তুমি থাকো সিন্ধুপারে

পর্ব - ১১

🟢

সন্ধ্যা হবার খানিকটা পরেই শাফায়াতের কল পেল রুমু। একফোঁটাও বিচলিত না হয়ে রিসিভ করে কানে নিতেই শুনল শাফায়াতের আত্মম্ভরি আস্ফালন,

"এত বাড় বেড়ে যাওয়া খুব খারাপ। কী মনে করেছ, আমি গিয়ে হাতে পায়ে ধরে তোমাকে নিয়ে আসব? তোমাকে বলেছিলাম আজকের মধ্যে না আসলে আর আসতে হবে না। তুমি আসনি, এর পরিণাম তুমি চিন্তাও করতে পারবে না।"

কথাগুলো রুমুর মনে আজ কোনোরকম ছাপ ফেলতে পারল না, বরং আশ্চর্য শীতল গলায় বলল,

"তোমার হুমকি ধামকি দেয়া শেষ? যা খুশি করতে পার, চাইলে ডিভোর্সও দিয়ে দিতে পার। আমার এখন আর এসবে কিছু যায় আসে না। তোমার জীবনে আমার অস্তিত্ব ছিটেফোঁটাও যে নেই, সে আমি খুব ভালো করে জানি। এতটা আশা করার মতো বোকামি এখন অন্তত আমি করব না।"

শাফায়াতের কিছুক্ষণ সময় লাগল হতচকিত ভাবটা কাটাতে, এমনটা ও আশা করেনি। রুমুর এই দু'দিনের পরিবর্তিত আচরণ কেন যেন মেনে নিতে পারছে না, রাগে ফুঁসে উঠল শাফায়াত,

"হুহ্! এখন তো এগুলা বলবেই, তা নতুন কাউকে পেয়ে গেছ নিশ্চয়ই, যার জন্য ডিভোর্সের জন্য পাগল হয়ে গেছ। শোন, আমার মতো হাজব্যান্ড পেয়েছ বলে তোমার শুকরিয়া করা উচিত ছিল। তোমার সাথে তোমার পরিবারেরও সাত কপালের ভাগ্য এটা। তোমার বোনের নোংরা ঘটনা জেনেও তোমাকে বিয়ে করেছিলাম। এমন ভালো ছেলে, ভালো ফ্যামিলি কপালে জুটেছে তোমার। আর কী চাও? অকৃতজ্ঞ!"

এসব নোংরা কথা শুনে রুমুর কান গরম হয়ে গেল, এমন নীচ মানসিকতার একটা লোককে কী করে ভালোবেসেছিল ভাবতেই নিজের উপরেই ফুঁসে উঠল ভেতরে ভেতরে, ঘৃণাও হলো বোধহয়! কিন্তু তবু্ও মাথা ঠান্ডা রাখল, 'রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন' নীতিতে চলার সিদ্ধান্ত নিল। আজ কিছুতেই মাথা গরম করবে না, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, এবার সামনে যাবে শুধু। নিজের ভুলটা শুধরে নেবে।

"নার্সিসাস ফুলের নাম শুনেছ নিশ্চয়ই?"

এমন পারদ চড়া রাগের মুহূর্তে এই অপ্রাসঙ্গিক কথায় কিছুটা থমকে গেল শাফায়াত।

"কী ফুল?"

"নার্সিসাস। আচ্ছা, চল তোমাকে একটা গল্প শোনাই। গল্প বলতে প্রাচীন গ্রীক মিথলজির বহুল প্রচলিত একটা কাহিনী।"

"তোমার মাথা ঠিক আছে তো রুমু? এখন গল্প বলার চিন্তা তোমার মাথায় এলো কীভাবে?" হতভম্ব শাফায়াতের প্রশ্ন।

"আরে, শোনই না! মনে কর এটাই আমার শেষ অনুরোধ।" রুমুর ঠান্ডা গলা।

শাফায়াত সহসা উত্তর দিতে পারল না, নীরবতা সম্মতির লক্ষ্মণ ধরে নিয়ে বলা শুরু করল রুমু,

"গ্রীক পুরাণ অনুসারে নদী দেবতা সিফিসাস আর জলপরী লিরিউপির পুত্র হলো নার্সিসাস নামের অপূর্ব সুদর্শন এক যুবক। জন্মের কিছুদিন পরেই মা, ছেলের আয়ুস্কাল সম্পর্কে জানতে অন্ধ ভবিষ্যৎ বক্তা টাইরেসিয়াসের দ্বারস্থ হলে তিনি জানান, এই ছেলে দীর্ঘায়ু পাবে যদি কোনোদিন নিজেকে না দেখে।"

রুমুকে থামিয়ে দিয়ে শাফায়াত হিসহিসিয়ে বলে উঠল, "এসব আজগুবি গল্প আমাকে কেন শোনাচ্ছ?"

"আগে আমাকে শেষ করতে দাও প্লিজ। এরপর তুমি নিজেই উত্তর পেয়ে যাবে কেন বলছি!"

একটা বড় করে শ্বাস টেনে আবার বলা শুরু করল রুমু,

"নার্সিসাস নিজেকে না দেখলেও চারপাশে এতো মানুষের প্রেম নিবেদনে নিজের মধ্যে অত্যন্ত দাম্ভিকতা আর অহংকার আসন গেড়ে বসে। মানুষ এমনকি পরীরা পর্যন্ত তার প্রেমে পড়ত, এতটাই মোহিত করা রূপ ছিল। নিজের রূপের প্রশংসা শুনতে শুনতে এতটাই অহংকারী হয়ে গিয়েছিল যে, মনে করত তার সমকক্ষ এমনকি ধারে পাশেও কেউ নেই। তাই যারা প্রেম নিবেদন করত সবাই প্রত্যাখ্যাত হত অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে!

এভাবেই চলছিল সব। নার্সিসাস শিকারে যেত বনে। সেখানে থাকা বনপরী 'ইকো'ও পড়ল সেই প্রেমে। দুর্ভাগ্যক্রমে ইকো কথা বলতে পারত না, জিউসের স্ত্রী হেরা দেবীর অভিশাপে। শুধু অন্যের কথার প্রতিধ্বনি ফিরিয়ে দিতে পারত। অপ্সরী ইকো অপেক্ষায় থাকত নার্সিসাসের। যখন আসত সে পিছুপিছু ঘুরত, কিন্তু বেচারি কথা বলতে পারত না বলে ডাকতে পারত না। তো এভাবেই একদিন সুযোগ নিজে থেকেই এলো।"

এটুকু বলেই থামল রুমু।

বারান্দায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিল, রুমে উঁকি দিয়ে দেখল, তামিমকে যেভাবে পড়ার টেবিলে বসিয়ে রেখে এসেছে, এখনো সেভাবেই পড়ছে। ছেলেটা এতটা লক্ষী আর শান্ত! নাঈমটা আবার ভীষণ দস্যি হয়েছে।

ওদিকে শাফায়াত ওপ্রান্ত থেকে প্রশ্ন করল, "তারপর? প্রেম নিবেদন করেছিল ইকো?"

"হ্যাঁ, আর এতেই বেচারি ইকোকে বরণ করে নিতে হয়েছিল জীবনের সবথেকে বড় দূর্ভাগ্যকে!"

ক্ষণেক থেমে আবারও শুরু করল,

"একদিন নার্সিসাস আবারও শিকারে গেল সেই জঙ্গলে, যেমনটা প্রায়ই যেত। কিছুটা ভেতরে যাবার পর সে ডেকে উঠল, 'কেউ এখানে আছে?' ইকোও প্রতিধ্বনি ফিরিয়ে দিল, 'আছে, আছে...'। গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ইকোকে ডাকল, 'এসো', ইকোও উচ্ছ্বসিত হয়ে জবাব দিল, 'এসো..' এরপর বেরিয়ে এলো, ভীষণ খুশি উপচে পড়ছিল, স্বয়ং নার্সিসাস ডেকেছে, এখন কী করে লুকিয়ে থাকে! দু-হাত বাড়িয়ে দিল নার্সিসাসের দিকে প্রগাঢ় আহবানে! কিন্তু নার্সিসাস মুখ ফিরিয়ে নিল ঘৃণায়। ইকোকে ফিরিয়ে দিল প্রবল অপমানে। লজ্জায়, অপমানে নিজেকে লুকানোর জন্য আশ্রয় নিল এক পাহাড়ের গুহায়। শোকে, অপমানে একসময় সেখানেই প্রাণত্যাগ করে ইকো। কিন্তু ওর প্রতিধ্বনি থেকে যায় সেই গহীন অরণ্যে।"

"নার্সিসাসের কী হলো তারপর?"

"হুম, বলছি। শুধু ইকো নয়, অসংখ্য পরী চরম অপমানিত হয়েছিল নার্সিসাসের কাছে। এই প্রত্যাখ্যাতদের মধ্যেই একজন প্রতিশোধের দেবী নেমেসিসের কাছে প্রার্থনা করে বসল, নার্সিসাস যেন প্রেমে পড়ে কিন্তু কখনোই ভালোবাসা না পায়।

নেমেসিসের সাড়া পাওয়া গেল তাতে, আর নির্ধারিত হলো নার্সিসাসের ভাগ্য!"

"প্রেমে পড়ল নার্সিসাস?"

"পড়ল, একেবারে গভীর প্রেমে। কিন্তু নিজের প্রেমেই পড়ল।"

"মানে?" শাফায়াতের গলায় কিছুটা বিস্ময়।

"একদিন ভীষণ গরমে নার্সিসাস এক জলাশয়ে গেল তেষ্টা মেটাতে। কিন্তু জলাশয়ের পানিতে অপূর্ব সুন্দর এক জলদেবতাকে দেখে প্রেমে পড়ে গেল। কিন্তু বুঝতে পারল না যে সেটা তার নিজেরই প্রতিবিম্ব মাত্র।"

"ইন্টারেস্টিং!" কিছুটা কৌতূহলী মনে হলো শাফায়তকে।

"তা তো বটেই। নার্সিসাস হাত বাড়িয়ে ধরতে গেল তাকে, কিন্তু পানিতে হাত লাগতেই পানির অনুরননে প্রতিবিম্ব হারিয়ে গেল। নার্সিসাস ভীষণ উতলা হয়ে গেল। কেন চলে গেল ভেবে বিচলিত হলো। কিন্তু পানি স্থির হতেই সে আবার ফিরে এলো। পরপর কয়েকবার একই প্রক্রিয়া চলল, আর সে উৎকণ্ঠিত হলো বারবার, ভয়ও পেলো ভালোবাসা যদি হারিয়ে যায়! এই আশঙ্কায় সেই জলাশয়ের পানিতে নিজেরই প্রতিবিম্বে তাকিয়ে থাকত সারাক্ষণ। কোনোদিন যদি ওপ্রান্তের সাড়া মেলে এই আশায় সেখানেই আসন গেড়ে বসল! কেউ ওকে সরাতে পারল না সেখান থেকে। এমনকি ওর কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত পরীরাও অনুরোধ করল সেখান থেকে চলে যেতে। কিন্তু প্রেমান্ধ যুবক বসে রইল নিজেরই ছায়া আঁকড়ে! একসময় না পাবার যন্ত্রণা তীব্র হাহাকারে রূপ নিল। ওর হাহাকারের জবাবে ইকোর সেই প্রতিধ্বনি ফিরে আসত। নার্সিসাস মনে করত ওকে উপহাস করছে। ভালোবাসা না পাওয়ার তীব্র হতাশা নিয়ে আর খাওয়া নাওয়া বাদ দিয়েছিল বলে সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যেতে লাগল। শরীর শুকিয়ে যেতে যেতে জীর্ণ শীর্ণ হয়ে সেই জলাশয়ের ধারেই মারা গেল নার্সিসাস। গ্রীক মিথলজি অনুসারে নার্সিসাসের দেহ সেখানকার মাটিতে মিশে গিয়েই 'নার্সিসাস' নামের ফুল গাছের জন্ম।"

একটানা এতগুলা কথা বলে হাঁপিয়ে উঠেছে রুমু। তবুও শাফায়ত কিছু বলার আগেই ও নিজেই বলল,

"এখান থেকেই 'নার্সিসিজম' শব্দটা এসেছে। আত্মপ্রেম যাকে বলে। এটা একধরনের পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার।"

এবার শাফায়াত বুঝতে পারে রুমুর এই কাহিনী ওকে শোনানোর উদ্দেশ্য, কারণ এই টার্মটা ও জানে। কিন্তু প্রতিক্রিয়া দেখানোর সুযোগ পায় না, রুমু যেন আজ কথার পশরা সাজিয়ে বসেছে। ওকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে হড়বড়িয়ে পরের কথায় চলে গেল,

"এরা মনে করে নিজেই শ্রেষ্ঠতর, বাকিরা তুচ্ছ, নগন্য! তুমি কী জানো যে তুমি ভয়ংকর ভাবে এই ডিসঅর্ডারে ভুগছ?" শেষের কথাটা শ্লেষের সাথে বলল রুমু।

তীব্র রাগে স্তব্ধ হয়ে গেল শাফায়াত। ক্ষণকাল মুখে কোনো কথা যোগাল না।

"তুমি পাগল হয়ে গেছ, রুমু। তুমি জানো না আমি কী করতে পারি।"

"তোমার এসব আস্ফালনের আমি আর বিন্দুমাত্র পরোয়া করি না। বলেছি ই তো। যা খুশি কর।"

"তোমার ছেলেদের কিন্তু আর কোনোদিন দেখতে পারবে না।"

এবার সশব্দে হেসে উঠল রুমু, হাসিটা অপ্রকৃতস্থ মনে হলো শাফায়াতের কাছে। এই রুমুকে ও একেবারেই চেনে না। হাসতে হাসতেই বলল,

"আমি তোমার মতো নই যে নিজের ইচ্ছা অনিচ্ছা অন্যের উপরে চাপিয়ে দেব। ওদের নিজেদের উপরেই এটা ছেড়ে দিলাম। আর ওরা যদি আমার কাছে থাকতে চায়, তুমি ওদেরকে আটকাতে পারবে না। দেশে আইন-আদালত বলে একটা জিনিস আছে।" শেষের কথাগুলো বলল দাঁতে দাঁত চেপে।

কথা শেষ করেই কল কেটে দিল। ওকে দুর্বল করার কী ঘৃণ্য প্রয়াস, সন্তানদের ঘুটি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে লোকটা! ছিঃ! বিষিয়ে এলো সমস্ত হৃদয়!

এতক্ষণ নিজেকে ধরে রাখলেও এবার আর পারল না। সকল বাঁধা সরিয়ে ঠিকই জল গড়িয়ে পড়তে লাগল দুচোখ বেয়ে। একেবারে নিঃশব্দে ভাঙতে লাগল বুকের পাঁজর, যে ভাঙনের শব্দ রুমু ছাড়া আর কেউ কোনোদিন শুনবে না!

***

রায়ান কপালের উপর হাত রেখে শুয়ে ছিল। বাবার সাথে কথা বলার পর থেকেই বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে ভেতরটা, একদম তেঁতো! দুপুরে খাবার সময় উঠে চুপচাপ খেয়ে, ওষুধ খেয়ে সেই যে শুয়েছে, এখনো উঠেনি। সন্ধ্যা পেরিয়েছে সেই কখন! ছাড়া ছাড়া ঘুম হয়েছে, নিরবিচ্ছিন্ন হয়নি। মাথা কিছুটা ভার হয়ে আছে সেজন্য। এরমধ্যেই একটা মৃদু পায়ের শব্দে কিছুটা সচকিত হলো। চোখ খুলে তাকাল, নবনী এসেছে।

একেবারে নিঃসংকোচে কপালে হাত রেখে জিজ্ঞেস করল,

"জ্বরটা নেমে গেছে দেখছি। আপনাকে আদা দিয়ে চা দেই? দেখবেন একেবারে ফুরফুরে লাগবে।"

এমন আন্তরিকতার সাথে হাত রাখল যেন অল্প পরিচিত একজন ছেলের কপালে হাত রাখাটা খুবই সহজ সরল, স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। সেই ছাড়া ছাড়া ঘুমের মাঝেও খেয়াল করেছে আফজাল আঙ্কেল, নবনী আর চামেলি কিছুক্ষণ অন্তরেই ওর খোঁজ নিয়ে গেছে। তাদেরটা রায়ানের চোখে স্বাভাবিক মনে হলেও নবনীর এই আন্তরিকতা ওর কাছে বিষ কাঁটা মনে হচ্ছে। খোঁচা মারছে হৃদপিণ্ড বরাবর! 'করুণা' নাম সেই বিষ কাঁটার!

"হঠাৎ করে আপনি আমার প্রতি এতটা সদয় হলেন কেন জানতে পারি? আপনি তো আমাকে সহ্যই করতে পারেন না। আমাকে দেখলেই আপনার পিত্তি জ্বলে যায়। একটা সামান্য অসুস্থতা সেটা পাল্টে দিল! আশ্চর্য!"

নবনী কিছুটা অবাক হয় এসব কথায়,

"আমি আপনার কথা কিছুই বুঝতে পারছি না, রায়ান।"

মানসিক ধকল তো ছিলই, সাথে এই শারীরিক অসুস্থতার ধকল মিলিয়ে ভীষণ অনিয়ন্ত্রিত বোধ করল পরিশ্রান্ত রায়ান। সব গুলিয়ে ফেলল, মুখে যা আসল তাই বলে গেল হড়হড় করে,

"অনেক করেছেন আমার জন্য। দয়া করে আর কিছু করতে যাবেন না। সিমপ্যাথি দেখাচ্ছেন আমাকে? দয়া, করুণা এসব আমি আর নিতে পারছি না। এসবের বোঝা বইতে বইতে আমি বড্ড ক্লান্ত। আর পারছি না। প্লিজ সেই বোঝা আর বাড়াবেন না। দরকার নেই আপনার এই অযাচিত মায়ার। প্লিজ যান।"

অত্যন্ত কঠোর শোনাল রায়ানের গলা। এই ছেলের মধ্যে যে এতটা কাঠিন্য থাকতে পারে নবনী ভাবতেই পারেনি। কথাগুলো বুঝতে ওর কিছুটা সময় লাগল, মুহূর্তকাল স্থানুবৎ দাঁড়িয়ে রইল, হাসি মিলিয়ে গেছে সেই কখন! সম্বিতে ফিরতেই ছিটকে সরে গেল, দৌড়ে বেরিয়ে গেল। একছুটে নিজের ঘরে গিয়ে ছিটকিনি আটকে দরজাতেই ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। উৎগত অশ্রু আর থামাতে পারল না। সশব্দে কেঁদে উঠল গলা ছেড়ে, কোনোভাবেই দমিয়ে রাখতে পারল না কান্নার শব্দটাকে!

চামেলি তখন ড্রইংরুমেই ছিল, নবনীকে এভাবে ছিটকে বেরিয়ে আসতে দেখে হতভম্ব হয়ে গেল, কান্নার শব্দে প্রবল চিন্তায় গাঢ়তর হলো কপালের ভাঁজ। নবনী ভীষণ শক্ত মনের মেয়ে, ওকে এভাবে কাঁদতে শোনেনি কোনোদিন, এমন বিধ্বস্তও দেখেনি!

টেবিলের উপর থেকে মোবাইলটা তুলে নিয়ে ডায়াল করল বাইরে হাঁটতে যাওয়া আফজাল সাহেবের নাম্বারে।

তুমি থাকো সিন্ধুপারে পর্ব ১১