ফাইজানদের বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত্রি এগারোটা পেরিয়ে গেছে। পুরো বিল্ডিং তখন নিস্তব্ধ। হয়তো সকলে ঘুমিয়ে পড়েছে কিংবা নিজেদের ঘরে আছে। বাড়ির বাইরের রাস্তাটাতেও মানুষজন তেমন নেই। শুধু একটা লাইট জ্বলছে দরজার কাছে।
সব জিনিসপত্র নিয়ে মাইক্রো থেকে সকলে নামলো একে একে। লিটন সাহেব এসে দরজা খুলে দিলেন তাদের দেখে। আন্তরিক হেসে জিজ্ঞেস করলেন,
"সিলেটে বেড়ানি শ্যাষ? আপনেরা যারে দেখতে গেছিলেন, হ্যায় সুস্থ আছে নি এহন?"
মালেকা বেগম হেসে বললেন,
"হ্যাঁ। আমার মা সুস্থ আছে এখন।"
ফাইজান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিড়বিড়িয়ে বলল,
"হ্যাঁ, আমাকে জোর-জবরদস্তি বিয়ে করতে বাধ্য তো করেই ফেলেছে। এখন তো সুস্থ থাকবেই। এই বিপদটাকে তো সারাজীবন আমার সহ্য করতে হবে। ওদের কি?"
শায়রা গাড়ি থেকে নামার সময় ফাইজানের কথাগুলো শুনে নিলো। আসার সময় রাস্তায় যাও একটু মন ভালো হয়েছিলো, এখন মেজাজটা আবার চড়ে বসলো। ফাইজানকে শিক্ষা দেয়ার ভূতটা আবার চড়ে বসলো মাথায়।
ফজল সাহেব ফাইজানের হাতে একটা ব্যাগ ধরিয়ে দিলেন আর নিজে নিলেন দু'টো। এরপর ফুল ফ্যামিলি মিলে পা বাড়ালের সিঁড়ির পথে।
"মাগো!"
সিঁড়ির কয়েকটা ধাপ পাড় করেই আচমকা আ*র্তনাদ করে সিঁড়িতেই বসে পড়লো শায়রা। চেহারায় ফুটিয়ে তুলল স্পষ্ট বেদনার চিহ্ন।
ওর চিৎকার শুনে ঘাবড়ে গিয়ে সবাই এগিয়ে এলো ওর দিকে। মালেকা বেগম অস্থিরচিত্তে শুধালেন,
"কি হয়েছে, মা? পায়ে ব্যা*থা লেগেছে?"
শায়রা কাঁদো কাঁদো হয়ে জবাব দিলো,
"পায়ে অনেক জোরে ব্যা*থা পেয়েছি ফুপ্পি। আমি আর উঠে হাঁটতেই পারছি না। এখন সিঁড়ি বেয়ে উপরে যাবো কি করে?"
ফজল সাহেব বিস্মিত হয়ে বললেন,
"একটু আগে পর্যন্ত তো ঠিকই ছিলো। হঠাৎ এমন হলো কেন? পা মচকে গেছে নাকি?"
শায়রা মাথা নাড়লো ত্রস্থ। বলল,
"না না। পা মচকায় নি। শুধু বেকায়দায় পড়ে একটু লেগেছে। কিন্তু অনেক ব্যা*থা করছে, ফুপ্পি। আমি এই মুহুর্তে উঠে হাঁটতেই পারবো না।"
শায়রার চোখ-মুখের ভাব-ভঙ্গি এমন, দেখে মনে হচ্ছে এখনই কেঁদে দিবে। আনুসা ঠিক ওর পেছনে দাঁড়ানো। সে শায়রার কাঁধে হাত রেখে দুঃখ প্রকাশ করলো,
"এখন বাসায় যাবে কি করে? আচ্ছা, তুমি উঠো। আমি আর আম্মু তোমাকে ধরে ধরে নিয়ে যাবো।"
শায়রা আনুসার হাত ধরে বে*দনার্ত অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলল,
"উঠতেই তো পারছি না।"
ফজল সাহেব আড়চোখে চাইলেন ছেলের দিকে। ওদের বিয়েটা স্বাভাবিকভাবে হলে এই মুহুর্তে ছেলেকে আদেশ করতেন, মেয়েটাকে কোলে তুলে নিয়ে যেতে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন অনুকূলে নেই। ফাইজানকে এরূপ অনুরোধ করলে সে উলটো রা*গারা*গি করতে পারে।
ফাইজান কয়েকটা সিঁড়ি উপরে নিরুদ্বেগ দাঁড়িয়ে ভ্রু কুঁচকে এদিকেই চেয়ে আছে। ওর বউ যে পায়ে ব্যা*থা পেয়ে সিঁড়িতে পড়ে কা*তরাচ্ছে সেটা নিয়ে ওর মাথাব্যাথা নেই। শুধু দর্শকের ন্যায় কাহিনিই দেখে যাচ্ছে।
বেশ কিছুক্ষণ শায়রার এসব কাহিনির পর ভ*য়ানক বিরক্ত হলো ফাইজান। হাতের ব্যাগটা দুম করে ফেলে দিলো সিঁড়িতে। দ্রুত পায়ে শায়রার দিকে এগিয়ে এসেই কথা-বার্তা ছাড়া ঝট করে কোলে তুলে ফেলল ওকে। অতঃপর তার মাকে বলল,
"তোমরা জলদি গিয়ে গেটটা খুলে রাখো। আমি ওকে নিয়ে আসছি।"
ফজল সাহেব ও মালেকা বেগম দু'জনেই অবাক হয়েছেন বেশ। তবে আনুসা ভীষণ খুশি দৃশ্যটা দেখে। তাই ভাইয়ের আদেশ পাওয়া মাত্র ছুটে উপরে গেছে। মনের ইচ্ছে, ওরা ঘরে ঢোকার সময় দৃশ্যটা ক্যামেরাবন্দি করে রাখবে।
আনুসার পেছন পেছন ফজল সাহেব ও মালেকা বেগমও উঠে গেছেন। ফাইজানের ফেলে রাখা ব্যাগটা নিয়ে গিয়েছেন মালেকা বেগম। ওদের পিছু পিছু ফাইজানও শায়রাকে কোলে নিয়ে উপরে উঠতে লাগলো।
এই মুহুর্তে শায়রার মুখে কোনো ব্যা*থা-বেদনার চিহ্ন নেই। নেই কোনো আ*র্তনাদও। শুধু চুপচাপ একযোগে চেয়ে আছে ফাইজানের মুখের দিকে। সে দু'হাতে জড়িয়ে ধরে রেখেছে ফাইজানের গলা। সম্পূর্ণ সিনেমাটিক একটা দৃশ্য।
ফাইজান সিঁড়িতে পুরোটা সময় একবারও শায়রার দিকে তাকায় নি। নিজের মতো সামনে তাকিয়ে ছিলো। রুমে ঢোকার সময় আনুসা কোনোভাবে ক্যামেরাটা ফাইজানের আড়ালে নিয়ে ভিডিও করে ফেলেছে। একসাথে ছবিও তুলে রেখেছে কয়টা।
ফাইজান শায়রাকে নিয়ে ড্রইংরুমের সোফায় বসিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। পরপর হাতের উল্টোপিঠে মুছে নিলো কপালের ঘাম। শায়রা তৎক্ষনাৎ বেশ নরম কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
"ঘেমে গেছো?"
ফাইজান তৎপর ঝা*ড়ি মেরে বলল,
"হ্যাঁ, তো ঘামবো না? তোর মতো আলুর বস্তাকে কোলে নিয়ে তিনতলা সিঁড়ি বেয়ে উঠেছি, ঘেমে যাওয়াই স্বাভাবিক।"
শায়রা ভালো মানুষের ন্যায় মুখখানা করে বলল,
"সে তো তোমার সৌভাগ্য যে শুধু ঘেমে গিয়েছো। কোমড় কিন্তু এখনো ভা*ঙে নি। আস্তই আছে।"
ফাইজান কপালে ভাজ ফেলে চাইল ওর দিকে। ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
"মানে কি? তুই আমার কোমড় ভা*ঙার তালে আছিস?"
শায়রা সঙ্গে সঙ্গে দাঁতে জিভ কেটে বলল,
"এমা, না না! ছিঃ ছিঃ! কি বলো এসব? আমি কেন তোমার কোমড় ভা*ঙার প্ল্যান করবো? তোমার কোমড় ভে*ঙে গেলে আমাকে কোলে নিবে কে?"
ফাইজান কটমট করে বলল,
"এমনভাবে বলছিস যেন আমি তোকে সারাজীবন কোলে নিয়ে ঘোরার দায়িত্ব নিয়ে বসেছি।"
শায়রা বিপরীতে কিছু বলার আগেই ফাইজান চেঁচাল,
"মা, আমি রুমে যাচ্ছি। তুমি তোমার ভাতিজিকে খাইয়ে দিও। পা ব্যা*থায় সিঁড়ি দিয়ে উঠতে পারছিলো না, একটু পর বলবে হাত ব্যা*থায় খেতে পারছে না। এই দায়িত্ব তুমি নাও, আমি গিয়ে ফ্রেশ হই।"
*********
দ্বীতি বেগম আসার আগে সকলের জন্য খাবার প্যাক করে দিয়েছেন। এত রাতে ফিরে যেন তাদের রান্না করা না লাগে। মালেকা বেগম বোরকা খুলে এসে সেগুলোই গরম করার কাজে ব্যস্ত হলেন। এরপর সবার খাবার প্লেটে বেড়ে ডাইনিং টেবিলে রেখে শায়রার কাছে গেলেন একটা প্লেট নিয়ে।
শায়রা ওই যে বসেছে সোফায় তো বসেই আছে। মালেকা বেগম এসে মুখে তুলে খাইয়ে দিলেন ওকে। তার ভাষ্যমতে ও সোফা থেকে উঠে রুম পর্যন্তও যেতে পারবে না।
মালেকা বেগম খাওয়ানো শেষে উঠে গেলেন সেখান থেকে। এর পরপরই এসে হাজির হলো আনুসা। আশপাশে লক্ষ্য করে একদম নিম্ম আওয়াজে বলল,
"আপু, আজকে তো তোমাকে ভাইয়ার রুমেই থাকতে হবে। এখন কি করবে?"
শায়রা গোমড়ামুখে বলল,
"সেটাই তো ভাবছি। এজন্যই রুমে না গিয়ে সোফায় বসে আছি। রাতটাও বোধহয় এখানেই কাটাতে হবে। নাহলে ওর গোয়ালঘরে ওর সাথে ঘুমানো সম্ভব নয়।"
আনুসা আফসোস করে বলল,
"সম্ভব না হলেও করতে তোমাকে হবেই। কিছু করার নেই আপু।"
বলেই উঠে গেলো আনুসা। আর শায়রা সেখানেই বসে রইলো একরাশ হতাশা নিয়ে।
বেশ কিছুক্ষণ পর খাওয়া শেষ করে শায়রার কাছে আসলো ফাইজান। জিজ্ঞেস করলো,
"এখন কি হেঁটে রুম অব্দিও যেতে পারবি না? এখানেই থাকবি?"
শায়রা নিষ্পাপ মুখ-ভঙ্গি করে বলল,
"আমি তো হাঁটতেই পারছি না। এছাড়া গেলেও যাবো কোন রুমে?"
ফাইজান জবাব দিলো,
"কোন রুমে যাবি মানে? আনুসার রুমে যাবি।"
কথাটা কর্ণগোচর হতেই হু*ঙ্কার ছুড়লেন ফজল আহমেদ,
"তোমার বউ আনুসার রুমে ঘুমাবে কেন? তোমার রুম কি দো*ষ করেছে? তোমার রুম মানেই আজ থেকে ওর রুম। তাই ও ওই রুমেই ঘুমাবে।"
ফাইজান হতভম্ব হয়ে বলল,
"হোয়াট! আমার রুমে মানে? এতদিন তো আনুসার সাথেই ছিলো। এখন আমার রুম..."
ফজল সাহেব গম্ভীর কন্ঠে বললেন,
"তোমার রুম, তোমার রুম করো না। এখন থেকে এটা শায়রার-ও রুম৷ ও ওখানেই থাকবে!"
ফাইজান কিছু বলতে চাইলেও ফজল সাহেব কোনো আগ্রহ দেখালেন না। উঠে চলে গেলেন নিজের রুমে।
অতঃপর ফাইজানের সব রা*গ ঠিকড়ে পড়লো শায়রার উপর। ক্ষি*প্ত কন্ঠে বলল,
"আমি আমার রুম কারো সাথে শেয়ার করি না। এখন বিয়ে করেছি বলে তোর সাথে আমার রুমও শেয়ার করতে হবে?"
শায়রা উত্তর দিলো,
"ফুপা কি বললো শুনো নি? ওটা শুধু তোমার না আমারও রুম। আমাকেও সেখানে বাধ্য হয়েই থাকতে হবে। নাহলে তোমার গোয়ালঘরে আমার থাকার কোনো ইচ্ছেই ছিলো না।"
ফাইজান দাঁতে দাঁত পি*ষে বলল,
"থাকা লাগবে না। তুই এখানেই থাক।"
মালেকা বেগম ধমক দিলেন,
"একদম না। নিজের রুম থাকতে মেয়েটা কেন ড্রইংরুমে ঘুমাবে? এছাড়া পায়ে ব্যা*থা পেয়েছে শায়রা। রাতে হঠাৎ ব্যা*থা হলে কিংবা কোনোকিছু প্রয়োজন হলে? ওকে নিজের সাথে নিয়ে যা, ফাইজান।"
হতাশ হয়ে তপ্ত শ্বাস ঝাড়লো ফাইজান। প্রবল অনিচ্ছায় শায়রাকে বলল,
"চল রুমে।"
শায়রা আবারও পূর্বের ন্যায় ভোলাভালা সেজে বলল,
"কিন্তু আমি তো হাঁটতেই পারছি না।"
পরবর্তী ঘটনার আগাম পেয়ে মালেকা বেগম সব গুছিয়ে রেখে চলে গেলেন নিজের রুমে। তিনি চলে যাওয়ার পর ফাইজান ঝুঁকে এসে পুনরায় কোলে তুলল শায়রাকে। এরপর নিজের রুমে ঢুকেই পা দিয়ে লা*ত্থি মেরে সশব্দে দরজা আটকে দিলো। এরপর আসলো খাটের কাছটায়৷ তাকালো শায়রার মুখের দিকে। মেয়েটা সে-মুহুর্তে মায়াবী নজরে চেয়ে ছিলো ফাইজানের দিকে। ফাইজান তাকাতেই চোখাচোখি হলো দু'জনের।
ফাইজানের রুমের লাইট অফ। জ্বলছে শুধু স্বল্প পাওয়ারের সবুজ রঙের ড্রিম লাইট। দক্ষিণের জানালাটা খোলা। দমকা হাওয়ায় পর্দা দুলছে। হাওয়া এসে ছুঁয়ে দিচ্ছে তাদের দু'জনকেও। অদ্ভুত সুন্দর সে দৃশ্য। চোখে চোখ রেখে পার হলো কিছুটা মুহুর্ত। এরপর আচমকা ফাইজান ঠা*স করে শায়রাকে ফেলে দিলো খাটের উপর। সঙ্গে সঙ্গে আ*র্তনাদ করে উঠলো মেয়েটা,
"মাগো! কোমড়টা ভে*ঙে দিলো গো!"
ফাইজান ধ*মকের সুরে বলল,
"একদম চু*প! চেঁ*চিয়ে বাড়ি মাথায় তুলিস না। নিচে ফেলিনি, খাটে ফেলেছি তোকে। আর আমার খাট ভীষণ নরম, কোমড় ভা*ঙার চান্স নেই।"
ফাইজানের ধমকে কাজ হলো না। শায়রা আরও জোরে কেঁদে উঠলো,
"খাট হলো আর যাই হোক? তুমি এভাবে ফেলে দিবে আমাকে?"
ফাইজান বসলো ঠিক শায়রার কাছটায়। শায়রার দু'পাশে হাত রেখে বাহুবন্দি করলো তাকে। পরপর আরেকটু ঝুঁকে আসতেই মিইয়ে গেলো মেয়েটা। কান্নাকাটি থামিয়ে ঘাবড়ানো স্বরে বলল,
"একি? এভাবে কাছে আসছো কেন?"
"কাছে আসলে কোনো সমস্যা?"
ফাইজানের কন্ঠস্বর অন্যরকম। টের পেতেই শায়রা কিছুক্ষণ আগের সব ঘটনা ভুলে গেলো। শুকনো ঢোক গিলে আরেকটু পিছিয়ে গেলো। বলল,
"হ্যাঁ.. তো সমস্যা হবে না?"
হাওয়ার বেগে ফাইজানের মুখভঙ্গি পরিবর্তন হলো। শক্ত কন্ঠে বলল,
"পা আর কোমড় হঠাৎ করেই সেরে গেলো? নাকি এতক্ষণ অভিনয় করছিলি আমার কোলে চড়ার জন্য?"
শায়রা হতবিহ্বল হয়ে পড়লো আচমকা ধরা পড়ে যাওয়ায়। আমতা-আমতা করে বলল,
"আরে আমার পা তো.. এখন, এখন ঠিক হয়ে গেছে। ব্যা*থা কমে গেছে আরকি!"
ফাইজান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে শায়রার দিক চেয়ে বলল,
"ব্যাথা হলে না কমবে? তুই তো এতক্ষণ অভিনয় করছিলি। কি ভেবেছিস, আমি বুঝি নি? বুঝেছি ঠিকই, তবে মা-বাবার সামনে কিছু বলি নি।"
আকস্মিক শায়রার তেজ ফিরে এলো। ঝাঁঝালো স্বরে বলল,
"অভিনয় করেছি, বেশ করেছি। তোমাকে শিক্ষা দেয়ার জন্য করেছি। তুমি সুজান ভাইয়াকে কি বলেছিলে? আমাকে নাকি কোনোদিন কোলে নিতে পারবে না, আমি মোটা বলে? এখন কি করে নিলে? তোমার কোমড়টাও তো ভা*ঙলো না।"
শায়রার কথায় মনে হচ্ছে ফাইজানের কোমড় ভা*ঙে নি বলে তার বিস্তর আফসোস। ফাইজান ওর কথা শুনেই বলল,
"তুই আমার কোমড় ভা*ঙার উদ্দেশ্যে আমার কোলে চড়ে চড়ে ঘুরছিলি? এগুলো কি ধরনের শখ?"
শায়রা হতাশ ভঙ্গিতে মাথা নামিয়ে বলল,
"লাভ কি হলো? আমাকে কোলে নেয়ার পরও তোমার কোমড় আস্তই আছে। তার মানে আমি এতও মোটা না যত তুমি বলো।"
শায়রার অদ্ভুত শখের কথা শুনেই ফাইজানের ভীষণ হাসি পাচ্ছে। কিন্তু এই মুহুর্তে সেটা প্রকাশ করা মানেই এই মেয়ে লাই পেয়ে যাবে। তাই কোনোরকম হাসি চেপে বলল,
"একদম ঠিক। আমি যতটুক বলি তুই ততটুক মোটা না। বরং তার থেকেও বেশি মোটা। এজন্যই আমি তোকে মুটকি বলে ডাকি।"
শায়রা রাগান্বিত স্বরে বলল,
"ডাকো মুটকি। তুমি যত ডাকবে আমি তত বেশি বেশি খাবো। তারপর তোমারই সমস্যা হবে আমাকে কোলে নিতে।"
ফাইজান ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
"তুই কি সারাজীবন আমার কোলে চড়ে ঘোরার প্ল্যান করেছিস নাকি? এরকম প্ল্যান করলেও এখন বাতিল করে দে। কারণ আমার পক্ষে তোকে কোলে নিয়ে ঘোরা সম্ভব না। আমাকে সারাজীবন এভাবে জ্বালানোর জন্য বিয়ে করেছিস নাকি?"
শায়রা ঘনঘন ডানে-বামে মাথা নাড়লো। অর্থাৎ না। ফাইজান পুনরায় শুধালো,
"তাহলে বিয়ে করেছিস কেন? আমি তো করতে চাইনি। তুই এই বিয়েতে রাজি হলি কেন? বিয়ে করার কারণ কি?"
এহেন প্রশ্ন শুনেই মে*জাজ সপ্তমে চড়ে বসলো শায়রার। জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে শান্ত করলো নিজেকে। স্বভাবগত ভাবেই ত্যাড়া উত্তর দেয়ার প্রস্তুতি নিলো। ফাইজানের কাছ ঘেঁষে এসে রহস্যময় হাসি দিয়ে বলল,
"মানুষ বিয়ে কেন করে, তুমি জানো না? বর-বউ একে অপরের কি কাজে লাগে এতটুকুও বুঝো না তুমি? নাকি আমার সামনে ভদ্র সাজছো? আসলে তো সবই বুঝো।"
লজ্জা পাওয়ার ভান করলো শায়রা। এবার হতভম্ব হওয়ার পালা ফাইজানের। বেচারা টাল সামলাতে না পেরে পিছিয়ে গেলো। বিস্মিত স্বরে বলল,
"ছিহ! কি অ*শ্লীল ইঙ্গিত দিচ্ছিস তুই, শায়রা? তোর পেটে পেটে এতকিছু? এইসব কারণে তুই বিয়ে করেছিস আমাকে?"
শায়রা বিরক্তিতে নাক-মুখ কুঁচকে বলল,
"হ্যাঁ হ্যাঁ, এখন বাংলা সিনেমার মতো চেঁচিয়ে বলো, তুই আমার দেহ পাবি কিন্তু মন পাবি না!"
ফাইজান ধমক দিয়ে বলল,
"দু'টোর একটাও পাবি না। মা*র জুটবে কপালে শুধু। ফা*জিল মেয়ে! খালি উল্টোপাল্টা কথা। "
শায়রা রাগ দেখিয়ে বলল,
"তুমি উল্টোপাল্টা প্রশ্ন করবে আর আমি উল্টোপাল্টা উত্তর দিলেই দোষ? আমি নিজেও কি তোমাকে শখে বিয়ে করেছি নাকি? এত শখ লাগলে কাল রাতে পালাতে যেতাম না। তোমার জন্যই শেষ পর্যন্ত পালাতে পারলাম না। ছাদে এসে তুমিই আমার পালানোর প্ল্যানিং-এ পানি ঢেলে দিলে। ফলাফল, এখন তোমার বউ হয়ে তোমার গোয়ালঘরে বসে রয়েছি। নাহলে তোমাকে বিয়ে করার শখ করবো আমি? পাগলে ধরে নি আমায়! ওরা জোর করে বিয়ে দিয়েছে তোমার সাথে। নাহলে জীবনেও করতাম না বিয়ে।"