হৃদয়ের রঙিন ক্যানভাস

পর্ব - ১৪

🟢

আবছা অন্ধকারে মোড়ানো বদ্ধ রুমখানা। মাথার উপরে ঘুরছে সিলিংফ্যান। এছাড়া বাইরের বাতাস তো আছেই। এই গভীর রাত্রিতেও দু'জনের থামাথামির নাম নেই। অবিরাম তর্ক করেই যাচ্ছে। একজনের মুখের উপর আরেকজনের উত্তর যেন মুহুর্তে মুহুর্তে তৈরীই থাকে।

"তুমি আমাকে পালাতে দিলে না কেন? গতকাল রাতে পালাতে দিলেই আমাকে এই বি*পদে পড়তে হতো না।"

হতাশা সমেত কথাগুলো বলল শায়রা। ফাইজান প্রতিত্তোরে ভ্রু উঁচিয়ে বলল,

"সিরিয়াসলি? তুই বি*পদে পড়েছিস? কিন্তু বি*পদ আবার বি*পদে পড়ে কিভাবে?"

শায়রা তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে বলল,

"তুমি আমাকে বিপদ বললে?"

ফাইজান নিরুদ্বেগ ভঙ্গিতে জবাব দিলো,

"সত্যি কথা বলতে দোষ কোথায়?"

শায়রা ভেঙচি কাটলো। বিরক্ত হয়ে বলল,

"তোমার সাথে কথা বলাই ভুল। শুধু শুধু কথা বাড়াচ্ছি। এরচেয়ে ঘুমিয়ে পড়া ভালো। কিন্তু এই বিছানায় আমি ঘুমাবো কি করে?"

ঘুমের কথা ভাবতেই ফাইজানের বিছানাটা ভালোভাবে লক্ষ্য করলো শায়রা। বিছানার চাদর সম্পূর্ণ এলোমেলো। দেখে মনে হচ্ছে খাটের উপর কুস্তি খেলেছে কেউ। কাঁথাটাও ভাজ করা নেই। বালিশগুলো এলোমেলো করে রাখা। এ তো গেলো শুধু বিছানার অবস্থা। পুরো রুমের অবস্থা তো এরচেয়েও বেশি নাজেহাল। একটা জিনিসও গোছানো নেই। কাপড়চোপড় অগোছালো ভাবে টেবিল-চেয়ারের উপর পড়ে আছে। বই-খাতা কোনটা কই আছে তার কোনো হুশ নেই। এইসব দেখেই মাথা ঘুরে যাওয়ার জোগাড় শায়রার। লাফিয়ে উঠে বলল,

"এই তুমি উঠো তো। বিছানা থেকে উঠো এক্ষুনি।"

শায়রার চেঁ*চানো শুনে বিছানা ছাড়লো ফাইজান। নিজেও পালটা চেঁ*চিয়ে বলল,

"কি হয়েছে টা কি? বিছানা থেকে উঠতে হবে কেন?"

শায়রা আঙুলের ইশারায় বিছানা দেখিয়ে বলল,

"এই বিছানায় আমি ঘুমাবো?"

ফাইজান শায়রার আঙুল অনুসরণ করে বিছানার দিক তাকালো। এরপর উত্তর দিলো,

"বিছানায় ঘুমাবি না, ভালো কথা। নিচে ঘুমা। কাবার্ডে এক্সট্রা কাঁথা রাখা আছে। বের করে নিচে বিছিয়ে ঘুমিয়ে পড়।"

শায়রা ঝাড়ি মে*রে বলল,

"তোমার কি আমাকে দেখে ইন্ডিয়ান সিরিয়ালের নায়িকা মনে হচ্ছে? যে নায়ক-নায়িকা বিয়ে মেনে নেয় নি, তাই নায়িকা গিয়ে নিচে ঘুমাবে? তোমার শখ লাগলে তুমি গিয়ে ঘুমাও না নিচে! আমার তো শখ লাগে নি। তাই আমি যাবোও না। আমি এই খাটেই ঘুমাবো। কিন্তু তার আগে খাটটাকে একটু শুধরাতে হবে।"

ফাইজান তাচ্ছিল্যপূর্ণ হেসে বলল,

"ইন্ডিয়ান সিরিয়ালের নায়িকা হওয়া তোর পক্ষে কোনোদিনও সম্ভব না। ওরা যেই স্লিম ফিগার হয়! আর তোর যা স্বাস্থ্য, তাতে নায়িকা হওয়া কোনোদিনও পসিবল নয়।"

শায়রা ক্ষি*প্ত কন্ঠে চেঁচাল,

"আবার আমার স্বাস্থ্য নিয়ে খোঁটা দিচ্ছে! আমি বেশি মোটা হলে আমায় কোলে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে পারতে কোনোদিন? পারতে না। তাই বেশি মুটকি মুটকি করবে না। নাহলে এই পুরো বিছানা জুড়ে আমি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ঘুমাবো। আর তোমায় ফেলে নিবো নিচে।"

ফাইজান চোখ ছোট ছোট করে বলল,

"বাহ! কি বউ বিয়ে করে আনলাম, আমার বিছানা থেকে আমাকেই ফেলে দেয়ার প্ল্যানিং করছে।"

থমকালো শায়রা। প্রথমবারের মতো ফাইজানের মুখে ❝বউ❞ ডাকটা হৃদয়ে কম্পন ধরালো। অন্যরকম এক অনুভূতি আচ্ছন্ন করলো মন। কিন্তু ফাইজানের একযোগে তাকিয়ে থাকা তীক্ষ্ণ দৃষ্টির সামনে অনুভূতি টিকলো না বেশিক্ষণ। শায়রা ত্রস্থ নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,

"বউ মোটা, তাই বিছানায় তার বেশি জায়গা লাগবে। তুমি নিচে ঘুমাও।"

ফাইজান প্রতিত্তোরে বলল,

"পারবো না। বিছানা আমার, তাই আমি এখানেই ঘুমাবো।"

"তাহলে সোজা হয়ে দাঁড়াও। আমি বিছানা ঠিক করে নেই আগে।"

বলেই কাজে লেগে পড়লো শায়রা। বিছানা থেকে বালিশগুলো তুলে ফাইজানের হাতে দিলো। বিছানায় যা কিছু ছিলো সব তুলে তুলে ফাইজানের হাতে দিয়ে জ্বলজ্যান্ত স্ট্যান্ড বানিয়ে ফেলল তাকে। এরপর চাদর তুলে সেটাকে আবার সুন্দর করে বিছাতে লাগলো।

ফাইজান বেশ কিছুক্ষণ চুপ থেকে শায়রার কর্মকান্ড দেখলো। অতঃপর বলল,

"তুই কি আমাকে কাপড়ের স্ট্যান্ড পেয়েছিস? সব কাঁথা বালিশ আমার উপর দিয়ে আরামে কাজ করছিস। আমাকে মানুষের বদলে স্ট্যান্ড মনে হচ্ছে তোর কাছে?"

শায়রা 'চ' সূচক শব্দ করে বলল,

"কাজ করছি, সেটা করতে দাও না। বারবার কথা বলে ডিস্টার্ব করছো কেন?"

ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো ফাইজানের শ্বাসনালী ফুড়ে। এরপর আর কিছু বলার মতো খুঁজে পেলো না। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সেভাবেই। শায়রা বিছানা গুছিয়ে ফাইজানের হাত থেকে কাঁথা-বালিশ নিয়ে সব আবার ঠিকঠাক করে রাখলো বিছানায়। দু'হাতের তালু ঝাড়তে ঝাড়তে বলল,

"কাজ শেষ। এবার বিছানাটাকে একটু ঘুমানোর উপযুক্ত মনে হচ্ছে। আপাতত এভাবেই কাজ চালাই। কাল তুমি এই পুরো ঘর পরিষ্কার করবে। নাহলে এই গোয়ালঘরে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব না।"

ফাইজান ঘাড় উঁচিয়ে বলল,

"থাকিস না। আমি তো তোকে বলি নি আমার রুমে থাকতে। আনুসার রুমে গিয়ে থাকলেই হয়।"

শায়রা দুষ্টু হেসে বলল,

"তোমার মন চাইলে তুমি ডাইনিং রুমে গিয়ে থাকো। ডাইনিং রুম, কিচেন, বাথরুম, অনেক জায়গা আছে ঘুমানোর। সেখানে যেতেই পারো। তবে আমি যাচ্ছি না কোথাও। ফুপ্পি বলেছে না, এটা এখন থেকে আমার রুম? তাই আমি এখানেই থাকবো।"

ফাইজান বিরক্তি সমেত বলল,

"মামাবাড়ির আবদার!"

শায়রা জবাব দিলো,

"হ্যাঁ। তোমার মামাবাড়ির, তোমার মামার একমাত্র মেয়ে ওরফে তোমার একমাত্র বউয়ের আবদার। আর কোনো প্রশ্ন?"

ফাইজান ধমকের সুরে বলল,

"হয়েছে, চুপ থাক! ব্যাখ্যা শুনতে চাইনি তোর কাছে। বিছানা গুছানো হলে ঘুমা গিয়ে।"

শায়রা আর কথা না বাড়িয়ে নিজের জায়গায় গিয়ে শুয়ে পড়লো। এরপর ফাইজানও আর দেরি করলো না। অন্যপাশে গিয়ে কাঁথা টেনে পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো। ভাবখানা এমন, ঘুরে শায়রার মুখও দেখবে না যেন!

********

পূর্বের আকাশে সূর্যের রঙিন রোদ দেখা যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে পাখিদের কিচিরমিচির। জানালায় পর্দা দেয়ার কারণে রুমটা এই সকালেও আবছা অন্ধকারে আচ্ছন্ন।

শায়রার সবসময় কোলবালিশ জড়িয়ে ঘুমানোর অভ্যাস। বাবার বাড়িতে তো ছিলোই, উপরন্তু ফুপুর বাড়িতে এসেও আনুসার রুমে কোলবালিশ পেয়েছে। কিন্তু ফাইজানের রুমের চিত্র ভিন্ন। তার বিছানার কোলবালিশ থাকলেও সেটা ফাইজান নিজের কাছে রেখেছে। এই কোলবালিশ নিয়েও গতকাল রাতে একদফা ঝ*গড়ার ইচ্ছে ছিলো শায়রার। কিন্তু এতখালি লম্বা পথ জার্নিং করে আসায় আর ঝ*গড়া করার মতো এনার্জি পায় নি। ভেবেছে, আজ রাতেই যেকোনোভাবে কোলবালিশটা দখল করেই ছাড়বে। একদিনের জন্য ফাইজানকে দিয়েছে মহানুভবতা দেখিয়ে।

এর ফলাফলও ভোগ করতে হয়েছে ফাইজানকে। ঘুমের ঘোরে শায়রা ফাইজানের পায়ের উপর পা তুলে দিয়েছে কোলবালিশ মনে করে। শুধু খানিকটা দূরত্ব বজায় রাখার দরুণ ফাইজানকেই কোলবালিশ বানিয়ে ফেলে নি!

দরজায় নক করার শব্দ পেয়ে ঘুম ভাঙলো শায়রার। ফাইজান তখনও গভীর ঘুমে ডুবে। ওকে একপলক দেখে নিয়েই আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসলো শায়রা। ঘড়ির দিকে তাকিয়েই ছুট লাগালো দরজা খুলতে।

শায়রা দরজা খুলে আনুসাকে দেখেই শুরু করলো ওর উপর চেঁ*চানো,

"এত জলদি আসলি কেন ডাক দিতে? আরেকটু পর আসতি। ক্লাসটাইম পার হওয়ার পর আসলে আরও ভালো হতো।"

আনুসা যেরকম উৎফুল্লতা নিয়ে ডাকতে এসেছিলো ততটাই নিভে গেলো এখন। মিনমিনিয়ে বলল,

"প্রতিদিন তো তুমিই আগে ঘুম থেকে উঠো। আজ যে দেরি হবে সেটা আমি কি করে বুঝবো? রাতে কি ঘুম হয় নি আপু?"

শায়রা প্রথমেই আনুসার কথার অর্থটা ধরতে পারলো না। বেখেয়ালবশত বলে বসলো,

"হ্যাঁ, ঘুম হবে কি করে? তোর ভাই শান্তিতে ঘুমাতে দিলে তো?"

আনুসা মিটিমিটি হাসতে শুরু করলো। চেহারার অভিব্যক্তিতে দুষ্টুমী স্পষ্ট। জিজ্ঞেস করলো,

"ভাইয়া ঘুমাতে দেয় নি?"

আচমকা ওর কথার ভাবার্থ শায়রার মাথায় ঢুকলো। সঙ্গে সঙ্গে শায়রা চোখ রাঙিয়ে তাকালো আনুসার দিকে। ধমকে উঠলো ফের,

"চুপ, ফাজিল মেয়ে! বেশি পেকে গেছিস তাই না? ঘুমাতে দেয় নি বলতে বুঝাতে চেয়েছি, রাতে ঝ*গড়া করেছে আমার সাথে। ওর বিছানায় নাকি আমাকে ঘুমাতে দিবে না। কি জ্বা*লাতনটাই না করলো আমায়। আবার এর সাথে আমাকে সারাজীবন সংসার করতে হবে! কিভাবে সম্ভব?"

আনুসা মুখ খুলল কিছু বলার জন্য। হা করতেই রুমের ভেতর থেকে ভেসে এলো ফাইজানের তীক্ষ্ণ স্বরের চেঁ*চানোর শব্দ,

"এখন কি আমি শান্তিতে ঘুমাতেও পারবো না? সকাল সকাল দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ঝ*গড়া শুরু করেছে। আমার জীবনের সুখ-শান্তি সব শেষ করে দিলো এই মেয়ে।"

"আপু, তুমি ভাইয়াকে ডেকে দাও। আমি যাচ্ছি। আমাকেও তো কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হতে হবে।"

আনুসা ভাইকে এমনিতেই ভয় পায়। তার উপর সকাল সকাল ঘুম ডিস্টার্ব করেছে। এজন্য বকাও জুটতে পারে কপালে। এই ভেবেই কোনোরূপ বাহানা দিয়ে পালিয়ে বাঁচলো একপ্রকার।

শায়রা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

"এর সব চোটপাট আমার সাথে চলে। আর ভাই একটা ঝা*ড়ি মারলেই লেজ গুটিয়ে পালায়। ভীতুর ডিম কোথাকার!"

অতঃপর পুনরায় রুমে ঢুকলো শায়রা। বিছানার কাছে গিয়ে ডাকলো ফাইজানকে। কর্কশ কন্ঠে বলল,

"অ্যাঁই বাউন্ডুলে, উঠো ঘুম থেকে। অনেক দেরি হয়ে গেছে। এখন ঘুম থেকে উঠে উদ্ধার করো আমাকে।"

ফাইজান চোখ বন্ধ অবস্থাতেই ঘুমজড়িত কন্ঠে বলল,

"ডাকার ছিড়ি দেখো! একটু সুন্দর করে ডাকতে পারিস না, মুটকি?"

শায়রা অভিনয় করে বলল,

"কিভাবে ডাকবো? তোমার জন্য চা বানিয়ে এনে এরপর ডাকবো, ওগো শুনছো? তোমার জন্য চা এনেছি। খাবে না?"

ফাইজান একইরকম জবাব দিলো,

"ওমন মিষ্টি কথা তোর মুখ থেকে কোনোদিন বের হবে না। জন্মের সময় তো মুখে মধু দেয়নি। তোকে খাওয়ানোর জন্য যেই মধু এনেছিলো সেটা আমি চু*রি করে খেয়ে নিয়েছিলাম। এজন্যই আমাকে ভুগতে হচ্ছে। একটা ভুলের মাশুল এখন সারাজীবন দিতে হবে।"

শায়রা ভ্রু কুঁচকালো। বিস্মিত স্বরে বলল,

"সিরিয়াসলি? তুমি মধু চু*রি করে খেয়েছো? শেষমেশ একটা চো*রকে বিয়ে করলাম?"

ফাইজান চোখ বুজেই 'চ' সূচক শব্দ করে বলল,

"উফফ! চুপ কর তো! ঘুমাতে দে।"

শায়রা কটমট করে বলল,

"তুমি উঠবে? নাকি আমি এক কাপ চায়ের বদলে এক বালতি পানি এনে ঢেলে দিবো তোমার মাথায়? আমি গেলাম এক্ষুনি।"

ওয়াশরুমের দরজা খোলার শব্দ পেতেই লাফিয়ে উঠে বসলো ফাইজান। ক্ষুব্ধ স্বরে বলল,

"ওই মুটকি, তুই সত্যি সত্যিই বালতি ভরে পানি আনতে গিয়েছিস?"

শায়রা বালতি ভরতে ভরতে ভেতর থেকে প্রতিত্তোর করলো,

"হ্যাঁ। একটু অপেক্ষা করো। বালতিটা ভরলেই আমি নিয়ে আসছি।"

এরপর আর ফাইজানের পক্ষে শুয়ে থাকা সম্ভব হলো না। বিছানা ছেড়ে ছুটলো ওয়াশরুমের দিকে। ভেতরে ঢুকেই হাত টেনে বের করতে চাইলো শায়রাকে। অপরপাশ থেকে পালটা আ*ক্রমণ হতে এক মুহুর্তও দেরি হলো না। শায়রা পুরো এক মগ পানি নিয়ে সোজা ছুড়ে মারলো ফাইজানের মুখে।

আকস্মিক আ*ক্রমণে ফাইজান সম্পূর্ণ হতভম্ব হয়ে গেলো। হাতের বাঁধন আলগা হয়ে গেলো। শায়রা ঝা*ড়া দিয়ে নিজের হাত ছাড়িয়ে গা জ্বালানো হাসি দিয়ে বলল,

"মজা লেগেছে?"

ফাইজান রেগেমেগে বলল,

"অনেক মজা লেগেছে। এবার তুই ওয়াশরুম থেকে বের হ। পুরো ভিজিয়ে দিয়েছিস আমায়। এখন একেবারে গোসল করেই বের হতে হবে। যাহ, গিয়ে আমার জামাকাপড় বের করে রাখ।"

কথা শেষ হতেই একপ্রকার ধাক্কা দিয়ে শায়রাকে ওয়াশরুম থেকে বের করে দিলো ফাইজান। শায়রা বাইরে এসেই পালটা ঝাড়ি মা*রলো,

"তোমার এত বড় সাহস আমাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দাও?"

বিরক্তিতে ফাইজানের ইচ্ছে করলো নিজের চুল নিজেই ছিড়তে। অতীষ্ঠতায় মাথা নাড়লো ছেলেটা। নিজেকে শান্ত করে বলল,

"ড্রামাবাজ তোর ড্রামা বন্ধ কর। এমনভাবে চেঁ*চাচ্ছিস, এলাকাবাসী মনে করবে আমি বুঝি বউকে বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছি। তারা কি করে বুঝবে তুই ওয়াশরুম প্রেমী? ওয়াশরুম থেকে বের করলে ষাঁ*ড়ের মতো চেঁচানো শুরু করিস।"

শায়রা তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে বলল,

"আমি ষাঁ*ড়?"

ফাইজান ভদ্র ভাষায় খোঁচা মা*রলো,

"না। তুই ষাঁড় না। তুই হাতি।"

শায়রা চিল্লিয়ে বলল,

"আর তুমি বানর।"

"তুই গন্ডার।"

বলেই ঠাস করে মুখের উপর দরজাটা লাগিয়ে দিলো। ভেতর থেকে আদেশ করলো,

"আমার কাপড় বের করে রাখ।"

শায়রা বুঝলো আর কিছু বললেও কোনো লাভ হবে না। অগত্যা একরাশ মেজাজ খারাপ নিয়েই ঘুরলো। দাঁতে দাঁত পিষে নিজেকে নিজেই বলল,

"কাল বিয়ে করবে না, বিয়ে করবে না বলেও আজ স্বামীর মতো একের পর এক অর্ডার দিচ্ছে। পল্টিবাজি কেউ এর থেকে শিখুক! সকাল সকাল উঠেই আশা করে ওকে চা করে এনে দিবো। ওর ঘর গোছাবো। ওর কাপড়-চোপড়ও এখন আমাকেই বের করে দিতে হবে। দু'দিন পর বলবে ওকে রেঁধে-বেড়ে মুখে তুলে খাওয়াতে হবে। অর্কমার ঢেঁকি একটা! নিজে তো একটা কাজও করে না আর এখন ফ্রিতে আমাকে পেয়েছে বলে একটার পর একটা অর্ডার দিচ্ছে। বাবা কার কাছে বিয়ে দিলো এটা? বিয়ের পরের প্রথম সকালটাই ভালো গেলো না। মেজাজটা খারাপ করে দিলো বাউন্ডুলেটা! বাকিদিন ভালো যাবে কি করে?"

নিজমনে বিড়বিড় করতে করতে বিছানা গোছালো শায়রা। এরপর ফাইজানের জামা-কাপড় বের করে রাখলো সেখানে। সব কাজ শেষ হয়েছে ভেবেই বেরিয়ে গেলো রুম থেকে।

ফাইজান গোসল সেরে বেরিয়ে এসে বসলো ডাইনিং টেবিলে। ওর মুখোমুখি চেয়ারটায় শায়রা বসা। তার পাশে আনুসা।

ফাইজান খাওয়া শেষ করে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিলো। সেসময় মালেকা বেগম বললেন,

"শায়রাকেও সাথে নিয়ে যা। ওরও তো আজ লেট হয়ে গেছে।"

ফাইজান নিজের কাজে ব্যস্ত অবস্থায় শায়রাকে বলল,

"শায়রা শোন, ওয়াশরুম এখন খালি আছে সারাদিনের জন্য। তুই চাইলে গিয়ে বসে থাকতে পারিস। এখন আর কেউ বের করবে না। আর ভার্সিটি যেতে মন চাইলে দ্রুত আয়। আমি নিচে জাস্ট পাঁচ মিনিট দাঁড়াবো।"

ফাইজান বেরিয়ে যেতে চেয়ার ছেড়ে উঠলো শায়রা। ব্যাগ নিয়ে বের হতে হতে বিড়বিড়িয়ে বলল,

"জাস্ট একটা সুযোগ পাই, তারপর দেখাচ্ছি তোমাকে! কথায় কথায় আমাকে জ্বালানোর মজা বুঝাচ্ছি।"

হৃদয়ের রঙিন ক্যানভাস পর্ব ১৪ গল্পের ছবি