শুভর আদেশমতো আবির হাতে গোলাপটা নিয়েই সুন্দরভাবে কথা আগাচ্ছে শায়রার সাথে। মেয়েটা আকস্মিক এই আচরণে অবাক হয়েছে। উত্তর দিচ্ছে আর বিভ্রান্ত দৃষ্টিতে ঘুরে ঘুরে তাকাচ্ছে আশার দিকে। দু'জনের চোখাচোখি হচ্ছে আর শায়রা আবার ঘুরছে আবিরের দিকে। নাম, ডিপার্টমেন্ট এসব জিজ্ঞাসা শেষেই তাদের মাঝখানে হাজির হলো ফাইজান। থমথমে কন্ঠে শায়রাকে বলল,
"তুই কি এখানেই থাকবি নাকি বাসায় যাবি?"
ওইদিন ঝ*গড়ার পর আজ ফাইজানই প্রথম কথা বলতে এসেছে শায়রার সাথে। ব্যাপারটায় হতবাক হয়ে মেয়েটা মৌন রইলো কিয়ৎক্ষণ। আচমকা মস্তিষ্কে হানা দিলো, ফাইজান হয়তো ব্যাপারটা নিয়ে জেলাস হচ্ছে। তৎক্ষনাৎ শায়রা চোখ ছোট ছোট করে উত্তর দিলো,
"আমাকে জিজ্ঞেস করতে এসেছো কেন? তুমি গেলে যাও। আমি একাই চলে যেতে পারবো।"
অন্যদিকে ফাইজানের সাথে শায়রাকে কথা বলতে দেখে স্বাভাবিকভাবেই ঘাবড়ে গেলো আবির। শুভদের র্যা*গিং টিমেরই একজন মেম্বার যে ফাইজান, সেটা ভালো করেই জানে আবির। চিনেও বেশ। তাই ভয়ে ভয়ে তাকালো শুভর দিকে। অতি চালাক ছেলেটা ইশারায় বোঝালো ফাইজানকে ঝা*ড়ি মারতে। কিন্তু আবিরের সাহসে কুলালো না। কোনোরুপ নিজেকে নির্ভীক দেখানোর চেষ্টায় বলল,
"আপনি কে? কথার মাঝখানে ঢুকে বাগড়া দিচ্ছেন কেন? শায়রা, কে উনি?"
অ*গ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে ওর দিকে ঘুরলো ফাইজান। তার চোখ দু'টো দেখলে মনে হবে, পারলে এখনই চোখ দিয়ে ভষ্ম করে দিতো আবিরকে। ঘাম ছুটে গেলো বেচারার।
ফাইজান হুট করে আবিরের হাত থেকে গোলাপটা কেড়ে নিলো। সদ্য ফোঁটা তাজা লাল গোলাপটা সেই মুহুর্তেই দুমড়ে-মুষড়ে আহত-নি*হত করে নিচে ফেলে দিতেও মায়া হলো না। দু'হাতের মাঝে পিষে ফেলার পর তার স্থান হলো মাটিতে৷ এরপর ধমকের সুরে চেঁচালো,
"ভার্সিটিতে পড়াশোনা করতে আসো নাকি প্রেম করতে? গাছের ডালে উলটো করে ঝুলিয়ে পি*টাবো। প্রেমের সাধ জন্মের মতো মিটে যাবে।"
ঢোক গিলল আবির। শায়রার দিকে তাকিয়ে পুনরায় জিজ্ঞেস করলো,
"উনি কে হয় তোমার?"
ফাইজানের মন বলল, মুখের উপর বলে দিক সত্যি কথা। পরমুহূর্তেই আবার মস্তিষ্ক বলল,
"কোন মুখে তুই নিজেকে ওর স্বামী দাবি করবি? বউ বলে মানিস ওকে? আবার বউ অন্যের সাথে কথা বললেও দোষ!"
আবার মনে হলো সকালবেলায় রিজভীর বলা কথাটা। "নাহলে বউ হাতের বাইরে চলে যাবে।"
মন ও মস্তিষ্কের দু'মুখো ভাবনায় দোটানায় পড়ে গেলো ফাইজান। এমনসময় শায়রা উত্তর দিতে লাগলো,
"আমার কাজিন..."
তৎপর ফাইজান নিজের মনের কথাই শুনলো। জোরে চেঁচিয়ে ফট করে বলে বসলো,
"হাসবেন্ড হই আমি ওর। আর তুমি যাকে ফুল দিয়ে প্রেম নিবেদন করতে এসেছো সে আমার বউ। আর কোনো প্রশ্ন?"
সফলতার খুশিতে লাফিয়ে উঠে হাই ফাইভ সম্পূর্ণ করলো শুভ, রিজভী ও আহাদ। রিজভী বলল,
"আমি জানতাম এটা কাজ করবে! এসব মামলায় জেলাসি বেশ ভালো কাজ করে। আবির আর শায়রা ভাবির চেহারাটা দেখ একবার।"
বলেই হাসতে লাগলো সে।
ফাইজানের কথা শুনেই হা হয়ে গেলো আবির। অস্ফুটস্বরে উচ্চারণ করলো,
"শেষমেশ বিবাহিত মেয়ে?"
আবির যতটা না অবাক হয়েছে তার চেয়ে অনেকগুনে বেশি অবাক হয়েছে শায়রা। সে কল্পনাও করে নি ফাইজান এরকম কিছু বলবে। বিস্ফারিত নেত্রে হতবিহ্বল হয়ে তার দিকে চেয়ে আছে শায়রা।
ওদের নীরবতা সহ্য হলো না ফাইজানের। খপ করে চেপে ধরলো শায়রার হাত। কর্কশ কন্ঠে বলল,
"তুই আমার সাথে এক্ষুনি বাসায় চল।"
বলেই হাত টেনে নিয়ে চলে গেলো সেখান থেকে। শায়রা এখনো নিজের হতবিহ্বলভাব কাটাতে পারে নি বিধায় বাঁধাও দিতে পারলো না৷ বাইকের কাছাকাছি পৌঁছে জেদের বশে ফাইজান শায়রাকে ধমকের সুরে বলল,
"বাইকের পেছনে বস।"
আচমকা সৎবিৎ ফিরে এলো শায়রার। প্রতিবাদ করলো তৎক্ষনাৎ। বলল,
"সমস্যা কি তোমার? আমার উপর ঝা*ড়াঝা*ড়ি না করলে পেটের ভাত হজম হয় না? আমি কথা বললেও দোষ না বললেও দোষ। যেটাই করবো তাতেই দোষ। করব টা কি আমি?"
ফাইজান নির্বিকার উত্তর দিলো,
"আমার সাথে বাসায় যাবি আপাতত।"
শায়রা কাট-কাট স্বরে বলল,
"আমাকে এখন তোমার হুকুম অনুযায়ী চলতে হবে? তোমার অনুমতি নিয়ে মানুষের সাথে কথা বলতে হবে? তুমি তো আমার থেকে নিজের স্বাধীনতা চেয়েছো। তাহলে আমার স্বাধীনতায় কেন হস্তক্ষেপ করছো?"
অকাট্য যুক্তি। খন্ডনের কোনো উপায় পেলো না ফাইজান। বাহানা দিলো,
"এসব বলার জায়গা মাঝরাস্তা নয়, শায়রা। পরেও আলোচনা করা যাবে। বাসায় চল।"
এরপর হেলমেট লাগাতে লাগাতে বসলো বাইকে। শায়রাও আর কথা না বাড়িয়ে বসলো পেছনে। ফাইজানের মাথায় আর বন্ধুদের থেকে বিদায় নেয়ার কথা মনে আসলো না। টান বসালো বাইকে৷
বিস্ময়ে বিমূঢ় আবির এখনো পূর্বের স্থানে দাঁড়িয়ে। সে জানে শুভ, রিজভী, আহাদ ও ফাইজান চারজনেই জানের বন্ধু। তাহলে শায়রা যে ফাইজানের স্ত্রী এটাও নিশ্চিত বাকি তিনজনে জানে। তাহলে তাদের বন্ধুর বউকে প্রপোজ করার জন্য আবিরকে কেন পাঠালো তারা? কোনোমতেই এই হিসাবটুকু মিলাতে পারলো না সে।
ফাইজান ও শায়রা চলে যাওয়ার পর আশা একবার ঘুরে আবিরকে দেখে নিজেও পা বাড়ালো বাইরের পথে। যেতে যেতে চিন্তা করলো, যা হয় ভালোর জন্যই হয়৷ এই ঘটনার ফলেও যদি দু'জনের মাঝে খানিক দূরত্ব কমে, তবে ক্ষতি কি?
তিন বন্ধু এসে হাজির হলো আবিরের আশে-পাশে। শুভ আবিরের কাঁধে হাত রেখে বলল,
"একদম পারফেক্টলি কাজ করেছো তুমি। এই খুশিতে আমরা আজ তোমাকে ট্রিট দিবো। বলো কি খাবে?"
আবির ওদের হাসি-খুশি মুখটা দেখে সাহস পেলো কিছুটা। মনের কৌতুহল দমন করতে না পেরে জিজ্ঞেস করে ফেলল,
"ভাইয়া, আমি তো কাহিনির কিছুই বুঝলাম না। আপনারা তো জানতেন যে এই আপুটা আপনাদের বন্ধুর বউ হয়। তাহলে কেন প্রপোজ করতে বললেন? আমি তো এসবের কিছুই বুঝলাম না।"
রিজভী ভ্রু কুঁচকে বলল,
"ম্যাথ ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট?"
আবির মাথা নাড়লো। বলল,
"হ্যাঁ। আপনি কি করে জানলেন?"
শুভ বলল,
"এজন্যই তোমার অংক মিলে না।"
"ওহ আচ্ছা।" বলে বেখেয়ালে যেই আবির মাথা নাড়তে যাবে তখনই কথাটা পরিষ্কারভাবে মাথায় ঢুকলো তার। একটা কনফিউশান দূর না হতেই আরেকটা বিপাকে পড়লো সে। পুনরায় জিজ্ঞেস করলো,
"ম্যাথ ডিপার্টমেন্টের হলে অংক মিলে না, এটার মানে কি?"
রিজভী বুঝিয়ে বলল,
"ম্যাথ ডিপার্টমেন্টের হওয়া মানে খাতা-কলমের হাজার হাজার অংক মিলিয়ে ফেলা যায় সূত্র অনুসরণ করেই। কিন্তু বাস্তবে সম্পর্কের জটিল সমীকরণগুলো কখনো সূত্র বা নিয়ম অনুসরণ করে না। সম্পর্কগুলো টিকে থাকে একে অপরের প্রতি মনের টানে, পরস্পরের সুন্দর বোঝাপড়ায়। আর যখন কোনো সম্পর্কে উভয়পক্ষ নীরব হয়ে যায়, তখনই তৃতীয়পক্ষ অনায়াসে ঢুকে সেই সম্পর্ক ভেঙে-চুরে গুড়িয়ে দেয়। তাই তৃতীয়পক্ষকে ঢোকার সুযোগ কোনোদিন দেয়াই উচিত না। এর আগে সব সমাধান করে নেয়াই ভালো। স্বেচ্ছায় নিজেরা সমাধান না করলে আমরা এমনই করবো। আর হ্যাঁ, তুমি শুনে রাখো, আজকের কাজটা একটা মিশন ছিলো। এরপর থেকে আমাদের ভাবির আশে-পাশে ঘুরঘুর করবে না বলে দিচ্ছি। যদি দেখেছি, তো ফাইজানের আগে আমরা হা*ড্ডি ভাঙ*বো। এবার বলো কি খাবে?"
পুরোটা না জানলেও এবার মোটামুটি ঘটনা সম্পর্কে আন্দাজ করে ফেলল আবির। সম্মতির সুরে মাথা নাড়লো সে। শুভ নিয়ে গেলো ওকে ভার্সিটির ক্যাম্পাসের বাইরে। রিজভী আহাদকে বলল,
"দেখলি? শা*লাকে সকালে বললাম। আমার কথা গায়েই নিলো না! এখন আবার ঠিকই লাইনে এসেছে। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে, আঙুক এভাবেই বাঁকা করা লাগে।"
আহাদ বলল,
"হয়েছে। চল, এবার আমরাও গিয়ে কিছু খেয়ে আছি। বেচারা ফাইজান! ভেতরে ভেতরে হিং*সায় জ্বলে-পু*ড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। অথচ ঘাড়ত্যাড়া বান্দা সেটা ভুলেও মুখে প্রকাশ করবে না।"
মাঠ থেকে ওই চারজন মানুষ চলে যেতেই কাছাকাছি একটা গাছের আড়াল থেকে বের হলো আশা। অভিভূত হয়েছে সে৷ নিজমনেই বলল,
"মা*রামা*রি, র্যাগিং-এর জন্য সবাই ওদের কত খারাপ মনে করে। অথচ মন-মানসিকতা কত্ত সুন্দর! আচ্ছা, আমিও যদি ওদের মতো কিছু করি তাহলে কি কাজ হবে? ওরা ভাইয়ার বন্ধু হয়ে ওদেরকে মিলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। আমিও তো শায়রার বান্ধবি। সেই হিসেবে আমি একটা প্রচেষ্টা করলে ক্ষতি কি?"
*********
কলিংবেলের শব্দে মালেকা বেগম আন্দাজ করলেন শায়রা এসেছে। কারণ এই সময়টাতে ভার্সিটি ছুটির পর শায়রাই বাসায় আসে। ফাইজান বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে, ঘুরে-ফিরে আরও অনেকটাই দেরিতে আসে। দৈনন্দিন রুটিনের তার কোনো পরিবর্তন হয় না। আর আনুসা বাড়ি এসেছে আরও এক ঘন্টা আগেই।
ভদ্রমহিলা এসে দরজা খুলে শায়রার সাথে ফাইজানকে দেখে অবাক হলেন ভীষণ। দরজায় দাঁড়িয়ে শুধালেন,
"তুই আজ এত জলদি? সূর্য কি পশ্চিমে উঠে গেলো?"
ফাইজান উত্তর দিলো,
"এখন বাড়িতে জলদি আসতে গেলেও সূর্য, চাঁদ, গ্রহ-নক্ষত্রের রাশি দেখে আসা লাগবে? তোমার ভাতিজিকে বাড়ি পৌঁছে দিতে এসেছি। এখন কি ভেতরে ঢুকতে দেবে?"
ছেলের কথায় একপাশ হয়ে দাঁড়ালেন ভদ্রমহিলা। ফাইজান ভেতরে এবং পেছনে মাথা নিচু করে ঢুকলো শায়রা। মালেকা বেগম শায়রাকেই জিজ্ঞেস করলেন,
"ঘটনা কি? ও আজ তোকে পৌঁছে দিতে আসলো? কিছু কি হয়েছে নাকি?"
শায়রা ইতস্তত করলো কিছুক্ষণ। ভার্সিটিতে যা হয়েছে সেটা ও বলতে পারলো না ফুপুকে। বিব্রতবোধ করে বলল,
"ওর বোধহয় আজ টাইম বেশি ছিলো, তাই চলে এসেছে আমার সাথে। এছাড়া আমি কিছু জানি না, ফুপ্পি।"
বলেই কোনোরকম পাশ কাটিয়ে ঢুকলো নিজের রুমে। ফাইজানও শায়রার কথাই রিপিট করলো। কারণ ভার্সিটির অপ্রীতিকর ঘটনাটা ঘরে জানানোর মতো অবুঝ সে নয়। তাই চেপে গেলো পুরোটা। গিয়ে ঢুকলো নিজের রুমে।
**********
সেদিন রাত্রে শায়রা আনুসার রুমেই থেকেছে। মান-অভিমানের পালা এখনো শেষ হয়নি তাদের। পরিবর্তন এটুকুই, দু'জনের মধ্যে এখন কথা হচ্ছে টুকটাক। কিন্তু তর্ক-বিতর্কে জড়াচ্ছে না। শায়রা একপ্রকার বেঁধে রাখছে নিজের এই অভ্যাসটাকে।
তার দু'দিন পরের ঘটনা। সকালে ডাইনিং টেবিলে বসা ফাইজান, আনুসা, শায়রা ও মালেকা বেগম। ফজল সাহেব আগেই বেরিয়ে গেছেন অফিসের উদ্দেশ্যে। তাদের নাস্তা খাওয়ার সময়ই শায়রার ফোনে কল আসলো আশার। শায়রা রিসিভ করতেই আশা বলল,
"শায়রা, আমার সাথে একটু বাইরে যাবি আজ?"
শায়রা জিজ্ঞেস করলো,
"কোথায়?"
আশা জানালো,
"আমার আর তোর ভাইয়ার এনগেজমেন্ট ফিক্সড হয়েছে সামনের সপ্তাহে। আজকে সেই উপলক্ষে শপিং করতে যাচ্ছি। ভাবলাম, তোকেও নিয়ে যাই। যাবি তুই?"
শায়রা অনুমতির আশায় চাইল ফুপুর দিকে। কল মিউট করে বলল,
"ফুপ্পি, আশা আজ আমাকে ওর সাথে শপিং-এ নিয়ে যেতে চাইছে। আমি যাই?"
মালেকা বেগমের আগে ফাইজান বলল,
"যা। না করেছে কে?"
ফাইজানের থেকে উত্তর শুনেও না শোনার ভান করে শায়রা এখনো ফুপুর দিকেই তাকিয়ে আছে। অগত্যা মালেকা বেগম বললেন,
"যেখানে ও অনুমতি দিয়ে দিয়েছে, সেখানে আমি আর কি বলবো? যা তুই। তবে সাবধানে থাকিস একটু।"
শায়রা খুশি হয়ে আশাকে বলল,
"ওকে, আমি যাচ্ছি। কয়টায় বের হবো?"
আশা উত্তর দিলো,
"যাবো বিকেলে। তুই যখন ইচ্ছে চলে আসিস।"
শায়রা পুনরায় প্রশ্ন করলো,
"কে কে যাচ্ছে?"
আশা বলল,
"আমি, ইশা, তোর ভাইয়া আর আমার দেবর যাচ্ছে।"
কিছু একটা মনে পড়তেই তৎপর কথা হারিয়ে ফেলল শায়রা। উপস্থিত সবার দিকে তাকিয়ে বুঝলো এখানে কিছু বলা সমীচীন নয়। তাই উঠে চলে গেলো আনুসার রুমের বারান্দায়। ওর এই কান্ডে সন্দেহ হলো ফাইজানের। সে নিজেও উঠে শায়রার পিছুপিছু হাজির হলো বারান্দায়। দরজার বাইরে থেকেই শোনার চেষ্টা করলো কথা।
"ওমা! বউ গেলো তো পিছুপিছু বরও চলে গেলো? মা, একটা জিনিস লক্ষ করেছো? ভাইয়ার ভাব-সাব সুবিধার লাগছে না।"
মালেকা বেগম মেয়ের উপর মেকি রাগ দেখিয়ে বললেন,
"ছোট আছিস, ছোট-র মতো থাক। সবকিছু নিয়ে অত মাথা ঘামাতে হবে না।"
*******
শায়রা বারান্দায় পৌঁছে চাপা কন্ঠে আশাকে বলল,
"তোর হবু দেবরও যাচ্ছে? তাহলে আমার না যাওয়াই ভালো না?"
আশা বলল,
"আরেহ, উনি গেলে তুই যাবি না এটা কেমন কথা? উনি নিজের ভাইয়ের সাথে যাবে আর তুই আমার সাথে যাবি। মামলা ডিসমিস।"
শায়রা 'চ' সূচক শব্দ করে বলল,
"তুইই তো বললি তোর দেবরের ভাব-গতিক ঠিক নেই। বড় ভাইয়ের বউ দেখতে এসে ছোট ভাইয়ে আরেকজন পছন্দ করে বসে আছে। আমি তাহলে উনার সামনে শান্তিমতো ঘুরতে পারবো, বল? আমার অস্বস্তি হবে। তাই না যাওয়াই ভালো।"
আশা জোর গলায় বলল,
"তুই যাবি এন্ড ইট'স ফাইনাল। আর কোনো কথা শুনতে চাচ্ছি না। আমি আজ দুপুর তিনটার আগে তোকে আমাদের বাসায় উপস্থিত দেখতে চাই। সি ইউ, টাটা।"
এরপর আর শায়রাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই কল কেটে দিলো আশা। শায়রা ভীষণ বিরক্ত হলো ওর উপর। শুরুতে শপিং-এর কথা শুনে যতটা খুশি হয়েছিলো এখন ততটাই তিক্ত লাগছে।
অন্যদিকে দরজার বাইরে দাঁড়ানো পুরুষটা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে শায়রার কথা শুনে। মস্তিষ্কে নাড়া দিলো,
"তোর বউকে পছন্দ করে এমন একজন ব্যক্তির সাথে ওকে ঘুরতে নিয়ে যাচ্ছে আশা। তোর কি কিছু করা উচিত না?"