সময় বহমান তার নিজস্ব গতিতে। কেটে গেছে মাঝে আরও চারটা দিন। প্রিয়ন্তী গত পরশুদিন এসে পৌঁছেছে চট্টগ্রাম। সাথে পিয়াস-স্বজনীও এসেছে। পিয়াস গতকাল গিয়ে ভার্সিটিতে কথা বলে এসেছে। তাদের খালাতো বোন সন্ধ্যাও একই ভার্সিটিতে থার্ড ইয়ারে পড়ছে। সে প্রিয়ন্তীকে অভয় দিয়েছে সবসময় সাহায্য করবে বলে।
পিয়াস-স্বজনী আজও এখানেই রয়েছে। আয়মানের সাথে দেখা করে আজ বিকেলে ঢাকা ফিরে যাবে।
*******
খান বাড়িতে যেনও আজ উৎসব লেগে গিয়েছে। দু'বছর পর ঘরের ছেলে ঘরে ফিরছে। এতেই সকলে খুশিতে আত্মহারা। সবাই অফিস, কলেজ, ভার্সিটি সব বন্ধ করে আজকের জন্য বাড়িতেই। পড়াশোনা চলাকালীন আয়মান বছরে একবার দেশে ফিরলেও গত দু'বছরে ফিরে নি। এবার একেবারেই ফিরছে দেশের মাটিতে, পরিবারের কাছে।
এই কয়েকদিনে আয়ান-প্রিয়ার সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হয় নি। যতক্ষণ আয়ান বাড়ির বাইরে থাকবে আর প্রিয়া অন্য সকলের সাথে থাকবে ততক্ষণ সব ঠান্ডা। কিন্তু দিনশেষে যখন রুমে ফিরবে আবার যে কে সেই! প্রিয়া নিজের কথা থামাবে না, আয়ানও কথার বিপরীতে ত্যাড়া উত্তর দিতে মিস করবে না। এভাবেই চলছে এই কয়দিন।
আয়ান প্রিয়াকে সুন্দরমতো বুঝিয়ে দিয়েছে, বিয়ে হলেও পড়াশোনা ছাড়া যাবে না। তাই বিয়ের তৃতীয় দিন থেকেই পাঠিয়ে দিয়েছে ভার্সিটি। শুধু আজ আয়মানের আগমন উপলক্ষে সবারই ছুটি।
হূলস্থূল পরিবেশের মাঝে আয়ান রেডি হয়ে নিচে নেমে এলো। এখনই বের হবে এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে। তার মধ্যে বিরাজমান অস্থিরতা ও খুশির মিশ্র অনুভূতি। প্রিয়া আড়চোখে লক্ষ্য করলো যে মানুষের মুখে হাসিই দেখা যায় না, তার ভাব-ভঙ্গিতে আজ যেনও খুশি উঁপচে পড়ছে। ভাইকে এতদিন পর কাছে পাওয়ার খুশিতে বিভোর সে।
*******
আয়ান কিছুক্ষণ আগেই এয়ারপোর্ট এসে অপেক্ষা করছে আয়মানের। আয়ান একাই এসেছে এয়ারপোর্ট। চাচাকে সঙ্গে আনে নি। আয়মানের থেকে আগেই শুনেছে পিয়াস আসবে এয়ারপোর্ট। আয়মান আসার সাথে সাথেই একটা ঝামেলা সৃষ্টি হোক এটা আয়ান চায় না। এজন্য কাউকেই সাথে আনে নি।
ঠিক সকাল এগারোটায় প্লেন ল্যান্ড করলো বাংলাদেশের মাটিতে। আয়মান চেক আউট করে বেরিয়ে এসে সবার আগেই দেখলো আয়ানকে। দু'বছর পর ভাইকে চোখের সামনে দেখে আয়ান থমকে গেছে। স্থির দাঁড়িয়ে থেকে দেখে যাচ্ছে তাকে।
আয়মান নিজেই ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলো আয়ানকে। বলল,
"দু'বছর! কতগুলো দিন পর আবার ফিরলাম তোমাদের কাছে। খুশিতে মনে হচ্ছে পাগল হয়ে যাবো।"
আয়ান ওকে ছাড়িয়ে দাঁড় করালো। আয়মানের সিল্কি গোছানো চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে বলল,
"বড় হয়ে গেছিস, ভাই! প্রচুর মিস করেছি তোকে এতদিন।"
আয়মান অগোছালো চুলে হাত বোলালো ঠিক করার উদ্দেশ্যে। অনেকদিন পর ভাইয়ের সেই পুরোনো অভ্যাসের সংস্পর্শে এসে প্রশান্তিতে ভরে গেলো মন। তবুও কপট রাগ দেখিয়ে বলল,
"চুল নষ্ট না করলে তোমার হয় না?"
আয়ান ইশারায় না বোঝালো। বলল,
"এতদিন পর সুযোগ পেয়েছি। না করিস না, প্লিজ!"
তার বলার ভঙ্গিতে আয়মান হেসে ফেলল।
সেসময় ঝড়ের বেগে ছুটে এসে হাজির হলো পিয়াস। তাদের সামনে এসে হাঁটুতে হাত রেখে হাঁপাতে লাগলো। আয়মান ওকে দেখে বলল,
"পিয়াস, তুইও এসে পড়েছিস। ভাবিও এসেছে নাকি?"
পিয়াস সোজা হয়ে দাঁড়ালো। লম্বা দম নিয়ে আয়মানকে জড়িয়ে ধরলো৷ বলল,
"ভাই, এতদিন পর এসেছিস একটু আমারও খোঁজ খবর নে। শুধু ভাবির খোঁজ নিলেই হবে?"
স্বজনী সেইমুহুর্তে এসে হাজির হলো সেখানে। দেখলো পিয়াস আর আয়মান জড়াজড়ি করতে ব্যস্ত। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটিকে দেখে বুঝতে পারলো এটাই আয়মানের বড় ভাই। দু'ভাইয়ের চেহারায় অসম্ভব রকম মিল দেখে অনায়াসেই ধরে ফেলতে পারলো স্বজনী। নরমস্বরে বলল,
"আসসালামু আলাইকুম, ভাইয়া। ভালো আছেন?"
আয়ান হাসিমুখে সালামের উত্তর দিয়ে কুশল বিনিময় করলো। আয়মান ও পিয়াস ওদের দিকে ফিরলো। আয়মান শুধালো,
"এটাই কি তাহলে আমার ভাবি? আসসালামু আলাইকুম ভাবি। কেমন আছেন?"
স্বজনী হেসে উত্তর দিলো,
"ভালো, আপনি?"
"আমিও ভালো। ভাই, একটা ভাবির দেখা পেয়ে গেলাম তাহলে!"
পিয়াস বলল,
"হ্যাঁ ভাই, হ্যাঁ। এবার খুশি? আমার ভাবি কবে পাচ্ছি তাহলে?"
আয়মান চোখ রাঙিয়ে বলল,
"আশ্চর্য! একটা ভাবি দেখেছি। বড় ভাবিকে এখনও দেখাই হয়। তোর ভাবি কোত্থেকে আসবে?"
আয়ান পিয়াসের কথায় মজা নিতে বলল,
"ঠিকই বলেছে ও। লন্ডন থেকে যদি ভাবি নিয়ে আসিস। সেটাই খুঁজছে। তাই না পিয়াস?"
পিয়াস সায় জানিয়ে বলল,
"একদম ঠিক ভাইয়া। আয়মান, লন্ডন থেকে ভাবি এনেছিস নাকি?"
"হাই এভরিওয়ান!"
আয়মান না করতে যাবে তার আগেই কারো কন্ঠস্বর পেয়ে সবাই ঘুরে তাকালো। জিন্স এবং বেবি পিংক কালারের শর্ট টপস পড়নে এক সাদা চামড়ার রমনী। চুলগুলো ছোট করে কাটা। কিন্তু চেহারায় সূক্ষ্ম একটা বাঙালি ভাব রয়েছে। মিষ্টি হাসি ফুটিয়ে তাকিয়ে রয়েছে তাদের দিকেই।
নাতাশা এসে এমনভাবে কথাটা বলেছে যেনও তাদের পূর্বপরিচিত। সবাই একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলো। পরপর বিস্মিত ও সন্দিহান তিন জোড়া দৃষ্টি পড়লো আয়মানের উপর।
নাতাশা ততক্ষণে আরেকটু এগিয়ে এসেছে। আয়মানের পাশে দাঁড়িয়ে বলল,
"আয়মান, তুমি আমাকে এইভাবে একা ফেলে চলে এলে কেনও? জানোই তো আমি বাংলাদেশের তেমন কিছুই চিনি না।"
তার এ কথায় সকলের সন্দেহ আরও প্রগাঢ় হলো। সিরিয়াস ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে। নাতাশার কথা শুনে আয়ান বলল,
"হ্যাঁ হ্যাঁ আয়মান। এভাবে ফেলে এলি কেনও? মেয়েটা যখন কিছু চিনে না, তোর উচিত ছিলো সাথে করে নিয়ে আসা।"
আয়মান ভাইয়ের কথার খোঁচা বুঝতে পারলেও নাতাশা বুঝতে পারলো না। সে ভাবলো আয়ান হয়তো আন্তরিকতা দেখিয়ে এই কথা বলছে। তাই মিষ্টি হেসে জবাব দিলো,
"সমস্যা নেই ভাইয়া। এখন তো এসেই পড়েছি। আস্তে-ধীরে চিনে যাবো সব।"
আয়ান আবারও খোঁচা মেরে বলল,
"হ্যাঁ। আস্তে-ধীরে সব চিনবে। আয়মান আছে না? সে তোমাকে চিনিয়ে দিবে।"
নাতাশা পারলে খুশিতে রাস্তার মাঝেই লাফ দেয়। কিন্তু আয়মান রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে গেছে৷ কথা ছিলো এই মেয়ে এয়ারপোর্টে নেমেই নিজের রাস্তা মাপবে। অথচ এদের সামনে এসে এমন ঢং করছে যেনও ও নিয়ে এসেছে।
আয়ান উপর নিচ নাতাশাকে পরখ করলো। মনে মনে ভাবছে, সে প্রিয়াকে বিয়ে করার পর মা তো হাসিমুখেই মেনে নিয়েছে। কিন্তু আয়মান যখন এই জিন্স আর শর্ট টপস পড়া মেয়ে নিয়ে যাবে তখন ওর মা অজ্ঞান হয়ে যাবে না তো? সবার রিয়েকশনটা ঠিক কেমন হবে?
অন্যদিকে স্বজনী চরম বিরক্ত হচ্ছে নাতাশাকে দেখে। দুনিয়াতে কি জামা-কাপড়ের শর্টেজ পড়েছে? এমন ছোট জামা-কাপড় পড়তে হবে কেনও? আর আয়মানই বা একে তুলে এনেছে কেনও?
এসব ভাবছে আর আড়চোখে তাকাচ্ছে পিয়াসের দিকে। পরের বার তাকাতেই দৃষ্টি মিলে গেলো ওর সাথে।
পিয়াস ভ্রু কুঁচকে চেয়ে আছে ওর দিকে। বলল,
"সমস্যা কি তোমার? যেই জিন্স-টপস পড়া মেয়ে দেখেছে অমনিই রাক্ষুসে নজরে তাকানো শুরু করলে স্বামীর দিকে?"
স্বজনী মাথা ঝুঁকিয়ে মিনমিন করে বলল,
"কোথায় রাক্ষুসে নজরে তাকালাম? আমার নজর তো ঠিকই ছিলো।"
"সে তো দেখতেই পেয়েছি। অমন মেয়ে মানুষে আমার ইন্টারেস্ট নেই। আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, আপনি ছাড়া অন্য কারো দিকে তাকানোর প্রয়োজন আমার কোনোদিন পড়ে নি আর পড়বেও না। আপনি চাইলে এই মেয়ে সরা পর্যন্ত চোখ বন্ধ করে রাখি আমি। তাও এই পাবলিক প্লেসে এমন রাক্ষুসে নজরে তাকাবেন না।"
পিয়াসের কথা কানে গিয়েছে আয়ানের। স্বজনীর আচরণ দেখে ও ভাবছিলো ভাগ্যিস প্রিয়াকে আনে নি। নাহলে পাবলিক প্লেসেই ঝগড়া লেগে যেতও। পিয়াস তো খুব সুন্দর বউকে সামনে নিয়েছে। এখন দেখার পালা আয়মান কিভাবে সামলায়!
সবাই ধারনা করে ফেলেছে আয়মানই এই মেয়েটাকে নিয়ে এসেছে। আর তার কথার আন্দাজে বোঝা গেলও মেয়েটি হয়তো আয়মানের গার্লফ্রেন্ড। আয়ান আর পিয়াস, দুইজনের মনেই অভিমানের পাহাড় আকাশ ছুঁয়েছে। ভেবে পাচ্ছে না, আয়মান এত বড় কথাটা কিভাবে লুকালো?
কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে আয়মান ধমকে উঠলো,
"এসব কি ধরনের মজা, নাতাশা? এইভাবে আঠার মতো আমার পিছনে লেগে আছো কেনও? বলা ছিলো ফ্লাইট পর্যন্ত আমাদের সঙ্গ। বাংলাদেশে পৌঁছালে তোমার রাস্তা আলাদা আর আমার রাস্তা আলাদা। তো এখন এই ঢং কেনও? আমার পরিবার থেকে আমাকে নিতে এসেছে, আর আমি তাদের সাথেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। আর তোমার পরিবার নিতে আসলে তাদের সাথে যাও আর নয়তো একা একা যাও। কিন্তু আমার পিছু ছাড়ো।"
বলে আয়মান হাঁবরাবর টা দিলো সামনের দিকে। আয়ানের আনা গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে জোরে জোরে নিশ্বাস নিয়ে রাগ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করতে লাগলো।
আয়ানও ভদ্রতা করেও কিছু জিজ্ঞেস করলো না। সোজা এসে পড়লো ভাইয়ের কাছে। পিছু পিছু পিয়াস-স্বজনী। আর নাতাশা অপমানিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সেখানেই।
আয়ান এসেই জিজ্ঞেস করলো,
"মেয়েটা কে?"
আয়মান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
"আমার এপার্টমেন্টের পাশের এপার্টমেন্টে থাকে ভাইয়া। নাতাশা। ওই যে বললাম আঠা টাইপের মেয়ে। এক প্রকার জোর-জবরদস্তি করে আমার সাথে একই ফ্লাইটে এসেছে। বাংলাদেশ এসে পড়েছে, এবার নিজের রাস্তা মাপুক।"
পিয়াস বলল,
"মেয়েটা লন্ডন থেকে এসেছে। হয়তো আসলেই কিছু চিনে না। এভাবে রাস্তায় ফেলে আসা উচিত হচ্ছে?"
স্বজনী ফোঁড়ন কেটে বলল,
"উনার বোধহয় বেশিই দরদ হচ্ছে। ভাইয়া, তাহলে উনাকেই বলুন দিয়ে আসতে।"
পিয়াস কথা না বাড়িয়ে চুপ করে গেলো। এখন কথা বাড়ানো মানেই নিজের বিপদ ডেকে আনা। আয়ান, আয়মান একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। আয়মান বলল,
"এই মেয়ে সব চিনে। শুধু শুধুই ঢং করছিলো। তুই এই মেয়ের কথা না ভেবে নিজের বউয়ের কথা ভাব। তাকে নিয়ে বাড়ি যা।"
"হত*চ্ছাড়া, আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছিস? আমার বাড়ি গেলে তোকেও দরজা থেকে ঠিক এভাবেই তাড়িয়ে দিবো।"
কথার তালে এটাকে মজা মনে করে সবাই হাসলো। কিন্তু তাদের মন জানে, এটা কোনোদিনও হওয়ার নয়!
কিছুসময় কথাবার্তা বলে বিদায় নিলো পিয়াস-স্বজনী। বলে গেলো কিছুদিন পর আবার আসবে চট্টগ্রাম। ওরা বিদায় নিতেই আয়ান - আয়মানও গাড়ি ছোটালো বাড়ির পথে।
******
মাঝপথে আয়মান জিজ্ঞেস করলো,
"হঠাৎ এইভাবে বিয়ে করে ফেললে যে ভাইয়া? তোমার বিয়ের দুইদিন আগেও তো ফোন করে কাহিনি শোনালে আমাকে। তার দুইদিন পরেই পরিবর্তন!"
"পরিবর্তন না আর কিছু! বললামই তো বাধ্য হয়ে বিয়েটা করেছি।"
আয়মান ঘুরে বসলো আয়ানের দিকে। বলল,
"খুলে বলো তো কাহিনি! সেই এক সপ্তাহ ধরে শুনেই যাচ্ছি বাধ্য হয়ে, বাধ্য হয়ে। অথচ কেনও হলে সেটাই বুঝলাম না। প্রেমের বাধ্যবাধকতা নাকি?"
আয়ান বিরক্ত হয়ে বলল,
"কিসের প্রেমের বাধ্যবাধকতা? ভাই বাধ্যবাধকতা তো তুই দেখালি। আরেকটু হলে হার্টফেইল করতাম আমি। মনে মনে ভাবছিলাম এমন জিন্স-টপস পড়া বউমা দেখলে মা অজ্ঞান-টজ্ঞান হয়ে যাবে না তো?"
"বাব্বাহ! কত্তকিছু ভেবে ফেলেছে একমিনিটেই। এমন মেয়েকে বিয়ে কে করবে ভাই? আর তুমি আছো বউমা নিয়ে!"
আয়ান হাসতে হাসতে বলল,
"বলিস না ওসব! অপছন্দ করতে করতে বউ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা ভাই!"
আয়মান কৌতুহলী হয়ে শুধালো,
"অপছন্দ থেকে?"
আয়ান একে একে বলল সব কাহিনি। বিয়েটা কিভাবে, কেনও, কি পরিস্থিতিতে হয়েছে কোনোটাই বাদ রাখে নি বলতে। সব শুনে আয়মান হাসবে না কাঁদবে এটাই খুঁজে পাচ্ছে না! অন্যদিকে মস্তিষ্কে বাসা বাঁধলো এক অন্য টেনশন, অস্বাভাবিকভাবে শুরু হওয়া সম্পর্কটাই যদি স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে তো?