ফাইজানের রুমের জানালাটা এখনো খোলা। সেখান দিয়ে বাতাস ঢুকছে রুমের ভেতরে। মাথার উপর সিলিংটাও ঘুরছে নিঃশব্দে। ফলে ঠান্ডা হয়ে আছে রুমের পরিবেশ।
শায়রা এখনো ফাইজানের গলা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে। বিড়বিড় করে বলছে,
"বললাম তো, যা জিজ্ঞেস করবে তাই বলবো! এবার নামিয়ে দাও আমায়।"
ফাইজান বেশ উপভোগ করছে এই ব্যাপারটা। এমনিতে শায়রাকে সে কখনো ভয় পেতে দেখে নি। ধমক দিলে তো সবসময় পালটা জবাব দিয়েছে শায়রা। সেখানে এরকম আদুরে বিড়ালছানার মতো কোলে নিয়ে রাখার পর ভয় পাচ্ছে। ব্যাপারটা কেমন উলটো হয়ে গেলো না?
এসব ভেবেই মুচকি হাসলো ফাইজান। ধীর-কন্ঠে বলল,
"সিউর তুই? নামিয়ে দিবো? তারপর বলবি তো?"
শায়রা ঘাড়ে মুখ গুজে রাখা অবস্থাতেই স্বল্প মাথা নাড়লো। বলল,
"হু।"
এরপর ফাইজান বিছানার কাছে এগিয়ে গিয়ে বিছানার উপর আস্তে-ধীরে নামিয়ে বসালো শায়রাকে। সঙ্গে সঙ্গে গুটিয়ে গেলো শায়রা। একটুখানি পিছিয়ে গিয়ে খানিক সাহস সঞ্চয় করে বলল,
"তুমি না আমাকে মুটকি বলো? সবসময় তো বলো, আমাকে কোলে নিলে নাকি তোমার কোমড় আস্ত থাকবে না। তাহলে এতক্ষণ কোলে নিয়ে রেখে দিয়েছিলে কেন? এখন কোমড় ভাঙে নি তোমার?"
ফাইজান ঠোঁট টিপে হাসলো। বলল,
"অতটুকে আমার কোমড়-টোমড় ভাঙে না। আমি এটলিস্ট বউকে কোলে নেয়ার মতো স্ট্রং আছি। আর তুই..ভাবিস না কথা ঘুরিয়ে নিলেই বেঁচে যাবি! এবার বল ফাহিমের কথা কি বলছিলি!"
শায়রা চোখ ছোট-ছোট করে বলল,
"তুমি ওই বেচারা ফাহিমের পেছনে কেন পড়ে আছো? এত রাতে বোধহয় ঘুমাচ্ছে। তুমি এরকম বারবার মনে করলে ঘুমের মধ্যে হেঁচকি উঠে যাবে না?"
ফাইজান তীক্ষ্ণ নজরে চাইল শায়রার দিকে৷ শীতল কণ্ঠে বলল,
"ওর কথা তো খুব চিন্তা করছিস! কোনোদিন এইভাবে আমার কথা চিন্তা করেছিস?"
শায়রা ফাইজানের ওই তীক্ষ্ণ দৃষ্টির সামনে চোখে চোখ মেলাতে পারলো না। অন্যদিকে তাকিয়ে বলে বসলো,
"ছেলেটা অনেক সুইট আর কেয়ারিং। একটু তো চিন্তা আসা স্বাভাবিক। জানো, আজ রেস্টুরেন্টে আমার দিকে চিকেনের ট্রে-টা এগিয়ে দিয়েছিলো।"
ফাইজান বিতৃষ্ণায় নাক-মুখ কুঁচকে ফেলল। কোনো এক কারণে সে ফাহিমকে সহ্য করতে পারছে না৷ ছেলেটা যে আজ ওর সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে, এমনও নয়। বরং বেশ ভালো ও ভদ্র ছেলে। তার সাথে কথাও বলেছে ভালোভাবে, তবুও ফাইজান ওর নামটা অব্দি শুনতে পারছে না। চড়াও হচ্ছে ওর মেজাজ। আস্তে করে বলল,
"আমি যে সব কাজ-টাজ, আড্ডা সবকিছু ফেলে সারা সন্ধ্যা ওকে সময় দিলাম এটা ওর চোখে পড়লো না। আর কোথাকার কোন ছেলে একটা চিকেনের ট্রে এগিয়ে দিয়ে ওর মনে ঢুকে বসে আছে! উফফ, বিরক্তিকর!"
শায়রা ঘুরে চাইল ফাইজানের দিকে। নিষ্পাপ স্বরে জানতে চাইল,
"কিছু বললে তুমি?"
"না। কিছু না।"
থমথমে স্বরে এতটুক বলেই বিছানা থেকে উঠলো ফাইজান। দরজার কাছে যেতে নিলেই শায়রা জিজ্ঞেস করলো,
"কি করছো?"
ফাইজান উত্তর দিলো,
"দরজা লক করছি। ঘুমাবো না?"
শায়রা ব্যাকুল হয়ে বলল,
"আরেহ, আমি আনুসার রুমে যাবো তো! আমি যাই তারপর দরজা লাগাও তুমি।"
ফাইজান শায়রার কথাকে পাত্তা দিলো না। উলটো উপরের ছিটকিনি টেনে দিলো। এরপর লাইট অফ করে বিছানায় ফিরে এসে বলল,
"আনুসার রুমে যাবি কেন? ওখানে যাওয়ার তো কোনো দরকার দেখছি না আমি। এখানে থাকবি তুই, আমার রুমে।"
শায়রা স্তব্ধ হয়ে বসে আছে ফাইজানের কর্মকান্ড দেখে। ওই একদিন শুধু সারাদিনের জন্য শায়রার হারিয়ে যাওয়া, এরপর থেকেই ধীরে-ধীরে পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে ফাইজানের আচরণ। এখন আর আগের মতো কথায় কথায় রাগা-রাগি নেই, ধমকা-ধমকি নেই। বরঞ্চ বেশ দায়িত্বশীল হচ্ছে আজকাল। খুঁটিনাটি বিষয়গুলোতে খুব নজর দিচ্ছে। এমনিতে নিজের জন্য ব্যতীত অন্য কারো জন্যই সময় বের করার মানুষ ফাইজান নয়। তবুও আজ কিভাবে কিভাবে যেন শায়রার সাথে যাওয়ার জন্য সময় বের করে নিয়েছে। আট ঘন্টার বেশি সময় কাটিয়েছে৷ বিয়ের পর কিংবা আগে, বলতে গেলে গোটা জীবন মিলিয়ে বোধহয় প্রথমবার ফাইজান শায়রার সাথে এতটা সময় অতিবাহিত করেছে।
তবে শায়রা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ও এত সহজে গলবে না। তার মনে এখনও ভয়-ডর আছে ফাইজান যদি পল্টি খেয়ে যায়? কোনোদিন যদি ঠাস করে বলে বসে, ও ডিভোর্স চায়? তখন কি করবে শায়রা? এই ভয়েই এখনো নিজেকে প্রকাশ করতে চাইছে না সে।
অনেকটা সময় শায়রাকে এভাবে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে ওর মুখের সামনে তুড়ি বাজালো ফাইজান। ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
"কি অত ভাবছিস তুই?"
শায়রা সরলমনে স্বীকার করলো,
"তোমার কর্মকান্ডের কথা।"
ফাইজান পুনরায় জিজ্ঞেস করলো,
"এমন কি করলাম আমি যেটার কথা ভাবতে গিয়ে তুই অন্য দুনিয়ায় হারিয়ে যাচ্ছিস? আচ্ছা, আমার কথাই ভাবছিস তো? নাকি অন্য কারো কথা ভেবে আমার উপর দায় চাপাচ্ছিস?"
এ-কথায় বিরক্ত হলো শায়রা। 'চ' সূচক শব্দ করে বলল,
"না, তোমার কথা ভাবছি না। ফাহিমের কথা ভাবছি। হয়েছে এবার? খুশি তুমি?"
ফাইজান শক্ত কন্ঠে বলল,
"তোকে এত বড় সাহস কে দিয়েছে তুই আমার রুমে, আমার বিছানায় বসে অন্য ছেলের কথা ভাবছিস?"
শায়রা চেঁচিয়ে বলল,
"তোমার কথা ভাবছি বললে বিশ্বাস করো না। অন্যের কথা ভাবছি বললে রাগ দেখাও। তাহলে যাবো টা কই আমি? এক কাজ করি, আনুসার রুমে চলে যাই। থাকো তুমি। টাটা।"
বলেই রেগে-মেয়ে বিছানা থেকে নামনে উদ্যত হলো শায়রা। অমনি ফাইজান পেছন থেকে হাত টেনে ওকে পুনরায় নিজের কাছে আনলো। জানতে চাইলো,
"আনুসার রুমে কি, হ্যাঁ? যে আনুসার রুম, আনুসার রুম করছিস? বলেছি না এখানে থাকতে? কথা শুনবি নাকি ঠ্যাং ভেঙে বসাতে হবে?"
ফাইজানের রুমের শান্ত-শিষ্ট পরিবেশটা হঠাৎ বদলে গেলো ঝগড়ার শব্দে। কেউ কারো থেকে কম নয়। শায়রা ফাইজানের কথার জবাবে বলল,
"ঠ্যাং ভাঙলে হাঁটবো কি করে?"
ফাইজান নিরুদ্বেগ ভঙ্গিতে ঘাড় উঁচিয়ে বলল,
"সমস্যা কি? তোর তো এমনিতেই আমার কোলে চড়ে চড়ে ঘুরার শখ। সেটা পূরণ হয়ে যাবে।"
শায়রা মুখ বাঁকিয়ে বলল,
"তোমার কোলে চড়ে ঘুরার আমার কোনো শখ নেই। ওইদিন তো শুধু তোমাকে শায়েস্তা করতে নাটক করেছিলাম। তুমিই তো বলেছিলে আমাকে কোলে তুলতে পারবে না জীবনেও। সবসময় মুটকি মুটকি বলে অপমান করো। এজন্যই টেস্ট করছিলাম, আমি আসলেই মোটা নাকি তোমার চোখে সমস্যা?"
ফাইজান বড়-সড় নিশ্বাস ফেলে বলল,
"আমরা টপিক থেকে ঘুরে যাচ্ছি, শায়ু। তুই কই থেকে কই চলে যাচ্ছিস?"
শায়রা কাঁদোকাঁদো ভঙ্গি করে বলল,
"এখনো তোমার রুম থেকে আনুসার রুমে যেতে দিচ্ছো না, আবার বলো কই থেকে কই যাচ্ছি? এ কেমন অবিচার?"
এতক্ষণ ভালোভাবে কথা বললেও এবার অতিষ্ঠ হলো ফাইজান। আকস্মিক ধমক ছুড়লো,
"চুপ! আরেকবার আনুসার রুম, আনুসার রুমে করলে তোকে ওয়াশরুমে আটকে রেখে আমি ঘুমিয়ে যাবো। আমার বন্ধ রুমে কেউ তোকে বাঁচাতে আসবে না। সুতরাং চুপ। সকালে চলে যাস ওর রুমে।"
ধমক খেয়ে দমে গেলো শায়রা। একবার মনে মনে ভেবে নিলো সারারাত বাথরুমে থাকার শাস্তিটা কেমন হতে পারে? সাথে সাথে পেট গুলিয়ে বমি এলো তার। খুবই বিতিকিচ্ছিরি একটা শাস্তি হবে। এরচেয়ে চুপ থাকাই শ্রেয়।
ফাইজান বলল,
"হয়েছে শান্তি? এবার ঘুমা।"
একদম বাধ্যগত বউয়ের ন্যায় মাথা নাড়লো শায়রা। যেহেতু এর আগে একরাত ফাইজানের রুমে থেকেছে ও, তাই আজ কোনোপ্রকার ইতস্ততা এলো না। উপরন্তু ওইদিন ফাইজান যথেষ্ট দূরত্ব রেখে শুয়েছিলো। শায়রার পূর্ণ বিশ্বাস আজও এরকমই হবে।
চুপচাপ থাকা শায়রার স্বভাববিরুদ্ধ। সে নিজের শোয়ার জায়গা ঠিকঠাক করতে আবারও বলল,
"তুমি ফাহিমকে সহ্য করতে পারো না কেন?"
ফাইজান দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ওর ভালো মুড নষ্ট করতে শুধুমাত্র এই একটা নামই যথেষ্ট। সে থমথমে স্বরে বলল,
"তোকে একবার কি বলেছি, ভুলে গেছিস? ফাহিম তোর বড়। তোর উচিত ওকে ভাইয়া ডাকা। নাম ধরে কেন ডাকিস?"
শায়রা ভ্রু কুঁচকে বলল,
"বড় হলেই সবসময় ভাইয়া ডাকতে হয়?"
ফাইজান শুয়ে পড়েছে নিজের জায়গায়। ঘাড়ের পেছনে দু'হাতের তালু রেখে চোখ বুজলো ও। এরপর বলল,
"হ্যাঁ। বড় হলেই সবসময় ভাইয়া ডাকতে হয়। সবসময় মানে সবসময়।"
শায়রা ইচ্ছে করে ফাইজানকে আরও জ্বালাতে বলল,
"এরকম কোথায় লেখা আছে? হাসবেন্ড-ওয়াইফের মধ্যে কিন্তু হাসবেন্ড সবসময় বড় হয়। যেমন আব্বু আম্মুর থেকে বড়। ফুপা ফুপ্পির থেকে বড়। তারা কি ভাইয়া ডাকে নাকি? ডাকে না৷ তার মানে বড় হলেই সবসময় ভাইয়া ডাকতে হয় না।"
ফাইজান চোখ খুলল। ঘুরে কনুই ভাজ করে এক হাতের তালুতে ভর দিয়ে ঘুরলো শায়রার দিকে। মেয়েটা ততক্ষণে শুয়ে পড়েছে৷ ফাইজান সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করলো ওর মুখশ্রীতে। অতঃপর নিজের অন্যহাতের আঙুল দ্বারা শায়রার থুতনিতে হাত দিয়ে ঘুরালো নিজের দিকে। শায়রা ওর দিক তাকাতেই বলল,
"সেটা শুধুমাত্র হাসবেন্ড-ওয়াইফের ক্ষেত্রে। আর তোর হাসবেন্ড তো আমি, তাই না? হাসবেন্ড বাদে বাকি সবাই ভাই।"
লজ্জিত মুখখানা ঘুরিয়ে হাসলো শায়রা। বলল,
"তুমি তো ওইসময় সম্মান চাচ্ছিলে তাই না? তো আমার কি এখন থেকে তোমাকে ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকা উচিত?"
ফাইজান বলল,
"উহু। তুই তো একটু আগে আম্মু-আব্বু আর মামা-মামির এক্সাম্পল টানছিলি তাই না? আম্মু আর মামি কি ডাকে? সেটাই বেশি সুন্দর না?"
শায়রা ভাবনায় পড়লো কিয়ৎক্ষণের জন্য। মনে পড়তেই বেখেয়ালবশত বলে ফেলল,
"আম্মু আব্বুকে শায়রার আব্বু বলে ডাকে আর ফুপ্পি ফুপাকে ফাইজানের আব্বু বলে ডাকে। তো আমি তোমাকে.."
ফাইজান ফটাফট বলে দিলো,
"পারফেক্ট নিকনেম!"
বিষয়টা পরিষ্কারভাবে উপলব্ধি হতেই ভীষণরকম লজ্জা পেলো শায়রা। তাকাতেও পারলো না ফাইজানের দিকে। অন্যদিকে ঘুরে চোখ বুজে ইতস্তত করে বলল,
"অনেক রাত হয়েছে। ঘুমাও। আমারও ঘুম পাচ্ছে। এত বকবক করার টাইম নেই।"
ফাইজান বলল,
"এজ ইউর উইশ। গুড নাইট।"
ফাইজান নিজের জায়গায় ফিরে গিয়ে চোখ বন্ধ করলো ঘুমানোর উদ্দেশ্যে। হয়তো ঘুমিয়েও পড়বে কিছুক্ষণের মধ্যে। কিন্তু শায়রা ঘুমাতে পারছে না। একটু আগের কথা তার মস্তিষ্কে বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। হৃৎপিন্ডের স্পন্দন চলছে অস্বাভাবিক গতিতে। আচমকা সব ভাবনা দূরে ঠেলে মস্তিষ্কে ঘর করলো এক ভিন্নরকম চিন্তা।
সে ফাইজানের প্রেমে পড়ে যাচ্ছে না তো?
স্বামীর প্রেমে পড়া তো অন্যায় কিছু নয়৷ তাও কেন এই বিষয় নিয়ে ভয় দানা বাঁধছে শায়রার মনে?
ফাইজানের ছেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে? আচ্ছা, ফাইজান যদি তাকে ছেড়ে দেয় তাহলে কি ব্যাপারটা খুব অস্বাভাবিক বা অসম্ভব কিছু হবে? যদি সত্যিই তাদের সম্পর্কের শেষ পরিণতি ডিভোর্স হয়, তাহলে এই সপ্নগুলো শুরুতেই ভেঙে গুড়িয়ে যাবে।
এই ভয় আর স্বাভাবিক থাকতে দিলো না শায়রাকে। উঠে বসলো বিছানায়। পরপর তাকালো ফাইজানের দিকে। নিশ্চিন্তে চোখ বুজে আছে ছেলেটা। শায়রা ভাবলো, তাদের এই অনিশ্চিত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে কি ফাইজানের কোনো ভাবনাই নেই? নাকি সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নিয়ে রেখেছে বলে ভাবনার কারণ নেই?
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে শায়রা ডাকলো ফাইজানকে,
"ওই বাউন্ডুলে, শুনো।"
ওর ডাকে চোখ খুলে উঠে বসলো ফাইজান। ঘুম-ঘুম স্বরে জানতে চাইল,
"কি হয়েছে? ডাকছিস কেন?"
শায়রা ঢোক গিলে বলল,
"একটা কথা জিজ্ঞেস করি?"
ফাইজান মাথা নেড়ে অনুমতি দিতেই কোনো রাখ-ঢাক রাখলো না শায়রা। সরাসরি প্রশ্ন করলো,
"আমাদের এই বিয়ের ভবিষ্যৎ কি? কোনো ভাবনা বা সিদ্ধান্ত আছে তোমার? সাধারণত বিয়ের ছয়মাস পরই ডিভোর্স নেয়া যায়। তুমিও কি ছয়মাস পর ডিভোর্স দিয়ে দেবে আমাকে?"
এহেন প্রশ্নে ঘুম উড়ে গেলো ফাইজানের। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চাইল শায়রার দিকে। ওর চোখে-মুখে অবর্ণনীয় আকুলতা, জানার আকাঙ্খা। ফাইজান হতবাক হলো ওর আকস্মিক এই আচরণে। কি উত্তর দিবে ভেবে পেলো না। প্রশ্নের বিপরীতে পালটা প্রশ্ন করলো,
"হঠাৎ এইসব কি বলছিস তুই? মাথা ঠিক আছে?"
শায়রা ব্যাকুলতার সাথে বলল,
"তুমি বুঝতে পারছো আমি কি অবস্থায় আছি? আমাদের সম্পর্কটা অনিশ্চিত। এর ভবিষ্যৎ দেখতে পারছি না আমি। আমি জানি আমাদের পরিবার আমাদের বিয়েটা জোর করে দিয়েছে। কিন্তু আমি তো তোমার ঘাড়ের উপর জোর করে চেপে বসতে পারি না। তোমার নিজের জীবনের একটা স্বাধীনতা আছে। বাবা-মা জোর করে বিয়ে দিয়েছে বলে আমি তোমার জীবনের বোঝা হবো এরকমটা ভাবার কোনো দরকার নেই। তুমি যা চাইবে তাই হবে। ইতস্ততা না করে যেটা মন থেকে চাচ্ছো সেটাই বলবে আমাকে। আমি মেনে নিবো। যদি এর শেষ পরিণতি ডিভোর্স হয়, তাও আমি মেনে নিবো।"
ফাইজান অদ্ভুত দৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছে শায়রার দিকে। ওর কথা শেষ হতেই সে বলল,
"ডিভোর্স? আমাদের বিয়ের শেষ পরিণতি ডিভোর্স, এটাই ভেবে রেখেছিস তুই?"
শায়রা হতাশ শ্বাস ফেলে জানালো,
"পরিবারের জোর করে দেয়া বিয়ে থেকে এরচেয়ে ভালো কি আশা করতে পারি?"