাও হয়তো তার কাজ!
কাঁথাটা সরিয়ে রেখে বিছানা থেকে নামলো ফাইজান। এবার হবে মিশন খাবার চু*রি! এটা তার জন্য নতুন কিছুই নয়। প্রায়ই বাসায় এরকম রা*গারাগি করে খাবার না খেলে, মধ্যরাতে উঠে খেয়ে নেয়। আজও তার ব্যতিক্রম নেই। ফাইজান রুম থেকে বেরিয়েই সোজা চলে গেলো রান্নাঘরে।
মালেকা বেগম ছেলের অভ্যাস জানেন। তাই খাবার রেডি করে রেখেই ঘুমাতে গিয়েছেন। ফাইজান শুধু সেটা ফ্রিজ থেকে বের করে ওভেনে গরম করে নিলো। এরপর কিচেনের লাইট অফ করে রুমে যাওয়ার পথেই মায়ের সম্মুখীন হতে হলো তাকে।
ভদ্রমহিলা বললেন,
"হাত তো কে*টে রেখেছিস। আমি খাইয়ে দেই?"
ফাইজান জবাব দিলো,
"লাগবে না, মা। আঙুলগুলো তো ঠিকই আছে। আমি খেয়ে নিতে পারবো।"
বলেই রুমে গেলো ফাইজান। মালেকা বেগমও ঢুকলেন তার পিছুপিছু। চুপচাপ বসে দেখতে থাকলেন ছেলের খাওয়া। কিছুক্ষণ এভাবেই সময় নষ্ট করে বললেন,
"তোকে একটা কথা বলি, বাবা? মায়ের কথা ফেলবি না তো?"
ফাইজানের হাত থামলো। সন্দিহান দৃষ্টিতে মায়ের দিকে তাকিয়ে সম্মতি দিলো,
"বলো।"
মালেকা বেগম ইতস্তত করলেন কিছুক্ষণ। তারপর বললেন,
"শায়রার সাথে এত কিসের ঝামেলা তোর? এসব কি মিটমাট করে নেয়া যায় না, ফাইজান? কেন এত কথা শুনাস মেয়েটাকে? তোর কথায় আজ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ও হোস্টেলে গিয়ে থাকবে। এটা কি ঠিক?"
ফাইজান গা-ছাড়া ভাব করে জবাব দিলো,
"ভালো। ওর মন চাইলে ও হোস্টেলে গিয়ে থাকুক। সেসব আমাকে বলতে এসেছো কেন?"
মালেকা বেগম হতাশ শ্বাস ছাড়লেন। বললেন,
"আমাদের বাড়ি থাকতে ও কেন হোস্টেলে থাকবে? আমি ভাইয়া-ভাবির কাছে খুব বলে-কয়ে শায়রাকে আমাদের বাড়িতে আনিয়েছি। এরপর যদি তুই এমন আচরণ করিস, আমার মানটা কোথায় থাকবে, বল?"
ফাইজান মায়ের আকুতিভরা দৃষ্টিটা ভালো করে পরখ করলো। অতঃপর খানিক ভেবে বেশ শান্ত কন্ঠে বলল,
"ওর আমাদের বাড়িতে থাকা, না থাকা নিয়ে তো আমার কোনো সমস্যা নেই। শুধু আমার সামনে আসবে না, ব্যস! তাহলেই ঝামেলা মিটে গেলো।"
"একবাড়িতে থেকে সামনে আসবে না, এটা কিভাবে সম্ভব?"
"ঠিক আছে, এটাও মেনে নিলাম। তাহলে সামনে আসবে কিন্তু আমি ওকে চিনবো না। এবার ঠিক আছে?"
অগত্যা! মালেকা বেগমের এই কথাটাই মানতে হলো। এছাড়া আর কিছু করার নেই। দু'জনের ঝামেলা মিটিয়ে দেওয়ার পথটাই যে বন্ধ! আর সেটাও বন্ধ করে রেখেছে এই দু'জন।
*********
রৌদ্রজ্বল এক সকাল। ব্যস্ততায় পরিপূর্ণ সময়টায় ফজল সাহেব নাস্তা শেষে দ্রুত বের হলেন অফিসের উদ্দেশ্য। বহু পরিশ্রমের পর ছোটখাটো একটা বিজন্যাস দাঁড় করিয়েছেন নিজের। গাড়ি-বাড়ি করার মতো বড়লোক না হলেও তাদের ছোট্ট পরিবারটা দিব্যি চলে যায় তার ইনকামে।
শায়রা চুপচাপ ডাইনিং টেবিলে বসে নাস্তা খাচ্ছে। ওর বরাবর সামনের চেয়ারটায় আনুসা বসা। ফাইজান ফ্রেশ হয়ে রুম থেকে বেরিয়েও নাস্তা খেতে বসলো না। দরজার কাছে গিয়ে মা-কে বলল,
"মা, আমি ভার্সিটি যাচ্ছি।"
মালেকা বেগম রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে শুধালেন,
"সে কি? নাস্তা খেয়ে বের হবি না?"
ফাইজান বলল,
"না। বাইরে থেকে খেয়ে নিবো। এখন যাই।"
তৎক্ষণাৎ মুখ খুলল শায়রা। বলল,
"শর্তটা মনে আছে তো? রাত আটটা। তুমি আটটার আগে বাড়িতে ঢুকলে আমি জিতবো আর আটটার পরে ঢুকলে তুমি জিতবে। মনে আছে না?"
ফাইজান ঘুরে তাকালো শায়রার দিকে। ভেবেছিলো আজ ঝগড়া ছাড়াই দিনটা শুরু করবে। কিন্তু সেটা বুঝি হওয়ার নয়! হার-জিতের খেলাটায় কেউ কাউকে ছাড় দিবে না। শায়রার কথার বিপরীত জবাব দিলো ফাইজান,
"তাহলে শর্ত হারার জন্য প্রস্তুত হয়েই থাক। কারণ, আমি বাড়িতে রাত আটটার পরই ঢুকবো।"
শায়রা মুচকি হাসলো। কোনো এক দুষ্টু বুদ্ধির আবছায়া সেখানে। বলল,
"সেটা তো রাত আটটার পরই জানা যাবে।"
ফাইজান কটমট করে বলল,
"আমার পিছে না লাগলে তোর পেটের খাবার হজম হয় না? বুঝেছি, হয় না। হজম হয় না দেখেই সব খাবার জমতে জমতে আরও মুটকি হচ্ছিস।"
"তোমার সমস্যা কি? তুমি কি আমাকে কাঁধে তুলে ঘুরে বেড়াচ্ছো যে মোটা মানুষ বইতে কষ্ট হচ্ছে?"
শায়রা ততক্ষণে খাবার রেখে উঠে দাঁড়িয়েছে। আনুসারও খাওয়া বন্ধ দু'জনের কাহিনি দেখার চক্করে। মালেকা বেগম মনে মনে ভাবলেন,
"আমিও যে কাকে কি বুঝাতে যাই! এরা দু'জন বদলানোর না। শুধু শুধুই আমার বলে, কথা খরচ করা!"
দু'জনে দু'জনের দিকে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। যেন ফুঁসতে থাকা বিড়ালযুগল আরেকটু হলেই ঝাঁপিড়ে পড়বে একে-অপরের উপর, আঁচড়ে-কামড়ে র*ক্তার*ক্তি ঘটাতে। কেবল নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষা বুঝি!
ফাইজান বিরস মুখে বলল,
"যাক, এটলিস্ট স্বীকার তো করছিস তুই মোটা মানুষ! এটাই অনেক বেশি কিছু!"
শায়রা তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে বলল,
"আমি বলেছি মোটা মানুষ বইতে তোমার কষ্ট হয় বুঝি! আমি মোটা এরকম কোনো কথা বলি নি, আর বলবোও না। কারণ তোমার বলা কথায় আমি মোটা হয়ে যাবো না।"
এরকম দু-চার কথায় ঝগড়া চলতেই থাকলো দু'জনের। অবশেষে ভার্সিটি যাওয়ার টাইম হয়ে যাওয়ায় মালেকা বেগম বহু কষ্টে থামালেন দু'জনকে। বুঝিয়ে-শুনিয়ে পাঠালেন ভার্সিটি। প্রথমে ফাইজানকে, পরে শায়রাকে। যত যাই হোক, দু'জনকে একত্রে পাঠানোর মতো মস্ত বড় ভুল করা তার পক্ষে সম্ভব না!
ওদের দু'জনের চলে যাওয়ার কিছু পরেই আনুসাও চলে গেলো। মালেকা বেগম ফ্ল্যাটের দরজা লাগিয়ে ফিরে এলেন। সোফায় বসে গভীর চিন্তায় মগ্ন হলেন,
কি হবে আজ রাত আটটার পরে?