শহরজুড়ে রাত নেমেছে অর্ধচন্দ্রের আলো সমেত। জাকজমকপূর্ণ আলোর শহরে চাঁদের আলো খুব সুবিধা করতে পারে না। তবে তার অনবদ্য সৌন্দর্য যে দেখেছে সেই মুগ্ধ হয়েছে। ক্লান্তির দিনশেষে একটুখানি প্রশান্তির ছোঁয়া।
প্রিয়ন্তী দাঁড়িয়ে আছে নিজের রুমের বারান্দায়৷ শীতের ঠান্ডা বাতাসে শিরশির করছে অঙ্গ। তবুও এই শিহরণে অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করছে তার। তাই ঠান্ডা লাগা স্বত্ত্বেও রুমে যাচ্ছে না। খোলা, এলো চুল বাতাসে অল্প অল্প উড়ছে। বারবার মুখের উপর আছড়ে পড়ায় বিরক্তির ভাঁজ পড়ছে কপালে।
তাদের বিশাল বাড়ি নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। মা-বাবা হয়তো ঘুমিয়েও পড়েছে। তবে প্রিয়ন্তী জানে, পিয়াস আর স্বজনী এখনও প্রিয়ার কথাই বলছে। পিয়াসের মাথায় একবার একটা কিছু ঢুকে গেলে সহজে বের হতে চায় না। তবে প্রিয়ন্তীর মাথায় ঢুকছে না, ওরা প্রিয়াকে খুঁজে পাবে কি করে?
দরজা খোলার শব্দ পেয়ে বারান্দা ছেড়ে রুমে ঢুকলো প্রিয়ন্তী। স্বজনীকে দেখে বলল,
"ভাবি, তুমি এত রাতে?"
স্বজনী ওষ্ট প্রসারিত করে উত্তর দিলো,
"জানতাম তুমি জেগে আছো। তাই আসলাম। একটা কথা বলার ছিলো।"
প্রিয়ন্তী খাটে বসে বলল,
"হ্যাঁ বলো।"
স্বজনী নিজেও বসে পড়লো প্রিয়ন্তীর পাশে। বলল,
"প্রিয়াকে খোঁজার মিশনে যাবে তুমি।"
প্রিয়ন্তী হতবাক হয়ে বলল,
'আমি? আমি কি করবো ভাবি?"
"খান নিবাসে তুমি যাবে প্রিয়ার খোঁজ করতে। তারপর প্রিয়ার সমস্ত খোঁজ নিয়ে আসবে।"
প্রিয়ন্তী বলল,
"এটা কি করে হয় ভাবি? তুমি জানো না ওই পরিবারের সাথে আমাদের পরিবারের অজ্ঞাত যুদ্ধ চলছে? যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই দেখছি এই ঠান্ডা যুদ্ধ। যার কারণ আমি আজও জানলাম না। তুমি, আমি দু'জনেই দেখেছি ওদের কথা শুনলেই বাবা কতটা রেগে যায়। সেখানে আমাকে যেতে দিবে কি? তাছাড়া যেহেতু ঠান্ডা যুদ্ধটা দুই পরিবারেরই হচ্ছে, সেখানে আমি চৌধুরী পরিবারের মেয়ে জানার পর ওরা কি আমায় ঢুকতে দিবে?"
"এটাই তো মেইন পয়েন্ট! ওরা জানতেই পারবে না তুমি এই পরিবারের মেয়ে!"
উৎফুল্ল শোনাল স্বজনীর কন্ঠস্বর। প্রিয়ন্তী বুঝতে না পেরে বলল,
"মানে?"
"একটা প্লানিং আছে প্রিয়ু। তবে তার আগে আয়মানের দেশে আসা প্রয়োজন। মাত্র পাঁচ দিন। তারপর ভেবে বের করবো কিভাবে কি করা যায়।"
আয়মানের কথা শুনে প্রিয়ন্তী কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলল,
"ওই করতে থাকো তোমরা! এই করতে যাবো, আয়মান আসুক। ওই করবো, আয়মান আসুক। এইভাবেই চলতে থাকবে। এমনভাবে বলো, যেনও তোমার ওই দেবর না বলবে গাছের পাতাও ছেড়া যাবে না!"
স্বজনী প্রিয়ন্তীর কথায় বিশেষ পাত্তা দিলো না। উঠে চলে যেতে লাগলো রুম থেকে। দরজার কাছে গিয়ে আবার ফিরে তাকালো প্রিয়ন্তীর দিকে। মুচকি হেসে বলল,
"নিষিদ্ধ জিনিসে আকর্ষণ কিন্তু খুব ভয়ংকর, প্রিয়ু!"
******
প্রিয়া এতক্ষণ নিচে সবার সাথেই ছিলো। আয়ানের সাথে একাকী কথা বলার কোনো সুযোগই তার হয় নি। জিজ্ঞেসও করা হয়নি এইভাবে বিয়ে করার কারণ!
আয়ানের সাথে কথা না হলেও বাকিদের সাথে বেশ ভালোই মিশে গেছে ও। প্রিয়া আগেও এই বাড়িতে এসেছে সেই সুবাদে সবার সাথে বেশ ভালোই সম্পর্ক রয়েছে ওর। তখন তো শুধু মেহমান হয়ে কিছু সময়ের জন্য আসতো আর সেভাবেই আপ্যায়ন হতো। প্রিয়া ভেবেছিলো, আয়ান এইভাবে বিয়ে করে আনার পর ও হয়তো সবার চক্ষুশূল হয়ে যাবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, পরিবারের সদস্য হওয়ার দরুণ আদরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
পারভিন তো একদম খুঁটিনাটি সব বলছে প্রিয়াকে। প্রিয়াও মনোযোগ দিয়ে শুনছে তার কথা। মনে মনে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানালো এমন একটি পরিবারে ওকে দেওয়ার জন্য! আবার এটাও চাইলো, যেনও খুব দ্রুতই আয়ানের সাথে স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।
রাত বাড়তেই সবাই সবার রুমে শুতে চলে গেলো। প্রিয়া এতক্ষণ বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে সারা-সায়মার রুমে থাকলেও এখন তারা ঠেলে-ঠুলে রুমে পাঠিয়ে দিয়েছে। প্রিয়া গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে রুমের দিকে। যত এগোচ্ছে তত যেনও হৃৎপিণ্ডের কম্পনের মাত্রাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দরজার সামনে এসেই ওর পা থেমে গেলো। জড়বস্তুর মতো যেনও আটকে গেলো সেথায়। আর আগানোর সাহস হচ্ছে না। কি বলবে ও আয়ানের মুখোমুখি হয়ে?
বড় করে নিশ্বাস নিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালালো প্রিয়া। তারপর পা বাড়ালো রুমের ভিতর। রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ না করেই দাঁড়িয়ে রইলো সেখানেই। আয়ান সেদিকে ঘুরেও তাকালো না। তার সম্পূর্ণ মনোযোগ নিবেশিত কোলে থাকা ল্যাপটপে। খাটে বসে আপনমনে নিজের কাজে ব্যস্ত রয়েছে ও।
প্রিয়া ভাবলো ও যে রুমে এসেছে আয়ান সেটা টের পায় নি। গলা খ্যাঁকাড়ি নিয়ে নিজের উপস্থিতি জানার দেয়ার আগমুহুর্তে নড়ে উঠলো আয়ানের অধর। প্রিয়াকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে বলল,
"দরজার সামনে সং সেজে দাঁড়িয়ে থাকার কোনো দরকার নেই। দরজা বন্ধ করে এসে ঘুমিয়ে পড়ো।"
প্রিয়া প্রথমে অবাক হলেও পরমুহূর্তে আয়ানের ব্যবহারে বরাবরের মতো বিরক্ত হলো। বিড়বিড় করে বলল,
"সং সেজে দাঁড়িয়ে থাকার দরকার নেই! সুন্দর করে মুখ দিয়ে কথা বের হয় না? সবসময় এভাবে ত্যাড়া উত্তরই দিতে হবে? অসহ্যকর লোক একটা!"
প্রিয়াকে নড়তে না দেখে আয়ান ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকালো। বলল,
"দাঁড়িয়ে থাকার কোনো প্রতিযোগিতায় নাম দিয়েছো নাকি? যতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে তত বেশি টাকা পাবে? তোমার মন চাইলে কাল থেকে কাজটা করতে পারো। এখন দরজা বন্ধ করে এসে ঘুমাও।"
নিজের কথাগুলো বলে আয়ান আবার মনোযোগ দিলো ল্যাপটপে। প্রিয়া বিরক্তিতে শব্দ করে দরজা বন্ধ করলো। খাটের পাশে এসে দাঁড়িয়ে মিনমিন করে বলল,
"আমি কি এই খাটেই ঘুমাবো?"
আয়ানের ল্যাপটপের উপর চলতে থাকা হাত হঠাৎ থমকে গেলো। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো প্রিয়ার উপর। চাহনিতেই যেনও ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে হৃৎপিণ্ড। সেই চাহনিতে দৃষ্টি মিলাতে পারলো না প্রিয়া। চোখ সরিয়ে এলোমেলো পলক ফেলল আশেপাশে।
আয়ান সেভাবে তাকিয়েই বলল,
"এত রাতে আমি অবশ্যই তোমার জন্য আরেকটা খাট কিনতে যাবো না। আর আমার রুমে দুটো খাটের জায়গাও হবে না। তাই তোমাকে এই খাটেই ঘুমাতে হবে। ঘুমালে ঘুমাও নাহলে সারারাত এই সং-এর মতোই দাঁড়িয়ে থাকো।"
অনুভূতির দফা-রফা। একটু আগের দৃষ্টি বিনিময়ে যে অনুভূতির জন্ম হচ্ছিলো, সেটা মুহুর্তের মধ্যে স্বেচ্ছায় গলায় দঁড়ি দিয়েছে। প্রিয়া মনে মনে ভাবলো, এই লোকের পক্ষে আর যাই হোক সুন্দর করে কথা বলা সম্ভব না!
প্রিয়া আয়ানের সাথে কথা বাড়িয়ে আর নিজের ঝামেলা বাড়াতে চাইলো না। চুপচাপ এক সাইড হয়ে শুয়ে পড়লো বিছানায়।
হঠাৎ কানের কাছে কারো গরম নিশ্বাসের স্পর্শ পেয়ে ধরফর করে উঠে বসলো প্রিয়া। আয়ানের দিকে তাকিয়ে দেখলো সে নিরুদ্বেগ বসে বসে এখনও ল্যাপটপে ঢুকে আছে। ভাবখানা এমন যেনও ভাজা মাছটাও উলটে খেতে জানে না!
প্রিয়া বিরক্ত ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলো,
"অকাজটা আপনি করেছেন?"
আয়ান ল্যাপটপে তাকিয়ে উত্তর দিলো,
"রুমে তুমি, আমি ছাড়া আর কেউ নেই। এছাড়া এখানে অকাজের কি দেখলে তুমি?"
প্রিয়া ইতস্তত করে বলল,
"আপনি আমার কাছে আসার চেষ্টা করছিলেন কেনও? এটা অকাজ নয়?"
আয়ান ল্যাপটপ বন্ধ করে তাকালো প্রিয়ার দিকে। বলল,
"সিরিয়াসলি? তোমার এমন মনে হলো আমি তোমার কাছে আসার চেষ্টা করেছি? তুমি যেই সাইডে শুয়েছো তার পাশেই টেবিল। আমি শুধু পানির গ্লাসটা নিয়েছিলাম ওইখান থেকে। এছাড়া তোমার কাছে যাওয়ার কোনো ইন্টারেস্ট আমার নেই! এমন থার্ড ক্লাস মেয়েদের উপর আয়ান আহমেদ খানের ইন্টারেস্ট কোনোদিন হবে না!"
প্রথমের কথাতে প্রিয়া বিব্রত হয়ে পড়লো। নিজেকে নিজেই শাঁসালো এমন অদ্ভুত জিনিস ভাবার জন্য! কিন্তু আয়ানের শেষ কথাটা যেনও সরাসরি আঘাত হানলো মস্তিষ্কে। জানান দিলো তীব্র প্রতিবাদ।
উচ্চারণ হলো,
"আমি থার্ড ক্লাস মেয়ে?"
প্রিয়ার চোখে পানি টলমল করছে। কিন্তু আয়ানের কখনোই এসবে ভ্রুক্ষেপ ছিলো না। বলে বসলো,
"তো তুমি কি নিজেকে মহান দাবি করছো? প্রিয়া, এখন কান্নার অভিনয় করে আমার সামনে ভালো সাজার চেষ্টা করো না। তুমি যে ঠিক কি করেছো, তার আদ্যোপান্ত আমি ভালোই জানি। কিন্তু ভবিষ্যতে তুমি এইসব আর করতে পারবে না। নিজের সাথে বেঁধে তোমাকে বেধে ফেলেছি। তাই বলে কি অতীতের কর্মকাণ্ড ভুলে যাবো? তুমি যা করেছো তাতে তোমাকে থার্ড ক্লাস বলা ছাড়া কোনো ভাষা আমার মুখে আসছে না!"
প্রিয়া জানেও না সে কি করেছে। তবে আয়ানের কথা শুনে তার রক্ত গরম হয়ে গেলো। হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে আয়ানের শার্টের কলার চেপে ধরলো। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
"কোন অধিকারে আমাকে এসব বলছেন আপনি? তিন কবুল বলে বিয়ে করেছেন বলে কি আমায় কিনে নিয়েছেন? কিসের অতীতের কথা বলছেন আপনি? বিয়ের আসর থেকে আমায় তুলে নিয়ে বিয়ে করেছেন তবুও কিছু বলি নি। তাই বলে কি ভেবে রেখেছেন আমি অবলা? কোনো কথার উত্তর দিতে জানি না? বেশ ভালোই জানি। কিন্তু আমি কথার উত্তর দিবো না, বরং নিবো। কেনও বিয়ে করেছিলেন আমায়?"
আয়ানের মধ্যে উদ্বেগের কোনো লক্ষণ নেই। যেনও যা ঘটছে সব স্বাভাবিক। প্রিয়ার হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বলল,
"তোমার কি মনে হয়? তোমার মতো মেয়েকে আমি ভালোবেসে বউ করে আনবো?"
প্রিয়ার চোখ রাগে-দুঃখে লাল হয়ে গেছে। চোখ থেকে টুপটুপ ঝড়ে পড়ছে অশ্রুকণা। বলল,
"কোনোদিনও এমন মনে করি নি আমি। ভালোবাসার শুরুটা হয় সম্মান দিয়ে। সম্মান করতে না পারলে কিসের ভালোবাসা? আপনি যেসব ভাষা বলছেন তাতে বোঝাই যাচ্ছে সম্মানের এক বিন্দু পরিমাণও আপনার মধ্যে নেই। সেখানে ভালোবাসার আশা করার মতো বোকা আমি নই! ভালোবাসা ছাড়া বিয়েটা কেনও করেছেন? কেনও আমার জীবনটা নষ্ট করলেন?"
"তোমার জীবন নষ্ট করেছি ভেবে তোমার কান্না পাচ্ছে? আর তুমি যখন আরেকটা মেয়ের জীবন নষ্ট করতে গিয়েছিলে তখন একবারও মনে হয় নি, ভুল করছো? সামির বিবাহিত জানার পরও আরেকটা মেয়ের সংসার ভেঙে নিজে সেখানে সংসার সাজাতে চেয়েছো। এই অন্যায়গুলোর পর আশা রাখছো সুন্দর জীবনের?"
প্রিয়া কান্না থামিয়ে বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকালো আয়ানের দিকে। বলল,
"সামির বিবাহিত ছিলো?"
প্রিয়ার কথায় আয়ান বিরক্ত হলো। বলল,
"একদম ন্যাকা সাজবে না আমার সামনে। সামির বিবাহিত ছিলো ওর একটা বাচ্চাও ছিলো। সব জেনে-বুঝে তুমি আরেকটা মেয়ের সংসার নষ্ট করতে চেয়েছো। এখন নিজে সুন্দর সংসারের আশা কিভাবে করো?"
পরপর একেকটা কথার বাণে প্রিয়া বিধ্বস্ত হয়ে বসে পড়েছে। হা করে তাকিয়ে আছে আয়ানের মুখের দিকে। তার চোখে মুখে অবিশ্বাস। সামির বিবাহিত হওয়ার কথা শুনে যতটা না কষ্ট পেয়েছে তার থেকে বেশি কষ্ট পেয়েছে আয়ানের কথায়। জিজ্ঞেস করলো,
"আপনার কেনও মনে হলো আমি জেনে-বুঝে অন্য কারো সংসার ভাঙতে চাইবো?"
আয়ান বলল,
"তোমার মা-ই তো বলেছে। তোমার ভালোর জন্য সামিরের বিবাহিত হওয়ার খবরটা তোমাদের জানাতে গিয়েছিলাম। তোমার এমন রুপ দেখবো ভাবি নি! শুধুমাত্র টাকার জন্য সামির বিবাহিত জেনেও তুমি বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেলে?"
আয়ানের কথায় প্রিয়া কোনো উত্তর দিতে পারলো না। সচল মস্তিষ্ক ধারন করেছে মূল বিশ্বাসঘাতকতা তার মা-ই করেছে। প্রথম, বিবাহিত এক ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে জীবন শেষের খেলায় নেমেছিলো। সেটা ব্যর্থ হলেও এমন কান্ড ঘটিয়েছে, যা বর্তমান জীবনেও সুখ দিবে না!
সমস্ত ঘটনা মাথায় ঢুকতেই মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিলো। শূণ্য শূণ্য লাগতে শুরু করলো সবকিছু। আয়ানের কথাগুলোও আর শ্রবণেন্দ্রিয়গোচর হচ্ছে না। অত্যাধিক মানসিক চাপে নিস্তেজ হয়ে পড়লো প্রিয়া।
আয়ান ওয়ার্ড্রবের ড্রয়ার খুলে টি-শার্ট খুঁজছিলো। হাতের সাথে সাথে মুখও চলছে। বলে যাচ্ছে,
"যত যাই হোক, সামিরকে বিয়ে করে ওই মেয়েটার সংসার ভাঙতে দেই নি। সামিরকেও কিভাবে লাইনে আনতে হয় সেটাও আমার জানা আছে। কিন্তু তোমার কি হবে? অন্য মেয়ের সংসার ন*ষ্ট করতে চাওয়ার শাস্তি কি হয় তুমি জানবে। তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা নয়, শুধু ঘৃ*ণা রয়েছে। তাই বউ হওয়ার চেষ্টা করো না। তবে এতটুকু নিশ্চিত থাকতে পারো, আয়ান আহমেদ খান কখনো দায়িত্বে অবহেলা করে না!"