স্নিগ্ধ প্রেমের মায়া

পর্ব - ২২

🟢

দেখতে দেখতে সপ্তাহঘুরে চলে আসলো বৃহস্পতিবার। দুপরবেলা ভার্সিটি শেষে বেরিয়েছে সায়মা, প্রিয়া, সন্ধ্যা৷ সন্ধ্যা রিকশায় উঠে রওনা দিলো বাড়ির পথে। সে যাওয়ার পর সায়মা ও প্রিয়া বাড়ির পথে মাত্র হাঁটা ধরেছে, তখন কোথা থেকে ঝড়ের বেগে উড়ে আসলো নাতাশা। হঠাৎ ওকে পথরোধ করতে দেখে থতমত খেয়ে গেলো দুইজন৷ একে-অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে বোঝার চেষ্টা করলো ঘটনা।

প্রিয়াই প্রথম জিজ্ঞেস করলো,

"তুমি এখানে?"

নাতাশা কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল,

"ভাবি, আমি কি বলবো? মানুষ যখন দেশ ছেড়ে প্রবাসী হয় তখন পুরোনো ভালোবাসা ভুলে যায়। বিদেশের প্রেমও কি মানুষ নিজদেশে এসে ভুলে যায়?"

সায়মা গম্ভীর কন্ঠে বলল,

"এত ভণিতা না করে কি বলতে চাইছো তাই বলো!"

নাতাশা একইভাবে বলল,

"আয়মান আমাকে ভুলে গেছে। দেশে আসার পর ও আমাকে চিনতেই পারছে না।"

প্রিয়া কিছু বলার জন্য মুখ খুলল। কিন্তু সায়মা তাকে থামিয়ে দিয়ে বিরস মুখে বলল,

"আয়মান ভাইয়া তোমাকে মনে রেখেছিলো কবে?"

এহেন উত্তরে নাতাশা থতমত খেয়ে গেলো। প্রিয়া কনুই দিয়ে খোঁচা মেরে ওকে থামতে ইশারা করলো। কিন্তু সায়মা ওকে পাত্তাই দিলো না। সে পুরোপুরি ভাইয়ের সাইডে। নাতাশা মনে মনে বলল,

"যেমন ভাই তেমন বোন! একে বিশ্বাস কিভাবে করাবো?"

প্রিয়া নাতাশাকে উদ্দেশ্যে করে বলল,

"তুমি কি বলতে চাইছো আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। একটু পরিষ্কার করে বলবে?"

নাতাশা নাক টানতে টানতে বলল,

"আমি কি বলবো? কেউ তো আমাকে বিশ্বাস করবে না। এখানে সবাই আয়মানের পরিবার। সবাই ওর পক্ষেই থাকবে। আমাকে কে চিনে যে বিশ্বাস করবে?"

সায়মা ফোঁড়ন কাটলো,

"আয়মানের পরিবার আয়মানকে চিনে বলেই তার পক্ষে থাকবে৷"

প্রিয়া বিরক্তিতে 'চ' সূচক শব্দ করে ধমকে উঠলো,

"সায়মা, তুই চুপ করবি? কমপক্ষে পুরো কথা তো শুনতে দে। আর তোর মন না চাইলে তুই বাড়িতে যা।"

সায়মা অন্যদিকে তাকিয়ে বলল,

"তোমার বুঝি ওর সাথে খুব ব্যক্তিগত আলোচনা আছে? তাহলে সেটাই করো। আমি যাচ্ছি।"

বলে সায়মা রিকশা ডেকে সেটাতে চড়ে বসলো। প্রিয়াও ওকে আটকায় নি। ও বুঝতে পেরেছে নাতাশা আয়মানের সম্পর্কে যা বলবে সেটা সায়মার সামনে বলা উচিত হবে না৷ ও চায় না, ছোট বোনের সামনে বড় ভাইয়ের সম্পর্কে এমন কোনো আলোচনা হোক৷ এজন্যই বিনা বাঁধায় ওকে যেতে দিয়েছে।

সায়মা দৃষ্টির আড়াল হতেই প্রিয়া নাতাশাকে বলল,

"বলো কি বলতে চাও। আয়মান কি করেছে?"

"আয়মান বদলে গেছে। ও লন্ডন থেকে আসার পর আমার সাথে খারাপ আচরণ করছে। এমন ভাব করছে যেনও আমি ওর কেউ নই!"

প্রিয়া ওর ঘাড়ে হাত রেখে বলল,

"তুমি বলতে চাইছো আয়মানের সাথে তোমার সম্পর্ক ছিলো?"

নাতাশার চোখের পানি মুছে বলল,

"এভাবে বলবেন না ভাবি, প্লিজ! সম্পর্ক ছিলো, কথাটা কেমন শোনায়? মনে হয় আয়মান আমার অতীত। কিন্তু ও আমার অতীত নয়, ও আমার ভালোবাসা।"

প্রিয়া ওকে স্বান্ত্বনা দিয়ে বলল,

"আচ্ছা, আচ্ছা ঠিক আছে। আয়মানের সাথে তাহলে তোমার সম্পর্ক আছে, আর ও তোমাকে এড়িয়ে যাচ্ছে। তাই তো?"

"হ্যাঁ তাই। আর আমি ওর এই এড়িয়ে যাওয়াটাই মেনে নিতে পারছি না।"

"আচ্ছা তুমি কেঁদো না। আমি বাসায় গিয়ে কথা বলে দেখবো কি করা যায়।"

নাতাশা মাথা দোলালো প্রিয়ার কথায়। এরপর প্রিয়া বিদায় নিয়ে রিকশা ডাক দিলো। ও চলে যেতেই নাতাশা সেই অভিনয়ের চোখের পানিগুলো মুছে ফেলল। বাঁকা হাসি দিয়ে মনে মনে বলল,

"তোমার সহজ-সরল ভাবিই আমার রাস্তা ক্লিয়ার করবে আয়মান। খুব দ্রুত তোমার পরিবারে এভাবেই ঢুকবো আমি। তোমাদের সবার ধ্বংস নিয়ে। নেহাত তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি, তাই বেঁচে যাবে। কিন্তু এমন ব্যবস্থা করবো না, তুমি নিজেই তোমার পুরো পরিবারবে ঘৃ*ণা করবে। ঘৃ*ণা!"

*******

সায়মা একা এসে পড়ায় সবার জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হয়েছে। প্রিয়ার কথা জিজ্ঞেস করায় মিথ্যে বলে বসলো,

"ও সন্ধ্যার থেকে ইম্পর্ট্যান্ট নোটস নিচ্ছে তাই দেরি হচ্ছে৷ আমার মাথা ব্যাথা করছিলো, তাই এসে পড়লাম।"

আঞ্জুম খান বললেন,

"ভাবিকে একা রেখে আসলি? তোর ভাই শুনলে আবার রেগে না যায়!"

সায়মা তেঁতে উঠে বলল,

"ভাইয়ের রাগার কি আছে? ও ছোট বাচ্চা নাকি যে হাত ধরে নিয়ে আসতে হবে? ওর পা আছে হেঁটে আসতে পারবে।"

রেগে থাকায় কথাগুলো বেশ উঁচু গলায় বলে ফেলেছে সায়মা। ওর কথা শুনে হতভম্ব হয়ে তাকালো সবাই। পারভীন জিজ্ঞেস করলেন,

"কিছু হয়েছে? রেগে আছিস কেনও?"

সায়মা ভেবে দেখলো নাতাশার ব্যাপারে কথাটা সবাইকে বলা সমীচীন হবে না। বিষয়টা ওদের ভেতর মিটে গেলেই ভালো। তাই কথা কাটিয়ে বলল,

"কিছু না। ভার্সিটি থেকে এসেছি তাই একটু টায়ার্ড লাগছে। ফ্রেশ হয়ে আসি, ঠিক হয়ে যাবে।"

বলে সায়মা সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে বিড়বিড় করলো,

"না জানি ওই মেয়ে প্রিয়াকে কি ঘোল খাওয়ায়! কিন্তু যদি ভাইয়ার নামে উল্টাপাল্টা কিছু বলেছে না, তাহলে থা*পড়ে মুখের নকশা বদলে ফেলবো।"

সায়মা রুমে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই থমথমে মুখে বাড়িতে প্রবেশ করলো প্রিয়া। মুখে একরাশ দুশ্চিন্তার ছাপ। পারভিন ওর কাছে এসে নরম সুরে জিজ্ঞেস করলেন,

"প্রিয়া, কি হয়েছে মা? মুখটা এমন শুকনো লাগছে কেনও?"

প্রিয়া হাসার চেষ্টা করে বলল,

"কিছু না মা। এমনিই। আমি ফ্রেশ হয়ে আসি?"

"আচ্ছা যাও।"

প্রিয়া উঠে চলে গেলেও পারভিন তাকিয়ে রইলেন ওর যাওয়ার পানে। নাসরিন এসে তার কাঁধে হাত রেখে শুধালেন,

"কি হয়েছে, আপা?"

পারভীন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,

"দুইজনের বাড়ি ফিরলো গোমড়ামুখে৷ এমনি এমনিই? কিছু তো নিশ্চিত হয়েছে! কিন্তু কি?"

*******

প্রিয়ন্তী বেশ হাসি-খুশি আজ৷ একদম ঠিকঠাক ভাবে কাজ সম্পন্ন করেছে৷ কাল ছুটি। এই গন্ডারের থেকে একদিনের ছুটি পাবে ভেবেই খুশি খুশি লাগছে৷ ও বেশ বুঝে আয়মান ওর থেকে প্র*তিশোধ নিচ্ছে। প্রথমদিন ওকে যেই বিশেষণগুলো দিয়েছে সেগুলোই সত্যি করছে আয়মান। মুখে হাসি তো নেই-ই। যা আছে তা মাথাভর্তি রাগ আর এটিটিউড। এমনিতে কথা বেশি বলবে না। তবে যখন বলবে তখন প্রিয়ন্তীর বেহুশ হওয়ার ব্যবস্থা করেই বলবে। প্রিয়ন্তী ছুটির কথায় খুশি থাকলেও মনের মধ্যে আ*তঙ্ক কাজ করছে। কখন আয়মান এসে এমন একটা অর্ডার দিবে যেনও ওর ছুটিটারই জানাযা হয়ে যায়!

ছুটির আগে প্রিয়ন্তী গেলো আয়মানের কেবিনে৷ আয়মানের ব্যস্ত হাত চলছে কম্পিউটারের কিবোর্ডে। কপালে ফেলা ভাঁজ বলে দিচ্ছে তার কাজের প্রতি মনোযোগ। হাস্যবিহীন মুখশ্রী, যেনও কাজ ছাড়া কিচ্ছুই বোঝে না।

প্রিয়ন্তী জানে আয়মানের কাজের মাঝে বাগড়া দেয়াটা তার পছন্দ নয়। কিন্তু প্রিয়ন্তীর তো এই কাজ খুবই পছন্দ। আর সে নিজের পছন্দ সাইডে রেখে অন্যের পছন্দ দেখবে? এটা একদমই অসম্ভব৷ সে সবার আগে নিজের পছন্দের কাজটাই করবে৷ তাই বলে বসলো,

"স্যার, আটটা বেজে গেছে। এবার আমি বাড়ি যাই? আর আপনিও যান বাড়িতে। বাকি কাজ কাল করলেও হবে।"

আয়মান বিরক্ত হলেও প্রিয়ন্তীর কথার উত্তর দিলো না৷ কথা বললেই এই মুহুর্তে একটা লেগে যাবে। এজন্য চুপ থাকাটা সঠিক মনে করলো। কিন্তু প্রিয়ন্তীর এই নিশ্চুপতা সহ্য হলো না। আবারও বলল,

"আর কত কাজ করবেন স্যার? কম্পিউটার বেচারা টায়ার্ড হয়ে গেছে। মনে মনে বলছে, আমাকে এসে থেকে ননস্টপ কাজ করিয়েই যাচ্ছে৷ এবার তো ছুটি দিক। এত লং টাইম কাজ করতে কম্পিউটারেরও তো কষ্ট হয়। ওকে ছেড়ে দিন না, স্যার! প্লিজ!"

আয়মান যারপরনাই বিরক্ত হলো প্রিয়ন্তীর কথায়। দুনিয়ার সব আজব কথা এই মেয়ের মাথায়! আয়মান কম্পিউটারের পাওয়ার অফ করে দুম করে কিল বসালো টেবিলের উপর। ভারী আওয়াজে বলল,

"সমস্যা কি তোমার? যখন জানোই আটটা বাজে ছুটি তাহলে চলে গেলেই হয়। আমাকে ডিস্টার্ব করার কি প্রয়োজন? জানো না, আমি কাজের মাঝে ডিস্টার্ব পছন্দ করি না।"

হুটহাট এইসব কাজে ধমক খেলেও প্রিয়ন্তী নিজের কাজে পিছপা হবে না। সেই প্রতিদিনকার মতোই একটা না একটা ঝামেলায় পড়বেই। আজকের ঝামেলায় ভয় পেলো ছুটি ক্যান্সেল হয়ে যাওয়ার। তাই ভয়ে ভয়ে বলল,

"সরি স্যার। ভুল হয়ে গেছে। আর হবে না। এবার আমি যাই?"

আয়মান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,

"আমি যাওয়ার পারমিশন দিয়েছি?"

প্রিয়ন্তী চোখ পিটপিট করে বলল,

"আপনিই তো বললেন আটটা বাজলে চলে যেতে। আটটা বেজে গেছে। আমি যাই?"

আয়মান চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। টেবিলের সামনে এসে আগাতে আগাতে বলল,

"আটটা বেজে গেছে তাও যাও নি। এসেছো আমার থেকে পারমিশন নিতে। তাহলে আমি পারমিশন দেওয়ার আগে কি করে যাবে? আজ তোমার যাওয়ার পারমিশন নেই। দশটায় যাবে।"

আয়মানের আগানো দেখে প্রিয়ন্তীর কদম আপনাআপনি পিছাতে লাগলো। মনে মনে বলল,

"যা ভয় পেলাম সেটাই হলো! এই লোক তো দশটা পর্যন্ত আটকে রাখবে। কি করবি প্রিয়ু?"

পিছাতে পিছাতে প্রিয়ন্তী কেবিনের গেট পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। সুযোগ পেয়ে বলল,

"আমার ফোনে মনে হয় কল এসেছে। আমার খালামনি কল করেছে। বাড়ি যেতে লেট হলে উনি চিন্তা করবে। আমি বাড়ি যাচ্ছি। গুড নাইট!"

বলে প্রিয়ন্তী উত্তরের অপেক্ষা না করেই দিলো দৌড় কেবিনের বাইরে। নিজ কেবিনে পৌঁছে শ্বাস নেওয়ার অতিরিক্ত সময়টুকুও ব্যয় করলো না। ব্যাগ নিয়ে একপ্রকার ছুটে পালালো৷ মাথায় ঘুরছে আয়মানের কথা! সামনে পেলে আবার কি কাজ ধরিয়ে দেবে কে জানে? এই লোককে একটুও বিশ্বাস নেই!

******

সন্ধ্যা ঢলে রাতের আকাশে অন্ধকার নেমেছে। কুয়াশার কারণে চাঁদের আলোও স্পষ্ট নয়। প্রাকৃতিক পর্দাঘেরা প্রত্যেকটি জিনিসই খুব একটা চোখে পড়ছে না। কুয়াশায় আড়াল করে রেখেছে নিজেদের।

আয়মান ফ্রেশ হয়ে বেরিয়েছে ওয়াশরুম থেকে। এসে দেখলো আয়ান বসে আছে ওর খাটে। ভাইকে দেখে বলল,

"ভাইয়া, তুমি?"

"হ্যাঁ, কেনও? আমি কি তোর রুমে আসতে পারি না?"

আয়মান ঘাড় উঁচিয়ে বলল,

"এটা কখন বললাম? হঠাৎ এলে তাই জিজ্ঞেস করলাম। কিছু বলবে?"

আয়ান উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

"হ্যাঁ।"

"বলো।"

"প্রিয়ন্তী ঠিকঠাক কাজ করছে তো? মানে, আমার ভাইয়ের মাথা ঠিক আছে এখনও?"

আয়মান বিরক্ত হলো এই কথায়। বলল,

"মাথা ঠিক থাকবে না কেনও? আর ওই বা কেনও ঠিকঠাক কাজ করবে না? সবই ঠিকঠাক হচ্ছে। এই মেয়েকে কিভাবে লাইনে রাখতে হয়, তা আমি ভালো করেই জানি!"

আয়ান ওর পিঠ চাপড়ে বলল,

"গুড। মাঝে মাঝে কিছু টিপস আমাকেও দিস।"

আয়মান ভ্রু কুঁচকে আয়ানের পা থেকে মাথা পর্যন্ত নজর ঘুরালো। পরপর মুখের দিকে চেয়ে বলল,

"বিবাহিত ভাই অবিবাহিত ভাইয়ের কাছে টিপস চাচ্ছে? এটা কি স্বাভাবিক কোনো ব্যাপার মনে হচ্ছে? তুমি সব মামলায় আমার থেকে সিনিয়র। আমি নিবো তোমার থেকে টিপস! সেখানে তুমি বলছো?"

আয়ান বলল,

"কেনও? বিবাহিত হলে ভাইয়ের কাছে কোনো টিপস চাওয়া যায় না?"

আয়মান সরাসরি মুখের উপর বলল,

"না, যায় না। উলটো আমি চাইবো তোমার থেকে টিপস বিবাহিত জীবনের। আমার কি বিয়ে করা উচিত?"

আয়ান প্রথমের কথার জবাব দিতে চাইলেও শেষের প্রশ্নে থতমত খেয়ে গেলো। আয়মান ওর হতচকিত অবস্থা বুঝতে পেরে বলল,

"বাঙালী মেয়ে বিয়ে করবো ভেবেছিলাম। এখন এই এলার্জিকে দেখে তো ভয় হচ্ছে! মানুষ এত বকবক কিভাবে করতে পারে? আর বিনা কারণেই কিভাবে ঝামেলায় জড়াতে পারে?"

আয়ান কাঁধ উঁচিয়ে বলল,

"আমি কি জানি? এসব তোর ভাবিকে জিজ্ঞেস কর। সে ভালো বলতে পারবে তোর প্রশ্নের উত্তর। আমি বেহুদা বকবক করিও না আর জানিও না মানুষ কিভাবে করে?"

আয়মান মাথা নাড়িয়ে বলল,

"ভাবিকে জিজ্ঞেস করা যাবে না। তাহলে বুঝে যাবে তুমি আমার রুমে এসে ভাবির নামে বদনাম করো।"

আয়ান অবাক হয়ে বলল,

"বদনাম! বদনাম কখন করলাম আমি? আমি আমার বউয়ের নামে বদনাম করি না।"

আয়মান উত্তর না দিয়ে ভ্রু গুছিয়ে তাকালো আয়ানের দিকে। ওকে এভাবে তাকাতে দেখে আয়ান বলল,

"এভাবে কি দেখছিস?"

আয়মান লম্বা শ্বাস নিয়ে বলল,

"দেখছি আমার ভাই যে প্রেমে পড়ে যাচ্ছে। আহা! প্রথমদিন যেনও কি বললে? তুমি ওকে পছন্দ করো না৷ আর এখন কি করো? কথায় কথায় আমার বউ আমার বউ করো।"

আয়ান ভণিতাহীন বলল,

"বউ যখন আমার তো, আমি তো 'আমার বউ, আমার বউ' করবোই। তোর বউ নেই এজন্য তুই বলিস না। চিন্তা করিস না, তোকেও দ্রুত বউ এনে দিবো। তুইও তখন 'আমার বউ আমার বউ' করিস। ঠিক আছে?"

আয়ানের কথা ঘুরানোর অনবদ্য পদ্ধতি দেখে আয়মান হতবাক। কথার মাঝে তাকেই ফাঁসিয়ে দিয়েছে। তবুও আয়মান হার মানলো না। বলল,

"কথা ঘুরিয়ে ফেললেও লাভ হবে না। আমার মনে হচ্ছে তুমি প্রেমে পড়ে গেছো!"

স্নিগ্ধ প্রেমের মায়া গল্পটি তিয়াশা চৌধুরী-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক থ্রিলার গল্প