সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে ফাইজান শায়রাকে পাশে পেলো না। মেয়েটা আরও আগেই উঠে চলে গেছে আনুসার রুমে রেডি হতে। ভার্সিটি যাবে আজ।
আড়মোড়া ভেঙে বিছানায় উঠে বসলো ফাইজান। ঘড়িতে সময় দেখে নেমে পড়লো বিছানা থেকে। ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়েই শুরু করলো "শায়ু, শায়ু।" বলে চেঁচানো।
অগত্যা নিজের রেডি হওয়ার ফাঁকে ফাঁকে শায়রার সাহায্য করতে হলো ফাইজানকে।
শেষ মুহুর্তে টাই বেঁধে দিচ্ছিলো শায়রা। এমনসময় ফাইজান ওর কোমড় জড়িয়ে ধরে বলল,
"আরেকটা কিস করি, বউ?"
লজ্জা ও নার্ভাসনেসে গায়ের রক্ত হিম হয়ে এলো শায়রার। কিন্তু কালকের ঘটনার পর ঢের বুঝেছে, ফাইজানের সামনে লজ্জা পাওয়া মানেই নিজের বিপদ ডেকে আনা। মেজাজ দেখালেই এই ছেলে ঠিক থাকে৷ সুতরাং প্রয়োগ করলো এই বুদ্ধিই। কর্কশ স্বরে ঝাড়ি মারলো,
"সকাল সকাল এসব নাটক করে মেজাজটা গরম করিও না তো! নাহলে নাস্তার সাথে হারপিক মিশিয়ে দিবো।"
হাতের বাঁধন আলগা হলো ফাইজানের। হতাশ কন্ঠে বলল,
"কিস চাওয়ার অপরাধে তুই নাস্তায় হারপিক মিশাবি? এ কেমন অবিচার?"
শায়রা ক্ষিপ্ত স্বরে বলল,
"এটা অবিচার না এটাই বিচার। ছাড়ো আমাকে৷ রেডি হতে হবে। তোমার জন্য আজ আমার লেট হয়ে গেলো।"
বলেই মুখ ঝামটা মেরে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে। ফাইজান হতভম্ব হয়ে বিড়বিড়িয়ে বলল,
"একেকসময় লজ্জা পায় আবার একেকসময় এমন রণচন্ডী হয়ে যায়! মেয়েমানুষ এত আজব ক্যান?"
*******
মহাবিরক্ত ভঙ্গিমায় নিজের ভ্রুদ্বয় সারাক্ষণ কুঁচকে রেখেছে শায়রা। ফাইজান এর কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না। নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করছে, ও আবার কোনো ভুল করলো কি না!
কিন্তু কোনো উত্তর নেই।
নিজেই বাইকে করে শায়রাকে ভার্সিটি অব্দি পৌঁছে দিয়ে গেছে ফাইজান। যাওয়ার সময় কপালের চুমুটা মিস করে নি। এরপর বাইক ছুটিয়ে শায়রার সামনে থেকে চলে যেতেই মুচকি হাসি ফুটলো শায়রার মুখে। ভাবলো,
"ভাগ্যিশ এতক্ষণ রে*গে থাকার ভান ধরে ছিলাম! নাহলে সকাল সকাল কয়টা অঘটন ঘটাতো কে জানে? ওকে এখন আমার একটুও বিশ্বাস হয় না!"
**********
রাত্রিবেলা যখন ফাইজান ফিরলো, শায়রা তখন আনুসার রুমে বসে বসে পড়ছে। ফাইজান যে বাড়িতে এসেছে তাতে মেয়েটার কোনো হেলদোল নেই। এর ফলে মনঃক্ষুণ্ন হলো ফাইজানের। মায়ের সাথে দুয়েকটা কথা বলেই চলে গেলো নিজের রুমে।
কোট খুলছে, টাই খুলছে, শার্টের বোতাম খুলছে আর বলছে,
"আজ বৃহস্পতিবার। আগামীকাল শুক্রবার। ছুটির দিনের আগেররাতে কেউ পড়তে বসে? আমি তো আমার পঁচিশ বছরের জীবনেও কোনোদিন বৃহস্পতিবারে পড়তে বসিনি। আমার বউ কেন বসবে? আমার কপালেই এমন ব্রিলিয়ান্ট বউ কিভাবে এলো? এ তো রোমান্সের টাইমেও পড়াশোনা করবে। কি জ্বালা!"
অন্যদিকে ফাইজান এসেছে শুনে আনুসা শায়রাকে ঠেলেঠুলে পাঠিয়ে দিয়েছে ভাইয়ের রুমে। হাতে ধরিয়ে দিয়েছে কাপড়-চোপড়। আর বলেছে,
"যাও গিয়ে এবার জামাইয়ের আলমারি দখল করো।"
শায়রা এসেছে ঠিকই, কিন্তু ভেতরে ঢুকতে পারেনি। ওর ডায়লগ শুনে আটকে গেছে দরজার কাছেই। ফাইজান উল্টোপাশে ঘুরে শায়রাকে দেখতেই বলল,
"তোর আসার সময় হয়েছে তাহলে? আমি তো ভেবেছিলাম ভুলেই গেছিস আমার কথা! তোর জীবনে তো শুধু তুই আছিস আর তো পড়াশোনা। আর কিছু লাগে নাকি?"
শায়রা প্রলম্বিত শ্বাস ফেলে বলল,
"এখন পড়াশোনা করাও দোষ?"
ফাইজান ঘনঘন মাথা নেড়ে বলল,
"না না। একদমই না। পড়াশোনা করা মহৎগুন। আর তুই সেই গুনের অধিকারী। এ তো আমার সৌভাগ্য, তাই না?"
বলে আর উত্তরের অপেক্ষা করলো না। ব্যস্ত হয়ে পড়লো নিজের কাজে। শায়রাও আর কথা না বাড়িয়ে ভেতরে ঢুকলো। হাতের কাপড়গুলো বিছানার উপর রেখে একেকটা ভাজ করে করে গুছাতে লাগলো। সঙ্গে সঙ্গে গুনগুন করে গান ধরলো,
❝যাব তুম চাহো, পাস আতে হো।
যাব তুম চাহো, দূর যাতে হো।
চালতি হামেশা মার্জি তুমহারি,
আয়ে বাড়ে ফিরবি..পেয়ার কারতেহো..!❞
গানের মাঝে আড়চোখে তাকাচ্ছে ফাইজানের দিকে। অন্যদিকে গানের লাইনগুলোর অর্থ ধরতে পেরে ব্যস্ত হাত থামলো ফাইজানের। ভ্রু কুঁচকে চাইল শায়রার দিকে। শীতল কণ্ঠে জানতে চাইলো,
"এসবের মানে কি?"
শায়রা নিষ্পাপ স্বরে বলল,
"একজন স্বৈ*রাচার আচরণ কেমন হয়, সেটাই বলছিলাম আরকি! গানটা সুন্দর, তাই না?"
ফাইজান জিভে ঠোঁট চুবিয়ে বলল,
"ভালো।"
শায়রা যেমন ভেবেছিলো, ফাইজান সেরকম কিছু বলে নি। তাই বলে কি ব্যর্থতা মেনে নিবে ও? একদমই সম্ভব না। তাই আবারও শুরু করলো গান। ফলাফল ফাইজান ধুপধাপ করে শায়রার সামনে এসে তার হাতে থাকা কাপড়টা কেড়ে নিয়ে বলল,
"সমস্যা কি তোর?"
শায়রা পূর্বের ন্যায় বলল,
"কই সমস্যা? কোনো সমস্যা নেই।"
ফাইজান অধৈর্য হয়ে বলল,
"তুই ইন্ডাইরেক্টলি এসব আমায় মিন করে বলছিস?"
শায়রা ত্রস্থ মাথা নাড়লো। দাঁতে জিভ কেটে বলল,
"এমা, না না! তোমাকে কি বলতে যাবো? পাগলে পেয়েছে নাকি আমাকে?"
ফাইজান বলল,
"মনে তো হচ্ছে৷ আচ্ছা সত্যি করে বল তো, তুই আগের ব্যাপারগুলো নিয়ে আমার উপর রেগে নেই তো?"
ফাইজান বসে পড়েছে শায়রার পাশে। অস্থিরচিত্ত শান্ত করে আগ্রহী দৃষ্টি নিক্ষেপ করেছে শায়রার পানে। শায়রা ওর দিক চেয়ে বলল,
"রেগে থাকার মতো ব্যাপার আছে কি? তুমি তো বলেই দিয়েছিলে, আমাকে বউ হিসেবে মানো না। তাই আমি যেন তোমার জীবনে নাক না গলাই। তুমি তোমার মতো থাকবে, আমি আমার মতো। সেটাই হচ্ছে না?"
কন্ঠস্বরে রাগ বা অভিমানের ছিঁটেফোঁটাও নেই। যা আছে, য়া শুধু আকাঙ্ক্ষিত উত্তর পাওয়ার প্রবল শখ। দৃষ্টিতে দ্বিধাদ্বন্দ্ব, আদ্যো শখটা পূরণ হবে তো?
বিপরীতে কিয়ৎক্ষণ মৌন রইলো ফাইজান। মাথা নিচু করে দু'হাতে নিজের কপালের সামনে থাকা চুলগুলো খামচে ধরলো ধীরগতিতে। কিছু একটা ভেবে প্রশ্নের বিপরীতে পালটা প্রশ্ন করলো,
"সবকিছু কি তোর মনমতো হচ্ছে না, শায়ু?"
শায়রা বিভ্রান্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
"আমার মনমতো মানে?"
ফাইজান নিজের দু'হাত মাথা থেকে নামিয়ে এনে শায়রার হাতটা স্পর্শ করলো। দু'হাতের মুঠোয় গুজে বলল,
"দেখ শায়ু, আমাদের বিয়েটা ঠিক কিভাবে হয়েছে সেটা তোর জানা। এরপর সাথে সাথেই বিয়েটা মেনে নেওয়া কারো পক্ষেই সম্ভব না। এজন্যই মেজাজ গরম করে অনেক ক*টুকথা বলে ফেলেছি আমি তোকে। আমার উচিত হয়নি তোকে এতকিছু বলা। ভুল হয়েছে, মেনে নিলাম। কিন্তু ভুল শুধরানোর একটা সুযোগ কি আমি প্রাপ্য না?"
শায়রা কিছুক্ষণ ভেবে জবাব দিলো,
"আচ্ছা, ঠিক আছে। মানবতা দেখিয়ে একটা সুযোগ দিলাম। তবে হ্যাঁ.. "
একটু থেমে পুনরায় ফাইজানের নকল করে বলল,
"আমি এই বিয়ে করতে চাই নি। তাই জোর-জবরদস্তি করে আমাকে সংসার করাতে পারবে না। স্বামীর অধিকার দেখিয়ে আমার লাইফে নাকও গলাবে না। তুমি নিজের মতো থাকবে, আমি আমার মতো। বুঝা গেছে?"
ফাইজান চোখ ছোট ছোট করে চেয়ে রইলো শায়রার দিকে। দেখে গেলো ওর নাটক। অতঃপর বলল,
"আমি কিছু বললে সেটা দোষ। যেন কথা সব আমিই শুনাই। আর তোর মুখ থেকে কি মধু পড়ে নাকি? তেঁতো কথা ছাড়া তো, ভালো কথা বের হয় না। কিন্তু এর কোনো বিচার হয়? তা হবে কেন? দেশে তো নারী নি*র্যাতনের মামলা হয়, পুরুষ নি*র্যাতন মামলা হয় না। তাই তো দেশের অলিতে-গলিতে হাজার হাজার পুরুষ বউয়ের দ্বারা নির্যাতিত হয়েও চুপচাপ সহ্য করে নেয়। এটাই জীবন।"
শায়রা কটমট করে বলল,
"আমি তোমাকে নি*র্যাতন করি?"
ফাইজান বলল,
"একদমই না। আমি তো অবলা পুরুষদের কথা বলেছি। নিজের কথা কেন বলবো? আমি উলটো জবাব দিতে জানি। আক্রমণের বিপরীত আক্রমণ, ভালোবাসার বদলে ভালোবাসা দিতে জানি। যেমন গতকাল দিয়েছিলাম, মনে আছে? কামড়ের বদলে কামড় আর চুমুর বদলে চুমু। তবে যাই বলিস, আমার চুমুটা স্পেশাল ছিলো। তোর মতো হালকার উপর ঝাপসা মেরে দেই নি।
আরেকটা জিনিসও মানতে হবে..."
মাঝপথে কথা থামিয়ে রহস্যময় হাসি দিয়ে শায়রার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো ফাইজান। শায়রা হা করে চেয়ে আছে এখনো। ফাইজান কোথাকার কথা কোথায় নিয়ে গেলো, সেটা মস্তিষ্কে ডাউনলোড হতে সময় লাগছে তার।
ফাইজান শায়রার বিস্মিত চেহারা ভীষণভাবে উপভোগ করে ঝুঁকে এসে শান্ত, গভীর স্বরে অসমাপ্ত বাক্যখানা পূর্ণ করলো,
"ইউ আর সো সুইট!"
হতবিহ্বলতায় হাবুডুবু খাওয়া মেয়েটা চকিতে ধরতে পারলো না কথাটার অর্থ। মুখ ফঁসকে বলে ফেলল,
"মানে?"
ফাইজানের উত্তর দেয়া লাগলো না। তৎক্ষনাৎ ওর মস্তিষ্কে আপনা-আপনি অর্থটা ঢুকে গেলো। সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে পিছে সরে গেলো মেয়েটা। চোখ বড়বড় করে বলল,
"ছিহ! তুমি কি অ*সভ্য! আমি তো তোমাকে ভালো ভাবতাম!"
ফাইজান একটু এগিয়ে বসে বলল,
"আমি তো ভালোই। খারাপের কি দেখলি তুই?"
শায়রা তীক্ষ্ণ স্বরে বলল,
"এইইই.. তুমি দূরে সরো। ফাজিল কোথাকার!"
ফাইজান কপালে ভাজ ফেলে বলল,
"দেখ ভাই, এখনো কিছু করিনি আমি। শুধু শুধুই এতগুলো তকমা কেন লাগাচ্ছিস? আমি কিন্তু..."
শায়রা নাক-মুখ কুঁচকে বলল,
"দুনিয়ায় ভাই ডাকার জন্য বহুত লোক পাবে, ভাই। আমি তোমার ভাই লাগি না।"
ফাইজান প্রতিত্তোরে বলল,
"তো আমি কি তোর ভাই লাগি নাকি? কথার মাঝখানে তুই আমাকে ভাই কেন বললি? আরেকজনের দোষ ধরে নিজে আবার একই দোষ করিস!"
জিভে কামড় বসালো শায়রা। বলল,
"সরি সরি। ভুল করে মিস্টেক হয়ে গেছে। যাই হোক, আমি ভাই বললে তোমার দোষ কারণ তুমি আমার কাজিন হও। আর তুমি ভাই বললে সেটাও তোমার দোষ।"
ফাইজান ভ্রু উঁচিয়ে শুধালো,
"কারণ?"
শায়রা জবাবে বলল,
"কারণ লাগে নাকি আবার? যাই হবে সব তোমার দোষ। কারণ আমি তো নির্দোষ। ঘরের বউ সবসময়ই নির্দোষ হয়। আর এটাই বিবাহিত জীবনের সাইন্স। না বুঝলে মুড়ি খাও।"
"প্রথম কথা, ভাত খাওয়ার সময় এসব আজেবাজে জিনিস আমি খাই না। আর দ্বিতীয় কথা, আমি কমার্সের স্টুডেন্ট। তাই এসব ফালতু সাইন্স মানি না।"
ফাইজান নিজেকে যথাসম্ভব শান্ত রেখেছে। নাহয় এই মুহুর্তে ঘরে কুরুক্ষেত্র বেঁধে যাওয়া বিচিত্র কিছু হবে না। কিন্তু শায়রা ওকে শান্ত থাকতে দিলে তো? সে আবারও বলল,
"মুড়ি আজেবাজে জিনিস? তাহলে এক কাজ করি, আগামী এক সপ্তাহ তোমার ভাত বন্ধ রেখে শুধু মুড়ি খাওয়াবো। তাতে যদি এমন চিন্তা-ভাবনা বদলায়!"
ফাইজান কিছু একটা চিন্তা করে বলল,
"তাহলে আমিও একটা কাজ করি, তোর হাত-পা বেঁধে বাথরুমে রেখে দেই। তাতে যদি এমন আজগুবি চিন্তা-ধারার পরিবর্তন হয়!"
কথা হয়তো এরপর আরও বাড়তো। কিন্তু ব্যাঘাত ঘটালেন মালেকা বেগম। খেতে ডেকেছেন দু'জনকেই। তাই তর্ক-বিতর্কের মাঝপথে ইতি দিয়েই তারা চলে গেলো ডাইনিং রুম এ।
*********
খাওয়া-দাওয়ার সময়টায় ফাইজান-শায়রা একদম ভদ্র হয়ে ছিলো। ওদিনের ধমক খেয়ে শায়রা এখন আস্তে-ধীরে শশুড়-শাশুড়িকে বাবা-মা ডাকার অভ্যাস করছে। পুরো সময়টা ছিলো লক্ষ্মীমন্ত পুত্রবধূর ন্যায়। কিন্তু শেষে আবার রুমে এসে একই!
শায়রা পুত্রবধূ হিসেবে ভালো হলেও ফাইজানের বউ হিসেবে মেজাজ ও ঝগড়ার গুনে ভরপুর। এসব ঘরের খবর জানে না বলেই শুধু ফাইজানকে দোষী সাব্যস্ত করে বসে মা-বাবা। অথচ এই শায়রার ছোটবেলা থেকেই অভ্যাস ফাইজানকে জ্ব্বালানো। খুব ছোটবেলায় গ্রামের বাড়ি গেলেও শায়রা একপ্রকার তক্কে তক্কে থাকতো। যেই না সুযোগ পেতো, ওমনিই ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতো পুকুরে। ঘুমন্ত অবস্থায় চুলে মেখে দিতো মুঠোভর্তি আটা। এসবের ফলে রেগে যেতো ফাইজান। আর শায়রা ওকে রাগানোর জন্য আরও বেশি বেশি অঘটন ঘটাতো। এখনো সেই অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটেনি। মাঝেমধ্যে ইচ্ছে করেই গা-জ্বালানো কথা বলে ক্ষ্যা*পিয়ে দিবে ফাইজানকে। এরপর এমন একখানা ভাব ধরবে যেন সে ভাজা মাছটাও উলটে খেতে জানে না। ঘরের লোকও বিশ্বাস করবে শায়রাকেই। কারণ ফাইজানের বদমেজাজী স্বভাব সবার জানা।
স্বভাব পরিবর্তন হয় নি। মাঝ দিয়ে পরিবর্তন হয়ে গেছে দু'জনের সম্পর্ক। আগে শ*ত্রু-শ*ত্রু ভাব নিয়ে বসে থাকলেও ইদানীং ভালোবাসা-বাসি হচ্ছে। তর্ক-বিতর্ক সাইডে রেখে নিজেদের সংসার সাজানোর সপ্ন দেখছে দু'জনে।
আজকেও রুমে এসে শান্তিতে ঘুমাতে গেলো না দু'জন। দরজা আটকে বিছানায় বসে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে আধা ঘন্টার মতো তর্ক করলো। বিষয়বস্তু এই, আগে ফাইজান রাস্তাঘাটে আড্ডা, মারামারি নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। আর এখন অফিসের কাজের ব্যস্ততা নতুন বাহানা। শায়রার দুঃখ, তার জীবন এই বাহানা দেখতে দেখতেই যাবে।
সারাদিন অফিস শেষে এসে ফাইজান ভীষণ ক্লান্ত। কয়েকবার হাই তুলতেই শায়রা টের পেলো সেটা। অতঃপর বলল,
"আচ্ছা, এই বিষয়ে পরে কথা বলা যাবে। এখন ঘুমাও।"
অনুমতি পেতেই আর এক মুহুর্ত দেরি করলো না ফাইজান। বালিশ গুছিয়ে শুয়ে পড়লো নিজের জায়গায়। বলতে হলো না, তার আগেই ডানহাতটা বিছিয়ে দিলো শায়রার জন্য। কারণ জানা! একটু পরেই শায়রা বলবে,
"জড়িয়ে ধরো, নাহলে ঘুম আসছে না।"
তাই শায়রার বলার আগেই নিরবে অনুমতি দিয়ে দিলো জড়িয়ে ধরার। শায়রাও খুব খুশি হয়ে একপ্রকার ঝাঁপিয়ে পড়লো ফাইজানের বুকে। শক্ত করে জড়িয়ে ধরে চোখ বুজলো ঘুমের দেশে পাড়ি জমাবার উদ্দেশ্যে..!