মাঝ দিয়ে কেটে গেছে গোটা একটা সপ্তাহ। এরমধ্যে ফাইজান ও শায়রার মধ্যে স্বাভাবিক হয় নি কিছু। বরঞ্চ দুরত্বটা বোধহয় বেড়েছে। একই বাড়িতে থেকেও দু'জনে অচেনার মতো থেকেছে। বিশেষ করে শায়রা, প্রয়োজন ছাড়া ফাইজানের সামনেও আসে নি৷
ফাইজানও থেকেছে নিজের মতো। মস্তিষ্ক তার এককথা বললেও মন জানে সে কত ব্যাকুল হয়ে আছে শায়রার সাথে কথা বলার জন্য। সে ভীষণভাবে মিস করছে শায়রার সাথে কথোপকথন। এরমধ্যে একদিন ফাইজান বাড়িতে এলো রাত্রি দশটার পরে। কোথাও একটা ক্ষুদ্র আশা জন্মেছিলো, অন্তত দরজা আটকে ফাইজানকে ঘরের বাইরে রাখার বাহানায় হলেও শায়রা কথা বলবে। কিন্তু সেটাও বিফলে গেলো। শায়রা দেরি করে আসা নিয়ে একটা কথাও বলল না ফাইজানকে। শায়রা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে ফাইজানের স্বেচ্ছাচারী জীবনে আর বাঁধা দিবে না। আর রইলো তাদের বিয়ের ব্যাপারটা! ফাইজানের অনিচ্ছায় জোরপূর্বক বউয়ের অধিকার আদায় করার মতো মেয়ে শায়রা নয়। ফাইজান নিজ থেকে না চাইলে শায়রা কোনোদিন তাদের স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কটা নিয়ে একটা কথাও বলবে না। এটাই ছিলো তার নির্ঘুম দু'রাত্রির ভাবনা-চিন্তার ফসল।
আজকেও ভার্সিটির বাইরের মাঠটায় বসে আড্ডা দিচ্ছে চার বন্ধু মিলে। ফাইজান হু-হা ব্যতীত অতিরিক্ত একটা কথাও বলছে না। বেশ কিছুক্ষণ ওর এই আচরণ লক্ষ্য করলো বাকিরা। এরপর আহাদ বলল,
"কি ব্যাপার ভাই? গত কয়দিন যাবত এমন উদাস উদাস হয়ে গেছিস কেন? ছ্যাঁ*কা-ট্যাকা খেয়েছিস নাকি?"
শুভ হাসিতে উড়িয়ে দিয়ে বলল,
"আরেহ ধুর! ছ্যাঁকা তো দেয় প্রেমিকারা। ওর ঘরে তো বউ আছে। নিশ্চিত বউ কদিন নিরামিষ জীবন কাটাতে বাধ্য করছে। তাই বেচারা এমন মনমরা।"
ফাইজান 'চ' সূচক শব্দ করে বলল,
"থাম তো তোরা! আড্ডা দিচ্ছিস, দে। এক টপিক থেকে আরেক টপিকে লাফ দেয়ার দরকার কি?"
ভ্রু কুঁচকালো রিজভী। দুষ্টুমীভরা স্বরে বলল,
"ভাই, ওইদিন ফুচকার কাহিনির পর বাসায় গিয়ে ঝ*গড়া করেছে দু'জন। যার ফলে ওর বউ এখন ওর বোনের সাথে থাকছে। বেচারা এক রাত বিরিয়ানি খেয়ে বাকি রাত পান্তা-ভাতে কাটাতে পারছে না। এজন্যই এমন উদাস উদাস!"
বাকি দু'জন অবাক হওয়ার ভঙ্গিতে চোখ বড়বড় করে ফেলল। বলল,
"এই কারণে বুঝি ছেলেটার মন খারাপ?"
ফাইজান রেগে-মেগে ত্রস্থ ঝা*ড়ি মারলো ওদের,
"কি যা-তা বলছিস তোরা! কিসের বিরিয়ানি আর পান্তা ভাত? কি বলতে চাচ্ছিস, হ্যাঁ?"
শুভ নিচু আওয়াজে মিনমিনিয়ে বলল,
"যেটা বুঝেছো, সেটাই বলতে চাচ্ছি আমরা৷"
ফাইজান কটমট করে ধ*মক ছুড়লো,
"চুপ থাক!আমি...."
"ফাইজান, দেখ দেখ। তোর বউ এসেছে।"
কথার মাঝে বা-হাত ঢুকিয়ে ভার্সিটির গেটের কাছের এক রিকশার দিকে ইশারা করলো রিজভী। ফাইজান সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে চাইল সেদিকে৷ শায়রা ও আশা একসাথে নামছে রিকশা থেকে৷ কোনো একটা বিষয় নিয়ে হাসাহাসি হচ্ছে দু'জনের মধ্যে৷ রিকশা থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে দু'জনে সোজা ঢুকে গেলো ভার্সিটির ভবনে। কোনোদিকে ঘুরেও তাকালো না।
পরপরই শুভ বলল,
"জীবনে কোনো মেয়েকে পাত্তা দিস নি তুই। এখন তোর বউ-ই দেখছি তোকে পাত্তা দিচ্ছে না।"
গলা খ্যাঁকাড়ি দিলো ফাইজান৷ কিয়ৎক্ষণ ইতস্ততা করতে করতে বলে ফেলল,
"আমার দোষেই। আমিই বলেছিলাম ও যেন আমার থেকে দূরত্ব বজায় রাখে, আমার জীবনে নাক না গলায়। শায়রাও সেটাই করছে। দেখাচ্ছে, তিনি আমার কত্ত অনুগত বউ!"
রিজভী বলল,
"কেন মানা করেছিস তুই? দেখ ফাইজান, আমাদের গ্রুপের প্রত্যেকেই ছন্নছাড়া জীবনে অভ্যস্ত। সকালে ভার্সিটি আসি, আড্ডা দেই, নতুন কাউকে পেলে র্যাগিং, মা*রামা*রি, রাতে দেরি করে বাড়ি ফেরা। অগোছালো হয়ে রয়েছে পুরো জীবনটা। যাকে গুছিয়ে নিতে সত্যিই একটা মানুষের খুব খুব প্রয়োজন হয়! তুই না চাইতেও তেমন একটা মানুষ পেয়েছিস, যে তোর জীবনটা গুছিয়ে দিবে। আমরা শুরু থেকেই দেখেছি ভাবি কিভাবে তোকে টাইট দিয়েছে৷ তুই বুনো ওঁল হলে, উনি হয়েছেন বাঘা তেতুল। কথার মাঝে ঝ*গড়া হলেও বিষয়টা যে খুব খারাপ ছিলো তেমন না! কিন্তু এই যে দু'জন অচেনা অচেনা ভাব করে আছিস, এটা মানা যাচ্ছে না। কি হয় নিজের জীবনকে একটা সুযোগ দিলে?
আমি তো কনফার্ম বলে দিচ্ছি, একটা বউ পেলে তোদের কাউকে চিনবো না। সারাক্ষণ বউয়ের আঁচলের তলে বসে থাকবো।"
হু-হা শব্দে হেসে উঠলো শুভ ও আহাদ। ফাইজান ব্যতিক্রম। মুচকি হাসলেও তার মুখ থেকে শব্দ বের হয়নি। আহাদ হাসি থামিয়ে বলল,
"আমরা জানি, তুই যে বেটা বউপাগল হবি!"
রিজভী আফসোসের সুরে বলল,
"হ্যাঁ ভাই, বউপাগল হবো বলেই এখনো বউ পাচ্ছি না। আর এই বেটা বউ পেয়েও নিরামিষ হয়ে আছে। নিজের ইচ্ছায় বউয়ের থেকে দূরে দূরে থাকছে। স্যাড লাইফ আমাদের!
একটু রোমান্টিক হ ভাই! নাহলে বউ হাতের বাইরে চলে যাবে।"
হাস্যকর কথাটাতেও এবার হাসি পেলো না ফাইজানের। উলটো চোখ ছোট ছোট করে চেয়ে রইলো বন্ধুদের দিকে। ওদের হাসাহাসি থামতেই বলল,
"গবেষণা হয়েছে তোদের? তাহলে আমি ক্লাসে যাচ্ছি।"
শুভ বিস্মিত হয়ে বলল,
"তুই ক্লাস করবি?"
ফাইজান কিছু একটা খোঁজার ভঙ্গিতে পুরো মাঠে চোখ বুলিয়ে বলল,
"ঘাস তো তেমন নেই যে বসে বসে ঘাস কাটবো। ক্লাসই করি তাহলে?"
শুভ বলল,
"আচ্ছা তাহলে তুই যা! আমরাও আসছি।"
ওদের সম্মতি পেয়ে ফাইজানই চলে গেলো সবার প্রথমে। অনেকটা দুরত্বে সরে যাওয়ার পর রিজভী বাকি দু'জনের উদ্দেশ্যে বলল,
"তোর মনে হয় না আমাদের কিছু করা উচিত?"
আহাদ কপালে ভাজ ফেলে বলল,
"কিছু করা উচিত মানে?"
রিজভী বিরক্ত ভঙ্গিতে নাক-মুখ কুঁচকে বলল,
'ফাইজানকে লাইনে আনার কথা বলছি, ভাই! চাচা হওয়ার ইচ্ছে আছে তো নাকি?"
শুভ ঘনঘন উপর-নীচ মাথা নেড়ে বলল,
"অবশ্যই আছে! তুই শুধু বল, কি করতে হবে?"
রিজভী জানালো,
"এখন কিছুই না৷ আপাতত ক্লাসে যা৷ ছুটির পর দেখা যাবে।"
**********
টিচার আসার আগপর্যন্ত ক্লাসরুমে বসেই আড্ডা দিচ্ছে আশা ও শায়রা। এরমধ্যে বেশিরভাগই আশা বলছে তার হবু স্বামী আর শশুড়বাড়ির কথা৷ শায়রা শুধু চুপচাপ শুনছে৷ কথার মাঝে হঠাৎ আশা জিজ্ঞেস করলো,
"তুই নিজের জীবন নিয়ে কি ভেবেছিস?"
চমকালো শায়রা। শুকনো ঢোক গিলে বলল,
"আমার জীবন মানে?"
শায়রার হাতটা বেঞ্চের উপর রাখা। তার উপর হাত রাখলো আশা। নরম কন্ঠে বলল,
"আমার থেকে লুকিয়ে লাভ হবে না শায়রা। আমি বুঝতে পারি সবটাই। তোদের বিয়েটা কোন সিচুয়েশনে হয়েছে সেটাও জানি। এসব ক্ষেত্রে এত দ্রুত সম্পর্ক স্বাভাবিক স্বামী-স্ত্রীর মতো হয় না। তোদের বেলায় হয়তো ঝামেলাটা একটু বেশিই। সেসব নিয়ে কি ভেবেছিস তুই?"
দীর্ঘশ্বাস ফেলল শায়রা। ভেবে দেখলো এখন আর কিছু লুকিয়ে লাভ নেই। তাই সোজা-সাপটা জানালো,
"ও কোনোদিন সবটা মেনে নিবে বলে, আমার মনে হয় না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ও যদি কোনোদিন ডিভোর্সের কথা বলে, আমি ডিভোর্স দিয়ে দিবো।"
আশার বিস্মিত আঁখিদ্বয় বিমূঢ় চেয়ে রইলো শায়রার মুখপানে। খানিকটা সময় লাগলো তার ধাতস্থ হতে৷ এরপর বলল,
"তার মানে তোরা দুইজন চাইছিস এই সম্পর্কটা ভেঙে ফেলতে?"
শায়রা স্মিত হাসলো। বলল,
"ও তো এখনো সরাসরি কিছু বলে নি আমাকে। শুধু ওইদিন রাগারাগি করে বলেছে আমি যেন ওর লাইফে বাগড়া না দেই! মেনে নিয়েছি ওর কথা। এরপর থেকে আমি ওর সাথে আর একটা কথাও বলিনি। এরপর ও চাইলে ডিভোর্সও দিয়ে দিবো আমি। পড়াশোনা তো এজন্যই করছি, তাই না? যেন নিজের জীবন নিজেই গুছিয়ে নিতে পারি?"
অবিশ্বাস্য ভঙ্গিতে মাথা নাড়লো আশা৷ বেশ কিছুক্ষণ আমতা-আমতা করে বলল,
"এমন সময় এই কথাটা বলা যদিও উচিত না, তাও না বলে পারছি না! আমার দেবরের কথা-বার্তায়, আকার-ইঙ্গিতে মনে হয়েছে ও তোকে পছন্দ করেছে। এখনো জানে না তোর যে বিয়ে হয়ে গেছে। আমি তো তোর থেকে পারমিশন নিতে চাচ্ছিলাম, তুই যে বিবাহিত এটা বলে দিবো কি না! কিন্তু এখন মনে হচ্ছে না বলাই ভালো।"
শায়রা ঠোঁট উল্টালো। বলল,
"বল বা না বল, রেজাল্ট তো একই!"
***********
ক্লাস ফাঁকি মেরে ফাইজানের আগেই বাইরে চলে এসেছে বাকি তিনজন। তাদের মতো আরও অনেক ফাঁকিবাজ আছে, যারা এই মুহুর্তে ক্যাম্পাসে ঘুরছে। এদের মধ্যে সবাইকে দৃষ্টি দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলো রিজভী, শুভ ও আহাদ। বেশ অনেকক্ষণ যাচাই-বাছাইয়ের পর সেকেন্ড ইয়ারের সুদর্শন একটা ছেলেকে মনে ধরলো তাদের৷ শুভ আহাদের কাঁধে কনুই রেখে বলল,
"ইয়ার! ওটা পারফেক্ট হবে, তাই না?"
আহাদ ও রিজভী দু'জনেই সন্দিহান নজরে তাকালো শুভর দিকে। রিজভী বলল,
"তুই সুন্দরী মেয়ে রেখে কি হ্যান্ডসাম ছেলেদের প্রতি দুর্বল হয়ে যাচ্ছিস? ব্যাপারটা সন্দেহজনক না, শুভ?"
হতভম্ব শুভ আহাদের কাঁধ থেকে হাত নামিয়ে ফেলল। কিয়ৎক্ষণ হা করে থেকে বলল,
"ফাইজানের সাথে সাথে তোদের মাথা কি গেছে? আমি পিউর পুরুষমানুষ। কোনো ছেলের প্রতি দুর্বল হওয়ার চান্সই নেই।"
আহাদ ঘাড় উঁচিয়ে বলল,
"কি জানি বাবা! আজকাল কারো বিশ্বাস নেই।"
শুভ ধমকের সুরে বলল,
"এইসব গবেষণা না করে যেটা বলছি সেটা শুন, ব*লির বকড়ি ওটাই পারফেক্ট হবে। এখন শুধু ফাইজান আর শায়রা বের হওয়ার পালা!"
প্ল্যানিং ফাইনাল হতেই ছেলেটাকে ডেকে নিয়ে এলো আহাদ। প্রথমত সিনিয়র, দ্বিতীয়ত র্যা*গিং টিম! এদের ডাক পেয়ে ভালোই ভয় পেয়েছে ছেলেটা৷ কপালের ঘাম সেটার জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ। সে এসে সালাম দিয়ে বলল,
"জি, ভাইয়া। ডেকেছেন আমায়?"
রিজভী একপেশে হেসে বলল,
"না ডাকলে স্বেচ্ছায় আমাদের সামনে এসে হাজির হবে, এমন স্টুডেন্ট খুব কমই আছে। ডেকেই আনাতে হয় সবাইকে। বাই দা ওয়ে, নাম কি তোমার?"
ছেলেটা ভয়ে ভয়ে জানালো,
"আবির।"
রিজভী টেনে-টেনে সুর দিয়ে বলল,
"আ-বি-র! আচ্ছা, তোমাকে একটা প্রশ্ন করার ছিলো ছোটভাই! গার্লফ্রেন্ড আছে?"
হঠাৎ ডেকে নিতান্ত উদ্ভটভাবে এই প্রশ্নটা করায় থতমত খেয়ে গেলো আবির। বড়দের সামনে গার্লফ্রেন্ড আছে, কথাটা বলা বিরাট বেয়াদবি। এমন কাজ তার দ্বারা হবে না। অর্থাৎ আবির এদের সামনে কোনোদিন বলবে না, তার গার্লফ্রেন্ড আছে। এসব ভাবতে ভাবতেই চকিতে খেয়ালে এলো, তার তো গার্লফ্রেন্ডই নেই! বেশি টেনশনে সেটাই ভুলে বসেছিলো বেচারা।
দ্বিতীয়বার রিজভীর ধমক খেতেই আবির সুরসুর করে বলে দিলো,
"না না, ভাইয়া। আমার কোনো গার্লফ্রেন্ড নেই।"
রিজভী বলল,
"গুড। এবার আমাদের হয়ে তোমাকে একটা কাজ করতে হবে। কিছুক্ষণ পর যখন ছুটি হবে, তখন ফার্স্ট ইয়ারের একটা মেয়ে বের হবে। আমরা ইশারায় দেখিয়ে দিবো মেয়েটাকে। তোমার কাজ ওকে গিয়ে প্রপোজ করা।"
আবির দ্বিগুন ঘাবড়ে গেলো এতে৷ ড্রামা-সিরিজ দেখে, এমনকি বাস্তব জীবন থেকে এতটুক অভিজ্ঞতা আছে, সিনিয়ররা নরম-কোমল মেয়েকে প্রপোজ করতে দেয় না। তারা বেছে বেছে এমন মেয়েকেই প্রপোজ করতে বলে, যারা তে*জী স্বভাবের হয়। সুতরাং প্রপোজের বিনিময়ে থা*প্পড় সুনিশ্চিত।
এতকিছু ভেবে মুহুর্তেই কাঁদোকাঁদো হয়ে গেলো বেচারার মুখটা। মনে মনে নিজেকে একশত একটা গালি দিলো, কেন আজ ভার্সিটিতে এসেছে? কিন্তু এখন ভেবে লাভ কি? বিপদে যখন পড়েছে, উদ্ধার তো হতেই হবে!
আবির পরিত্রাণের আশায় খুব সাহস করে বলল,
"ভাইয়া, প্রপোজ করার মতো কাজ আমাকে কেন দিচ্ছেন? আমি এসব পারবো না। অন্য যা বলবেন তাই করবো।"
ভ্রু কুঁচকালো শুভ। বলল,
"একটু আগেই না বললে, তোমার গার্লফ্রেন্ড নেই? তাহলে একটা মেয়েকে প্রপোজ করতে সমস্যা কোথায়? হতেও পারে এই সুযোগে গার্লফ্রেন্ড পেয়ে গেলে!"
আবির মিনমিনিয়ে বলল,
"ভাইয়া৷ আমার দরকার নেই গার্লফ্রেন্ডের৷ থা*প্পড় পড়বে তো গালে!"
রিজভী হুমকি দিলো,
"আর না গেলে আমাদের হাতের মা*র পড়বে পিঠে। ভেবে দেখো, নরম হাতের একটা চ*ড় গালে খাবে? নাকি পুরো শরীরে আমাদের শক্ত হাতের মা*র খাবে? কোনটা?"
অগত্যা ওদের হুমকির কাছে হার মানতে হলো আবিরকে৷ দোয়া-দরুদ পড়ে মনে বিস্তর সাহস সঞ্চয় করে দাঁড়ালো ওদের থেকে অনেকটা দূরে৷ এরমধ্যে শুভ কোথা থেকে একটা গোলাপ জোগাড় করে ওর হাতে গুজে দিলো৷
ছুটির ঘন্টা বাজতেই শায়রার আগে ফাইজান বের হলো ভবন থেকে। আহাদ ও রিজভীর কাছে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলো,
"শুভ কই?"
আহাদ বানিয়ে বানিয়ে বলে বসলো,
"ওয়াশরুমে গেছে। চলে আসবে একটু পরেই।"
ওদের কথামতো ফাইজানও অপেক্ষা করতে লাগলো শুভর ফিরে আসার। অন্যদিকে শুভ বড়সড় এক গাছের আড়ালে লুকিয়ে আবিরকে সব বোঝাতে ব্যস্ত। যেন আবির শায়রার সামনে গিয়ে কোনোভাবেই নার্ভাস না হয়৷
অপেক্ষার প্রহরের সমাপ্তি হলো। সকালের ন্যায় এখনো আশার সাথে কথা বলতে বলতেই বাইরে বের হলো শায়রা। হঠাৎ তার সামনে এগিয়ে এলো একটা ছেলে। হাতে টুকটুকে এক লাল গোলাপ।
নিজের কাজ শেষ করে শুভ দে দৌড় ফাইজানের কাছে৷ কাছে গিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,
"হ্যাঁ, এসে পড়েছি আমি। চল যাই।"
এমনসময় অবাক হওয়ার ভান ধরে আহাদ বলল,
"আরেহ, ওটা শায়রা ভাবি না?"
আহাদের কথা শুনেই পেছন ফিরলো ফাইজান। সত্যি সত্যিই তার চোখের সামনে শায়রা। কথা বলছে অন্য একটা ছেলের সাথে। ছেলের হাতে লাল গোলাপ। নিশ্চিতভাবেই সে গিয়েছে প্রপোজ করতে। তৎক্ষণাৎ কোনো এক অজ্ঞান কারণে বেসামাল রাগ চড়লো ফাইজানের মাথায়। কয়েক সেকেন্ড শুধু দাঁড়িয়ে ওদের কথা বলা দেখলো। এরপর কথা-বার্তাহীন হনহন করে এগিয়ে গেলো শায়রার দিকে।