স্নিগ্ধ প্রেমের মায়া

পর্ব - ১৮

🟢

ঘড়ির কাটা টিকটিক করে সময় জানান দিচ্ছে সকাল ১১ টা। পিএ পদপ্রার্থী অনেকে সিরিয়ালে বসে রয়েছে। প্রিয়ন্তীও তাদের মধ্যে একজন। ও সকাল থেকে একের পর এক যেই অকাজ করে যাচ্ছে এরপর আয়মানের ওকে রাখার কোনো সম্ভাবনাই নেই৷ কিন্তু প্রিয়ার একান্ত অনুরোধে এখনও বসে রয়েছে। যদি প্রিয়ার কথামতোই হয়ে যায়!

একটুপর ম্যানেজার এসে ঘোষণার মতো করে বলল,

"এখানে মিস প্রিয়ন্তী চৌধুরী কে?"

প্রিয়ন্তী উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

"জি, আমি।"

"আয়মান স্যার মিস প্রিয়ন্তী বাদে বাকি সবাইকে চলে যেতে বলেছেন।"

এক কথায় সবাই বুঝে গেলো চাকরীটা প্রিয়ন্তীর হয়ে গেছে। প্রিয়ন্তী এতক্ষণ ঘুরে ঘুরে কয়েকটা মেয়ের সাথে কথা বলেছে। তারা এসে একে একে অভিনন্দন জানাচ্ছে ওকে। অথচ প্রিয়ন্তী বিস্ময়ের চরম পর্যায়ে গিয়ে তাদের ধন্যবাদ দিতেও ভুলে গেলো। যখন ম্যানেজার এসে ওর নাম বলল ও ভেবেই নিয়েছিলো আয়মান আবার ডাকছে কথা শোনাতে। কিন্তু হিতে-বিপরীত হয়ে যাওয়াটা ও স্বাভাবিকভাবে মানতে পারছে না।

আধা ঘন্টা পর সায়মা ড্রাইভারের হাতেই আয়মানের কাপড় পাঠালো। প্রিয়ন্তী কফিটা ভুল জায়গায় ফেলে এমনভাবে ভিজিয়েছে যে বেচারা কারো সামনেই যেতে পারছে না। ম্যানেজার যতবার কেবিনে ঢুকেছে আয়মান উলটো ঘুরে দাঁড়িয়ে ছিলো। সবশেষ কাপড় রেখে যাওয়ার পর আয়মান কেবিনের দরজা বন্ধ করলো।

পদপ্রার্থী সবাই চলে গিয়েছে। শুধু প্রিয়ন্তী একা একা বসে রয়েছে। অপেক্ষায় আছে আরেকটা ধামাকার। ঠিক ১৫ মিনিট পর ওর ডাক পড়লো আয়মানের কেবিনে। সে নার্ভাসনেসে ভুল করে নক না করেই ঢুকে গেলো ভিতরে।

আয়মান সবে নষ্ট শার্টটা খুলে পরিষ্কারটা গায়ে জড়িয়েছে অমনিই প্রিয়ন্তী ঢুকে গেছে কেবিনে। একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির রেশ সম্পূর্ণভাবে কাটানোর আগেই নতুন অস্বস্তির আগমন। নক ছাড়া ঢুকে এমন একটা পরিস্থিতিতে পড়ে যাবে ও কল্পনাও করে নি। একের পর এক ধাক্কা সইতে না পেরে মস্তিষ্ক অচল হয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে ভুলে গেলো।

এদিকে ভুল সময়ে প্রিয়ন্তীর আগমনে আয়মানও বিব্রত হয়ে পড়েছে। দ্রুত শার্টের বোতাম লাগিয়ে ধমক দিয়ে বলল,

"তুমি এখানে কি করছো? তোমাকে না ওইসময় বলেছি চলে যেতে? এখনও আমার চোখের সামনে রয়েছো তুমি?"

প্রিয়ন্তী ধাক্কা সামলে নড়ে-চড়ে উঠলো। মিনমিনিয়ে বলল,

"আমার কি দোষ? উনিই তো গিয়ে বললেন প্রিয়ন্তী বাদে বাকি সবাইকে চলে যেতে। তাই আমি রয়ে গেলাম।"

আয়মান চোখ ছোট ছোট করে জিজ্ঞেস করলো,

"ওয়েট এ মিনিট! আমি তো শুধু মিস প্রিয়ন্তীকে থাকতে বলেছিলাম। তার মানে তুমিই প্রিয়ন্তী?"

প্রিয়ন্তী উপর-নীচ মাথা দুলিয়ে সায় জানালো। আয়মান হতাশ হয়ে চেয়ারে বসে পড়লো। কপালে হাত দিয়ে বলল,

"ভাবির সেই প্রিয় বান্ধুবি তুমিই! কেনও হ্যাঁ বলতে গেলাম আমি ভাবিকে? কেনও যেঁচে নিজের বিপদ ডেকে আনলাম!"

প্রিয়ন্তী অবাক চোখে আয়মানের প্রতিক্রিয়া দেখছে। এবার পুরো বিষয় তার মাথায় ঢুকেছে। প্রিয়ার কথায় আয়মান ওকে রাখতে বাধ্য হয়েছে। প্রিয়ার জন্য কাজটা সহজ হয়ে গেলো! এটা ভেবে মনে মনে খুশি হচ্ছে প্রিয়ন্তী। আবার ভয়ও পাচ্ছে, ওর সব কুকীর্তির কি শাস্তি দিবে আয়মান?

বেশ অনেকক্ষণ নীরবতা পালনের পর আয়মান গম্ভীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,

"তুমি প্রিয়া ভাবির বান্ধুবি, রাইট?"

প্রিয়ন্তী অবাক হওয়ার ভান করে বলল,

"ও আপনার ভাবি হয়? আমি তো জানতামই না!"

আয়মান বিরক্ত হয়ে বলল,

"এমন ভাব করছো যেনও কিছুই জানো না। ভাবিকে ভুল-ভাল বুঝিয়ে এই অব্দি এসেছো। কিভাবে পটিয়েছো ভাবিকে?"

প্রিয়ন্তী হতাশ হয়ে বলল,

"জীবনে কোনো ছেলেই পটাই নি সেখানে মেয়েকে কেনও পটাতে যাবো? একদম উল্টোপাল্টা বলবেন না!"

আয়মানের মেজাজ এতক্ষণে যাও ঠিক হয়েছিলো প্রিয়ন্তীর ভুলভাল জবাবে আবার সেটা বিগড়ে যাচ্ছে। যেখানে এই মেয়ে দু'মিনিট তার চোখের সামনে থাকলেই রাগ লাগছে সেখানে ওকে পিএ হিসেবে কি করে রাখবে ও?

কিন্তু যেহেতু প্রিয়াকে বলেই ফেলেছে এখন তো আর পিছে ফেরা যাবে না। যেভাবেই হোক এই উদ্ভট ঝামেলা সামাল দিতেই হবে। আয়মান কোনোমতো রাগ কন্ট্রোল করে বলল,

"ভাবির কথায় এই জবটা তোমাকে দিচ্ছি। দায়িত্ব জানো তো? আমার পিএ হওয়ার দায়িত্ব এটাই আমি যখন যা বলবো তাই করতে হবে। 'যখন যা' বলতে বুঝো? মানে আমি যেকোনো সময় তোমাকে অর্ডার করতে পারি।"

প্রিয়ন্তী মাথা নিচু করে বলল,

"হ্যাঁ বুঝেছি।"

আয়মান কিছু পেপার্স এগিয়ে দিয়ে বলল,

"এই নাও এগ্রিমেন্ট পেপার। এখানে অফিসের সব রুলস লেখা আছে। পড়ে সাইন করে দাও।"

প্রিয়ন্তী কোনো রুলসই মনোযোগ দিয়ে পড়ার চেষ্টা করলো না। নিয়ম নিয়ে তার কোনো মাথাব্যাথাই নেই। যেই নিয়ম পালনযোগ্য হবে তা পালন করবে। আর যখন পালন করতে ইচ্ছে করবে না তখন শুধু ভাইয়াকে ফোন করে ওকে নিয়ে যেতে বলবে। কাহিনি খতম!

প্রিয়ন্তী কোনোরকম এগ্রিমেন্টে চোখ বুলিয়ে সাইন করে দিলো। তারপর সেটা এগিয়ে দিলো আয়মানের কাছে। আয়মান কম্পিউটার স্ক্রিনে চোখ রেখেই সেটা হাতে নিলো। পরপর বলল,

"কাজ শেষ। এবার আমার কেবিন থেকে বের হও। গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন ছাড়া যেনও আমার চোখের সামনেই না দেখি।"

চাঁপা স্বরের হুমকি পেয়ে প্রিয়ন্তী কোনোরকম কেবিন থেকে পালিয়ে বাঁচলো। আয়মান ম্যানেজার সাহিলকে ডেকে বলল,

"মিস্টার সাহিল, মিস প্রিয়ন্তীকে তার কেবিনটা দেখিয়ে দেবেন। আর বর্তমানে আমাদের অফিসের যত পেন্ডিং ডিল আছে সবগুলোর ফাইল খুঁজে বের করুন।"

ম্যানেজার কিছুটা অবাক হয়ে বলল,

"সবগুলো ফাইল বের করবো? এতগুলো ফাইল দিয়ে কি হবে স্যার?"

আয়মান বলল,

"ফাইল নিয়ে কি হবে না হবে এগুলোর কৈফিয়ত নেওয়ার জন্য আপনাকে রাখা হয় নি। আপনাকে যেটা বলেছি সেটা করুন। সবগুলো ফাইল আমার সামনে হাজির করুন। ফাস্ট!"

আয়মানের প্রথম কথায় অপমানিত বোধ করলো ম্যানেজার। নীচু স্বরে বলল,

"এতগুলো ফাইল খুঁজে বের করতে সময় লাগবে স্যার!"

আয়মান কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে ম্যানেজারের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো। বলল,

"অফিসে লোক কম রাখা হয়েছে? নাকি আপনাদের টাকা কম দেয়া হচ্ছে? একটা কাজ করতে দিলে এত গাফিলতি কেনও? আমি বলেছি এখনই খুঁজে দিতে তো এখনই! দরকারে আরও চার-পাঁচজন লোক নিয়ে খুঁজে বের করুন। তবুও দ্রুত!"

ম্যানেজার মাথা নাড়িয়ে বেরিয়ে গেলো কেবিন থেকে। তার চলে যাওয়ার পর আয়মান দৃষ্টি ফেরালো কম্পিউটারের উপর। অধরকোণে লেগে রয়েছে চতুরতার হাসি। আপনমনে বলল,

"মিস প্রিয়ন্তী চৌধুরী, আমি আপনাকে কিছু বলবো না। কিন্তু ব্যবস্থা এমন করবো, আপনি নিজেই ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করবেন!"

******

বিশাল এক ফাইলের পাহাড় বসিয়ে দিয়েছে প্রিয়ন্তীর কেবিনে। এগুলো দেখে প্রিয়ন্তীর মনে হচ্ছে ও এখন এই ফাইলের উপরই মাথা ঘুরে পড়ে যাবে। বুঝতে পারছে না, এত পুরোনো ফাইলগুলোও তার দায়িত্বে দেয়ার কি দরকার? ম্যানেজারের থেকে শুনেছে এই ফাইলগুলো ইতিমধ্যেই দুই-তিনবার চেক হয়েছে। আবারও কেনও প্রিয়ন্তীর হাতে তুলে দিয়েছে এই নির্দিষ্ট কারণ তার জানা নেই। প্রিয়ন্তী সব শুনে ম্যানেজারের দিকে তাকালো। তার শুকনো মুখটা দেখে ওর ভীষণ মায়া হলো। নরম সুরে জিজ্ঞেস করলো,

"আপনার মুখ এমন শুকনো লাগছে কেনও?"

সাহিল জোর করে মুখে হাসি ফুটানোর চেষ্টা করলো। বলল,

"কই? আমি একদম ঠিক আছি।"

প্রিয়ন্তী কিছু একটা বুঝতে পেরে বলল,

"বুঝেছি। ওই নাক উঁচু গন্ডারটা আপনাকে কিছু বলেছে, তাই না? সত্যি বলছি, উনার মতো রাক্ষুসে লোক আমি আমার জীবনে দুটো দেখিনি।"

সাহিল সম্মতি দিলো প্রিয়ন্তীর কথায়। মেয়েটা খুব একটা ভুল বলে নি। সে যখনই সায় জানিয়ে কিছু বলতে যাবে চোখ উঠিয়ে দেখলো প্রিয়ন্তীর ঠিক পিছনে কয়েক কদম দূরত্ব রেখে দাঁড়িয়ে রয়েছে আয়মান৷ প্রিয়ন্তীর কথা শুনে রাগে ফুঁসছে সে। এই দৃশ্য দেখে সাহিল প্রিয়ন্তীকে ইশারায় থামাতে চাইলো। কিন্তু সে নাছোড়বান্দা বলে যাচ্ছে,

"কেমন লোক দেখেছো? জীবনে দুটো ডায়লগই শিখেছে, শাট আপ আর গেট আউট। এছাড়া মুখ দিয়ে অন্য কোনো কথাই নেই! আর আছে অফিসে সবাইকে জ্বালানোর ক্ষমতা। নিজেকে কি ভাবে কে জানে?"

আয়মান পেছন থেকে উত্তর দিলো,

"নিজেকে আয়মান আহমেদ খান ভাবি। খান বংশের ছোট নবাব।"

আয়মানের গলার স্বর পেয়ে থেমে গেলো প্রিয়ন্তী। পুনরায় একই ভুলে দাঁত দিয়ে জিভ কাটলো। আয়মানের দিকে ঘুরে নিজের সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করলো,

"স্যার, আপনি? আমি.. আমি তো আপনার প্রশংসা করছিলাম। আপনি কত পাংচুয়াল। সব কাজ কত দায়িত্ব সহকারে করেন। আবার অফিসের সবাইকেও ঠিকভাবে কাজ করার জন্য বলেন। কাজের প্রতি কত শ্রদ্ধাশীল আপনি!"

আয়মান সেসব কথায় পাত্তা দিলো না। এগিয়ে এসে সাহিলকে বলল,

"এই মেয়ের সাথে তোমার প্রয়োজন শুধু কাজ অব্দি। এছাড়া এর আশেপাশেও কেউ আসবে না। যদি দেখেছি এই মিস ফটরফটরের সাথে কথা বলে কেউ কাজের সময় নষ্ট করেছো, তো এই চাকরীর মায়া ছেড়ে দিও।"

সাহিল কিছু না বলে শুধু মাথা নেড়ে চলে গেলো। প্রিয়ন্তী আয়মানের দিকে ঘুরে কোমড়ে হাত রেখে বলল,

"এই আপনি কি বললেন? মিস ফটরফটর! আমি ফটরফটর করি? দেখুন একদম আমার নাম উল্টাপাল্টা করে ডাকবেন না। আমার একটা সুন্দর নাম আছে। প্রিয়ন্তী!"

শেষে নিজের নামটা প্রিয়ন্তী টেনেটেনে বলল। আয়মানই একইভাবে তাকে নকল করে বলল,

"প্রিয় এলার্জি!"

প্রিয়ন্তী নাক সিঁটকে বলল,

"এলার্জি?"

"হ্যাঁ এলার্জি। তোমার আশেপাশে থাকলে আমার এরকমই ফিল হয়। ইউ আর জাস্ট এলার্জি টাইপ। তোমাকে দেখলেই আমার মাথা ব্যাথা শুরু হয়। তুমি হলে মাথা ব্যাথার এলার্জি।"

প্রিয়ন্তী রেগে কিছু বলতে চাইলো কিন্তু আয়মান সেসব শোনার আগ্রহ বোধ করলো না। চলে গেলো নিজের কেবিনে।

*******

আয়ান কাজশেষে ফিরে এসেছে সন্ধ্যায়। রুমে গিয়ে সবার আগে জামা-কাপড় ছেড়ে ফ্রেশ হলো। আয়ান বেরিয়ে আসতেই কফি হাতে রুমে প্রবেশ করলো প্রিয়া৷ কফির মগটা আয়ানের হাতে দিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

"দুপুরে খেয়েছেন?"

আয়ান উত্তর না দিয়ে পালটা প্রশ্ন করলো,

"তুমি খেয়েছো?"

"আগে প্রশ্ন আমি জিজ্ঞেস করেছি।"

আয়ান কফির মগটা প্রিয়ার হাত থেকে নিয়ে খাটে বসলো। বলল,

"আগে কোথায় জিজ্ঞেস করলে? আমি বাসায় আসার পর জিজ্ঞেস করেছো। তোমার তো দুপুরে ফোন করে জিজ্ঞেস করা উচিত ছিলো খেয়েছি কি না!"

প্রিয়া মুখ গোমড়া করে বলল,

"দুপুরে ফোন করলেও তো বলতেন ব্যস্ত আছি, এইসময় ডিস্টার্ব করছো কেনও? আমি তো যাই করি আপনি তাতেই দোষ খুঁজে পান।"

"এত বড় মিথ্যা অপবাদটা আমাকে দিতে পারলে তুমি? কি দোষ ধরলাম আমি?"

"এই মাত্র আমার দোষ ধরলেন। আবার এখনই অস্বীকার করছেন? পল্টিবাজ!"

আয়ান বলল,

"আমি পল্টিবাজ না তোমার দেবর পল্টিবাজ সেটা দেখো। প্রিয়ন্তীকে জবে রেখেছে ও?"

প্রিয়ন্তীর কথা উঠায় এবার প্রিয়া উৎফুল্ল হয়ে বলল,

"হ্যাঁ। আয়মান এক কথায় রাজি হয়ে গেছে! দেখতে হবে না দেবরটা কার?"

আয়ান প্রশ্ন করলো,

"কার?"

প্রিয়া ঘাড় উঁচিয়ে বলল,

"কার আবার? আমার দেবর!"

আয়ান পুনরায় জিজ্ঞেস করলো,

"আমাকে জামাই মানো যে দেবর-ননদ করে সবাইকে মাথায় তুলছো?"

প্রিয়া অবাক হলো আয়ানের কথায়। পরপর ভ্রু কুঁচকে বলল,

"আপনার কথা-বার্তা মতিগতি কোনোটাই আজকাল আমার কাছে সুবিধার মনে হচ্ছে না।"

"মনে না হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমার মতিগতি আসলেই সুবিধার না!"

প্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে বসলো। বলল,

"আপনার মাথা ঠিক আছে তো? আপনাকে কেনও যেনও আগের মতো লাগছে না।"

আয়ান বিরক্ত হয়ে বলল,

"তুমি চাও আগের মতো হই? অবশ্য সেইটাই হওয়া উচিত। তোমার জন্য সেইটাই ঠিক আছে।

আরেকটা কথা, আমার মাথা ঠিক আছে। কিন্তু তোমার এই উল্টোপাল্টা কথা শুনলে কোনদিন আসলেই পাগল হয়ে যাবে।"

প্রিয়া বলল,

"আমি উল্টোপাল্টা কথা বলি? আপনি জানেন না মিথ্যা কথা বলা ভালো না? আমি সারাদিনে অল্পস্বল্প কথাই বলি। তার মধ্যে সবগুলোই থাকে সঠিক। কোনো ভেজাল নেই।"

আয়ান বিরক্ত হয়ে দু'হাত দিয়ে মাথা চেঁপে ধরলো। যতই চাইছে সবকিছু স্বাভাবিক করে ফেলতে, কিন্তু এই মেয়ের কথাই থামছে না। অতিরিক্ত কথা বলার স্বভাবটা আয়ানের অপছন্দের যা প্রিয়ার মধ্যে পরিপূর্ণভাবেই আছে। এবার শুধু পছন্দটা পরিবর্তন হওয়ার পালা...!

স্নিগ্ধ প্রেমের মায়া গল্পটি তিয়াশা চৌধুরী-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক থ্রিলার গল্প