স্নিগ্ধ প্রেমের মায়া

পর্ব - ১১

🟢

ভোরের কুয়াশা কেটে গিয়ে সূর্যের কিরণ দেখা যাচ্ছে পরিবেশে। গাছের পাতার উপর বিন্দু বিন্দু শিশির জমা। শীতের সকালের এক অন্যরকম আমেজ পরিবেশজুড়ে।

আয়ান ওয়াশরুমে ঢোকার পর প্রিয়া বিস্মিত দৃষ্টিতে তার যাওয়ার পানে চেয়ে রইলো। আয়ানের সাথে ওর কথা হয় নি এর আগে। আর যখন হচ্ছে তো অবিরাম ত্যাড়াব্যাকা কথাই শুনে যাচ্ছে! কিছুক্ষণ এরকম ভেবে সে ভাবনায় ক্ষান্তি দিলো। মাথা নাড়িয়ে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে। নিচে গিয়ে দেখলো শুধু পারভিন আর নাসরিন রান্না-বান্না করছে। আর সারা কলেজের জন্য রেডি হয়ে নিচে নেমেছে।

প্রিয়া রান্নাঘরে ঢুকে পারভিনকে বলল,

"আন্টি, আমি হেল্প করবো?"

প্রিয়ার কথা শুনে পারভিন রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকালেন ওর দিকে। প্রিয়া সেই চাহনি দেখে ভড়কে গেলো। নিম্ম কন্ঠে আওড়ালো,

"কি হলো আন্টি? আমি কি কিছু ভুল করলাম নাকি?"

পারভিন বললেন,

"ভুল করো নি। অন্যায় করেছো। নিজের শাশুড়ীকে কেউ আন্টি ডাকে? মা ডাকার অভ্যাস করো।"

প্রিয়া হা করে তাকালো পারভিনের দিকে। এইটা যে রাগ করার মতো বিষয় মনেই হয় নি! পরপর মুচকি হেসে মাথা নোয়ালো ও। বলল,

"ঠিক আছে মা।"

নাসরিন বললেন,

"শুধু ওকেই মা? আর আমি? জানো তো, আয়ান আমাকে ছোট মা বলে ডাকে। তুমিও সেই ডাকেরই অভ্যাস করো।"

প্রিয়া উপর-নীচ মাথা দুলিয়ে বলল,

"ঠিক আছে।"

পারভিন বললেন,

"আর এত সকাল সকাল তুমি রান্নাঘরে কি করছো? নতুন বউকে প্রথম দিনই কি রান্নাঘরে ঢুকিয়ে ফেলবো নাকি? না না! যাও সারার সাথে খেতে বসো গিয়ে।"

প্রিয়া ইতস্তত করে বলল,

"মা, আমি একটু আমার বাড়ি যাবো।"

প্রিয়া কথাটা বলে ভয়ে ভয়ে তাকালো পারভিনের দিকে।তিনি হঠাৎ কাজ থামিয়ে গম্ভীর হয়ে গিয়েছেন। প্রিয়া ভাবছে, এখানে আবার কোনো ভুল কিছু বলে ফেললো না তো?

ওর কথাকে সত্যি প্রমাণ করে পারভিন বললেন,

"যাবে মায়ের বাড়ি সেটা বলো। তোমার বাড়ি যাবে এটা বলবে কেনও? এখন কিন্তু তোমার বাড়ি এটাই।"

প্রিয়া প্রথমে অবাক হলেও পরমুহূর্তে মৃদু হাসলো শাশুড়ীর কথায়। বেশ বুঝতে পারলো, তার শশুড়বাড়ি মানুষগুলো খুবই সুন্দর মনের। নাহলে এমন অস্বাভাবিকভাবে বিয়ে হওয়ার পরও কিভাবে ওকে ভালোবাসা দিচ্ছে! এখন শুধু ওই খাটাশটা ভালো হলেই হয়!

"তুমি কি একা যাবে প্রিয়া? আয়ান কোথায়? ও দিয়ে আসুক তোমাকে।"

নাসরিনের কথায় প্রিয়া ভাবনা থেকে বেরিয়ে এলো। কথা এড়াতে বলল,

"উনার কাজ আছে। আমিও চাচ্ছি না আমার জন্য উনার কাজে ব্যাঘাত ঘটুক। আমি যাবো আর আমার জিনিসপত্র নিয়ে চলে আসবো। কাছেই তো। কোনো সমস্যা হবে না, ছোট মা!"

পারভিনও একবার বলল আয়ানের যাওয়ার কথা। কিন্তু প্রিয়া বুঝিয়ে-সুঝিয়ে ঠান্ডা করে দিলো তাদের। যদিও আয়ান গাড়ি নিতে বলেছিলো, কিন্তু প্রিয়া শুনে নি। বেরিয়ে পড়েছো বাড়ি থেকে।

******

হেনা বেগম রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে সকাল সকাল মেয়েকে দেখে খুশিতে গদগদ হয়ে গেলেন। ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন মেয়েকে। জিজ্ঞেস করলেন,

"ভালো আছিস তুই? কোথায় চলে গেছিলি বিয়ের আগমুহূর্তে? জানিস, মা কত দুশ্চিন্তায় ছিলাম। খান সাহেব তোকে ভালো রেখেছে তো?"

প্রিয়া মায়ের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,

"হ্যাঁ আমি ভালো আছি। উনিও আমাকে সুখেই রেখেছে। কমপক্ষে এক বিবাহিত পুরুষের দ্বিতীয় স্ত্রী হওয়ার থেকে উনার একমাত্র স্ত্রী হয়ে আমি খুব সুখে আছি।"

প্রিয়ার কথায় হেনা বেগম থতমত খেয়ে গেলেন। ভেবেছিলেন ব্যাপারটা সেভাবেই ধামাচাপা পড়ে যাবে। তবে প্রিয়া পর্যন্ত কথাটা পৌছে যাবে ভাবেননি! তবে কি আয়ান বলে দিলো?

প্রিয়া মায়ের চিন্তিত মুখশ্রী দেখে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল,

"ভাবছো কি করে জানলাম? খান সাহেব বলেছে আমাকে। প্রথমে তো ভেবেছিলাম, হয়তো আমাদের সাথেই মিথ্যাচার হয়েছে। কিন্তু পরে তো জানলাম আমার মা-ই আমাকে মিথ্যা বলেছে। কেনও করলে এমন? শুধু কিছু টাকার বিনিময়ে? একটা মেয়ের সংসার ভে*ঙে ফেলতে রাজি হয়ে গেলে? একবারও ভাবো নি অন্য মেয়ের সংসার ভেঙে তোমার মেয়ে সুখী হবে কি? কোনোদিনও না! কেনও করতে চাইলে এমন ধ্বং*স? কত টাকা দিয়েছিলো তোমায়?"

প্রিয়ার থমথমে মুখশ্রী দেখে হেনা বেগম কিছুটা ভয় পেলেন। প্রিয়ার প্রশ্নে সম্পূর্ণ নিরুত্তর রইলেন। ভেবে পাচ্ছেন না, কিভাবে মেয়ের বিশ্বাস অর্জন করবেন?

তাকে চুপ থাকতে দেখে প্রিয়া ধৈর্যহারা হয়ে পড়লো। কন্ঠস্বর উঁচু করে জিজ্ঞেস করলো,

"উত্তর দিচ্ছো না কেনও? কত দিয়েছিলো সামির আমার জীবন ন*ষ্টের বিনিময়ে?"

প্রিয়ার চেঁচানোতে কাজ হলো। হেনা বেগম কেঁপে উঠে জবাব দিলেন,

"দুই লক্ষ।"

প্রিয়া টলমলো পায়ে এক কদম পিছিয়ে গেলো। হাত-পা কাঁপছে অবিরাম। ওর মায়াময় চোখদুটোতে অশ্রুকণা উঁপচে আসছে। বিস্ময়ের ঘোরে মুখ থেকে বের হলো অস্ফুট স্বরের আওয়াজ,

"দুই লক্ষ!"

মেয়ে প্রশ্ন করেছে ভেবে হেনা বেগম উত্তর দিলেন,

"হুম।"

প্রিয়া ক্ষেপে গিয়ে বলল,

"দুই লক্ষ টাকা? এই টাকার জন্য তুমি এমন একটা কাজ করতে পারলে? আমি ভাবতেও পারি নি, তুমি এমন কিছু করবে! যাই হোক, বিয়েটা যখন করি নি তো টাকাটা অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। দিতে পারবে তো?"

হেনা বেগম মাথা নিচু করে বলল,

"খান সাহেব দিয়ে দিয়েছে।"

প্রিয়া বিস্ময়ের সহিত বলল,

"উনি দিয়েছে?"

"হুম। উনিই দিয়েছে আর তোকে বিয়েও করেছে।"

প্রিয়ার মনে হঠাৎ করেই আয়ানের প্রতি একরাশ কৃতজ্ঞতা ছেঁয়ে গেলো। ভাবেও নি কেউ এইভাবে ওর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিবে। থাকুক একটু রা*গ, হোক কিছুটা ঘাড়ত্যা*ড়া! তবুও তো ওর জীবনটা ভুল পথে শেষ হওয়ার থেকে বাঁচিয়ে এনেছে। এজন্য ও সর্বদা আয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে প্রিয়া ওর মাকে উদ্দেশ্য করে বলল,

"আমার সব কাপড়, বই-খাতা আর অন্যান্য জিনিস নিয়ে যেতে এসেছি। তোমার জবাবগুলোও নিয়ে যেতে এসেছিলাম। পাওয়া হয়ে গেছে। এবার প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো নিজেই বেরিয়ে যাবো।"

বলে সে হনহন করে হাঁটা দিলো নিজের রুমের দিকে।

******

বেজে গেছে সকাল ১০ টা। সায়মার ঘুম ভাঙলো সেসময়। রাতে ওর স্বামী ইশানের সাথেই কথা বলতে বলতেই তিনটা পার হয়েছে। সারাদিনের ঘটনা একে একে বলতে গিয়েই সময় কোথা দিয়ে চলে গিয়েছে টেরই পায় নি। এজন্য সকালে উঠতেও দেরি হয়েছে।

সায়মা ফ্রেশ হয়ে এসে টেবিলে বসলো। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো সবাই যে যার মতো ব্যস্ত। সারা গিয়েছে কলেজে। আরোশীও ছেলেকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছে। তিনি নিজেও ওই স্কুলের একজন শিক্ষিকা। পারভিন, নাসরিন দুই জা দুপুরের রান্না করছেন। আঞ্জুম খান নিজের ঘরে। ফারদিন খান চলে গেছেন অফিসে। আয়ান রেডি হয়েছে। সোফায় বসে জুতো পড়ছে বের হবে বলে।

সায়মা আশেপাশে তাকিয়ে প্রিয়াকে কোথাও দেখতে পেলো না। অত:পর আয়ানকে জিজ্ঞেস করলো,

"প্রিয়া কোথায় ভাইয়া?"

আয়ান ওর দিকে না তাকিয়েই জবাব দিলো,

"ওর বাড়িতে গেছে।"

আয়ানের কথা শুনে সায়মা সাথে সাথে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। বিস্ময়ের সাথে বলল,

"প্রিয়া ওর বাড়িতে গেছে? আর তুমিও ওকে যেতে দিয়েছো ভাইয়া?"

আয়ান সায়মার এমন প্রতিক্রিয়া দেখে ভড়কে গেলো। বলল,

"ও ওর বাসায় গিয়েছে আমি যেতে না দেওয়ার কে? ওর মা আছে ও যাবে না দেখা করতে?"

সায়মার বিষাদে তেঁতো কন্ঠস্বর ফুড়ে যে শব্দগুলো বের হলো তা আয়ানকে বিভ্রান্ত করে ফেলল।

"এমন স্বা*র্থবাদী মানুষ মা হওয়ার যোগ্য? যে মানুষ কিছু টাকার বিনিময়ে মেয়ের জীবন ন*ষ্ট করতে পারে, তাকে আদর-সম্মান দিয়ে মাথায় তোলার কিছু নেই। প্রিয়া হয়তো জানেই না আন্টি যার সাথে ওর বিয়ে ঠিক করেছিলো সে বিবাহিত। জানলে আন্টির সাথে দেখা করতেই যেত না। আমারই ভুল হয়েছে। কালকেই কথাগুলো বলে দেয়া উচিত ছিলো প্রিয়াকে।"

সায়মার কথায় আয়ান হতবাক হয়ে বলল,

"সামির বিবাহিত ছিলো এটা প্রিয়া জানতো না?"

সায়মা মাথা নাড়িয়ে বলল,

"নাহ। জানলে কি আর বিয়ে করতো নাকি? কোন মেয়ে চাইবে স্বেচ্ছায় সতীনের সংসারে যেতে?"

আয়ান আস্তে করে বলল,

"কিন্তু প্রিয়ার মা যে বলল? সেটা কি তবে মিথ্যা ছিলো?"

"কি বিড়বিড় করছো ভাইয়া?"

আয়ান সন্দিহান হয়ে বলল,

"তুই সিউর, প্রিয়া এই ব্যাপারে কিছু জানে না?"

সায়মা দু'হাত কোমড়ে গুজে বলল,

"ও তো জানেই না। তবে তুমি কি করে জানো?"

"এতসব জেনে তুই কি করবি? শুধু জেনে রাখ, সামির যে বিবাহিত ছিলো এইটা আমি জানতাম। প্রিয়া কি জানতো না?"

সায়মা হতাশ শ্বাস ফেলে বলল,

"না, ভাইয়া। ও জানলে আমি জানতাম না নাকি? প্রিয়াকে কি আমি চিনি না? অন্য মেয়ের সংসার ভা*ঙার মত মেয়ে ও নয়।"

এতটুক বলে সায়মা থামলো। পরপর কিছু একটা ভেবে বলল,

"তুমি কি তাহলে এটা জেনেই ওকে বিয়ে করেছো?"

আয়ান বিরক্ত প্রকাশ করলো সায়মার বারবার একই প্রশ্নে৷ বলল,

"কেনও? বান্ধবির বর হিসেবে আমাকে পছন্দ হচ্ছে না তোর? কিন্তু আমার মনে হয়, ওই বিয়াইত্তা এক বাচ্চার বাবা থেকে তোর ভাই থাউজ্যান্ড টাইম বেটার তোর বান্ধবির জন্য!"

সায়মা কটমট করে বলল,

"আমি বলেছি তোমাকে পছন্দ না? বরং তোমাদের বিয়েতে আমিই সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছি। কিন্তু তুমি জেনে-বুঝে ওকে যেতে দিলে কেনও? আমি তো ওইদিন মুখের উপর বলে এসেছিলাম প্রিয়াকে ও বাড়ি যেতেই দিবো না!"

আয়ান অন্যদিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল,

"আমি কি জানতাম নাকি এই মেয়ে এমন? শুধু শুধু আমার ব্রেইনটা ওয়াশ করে রেখেছিলো! নাহলে যেতে দিতাম? আর না কাল রাতে কথা শুনাতাম? উফফ, কি যে করলাম! রাগটাকে কন্ট্রোল করে ওর কথা শোনা উচিত ছিলো আমার!"

সায়মা আয়ানকে বিড়বিড় করতে দেখে ভ্রু কুঁচকে বলল,

"সমস্যা কি? এইভাবে বিড়বিড় করে কি বলছো?"

আয়ান স্মিত হেসে বলল,

"কিছু না।"

সায়মা এই উত্তরে আরও রেগে গেলো। বলল,

"কাল বিয়ে করে এনে আজ বউকে একা ছেড়েছো কেনও? তাও ওই বাড়িতে। অফিস ক্যান্সেল তোমার আজ। যাও প্রিয়াকে নিয়ে আসো।"

আয়ান বলল,

"তোর সমস্যা কি? বড় ভাইকে অর্ডার করছিস? লজ্জা করছে না?"

সায়মা কোমড় বেঁধে নেমেছে ঝগড়া করতে। বলল,

"বড় ভাই যখন ছোট বোনের বান্ধবিকে তুলে নিয়ে বিয়ে করে তখন কি অভিধান থেকে লজ্জা-শরম শব্দটা গায়েব হয়ে যায়?"

"বান্ধবিকে আমার কাছে বিয়ে দিয়ে বুঝি বিশ্ব উদ্ধার করে ফেলেছিস? এজন্য তোকে পুরষ্কারস্বরুপ একটা লাত্থি মারা উচিত। এতদিন এই ননস্টপ বকবকানি তুই পেলেছিস। এখন আমাকে পালতে হবে!"

সায়মা এতক্ষণ ঝগড়া করার মুডে থাকলেও আয়ানের কথা শুনে হেসে ফেলল। হাসতে হাসতে বলল,

"কেনও? এক রাতেই কি মাথা-টাথা গিয়েছে নাকি তোমার?"

আয়ান বিরক্ত হয়ে বলল,

"শাট আপ। এটা হাসির জিনিস?"

সায়মা হাসি থামিয়ে বলল,

"একদমই না। এটা কান্না করার জিনিস। আমার ভাইটা পাগল হয়ে যাচ্ছে এটা অবশ্যই কান্না করার মতো জিনিস।"

"কে যে পাগল হয়েছে সেটা বোঝাই যাচ্ছে। আবোল-তাবোল বকা শুরু করেছিস।"

সায়মা বলল,

"প্রিয়াকে আনো গিয়ে। তারপর তোমার সাথে কথা বলে কে?"

আয়ান চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছে সায়মার দিকে। কপালে পড়েছে ভাঁজ। উত্তর দিবে দিবে ভেবেও দিলো না। ধুপধাপ পা ফেলে চলে গেলো বাইরে। ওর যাওয়ার পানে তাকিয়ে শব্দ করে হেসে ফেলল সায়মা।

স্নিগ্ধ প্রেমের মায়া গল্পটি তিয়াশা চৌধুরী-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক থ্রিলার গল্প