মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়াটা নবনীর জন্য ভীষণ বাজে ব্যাপার। ওর রাতে ঘুমের সমস্যা হয়, ভয়াবহ সমস্যা! অনেকটা ইনসমনিয়ার মতো আছে ওর। সহজে ঘুম আসে না, আবার ভুল করে কখনো ঘুম চলে আসলেও তা যদি ভেঙ্গে যায়, হাজার অনুরোধ উপরোধেও বেচারা আর ধরা দেয় না। আজকেও ঘুম ভেঙ্গে গেছে, তবে সাধারণ কারণে নয়, আজকের ঘুমটা ভেঙেছে একটা ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন দেখে। সেই রেশ এখনো কাটেনি, বুকের ভেতরে এখনো ভয়টা জেঁকে বসে আছে, থরথর কাঁপছে ভেতরটা, শরীর ঘেমে নেয়ে একাকার।
স্বপ্নটা ছিল, নিকষ আঁধার ক্রমশ ঘিরে ধরছে চারপাশটা, সে আঁধার আস্তে আস্তে গ্রাস করে ফেলছে নবনীকে। বাবাকে আর দেখা যাচ্ছে না, এইতো এখানেই ছিলেন, কোথায় গেল তবে? একটা শক্তিশালী হাতের বেষ্টনীতে আবদ্ধ ওর একটা হাত! হাত ধরে রাখা মানুষটাকে দেখতে পাচ্ছে না ও, কোনোভাবেই না! চোখ ভর্তি অশ্রু নিয়ে কেবলই আকুল হয়ে বাবাকে ডেকে যাচ্ছে,
“বাবা, বাবা...”
ধরমড়িয়ে উঠে বসল, কয়েকদিনের মধ্যে আজ তৃতীয়বার এই গায়ে কাঁটা দেয়া দুঃস্বপ্নটা দেখল ও। আর যথারীতি ঘুমটাও ভেঙে গেল।
বালিশের পাশে রাখা মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখল তিনটা তেইশ বাজে। নবনী জানে এখন সারারাত সাধাসাধি করলেও ঘুমকুমার আর ওর চোখে ভর করবে না। মাথাটা প্রচন্ড ভারী হয়ে আছে আর যন্ত্রনা দিচ্ছে। শুধু শুধু শুয়ে শুয়ে তা আর বাড়াতে ইচ্ছে করল না। উঠে চুলায় কেতলি বসিয়ে রুমে এসে বইয়ের তাক থেকে একটা বই নিয়ে পড়তে শুরু করল, সমরেশ মজুমদারের ‘আট কুঠুরি নয় দরজা’। বইয়ের বিশাল সংগ্রহ নবনীর, কার বই নেই? সেই বঙ্কিমচন্দ্র, রবি ঠাকুর, শরৎচন্দ্র, বিভূতিভূষণ থেকে শুরু করে হুমায়ুন আহমেদ কিংবা জাফর ইকবাল পর্যন্ত। শীর্ষেন্দু, সমরেশ, সুনীল তো আছেই। এছাড়াও ড্যান ব্রাউন, মারিও পুজো, স্টিফেন কিং, আগাথা ক্রিস্টি থেকে নিয়ে জেমস প্যাটারসন পর্যন্ত! এর বাইরেও আছে বিস্তৃত সংগ্রহ। এসব সংগ্রহ বইপ্রেমী মাত্রেরই হিংসাযোগ্য। বই পড়া শুরু করলে দুনিয়া ভুলে পড়তে থাকে কেবল। এই একটা কাজ নবনী ভীষণ আগ্রহ নিয়ে করে। বাবার রুমে উঁকি দিয়ে দেখল বাবা ঘুমিয়ে আছে। বাবা আর বই হচ্ছে ওর সমস্ত দুনিয়া। সেই দুনিয়ায় অন্যকারো প্রবেশাধিকার নেই, একেবারেই নেই! প্রচন্ড চুপচাপ স্বভাবের কারণে সেভাবে করে বন্ধুত্ব হয়নি কারো সাথে। কখনো হয়তো একাকিত্ব ভর করেছে অবচেতনে, কিন্তু সেটা খুব গুরুতর কিছু মনে হয়নি কখনোই। বাবাই জীবনের একমাত্র এবং সর্বোত্তম বন্ধু, সাথে বই তো আছেই। তাই ওর এই একান্ত নিজস্ব জগতে যখন ওর বাবা অনাহুত কাউকে প্রবেশ করাতে চাইতেন ভীষণ রাগ হতো নবনীর। ওর একান্ত নিজস্ব জগতে কাউকে প্রবেশাধিকার দেবার মনোবাঞ্চা একেবারেই নেই, অন্য কারো জগতে প্রবেশ করতেও বড্ড অনীহা ওর। ও যখন বয়স আটেকের, তখনই মা গত হয়েছেন। নবনীর বাবার আর কোনো ভাইবোন ছিল না। ওর দাদুকে ও কখনো দেখেছে কিনা মনে করতে পারে না, দাদীকে হারিয়েছে পনেরো বছর বয়সে । সেই থেকেই এই নিয়েই ওর সমস্ত পৃথিবী।
বইতে বুঁদ হয়ে থাকলে দিন দুনিয়া ভুলে যায়। চায়ের পানি বসিয়ে সেটাও বেমালুম ভুলে বসে আছে। সহসা মনে পড়তেই ছুট লাগাল রান্নাঘরের দিকে। চা নিয়ে রুমে আসার সময় দেখল বাবা জেগে গেছেন। ডাইনিং এর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, হাতে পানিভর্তি গ্লাস। আজ বাবার রুমে পানি দেয়া হয়নি নিশ্চয়ই। প্রতিদিন নবনীই দেয়, আজ কেন যে ভুলে গেল! চামেলীকে সকালে ধমকে দিতে হবে, একটা কাজও ঠিকঠাক করতে পারে না। ও নাহয় ভুলে গেছে, চামেলী তো মনে করতে পারত। ওকে বলেও রেখেছিল নবনী।
“কী রে, এখনো ঘুমাসনি যে?”
পানির গ্লাস টেবিলে রাখতে রাখতে বাবা প্রশ্ন করলেন।
“বাবা, তোমার ঘুম ভেঙ্গে গেছে দেখছি। চা দেবো তোমাকে?”
“দে। চল বারান্দায় বসি। তোর সাথে কিছু কথা ছিল, খুবই জরুরী। কিন্তু ভুলে গিয়েছিলাম, এখন তোকে দেখে মনে পড়ল।”
“বাবা, তুমি যাও, আমি চা নিয়ে আসছি। আর আমি কিন্তু এখন কোন প্রয়োজনীয় কথা শুনব না, আজকে সব হালকা কথা বলব।”
“আচ্ছা, তুই আয়, আমি বসছি। আর কথাটা এখন না বললে স্বস্তি পাব না।”
আজমল সাহেব বিষণ্ণ মনে বারান্দায় চলে গেলেন। তার দুনিয়াটাও শুধু মাত্র তার মেয়েকে ঘিরেই। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর নবনীকে নিয়ে একাই কাটিয়ে দিলেন আধখানা জীবন। তিনি ছাড়া মেয়েটির আর কেউ নেই, যার ভরসায় ওকে রেখে যাবেন! বয়স বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুঃশ্চিন্তা! মেয়েটা সারাজীবন একা কীভাবে থাকবে? তাঁর সাথে নবনী ছিল, কিন্তু নবনী? একেবারেই একা! মানুষ কখনোই তার দীর্ঘ জীবন একা কাটাতে পারে না, কখনো না কখনো ভীষণ একাকিত্ব এসে ভর করবেই, বড্ড শুন্য শুন্য লাগবে, এতটা শূন্যতা ঘিরে ধরবে যে, দম আটকে আসবে! কিন্তু নবনীকে কিছুতেই এটা বোঝাতে পারেন না। এতবছরেও ভরসা করার মতো কাউকে খুঁজে পায়নি নবনী, এটাই উনার চিন্তার অন্যতম কারন। এই বয়সী কত মেয়েই তো সুখে ঘরকন্না করছে, নয়তো চুটিয়ে প্রেম করছে। এরকম সন্ন্যাস ব্রত আঁকড়ে কেই বা বসে থাকে কবে! তারপরও হাল ছাড়েননি আফজাল সাহেব। সঠিক জীবনসখা ঠিকই খুঁজে পাবে অতি চমৎকার এই মেয়েটি, এই এখন উনার একমাত্র দোয়া!
মাঝে মাঝে মনে হয় এই মেয়েটি পৃথিবীর সব টুকু গাম্ভীর্য নিজের মধ্যে ধারণ করে বসে আছে। মেয়েকে কিঞ্চিৎ ভয়ও পান। কয়েকবার বিয়ের কথা বলায় কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিল নবনী। তাই এখন আর কোনোভাবেই নবনীকে এই প্রসঙ্গে কিছু বলার মতো সাহস করে উঠতে পারেন না। তবুও যোগ্য হাত পেলে এবার যেভাবেই হোক মেয়েকে বিয়ে দেবেনই। বিবাগী হতে চাইলেই মেনে নিতে হবে নাকি! মনে মনে পণ করে ফেললেন, এবার যাই হোক এসপার ওসপার কিছু করেই ফেলবেন। এইসব ভেবে তিনি যখন গভীর চিন্তায় মগ্ন, তখনই চায়ের কাপ হাতে এসে দাঁড়াল নবনী।
বিশাল তেতলা বাড়ির তৃতীয় তলায় বাবা-মেয়ের বাস। দোতলাটা ভাড়া দেয়া হয়েছে। বাড়িটা কিছুটা পুরনো ধাঁচের, প্রধান ফটক পেরুতেই চোখে পড়ে হরেক রকমের ফুল গাছ, ফলের গাছ থেকে শুরু করে ঔষধি গাছ পর্যন্ত। এর বেশিরভাগই নবনীর মা অবনীর হাতের। ছাদেও আছে হরেকরকম গাছের সমাহার। ডেভলপারের বাড়ি ভেঙে ফ্ল্যাটবাড়ী তৈরি করে দেবার লোভনীয় অফার কিছুতেই কানে তোলেননি আফজাল সাহেব। বাবা-মায়ের রেখে যাওয়া আর স্ত্রীর হাতে সাজানো বাড়িতে এক অদ্ভুত প্রশান্তি খোঁজে পান। মাঝে মাঝেই ভীষণ নস্টালজিক হয়ে যান, অদ্ভুত ভাবালুতা পেয়ে বসে! শৈশব, কৈশোর, ভালোবাসায় পরিপূর্ণ যৌবন আর মেয়েকে নিয়ে পরিণত সময়টা এখানেই তো কাটিয়েছেন! শেষটা নাহয় এখানেই হোক!
“কী এত ভাবছ বলতো? সেই কখন থেকে ডাকছি!”
মেয়ের ডাকে সম্বিৎ ফিরে পেলেন, পাল্টা প্রশ্ন ছুড়লেন,
“আরে, তোর চা বানানো শেষ?”
“সেই কখন!” কিছুটা টেনে টেনে উত্তর দিল নবনী!
চেয়ার টেনে বাবার পাশে বসল ও। বাইরে থেকে ফুলের মৌ-মৌ সুবাস আসছে, বেলী, হাসনাহেনা, কাঁঠালচাঁপার গন্ধে মাতোয়ারা চারপাশ, সাথে হুহু দখিণা বাতাস, সবটা মিলিয়ে এক অদ্ভুত সুন্দর মধ্যরাত!
“বলো, কী এমন জরুরী কথা যা এই রাত-দুপুরে মনে হলো তোমার?” বাবার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে প্রশ্ন করল নবনী।
কিছুটা সংকোচ নিয়ে বাবা বললেন, “তোর আশরাফ আংকেলকে তো চিনিস?”
“হ্যাঁ, আমেরিকায় থাকেন তো? কী হয়েছে উনার?”
“ওর কিছু হয়নি, ওর ছেলে রায়ান কয়েকমাসের জন্য বাংলাদেশে আসছে!”
“তো?”
“আসলে এখানে ওদের তেমন কেউ নেই, আর আমার বাসা থাকতে শুধু শুধু হোটেলে উঠবে ব্যাপারটা আমার কাছে ভালো লাগেনি। আমি বলেছি এই বাসায় এসে থাকতে।”
সংকোচ নিয়েই আসল কথাটা পাড়লেন আফজাল সাহেব। কোথায় মেয়ে উনাকে ভয় পাবে তা না, উল্টো উনিই কিনা মেয়েকে ভয় পাচ্ছেন! উল্টো ধারা বুঝি একেই বলে!
“কিন্তু আমাদের এখানে তো কোনো ঘর ফাঁকা নেই।”
“কেন? গেস্টরুম ফাঁকা আছে, না থাক, ওটা বাদ দে। ওটা একটু ছোট। লাইব্রেরি ঘরের পাশের রুমটাই তো খালি। এতদিন থাকবে, হোটেলে এতদিন থাকা যায় নাকি! আর গেস্টরুমটাও তো একেবারে ঘুপচি! কয়েকদিনের ব্যাপার হলে সমস্যা ছিল না। তুই বরং চামেলিকে বলে ওই রুমটাই পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করিস?”
যতটা সম্ভব মুখে নিঃস্পৃহ ভাব বজায় রাখার চেষ্টা করে চায়ের কাপে চুমুক দিলেন। মেয়েটা অসাধারণ চা বানায়, একেবারে উনার মায়ের মতো। অবনী অবশ্য অন্য সব রান্না অসাধারণ করলেও চা-টা কেন যেন ভালো হতো না। মেয়ে আবার যা রাঁধে, তাই অমৃত!
নবনী কঠিন মুখ করে বলল,
“বাবা, তোমার মতলবটা কী সেটা খোলাসা করে বলোতো, ঝেড়ে কাশো?”
“আমার কোন মতলব নেই, সত্যি বলছি। ও ফটোগ্রাফার, ওর নিজের তোলা ছবি অনেক এক্সিবিশনেও গেছে। এবার নিজের দেশের উপরে একটা সোলো এক্সিবিশন করতে চায়, তাই আসবে। আমাকে বলেছে হোটেলে উঠতে চায়, নয়তো কোনো বাসায় উঠবে পেয়িং গেস্ট হিসেবে। তুইই বল, আশরাফ আমার এত ভালো বন্ধু, ওর ছেলে কিনা একেবারে বাড়ির কাছে এসে হোটেলে উঠবে? কেমন দেখায় না ব্যাপারটা? আর পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকাও তো কত ঝক্কি!”
নার্ভাসনেসের কারণে এত বড়ো ব্যাখ্যা দিয়ে ফেললেন। কিছুটা বিরক্তও হলেন মেয়ের উপরে, এত জেরা করার কী আছে? সামান্য কয়েকটা মাসেরই তো ব্যাপার। আর এমনভাবে তাকায় মনে হয় একনজরেই ভেতরটা পড়ে ফেলবে! তবুও মেয়েকে তিনি অতি স্নেহ করেন, প্রগাঢ় স্নেহ!
চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে বাবাকে তীক্ষ্ণ চোখে পর্যবেক্ষন করল নবনী, এরপর অত্যন্ত সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলল,
“মতলব না থাকলেই ভালো। বাড়িতে তোমার আইবুড়ো মেয়ে আছে, এরমধ্যে একজন ছেলেকে নিয়ে আসবে। ভয় করছে না তোমার? যদি ভেগে যাই?”
“তোকে আইবুড়ো কে বলল? আর আমি আমার মেয়েকে চিনি। সে এরকম কিচ্ছু করবেই না।”
বলতে বলতেই নবনীর রসিকতাটা ধরতে পারলেন, তাই পাল্টা রসিকতায় বললেন,
“আর যদি ভেগে যাস সে তো সোনায় সোহাগা। আমি নিজে ভাগার রাস্তা ক্লিয়ার করে দেব!”
দুজনেই হেসে উঠল প্রাণখোলে। নবনী বাবার হাসিমুখের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল,
“আমি তোমাকে একা ফেলে কোথাও যাব না, বাবা! কোত্থাও না!”
আচমকা স্বপ্নের কথা মনে হতেই অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল! সেইসাথে এক পলকা হিম শীতল বাতাস আছড়ে পড়ল গায়ে।
দুপুরের রান্নার জোগাড়যন্ত্র করছিল নবনী, চামেলি সব কেটেকুটে দিচ্ছে আর ও তেলে পেঁয়াজ কুঁচি নাড়াচাড়া করছে। চামেলির রান্না অতি অখাদ্য, তাই রান্নাটা নবনীই করে। সবজিগুলো তেলে ছেড়ে দিতেই কলিংবেল বেজে উঠল। বাবা তো কিছুক্ষণ আগেই বেরুলেন, তবে কে এল? সাতপাঁচ ভেবে চুলার আঁচ কমিয়ে, খুন্তি চামেলির হাতে ধরিয়ে দিয়ে দরজা খুলতে গেল ও। আর খুলতেই এক অচেনা আগন্তুককে দেখে থমকে গেল। পাশে প্রায় ঢাউস সাইজের একটা ব্যাগ রেখে লম্বাটে, সুদর্শন এক ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। সেই রাতের পর তিনদিন পার হয়েছে, বাবার বন্ধুপুত্রের আগমনের কথা বেমালুম ভুলে বসে আছে ও। যদিও পরেরদিনই রুমটা পরিষ্কার করিয়েছে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে। তারপর এ নিয়ে বাবার সাথে আর কোনো কথা হয়নি।
“আপনি কে?” কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করল নবনী।
“এটা আফজাল আঙ্কেলের বাসা না?”
পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল আগন্তুক। চোখদুটো আশ্চর্য মায়াময়! গভীর কালো চোখে ঘন পাপড়ি। ছেলেদের চোখের পাপড়ি এমন হয় নাকি!
“হ্যাঁ, কিন্তু বাবাতো বাসায়...”
এটুকু বলতেই বুঝতে পারল এই সেই অতিথি। তাই ছেলেটা কিছু বলার আগেই ও বলল,
“আপনি আশরাফ আংকেলের ছেলে?”
নামটা বাবা কী যেন বলেছিল, কিছুতেই মনে করতে পারল না!
তবে এমন প্রশ্নে এতক্ষণ ধরে মুখে ঝুলে থাকা মৃদু হাসি একেবারে ম্লান হলো আগন্তুকের। তবে অল্পতেই সামলে নিল,
“হ্যাঁ, আমি রায়ান, রায়ান আশরাফ। তুমি নিশ্চয়ই আফজাল আংকেলের মেয়ে?”
“নবনী, নবনী মাহমুদ। আর আমি আপনার বন্ধু বা পরিচিত নই, তাই তুমি বলবেন না, আমার একদমই ভালো লাগে না এটা।”
বাবা যতই মুখে বলুক কোনো মতলব নেই, এটা নবনী একেবারেই বিশ্বাস করে না। কোনো অভিসন্ধি না থেকেই পারে না বলেই ওর দৃঢ় বিশ্বাস। সেই অভিসন্ধি বানচাল করতে এটা একেবারেই মোক্ষম সুযোগ, ফার্স্ট ইম্প্রেশন বলে একটা কথা আছে তো! সেই চেষ্টা থেকেই আপনি -তুমি বিষয়ক কথাবার্তার শুরু করল ও। আদতে এসব নিয়ে খুব একটা মাথা ব্যাথা ওর কোনোকালেই ছিল না।
ওর সহসা এমন কথায় রায়ান কিছুটা ঘাবড়ে গেল, শ্যামলা গড়নের সাদামাটা, নিরীহ চেহারার এই মেয়ের কাছ থেকে এতটা কাঠিন্য আশা করেনি ও! এমন চাঁছাছোলা কথায় কিছুটা অপ্রতিভ বোধ করল। খানিকটা সময় নিল নিজেকে সামলে নিতে।