হৃদয়ের রঙিন ক্যানভাস

পর্ব - ১৬

🟢

শহরের ব্যস্ত রাস্তায় চলছে একটি প্যাডেলচালিত রিকশা। এতে পাশাপাশি বসা শায়রা ও আশা। শায়েরা বেশ কয়েকবার পেছনে ফিরে তাকালো যতক্ষণ না মাঠ দৃষ্টিসীমার বাইরে যায়। এরপর ঘুরে সস্থির নিশ্বাস ফেলে শান্তিমতো বসলো।

আশা এতক্ষণ ওর কর্মকান্ড দেখছিলো। এখন জিজ্ঞেস করলো,

"লাভ কি হলো, বুঝলাম না আমি!"

শায়রা ভ্রু নাচিয়ে বলল,

"কি লাভ চাচ্ছিস তুই?"

আশা বলল,

"এইযে তুই ফুচকার বিল জামাইয়ের ঘাড়ে চাপিয়ে আসলি, এতে কি প্রমাণ করতে চাইলি? মাত্র একশত আশি টাকা। এটা দিতে ভাইয়ার কোনো সমস্যাই হবে না।"

শায়রা রহস্যময় হেসে বলল,

"হ্যাঁ, দিতে সমস্যা হবে না ঠিকই। কিন্তু এর জন্য তো ওর কাছে টাকা থাকা লাগবে নাকি? না থাকলে দিবে কি করে? আর টাকা থাকবেই কি করে? ওর মানিব্যাগ তো আমি নিয়ে এসে পড়েছি।"

এরপর শায়রা ব্যাগ থেকে ফাইজানের মানিব্যাগ বের করে এক পলকের জন্য আশাকে দেখিয়ে আবার ভেতরে রেখে দিলো। বেচারী হা হয়ে গেছে ঘটনাটায়। দ্রুত ধাতস্থ হয়ে বলল,

"ভুল করেছি৷ এতক্ষণ আমি তোর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু এখন, এই মুহুর্ত থেকে আমি তোর জামাইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করছি। যে বিয়ের পরের দিন এইভাবে জামাইয়ের উপর ফুচকার বিল চাপিয়ে মানিব্যাগ ছি*নতাই করে চলে আসে, সে যে ভবিষ্যতে আরও ভ*য়ংকর কিছু করবে না তার নিশ্চয়তা কি? বেচারা সে কি কি সইবে, কে জানে?"

শায়রা চোখ ছোট ছোট করে আশার দিক চেয়ে বলল,

"তুই আমার বান্ধবী তো? আমার সামনে বসে ওর সাপোর্টে কথা বলছিস? ভয় করছে না তোর? আমি যদি এই মুহুর্তে তোকে রিকশা থেকে ধা*ক্কা দিয়ে ফেলে দেই?"

আশা হতাশ শ্বাস ফেলে বলল,

"আমাকে না হয় তুই ফেলবি, কিন্তু তোর জামাই তো স্বেচ্ছায় ঝাঁ*প দিবে। আগামীকাল ভাইয়ার সাথে দেখা হলে তাকে একটু সমবেদনা জানিয়ে দিবো।"

শায়রা চোখ রাঙিয়ে বলল,

'আশা, চুপচাপ বস। নাহলে সত্যি সত্যি ফেলে দিবো তোকে।"

*******

ফুচকাওয়ালার ঝামেলা শেষ করে ফাইজান ফিরলো বন্ধুদের কাছে৷ আহাদ রা*গ দেখিয়ে বলল,

"আজকাল মানুষ না জানিয়ে বিয়েও করে ফেলছে৷ অথচ আমাদের জানাচ্ছেই না। মনে হচ্ছে সে আমাদের বন্ধু বলে মানেই না। মানলে তো আর এমন করতো না।"

শুভ আহাদকে বলল,

"আমার তো প্রথমদিনই শায়রা ওর পরিচিত শুনে সন্দেহ হয়েছিলো। এখন তো মনে হচ্ছে পুরোটাই মি*থ্যা বলেছে। তিনি আগেই বিয়ে করে তারপর বউকে ভার্সিটিতে এনেছে। আর পরিচয় দিয়েছে ওর নাকি কাজিন হয়। ভাবা যায়, মানুষ কত বা*টপার?"

ফাইজান বিরক্ত হয়ে বলল,

"তোরা এসব উদ্ভট জল্পনা-কল্পনা বন্ধ করবি? আমি মিথ্যে কেন বলতে যাবো? শায়রা আসলেই আমার কাজিন হয়, আমার মামাতো বোন। যেটা সত্যি সেটাই বলেছিলাম তোদের। আর তোরা আমাকে অবিশ্বাস করছিস?"

রিজভী পালটা রাগ দেখিয়ে বলল,

"বিশ্বাস করার মতো কাজটা কি তুই করেছিস? বিয়ে করেছিস আর জানালিও না আমাদের। তাহলে কি মনে করবো আমরা?"

ফাইজান লম্বা নিশ্বাস নিয়ে শান্ত করলো নিজেকে। অতঃপর ধীরে-সুস্থে বলল,

"দেখ, বিয়েটা জাস্ট গতকালই হয়েছে। আর হয়েছে আমাদের অনিচ্ছায়। এটাকে আনন্দের সাথে প্রকাশ করার কারণ আমি খুঁজে পাই নি।"

শুভ কৌতুহলী হয়ে বলল,

"অনিচ্ছায় হয়েছে? নাটক-সিনেমার মত কাহিনি করছিস তুই? নাকি দাওয়াতের ভয়ে এরকম নাটক করছিস? ছি*হ ফাইজান! এত কিপ্টে তুই?"

ফাইজান রেগেমেগে চেঁচিয়ে বলল,

"আশ্চর্য! তোরা নিজেরাই কাহিনি কেন বানিয়ে নিচ্ছিস? পুরো কথাটা তো আমাকে বলতে দিবি?"

আহাদ থমথমে কন্ঠে বলল,

"বলার আর আছে কি? একেবারে চাচা যেদিন হবো ওইদিন না হয় খবর দিস।"

ফাইজান হাত উঠাতে উদ্যত হলো আহাদের উপর। রিজভী হাত টেনে-টুনে থামালো ওকে। স্ব-উদ্যোগে বলল,

"আচ্ছা, আমরা আর কিছু বলবো না। তুইই বল।"

রিজভীর কথায় শান্ত হলো ফাইজান। সময় নিয়ে বর্ণনা করলো ওদের বিয়ের ঘটনা। তার নানির শখের ব*লি হয়ে গেছে দু'জনে। এবং রাত্রিবেলা পালাতে গিয়ে ধরা খাওয়াটা ছিলো বিপদের দ্বিতীয় স্তর। এরপর আর বিয়ে থেকে বাঁচা যায় নি। বিয়েটা হয়েই গেছে। আর বিয়ের পরমুহূর্ত থেকে জীবন থেকে শান্তি নামক বস্তুটা বাতাসের সঙ্গে মিশে দূরদেশে পালিয়েছে। আর হাতের নাগাল পাওয়া যাচ্ছে না।

ফাইজানের সবিস্তারে বর্ণনা শেষে রিজভী হাসতে হাসতে বলল,

"এমনকি একটু আগে ভাবি ফুচকার বিল ফাইজানের উপর চাপিয়ে ওর মানিব্যাগ নিয়ে বাড়ি চলে গেছে। ভাই তুই একটু ইমাজিন কর, এই মুহুর্তে আমরা না থাকলে তোর কি হতো? টাকা না পেয়ে ফুচকাওয়ালা যদি বেঁ*ধে রাখতো তোকে?"

ফাইজান সেসব ভাবনা-চিন্তায় গেলো না। আপাতত শায়রার উপর বিতৃষ্ণায় নাক-মুখ কুঁচকে আছে তার।

শুভ আফসোসের সুরে বলল,

"আহারে, এখন আমাদের থেকে এত্ত ছোট মেয়েটাকে ভাবি ভাবি ডেকে সম্মান দিতে হবে।"

আহাদ মুখ অন্ধকার করে বলল,

"এটা তো তেমন বিষয়ই না। আসল বিষয় হলো, ফাইজান আমাদের সবার আগে বিয়ে করে বসে আছে। দু'দিন পর শুনবো আমরা চাচা হতে যাচ্ছি৷ আমার এমন একটা মামাতো বোন থাকলে বিয়ের সম্ভাবনা ছিলো। কিন্তু আমার মামাতো বোন তো ছোট। সবে স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে।"

সিরিয়াস মুহুর্তেও হাসি পেলো ফাইজানের। বলল,

"তোর সৌভাগ্য যে তোর এমন একটা মামাতো বোন নেই। নাহলে এর জ্বা*লায় বয়সের আগেই বুড়ো হয়ে যেতি। আমি যেই য*ন্ত্রণায় আছি, সেটা কেউ বুঝতেই পারছে না।"

রিজভী শয়তানি হেসে বলল,

"বিয়ের কথা শেয়ার করো নি, তাই যন্ত্রণার কথাও শেয়ার করো না। আমরা শুনতে ইন্টারেস্টেড না। শুধু এটা বল, ট্রিট কবে দিচ্ছিস?"

ফাইজান বলল,

"শা*লা! আমার বউ আমার মানিব্যাগ চু*রি করে পালিয়েছে আর তোরা আছিস ট্রিট নিয়ে? নিজেরটা নিজে কিনে খেয়ে নে। আমি বাসায় যাচ্ছি। ওকে একটু শায়েস্তা করা বাকি।"

রিজভী এরপরও বলতে চাইলো কিছু। কিন্তু ফাইজান সেইসময় দিলো না। দ্রুতগতিতে গিয়ে উঠে বসলো বাইকে। এরপর পিচঢালা রাস্তায় বাইক উঠিয়ে কয়েক মুহুর্তের ব্যবধানে হাওয়া।

*********

শায়রা ফাইজানের অনেকটা সময় আগেই বাড়িতে এসেছে। এরপর ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে দেখলো আনুসা খাটের উপর বসা। সে এখনো কলেজ ড্রেসও চেঞ্জ করে নি। বসে বসে অপেক্ষা করছিলো শায়রার বের হওয়ার। অপেক্ষা ফুড়াতেই বলল,

"তোমার বরের রুমে ওয়াশরুম থাকতে, আমার রুমের ওয়াশরুমে তোমার কাজ কি?"

শায়রা চেঁ*তে গিয়ে হাতের তোয়ালেটা ছুড়ে মারলো আনুসার মুখে। কটমট করে বলল,

"বরের রুম? ওটা রুম নাকি কাউরুম? শুদ্ধ বাংলায় গোয়ালঘর। সেটা ঢুকার যোগ্য আছে? আজ আসুক তোর ভাই বাড়িতে। পুরো রুম পরিষ্কার করাবো ওকে দিয়ে।"

নাম নিতে দেরি ফাইজানের হাজির হতে দেরি নেই। মালেকা বেগম মূল দরজা খুলে দিতেই ভেতরে ঢুকে চেঁচানো শুরু করেছে,

"মুটকি, ওই মুটকি! কই তুই?"

ওর চেঁচামেচি শুনে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে এলো শায়রা। ঘটনা কি, তা জানার জন্য আনুসাও এলো পিছুপিছু। ফাইজানের বিপরীতে পালটা চেঁচালো শায়রাও,

"কি হয়েছে কি তোমার? বাড়িতে ঢুকতেই ষাঁড়ের মতো চেঁচাচ্ছো কেন?"

ফাইজানের রাগে ফুঁসতে থাকা নাক দেখে মনে হচ্ছে পারলে এখনই ছুটে এসে শায়রাকে মাথায় তুলে আ*ছাড় মারতো। শায়রার ভাষ্যমতো সে ষাঁড় হলে এতক্ষণে নিশ্চিত আ*ক্রমণ করে ফেলতো। কিন্তু দুর্ভাগ্য কিংবা সৌভাগ্য, যেকোনো একটা উসিলায় সেটা আর সম্ভব হলো না।

ফাইজান বলল,

"তুই আমার মানিব্যাগ নিয়ে এসেছিস কেন?"

এ পর্যায়ে আকস্মিক মিইয়ে গেলো শায়রা। ঢোক গিলে নিজেকে যথাসম্ভব স্বাভাবিক রেখে বলল,

"মানিব্যাগ? তোমার মানিব্যাগ আমি আনতে যাবো কেন?"

ফাইজান ঝা*ড়ি মেরে বলল,

"তুই আনিস নি তো কি ভূতে নিয়ে এসেছে? ফুচকার বিল আমার ঘাড়ে চাপিয়ে এই অকাজটা তুই-ই ঘটিয়েছিস। আমাকে হে*নস্থা করতে।"

শায়রা বিস্ময়ে আকাশ থেকে পড়ার ভান ধরে বলল,

"তোমার মানিব্যাগ ভূতে এনেছে নাকি পেত্নীতে এনেছে সেটা আমি কি করে জানবো? হয়তো তুমি..."

"পেত্নী নয়, শাকচুন্নি এনেছে। আর সেটা তুই।"

কথার মাঝপথে শায়রাকে থামিয়ে নিজেই বলল ফাইজান। ওদের ঝগড়া শুনে মালেকা বেগম আগেই দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন দরজার কাছ থেকে সরে এসে বললেন,

"শায়রা, তুই আসলেই ফাইজানের মানিব্যাগ নিয়ে এসেছিস?"

শায়রা কান্না-কান্না ভাব করে বলল,

"ফুপ্পি, তুমিও তোমার ছেলের মতো সন্দেহ করছো আমাকে? কিন্তু আমি কেন ওর মানিব্যাগ আনতে যাবো?"

ফাইজান সন্দিহান দৃষ্টিতে পরখ করলো শায়রাকে। অতঃপর বলল,

"শায়রা সবসময় তর্ক করে জিততে চায়। আর যখন দেখা যায় শায়রা তর্ক না করে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে জিততে চাইছে, তখনই বোঝা যায় সে অঘটন ঘটিয়েছে। এবার তো আমি সিউর কাজটা তুই করেছিস।"

ধরা পড়ে যাওয়ায় থতমত খেলো শায়রা। মেকী রাগ দেখিয়ে বলল,

"কে বলেছে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করছি? আমি ফুপ্পির সাথে কথা বলছিলাম তাই এমন নরম সুরে কথা বলেছি। নাহলে তোমার সাথে কোনোদিন বলতাম নাকি? এমনিতেও, তোমার কি ইমোশন আছে? যে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করবো?"

ফাইজান অগ্নিদৃষ্টিতে চেয়ে বলল,

"আমি ইমোশনলেস?"

শায়রা মুখের উপর জবাব দিলো,

"ইয়েস।"

ফাইজান সরাসরি উত্তরটায় দ্বিগুন রেগে গেলো। মাথা ঠান্ডা করতে চুপ রইলো কিয়ৎক্ষণ। মনে মনে কোনো একটা কথা সাজিয়ে জিভে ঠোঁট ভেজালো। বলল,

"তুই এবার কথা ঘুরিয়ে তর্কে জিততে চাইছিস, শায়রা।"

শায়রা উদাস ভঙ্গিতে বলল,

"তোমাকে বিয়ে করে এমনিতেই জীবনযুদ্ধে হেরে গিয়েছি। আর এমন ছোট-খাটো তর্ক-বিতর্কে হার-জিত নিয়ে কি-বা আসে যায়?"

তব্ধা খেলো ফাইজান। মালেকা বেগম নিজেও এহেন উত্তরটায় চমকে গেছেন। এমনিতেই ওদের দু'জনের বিয়ে দিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন তিনি। এরমধ্যে শায়রার এমন কথা তাকে আরও দুশ্চিন্তায় ফেলার জন্য যথেষ্ট ছিলো। ভদ্রমহিলা বুঝতে পারছেন না, এদেরকে ঠিক কিভাবে বুঝানো যায়? দু'জনেই তো সমান ঘাড়ত্যা*ড়া।

শায়রার কথার পরে ফাইজান আর কিছু বলল না। গটগট করে হেঁটে ঢুকে গেলো নিজের রুমে। এরপর মালেকা বেগমও চলে গেলেন নিজের কাজে। শায়রা সবে আনুসার রুমে ঢুকতে যাবে তার আগেই মেয়েটা দু'হাতে দরজা আটকে দাঁড়ালো। শায়রা অবাক হয়ে তাকাতেই ভ্রু নাচিয়ে প্রশ্ন করলো,

"এদিকে কই যাচ্ছো? নিজের রুমে যাও। এরপর তোমার কাপড়-চোপড়ও সব গুছিয়ে তোমাদের রুমে দিয়ে আসবো, কেমন?"

বিরক্ত হলো শায়রা। 'চ' সূচক শব্দ করে বলল,

"কি শুরু করেছিস তোরা ভাই-বোন মিলে? ষ*ড়যন্ত্র করেছিস, বাঁচতে দিবি না আমাকে?"

আনুসা ঠোঁট উলটে বলল,

"সে তুমি যাই মনে করো। এখন আমার রুমে যেতে পারবে না। তোমার রুম আছে, তুমি সেখানে যাও।"

অগত্যা শায়রা ধুপধাপ শব্দ করে চলে গেলো ফাইজানের রুমের দিকে। ছেলেটা বরাবরের ন্যায় আজও দরজা ঠেলে রেখেছে। শায়রা একবার ভাবলো নক করবে। পরমুহূর্তেই আবার ভাবলো, অ*ভদ্র ছেলের রুমে ঢুকতে আবার কিসের ভদ্রতা দেখাবে?

পরিশেষে নক-টক ছাড়াই রুমে ঢুকে পড়লো শায়রা। সাথে সাথেই নাক সিঁটকালো,

"ইশ! ওই ষাঁড়, তোমার এই গোয়ালঘরটাকে একটু গুছাতে পারো না? ঢুকলেই তো আমার মাথা ঘুরানো শুরু হয়।"

শায়রা এতগুলো কথা বললেও ফাইজান কোনোটাই মনোযোগ দিয়ে শুনেনি। ওর সমস্ত মনোযোগ আটকেছে কিম্ভুত ডাকটার উপর। আরেকচোট ঝগ*ড়ার প্রস্তুতি নিয়ে শায়রার দিক ঘুরে বলল,

"আমি ষাঁড়? আমি ষাঁড় হলে তুই গরু। তুই আমার বউ না? ষাঁড়ের বউ তো গরুই হবে, তাই না?"

অচিরেই পরিবর্তন হয়ে গেলো শায়রার ভাব-ভঙ্গি। অদ্ভুত দৃষ্টিতে সে চেয়ে রইলো ফাইজানের দিকে। গতকাল থেকে তার হুটহাট 'বউ' ডাকটা বারংবার ভেতরটা নাড়িয়ে দিচ্ছে কেবল। হৃৎপিন্ডের কয়েকটা অস্বাভাবিক স্পন্দনের কারণ হচ্ছে ফাইজানের এই ডাকটা। এই যে অনুভূতির একটু একটু পরিবর্তন, এটা কি শুধু শায়রার ক্ষেত্রে হচ্ছে? নাকি ফাইজানও অনুভব করতে পারছে কিছু?

হৃদয়ের রঙিন ক্যানভাস পর্ব ১৬ গল্পের ছবি