স্নিগ্ধ প্রেমের মায়া

পর্ব - ২৩

🟢

কুয়াশার পর্দায় ঢাকা রাতের আকাশ। শিশিরবিন্দুগুলো বৃষ্টির ফোঁটার মতোন পাতার ডগায় জমে আছে। ক্ষণে ক্ষণে সেগুলো টুপ করে ঝড়ে পড়ছে মাটিতে। প্রিয়া বারান্দার রেলিং-এ হাত রেখে মনোযোগ দিয়ে সেগুলো দেখছে। দৃষ্টি দেখে সেরকম মনে হলেও সে ডুবে আছে অন্য ভাবনায়। আয়ান এখনও রুমে আসে নি। রুমে আসলেই আয়মান ও নাতাশার ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলবে।

আয়মানের সাথে কতক্ষণ আড্ডা দিয়ে রুমে ঢুকলো আয়ান। প্রিয়াকে কোথাও না দেখে ভাবলো এখনও সায়মার রুমেই আছে। দরজা খুলে বের হতে নিবে তখনই নজরে পড়লো বারান্দার দিকে কারো ছায়া। ছায়া দেখেও প্রিয়াকে চিনতে বিলম্ব হলো না আয়ানের। দরজা বন্ধ করে নি:শব্দে গিয়ে দাঁড়ালো প্রিয়ার পিছে। চুপচাপ প্রিয়াকে দু'হাতের মাঝে আটকে বারান্দার রেলিং-এর দুপাশে হাত রাখলো। প্রশস্ত বুক ঠেকলো প্রিয়ার পিঠে।

প্রিয়া ভাবনায় ডুবে থাকায় ওর হঠাৎ আগমন টের পায় নি। যখন নিজেকে আয়ানের দু'হাতের মাঝে বন্দি আবিষ্কার করলো তখন হকচকিয়ে পিছে ফিরলো। এককদম পিছাতে গিয়ে ঠেঁসে গেলো রেলিং-এর সাথে। মুখ ভার করে বলল,

"এতক্ষণে এসেছেন? আপনার সাথে আমার কিছু কথা ছিলো।"

আয়ান নিজেও এগিয়ে আসলো। বলল,

"প্রতিদিনই কিছু না কিছু বলার থাকে। আজও আছে, নতুন কিছু নয়। বলে ফেলো।"

প্রিয়া নিজের হাতে হাত ঘঁষতে ঘঁষতে বলল,

"আয়মান ও নাতাশার ব্যাপারে।"

এমন উদ্ভট টপিকের নাম শুনে আয়ান অবাক হলো। কিছু না বলে সরু নেত্রে তাকালো প্রিয়ার দিকে। প্রিয়া ওর ভাব-ভঙ্গি বুঝতে পেরে বলল,

"আমি কোনো ফালতু কথা বলছি না। কথাটা বলা জরুরি।"

আয়ান হতাশ শ্বাস ফেলে হাত সরিয়ে ফেলল। প্রিয়াকে রুমে আসতে বলে নিজেও রুমে ঢুকে খাটের উপর বসলো। প্রিয়া ওর পিছু পিছু এসে ওর পাশে বসলো। কিন্তু সাহস পাচ্ছে না কথাটা বলার।

আয়ান বুঝেছে ব্যাপারটা খুবই গুরুতর। নাহলে প্রিয়া এইভাবে শান্ত হয়ে ভাবনা-চিন্তা করার মেয়ে না। ও ভাবছে, অর্থাৎ আয়ানকে বলতে ইতস্তত করছে। আয়ান ওকে আশ্বস্ত করতে ওর দু'হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল,

"কি হয়েছে, প্রিয়া? আয়মান আর নাতাশার ব্যাপারে কি এমন বলার আছে? তুমি একদম নির্দ্বিধায় বলে ফেলো।"

আশ্বাস পেয়ে প্রিয়া মুখ খুলল৷ বলল,

"লন্ডনে থাকতে আয়মানের সাথে নাতাশার সম্পর্ক ছিলো। কিন্তু লন্ডন থেকে আসার পর আয়মান সেই সম্পর্ক অস্বীকার করছে৷ নাতাশাকে এড়িয়ে যাচ্ছে। বিষয়টা কি আপনার ঠিক মনে হচ্ছে?"

আয়ান জিজ্ঞেস করলো,

"এইসব কথা কে বলেছে তোমাকে?"

প্রিয়া মাথা নিচু করে বলল,

"নাতাশা বলেছে৷ ভার্সিটি ছুটির পর আমার সাথে দেখা হয়েছে। তখনই কথাগুলো বলেছে। আর এটাও বলেছে আপনারা এসব কথা বিশ্বাস করবেন না৷ তবুও আমি আপনাকে বলেছি। আপনি তো আমাকে বিশ্বাস করেন? একবার ভেবে দেখুন ওদের মধ্যে কিছু না থাকলে নাতাশা কেনও সেদিন হুট করে এসেই আয়মানকে জড়িয়ে ধরবে?"

এক নিশ্বাসে কথাগুলো বলে থামলো প্রিয়া। চোখ তুলে চাইলো আয়ানের দিকে। তার দৃষ্টিতে বিস্ময় ও কৌতুহল। বলল,

"লন্ডনে থাকতে আয়মানের সাথে নাতাশার সম্পর্ক ছিলো? কিন্তু আয়মান তো কোনোদিন বলে নি!"

"হয়তো আপনাদের থেকে লুকাতে চেয়েছে। এখনও লুকাতে চাইছে। এজন্যই নাতাশাকে এড়িয়ে যাচ্ছে।"

আয়ান বুঝে পাচ্ছে না কি বলবে! যদি প্রিয়ার কথা মানতে যায়, তবে আয়মানকে অবিশ্বাস করা হবে৷ আবার আয়মানকে বিশ্বাস করলে, প্রিয়াকে অবিশ্বাস করা হবে। কোনোদিকেই কূল পাচ্ছে না ও। কোনোমতে পরিস্থিতি সামলাতে বলল,

"আচ্ছা। আয়মান যদি এরকম করেও থাকে, ওকে আমি বুঝিয়ে বলবো৷ তুমি তোমার সব টেনশন আমাকে দিয়ে ঘুমাও। আমি কথা বলে সব সমাধান করবো। যা হবে একদম সঠিক হবে। তোমার মাথায় কোনো টেনশন নেওয়ার প্রয়োজন নেই।"

প্রিয়া মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো আয়ানের কথায়৷ পরপর লাইট অফ করে নিজের জায়গায় গিয়ে শুয়ে পড়লো।

******

রাত গভীর হয়েছে। প্রিয়ার ভারী নিশ্বাসের শব্দ পেয়ে আয়ান টের পেলো ও গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। কিন্তু তার চোখে ঘুমের দেখা নেই৷ কিছুক্ষণ এপাশ-ওপাশ ফিরে বিছানা ছাড়লো। ভাবলো আয়মানের সাথে গিয়েই এই ব্যাপারে কথা বলবে।

সিড়ির কাছে যেতেই দেখা হলো সায়মার সাথে। খালি জগে পানি ভরে উপরে উঠছিলো ও। এত রাতে আয়ানকে দেখে অবাক হয়ে বলল,

"ভাইয়া তুমি? এত রাতে এখানে কি করছো?"

"আয়মানের রুমে যাচ্ছি। তুইও আয়। কথা আছে তোর সাথে।"

বলে আয়ান পা বাড়ালো আয়মানের রুমের দিকে। সায়মাও ভাইয়ের পিছু পিছু গেলো৷ দুইবার নক করতেই ঘুম ঘুম চোখে দরজা খুললো আয়মান। চোখ ডলতে ডলতে বলল,

"এত রাতে তোমরা আমার রুমে কি করছো?"

আয়ান ওকে সরিয়ে ভিতরে ঢুকে গেলো। সায়মাও ঢুকলো সাথে সাথে। আয়ান বিছানায় বসে বলল,

"মুখ ধুয়ে আয়। কথা আছে।"

আয়ানের গুরুগম্ভীর স্বরে আয়মানের ঘুম ছুটে গেলো। বুঝলো গুরুতর কিছু ঘটে গেছে। তাই গিয়ে মুখ ধুয়ে এসে বসলো। বলল,

"এবার বলো, কি হয়েছে?"

আয়ান বলল,

"সবার আগে সায়মার কাছে আমার প্রশ্ন, তুই কোন বুদ্ধিতে প্রিয়াকে নাতাশার কাছে ছাড়লি?"

হঠাৎ এই প্রশ্নে সায়মা থতমত খেয়ে গেলো। বুঝতে পারলো কোনো একটা সমস্যা সেখান থেকেই লেগেছে। নিজের দোষ খুঁজে পেয়ে চিন্তায় হাতের তালু ঘামতে শুরু করলো। আয়ানের কথায় আয়মানও ভ্রু কুঁচকে তাকিয়েছে ওর দিকে। দুইজনের সন্দেহী দৃষ্টির সামনে ভাবনায় হাবুডুবু খেয়ে বলল,

"প্রিয়াই আমাকে পাঠিয়ে দিয়েছে। নাতাশাকে দেখে প্রিয়া আমাকে বলল, বাসায় চলে আসতে। আর আমিও রেগে চলে এসেছি। এজন্যই কি কিছু হয়েছে ভাইয়া?"

আয়ান রাগ দমিয়ে বলল,

"রাগের মাথায় এমন বোকার মতো কাজ কিভাবে করলি, সায়মা? তোর এতটুকু তো ধারনা হয়েছে, নাতাশা আয়মানের সম্পর্কে যা বলবে সেটার কারণে প্রিয়া ওকে ভুল বুঝতে পারে। কিভাবে এমন বোকামো করলি?"

আয়মান কন্ঠে বিরক্তি ঢেলে বলল,

"ওর উপর রাগারাগি করো না, ভাইয়া। কি হয়েছে সেটা বলো। ওর উপর রাগ দেখালে সমস্যার সমাধান হবে না।"

আয়ান বলল,

"নাতাশা ওকে কিসব বুঝিয়ে রেখেছে। বলেছে তোর সাথে নাতাশার সম্পর্ক ছিলো আর তুই বাংলাদেশ আসার পর বেইমানী করেছিস।"

আয়মান হতবাক হয়ে বলল,

"হোয়াট! ভাইয়া তোমার মনে হয় আমি এরকম করেছি?"

আয়ান মাথা নেড়ে বলল,

"আমার মনে হওয়া না হওয়াটা ব্যাপার না। কিন্তু নাতাশার এসব বলাটা ব্যাপার আয়মান। ওর উদ্দেশ্যেটা কি?"

"উদ্দেশ্যে যেটাই হোক, ভালো কোনো উদ্দেশ্যে নিশ্চয়ই নয়।"

সায়মার কথায় আয়ান ধমকে উঠলো,

"জানিস যখন উদ্দেশ্যে ভালো নয়, তাহলে প্রিয়াকে একা ছাড়লি কেনও? তোর বোঝা উচিত ছিলো আয়মানকে আমরা আগে থেকে চিনলেও প্রিয়া চিনে না। আর তোর বান্ধবি কিরকম সেটা তো তোর জানার কথা! এটা তো জানবিই, ও খুব সহজে নাতাশাকে বিশ্বাস করে ফেলবে।"

সায়মার মন অনুতপ্ততায় ছেঁয়ে গেলো। মুখ অন্ধকার করে বলল,

"আমি কি জানতাম যে এমন কিছু হবে! প্রিয়াও বোকার মতো ওকে বিশ্বাস করে বসবে।"

আয়মান বিরক্তিতে মাথার চুল খাঁমচে ধরেছে। ওদের তর্কে-বিতর্কে না জড়িয়ে বলল,

"তোমরা থামো। এখন এসব না ভেবে এটা ভাবো কি করা যায়! কিভাবে নাতাশার পিছু ছাড়াবো আমি?"

সায়মা বলল,

"ভাইয়া, তোমার আসলেই ওর সাথে কোনো সম্পর্ক ছিলো না?"

আয়মান ঝাঁড়ি মেরে বলল,

"তুই আমাকে সন্দেহ করছিস? লজ্জা করছে না, বড় ভাইকে এইভাবে সন্দেহ করতে?"

আয়ান বলল,

"চুপ! ব্যাপারটা সন্দেহের না, আয়মান৷ ব্যাপারটা নাতাশার উদ্দেশ্যে জানার। আচ্ছা, নাতাশার সাথে তোর পরিচয় থেকে সবকিছু খুলে বল তো আমাদের!"

আয়মান বলতে লাগলো,

"আমি যখন লন্ডনে এপার্টম্যান্ট কিনলাম তখন জানতাম না এরকম একটা মেয়ের প্রতিবেশি হতে হচ্ছে। যখন সেখানে শিফট হয়ে গেলাম তারপর ওদের সাথে পরিচয় হলো। আমার পরিবার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তাও বলে দিলাম। আমি তখনও বুঝি নি নাতাশা এমন হবে। প্রথম প্রথম ওকে এড়িয়ে গেলেও, দিনে দিনে ওর বেহায়াপনা বাড়তেই লাগলো। আমি একদম অতিষ্ট হয়ে পড়েছিলাম। ভেবেছি বাংলাদেশে এসে পড়লে শান্তি পেয়ে যাবো। কিন্তু না! ও এখানেও টপকে গেছে।"

এতক্ষণ সায়মা ও আয়ান মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো আয়মানের কথা৷ ইতিমধ্যে কখন সারা দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে কেউ টেরই পায় নি। টের পেলো যখন আয়মানের কথা শেষে সারা মুখ খুলল,

"নাতাশা কি তোমার সাথে এইবারই বাংলাদেশ এসেছে না এর আগেও এসেছে?"

হঠাৎ সারার কন্ঠ পেয়ে বিস্মিত তিন জোড়া দৃষ্টি ঘুরে গেলো দরজার দিকে৷ সেখানে দুহাত একসাথে করে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে দাঁড়িয়ে সারা। প্রথম মুখ খুলল আয়ান,

"তুই এত রাতে? এখনও ঘুমাস নি?"

সারা ঢোক গিলে বলল,

"ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো। আপুকে না দেখে চলে এলাম।"

আয়মান অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে বলল,

"এসেই যখন পড়েছিস, আর কথাও শুনে ফেলেছিস তাহলে ভিতরেই এসে বস। ওখানে সং সেজে দাঁড়িয়ে থাকার কোনো মানে হয় না।"

সারা ভিতরে ঢুকে আয়মানের সামনে এসে পুনরায় জিজ্ঞেস করলো,

"বলো না ভাইয়া! নাতাশা কি এর আগেও এসেছিলো বাংলাদেশ?"

আয়মান বিরক্ত কন্ঠে বলল,

"হ্যাঁ এসেছিলো। এখানে ওর অনেক আত্মীয় আছে আসতেই পারে। কিন্তু ওর যাওয়া আসা নিয়ে তোর কি কাজ?"

সারা উৎফুল্ল হয়ে ডান হাতের উপর বাম হাত দিয়ে কিল মারলো। বলল,

"এজন্যই ওকে চেনা চেনা লাগছিলো। আমি নাতাশাকে ফারহান ভাইয়ার সাথেই দেখেছিলাম।"

*******

মাঝরাতে হঠাৎই প্রিয়ার ঘুম ভেঙে গেলো। পাশ ফিরে আয়ানের জায়গা খালি দেখেই ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলো বিছানায়। আশেপাশে চোখ বুলিয়েও আয়ানকে রুমের কোথাও দেখা গেলো না। ত্রস্থ বিছানা থেকে নেমে লাইট জ্বালালো ও। পরক্ষণেই দেখলো রুমের দরজা খোলা। কিছু একটা ভেবে প্রিয়া রুম থেকে বের হলো। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো শুধুমাত্র আয়মানের রুমেই আলো দেখা যাচ্ছে। আয়ান সেখানে আছে ভেবেই তৎপর পা বাড়ালো সেখানে।

*******

আয়ান, আয়মান, সায়মা। তিনজন অবাক হয়ে একে-অপরের সাথে দৃষ্টি বিনিময় করলো। আয়ান বলল,

"ফারহানের সাথে দেখেছিস? আর ইউ সিউর সারা, তুই নাতাশাকে ফারহানের সাথেই দেখেছিস?"

"হ্যাঁ। আমি সিউর। আমি নাতাশাকে ফারহান ভাইয়ার সাথেই দেখেছিলাম।"

সারার কন্ঠে আত্মবিশ্বাস। তবুও তারা মানতে পারছে না। আয়মান মাথা নাড়িয়ে বলল,

"হাউ ইজ দিজ পসিবল? সারা, ফারহান নিখোঁজ হয়েছে প্রায় দু'বছর হতে চলল। তাহলে নাতাশার সাথে ফারহানের পরিচয় কিভাবে সম্ভব?"

আয়ান কিছু একটা ভেবে বলল,

"সম্ভব হতে পারে। তুই এপার্টম্যান্ট কেনার পর ফারহান গিয়েছিলো লন্ডন। তোর ওখানে কিছুদিন থেকেও এসেছে। তাহলে হতে পারে না, সেইসময় ওদের কোনো সম্পর্ক হয়েছে।"

আয়মান কন্ঠে অবিশ্বাস ঢেলে বলল,

"এই মেয়ে আসলেই এতটা নিচে নামতে পারে? আমার ছোট ভাইয়ের সাথে এসব করে, আবার আমার সাথেও লাইন মারার চেষ্টা করেছে!"

আয়ান আয়মানের বাকি কথা সম্পূর্ণ করে বলল,

"তারপর তোর ভাবিকেও ভুলভাল বুঝিয়ে কাজ হাসিল করতে চাইলো। এখন এই মেয়েকে কি করা উচিত?"

সায়মা দিন দুনিয়া ভুলে কিছু একটা ভাবছে। আয়ানের কথা শেষ হতেই বলল,

"একটা জিনিস ভেবে দেখেছো? ফারহান ভাইয়া লন্ডন থেকে আসার পরই নিখোঁজ হয়েছে। তাহলে ব্যাপারটা এমন দাঁড়ায়, এই নিখোঁজ হওয়ার পিছনেও নাতাশার কোনো ভূমিকা আছে!"

সারা বলল,

"শুধু এটাই না। ফারহান ভাইয়া নিখোঁজ হওয়ার আগেই আমি নাতাশাকে ভাইয়ার সাথে দেখেছিলাম। তার মানে নাতাশা তখন বাংলাদেশে ছিলো। রাইট?"

আয়মান কিছুক্ষণ ভেবে বলল,

"ইউ আর রাইট। ফারহান আসার পর কিছুদিন নাতাশার কোনো খোঁজ ছিলো না। তাহলে ও তখন বাংলাদেশে ছিলো।"

"কার এত খোঁজ করা হচ্ছে সবাই মিলে?"

হঠাৎ প্রিয়ার আগমনে চুপ হয়ে গেলো সবাই। সায়মা আমতা-আমতা করে বলল,

"ইয়ে, প্রিয়া! আসলে হয়েছে কি, ঘুম আসছিলো না। তাই সবাই আড্ডা দিচ্ছিলাম।"

প্রিয়া হাসিমুখে বলল,

"আমাকেও তো ডাকতে পারতি।"

আয়মান বলল,

"আপনি পক্ষে থাকেন নাকি বিপক্ষে সেই ভেবেই আর ডাকা হলো না!"

প্রিয়া হাসি বন্ধ করে বলল,

"পক্ষে-বিপক্ষে মানে?"

আয়ান ওর হাত ধরে খাটে বসালো। নিজে ওর সামনে বসে বলল,

"প্রিয়া, তুমি অচেনা একজনের চোখের পানি দেখে তাকে বিশ্বাস করবে, নাকি নিজের পরিবারকে?"

এহেন প্রশ্নে দিকবিহিক ভুলে অবাক হয়ে তাকালো প্রিয়া। কিছুক্ষণ ভেবে বুঝতে পারলো আয়ানের কথার মানে। ধাতস্থ হয়ে সবার দিকে একপলক চেয়ে দেখলো সবাই উত্তরের আশায় তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। প্রিয়া কিছু একটা ভেবে শান্ত কন্ঠে বলল,

"বিশ্বাস আমি আমার পরিবারকেই বেশি করি। তবে সাপোর্ট আমি তাকেই করবো যে সঠিক হবে।"

স্নিগ্ধ প্রেমের মায়া গল্পটি তিয়াশা চৌধুরী-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক থ্রিলার গল্প