স্নিগ্ধ প্রেমের মায়া

পর্ব - ৮

🟢

বিকেলের শেষ সময়। শীতকাল হওয়ার কারণে সূর্য খুব দ্রুতই যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। নীল আকাশে আলো থাকলেও উত্তপ্ততা নেই। শীতলতার স্পর্শ নগরজুড়ে।

আয়ান নিচে নেমে দেখলো পারভিন এখনও সোফায় বসে অবিরাম কথা বলে চলেছেন। আর সেসব কথা শোনার ধৈর্যশীল শ্রোতা আঞ্জুম ও নাসরিন। আয়ানকে নামতে দেখে নাসরিন ইশারায় পারভিনকে থামতে বললেন। আয়ান সোজা মায়ের সামনে এসে বলল,

"এখানে বসে রয়েছো যে? খাও নি এখনও?"

পারভিন ঝাঁঝালো কন্ঠে বললেন,

"তোর বউ নেমেছে যে খাবো? প্রথমদিন নতুন বউ রেখে যদি আমরা খাওয়া শুরু করি তাহলে তোর বউ ভাববে কি?"

মায়ের কথা শুনে আয়ান মুচকি হাসলো। মনে মনে ভাবলো, ডায়লগটা সচরাচর নতুন বউয়েরা দিয়ে থাকে । অথচ সেখানে এই কথা ওর মা বলে দিচ্ছে!

আয়ানকে হাসতে দেখে আঞ্জুম থমথমে কন্ঠে বললেন,

"হাসছিস কেনও? তোরা সবকয়টা না খেয়ে বসে আছিস। যা প্রিয়াকে ডেকে নিয়ে আয়।"

আয়ান বিরস মুখে বলল,

"আমি কেনও ডাকতে যাবো? সারা কিংবা সায়মাকে পাঠাও।"

কথাটা বলেই আয়ান বুঝতে পারলো সে ভুল বলে ফেলেছে। দ্রুত কথাটা ঠিক করে বলল,

"আমি যাচ্ছি প্রিয়াকে ডাকতে।"

বলতে বলতে আয়ান উঠে গেলো।

*******

প্রিয়া গোসল করে বেরিয়েছে অনেকক্ষণ। তবে রুমের বাইরে যাওয়ার মতো সাহস করতে পারছে না। সারাদিনের ঘটনায় মনে ভয় জেঁকে ধরেছে। অন্যদিকে আয়ান যে ওকে ভালোবেসে বিয়ে করে নি এটাও বুঝতে পেরেছে। কিন্তু আয়ানের উদ্দেশ্যটা কোনোভাবেই ওর মাথায় ঢুকছে না।

আয়ান রুমে ঢুকে দেখলো প্রিয়া ভাবুক ভঙ্গিতে খাটে বসে আছে। ভারি শাড়ি পরিবর্তন করে সাধারন থ্রি-পিস পড়েছে। বিয়ের সাজের ছিটেফোঁটাও মুখে নেই। তবুও সরল শুভ্র এক মুখশ্রী। আয়ান মনে মনে ভাবলো,

"এই নিষ্পাপ মুখবিবর দেখে কেউ ভাবতে পারবে এই মেয়ে অর্থলোভে কারো সংসার নষ্ট করতে নেমেছিলো?"

কথাটা মাথায় এলেই আয়ানের মনে প্রিয়ার প্রতি বিষাদ লাগামছাড়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয় ওর উপর থেকে। অন্যদিকে তাকিয়ে বলে,

"মা খেতে ডাকছে। নিচে চলে এসো।"

বলে আর উত্তরের অপেক্ষা না করে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। প্রিয়া ওর যাওয়ার পানে ভেঙচি কেটে মনে মনে বলল,

"খেতে ডেকেছে, চলে এসো! বলা শেষ? নিজের যা মন চাইলো তাই করলো। নিজের যা বলতে মন চাইলো তাই বলল। অপরপাশের মানুষ কিছু বলবে কি না, তা জানার কোনো প্রয়োজন আছে কি? একদমই নেই!"

ওর ভাবার মাঝে রুমে ঢুকলো সায়মা। হাসি-হাসি মুখটা দরজার এপাশে বাড়িয়ে বলল,

"এখনও বসে আছিস? খাবি না? নিচে আয়... ওহ সরি, নিচে আসেন ভাবিইইইই!"

শেষের কথাটা সায়মা টান দিয়ে বলল। প্রিয়া লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে বলল,

"আমি একা একাই যাবো নাকি?"

"না আমি নিয়ে যাবো। নতুন বউ কি না! এবার চল।"

*******

পিয়াস অবাক হয়ে বলল,

"আয়ান ভাইয়া মেয়ে তুলে নিয়ে বিয়ে করেছে?"

"কেনও বিশ্বাস হচ্ছে না? আমারও বিশ্বাস হয় নি। তবে কথাটা সত্যি। ভাইয়া বিয়ে করেছে।"

পিয়াস নিজেকে ধাতস্থ করে কৌতুহলী হয়ে বলল,

"মেয়েটা কে রে?"

আয়মান কপালে ভাঁজ ফেলে বলল,

"ভাই, আমি লন্ডনে আছি। কি করে জানবো মেয়েটা কে? যতটুকু জানি ততটুকু তো বললামই সায়মার বান্ধবি।"

"নামটা জিজ্ঞেস করিস নি?"

আয়মান কিছুক্ষণে ভেবে বলল,

"সায়মার থেকে শুনেছিলাম ওর বেস্ট ফ্রেন্ডের নাম প্রিয়া। তাহলে মেয়েটার নাম প্রিয়া।"

আয়ানের বউয়ের নাম শুনে পিয়াস চুপ হয়ে গেলো। মস্তিষ্ক থমকে গেলো অনাকাঙ্ক্ষিত অতীতে। মুখ থেকে বের হলো অস্ফুট উচ্চারণ,

"প্রিয়া!"

পিয়াসকে চুপ হয়ে যেতে দেখে আয়মান ভড়কে গেলো। শান্ত স্বরে শুধালো,

"কি হয়েছে? ঠিক আছিস তুই? পিয়াস!"

পরপর কয়েকটা বাক্য শুনে পিয়াস সৎবিৎ ফিরে পেলো। আয়মানকে আশ্বস্ত করে বলল,

"আমি ঠিক আছি। আচ্ছা আয়মান, তুই কি প্রিয়ার কোনো ছবি দেখাতে পারবি?"

আয়মান বিরক্ত হয়ে বলল,

"আমাকে দেখে কি মনে হয় আমি মেয়েদের ছবি নিয়ে ঘুরি? আর বোনের বান্ধবির ছবি আমার কাছে থাকার তো কোনো প্রশ্নই আসে না। তা*রছিড়া কোথাকার!"

আয়মানের শেষের কথাটা পিয়াসের উপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারে নি। সে হতাশ শ্বাস ফেলে বলল,

"ওহ আচ্ছা।"

আয়মান সন্দিহান হয়ে বলল,

"ভাবিকে দেখাতে পারলাম না বলে তুই হতাশ হচ্ছিস কেনও? ভাবিকেই বা হঠাৎ দেখতে চাইলি কেনও?"

পিয়াস কথা কাটাতে স্মিত হেসে বলল,

"বোনকে দেখতে। একটু আগে তুই কি বললি? আমার বউ ব্যতীত সবাই আমার বোন। সেই হিসেবে প্রিয়াও আমার বোন। তাই আরকি!"

আয়মান বুঝার ভঙ্গিতে বলল,

"অবশ্য মেয়েটাকে দেখার ইচ্ছা আমারও হয়েছে। কি আছে ওই মেয়ের মধ্যে, যার জন্য ভাইয়া একদিনেই পরিবর্তন হয়ে বিয়ে করে ফেলল!"

"দেখেছিস? তোর মনেও কৌতুহল জেগেছে না? আমারও জেগেছে। ঠিক এই কারণেই মেয়েটাকে দেখতে চাইছি।"

আয়মান হঠাৎ লাফিয়ে উঠে বলল,

"দাঁড়া, সায়মাকে বলি ভাবির একটা পিক পাঠাতে। তারপর তোকেও দিচ্ছি।"

*******

নাহ! আয়মান তৎক্ষণাৎ প্রিয়ার কোনো ছবি পিয়াসকে পাঠায়নি। বিক্ষিপ্ত মস্তিষ্কে কাজে মন বসবে না ভেবে পিয়াস বাড়িতে ফিরে এসেছে। বর্তমানে নিজের রুমে অস্থির ভঙ্গিতে পায়চারি করছে ও। স্বজনী খাটের উপর বসে মন দিয়ে দেখছে পিয়াসের ভাব-ভঙ্গি। কিছুক্ষণ এভাবে চলার পর স্বজনী বিরক্ত হয়ে বলল,

"হয়েছে টা কি তোমার? তখন থেকে দেখছি একাধারে হাটাহাটি করেই যাচ্ছো। বসতে অসুবিধে হচ্ছে নাকি তোমার?"

পিয়াস ততোধিক বিরক্ত হয়ে বলল,

"এক্সাইটমেন্টে মানুষের বসতে অসুবিধে হবে এটাই কি স্বাভাবিক না?"

স্বজনী ঘাড় ঘুরিয়ে বলল,

"তোমার সাথে যখন সংসার করছি তাহলে সব অস্বাভাবিকও স্বাভাবিক!"

পিয়াস হঠাৎ হাঁটা থামিয়ে ওর দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকালো। বলল,

"আমার সাথে বিনা কারণে ঝগড়া না করলে পেটের ভাত হজম হয় না?"

স্বজনী উদ্বেগহীন উত্তর দিলো,

"না, হয় না। এজন্যই ঝগড়া করছি। হজম না হলে রাতের খাবার কি করে খাবো?"

পিয়াস স্বজনীর দিকে তাকিয়ে চুপচাপ উত্তর খুঁজলো। পরপর দুষ্টু হেসে বলল,

"স্বজনী, ফুচকা খাবে?"

স্বজনী উৎফুল্ল হয়ে খাটের উপর দাঁড়িয়ে পড়লো। খুশি হয়ে বলল,

"তুমি খাওয়াবে? আচ্ছা, বাসায় নিয়ে আসবে না বাইরে যাবো আমরা? রেডি হবো?"

পিয়াস কটমট করে বলল,

"একটু আগে না বললে তোমার খাবার হজম হয় নি, রাতের খাবার কি করে খাবে? এখন ফুচকা খাওয়ার সময় পেটে জায়গা কোত্থেকে আসলো?"

ত্যাড়া উত্তরে স্বজনী মিইয়ে গেলো। বুঝতে পারলো নিজের জালে সে নিজে ফেঁসে গেছে। কিন্তু পিয়াসের সামনে হার মানা যাবে না। এসব ভেবে গাল ফুলিয়ে বলল,

"আচ্ছা ঠিক আছে। আজ রাতে তাহলে খাবোই না।"

পিয়াস হতভম্ব হয়ে বলল,

"খাবে না মানে? আমি খেতে না করলাম কখন?"

"ফুচকা খাওয়ানোর লোভ আমাকে দেখানো তাই না? ফুচকা না এনে দিলে এবার রাতের খাবারও খাবো না।"

পিয়াস কপাল চাপড়ে বলল,

"আচ্ছা ঠিক আছে। এনে দিবো।"

স্বজনী জিজ্ঞেস করলো,

এবার বলো এতো টেনশন করছো কি নিয়ে?"

পিয়াস স্বজনীর পাশে বসে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বলল,

আয়মানের বড় ভাই আয়ান ভাইয়া বিয়ে করেছে। আর ওর বউয়ের নাম কী জানো?"

স্বজনী শুধালো, "কী?"

"প্রিয়া!"

প্রিয়ার নাম শুনে পিয়াসের মতো স্বজনীও হঠাৎ চুপ হয়ে গেলো। কিছুক্ষণ ভেবে বলল,

"আমি যা ভাবছি তুমিও কি তাই ভাবছো? হ্যাঁ জানি তোমার ছোট বোনের নাম প্রিয়া ছিলো। তবে সে তো হারিয়েছে বহু বছর আগে। তখন ওর বয়স ছিলো এক বছর। নামটা কি একইরকম থাকা আদ্যো সম্ভব? ওকে ফিরে পাওয়ার আশা করাটা অবাস্তব কল্পনা বলে মনে হয় না?"

পিয়াস স্বজনীর হাতদুটো নিজের মুঠোয় নিলো। চোখ নামিয়ে বলল,

"অবাস্তব হলেও যে বাস্তব হতে চায়। ভুলতে পারি না আমি ওকে। শুধু বোনটাকে ফিরে পেতে চাই। এজন্য অবাস্তব চিন্তাধারা হলেও আশা ছাড়তে পারি না!"

হঠাৎ দরজায় নকের শব্দ পেয়ে পিয়াস স্বজনীর হাত ছেড়ে দিলো। কিছুটা দূরত্বে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

"কে?"

অপরপাশ থেকে ভেসে এলো বৃষ্টির কন্ঠস্বর,

"আমি।"

পিয়াস উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিলো। সাইডে সরে গিয়ে বলল,

"আসো মা।"

বৃষ্টি রুমে ঢুকতে ঢুকতে বললেন,

"আজ তাড়াতাড়ি চলে এলি যে?"

"এমনিই মা। ভালো লাগছিলো না।"

বৃষ্টি উৎকন্ঠিত হয়ে বললেন,

"কি হয়েছে? শরীর খারাপ নাকি?"

পিয়াস স্মিত হেসে বলল,

"আরে না না! শরীর একদম ঠিক আছে। আচ্ছা মা তোমাকে একটা প্রশ্ন করার ছিলো।"

বৃষ্টি হাসিমুখে বললেন,

"হ্যাঁ বল।"

পিয়াস মাকে হাত টেনে বিছানায় বসালো। পরপর পিয়াস-স্বজনী তাকে দু-পাশ থেকে ঘিরে ধরলো। পিয়াস জিজ্ঞেস করলো,

"প্রিয়া নিখোঁজ হয়েছে আজ থেকে একুশ বছর আগে। আচ্ছা ওর নামটা কি একই থাকার কোনো সম্ভাবনা আছে?"

বৃষ্টি হতভম্ব হয়ে বলল,

"হঠাৎ প্রিয়ার স্মৃতিচারণ করতে বসলি যে?"

"হঠাৎ ওর কথা মনে পড়ছে। বলো না মা!"

তখন দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো প্রিয়ন্তী। সবাইকে একসাথে দেখে জিজ্ঞেস করলো,

"আমি মা-কে পুরো বাড়ি খুঁজছি। আর তোমরা এখানে সবাই গল্প করছো? তাও আমাকে রেখে!"

স্বজনী হাতের ইশারায় প্রিয়ন্তীকে কাছে ডেকে বলল,

"তুমি বাদ যাবে কেনও? মা মাত্রই এসেছে। তুমিও এসে পড়ো।"

প্রিয়ন্তীও এসে বসলো স্বজনীর পাশে। মায়ের থমথমে মুখশ্রী দেখে বলল,

"কি হয়েছে? মা এমন মুখ গোমড়া করে রেখেছে কেনও?"

পিয়াস বলল,

"প্রিয়ু একটু চুপ কর। মা প্লিজ, যেটা বলেছি তার উত্তর দাও।"

ভাইয়ের কথার উপর প্রিয়ন্তী কথা বাড়ালো না। মনে একরাশ কৌতুহল নিয়ে তাকালো মায়ের দিকে। যদি উত্তর পাওয়া যায়!

বৃষ্টি একবার করে সবার মুখে দৃষ্টি ফেরাল। তারপর বলতে শুরু করল,

"প্রিয়া হারিয়েছে যখন ওর মাত্র এক বছর। তখন তো ও নিজের নামটাও ঠিকঠাক বলতে শিখে নি। হারিয়ে যাওয়ার এত বছর পর ওর নাম একই থাকবে, এটা চিন্তা করা নেহাৎ বোকামী। যারা ওই এক্সিডেন্টের পর ওকে নিয়ে গেছে তারা হয়তো নিজেদের পছন্দের নাম রেখেছে। কিন্তু একটা আশা আছে নাম একই থাকার!"

পিয়াস-স্বজনী মুহুর্তেই একে-অপরের সাথে দৃষ্টি বিনিময় করলো। স্বজনী জিজ্ঞেস করলো,

"কি আশা, মা?"

প্রিয়ন্তী বুঝতে পারছে এখানে তাদের আরেকটি বোনকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। যদিও প্রিয়ন্তী জন্মের আগেই প্রিয়া নিখোঁজ হয়েছে, তবুও ওর মনে অনেক আশা একদিন হয়তো ওর বোনের সাথে ওর দেখা হবেই! তাই চুপচাপ মনোযোগ দিলো বৃষ্টির কথায়।

বৃষ্টি স্বজনীর উত্তরে বলতে লাগলো,

"পিয়াসের দাদুর দু'টো নাতনীর অনেক শখ ছিলো। বিশেষ করে জমজ। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় এই পরিবারে দুটো মেয়ে হলেও জমজ হয় নি। অন্যদিকে দু'বোন এখন পর্যন্ত একে-অপরের চেহারাও দেখে নি। কিন্তু প্রিয়া আর প্রিয়ন্তীর নামদু'টো তোদের দাদুর ঠিক করা ছিলো। দুই নাতনীর শখ থেকে তিনি দুটো স্বর্ণের চুড়ি বানিয়েছিলেন। যেটার একটাতে প্রিয়ার নাম, অন্যটাতে প্রিয়ন্তীর নাম খোদাই করে লেখা ছিলো। যদিও তোমাদের দাদুর আর প্রিয়ন্তীকে দেখার সৌভাগ্য হয় নি। কিন্তু নামটা তিনিই বলে গিয়েছিলেন। প্রিয়ন্তীর ছোট বেলার সেই চুড়িটা এখনও আমি তুলে রেখেছি। আর প্রিয়ারটা প্রিয়ার হাতেই ছিলো!"

পিয়াস ভাবুক হয়ে বলল,

"তার মানে প্রিয়াকে খোঁজার সেই একটাই অপশন বাকি। ওই চুড়িটা!"

বৃষ্টি মাথা দুলিয়ে বলল,

"মাত্র ১০% সম্ভাবনা ওর নামটা একই থাকার। যেহেতু নামটা লেখা ছিলো, তাহলে প্রিয়াকে নিয়ে যাওয়া পরিবার সেই নামটাই রেখেছে। এর বিপরীতও হতে পারে। হতেও পারে ওরা প্রিয়ার থেকে সম্পূর্ণ অতীতটাই লুকিয়ে ফেলেছে।"

স্বজনী বলল,

"এর মধ্যে দ্বিতীয় বিষয়টা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাহলে আমাদের হাতে প্রিয়াকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।"

প্রিয়ন্তী এতক্ষণ খুব মনোযোগ দিয়ে সবার কথা শুনছিলো। প্রত্যেক বাক্যের আদ্যোপান্ত নেড়ে-চেড়ে দেখছিলো মস্তিষ্কে। স্বজনীর কথার প্রতিত্তোরে বলল,

"সম্ভাবনা খুব কম হলেও, সম্ভাবনা তো আছে! জানো তো? পৃথিবীটা গোল। হারিয়ে যাবে কোথায়? ফিরে তো আসতেই হবে!"

বৃষ্টি ওদের কথা শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

"ও নিখোঁজ হওয়ার পর অনেক খুঁজেছিলাম। তবে পাই নি! তোরা কি পাবি?"

পিয়াস বলল,

"চেষ্টা করে দেখতে দোষ কোথায়?"

বৃষ্টি বলল,

"যেমনটা তোরা ভালো মনে করিস। এখন বড় হয়েছিস, সবকিছু বুঝতে শিখেছিস। পেলে তো ভালোই!"

বলে বৃষ্টি রুম ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন। প্রিয়ার কথা মনে করতে গিয়ে অবাধ্য মন স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছে। এজন্য ছেলে-মেয়েদের সামনে থেকে সরে গেলেন।

তিনি যাওয়ার পর প্রিয়ন্তী জিজ্ঞেস করলো,

"হঠাৎ প্রিয়া আপুকে খোঁজার জন্য উতলা হলে? কি এমন হলো আজ?"

পিয়াস বলল,

"আয়ান ভাইয়া বিয়ে করেছে। ভাইয়ার বউয়ের নামও প্রিয়া। এর থেকেই মনে হলো, প্রিয়ার ব্যাপারে জানা উচিত। কে বলতে পারে ভাগ্য কোথা থেকে কি মিলিয়ে দেয়?"

স্নিগ্ধ প্রেমের মায়া গল্পটি তিয়াশা চৌধুরী-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক থ্রিলার গল্প