"আরজু রাতে খাবেনা?”
ইরার প্রশ্ন শুনে আরজু মাথা তুলে ওর দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক গলায় বলল,
“আমি বাইরে থেকে খেয়ে এসেছি।”
“সে তো তুমি সেই সন্ধ্যায় খেয়ে এসেছো। সারা রাত এভাবে না খেয়ে কেউ থাকে নাকি?”
“আমার অভ্যাস আছে আপু, কোন সমস্যা হবে না।”
আরজু মানা করলো ঠিকই তবে ইরা সেটা মানতে নারাজ। একটু অধিকার দেখিয়ে বলল,
“তোমার সমস্যা না থাকলেও আমার সমস্যা আছে। চলো একসাথে খাব। আমি বুঝতে পেরেছি সারাদিন এত খাটাখাটনি করে এসে তোমার আর রান্না করার ইচ্ছে নেই। তাছাড়া তুমি তো কিছু বাজারও করোনি। চলো আমি রান্না করেছি, আমারটাই খাবে আজ।”
“না আপু আমি রাতে খাবো না। আমার আর খেলে সমস্যা হবে, তুমি খেয়ে নাও।”
“জেদ করেনা আরজু। আমি তো তোমার বড় বোনের মত। আমি আমার ছোট বোনকে রেখে কি করে খেয়ে নেবো বলোতো? আমার তো খারাপ লাগবে।”
ইরার এত যত্ন বোধহয় আরজুর ভালো লাগলো তবে খুব বেশি নিজের ভালোলাগাটা প্রকাশ করলো না। খুবই অল্প হেসে উত্তর দিল। এতটাই অল্প হাসলো যেন ইরা বুঝতে না পারে যে আরজু খুব বেশি খুশি হয়েছে। কেননা আরজু নিজের খুশি অন্যদেরকে দেখাতে খুব একটা বেশি পছন্দ করে না।
“তুমি খেয়ে নাও আপু। আমি অন্য কোন দিন তোমার রান্না করা খাবার খাব। আজকে পেট একদম ভরা। এখন যদি আবার খাই তাহলে অসুবিধা হবে। সত্যি বলছি আমার পেট ভরা আছে।”
ইরা কেন যেন আর জোর করতে পারল না। এখনো আরজুর সাথে এতটা ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়নি যে আরো জোর করতে পারে। আরজুর কথায় সম্মতি জানিয়ে চলে গেল।
আরজু নিজের পানির বোতলটা ভরে নিয়ে এসে বই নিয়ে বিছানার উপরে বসলো। বেশ অনেকগুলো বই একসাথে নিয়ে বসলো। সেই সাথে খাতা কলম সহ পড়তে যে যে জিনিসের দরকার হয় সে সবই সাথে নিয়ে বসলো। জোরে জোরে পড়ার অভ্যাস আরজুর নেই। সব সময় সে অন্যদের অসুবিধার কথা ভাবতে খুব পছন্দ করে। কেউ আরজু কে দোষারোপ করবে, ওর জন্য তাদের কোন অসুবিধা হবে এসব আরজুর একদমই পছন্দ না। তাই দরকার পড়লে নিজের অসুবিধা করবে তবুও অন্যদের অসুবিধা করবে না। ইরা খেয়ে দেয়ে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরলো। সময় অনেক হয়েছে দেখে আরজু কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“কখন ঘুমোবে আরজু?”
“সামনে পরীক্ষা আছে আপু। দেখি কতক্ষণ পড়া যায়। ঘুম এলে ঘুমিয়ে পড়বো চিন্তা করো না। তুমিও ঘুমিয়ে পড়ো।”
“আচ্ছা ঠিক আছে। বেশি রাত জেগো না, শরীর খারাপ করবে।”
“তুমি লাইটটা বন্ধ করে দিয়ে ঘুমোও না হলে তোমার সমস্যা হবে।”
ইরা আপত্তি জানিয়ে বলল,
“আরে না। আমি লাইট অফ করে ঘুমোলে তুমি পড়বে কি করে? আমার ঘুমের থেকে তোমার পড়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তুমি পড়ো। আমার অসুবিধা হবে না। আমি কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমোবো।”
আরজু কিছু বলল না ইরা কে। চুপচাপ উঠে গিয়ে নিজেই লাইটটা অফ করে দিয়ে এসে আবার বিছানায় বসলো। ফোনের ফ্লাশ লাইটটা অন করে আবারও বিড়বিড় করে পড়তে শুরু করলো। ইরা যেন অবাক না হয়ে পারলো না। মনে মনে ভাবলো মুনতাসির এটা কোন আজব প্রাণী কে ওর কাছে পাঠিয়েছে। এখন ইরা বুঝতে পারছে মুনতাসির কেন বলেছিল যেন আরজুর একটু খেয়াল রাখে। মেয়েটা বড়ই অদ্ভুত।
তবে ইরা আরজু কে নিয়ে বেশি ভাবার সময় পেল না। তার আগেই ওর ফোনটা বেজে উঠলো। স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নামটা দেখেই ইরার মুখে হাসি ফুটলো। এখন তো আর আরজু কে নিয়ে ভাবার কোন প্রশ্নই আসে না। ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরলো। পড়ার মাঝে আরজু খেয়াল করলো ইরার হাসির শব্দ ভেসে আসছে। বিড়বিড় করে কার সাথে যেন কথা বলছে। তবে আরজু চেষ্টা করলো সেদিকে মনোযোগ না দেওয়ার।
পড়ার মাঝে খেয়াল করলো পেটের ভেতর বেশ অনেকগুলো ইঁদুর দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিয়েছে। নিজের পড়া বন্ধ করে পানি খেয়ে নিল। এক নিমিষে এক বোতল পানি পুরোটাই শেষ করলো। যাক অন্তত কিছু সময়ের জন্য আরাম পাওয়া যাবে। পড়তে পড়তে আরজুর রাত দুইটা বেজে গেল। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো এখনো ইরার হাসির শব্দ মাঝে মাঝে কানে ভেসে আসছে। এতক্ষনে আরজুর চোখটাও লেগে আসছে। আর বোধহয় পড়া যাবে না। বইপত্র গুলো গুছিয়ে রেখে বোতলটা আবারো ভরে এনে পানিটুকু খেয়ে নিল। কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লো। কয়েক মিনিট পরে উঠে বসলো। ধীর কন্ঠে একবার ইরাকে ডাকলো।
“ইরা আপু!”
আরজুর এক ডাকেই ইরা কাঁথার ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো। ব্যতিব্যস্ত গলায় বলল,
“কি হয়েছে আরজু? কোন সমস্যা?”
“একটা প্রশ্ন করি?”
“হ্যাঁ বলো।”
“তুমি কি কোন ছেলের সাথে কথা বলছো?”
আরজুর এমন অদ্ভুত প্রশ্নে ইরা বোধহয় একটু বিব্রতই হলো। ইরা যে বিব্রত বোধ করছে আরজু বেশ ভালোই বুঝতে পারলো সেটা। তড়িঘড়ি করে নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলল,
“দুঃখিত আপু এই প্রশ্নটা করার জন্য।”
“আরে না সমস্যা নেই। হ্যাঁ আমি একটা ছেলের সাথে কথা বলছি।”
ইরা উত্তরটা দেওয়াতে আরজু আলতো হাসলো। তবে মুহূর্তের মাঝেই তার মুখ থেকে সেই হাসিটা আবার সরে গেল। গম্ভীর গলায় বলল,
“এত কথা বলো না। পরে তুমি কষ্ট পাবে। জানো ছেলেরা একদম ভালো হয় না, ওরা শুধু ঠকায়। এখন তোমায় ভালোবাসি বলবে কিন্তু পরে যখন তুমি হাতটা ধরতে চাইবে তখন আর খুঁজে পাবে না তাকে। তুমি অনেক ভালো। অযথা এসবে জড়িও না, কষ্ট পাবে। আর আমার কথায় খারাপ লেগে থাকলে দুঃখিত।”
কথাটা বলে আরজু কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ল। ইরা হা করে ওর দিকে তাকিয়ে থাকলো। এই মেয়েটা তো ইরার মাথা খারাপ করে দিচ্ছে। ফোনের অপর পাশে থাকা মুনতাসির সমানে ইরা কে ডেকে যাচ্ছে সেদিকে ইরার কোন খেয়ালই নেই। বেশ অনেকক্ষণ পর ইরা হুঁশে ফিরে ফোনটা কানে ধরে বলল,
“বিশ্বাস করো, আরজু খুবই অদ্ভুত। আমার মনে হয় ওর মানসিক কোন সমস্যা আছে।”
মুনতাসির একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“এই জিনিসটা তো আমারও মনে হয়। সেজন্য ওকে তোমার ওখানে পাঠিয়েছি। একটু খেয়াল রেখো ওর। মেয়েটা খুব একা। ওর খেয়াল রাখার কেউ নেই। ভার্সিটিতেও সারাদিন একাই থাকে। ওর জন্য যে কেন এত চিন্তা হয় জানিনা।”
ইরার কপালের মাঝে সুক্ষ্ম ভাঁজের সৃষ্টি হলো। সন্দেহী গলায় বলল,
“এত অতিরিক্ত টানের কারণ কি? এসব কিন্তু ভালো না মনু।”
ইরার মুখ থেকে মনু ডাকটা শুনে মুনতাসির ফোনের অপর পাশে থেকেই লজ্জায় পড়ে গেল।
“আবার এসব নামে ডাকছো কেন? আর বললাম তো এর কারণ আমি নিজেও জানি না।”
“আমার ডাকতে ভালো লাগে তাই ডাকি। যাইহোক আজ ছেড়ে দিলাম তোমায়। এখন ফোনটা রাখি না হলে বলা যায় না আরজু কখন আবার উঠে কি বলে।”
মুনতাসির সায় জানিয়ে ফোনটা রেখে দিল।
________
“আরজু!”
কন্ঠটা আরজুর কাছে পরিচিত মনে হলো না অপরিচিত মনে হলো সেটা ঠিক বুঝলো না। তবে যেহেতু ওর নাম ধরে ডেকেছে তাহলে একবার অন্তত তাকিয়ে দেখা উচিত যে কে ডাকছে। বলা যায় এক প্রকার বাধ্যবাধকতা থেকে আরজু পিছন ফিরে তাকালো। সামনে দাঁড়ানো আরমানকে চেনা চেনা লাগলো তবে কেন যেন মনে করতে পারছে না কোথায় দেখেছে। মস্তিষ্কে ভীষণ জোর প্রয়োগের পর মনে পড়ল যে গতকাল এই ছেলের দলের লোকই ঝামেলা পাকিয়েছিল। কোন কথা বলার প্রয়োজন মনে করলো না সে। আরমান হতাশ হয়ে নিজেই এগিয়ে এসে বলল,
“কেমন আছেন আরজু?”
আরজু গম্ভীর গলায় বলল,
“আমার পেছনে লোক লাগিয়েছেন কেন? কি হবে খোঁজখবর নিয়ে?”
আরমান ভরকালো। ও কখন আরজুর পেছনে লোক লাগালো সেটাই তো বুঝতে পারছে না। জোরপূর্বক হাসার চেষ্টা করে বলল,
“আপনি ভুল ভাবছেন। আমি আপনার পেছনে কেন লোক লাগাতে যাব?”
“আপনি মিথ্যে বলছেন আর এটাই প্রমাণ করছে আপনি ভালো মানুষ না।”
আরমান যেন এবারে আকাশ থেকে পড়লো। মেয়েটা কেমন যেন যন্ত্রের মতন কথা বলে। কথার মাঝে কোন মায়া, মমতা, আবেগ কিছু নেই। কথার কোন লাগামও নেই।
“আসলে আমার মনে হয় আমি অতটাও খারাপ না যতটা আপনি বানাতে চাইছেন। সত্যি বলছি আমি আপনার পেছনে কোন লোক লাগাইনি।”
“আবারো মিথ্যে বললেন। আমার পেছনে লোক না লাগালে আমার নাম জানতেন না আপনি। আমি এখন অব্দি আপনাকে আমার নাম জানাইনি। আমার পেছনে লোক না লাগালে আপনি এটাও জানতেন না যে আমি কখন ভার্সিটিতে আসি। এখন বলুন কেন লাগিয়েছেন লোক আমার পেছনে?”
“ও আচ্ছা। এজন্য আপনি বলছেন আপনার পেছনে লোক লাগিয়েছি? ওয়েট আমি এক্সপ্লেইন করছি।”
“সংক্ষেপে বলুন।”
আরমান একটা শুষ্ক ঢোক গিলে নিজের ভিতরে তৈরি করা বড় ব্যাখ্যা বিশ্লেষণটাকে ছোট করার চেষ্টা করলো। আরমান তো চায় তাদের কথাবার্তা দীর্ঘ হোক তবে আরজু চাইছে সংক্ষেপে সব শেষ করতে। এখন দুজনের ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিয়ে আরমান ঠিক করলো নিজেদের কথপোকথন মাঝারি পর্যায় রাখবে।
“আসলে আপনি আমাকে যে নাম্বারটা দিয়েছিলেন, মানে যেই নাম্বারে ভুল করে আপনার টাকা চলে গিয়েছিল উনি টাকাটা ফেরত দিতে রাজি হয়েছেন। এখন এটাতো আবার আপনাকে জানাতে হতো সেই জন্যই শুধু আপনার ব্যাপারে খোঁজখবরটা নিয়েছি।”
আরজু সন্দেহী গলায় বলল,
“সত্যি উনি দিতে রাজি হয়েছেন নাকি আবার আপনি আপনার ক্ষমতা দেখানোর জন্য নিজের পকেট থেকে টাকাটা দিতে চাইছেন? আমার থেকে একটা ভোট কিনবেন তাই তো?”
আরমান বৃদ্ধাঙ্গুল এর সাহায্যে কপালের ঘামটুকু মুছে নিয়ে জোর পূর্বক হেসে বলল,
“আপনি তো আমার প্রেসার বাড়িয়ে দিচ্ছেন। দাঁড়ান আমি আপনাকে প্রমাণ দেখাচ্ছি।”
কথাটা বলে আরমান নিজের ফোনটা বের করে দেখালো। যেই নাম্বারটা আরজু আরমানকে দিয়েছিল সেই নাম্বার থেকে আরমানের ফোনে পাঁচ হাজার টাকা এসেছে।
আরমান এবারে পকেট থেকে পাঁচটা এক হাজার টাকার নোট বের করে আরজুর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
“এই নিন আপনার টাকা।”
আরজু টাকাটা হাতে নিয়ে বলল,
“এই টাকাটা তুলতে খরচ কত হয়েছে?”
আরমান বুঝলো এখন যদি ও বলে কত টাকা খরচ হয়েছে সেই টাকাটা আরজু ওকে দিতে চাইবে। আবারও জোর পূর্বক হেসে বলল,
“কোন টাকা লাগে নি তুলতে।”
“আপনি আবার মিথ্যে বলছেন। আমি জানি খরচ হয়। তার সাথে এটাও বলুন এই যে আপনি আমার উপকার করলেন তার জন্য কত টাকা নেবেন?”
আরমানের এবারে একটু বিরক্ত লাগলো। আরমান কে দেখে কি মনে হয় এই মেয়ের যে আরমান কোন কিছু পাওয়ার লোভে সাহায্যটা করেছে?
“আপনি বোধহয় আমাকে ভুল ভাবছেন মিস। কোন কিছু পাওয়ার লোভে আমি আপনাকে সাহায্য করিনি। আমি যে পেশায় আছি সেখানে আমার দায়িত্বই জনগণের সেবা করা। সেই কারণেই আমি আপনাকে সাহায্য করছি। ব্যাপারটাকে জটিল করবেন না প্লিজ!”
আরজু কিঞ্চিৎ বিস্মিত গলায় বলল,
“তাই? কোন লাভ ছাড়াও কেউ কারো উপকার করে? সত্যি বলছেন আপনি এমনি আমার উপকার করেছেন নাকি পরে এর বদলে কিছু চাইবেন? দেখুন আগেই বলছি আমি আপনাকে ভোট দিতে পারব না। এমনিতেও আমার ভোট দেওয়ার ইচ্ছে নেই। এসব ভোট দেওয়ার কোনো মানেই হয় না। সেই তো জিতবেন জাল ভোটের মাধ্যমে। তারপরও যদি আমার ইচ্ছে হয় তাহলে আমার ভোটটা মুনতাসির আরেফীন কে দেবো। তাই বলছি আমার থেকে ভোট পাওয়ার আশা রাখবেন না।”
আরমান আলতো হেসে বলল,
“মুনতাসির কে দিলেই হবে। এমনিতেও আমাদের দুজনের পদ আলাদা। আরেকটা কথা, সব পেশাতেই ভালো খারাপ মানুষ থাকে। ঠিক তেমনি রাজনীতিতেও ভালো খারাপ দু ধরনের মানুষই আছে। শুধুমাত্র খারাপদের দেখে বাকি সবাইকে খারাপ বলে বিবেচনা করবেন না কিংবা শুধুমাত্র ভালোদের দেখো বাকি সবাইকে ভালো বলে বিবেচনা করবেন না। আগে যাচাই করবেন মানুষটা কেমন তারপরে বলবেন। যেকোনো সাহায্যের জন্য যখন ইচ্ছে তখন ডাকতে পারেন আমাকে। সর্বদা আপনার সাহায্যে এই বান্দা হাজির থাকবে। আসছি।”
আরমান চলে যেতে ধরলে আরজু পিছন থেকে থামতে বলল। আরমান একটু খুশি হলো থামতে বলায়। ভাবলো হয়তো কৃতজ্ঞতা জানাবে কিংবা আগ বাড়িয়ে আরজু ওর সাথে কথা বলবে। তবে না, তেমন কিছুই হলো না। আরমান পেছন ফিরে তাকাতেই আরজু ওর ব্যাগ হাতরে কিছু খুচরো টাকা বের করল। কয়েকটা দু টাকার নোট, পাঁচ টাকার নোট, এক টাকা-দু টাকার কয়েন মিলিয়ে মোট চল্লিশ টাকা হলো। সেগুলা আরমানের হাতে দিয়ে বলল,
“আমি জানি কত টাকা খরচ হয়েছে টাকাটা তুলতে। শুধু পরীক্ষা করছিলাম যে আপনি বেশি চান কিনা বা মিথ্যে বলেন কিনা। উপকারের বদলে কিছু না নিলেও আপনি আমার হয়ে কোনো টাকা খরচ করবেন সেটা আমি মানতে পারব না। আপাতত চল্লিশ টাকা রাখুন বাকি টাকাটা আমি পরে দিয়ে দেবো। আমার কাছে এখন আর খুচরো নেই।”
আরমান কোন আপত্তি করলো না। হাত বাড়িয়ে টাকাগুলো নিল। আরজু চুপচাপ আরমান কে পাশ কাটিয়ে চলে গেল। আরমান হাতে থাকা টাকাগুলোর দিকে একবার তাকালো। টাকাগুলো বোধহয় ব্যাগের কোন এক কোনায় পড়েছিল। নোটগুলো কেমন মুচরে আছে। কয়েন গুলোর যদিও কোন ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই তাই হয়নি। আরমান সেগুলো স্বযত্নে পাঞ্জাবির পকেটে রেখে দিল। এতক্ষণ আরজুর কঠিন কঠিন প্রশ্নে ঘেমে গেছে। সাদা পাঞ্জাবিটা একদম ভিজে উঠেছে। তবে এখন একটু আরাম লাগছে। মেয়েটা দিন দিন যেন ওর প্রতি আরমানের কৌতুহল আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতটাই কৌতুহল বাড়িয়ে দিচ্ছে যে আরমানের এখন প্রতিনিয়ত মেয়েটাকে জানতে ইচ্ছে করছে। আরো গভীরভাবে জানতে ইচ্ছে করছে মেয়েটার এতো গম্ভীর আচরণের কারণ। সাথে ইচ্ছে করছে মেয়েটার সব গাম্ভীর্যতা শেষ করে দিতে। একটু ওর হাসির কারণ হয়ে উঠতে।
__________
“আরো কত সময় লাগবে প্রার্থনা কে তৈরি করতে তোমাদের? এত সাজগোজ করানোর কি আছে? এ বাড়ি থেকে তো ও বাড়িতেই যাবে।”
নাসিমার কথা শুনে পার্লারের মেয়েটা ব্যস্ত গলায় বলল,
“এই তো ম্যাম হয়ে এসেছে। শুধু চুলটা বাঁধা বাকি আছে।”
নাসিমা গম্ভীর গলায় বললেন,
“চুলের সাথে অতো কিছু করতে হবে না। ওকে এমনি সুন্দর লাগে দেখতে। আর এত সাজাতে হবে না, যা সাজিয়েছো এতটুকুই যথেষ্ট।”
মেয়েটা বোধহয় একটু অবাকই হলো। বিয়ের কনে কে সাজাতে একটু তো সময় লাগবেই তাই না? একেই তো শুরু থেকেই বলছে যেন অল্প সাজায় সে কারণে তো ঠিকঠাকভাবে সাজাতেই পারেনি এখন আবার বলছে চুলটাও না বাঁধতে। এটা কে কি বিয়ে বলে?
ওদের কথাবার্তার মাঝে ঘরে ফিরোজ এলো। নাসিমা কে উদ্দেশ্য করে গম্ভীর গলায় বলল,
“কি হলো চাচি কতদূর?”
“এইতো হয়ে এসেছে।”
মেয়েটাকে দেখতে ভয়ংকর সুন্দর লাগছে। আরজুর বোন হওয়ায় দুই বোনের চেহারায় অনেক মিল। বলতে গেলে প্রার্থনা আরজুর থেকে আরো বেশি সুন্দর। টকটকে ফর্সা গায়ের রং, গোল গাল মুখটা একদম নিঁখুত হাতে আঁকানো ছবির মতন। সরু নাকের ওপর একটা ছোট্ট কালো তিল। ঘন চোখের পাপড়ি। মেয়েটা খুব সুন্দর দেখতে। আর এই সৌন্দর্যই বোধহয় প্রার্থনার জীবনের সব থেকে বড় শত্রু। না এই সৌন্দর্য থাকতো, না আজ ফাহাদ প্রার্থনার প্রতি আকৃষ্ট হতো। ফিরোজ প্রার্থনার দিকে দৃষ্টি তাক করে আবার সরিয়ে আনলো। যতই হোক বড় ভাইয়ের বউ হবে বলে কথা। প্রার্থনার উপর অন্তত এই দৃষ্টি দেওয়া ঠিক হবে না।
“তাড়াতাড়ি বাইরে নিয়ে এসো ওকে। দেখো আবার ছোট মেয়ের মতন যেন তোমার বড় মেয়েও না পালায়।”
পার্লারের মেয়েটা বুঝলো প্রার্থনা কে আর ওর সাজানো হবে না। তাই ওর এখানে থেকেও লাভ নেই। নাসিমা কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“ম্যাম আমার পেমেন্টটা যদি করে দিতেন তাহলে আমি এবার যেতাম। আরেক জায়গায় যেতে হবে।”
রুমে যে আরো একজন উপস্থিত আছে সেটা ফিরোজ এতক্ষণ খেয়াল করেনি। এবারে চোখ পড়লো মেয়েটার ওপর। মেয়েটার দিকে তাকাতেই ফিরোজের ভেতরে থাকা পশু সত্তাটা বের হয়ে আসতে চাইলো। ফিরোজের দৃষ্টির মানে বুঝতে পেরে মেয়েটা অস্বস্তি তে পড়লো। ওড়নার সাহায্যে নিজেকে আরও একটু আবৃত করার চেষ্টা করলো। ফিরোজের সেই দৃষ্টি নাসিমার চোখও এড়ালো না। তাড়াহুড়ো করে মেয়েটাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“তুমি আমার সাথে এসো। আমি তোমাকে টাকা দিচ্ছি।”
কথাটা বলে নাসিমা আগে চলে গেলে মেয়েটা ওর জিনিসপত্র নিয়ে গুটি গুটি পায়ে ওনার পিছন পিছন গেল। আপাতত ফিরোজ মাথা থেকে মেয়েটার কথা ঝেড়ে ফেলল। যদি খুব বেশি প্রয়োজন পড়ে তাহলে নাহয় পরে ওকে খুঁজে নেওয়া যাবে। ফিরোজের এলাকাতেই তো থাকে বাইরে আর পালিয়ে যাবে কোথায়? চেয়ারে চুপ করে বসে আছে প্রার্থনা। অল্প সাজলেও খুব সুন্দর লাগছে মেয়েটা কে। আজ প্রার্থনার বিয়ে তবে ওর প্রিয় মানুষের সাথে না। বরং খুব জঘন্য একজন মানুষের সাথে যাকে দেখলেই থুতু ফেলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু প্রার্থনার কিছু করার নেই। ওকে বিয়েটা করতেই হবে।
ফিরোজ এগিয়ে গেল প্রার্থনার দিকে। প্রার্থনার কপালে পড়ে থাকা চুলগুলো হাতের আঙুলের সাহায্যে কানের পিঠা গুঁজে দিল। ফিরোজের নোংরা ছোঁয়ায় প্রার্থনা চট করে উঠে দাঁড়ালো। ফিরোজের থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে বলল,
“কি করছো? বেরিয়ে যাও আমার ঘর থেকে।”
ফিরোজ প্রার্থনার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,
“আমি জানি তুই এই বিয়েটা করতে চাস না তাইতো?”
“আমার উত্তর শুনেই বা কি করবে? সেসবের তো কোন মূল্য নেই তোমাদের কাছে।”
“জানিস প্রার্থনা তোকে একমাত্র বাঁচাতে পারলে আমিই পারবো। তোর জন্য আমার বড্ড মায়া হচ্ছে। সত্যিই তো আমার বুড়ো ভাইকে বিয়ে করা অত সহজ না। তুই চাইলে আমি তোকে বাঁচাবো। তোর ওই প্রেমিক আছে না যে তোকে আমার ভয়ে ছেড়ে চলে গেছিল? ছেলেটা কিন্তু বেশ ভালো। তোকে ভালোও বাসে। তবে আমার ভয়ে টিকতে পারেনি রে। আমি ওর সাথে তোর বিয়ে দিয়ে দেব। তাহলে তো তুই খুব খুশি হবি তাই না?”
প্রার্থনা খুশি হতে চেয়েও হতে পারলো না। কেননা ফিরোজ স্বার্থপর। নিজের স্বার্থ ছাড়া তো কখনো কিছু করবে না। সেখানে আজ কোন কিছু প্রার্থনার থেকে না নিয়ে বিয়েটা ভেঙে দেবে কখনো হতে পারে? নিশ্চয়ই এর পেছনে বড় কোন উদ্দেশ্য আছে। তবে একটা বিষয় আজ নিশ্চিত হলো যে প্রার্থনার ভালোবাসা মিথ্যে ছিল না। ফিরোজের মুখ থেকে সাহিত্যর ব্যাপারে শুনে খুব একটা অবাক হয়নি। কেননা অনেকটা তো আন্দাজ করেই নিয়েছিলো এই ব্যাপারে, আজ শুধু নিশ্চিত হলো।
“কেন করেছিলে আমার সাথে এমন একটা নোংরা কাজ? আমি কি ক্ষতি করেছিলাম তোমাদের যে আমার নামে এত বড় একটা অপবাদ বের করলে?”
“আমার ভাইয়ের যে বুড়ো বয়সে ভীমরতি ধরেছিলো কচি মেয়ে বিয়ে করার। তুই নজরে পড়ে গিয়েছিলি। ভাই হয়ে নিজের ভাইয়ের আবদার রাখবো না? সামান্য একটা মেয়েই তো উপহার চেয়েছিল আমার থেকে দেবো না তা কি করে হয়? তবে হ্যাঁ তুই যদি এখন আমায় সাহায্য করিস তবে আমি এই বিয়েটা ভেঙে দিয়ে সাহিত্যর সাথে তোর বিয়েটা দিয়ে দেব।”
প্রার্থনা সন্দেহী গলায় বলল,
“সত্যি বলছো নাকি মজা করছো? আমার অনুভূতি নিয়ে খেলছো তাই না?”
ফিরোজ হো হো করে হেসে উঠে বলল,
“মজাও করছি না, তোর অনুভূতি নিয়ে খেলছিও না। সাহায্য করবো তোকে। সত্যি বলছি তোকে সাহায্য করবো কিন্তু বিনিময়ে তোকে আমার একটা উপকার করতে হবে?”
“কি উপকার?”
“আরজুর ঠিকানা বলতে হবে আমায়। তুই শুধু আমায় ওর ঠিকানাটা বলবি তারপরে যদি ও মাটির নিচেও লুকিয়ে থাকে সেখান থেকে আমি ওকে টেনে বের করে আনবো। দেখ প্রার্থনা তুই শুধু আমায় ঠিকানা বলার বদলে আমি এই বিয়েটা ভেঙে দেবো, সেই সাথে তোর সাহিত্যকে খুঁজে এনে ওর সাথে তোর বিয়েটা দিয়ে দেবো। আমি এক কথার মানুষ। একবার যখন বলেছি সাহায্য করবো তার মানে করবোই। তুই শুধু আরজুর ঠিকানা বলবি আমায়।”
এতক্ষণে প্রার্থনা বুঝতে পারল হঠাৎ করে ফিরোজের সাহায্য করার কারণ। তবে প্রার্থনা তো বলবে না আরজু কোথায়। ও ম’রে গেলেও কোনদিন আরজুর ঠিকানা বলবে না। ওর জীবনটা তো শেষ হয়ে গেছে, এমনিতেও প্রার্থনার বাঁচার ইচ্ছে নেই। তবে প্রার্থনা জানে আরজু বাঁচতে চায়। নিজের মতন করে প্রাণ খুলে বাঁচতে চায়। নিজের বোনের জীবনটা প্রার্থনা কোনমতেই নিজের সুখের বিনিময়ে ধ্বংস করতে পারবে না। তবে ফিরােজকে বুঝতে দিলেও চলবে না আরজু কোথায় আছে সেসব প্রার্থনা জানে।
“বিশ্বাস করো আমি জানিনা আরু কোথায় থাকে। ও আমাকে বলে যায়নি। তোমরা যতটুকু জানো আমিও ঠিক ততটুকুই জানি।”
ফিরােজ হাসলো। হাসিটা স্বাভাবিক হলেও প্রার্থনার কেমন যেন ভয় হলো।
“আবার মিথ্যে! আবার মিথ্যে! প্রার্থনা তুই দিন দিন কেমন যেন আরজুর মতো সাহসী হয়ে যাচ্ছিস। ভয় পাস না আর আমায় দেখে না? আমার চোখে চোখ রেখে মিথ্যেটা বলতে কি বুকটা কাঁপলো না তোর?”
“আমি বললাম তো আমি জানিনা আরু কোথায় থাকে।”
ফিরোজ এগিয়ে গিয়ে প্রার্থনার চুলের মুঠি খামচে ধরল। প্রার্থনা ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠলো তবে ফিরোজের সেসবে কোন খেয়াল নেই। দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলল,
“শুধু ভাইয়ের বউ জন্য বেঁচে গেলি। নাহলে বিশ্বাস কর এখন তোর এমন অবস্থা করতাম যে তুই ফিরোজকে দেখে এরপর থেকে কাঁপতি। আমাকে আমার আরজু কে পাওয়ার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ানোর জন্য তোর শরীর থেকে আমি মাংস খুবলে খেতাম। শুধু একটা কারণে বেঁচে গেলি। তুই আমার ভাইয়ের বউ।”
প্রার্থনা ক্রন্দনরত স্বরে বলল,
“ছাড়ো। মানুষ তো তুমি। একটুও কি অন্যের ব্যথায় কষ্ট হয় না? আমি তো তোমার বোন।”
“চুপ কর শা’লী। তবে একটা কথা মনে রাখিস প্রার্থনা, তোকে দিয়েই আমি আরজু কে বের করব। আমি জানি একবার যদি আরজুর কানে যায় যে আমি ওর আপার গায়ে হাত তুলেছি ও ঠিক নিজ থেকে ধরা দেবে।”
ওদের কথাবার্তার মাঝে রুমে একটা অল্প বয়সী মেয়ে প্রবেশ করল। বয়স এই চৌদ্দ-পনেরো হবে। ফিরোজ কে প্রার্থনার চুলের মুঠি ধরে থাকতে দেখে আঁৎকে উঠলো। তাড়াহুড়ো করে এগিয়ে এসে ফিরোজের থেকে প্রার্থনা কে ছাড়ানোর চেষ্টা করল। অনুরোধের স্বরে বলল,
“চাচ্চু ছাড়ো। লাগছে তো প্রার্থনা ফুপির। ছাড়ো বলছি।”
ফিরোজ বাধ্য হলো ছেড়ে দিতে। ফিরোজ ছাড়তেই ফারিহা প্রার্থনা কে আড়াল করে দাঁড়িয়ে রাগান্বিত গলায় বলল,
“গায়ে হাত তুলছিলে কেন তুমি ফুপির? তোমাদেরকে বারবার করে বলেছি বাইরে যা ইচ্ছে করো কিন্তু ঘরের মানুষদের সাথে এসব আচরণ করবে না।”
ফিরোজ কিছু বলল না। নিজের ভাইয়ের এই মেয়েটার উপরে ফিরোজের দুর্বলতা অনেক। ফিরোজের মতে আরজুর পরে যদি কোন মেয়ের জন্য ওর দুর্বলতা থেকে থাকে তবে সেটাই ফারিহা। বড্ড আদর করে মেয়েটাকে। যদিও ফারিহার সেসব একদমই পছন্দ না।
ফিরোজের থেকে কোন উত্তর না পেয়ে ফারিহা পুনরায় ঝাঁঝালো গলায় বলল,
“চুপ করে আছো কেন? বলো কেন মা’রছিলে প্রার্থনা ফুপিকে?”
“ও তুমি বুঝবে না আম্মা। বড়দের কথার মাঝে ছোটদের থাকতে নেই।”
“তাহলে তোমরা বড়রা আমাদের ছোটদের সামনে এমন সব কাজ করো কেন যার জন্য আমাদের তোমাদের বড়দের কথার মাঝে ঢুকতে হয়? তোমরা এতটা খারাপ কেন বলতে পারো আমায়? তুমি জানো স্কুলে আমার ফ্রেন্ডরা কত খারাপ খারাপ কথা বলে তোমাদের নিয়ে? বাবাকে নিয়ে কত খারাপ খারাপ কথা বলে? জানো সবাই নিজের বাবা, চাচ্চুদের নিয়ে কত ভালো ভালো কথা বলে কিন্তু ওরা যখন আমার বাবা চাচ্চু কে খারাপ কথা বলে আমি কোন প্রতিবাদ করতে পারি না। কেননা আমি নিজেও খুব ভালো করে জানি তোমরা কেমন।”
রাগে ফিরোজের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করে নিজের রাগটুকু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করল। ঠান্ডা কন্ঠে ফারিহা কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“কে খারাপ কথা বলে তোমায়? কার এত বড় সাহস যে ফিরোজের আম্মা কে অপমান করে? একবার শুধু বলো আম্মা সবকটার মুখ বন্ধ করে দেবো।”
“চুপ করো চাচ্চু। তোমরা কেন বোঝোনা তোমাদের নিয়ে এসব কথা শুনতে আমার খুব খারাপ লাগে? কতজনের মুখ বন্ধ করবে তোমরা? এই পুরো এলাকার মানুষ জানে যে আমার বাবা আর চাচ্চু খারাপ লোক। তোমরা বোঝোনা আমার খারাপ লাগে এসবে?”
ফিরোজ ফারিহার মাথায় হাত রেখে বলল,
“কষ্ট পেওনা আম্মা। আজ তোমার বাবা-চাচ্চুর ক্ষমতা আছে জন্যে লোকে খারাপ বলে, এক সময় যখন ক্ষমতা ছিল না তখনও খারাপ বলেছে। তাহলে যখন সব অবস্থাতেই মানুষ খারাপ বলবে তাহলে ক্ষমতা ছাড়বো কেন? বরং তুমি দেখো এই ক্ষমতার জন্যই তোমার সাথে কেউ কোন অন্যায় করতে পারবে না। একদিন এই ক্ষমতা ছিল না বলেই অনেক অন্যায় হয়েছে আমাদের সাথে। এখন সেই ক্ষমতার জোরেই কারো সাহস নেই যে ফিরোজের চোখে চোখ রেখে কথা বলবে।”
“ছেড়ে দাও না এসব চাচ্চু।”
ফিরোজ হাসলো। ফারিহার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে সেখান থেকে চলে গেল। আশাহত হলো ছোট মেয়েটা। অনেক চেষ্টা করেছে নিজের বাবা আর চাচ্চু কে খারাপ পথ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য কিন্তু পারেনি।
প্রার্থনা ফারিহা কে কাছে টেনে নিয়ে আদুরে গলায় বলল,
“কাদেরকে এসব কথা বলছিস মা? ওরা বুঝবে না। ওরা নিজেদের মনুষ্যত্ব অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছে।”