স্নিগ্ধ প্রেমের মায়া

পর্ব - ১২

🟢

জানলার পর্দা সরাতেই সূর্যের হালকা কিরণ পড়লো বিছানায়। প্রিয়ন্তী উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। চোখে মুখে আলোকছটা পড়তেই নিজের মুখের উপর বালিশ চাঁপা দিলো। বিরক্ত কন্ঠে বলল,

"সকাল সকাল এই আলো কোত্থেকে আসছে?"

স্বজনী ওর পাশে বসে হাত থেকে বালিশ টেনে সরিয়ে দিলো। বলল,

"উঠে পড়ুন ম্যাডাম। দেরি হয়ে যাচ্ছে।"

প্রিয়ন্তী অন্যপাশে মুখ ঘুরিয়ে আবার শুয়ে পড়লো। স্বজনী ওকে জোড়ে ধাক্কা দিয়ে বলল,

"প্রিয়ু, উঠে পড়ো। ভার্সিটির টাইম অলরেডি পেরিয়ে গেছে। এবার উঠে পড়ো, নাহলে মা বকবে।"

প্রিয়ন্তী ঘুম ঘুম কন্ঠে বলল,

"রাতে ভাইয়ার সাথে ঝগড়া করে কি সকালে আমার উপর সেই রাগ ঝাড়ো নাকি? নাহলে আমার ঘুমের সাথে তোমার শত্রুতা কিসের?"

"দেখো মেয়ের কথা! প্রিয়ু! তুমি উঠলে? নাকি আমি পানি ঢালবো?"

কথাগুলো উচ্চ আওয়াজে বলায় প্রিয়ন্তীর ঘুম ছুটে গেলো। চোখ ডলতে ডলতে উঠে বসলো ও। হাই তুলে বলল,

"উঠে পড়েছি। আর পানি ঢালা লাগবে না। নাহলে আমার খাটটা ভিজে যাবে।"

স্বজনী বলল,

"উদ্ধার করেছো! ঘুম থেকে উঠে দেশবাসী উদ্ধার করে ফেলেছেন আপনি। এবার ফ্রেশ হয়ে নাস্তা খেতে এসে আমাদের উদ্ধার করুন।"

প্রিয়ন্তী গোমড়ামুখে বলল,

"যাও আসছি।"

স্বজনী যেতে যেতে গেট পর্যন্ত গিয়ে থেমে গেলো। ঘুরে আবার এসে বসলো প্রিয়ন্তীর পাশে। বলল,

"তোমার ভাইয়া নিচে তোমাকে নিয়ে কিছু বলবে। এজন্য জলদি ডাকছে। আরেকটা কথা শুনো, তোমার ভাইয়া যা বলবে তুমি তাল মিলাবে। ঠিক আছে?"

প্রিয়ন্তী হতভম্ব হয়ে তাকালো স্বজনীর দিকে। শুধালো,

"ভাইয়া যা বলবে তাল মিলাবো? কিছু কি হয়েছে ভাবি?"

স্বজনী কন্ঠ নামিয়ে বলল,

"কিছু হয় নি। তবে হবে। তুমি জলদি আসো।"

স্বজনী যেতেই প্রিয়া ঝটপট বিছানা ছেড়ে নেমে দাঁড়ালো। বিছানা গুছিয়ে ফ্রেশ হয়ে দ্রুত নেমে এলো নিচে। নেমেই দেখলো, খাবার টেবিলে সবাই রয়েছে। সে নিজের চেয়ারে বসে মুখে হাসি টেনে বলল,

"গুড মর্নিং।"

বৃষ্টি রাগান্বিত কন্ঠে বললেন,

"মর্নিং না করে একেবারে আফটারনুন করতি। একটু জলদিই ঘুম থেকে উঠে গেলি না তুই?"

মুহুর্তেই প্রিয়ন্তীর হাসি হাসি মুখটা চুপসে গেলো। কিছু না বলে চুপচাপ মনোযোগ দিলো খাওয়ায়। আর অপেক্ষা করতে থাকলো পিয়াসের মুখ খোলার।

প্রিয়ন্তীর খাওয়া যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে, তখন পিয়াস গলা খ্যাঁকাড়ি দিয়ে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করলো। বলতে শুরু করলো,

"মা, বাবা। আমি ভেবেছি প্রিয়ন্তীকে ভার্সিটির ট্রান্সফার করিয়ে চট্টগ্রামে পাঠাবো। ওখানকার ভার্সিটিতে ওকে ভর্তি করিয়ে দিবো। ভালো হবে না?"

প্রিয়ন্তীর খাওয়ায় ব্যাঘাত ঘটলো। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো ভাইয়ের দিকে। যদিও স্বজনী ওকে পিয়াসের প্রত্যেক কথায় তাল মিলাতে বলেছে কিন্তু প্রিয়ন্তী বুঝে পাচ্ছে না, ওর কি আসলেই তাল মেলানো উচিত?

তৌহিদ অবাক হলেন ছেলের সিদ্ধান্তে। বললেন,

"হঠাৎ প্রিয়ন্তীকে ওইখানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত কেনও নিলে?"

"ওর ভালোর জন্যই। ও চাইলে চাকরীও করতে পারে, ওখানে সেরকম সুযোগ-সুবিধাও আছে। তাই আমি চাইছি ও ওইখানে গিয়ে পড়াশোনা করুক।"

তৌহিদ চোখ গরম করে তাকালেন ছেলের দিকে। বললেন,

"আমার কি কোনোদিক দিয়ে কম আছে? আমার মেয়েকে চাকরী করতে হবে কেনও? ও যদি সারাজীবনও বসে খায়, তবুও আমি খাওয়াবো। চাকরীর জন্য এতদূর কেনও যাবে?"

ভাইয়ের হয়ে এবার জবাব দিলো প্রিয়ন্তী। বলল,

"যদি সারাজীবন বসে বসেই খেতে হয় তো পড়াশোনা শিখেছি কেনও? আমি অবশ্যই স্বাবলম্বী হবো। ভাইয়া ঠিক করেছে এই ব্যবস্থা করে। আমি যাবো চট্টগ্রাম।"

প্রিয়ন্তী এতক্ষণ চুপচাপ সব শুনলেও বাবার শেষ কথায় চুপ থাকতে পারলো না। পড়াশোনা করেও সারাজীবন বসে খাবে, এই কথা ভেবেই মাথায় জেদ চেপে বসলো। সাফ-সাফ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলো, ও চট্টগ্রাম যাবে।

বৃষ্টি সবার শেষে মুখ খুলল। বলল,

"চট্টগ্রাম যেতেই হবে?"

প্রিয়ন্তী ঘনঘন মাথা নেড়ে বলল,

"হ্যাঁ। ভাইয়া যখন বলেছে আমি যাবোই চট্টগ্রাম।"

কিছুক্ষণ এভাবেই চলার পর অবশেষে মেয়ের জেদের কাছে মা-বাবা হার মানলেন। মেনে নিলেন ওর চট্টগ্রাম যাওয়ার সিদ্ধান্ত। তারা ভালো করেই জানে মেয়ের মাথায় কোনো জেদ চেপে বসলে নাওয়া-খাওয়া বন্ধ করে হলেও নিজের জেদে অটল থাকে। অগত্যা হার মানতেই হয়।

মেনে নেওয়ার পরও বৃষ্টি চিন্তিত কন্ঠে বলল,

"ওখানে যাবে ভালো কথা। থাকবে কোথায়?"

পিয়াস মা-কে আশ্বস্ত করে বলল,

"খালামনির বাসায় থাকবে ও। কোনো চিন্তা করো না মা। আমি জানি, আমার বোন স্ট্রং। ও ঠিকই পারবে।"

তৌহিদ ও বৃষ্টি একে-অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলেন। কিন্তু বলার মতো কিছু খুঁজে পেলেন না। পড়াশোনার জন্য ছেলেটাকেও একসময় অনেক দূর পাঠিয়েছিলেন। এখন মেয়ের জেদের কাছেও হার মেনে ওকে দূরে পাঠাতে হচ্ছে।

পিয়াস মা-বাবার কোনো উত্তর না পেয়ে বলল,

"প্রিয়া হারিয়েছিলো চট্টগ্রাম থেকে। আর আমরা আছি দূর ঢাকায়। কিভাবে ওকে খুঁজে পাওয়ার আশা রাখি বলো? কেউ একজন থাকুক সেথায়। আল্লাহ চাইলে মিলিয়েও দিতে পারে আমার বোনটাকে। এছাড়া আমরা সময় পেলেই যাবো প্রিয়ুর কাছে। চিন্তার কিছু নেই।"

সবাই এবার বুঝতে পারলো পিয়াসের ইচ্ছা। তারা অনেককাল ধরেই ঢাকায় স্থায়ী। চাইলেই চট্টগ্রামে থিতু হতে পারবে না। আর প্রিয়াকে খুঁজে বের করা খুবই সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। অল্প কিছুদিনের জন্য চট্টগ্রাম গেলেই তো প্রিয়াকে আর পাওয়া যাবে না! এখন প্রিয়ন্তীই একমাত্র ব্যক্তি যে চট্টগ্রামে গিয়ে থাকতে পারবে। তাই পিয়াস ওকেই পাঠানোর চিন্তা করেছে।

প্রিয়ন্তী ভাইয়ের মনোভাব বুঝতে পেরে উত্তেজিত হয়ে পড়লো। খাওয়া ছেড়ে লাফিয়ে উঠলো চেয়ার থেকে। বলল,

"আমি যেখানে যাচ্ছি প্রিয়াপু সেখানেই হারিয়েছিলো? তার মানে আপুকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে?"

পিয়াস বলল,

"বেশি লাফাস না! আগে তো যা চট্টগ্রাম, দেখ কি হয়!"

*******

হেনা বেগম সোফায় বসে হা-হুতাশ করছেন। আশায় আছেন মেয়ে হয়তো তার চোখের পানি দেখে তাকে মাফ করে দিবে। কিন্তু প্রিয়ার মধ্যে সেসবের কোনো লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে না। সে আপনমনে নিজের সব জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছে। ঘুরেও তাকাচ্ছে না হেনা বেগমের দিকে।

প্রিয়ার হাত হঠাৎ কাজ করতে করতে থেমে গেলে বাইরে গাড়ি থামার আওয়াজ পেয়ে। প্রিয়া নিজের রুম থেকে বেরিয়ে এসে দেখলো সদর দরজা দিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করছে আয়ান। প্রিয়াকে দেখে বলল,

"সব নেয়া হয়েছে তোমার? নেয়া হলো বাড়ি চলো।"

বলা শেষে মুখ ঘুরিয়ে হেনা বেগমকে দেখে ভদ্রতার হাসি হাসলো। অধরকোণে স্মিত হাসির রেখা ফুটিয়ে বলল,

"আসসালামু আলাইকুম, শাশুড়ী মা। কেমন আছেন, এটা জিজ্ঞেস করবো না। কারণ আপনি যে আমার সামনে সুস্থ-সবল দাঁড়িয়ে আছেন , দেখতেই পাচ্ছি।"

আয়ানের কথায় বিন্ময়ে হা হয়ে গেলো হেনা বেগম। প্রিয়া শব্দ করে ব্যাগ নিচে রাখায় হুশ ফিরলো তার। মেয়ে-জামাই হিসেবে ভদ্রতার খাতিরে বলল,

"বসুন, খান সাহেব।"

আয়ানও একদম ভদ্রতার সহিত নাকচ করলো,

"বসতে আসি নি। বউকে নিয়ে যেতে এসেছি, নিয়েই চলে যাবো।"

এবার বিস্মিত হওয়ার পালা প্রিয়ার। আয়ান ঘাড়ত্যাড়া মানা যায়, তাই বলে এমন নির্লজ্জ? কাল রাতেই বলল বউ মানে না। তাহলে সারাদিন বউ বউ করার কি মানে হয়? শুধুই তাকে সবার সামনে লজ্জায় ফেলার জন্য?

হেনা বেগম খুকখুক করে কেঁশে উঠলেন আয়ানের কথায়। এমন কথার বিপরীতে কি বলা উচিত তার জানা নেই। তিনি কিছু বলার আগেই আয়ান প্রিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল,

"হলো তোমার? হলে গাড়িতে গিয়ে বসো।"

প্রিয়া উপরনিচ মাথা ঝাঁকিয়ে সায় জানালো। দু'হাতে দুটো ব্যাগ নিয়ে বের হতে নিলো। তার আগেই আয়ান ওর হাত থেকে ব্যাগ দুটো নিয়ে নিলো। বলল,

"গাড়িতে গিয়ে বসতে বলেছি। ব্যাগ নিয়ে যেতে বলি নি। তুমি যাও, এগুলো আমি নিয়ে আসছি।"

প্রিয়া পুনরায় মুগ্ধ হলো আয়ানের ব্যবহারে। সন্তুষ্টচিত্তে বেরিয়ে গেলো নিজের স্মৃতিজড়ানো প্রাঙ্গণ ছেড়ে। তার পিছন পিছন গেলো আয়ান।

আয়ান ব্যাগ দু'টো পিছনে রেখে ড্রাইভিং সিটে এসে বসলো।প্রিয়া আগেই এসে ওর পাশের সিটে বসেছে। দৃষ্টি নিক্ষিপ্ত রাস্তায়।

গাড়ি চলতে শুরু করলে আয়ান জিজ্ঞেস করলো,

"তোমাকে গাড়ি নিয়ে আসতে বলেছিলাম। এমনিই এসে পড়লে যে।"

প্রিয়া বাইরে থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে তাকালো আয়ানের দিকে। মৃদু হেসে বলল,

"কাছেই তো। তাই প্রয়োজন মনে হয় নি।"

"আমি তো প্রয়োজন-অপ্রয়োজন চিন্তা করে বলি নি। একা বেরিয়েছো, তাই বলেছিলাম ড্রাইভারকে বলো বাসা পর্যন্ত পৌছে দিতে।"

"এখন আর ওসব ভেবে কি লাভ? হয়ে গেছে তো! কাজ শেষ, বাড়ি যাচ্ছি। আর ওগুলো ভেবে লাভ নেই।"

আয়ান খুব করে চাইছে প্রিয়া নিজে স্বীকার করুক ও সামিরের বিবাহিত হওয়ার কথা জানতো না। কিন্তু না, প্রিয়া তেমন বলে নি। চুপচাপ করে এসে পৌছেছে বাড়িতে। আর আয়ান ওকে বাড়িতে ছেড়ে দিয়ে চলে গিয়েছে অফিসে।

*******

দুপুর ৩ টা বাজতেই যখন পরিবেশ শান্ত হয়ে পড়লো, প্রিয়ন্তী চুপিচুপি এসে হাজির হলো ছাদে। শীতের দুপুরে রোদের তীব্রতা কম। প্রিয়ন্তী বসে পড়লো দোলনায়। এখন নিজের মতো কিছু সময় কাটাবে এই নিস্তব্ধ দুপুরে।

পাঁচ মিনিটের মাথায় ওর নিস্তব্ধ দুপুর উপভোগে বাগড়া দিলো স্বজনী। বৃষ্টি ঘুমিয়েছে বুঝতে পেরেই নিজেও চলে এসেছে ছাদে। প্রিয়ন্তীকে দেখেই একপ্রকার উড়ে এসে বসলো ওর পাশে।

উত্তেজিত হয়ে বলল,

"কি ব্যাপার ননদিনী? চট্টগ্রাম যাওয়ার সিদ্ধান্তে কেমন ফিল করছো?"

প্রিয়ন্তীও নিজের সাথী পেয়ে খুশি হলো। বলল,

"অনেক বেশি এক্সাইটেড ফিল করছি। কিন্তু আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছি না।"

স্বজনী জিজ্ঞেস করলো,

"কি?"

প্রিয়ন্তী ভাবুক দৃষ্টিতে সামনে তাকিয়ে বলল,

"ভাইয়া আমার চাকরীর কথা কেনও বলল? চাকরীর সাথে আপুকে খোঁজার কি সম্পর্ক? আমাদের টার্গেট তো ছিলো আয়ান ভাইয়ার ওয়াইফ, প্রিয়া।"

স্বজনী লম্বা শ্বাস টেনে বলল,

"তুমি ওইদিন কি বলেছিলে মনে আছে? মা-বাবা তোমাকে খান বাড়িতে যেতে দিবে না। আর ওই বাড়ির মানুষরাই বা তোমাকে ঢুকতে দিবে নাকি আসল পরিচয় জেনে? তাই তো এই বুদ্ধি!"

প্রিয়ন্তী বুঝতে পেরে বলল,

মানে এক ঢিলে দুই পাখি! এই বাড়িতেও কেউ জানবে না আমি চট্টগ্রামে ওই বাড়িতেই খোঁজ লাগাতে গিয়েছি। আর ওই বাড়িতেও জানবে না আমি কেনও গিয়েছি। রাইট? কিন্তু ওই বাড়িতে যাবো কি করে?"

শেষের কথায় প্রিয়ন্তীর মধ্যে শঙ্কা দেখা দিলো। স্বজনী তার সেই শঙ্কা দূর করতে বলল,

"এটারও ব্যবস্থা আছে ননদিনী। আয়মান লন্ডন থেকে আসলে তুমি ওর পিএ পদে জয়েনিং করবে। এর ব্যবস্থা তোমার ভাই করবে। তারপর ওই পরিচয়েই তুমি ওই বাড়িতে যাবে। বুঝতে পেরেছো সব?"

প্রিয়ন্তী বিস্ময়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে গেলো। চোখ পিটপিট করে বলল,

"আয়মান খানের পিএ পদে?"

স্বজনী উৎফুল্ল হয়ে ডান হাতের উপর বাম হাত দিয়ে কিল দিলো। বলল,

'ইয়েস! আমার দেবরকে চেনার এরচেয়ে ভালো উপায় আর হয় বলো? তুমি তো ওকে দেখার, ওকে জানার জন্য আগ্রহী। তাই আল্লাহ বিশেষভাবে এই ব্যবস্থা করে ফেলেছে।"

শেষের কথাটায় মুচকি হাসি ফুটে উঠলো স্বজনীর ঠোঁটে। প্রিয়ন্তী দীর্ঘশ্বাস বলল,

"হয়তো। কিন্তু ভাবি শুনো, তোমার দেবরকে আমার পরিচয় জানাবে না। আমি একদম অজ্ঞাত ব্যক্তি হয়েই যাবো ওই বাড়িতে। এতদিন যখন আমাকে চিনেনি। এখনও চেনা লাগবে না।"

স্বজনী ভ্রু উঁচু করে বলল,

"আসলেই বলতে চাইছো না?"

প্রিয়ন্তী মাথা নাড়িয়ে বলল,

"না। ভাইয়ার পরিচয়ে আমাকে সুযোগ-সুবিধা দিক, এটা আমি চাই না। তাছাড়া উনি ভাইয়াকে চিনে, আমাকে তো নয়। ভাইয়ার পরিচয়ে কেনও আমাকে চিনবে? যখন আমাকে চিনবেই তো আমাকে আমার মতো করেই চিনুক।"

স্নিগ্ধ প্রেমের মায়া গল্পটি তিয়াশা চৌধুরী-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক থ্রিলার গল্প