হৃদয়ের রঙিন ক্যানভাস

পর্ব - ২৪

🟢

নীরবতা ঘিরে ধরেছে গোটা ঘরটাকে। যেন থেমে রয়েছে সবকিছু৷ কোনো একটা উত্তরের অপেক্ষায় সময়ের সাথে সাথে বাড়ছে উৎকণ্ঠা। শায়রা এখনো ব্যাকুল দৃষ্টিতে চেয়ে আছে ফাইজানের দিকে৷ তার একটা উত্তরের উপর নির্ভর করছে তাদের দু'জনের গোটা জীবন ও ভবিষ্যৎ। হৃৎপিণ্ডের ঢিপঢিপ শব্দ জানান দিচ্ছে নিজের উৎকণ্ঠার পরিমান।

ফাইজান এখনো চুপ বসে। যেন স্বেচ্ছায় দীর্ঘ করতে চাইছে অপেক্ষার প্রহরটা৷ শেষে ধৈর্য হারালো শায়রা। খানিকটা চেঁচিয়েই বলল,

"কিছু বলছো না কেন? কি চিন্তাভাবনা তোমার?"

ফাইজান মৃদু হাসলো ওর অবস্থা দেখে। উত্তরের পরিবর্তে জানতে চাইলো,

"যদি আমি ডিভোর্স দেই তাহলে তুই কি করবি? খুশি হবি?"

এক মুহুর্তের জন্য হৃৎস্পন্দন থমকে গেলো শায়রার৷ ফাইজানের এই কথাতেই যেন নিজের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেলো সে৷ অজানা এক কারণে অশ্রুবিন্দুরা বেরোতে চাইলো চোখের কার্ণিশ বেয়ে। শায়রা এক মুহুর্ত চুপ থেকে নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করলো,

"ডিভোর্সের কথা শুনে আমার কান্না পাচ্ছে কেন? আমি তো আগে থেকেই জানতাম এটাই হবে শেষ পরিণতি। তবে কেন কষ্ট পাচ্ছি আমি? বিয়ে নামক পবিত্র সম্পর্কের এতই জোর, এই স্বল্প ক'দিনে আমার মনে ভালোবাসার জন্ম দিয়ে দিলো? কিন্তু এ ভালোবাসা যে আমার জন্য বিষাক্ত।"

ফাইজান শায়রাকে আলতো স্পর্শে ধাক্কা দিয়ে বলল,

"কি রে? খুশি হবি? এতই খুশি যে এখনই কথা হারিয়ে ফেলেছিস?"

বহু চেষ্টায় অশ্রুকণাগুলোকে ভেতরেই দমন করলো শায়রা। কান্না গিলে ফিরলো ফাইজানের দিকে৷ জোরপূর্বক হাসি টেনে বলল,

"হ্যাঁ। অবশ্যই খুশি হবো। বিয়ে শুধু তোমার না, আমারও অনিচ্ছাতেই হয়েছে।"

ফাইজান এক ভ্রু উঁচালো। বলল,

"আচ্ছা তাই? এটাই কারণ নাকি পেছনে অন্য ঘটনা আছে?"

শায়রা গোমড়ামুখে বলল,

"না। আর কি ঘটনা থাকবে?"

ফাইজান বলল,

"মুটকি, শোন। তোর বয়সটা আমিও পার করে এসেছি। এই যে ভার্সিটির ফার্স্ট ইয়ার? এটা জোস একটা টাইম। সারাক্ষণ উড়তে ইচ্ছে করবে এই সময়টায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কিন্তু এই সময়টাতেই মানুষের কারো না কারো সাথে প্রেম হয়ে যায়। বাই চান্স, তোরও এমন কিছু হয় নি তো? এজন্যই হয়তো বারবার ডিভোর্সের কথা বলছিস। আমাকে রেখে নিজের প্রেমিকের কাছে যাবি বলে।"

এহেন কথা শুনলে যেকোনো ব্যক্তিই রেগে যাবে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে শায়রা রাগ করলো না৷ ফাইজান ইচ্ছে করে এরকম একটা কথা বলেছিলো যেন শায়রা রেগে গিয়ে এখন ঝগড়া শুরু করে৷ তবে তাকে আশাহত করে শায়রা রাগলো না। উলটো কেমন শান্ত ও অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকালো ফাইজানের দিকে। বিস্মিত স্বরে জানতে চাইল,

"ভার্সিটির ফার্স্ট ইয়ারে মানুষের প্রেম হয়? এটা তুমি কিভাবে জানলে? তার মানে তোমারও প্রেম হয়েছে? সেই প্রেম কি এখনো আছে? মানে তোমার গার্লফ্রেন্ড আছে?"

এতদিনেও যে সন্দেহ শায়রার মাথায় কোনোদিন আসে নি, ফাইজান আজ সেটা স্ব-উদ্যোগে তার মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে৷ আশা মাঝে দুয়েকবার বলেছিলো এই সম্ভাবনার কথা। কিন্তু শায়রা পাত্তা দেয় নি। আজ সেটাই সত্যি হলো।

ফাইজান প্রথমে হতাশ হয়েছিলো শায়রাকে শান্ত দেখে। পরমুহূর্তেই মেয়েটা নতুন আশার সঞ্চার ঘটালো। ফাইজান ভেবে দেখলো এটাও খুব খারাপ সুযোগ না। কাজে লাগানোই যায়। ভেবে-চিন্তে কথা সাজিয়ে গলা খ্যাঁকাড়ি দিয়ে বলল,

"তুই অতদূর যাচ্ছিস কেন? বাদ দে এসব।"

শায়রা স্থান-কাল-পাত্রভেদ ভুলে চেঁচিয়ে উঠলো,

"কেন বাদ দেবো? এটা কোনো বাদ দেয়ার মতো টপিক? তোমার প্রেমিকা আছে আর সেটা আমি এতদিন পর জানছি? কে সে?"

ফাইজান চোরের মতো ভাব-ভঙ্গি করে বলল,

"হ্যাঁ, আছে একজন।"

কাঁদোকাঁদো হয়ে উঠলো শায়রার মুখটা। এতদিন যা কিছু হয়েছে সব ভুলে গেলো। ভুলে বসলো একটু আগের কথাগুলোও। মাথায় রইলো শুধু এতটুক, ফাইজান তার স্বামী। ফাইজানের আছে প্রেমিকা, আর সেই প্রেমিকা তার সবচেয়ে বড় শত্রু। ব্যস! আর কি লাগে?

আচমকা হিংস্র বাঘিনীর ন্যায় ফাইজানকে আক্রমণ করে বসলো শায়রা। বসা থেকে লাফিয়ে উঠে দু'হাতে চেপে ধরলো ওর শার্টের কলার। দাঁতে দাঁত পিষে বলল,

"শয়তান! তোর প্রেমিকা আছে আর সেটা তুই আমাকে আজ বলছিস? এতদিন কই ছিলো তোর প্রেমিকা? আর প্রেমিকা যখন ছিলোই তখন আমাকে বিয়ে করলি কেন? গত কয়দিন যাবত এত নাটক কেন করলি আমার সামনে? এসব নাটক তোর প্রেমিকার সামনে দেখাতে পারিস নি?"

আকস্মিক আক্রমণে টাল সামলাতে না পেরে ফাইজান উলটে পড়েছে বিছানায়৷ আর শায়রা ঠিক তার উপরে। শায়রার কর্মকান্ডে নিজের হতভম্বতার রেশ কাটাতে বেগ পেতে হয়েছে তার। একটু ঠিকঠাক সামলে নিতেই ফাইজান নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলল,

"আশ্চর্য! তুই-তোকারি করছিস কেন, মুটকি? আমি তোর হাসবেন্ড হই। একটু তো সম্মান দে!"

শায়রা নিজের হুশে নেই। যত রাগ-ক্ষোভ আছে সব ঝেড়ে ফেলছে ফাইজানের উপর৷ ক্ষিপ্ত হয়ে কলার আরও চেপে ধরে ধমকের সুরে বলল,

"তুই আমাকে ডিভোর্স দিয়ে প্রেমিকা নিয়ে ঘুরবি আর আমি তোকে সম্মান দিবো? ওসব আশা শায়রার কাছে করবি না। ছয় মাস পর আমাকে ডিভোর্স দিয়ে ওই ডাইনীর কাছে যাবি, তাই তো? আচ্ছা যাস। তার আগে এই ছয়মাসে তুই আমার কাছেও আসবি না, আমার সাথে কথাও বলবি না। আর নটাংকি করে যদি জায়গায় জায়গায় গিয়ে আমাকে নিজের বউ বলে পরিচয় দিয়েছিস, তাহলে তোর জিভ আমি টেনে ছি*ড়ে ফেলবো৷"

ফাইজান হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছে না৷ গলার কাছটায় শায়রার হাতের চাপে দম আটকে যাচ্ছে তার। নিশ্বাস চালু রাখতে কাশি উঠে যাচ্ছি রীতিমতো! সে একদমই বুঝতে পারে নি তার কথার এরূপ সাইড এফেক্ট হবে। ভেবেছিলো, শায়রা রাগ করবে। এরপর একটু ঝগড়া করবে। ব্যস, শেষ। কিন্তু এই মেয়ে যে এমন ভয়ংকর রণচণ্ডী রূপ নিয়ে তাকে মে*রে ফেলতে উদ্যত হবে, সেটা কে জানতো?

ফাইজান জোরে-জোরে শ্বাস নিতে নিতে বলল,

"শায়ু, ছাড় আমাকে। মাথা ঠান্ডা কর। মে*রে ফেলবি নাকি আমাকে?"

শায়রা ক্ষিপ্ত স্বরে চেঁচাল,

"হ্যাঁ, মে*রেই ফেলবো তোকে। তাহলে কাল থেকে আর তোর নটাংকি দেখা লাগবে না।"

ফাইজান নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে বলল,

"নিজের স্বামীকে কেউ এভাবে তুই-তোকারি করে? ভদ্রতা কই গেছে তোর? আজব! একটা প্রেমিকার কথা বলার অপরাধে আমার প্রাণ যাবে? আগামীকাল দেখবি নিউজের হেডলাইন আসবে, ❝বউয়ের কাছে অজ্ঞাত প্রেমিকার কথা বলার অপরাধে গলা টিপে স্বামীর হত্যা।❞ ব্যাপারটা কি ভালো হবে, বল? একটু শান্ত হ, বউ।"

অজ্ঞাত কথাটা বুঝতে না পেরে অল্প সময়ের জন্য থমকালো শায়রা। কর্কশ কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,

"অজ্ঞাত মানে?"

ফাইজান বলল,

"বলবো। তুই আগে শান্ত হ একটু। কাম ডাউন, প্লিজ।"

শায়রা চেষ্টা করেও নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। আচমকা দিকবিদিক খুঁইয়ে দাঁত বসিয়ে দিলো ফাইজানের ঘাড়ে। সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে ফেলল ফাইজান। ব্যাথায় নাক-মুখ কুঁচকে নিয়ে বলল,

"ও আল্লাহ! এ মানুষ না রাক্ষস? কামড়ে রক্ত বের করে ফেলবে মনে হচ্ছে৷ কি করছিস মুটকি? এভাবে ঘাড়ে লাভ বাইট বসিয়ে রাখলে লোকে বুঝে যাবে এটা তোর কর্মকান্ড। আমার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন চরিত্রের উপর দাগ লাগিয়ে দিবি তুই!"

পুরো এক মিনিট পর উঠে বসলো শায়রা। রাগ অনেকটা কমে যাওয়ায় নেমে গেছে ফাইজানের উপর থেকেও। বসেছে নিজের জায়গায়৷ অতিরিক্ত রাগের বসে কি করে বসেছিলো, সেটা মনে পড়তেই বিব্রত হচ্ছে নিজে। তবে উপরে প্রকাশ করবে না। কিছুই হয় নি এমন একটা ভাব করে থমথমে কন্ঠে বলল,

"কামড় আমি দিয়েছি প্রমাণ কি? তোমার প্রেমিকাও তো দিতে পারে। সবাই জানে আমি তোমার বোনের সাথে থাকি। আজ যে এই রুমে আছি সেটা কেউ জানবেও না। আমি ভোরে উঠে আনুসার রুমে চলে যাবো। তারপর রটনা হবে তোমার প্রেমিকার রহস্য।"

ফাইজান ঘাড়ে হাত ডলতে ডলতে উঠে বসলো। বলল,

"দুনিয়ার যত আজগুবি বুদ্ধি সব তোর মাথায়! বুঝি না ভেবেছিস? তুই ইচ্ছে করে লাভ বাইট দিয়েছিস যেন আমি আমার প্রেমিকার কাছে না যেতে পারি। কারণ এতে তো আমাদের সম্পর্ক ভেঙে যাবে।"

মুখ ভেঙালো শায়রা। বলল,

"প্রেমিকার কত্ত চিন্তা! কে তোমার সেই প্রেমিকা? নিশ্চিত ভার্সিটির কোনো সুন্দরী মেয়ে পটিয়েছো। পিক-টিক আছে? দেখাতে পারবে?"

ফাইজান বিড়বিড়িয়ে বলল,

"সুন্দরী প্রেমিকা! সুন্দরী হলে কি হবে? মাথার তার যে দু-তিনটে ছেঁড়া, ওটার কি করবো আমি?"

শায়রা ভ্রু কুঁচকে বলল,

"কিছু বললে?"

ফাইজান বলল,

"কিছু না।"

শায়রা পুনরায় বলল,

"তাহলে তোমার প্রেমিকার পিক দেখাও। আমিও তো দেখি কে সেই দুর্ভাগ্যবতি রমনী?"

ফাইজান উত্তরে মুচকি হেসে বলল,

"ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় তাকালেই দেখতে পাবি।"

"আয়নায় তাকালেই দেখতে পাবো? নিজের প্রেমিকার ছবি কি আয়নায় লাগিয়ে রেখে....."

শায়রা বসা অবস্থাতেই ঘুরলো ড্রেসিং টেবিলের দিকে। ফাইজানের প্রেমিকাকে দেখার বিস্তর আগ্রহ তার। অতি কৌতুহলের ফলে ভুলেই বসলো আয়নায় তাকালে ঠিক কি নজরে পড়তে পারে!

পুরো ড্রেসিং টেবিলটা পরখ করে গোটা আয়নায় একমাত্র নিজের ও ফাইজানের প্রতিবিম্ব ব্যতীত অন্য কারো চেহারাই নজরে এলো না শায়রার৷ তৎক্ষনাৎ মাথায় ঢুকলো ফাইজান কি বলতে চেয়েছে। শব্দগুলো তার আহুতি দিলো সেখানেই। বলতে পারলো না একটা কথাও৷

এতক্ষণ বিনা কারণে রাগ দেখিয়েছে শায়রা। নিজের গত কর্মকান্ডগুলো মনে পড়তেই ভীষণ লজ্জিত হলো সে। কিন্তু ফাইজান এমন এক বান্দা যে মেয়েটাকে শান্তিতে লজ্জাও পেতে দিলো না। মহাবিরক্ত ভঙ্গিতে ধমক ছুড়লো,

"হয়েছে দেখা? এবার ঘুমা। জ্বালিয়ে রেখে দিলো আমাকে। কি একদিন আনুসার রুম থেকে আমার রুমে নিয়ে এসেছি এটার শাস্তি হিসেবে এখন সারারাত বসিয়ে রাখবে মনে হচ্ছে। দেখ মুটকি, আর একটা কথাও বললে আমি তোর হাত-পা-মুখ বেঁধে বাথরুমে আটকে নিজে শান্তিতে ঘুমাবো। তাই চুপ থাক!"

লজ্জা ও প্রেম-প্রেম অনুভূতি দুটোই এক নিমিষে উঁবে গেলো ধমক খেয়ে। শায়রা মুখটা গোমড়া করে শুয়ে পড়লো নিজের জায়গায়। ফাইজানও শুয়েছে আবার। কামড়ের যন্ত্রণায় একটু পরপর ঘাড় ডলছে বেচারা।

দুই দফা ঝগড়াঝাঁটিতেও বোধহয় মন ভরলো না শায়রার। কিছু একটা মনে পড়তেই আবারও ঘুরলো ফাইজানের দিকে। আলতো করে ধাক্কা দিয়ে বলল,

"এই বাউন্ডুলে, শুনো না!"

ফাইজান 'চ' সূচক শব্দ করে বলল,

"আবার কি?"

শায়রা মিনমিনিয়ে বলল,

"তোমার তাহলে প্রেমিকা নেই? তাহলে কি আমাকে ডিভোর্স দিয়ে তারপর প্রেমিকা খুঁজবে?"

বিরক্তির চরম সীমাটাও পার হয়ে গেলো ফাইজানের। রেগে-মেগে বলল,

"আমি একবারও বলেছি তোকে ডিভোর্স দিবো? নিজেই বারবার এই কথা টানছিস৷ একটা কামড় দিয়েছিস? প্রয়োজনে আরও দু-চারটে কামড় দে, তাও প্লিজ এই ডিভোর্স ডিভোর্স করিস না৷"

শায়রা মুখটা অন্ধকার করে বলল,

"আচ্ছা, তাহলে ঘুমাও। আর ডিস্টার্ব করবো না।"

চুপ থাকার কথা বললেও এই মেয়ে শান্তভাবে থাকার বান্দাই নয়। আবারও উঠে বসলো মাঝের সীমানা নির্ধারণ করতে। দু'জনের মাঝে দিলো কোলবালিশ। তারপর দুটো কুশন বিছানার উপর পেয়ে সেগুলোও দিলো। নড়াচড়া টের পেতেই ঘুরলো ফাইজান৷ নিজেদের মাঝে এই লম্বাচওড়া দেয়াল দেখে বলল,

"এসব কি? মাঝে পার্টিশন দিচ্ছিস কেন?"

শায়রা বলল,

"পার্টিশন দিচ্ছি যেন তোমার জায়গায় তুমি থাকো, আর আমার জায়গায় আমি থাকি।"

ফাইজান বলল,

"তার জন্য বালিশ দেয়ার কি দরকার? আমার নিজের উপর কন্ট্রোল আছে।"

শায়রা ইতস্তত করে বলল,

"কন্ট্রোল আছে তো, জানি! তাও, যদি না থাকে?"

ফাইজান নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল,

"কন্ট্রোল না থাকলে না থাকবে। আমার বউ-ই তো আছে বিছানায়। বাইরের কোনো মেয়ে তো নেই।"

শায়রা যেই কুশনটা মাঝে রেখেছিলো সেটা নিজের হাতে নিয়ে উলটো ঘুরে শুয়ে পড়লো৷ পরপর কানের উপর কুশন চেপে আকুতি করে বলল,

"আল্লাহর ওয়াস্তে তোমার মুখটা বন্ধ রাখো। একটু লজ্জা-শরম রেখে কথা বলতে পারলে বলবে, নাহলে বন্ধ রাখাই ভালো। ঘুমাও, যাও।"

ফাইজান ঠোঁট উলটে বলল,

"নিজেই ঘুমে ডিস্টার্ব করে, আবার নিজেই বলে ঘুমাতে যেতে। কথা না বললেও দোষ আবার বললেও দোষ। মহাবিপদ!"

*********

রাতে এরচেয়ে বেশি আর ঝগড়া হয়নি তাদের। ঘুমিয়ে পড়েছিলো দু'জনেই। মাঝ দিয়ে ফাইজানের ঘুম ভেঙেছিলো ভোররাতে। তখন মাঝের কোলবালিশ একপাশে সরিয়ে শায়রাকে কাছে টেনে নিয়েছে ও। গভীর ঘুমে নিমজ্জিত মেয়েটা টের পায়নি সেসব৷ নড়াচড়ার পর আবার ঘুম দিয়েছে ফাইজানকে জড়িয়ে ধরে৷

সকাল প্রায় ৭ টা নাগাদ ঘুম ভেঙেছে ফাইজানের। উঠে ঘড়ির দিকে তাকাতেই চমকে গেলো সে৷

সাতটা বেজে গেছে। অর্থাৎ তার মা ও আনুসা ঘুম থেকে উঠে পড়বে এখনই৷ কথা ছিলো, শায়রা সকালে উঠে আনুসার রুমে চলে যাবে। কিন্তু মেয়ে এখনো বেঘোর ঘুমে তলিয়ে। ফাইজানই ডাক দিলো ওকে,

"ওই মুটকি, উঠ আমার উপর থেকে। উফফ, এত ভারী কেন তুই?"

ফাইজানের ডাকে নড়াচড়া করে আবারও ঘুমাতে চাইল শায়রা। চোখ বোজা অবস্থাতেই ঘুম-ঘুম কন্ঠে বলল,

"মুটকি, ভারী এসব কি শব্দ হ্যাঁ? একটু সুন্দর করে কথা বলতে পারো না তুমি?"

কপাল কুঁচকালো ফাইজান৷ উচ্চ-শব্দে বলল,

"মাননীয়া আটার বস্তা, অনুগ্রহ করে আমার উপর থেকে উঠবেন আপনি? তাহলে আপনার স্বামী ধন্য হবে।"

হৃদয়ের রঙিন ক্যানভাস পর্ব ২৪ গল্পের ছবি