মাথার উপর সূর্যের উত্তপ্ততা টের পাওয়া যাচ্ছে। ভর দুপুরে গাড়ি হাজির হয়েছে খান নিবাসের দোরগোড়ায়। আয়মান গাড়ি থেকে বের হয়ে বাড়িটার দিকে তাকিয়ে লম্বা শ্বাস নিলো। ভিতরে ভিতরে উৎফুল্লতার জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। অনেকদিন পর পরিবারের কাছে ফেরার খুশিতে।
আয়মানকে অপেক্ষা করতে বলে আয়ান গাড়ি পার্ক করে আসলো। অত:পর দুইজন একসাথে দরজার সামনে গিয়ে কলিংবেল চাঁপ দিলো।
এই উপস্থিতির ঘন্টা বাজা'র অপেক্ষায় বসে ছিলো বাড়ির সবাই। পারভিন খান বারবার দরজার সামনে যাওয়া-আসা করছিলেন। মাত্রই উঠে রুমে গিয়েছেন আর আয়মান এসেছে। উঠে গিয়ে দরজা খুললেন ফারদিন খান। সম্পর্কে ভাতিজা হলেও ছেলের মতো ভালোবেসেছেন তিনি। দু'বছর পর দেখেই আবেগী হয়ে চোখে দু'ফোঁটা অশ্রুকণা এসে পড়লো। চটজলদি সেটা আড়াল করেই জড়িয়ে ধরলেন আয়মানকে। বললেন,
"এতদিন পর তাহলে আপনার আমাদের কথা মনে পড়েছে?"
"কি যে বলো চাচ্চু! প্রত্যেকদিনই মনে পড়ছে। মনে করতে করতে আজ একেবারেই চলে এসেছি তোমাদের কাছে। আর যাবো না কোথাও!"
আয়ান বলল,
"আরেহ, দরজার সামনেই সব কথা শেষ করবে নাকি? ভিতরে তো যেতে দাও ওকে!"
ফারদিন খান আয়মানকে ছেড়ে নিজের চোখ মুছলেন। সাইড হয়ে ভিতরে ঢোকার জায়গা করে দিলেন। পারভিনও নিচে নেমে ছেলেকে দেখে আবেগ্লাপুত হয়ে কেঁদে ফেললেন আয়মান কিছুক্ষণ মা-কে বুঝিয়ে আয়ানের হাতে দায়িত্ব দিয়ে বাকি সবার সাথেও কুশল বিনিময় করলো।
প্রিয়া এক সাইডে দাঁড়িয়ে পরিবারের এই আবেগঘন মূহুর্তটা দেখছে। কি অসাধারণ ভালোবাসার মেল-বন্ধন এই পরিবারে। মুগ্ধতায় দৃষ্টি জুড়িয়ে যাচ্ছে তার। ছোটবেলা থেকেই এরকম একটা পরিবারেরই অভাব ছিলো বোধহয়! আল্লাহ সেটা পূরণ করে দিয়েছে।
সবার সাথে কথা বলা শেষে আয়মান এসে দাঁড়ালো প্রিয়ার সামনে। বলল,
"আমি যদি কোনো ভুল না করি, তাহলে আপনিই তো আমার ভাবি, তাই না?
প্রিয়া স্বলজ্জ হেসে মাথা নোয়ালো। উত্তরটা কি দেয়া উচিত খুঁজে পেলো না। আয়ান তো ওকে বউ মানেই না, সেখানে আবার এরা ভাবি ভাবি বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলছে!
প্রিয়ার হয়ে উত্তরটা দিলো আয়ান। বলল,
" হ্যাঁ। এটাই তোর ভাবি।"
আয়মান প্রিয়ার সাথে অল্প কিছু কথা বলল। পরপর সোফায় শরীর এলিয়ে দিয়ে বলল,
"অনেক জ্বালিয়েছি, তাই না ভাইয়া? এবার আমি এসে পড়েছি আর কিছু বলবো না। এবার বিয়ের আয়োজন করতে পারো।"
পারভিন রান্নাঘরে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আসতে আসতে শুধু আয়মানের শেষ কথাটাই শুনতে পেরেছেন। দ্রুতগতিতে ছুটে এসে জুসের গ্লাসটা আয়মানের সামনে রাখতে রাখতে বললেন,
"আসতে না আসতেই বিয়ের আয়োজন করতে বলছিস? মেয়েও তো দেখি নি আমরা। নাকি তুই কাউকে পছন্দ করে রেখেছিস? আয়োজন করবো আর তুই নিয়ে এসে পড়বি।"
আয়মান হতভম্ব হয়ে তাকালো মায়ের দিকে। কি বলছে এটাও তার মাথাতে ঢুকছে না। আয়মানের মুখের অবস্থা দেখে আয়ান বহু কষ্টে হাসি চেঁপে রেখেছে। কিন্তু সারা-সায়মা পারে নি। শব্দ করে হেসে ফেলেছে।
পারভিন বিরক্ত হয়ে তাকালেন দুই বোনের দিকে। বললেন,
"এভাবে দাঁত কেলাচ্ছিস কেনও? এই ছেলে আসতে না আসতেই বিয়ে করার জন্য লাফাচ্ছে এটা কি হাসির কোনো বিষয়? বুঝতে পারছিস না, তোদের ভাইগুলো দিনে দিনে বিয়ে পাগলা আর বউ পাগলা হয়ে যাচ্ছে।"
আয়ান সাথে সাথে চাঁপা হাসি বন্ধ করে গম্ভীর হয়ে গেলো। আয়মানকে বলছিলো এতটুকু ঠিক আছে। তাকে মাঝখানে টানার কি প্রয়োজন ছিলো?
এতক্ষণে আয়মানের মাথায় পুরো ঘটনাটা ঢুকেছে। বুঝতে পারলো ও বলেছে একটা আর মা বুঝেছে আরেকটা। হাত টেনে পারভিনকে পাশে বসিয়ে শান্ত গলায় বলল,
"মা, আমি আমার বিয়ের আয়োজন করতে বলি নি। আয়ান ভাইয়ার বিয়ের আয়োজন করতে বলেছি। ওদের বিয়েটা তো এমনি এমনিই হয়ে গেলো। তাই বলে কি আমরা আনন্দ করবো না? এখন তো আমি এসে গেছি। এবার বিয়ের আয়োজন করো ধীরে-সুস্থে।"
পারভিন বুঝতে পেরে বললেন,
"ওহ আচ্ছা। আমি আরও ভাবলাম তুই বুঝি বিদেশী মেয়ে নিয়ে এলি!"
আয়ান বিড়বিড় করে বলল,
"যেই বিদেশী এনেছিলো, তুমি দেখলে এখন কুরুক্ষেত্র বেঁধে যেতও। ভাগ্যিশ তেমন কিছু হয় নি!"
আয়মান সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। বলল,
"রুমে যাচ্ছি। খাবার বাড়ো। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি। অনেকদিন তোমার হাতের খাবার খাই না!"
পারভিন মাথা নাড়িয়ে উঠে পড়লেন। সব গোছগাছ করতে লেগে পড়লেন।
আয়মান সিড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে ভাবছে,
"লন্ডনের মেয়েতে আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই। জিন্স-টপস পড়া মেয়ে দেখে কি লাভ? যখন নারীদের আসল সৌন্দর্য শাড়িতেই লুকায়িত..!"
******
খাবার টেবিলে অফিসের কথা তুললো আয়মান। বলল,
"ভাইয়া, কালই অফিস যাচ্ছি। সব গুছিয়ে নিতেও তো সময় লাগবে!"
ফারদিন খাওয়া বন্ধ করে বলল,
"কালই? এসেছো, দুইদিন রেস্ট নাও।"
"না চাচ্চু। আজকে তো রেস্ট নিচ্ছিই। কাল থেকে জয়েন করবো। শুধু শুধু আরও দুইদিন নষ্ট করার প্রয়োজন নেই।"
ফারদিন খান তাকালেন আয়ানের দিকে। ইশারায় বললেন আয়মানকে বোঝাতে। কিন্তু আয়ানও ভাইয়ের পক্ষ নিয়ে বলল,
"ও যখন চাইছেই তাহলে জয়েন করুক। এরপর অনুষ্ঠানের সময় না হয় রেস্ট করবে।"
"হ্যাঁ, আর ভাইয়া শুনো। জয়েনিং এর পর কিন্তু আমার একজন পিএ লাগবে। এডভারটাইসমেন্ট দিয়ে দিও।"
*******
কুয়াশাছন্ন সকালে ভার্সিটি এসে পৌঁছালো সন্ধ্যা আর প্রিয়ন্তী। পুরো ভার্সিটিটা ঘুরে ঘুরে দেখালো। ক্লাস শুরু হতে এখনও অনেকসময় বাকি। সন্ধ্যা প্রিয়ন্তীকে নিয়ে লাইব্রেরিতে এলো। হঠাৎ সন্ধ্যার ডাক পড়ায় সে প্রিয়ন্তীকে সেখানে রেখেই বেরিয়ে গেলো।
আয়ান প্রিয়া আর সায়মাকে ভার্সিটিতে নামিয়ে দিয়ে চলে গেছে। আজ তার সাথে আয়মানও আছে। প্রিয়া ভার্সিটি ঢুকেই সায়মাকে বলল,
"চল লাইব্রেরিতে যাই। সন্ধ্যা এসেছে কি না, কে জানে! বলেছিলো যে আগে আসবে সে যেনও লাইব্রেরিতে ওয়েট করে।"
সময়টা সকাল হওয়ায় ভার্সিটির প্রাঙ্গণ অনেকটাই নীরব। বিশেষ করে এমন শীতের সময় কে চাইবে সকালের ঘুম নষ্ট করে ভার্সিটি আসতে? ক্লাস শুরু আর এক ঘন্টা পর। অল্প কিছু শিক্ষার্থী দেখা যাচ্ছে আশেপাশে। তিন বান্ধবি সকাল সকাল এসে পড়েছে। প্রথম কারণ, আয়ান ওদের ড্রপ করে অফিস যাবে বলে। দ্বিতীয় কারণ, একটা লম্বা সময় আড্ডা দিতে পারবে বলে।
সায়মার হাতে ব্যাগ দিয়ে প্রিয়া বলল,
"তুই ক্লাসরুমে রেখে আয়। আমি লাইব্রেরিতে যাচ্ছি।"
বলে ছুট লাগালো লাইব্রেরি রুমে। সায়মাও অগত্যা পথ ধরলো ক্লাসরুমের।
প্রিয়া লাইব্রেরীতে ঢুকে দেখলো আশেপাশে কেউ নেই। এমনিতেও বই-টইয়ের ছায়া মাঁড়াতে চায় না বেশিরভাগ স্টুডেন্ট। এখানে আসেই আড্ডা দিতে। কিংবা নোটস নিতে। সকাল হওয়াতে এখন পরিবেশ আরও নির্জন।
বামদিকে চোখ যেতেই প্রিয়ার নজরে পড়লো জলপাই রঙের থ্রি-পিস পড়নে এক মেয়ে বুকসেল্ফের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে আছে। উলটো দিক হওয়ার মুখটা দৃষ্টিগোচর হলো না। তবে দেখা যাচ্ছে, হাতে থাকা বইয়ের পাতা বেশ মনোযোগ দিয়ে নাড়া-চাড়া করছে।
প্রিয়া সাত-পাঁচ না ভেবে দৌড়ে গিয়ে পিছন থেকে গলা জড়িয়ে ধরে বলল,
"সন্ধ্যা, তুই এসে পড়েছিস? আজকে এত ফাস্ট কি মনে করে? আবার বইও ধরছিস। কি আশ্চর্য কারবার!"
সামনে থাকা ব্যক্তি জবাব দিবে কি? আকস্মিক ঘটনায় পুতুল বলে দাঁড়িয়ে রইলো। হাতে ধরে থাকা বইটাও টুপ করে নিচে পড়ে গেলো। প্রিয়া ওকে ছেড়ে দিয়ে বলল,
"এভাবে স্ট্যাচু হয়ে গেলি কেন? ভূত দেখলি নাকি? নাকি তোকেই আবার ভূতে ধরে ফেলেছে?"
প্রিয়ন্তীর হুশ ফিরলো এতক্ষণে। চোখ বড় বড় করে তাকালো প্রিয়ার দিকে। কিছু না বলে তাকিয়েই রইলো।
প্রিয়াও সন্ধ্যার জায়গায় অন্য একজনকে দেখে থতমত খেয়ে গেলো। সরি বলতে গিয়েও শব্দগুচ্ছ যেনও কন্ঠনালীতে আটকে গেলো। গভীর দৃষ্টিতে দু'জন দু'জনকে দেখছে। দু'জনেই অনুভব করতে পারলো, কোথাও একটা খুব সূক্ষ্ম মিল রয়েছে তাদের মধ্যে। কিন্তু কোথায় সেটা ধরতে পারলো না।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সবার আগে প্রিয়ন্তী বলল,
"আরেহ, কি রকম বই এটা? একটা মানুষ পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলে হাত থেকে পড়ে যাওয়া লাগে নাকি? আমি এত কষ্ট করে বুকসেলফ থেকে হাতে নিলাম আর আমার হাত থেকেই পড়ে গেলো। এটা বেয়াদবি না, বলো?"
প্রিয়া প্রথমে ওর কথা শুনে অবাক হলেও পরমুহূর্তেই শব্দ করে হেসে উঠলো। বলল,
"ঠিক ঠিক। মহা বেয়াদবী করে ফেলেছে বইটা!"
প্রিয়ন্তীও স্মিত হাসলো। বলল,
"সন্ধ্যা আপুকে খুঁজছিলে বুঝি? তুমি কি আপুর ফ্রেন্ড?"
প্রিয়ন্তীর মুখে সন্ধ্যাকে আপু ডাকতে শুনে হাসি থামালো প্রিয়া। বলল,
"সন্ধ্যাকে চিনো তুমি?"
"হ্যাঁ। সন্ধ্যা আপু তো আমার কাজিন হয়। খালাতো বোন। আপুর সাথেই আজ ভার্সিটি এসেছি। একটু আগে আপু আমাকে এখানে বসিয়ে রেখে বাইরে গেলো। আমি অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে। তুমি নিশ্চয়ই আপুর সাথেই অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ছো?"
প্রিয়া ভ্রু গুছিয়ে তাকালো প্রিয়ন্তীর দিকে। বলল,
"সন্ধ্যার কোনো কাজিন এই ভার্সিটিতে পড়ে বলে আমি শুনি নি তো।"
"আমি গত দুইদিন আগেই ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এসেছি। আজকেই ভার্সিটিতে আমার প্রথম দিন। আর আজই তোমার সাথে পরিচয় হয়ে গেলো। তোমার সাথে কথা বলে খুব ভালো লাগলো। এমনিতে আমি খুব বেশি কথা বলি না। কিন্তু তোমার মতো মিশুক পেয়ে গেলে একটু-আধটু বলে ফেলি।"
প্রিয়া খুশি হয়ে বলল,
"আমারও তোমার সাথে কথা বলে খুব ভালো লাগলো। আমিও অনেকটা তোমার মতোই। খুব বেশি কথা বলি না। আমি তো মাঝে মাঝে এটাই ভেবে পাই না মানুষ এত কথা কি করে বলে? সায়মার ভাইটা আছে না? তুমি জানো, উনি কত বেশি কথা বলে? উনার জন্য ঘরে আমিই কথা বলার সুযোগ পাই না।"
প্রিয়ন্তী সায়মাকে চিনে না। তাই কথাটাও বুঝতে পারে নি। যেই জিজ্ঞেস করতে যাবে সায়মার ভাইটা কে, তাকে থামিয়ে প্রিয়াই বলা শুরু করলো,
"ওহহো, এই দেখো! কথায় কথায় তোমার নামটাও জিজ্ঞেস করি নি। কি নাম তোমার?"
কথা ঘুরে যাওয়াও প্রিয়ন্তীও আর কিছু জিজ্ঞেস করলো না। বলল,
"আমার নাম প্রিয়ন্তী। আদর করে সবাই প্রিয়ু বলেই ডাকে। তোমার নাম?"
প্রিয়া ভাবুক ভঙ্গিতে বলল,
"প্রিয়ন্তী, প্রিয়ু। তাহলে আমার তোমাকে কি ডাকা উচিত? প্রিয়ু? কিন্তু কি করে? আমার নাম তো প্রিয়া। তোমার নাম আর আমার নাম মিক্স হয়ে যাবে না?"
"প্রিয়া, প্রিয়ু! উফফ, কি সুন্দর মিল আমাদের নামে। আই লাভ দিজ!"
উৎফুল্ল শোনালো প্রিয়ন্তীর কন্ঠস্বর। খুশিতে ছোটখাটো একটা লাফ দিয়ে ফেলল। প্রিয়া ওর খুশি দেখে নিজেও মৃদু হাসলো।
তখন সেখানে ছুটে এসে হাজির হলো সায়মা ও সন্ধ্যা। তাদেরকে দেখে প্রিয়া বলল,
"মুরগী চুরি করে ধরা পড়েছিস নাকি? এভাবে ছুটে এলি কেনও?"
প্রিয়ন্তী ফট করে বলে বসলো,
"নাহ, মুরগী চুরি করে নি। আসার সময় সন্ধ্যা আপু বলেছিলো আইসক্রিম খাবে। ওইটাই বোধহয় চুরি করে নিয়ে এসেছে।"
প্রিয়ন্তীর কথায় প্রিয়া আর সায়মা হাসলেও সন্ধ্যা রেগে গেলো। বলল,
"উল্টোপাল্টা কথা বন্ধ কর। এসব তোর কাজ, আমার না!"
"একদম মিথ্যা কথা বলবে না। কে বলেছে আমি এসব করি?"
সন্ধ্যা ঠোঁট বেঁকিয়ে বলল,
"জানা আছে। খালামণির থেকে সবই শুনেছি। একদিন আইসক্রিম আনলে পরের দিন ফ্রিজ থেকে খালি বক্স পাওয়া যায়।"
প্রিয়ন্তী এই কথায় নিভে গেলো। ওর মা-ও না! এসব কি রটনা করার মতো বিষয়?
পরিচয়পর্ব শেষে সন্ধ্যা কথা উঠালো প্রিয়ন্তীর চাকরীর। বলল,
"ও এখানে এসেছে পড়াশোনাও করবে আর চাকরীও করবে। ভার্সিটির সময়টুকুর পরে হলে আরও ভালো হয়। কিন্তু কি করে পাই?"
পরিচয়পর্ব চলাকালীন প্রিয়ন্তী বুঝে গেছে এই সেই প্রিয়া যার জন্য এতকিছুর প্লানিং। এরই দেবর আয়মান, যার অফিসে জয়েনিং করতে হবে তার। কিন্তু সে ভাবছে, যেহেতু প্রিয়ার সাথে পরিচয় হয়েই গেলো তাহলে কি প্রয়োজন আর আয়মানের কাছে যাওয়ার? পরমুহূর্তেই মনে হলো, তার মনের সেই অজানা কৌতুহল যা তাকে নিরন্তর টানে। তার জীবনে ঘিরে থাকা খান পরিবার সম্পর্কে অজানা রহস্য জানার এটাই মোক্ষম সুযোগ। আর আয়মান নামক সেই রহস্যমানব, যার দেখা আজও পায় নি। সব ভাবনা-চিন্তা করে উত্তর একটাই দাঁড়াচ্ছে!
সন্ধ্যা সবকিছু জেনেবুঝেই প্রিয়া আর সায়মার সামনে এসব বলছে। আশা রাখছে, কাজটা হয়ে যাবে। হলোও তাই। প্রিয়া বলে ফেলল,
"আয়মান তো নিজের জন্য পিএ খুঁজছে। প্রিয়ন্তীকে সেই অফিসেই ইন্টারভিউ দিতে বলো।"
সায়মা বাঁধা দিয়ে বলল,
"তোর মনে হয় ভাইয়া রাজি হবে?"
প্রিয়া আত্মবিশ্বাসী হয়ে বলল,
"অবশ্যই হবে। আমি বললে, আয়মান নিজের ভাবির কথা ফেলতে পারবে না।"