স্নিগ্ধ প্রেমের মায়া

পর্ব - ২০

🟢

ড্রইংরুমের উচ্ছল পরিবেশ হঠাৎ করেই শান্ত হয়ে গেলো কারো আগমনে। সবার দৃষ্টি ঘুরে গেলো সেখানে। শর্ট টপস পড়নে ছোট চুলের এক মেয়ে দাঁড়িয়ে সেখানে। কালবিলম্ব না করে সে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো আয়ামানকে।

"আয়মান, আই মিসড ইউ সো মাচ। লন্ডন থেকে আসার পর তোমার আর কোনো খোঁজই পেলাম না।"

নিজের বাড়ির ড্রইংরুমে নাতাশার উপস্থিতি থমকে দিয়েছে আয়মানকেও৷ বিস্ময়ের চূড়ান্ত সীমায় গিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতেও ভুলে গেলো। আকস্মিক ঘটনায় মস্তিষ্ক টাল সামলাতে না পেরে স্থির হয়ে গেলো সেসময়। এমনকি নাতাশাকে ছাড়ানোর খেয়ালটুকুও এলো না। আর এতেই হয়ে গেলো বিস্তর ঘটনা!

সবাই হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে এই দৃশ্যর দিকে। শুধুমাত্র আয়ান ব্যতীত আর কারো মাথায়ই কিছু ঢুকে নি। একমাত্র আয়ানই নাতাশার ব্যাপারে শুনেছে তাই তার মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। সে নজর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সবার প্রতিক্রিয়া দেখছে। সবার চেহারা দেখে যা বুঝলো, প্রথমদিন সে যে বোঝার ভুল করেছিলো বাকিরাও সেই ভুলই করেছে।

প্রিয়া অবাক হয়ে হাত দিয়ে মুখ চেঁপে ধরেছে। কিছুক্ষণ পর হাত সরিয়ে চোখ পিটপিট করে বলল,

"হায় আল্লাহ! আমি আমার বিয়ে করা জামাইকেও আজ পর্যন্ত এভাবে জড়িয়ে ধরি নি। আর এই মেয়ে এসেই জড়াজড়ি শুরু করেছে?"

আয়ান ওর পাশে দাঁড়িয়ে থাকায় কথাটা শুনে ফেলেছে। দুষ্টু হেসে প্রিয়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল,

"তোমার জামাই ফ্রি আছে। চাইলে এখনই এভাবে জড়িয়ে ধরতে পারো। সে মাইন্ড করবে না।"

প্রিয়া ঝাঁড়ি মেরে বলল,

"অসভ্যতার একটা লিমিট থাকে। এই নির্লজ্জ মেয়ে সবার সামনে জড়িয়ে ধরেছে বলে কি আমিও ওমন হবো নাকি?"

আয়ান সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল,

"আমার কি দোষ? তুমিই তো আফসোস করছিলে জড়িয়ে ধরতে পারছো না বলে।"

প্রিয়া বলল,

"এসব কথা বাদ দিন। এটা বলুন এই মেয়ে কে?"

আয়ান ঘাড় উঁচিয়ে বলল,

"আমি কি করে জানবো? আয়মানকে জড়িয়ে ধরেছে আয়মানেরই কিছু হবে। ওকে জিজ্ঞেস করো।"

প্রিয়া কোমড়ে হাত রেখে শাসানোর ভঙ্গিতে বলল,

"এভাবে জড়িয়ে ধরেছে তাহলে গার্লফ্রেন্ডই হবে, তাই না? আপনি সকালে কি বললেন? আপনার ভাই বিপদে আছে। দেখছি কেমন বিপদ! ছোট ড্রেসওয়ালা বিপদ!"

আয়ান বিস্ময়ে কপাল কুঁচকে ফেলেছে। জিজ্ঞেস করলো,

"ছোট ড্রেসওয়ালা বিপদ? এটা কেমন নাম?"

প্রিয়া নাতাশার দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করে বলল,

"ওই যে ওর ছোট ড্রেসের গার্লফ্রেন্ডের কথা বলছিলাম।"

আয়ান ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল,

"প্রিয়া, ও লন্ডনের মেয়ে। লন্ডনে এরকম ড্রেসই পড়ে।"

প্রিয়া তেঁতে উঠে বলল,

"ওর পক্ষে সাফাই দেওয়ার আপনার কি প্রয়োজন? ওকে দেখার কোনো প্রয়োজন নেই। রুমে যান। নাহলে উলটো ঘুরে দাঁড়ান।"

আয়ান কিছু না বলে চুপচাপ বসে পড়লো। ওইদিন যা ধারনা করেছিলো তাই হয়েছে। এখন কথা বলা মানেই ঝগড়া বাড়ানো।

সবার প্রতিক্রিয়ার থেকে ভিন্ন ছিলো প্রিয়ন্তীর প্রতিক্রিয়া। চোখের সামনে এমন একটা দৃশ্য দেখে কোথাও একটা চিনচিনে ব্যাথা শুরু হয়েছে। কিন্তু কেনও এমন হচ্ছে সে জানে না। সবার মতো সেও ধারনা করেছে মেয়েটা আয়মানের গার্লফ্রেন্ড। এমনকিছু ও কোনোকালেও আশা করে নি। আফসোসের সুরে বিড়বিড় করে বলল,

"ভাইয়া-ভাবি তো আয়মান খানের ব্যাপারে সবই বলেছে। তাহলে এর যে গার্লফ্রেন্ড আছে, এটা কেনও বলল না?"

পরিস্থিতি সামলে সবার প্রথম মুখ খুলল পারভিন। থমথমে কন্ঠে বললেন,

"মেয়েটা কে, আয়মান?"

মায়ের ডাকে হুশে আসলো আয়মান। একপ্রকার ছুড়ে নিজের থেকে দূরে সরালো নাতাশাকে। মায়ের দিকে ঘুরে কিছু বলতে চাইলে তার আগে সায়মা বলে বসলো,

"বুঝতে পারছো না? মেয়েটা আমাদের ভাবি।"

আয়মান সায়মার দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকাতেই সে চুপ হয়ে গেলো। অত:পর মায়ের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে চাইলো। পারভিন ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল,

"এত বড় কথাটা আমাদের থেকে লুকালি তুই?"

আয়মান লম্বা নিশ্বাস নিয়ে মাথা ঠান্ডা করলো। বুঝতে পেরেছে, এখানে সবাই ভুল বুঝে বসে আছে। সবাইকে বোঝানো প্রয়োজন। আয়মান মস্তিষ্কে কথা সাজিয়ে নেওয়ার সময়টুকু চুপ থাকলো। আর তার নিরবতাকেই সম্মতি ধরে নিয়ে ড্রইংরুমে উপস্থিত সবাই একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলো। একমাত্র স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রিয়ন্তী। ভয়ংকর নিস্তব্ধতা ঘিরে ধরেছে তাকে।

নাসরিন এগিয়ে এলো পারভিনের কাছে। আস্তে করে বলল,

"এটা নিয়ে আর রাগারাগি করো না, আপা। যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে!"

আয়মান কোনোভাবেই কাউকে কিছু বোঝাতে পারছে না। প্রত্যেকবারই থামিয়ে দেয়া হচ্ছে তাকে। এবারও একই ঘটনা ঘটলো। পারভিন রাগ দমিয়ে রেখে বললেন,

"আমি আর কিছু শুনতে চাচ্ছি না। অফিস যাচ্ছিলে অফিস যাও। আর এই মেয়েকেও নিয়ে যাও।"

আয়ান আয়মানের কাছে এসে বলল,

"ভাই, বাসার সবার মাথা গরম আছে। এখন তুই কিছু বলিস না। অফিস যা। একটু পর সবাই একটু ঠান্ডা হলে আমি বুঝিয়ে বলবো।"

আয়মান ভেবে দেখলো আয়ানের কথা সঠিক। তাই বিনা বাক্যব্যয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো। যাওয়ার আগে প্রিয়ন্তীকে উদ্দেশ্যে করে বলল,

"ভাবি তোমায় আজ সারাদিনের জন্য রাখতে চাইছে। আমিও অফিস যাওয়ার জন্য জোর করবো না। ইউর উইশ। মন চাইলে এসে পড়ো।"

আয়মানের পিছে পিছে নাতাশাও কারো সাথে কোনো প্রকার কথা না বলে বাড়ি ছাড়লো। ওর যতটুকু কাজ করার ছিলো করে ফেলেছে। সবার মনে ভুল ধারনা ঢুকিয়ে দেওয়ার পর ওর কাজ অবশিষ্ট নেই। তাই অতিরিক্ত আলাপের প্রয়োজনবোধ করলো না৷

সমস্ত ঘটনার ভিড়ে প্রিয়ন্তীর থাকার খবরে উৎফুল্ল হলো প্রিয়া ও সায়মা। প্রিয়া প্রিয়ন্তীর কাছে এসে বলল,

"আয়মান পারমিশন দিয়ে গেছে। আজ আমাদের বাড়িতেই সারাদিন থাকো। খুব মজা হবে!"

প্রিয়ন্তীর কোনো জবাব না পেয়ে প্রিয়া কৌতুহলী হয়ে ওকে নিজের দিকে ঘুরালো। গালে হাতের আদুরে স্পর্শ দিয়ে নরম সুরে বলল,

"কি হয়েছে, প্রিয়ু? এমন চুপ হয়ে গেলে যে?"

প্রিয়ন্তী চোখ নামিয়ে প্রিয়ার হাতের উপর হাত রাখলো। স্মিত হেসে বলল,

"না, আপু। অফিস যেতে হবে। অন্য কোনোদিন আসবো। কোনো এক ছুটির দিন সারাদিন তোমার সাথে কাটাবো।"

বলে প্রিয়ন্তী নিজের গালের উপর থেকে প্রিয়ার হাত নামিয়ে দিলো। কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই চলে গেলো বাড়ি থেকে।

*******

"তোমার কি মাথায় সমস্যা? আমার বাড়ি অব্দি কেনও এসেছো? আর আমার বাড়িতে এসেই এসব অসভ্যতা শুরু করেছো! লিসেন, এটা বাংলাদেশ। এখানে এসব অভদ্রতা চলে না।"

নাতাশা আয়মানের কথায় বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে বলল,

"আরে আরে! একসাথে এতগুলো প্রশ্ন করলে জবাব কি করে দিবো? একটু অপেক্ষা করো, একে একে উত্তর দিচ্ছি। আমি আমার যেই ফুপির বাড়িতে আছি সেটা কাছেই। গতকাল রাতে তোমায় এই বাড়িতে ঢুকতে দেখেই বুঝেছি এটা তোমার বাড়ি। তাইতো সকাল সকাল তোমার সাথে দেখা করতে চলে এলাম।"

আয়মান দাঁতে দাঁত চেঁপে বলল,

"আমার সাথে দেখা করার তোমার কি প্রয়োজন? একবার বলেছি, বাংলাদেশে পৌঁছালে তোমার রাস্তা আলাদা, আমার রাস্তা আলাদা। তাও কেনও বারবার আসছো?"

"তুমি রাস্তা আলাদা বলছো। কিন্তু ভাগ্য হয়তো রাস্তাটা আলাদা করতে চায় না। এজন্যই বারবার আমাদের দেখা করাচ্ছে।"

আয়মান প্রচন্ড রেগে বলল,

"জাস্ট শাট আপ! আমার পরিবারের কাছে উল্টোপাল্টা প্রমাণ করে কোনো লাভ পাবে না। যা হওয়ার নয়, তা কোনোদিনও হবে।"

"আর যা হওয়ার তা তুমি না চাইলেও হবে।"

তাদের কথার মাঝে হঠাৎ এসে হাজির হলো প্রিয়ন্তী। প্রিয়ন্তীকে দেখে আয়মান থেমে গেলো। ওকে জিজ্ঞেস করলো,

"তা কি ডিসিশন নিলে? অফিস যাবে?"

প্রিয়ন্তী এসে নাতাশাকে দেখেই থতমত খেয়ে গেছে। তার ধারণা হয়েছে সে ভুল সময়ে এসেছে। এজন্য ভীষণ অস্বস্তিতে পড়ে গেছে। আয়মানের প্রশ্নের জবাবে কোনো উত্তর না দিয়ে উপর-নীচ মাথা নাড়লো শুধু। আয়মান বলল,

"তাহলে গাড়িতে গিয়ে বসো।"

প্রিয়ন্তী গাড়িতে গিয়ে বসার সাথে সাথে আয়মানও ড্রাইভিং সিটে বসে পড়লো। নাতাশার দিকে এক সেকেন্ডের জন্যও ঘুরে তাকালো না। চলে গেলো সেখান থেকে।

******

ড্রইংরুমের থমথমে পরিবেশ ঠিক করতে আয়ান বলল,

"সবাই হঠাৎ এমন থম মেরে গেলে কেনও? এত বড় ঘটনা ঘটে গেলো, কিছু তো বলো!"

পারভিন তেঁতে উঠে বললেন,

"বলার মতো কিছু রেখেছে ও? মেয়েটা কি না ওর জন্য লন্ডন থেকে এসে পড়লো?"

ড্রইংরুমের সোফায় বসে রয়েছে পারভীন। তার পাশেই নাসরিন বসে বোঝানোর চেষ্টা করছে। আয়ান হাঁটু মুড়ে বসলো মায়ের সামনে। তারপর বলল,

"মা, এখানে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমি আয়মানের থেকে নাতাশার কথা সবই শুনেছি। ও এরকমই গায়ে পড়া মেয়ে। আর আয়মান ওকে একদমই পছন্দ করে না। নাতাশা লন্ডনের স্থানীয়। এখানে কোনো এক আত্মীয়ের বাসায় এসেছে। কিছুদিন পর চলেও যাবে। ও লন্ডনে আয়মানের পাশের এপার্টমেন্টে থাকতো। সেই হিসেবে ও শুধু আয়মানের প্রতিবেশী। আর কিচ্ছু নয়!"

আঞ্জুম খান বললেন,

"শুধু প্রতিবেশি। আর আয়মানও পছন্দ করে না। তাহলে এভাবে এসে জড়িয়ে ধরবে কেনও?"

আয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

"কারণ লন্ডনে এসব বিষয় খুব স্বাভাবিক। এটা নিয়ে আর মাথা গরম করো না। আর আমার ভাইটার উপরও বেশি প্রেশার দিও না। ও এমনিতেই নাতাশাকে সহ্য করতে পারে না। সেখানে নাতাশাকে নিয়ে তোমরা বেশি কিছু বললে ওর মাথা আরও গরম হয়ে যাবে।"

পারভিন নাক টানতে টানতে বললেন,

"তাহলে বলছিস ওদের মধ্যে কিছু নেই?"

আয়ান আশ্বস্ত করে বলল,

"আমার ভাইকে আমি অনেক ভালোভাবে চিনি, মা। একশ ভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারি আমি আয়মানের।"

আয়ানের কথায় আশ্বস্ত হয়ে সবাই উঠে চলে গেলো নিজ নিজ কাজে। শুধু সারা থমকে রইলো সেখানে। নাতাশার মুখটা বড্ড চেনা চেনা লাগলো। কোথাও কি দেখেছে সে? আয়ানের কথামতো আয়মান যেদিন এসেছে নাতাশাও সেদিনই বাংলাদেশে এসেছে। তাহলে সে কিভাবে নাতাশাকে আগে থেকে চিনবে?

আয়ানের কাজ ছিলো সবাইকে বুঝিয়ে শান্ত করা, সেটা সে করে ফেলেছে। কাজ শেষে পা বাড়ালো নিজের রুমের দিকে। প্রিয়াও গেলো তার পিছু পিছু।

*****

রুমে ঢুকেই প্রিয়া দুম করে দরজা ধাক্কা দিলো। শব্দ হওয়ার পিছে ফিরলো আয়ান। ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো,

"কি হয়েছে? দরজা ভাঙছো কেনও?"

প্রিয়া ভেঙচি কেটে বলল,

"নাতাশা কই থাকে, নাতাশা কেমন, নাতাশা বাংলাদেশে কই আছে যতপ্রকার ডিটেইলস আছে সব জানেন। তাই না?"

আয়ান বলল,

"আশ্চর্য! এটা নিয়ে আবার তোমার প্রবলেম হচ্ছে কেনও? আয়মান বলেছে তাই জেনেছি। এছাড়া আমার অন্যের ব্যাপারে জানার কোনো শখ নেই।"

প্রিয়া ওর কাছে এসে বলল,

"শখ ছাড়া এমনি এমনিই অক্ষরে অক্ষরে সব মুখস্ত রেখেছেন?"

আয়ান প্রিয়ার প্রশ্ন সম্পূর্ণ উপেক্ষা করলো। পরপর কথাবার্তা ছাড়াই ওকে টেনে বুকে জড়িয়ে ধরলো। চোখ বুজে বলল,

"আগেই বলেছি আমি ভীষণ দায়িত্ববান। তুমি একটা শখ করলে, সেটা পূরণ করাও আমার দায়িত্ব। একটু আগে জড়িয়ে ধরার শখ করছিলে না? দায়িত্ব সহকারে তোমার শখ পূরণ করে দিলাম।"

আকস্মিক এভাবে জড়িয়ে ধরায় প্রিয়া কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে। আয়ানের কথায় সৎবিৎ ফিরে পেলে টের পেলো হৃৎপিণ্ডের অস্বাভাবিক অবস্থা। মনে হচ্ছে সেই অস্বাভাবিক স্পন্দনের শব্দ আয়ানের কান পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। চোখ বন্ধ করে নিজেকে স্বাভাবিক করার অপ্রাণ প্রয়াসও যেনও ব্যর্থ! প্রথমবার কাছে আসার এক অবর্ণণীয় অনুভূতি। যা থমকে রেখেছে প্রিয়াকে!

******

কাল যেমন অফিস সারাদিন একেক ঘটনায় গরম হয়ে ছিলো। আজ যেনও বিপরীতভাবে সব গুমট বেঁধে রয়েছে। প্রিয়ন্তী কাল একটার পর একটা অঘটন ঘটিয়েছে আর আয়মান ঝাঁড়ি মেরেছে। কিন্তু আজ প্রিয়ন্তী একদম নিশ্চুপ। আয়মান যা যেভাবে বলেছে সেভাবেই করেছে। অতিরিক্ত একটা কথাও বলে নি। আয়মান এতে যেমন স্বস্তি পেয়েছে। অন্যদিকে ওর নিশ্চুপতায় অবাকও হচ্ছে। আবার একরাতেই স্বভাবগুলোর পরিবর্তনে অন্তরে কিছু একটা খচখচ করছে।

সন্ধ্যা নামতেই কোথা থেকে অফিসে এসে হাজির হলো নাতাশা। একজনকে সামনে পেয়ে তাকেই জিজ্ঞেস করলো,

"আয়মানের কেবিন কোনদিকে?"

লোকটি উত্তর না দিয়ে পালটা প্রশ্ন করলো,

"আয়মান স্যারের সাথে দেখা করতে এসেছেন?"

"জি। কোথাও ও?"

"আপনি স্যারের পিএ এর সাথে দেখা করুন। উনি গিয়ে বলবে স্যারকে।"

বলে লোকটি চলে গেলো। নাতাশা মনে মনে মহা বিরক্ত হলো পিএ-র কথা শুনে। বিরক্তি নিয়ে গেলো প্রিয়ন্তীর কাছে। বলল,

"আয়মানের সাথে দেখা করতে এসেছি। ওকে গিয়ে বলো আমি এসেছি।"

নাতাশাকে দেখে প্রিয়ন্তীর মেজাজ হুট করেই গরম হয়ে গেলো। ইচ্ছে করলো কড়া কিছু কথা শোনাবে। পরমুহূর্তেই মনে পড়লো, তার কাছে কথা শোনানোর মতো কোনো যুক্তিই নেই৷ সবচেয়ে বড় কথা, ওর সাথে কথা বলারও কোনো ইচ্ছে নেই। তাই চুপচাপ উঠে চলে গেলো আয়মানের কেবিনে। অনুমতি নিয়ে ভিতরে ঢুকতেই আয়মান দেখলো প্রিয়ন্তী মুখ কালো করে রেখেছে। আয়মান বুঝতে পারছে না ওর মুখ সকাল থেকে এমন মেঘে ঢাকা কেনও?

ওর ভাবনার মাঝে প্রিয়ন্তী থমথমে কন্ঠে বলল,

"আপনার আনারকলি এসেছে আপনার সাথে দেখা করতে।"

স্নিগ্ধ প্রেমের মায়া গল্পটি তিয়াশা চৌধুরী-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক থ্রিলার গল্প