পিচঢালা রাস্তায় গাড়ি চলতে শুরু করেছে ধীরগতিতে। বৃষ্টির ফোঁটা ছলকে উঠছে পথে। প্রিয়ন্তীর কথা শুনে আয়মান বলল,
"বুঝেছি।"
প্রিয়ন্তী জিজ্ঞেস করলো,
"কি বুঝেছেন?"
"এটাই যে, তোমার ক্লাস টিচারের মাথায় সমস্যা ছিলো।"
প্রিয়ন্তী চোখ পিটপিট করে বলল,
"মাথায় সমস্যা? এইসব ভুলভাল কথা কে বলেছে আপনাকে? জানেন না, না জেনে বুঝে কারো সম্পর্কে কিছু বলতে হয় না?"
আয়মান ওর কথায় বারবার অবাক হচ্ছে। না জেনেশুনে কিছু বলার উপদেশ কে দিচ্ছে? ও নিজেই তো না জেনে-বুঝে কতকিছু বলল তার সম্পর্কে! বলল,
"রিয়েলি? একটু আগেই তুমি আমার সম্পর্কে না জেনেই এতকিছু বললে, সে বেলা?"
প্রিয়ন্তী অবাক হয়ে বলল,
"আপনার সম্পর্কে? আপনার সম্পর্কে আমি কখন কি বললাম?"
আয়মান থতমত খেয়ে গেলো। কথার উত্তর না দিয়ে বলল,
"কিছু না। চুপ করে বসো।"
আয়মান বলার পরও প্রিয়ন্তী থামলো না। চুপ করে বসে থাকা মোটেও তার পক্ষে সম্ভব নয়। বলতে লাগলো,
"আচ্ছা, আপনি তো উত্তর দিলেন না আমার কথার। জিজ্ঞেস করেছিলাম আয়মান খান সম্পর্কে কিছু জানেন কি না? জানেন না নাকি? তবে আমার মনে হয় উনি আসলেই খা*টাশ হবে।"
আয়মান রেগেমেগে চলন্ত অবস্থা থেকে হুট করে গাড়ির ব্রেক কষলো। প্রিয়ন্তী টাল সামলাতে না পেরে সামনে ঝুঁকে পড়লো। কপালে খানিকটা ব্যাথাও পেলো। আয়মান সেসবে পাত্তা না দিয়ে চোখ গরম করে তাকিয়ে রইলো প্রিয়ন্তীর দিকে।
প্রিয়ন্তী কপাল ডলতে ডলতে আবার ঠিক করে বসলো। ঝাঁঝালো কন্ঠে বলল,
"এভাবে কেউ ব্রেক করে?গাড়ি চালাতে পারেন না আপনি? না পারলে চালাতে এসেছেন কেনও? আপনাকে গাড়ির লাইসেন্স দিয়েছে কোন গা*ধা?"
আয়মান বহু কষ্টে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। প্রিয়ন্তীর একটা প্রশ্নেরও জবাব দিলো না ও। গম্ভীর কন্ঠে বলল,
"আউট!"
হঠাৎ এই কথা বলাতে প্রিয়ন্তী হতভম্ব হয়ে গেলো। কিছু বলতে চাইলে আয়মান তাকে থামিয়ে দিয়ে গলার স্বর সপ্তম আকাশে চড়িয়ে বলল,
"আই সে আউট ফ্রম মাই কার!"
আয়মানের ক্ষেপে যাওয়ায় প্রিয়ন্তী ঘাবড়ে গেলো। বাইরে তাকিয়ে দেখলো বৃষ্টির ছাট কম। তাই ফটাফট গাড়ি থেকে নেমে পড়লো। এবং মুহুর্তের মাঝেই কালোরঙা গাড়িটি ঝড়ের গতিতে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো। প্রিয়ন্তী সেদিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবলো,
"এতক্ষণ তো কিছুই বলছিলো না। হঠাৎ এত ক্ষেপে গেলো কেনও? মাথায় সমস্যা আছে নাকি? আরেহ, এই পাগলকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিলো কে?"
*******
ইন্টারভিউ কেবিনের বাইরে অস্থির ভঙ্গিতে পায়চারি করছে প্রিয়ন্তী। আশেপাশে আরও কিছু মানুষ অপেক্ষা করছে। কিন্তু তাদের অস্থিরতা মনে। উপর-উপর তারা স্থির হয়ে বসে রয়েছে।
প্রিয়ন্তীর ফোনে হঠাৎ কল আসায় ব্যাগ থেকে ফোনটা হাতে নিলো। পরপর স্ক্রিনে তাকিয়ে দুশ্চিন্তা ভুলে মুখে হাসি ফুটলো। রিসিভ করে বলল,
"হ্যাঁ আপু বলো।"
অপরপাশ থেকে ভেসে এলো প্রিয়ার কন্ঠস্বর। বলল,
"তুমি কি আয়মানের অফিসেই আছো?"
প্রিয়ন্তী কেবিনের দিকে তাকিয়ে মুখ গোমড়া করে বলল,
"হ্যাঁ আপু। আর এখন পর্যন্ত যে কয়জন গিয়েছে তারা কেউ হাসিমুখে ফিরে নি। বুঝতে পারছি না কি হবে।"
প্রিয়া ওকে আশ্বাস দিয়ে বলল,
"তুমি একদম চিন্তা করো না। তুমি শুধু ইন্টারভিউটা দাও৷ চাকরী হয়ে যাবে। আমি আয়মানকে বলবো।"
"আচ্ছা আপু। এখন মনে হচ্ছে আমাকে ডাকবে। রাখি।"
"আচ্ছা, বায়। বেস্ট অফ লাক।"
******
কেবিনের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে মস্তিষ্কের উত্তাল স্রোত থামানোর প্রয়াস চালালো প্রিয়ন্তী। তারপর দরজাটা অল্প একটু ঠেলে মাথা ঢুকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
"মে আই কাম ইন স্যার?"
দেয়ালের দিকে ফিরে থাকা ব্যক্তির মুখখানা দৃষ্টিগোচর হলো না ওর। হাতের ইশারায় ভিতরে প্রবেশ করলো। মনে মনে ভাবলো,
"এভাবে উলটো বসেই ইন্টারভিউ নেবে নাকি? নিতেও পারে। আধপাগল মানুষের আধপাগল খেয়াল!"
হঠাৎ চেয়ার ঘুরে গেলো সামনের দিকে। দৃষ্টি সম্মুখে ভেসে উঠলো কারো রাগী চেহারা। প্রিয়ন্তী ঘাবড়ে গিয়ে আমতা-আমতা করে বলল,
"স্যার! আমি... আমি আসলে..."
আয়মান শীতল অথচ হৃদয় কাঁপানো স্বরে বলল,
"গেট আউট!"
প্রিয়ন্তীর ইচ্ছে করছে নিজের কপাল চাপড়াতে। না জেনে-বুঝে কত্ত বড় ভুল করে ফেলেছে ও। শেষে আয়মানের সামনেই আয়মানের এত্ত এত্ত বদনাম করে ফেলেছে। এজন্যই এই লোক এত রেগে গিয়ে ওকে গাড়ি থেকেই নামিয়ে দিয়েছে। আর এখন যদি অফিস থেকেও বের করে দেয়? তাহলে তো প্ল্যানে এক বালতি পানি পড়ে যাবে!
না। এরকমটা হতে দেয়া যাবে না। প্রিয়ন্তী নিজের সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করলো,
"দেখুন স্যার, আমি আসলে অন্য সকল বসের কথা বলেছি। আপনার কথা একদমই বলি নি। আপনি সবার থেকে আলাদা। এই যে সকালেও আমাকে হেল্প করলেন। আপনি কত ভালো মনের আর দয়ালু মানুষ!"
আয়মান শান্ত হওয়ার বদলে আরও রেগে গেলো। এইসব অতিরিক্ত তোষামোদও তার অপছন্দের। সামনে রাখা টেবিলে দুই হাত দিয়ে শব্দ করে মারলো। দাঁতে দাঁত চেঁপে আবারও বলল,
"গেট আউট!"
প্রিয়ন্তী দুই পা পিছিয়ে গেলেও হাল ছাড়লো না। বলল,
"স্যার, আপনি ইন্টারভিউ না নিয়ে আমাকে বের করতে পারেন না। একবার আমার সার্টিফিকেট গুলো তো দেখুন।"
বলতে বলতে প্রিয়ন্তী ওর হাতে থাকা ফাইল এগিয়ে দিলো। দ্রুতগতিতে কাজ করতে গিয়ে টেবিলে থাকা কফির কাপ ফাইলের ধাক্কায় উলটে পড়লো আয়মানের উপর। কফি হালকা গরম থাকায় বেশি সমস্যা হলো না, তবে আয়মানের সম্পূর্ণ শার্ট ও প্যান্টের নাজেহাল অবস্থা। একটা দুর্ঘটনায় ঘাবড়ে গিয়ে ফাইলটা নিজের কাছে পিছিয়ে আনতে গিয়ে টেবিলে থাকা কলমদানী সহ আরও কিছু কাগজপত্র নিচে পড়ে গেলো। মুহুর্তের মধ্যেই গোছানো কেবিনটা উলটপালট হয়ে গেলো।
আয়মানের ইচ্ছে করছে এই মুহুর্তে এই মেয়েকে দু'টো থাপ্পড় দিয়ে এখান থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে। কিন্তু মেয়েদের গায়ে হাত উঠানোটা কাপুরুষের কাজ। আর আয়মান কাপুরুষ নয়। অচেনা একটা মেয়ের সাথে বাজে আচরণ করাটাও তার স্বভাবের সাথে যায় না। কিন্তু প্রিয়ন্তীর একের পর এক কাজ ওর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিচ্ছে। রাগ নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে টেবিলে হাত রেখে চোখ বন্ধ করে নিজের উত্তপ্ত মস্তিষ্ক সামলানোর প্রয়াস চালাচ্ছে।
এদিকে প্রিয়ন্তী ঘাবড়ে গিয়ে কি করবে তা খুঁজে পেলো না। তৎক্ষণাৎ ওর ব্যাগ থেকে টিস্যু বের করে এগিয়ে দিলো আয়মানের দিকে। হড়বড় করে বলল,
"সরি স্যার! না জেনেবুঝে ভুল হয়ে গেছে। আপনি..."
আয়মান রেগেমেগে বলল,
"জাস্ট শাট আপ! অনেক হয়ে গেছে তোমার কাহিনি। তোমার আগমনে আমার একটা সকাল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। সবকিছু নষ্ট করে ফেলেছো। নাউ, ইট'স এনাফ। জাস্ট গো ফ্রম হেয়ার!"
প্রিয়ন্তী কিছু বলতে চাইলে আয়মান চিৎকার করে বলল,
"আই সে গেট আউট!"
প্রিয়ন্তী আর কিছু না বলে বের হয়ে গেলো কেবিন থেকে। বাইরে বেড়িয়ে যেনও সস্থির নিশ্বাস ফেলতে পারলো। এতক্ষণ একটা দমবন্ধকর অবস্থায় আটকে ছিলো ওই কেবিনে। এতবছরের কৌতুহল মিটিয়ে প্রথমবারের মতো আয়মানকে দেখে ওর হৃৎস্পন্দন প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। মনে মনে বলল,
"কি রাক্ষুসে লোক বাবা! এইভাবে কেউ বকে? আরে বাবা, জানি তো তুই লন্ডন থেকে এসেছিস। তাই বলে কথায় কথায় ইংরেজি ঝাঁড়বি? তবে যেমনই হোক! এতটুকু তো মানতেই হবে ভাইয়ার বন্ধুটা আসলেই হ্যান্ডসাম।"
পরপর কিছু একটা ভেবে হকচকাল। মাথা নেড়ে বলল,
"ছি, ছি, প্রিয়ু! কি ভাবছিস এসব? ইনি তোর ভাইয়ার বন্ধু হয়। আর এখন তোর না হওয়া বর থুক্কু বস! ইশ রে! কিসব বলে যাচ্ছি আমি? মাথা ঠান্ডা। কুল, কুল ডাউন প্রিয়ু। এসব ভাবা পাপ। ইনি তোর বড় ভাইয়ার বন্ধু মানে তোরও ভাই। আর কিচ্ছু ভাববো না।"
আর কিছু না ভাবার কথা বললেও প্রিয়ন্তীর মাথায় আয়মানের ভাবনাই ঘুরে ফিরে আসছে। এবার খানিকটা আফসোসের সুরে বলল,
"হায়রে কপাল! গত এক সপ্তাহ ধরে কত জল্পনা-কল্পনা করে রেখেছিলাম এই প্রথম দেখা নিয়ে। কতকিছু ভেবেছিলাম এই রহস্যমানবের প্রথম দর্শন নিয়ে। সেই ছোট থেকে শুনে আসছি ভাইয়ার বেস্ট ফ্রেন্ড। সেই শোনা অব্দিই স্থগিত। পরিচয়ের এক অদম্য কৌতুহল সহিত অবশেষে যখন দেখার সুযোগ আসলো তখনই আমি সব গুবলেট পাঁকিয়ে ফেললাম? সব দুর্ঘটনা কি আজই ঘটার ছিলো?এবার কি আবার ঢাকা ফিরে যেতে হবে?"
আয়মান অতিরিক্ত রাগের ফলে ঘামতে শুরু করেছে। কপাল বেয়ে নোনা জলের শীতল স্রোত নামছে। বাম হাত দিয়ে সেই ঘামটুকু মুছে এসির পাওয়ার কমিয়ে দিলো। যেই নিজেকে ঠান্ডা করার চেষ্টায় কিছুটা সফল হলো তখন পড়নের শার্ট-প্যান্টের নাজেহাল অবস্থা দেখে মেজাজ আবার বিগড়ে গেলো। এই অবস্থায় তো ও বাইরেও যেতে পারবে না। আয়মান যখন এসব ভাবনায় মগ্ন তখন তার ফোন বেজে উঠলো। রিসিভ করতেই প্রিয়া বলল,
"আয়মান, ইন্টারভিউ নেয়া শেষ?"
"জি ভাবি। আজকের মতো শেষ।"
"কাউকে সিলেক্ট করেছো?"
"না ভাবি। সিলেক্ট করার মতো কাউকে পাই নি।"
প্রিয়া এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো। বলল,
"তোমার ভাবি যদি প্রথমবারের মতো তোমার কাছে কিছু চায়, তুমি কি দিবে?"
আয়মান রাগ-বিরক্তি ভুলে অবাক হয়ে গেলো। বলল,
"আমার কাছে চাইবেন? অবশ্যই দিবো। আপনি শুধু বলেই দেখুন।"
প্রিয়া বলল,
"প্রিয়ন্তী নামে একটা মেয়ে তোমার অফিসে ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছে। আমার ওর সাথে পরিচয় হয়েছে। ও আমাদেরই ভার্সিটির। অনেক ভালো একটা মেয়ে। ওর এই চাকরীটা আসলেই দরকার। আমি রিকুয়েষ্ট করবো, ওকে চাকরীটা দিয়ে দাও। প্লিজ আয়মান, না করো না!"
আয়মান হেসে বলল,
"আপনি চাইছেন আমি চাকরীটা মিস. প্রিয়ন্তীকে দেই?"
"হ্যাঁ।"
"ওকে ডান। আপনি বলেছেন তার মানে মিস প্রিয়ন্তীর জব কনফার্ম৷"
আয়মানের কথা শুনে প্রিয়া খুশি হয়ে গেলো। বলল,
"থ্যাংকস আয়মান। আমি জানতাম তুমি আমার কথা ফেলবে না।"
"থ্যাংক্স দেয়ার কিছু হয় নি, ভাবি। আমি আপনার ছোট ভাইয়ের মতো। ছোট ভাইয়ের উপর বড় বোনের আদেশ শিরধার্য!"
প্রিয়া উৎফুল্ল হয়ে বলল,
"আচ্ছা আচ্ছা। দিলাম না থ্যাংকস। কিন্তু তুমি দেখো, প্রিয়ন্তী আসলেই সব কাজ সুন্দরভাবে করতে পারবে।"
"জি ভাবি। এবার আমার একটা হেল্প করুন।"
"হ্যাঁ বলো।"
আয়মান ইতস্তত করে বলল,
"সারা বা সায়মা আছে আশেপাশে? থাকলে একটু দিন।"
প্রিয়ন্তীর ব্যাপারে কথা চলছিলো বলে সায়মাও আগ্রহ নিয়ে প্রিয়ার পাশে বসে ছিলো। আয়মান বলতেই প্রিয়া ওর হাতে ফোনটা ধরিয়ে দিলো। সায়মা বলল,
"হ্যাঁ ভাইয়া। বলো।"
"সায়মা শোন, আমার রুম থেকে এক সেট ড্রেস নিয়ে ড্রাইভারের হাতে অফিসে পাঠিয়ে দে।"
সায়মা সন্দিহান হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
"অফিসের মধ্যে তোমার ড্রেস কেনও লাগবে? ড্রেস পড়ে যাও নি? নাকি হাফপ্যান্ট পড়ে অফিস গিয়েছো?"
আয়মান কান থেকে ফোন নামিয়ে কটমট করে বলল,
"এক এই মেয়ের জ্বালায় আমি সকাল থেকে পাগল হয়ে যাচ্ছি। আরেকদিকে এই ঘরে পালিত পাগল বলছে আরেক কাহিনি! একে আজই বাড়ি গিয়ে আমি শশুড়বাড়ি পাঠাবো।"
এদিকে সায়মা কোনো জবাব না পেয়ে আবারও বলল,
"কি হলো ভাইয়া? কথা বলছো না কেনও?"
আয়মান সরাসরি জবাব দিলো,
"কারণ তোর মতো পাগলের সাথে আমি কথা বলতে আগ্রহী নই। যা বলেছি সেটা কর।"
সায়মাও পালটা জবাব ছুড়লো,
"তুমি উত্তর না দিলে আমিও তোমার কাজ করবো না।"
আয়মান উপায়ান্তর না পেয়ে বলল,
"আরে বোন আমার! শার্টে মগভর্তি কফি পড়ে গিয়েছে। অনেকটা অংশ ভিজে গিয়েছে। এখন আমি কি এই ভেজা ড্রেস পড়ে বসে থাকবো নাকি? এজন্য বলেছি।"
আয়মানের কথা শুনে সায়মা কালবিলম্ব না করে উঠে পড়লো। যতু ভাইদের সাথে কারণ ছাড়া বিবাদে জড়াক কিন্তু এই ভাইরা-ই তার সব। ভেজা ড্রেস পড়ে থাকলে ঠান্ডা লাগতে পারে এই দুশ্চিন্তা করে সব গুছাতে চলে গেলো ভাইয়ের রুমে।
আয়মান কল কেটে আবারও কল করলো আয়ানকে। আয়ান রিসিভ করে বলল,
"হ্যাঁ ভাই বল। কেমন চলছে ইন্টারভিউ নেয়া?"
"কোনো নিউজ নেই, ভাইয়া। যাদের ইন্টারভিউ নিয়েছি একটাকেও যোগ্য মনে হয় নি। তবে একটু আগে ভাবি ফোন করে একটা মেয়ের কথা বলল। ওকেই নিবো ভেবেছি।"
আয়ান চিন্তিত হয়ে বলল,
"তোর ভাবির পছন্দ করা মেয়ে? আর ইউ সিউর?"
"হ্যাঁ ভাইয়া। এছাড়া কোনো উপায় নেই। ভাবি যেইভাবে রিকুয়েষ্ট করলো, আমি কি ফেলতে পারতাম?"
"এজন্য তুই ওই মেয়েকেই নিবি রাইট?"
"ইয়েস।"
আয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
"গুড ডিসিশন। বেস্ট অফ লাক।"
কথা শেষে আয়মান কল কাটতেই আয়ান মনে মনে ভাবলো,
"ভাবির নিষ্পাপ আবদারের কাছে ফেঁসে গেছে এই ছেলে। আয়মানকে কি আমার সমবেদনা জানানো উচিত? না না, আমিও তো প্রিয়াকে বিয়ে করে সংসার করছি। কই, আমাকে তো সমবেদনা জানায় নি? তাহলে আমারও জানানো উচিত হবে না। একদিন মিট করে দেখতেই হচ্ছে, এই প্রিয়ন্তী কতটুকু প্রিয়ার মতো!"