স্নিগ্ধ প্রেমের মায়া

পর্ব - ৩৫

🟢

রাতের অন্ধকার বাড়ছে ধীরে ধীরে। আকাশে ভীষণ মেঘ করেছে। চাঁদের দেখা নেই অম্বরের কোথাও। ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে বাইরে। বাতাসের দমকে জানালার কপাট বাড়ি গেলো সশব্দে।

শব্দ পেয়ে হকচকিয়ে উঠলো প্রিয়ন্তী। বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ালো জানলাগুলো বন্ধ করতে। আজ গেস্টরুমে ও একাই রয়েছে। বাইরে ঝড়ো হাওয়া থাকলেও রুমের ভিতরের পরিবেশ ভীষণরকম শান্ত। কামরাটিকে কালো অন্ধকারে মুড়িয়ে নিস্তব্ধ বসে ছিলো প্রিয়ন্তী। এখন উঠে লাইট জ্বালালো। অত:পর জানলাগুলো বন্ধ করে ফিরে এলো আবার নিজের স্থানে। হঠাৎ প্রিয়ন্তীর মাথায় এলো আয়মান হয়তো জেগে আছে। আজ যা যা হলো এরপর ওর যেমন ঘুম আসে নি, আয়মানেরও হয়তো আসে নি! অবাধ্য মন আবার দাবি করলো ওর সান্নিধ্য।

প্রিয়ন্তী এতক্ষণ ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। ও কাল সকালেই এই বাড়ি থেকে চলে যাবে। একদম সোজা ঢাকা গিয়ে পৌঁছুবে। এই বাড়ির কেউ সেখানে ওকে খুঁজতে যাবে না। সন্ধ্যারা ওর ঠিকানা ভুলেও দিবে না। তাই সকাল সকাল এই বাড়ি থেকে চুপচাপ চলে যাওয়াই শ্রেয়! কিন্তু মন বারবার আবদার জানাচ্ছে, শেষবারের মতো আয়মানের সাথে কিছুটা সময় চায়!

কিছুক্ষণ মন ও মস্তিষ্কের মধ্যে এইভাবে যুদ্ধ চলার পর বিজয়ী হলো মন। প্রিয়ন্তী দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ালো আয়মানের রুমে যাওয়ার জন্য। তার আগে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে চোখের পানি মুছে মুখটাকে স্বাভাবিক করতে চাইলো।

হঠাৎ ড্রেসিং টেবিলের সাইডে থাকা ছোট ছোট ঘরগুলোতে চোখ গেলো তার। নজর আটকে গেলো এক কোণায় আটকে থাকা একটা ছবিতে। কৌতুহলবশত প্রিয়ন্তী ছবিটা সেখান থেকে টেনে বের করলো। সেখানে এক দম্পতির বিবাহের ছবি। প্রিয়ন্তী অবাক নয়নে নিষ্পলক চেয়ে রইলো ছবিটার দিকে। একপলকের জন্য ভাবলো তার দৃষ্টিবিভ্রম হচ্ছে। কিন্তু ছবিটায় কোনো ভ্রম নেই! পুরোটাই সত্যতা। ছবিতে আয়মানের বাবা জুনাইদ খান আর সাথে একজন রমণী। খুব সম্ভব তাদের বিবাহের দিন তোলা! জুনাইদ খানের বউ পারভিন হলেও অবাক করা বিষয় ছবিতে থাকা মহিলাটি পারভিন নয়। এই রমণী অন্য কেউ! আর প্রিয়ন্তীর খুবই চেনা একজন। তার মুখ থেকে বের হলো অস্ফুট ধ্বনি,

"ফুপ্পি!"

কোনো ভুল নেই। ছবিতে থাকা মহিলাটি প্রিয়ন্তীর ফুপু-ই। একে চিনতে প্রিয়ন্তীর ভুল হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নিয়ে। তার জন্মের পূর্বে তার ফুপুর মৃত্যু হলেও ছবিতে হাজারবার এই মুখটা দেখেছে। তাই চিনতে বিলম্ব হলো না। কিন্তু মাথা ঘোরানোর মতো ব্যাপার এইটাই, তার ফুপু বধূবেশে জুনাইদ খানের সাথে কেনও থাকবে? ভেবে চিন্তে উত্তর বের হলো একটাই। প্রিয়ন্তী আপনমনে আওড়ালো সেই উত্তরটাই,

"তাহলে কি ফুপ্পি আয়ান ভাইয়ার সৎ মা?"

আর কিছু ভাবতে পারলো না প্রিয়ন্তী। কপালে হাত দিয়ে দু'কদম পিছিয়ে গেলো। বিধ্বস্ত হয়ে ধুপ করে বসে পড়লো খাটের উপর। অশান্ত মস্তিষ্কে ঝড় উঠেছে ভীষণ। সেই ঝড়ে মনে হচ্ছে সব এলোমেলো হয়ে যাবে। প্রিয়ন্তী হতাশ হয়ে বসে ভাবলো,

"আচ্ছা, ওইসময় যখন নাতাশা খু*নের ইতিহাস বলল তখন উনার ভাব দেখেও মনে হয়েছে সব জানে। আমার কি একবার উনাকেই জিজ্ঞেস করা উচিত?"

যেই ভাবা সেই কাজ। প্রিয়ন্তী খাট থেকে উঠে দাঁড়ালো। এলোমেলো চুলগুলো দ্রুত বন্দি করলো হাত খোঁপায়। পরপর রুমের দরজা খুলে বেরিয়ে পড়লো।

*******

রাতের আধারে নিস্তব্ধ পুরো বাড়ি। শুধু বাইরে থেকে ঝড়ো বাতাসের শব্দ আসছে ক্ষণে ক্ষণে। প্রিয়ন্তী অস্থির কদমে গিয়ে হাজির হলো আয়মানের রুমের সামনে। কিন্তু তার রুম জনশূন্য! দরজাও খোলা। প্রিয়ন্তী উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করলো ভিতরে আয়মান আছে কি না! যখন বুঝলো আয়মান রুমে নেই তখন ত্রস্থ পা বাড়ালো ছাদের সিড়ির দিকে।

ছাদে পৌঁছে যখন দেখলো ছাদের দরজা সম্পূর্ণ খোলা, তখনই বুঝলো তার ভাবনা সঠিক। আয়মান ছাদেই আছে। প্রিয়ন্তী দুরুদুরু বুক নিয়ে প্রবেশ করলো সেখানে। অন্ধকার ছাদে কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে প্রিয়ন্তীর মনে ভয় দেখা দিলো। ঢোক গিলে আশপাশ তাকালো ও। স্বস্থি পেলো যখন ছাদের রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা কারো ছায়া দৃষ্টিগোচর হলো। তৎক্ষণাৎ সব ভুলে ভয়-ডরহীন ছুট লাগালো সেদিকে।

আয়মানের পিছে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো,

"আপনি এত রাতে ছাদে কি করছেন?"

এত রাতে ছাদে চিরচেনা মেয়েলী কন্ঠস্বর পেয়ে হকচকাল আয়মান। পিছে ফিরে হতভম্ব হয়ে পালটা প্রশ্ন করলো,

"তুমি এত রাতে ছাদে?"

প্রিয়ন্তী বলল,

"আগে আমি প্রশ্ন করেছি। তাই উত্তরটাও আগে আমি প্রাপ্য।"

আয়মান তর্কে জড়ালো না। এই মুহুর্তে তর্কে জড়ানোর মতো কোনো মন-মানসিকতা তার মধ্যে নেই। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে উত্তর দিলো,

"ঘুম আসছিলো না। তাই ছাদে এসে পড়লাম। এবার বলো, তুমি এত রাতে ছাদে কেনও?"

প্রিয়ন্তী সরাসরি জবাব দিলো,

"আমারও ঘুম আসছিলো না। আর ঘুম আসবেও না যতক্ষণ না পুরো কাহিনি জানবো!"

আয়মান ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,

"কিসের কাহিনি?"

প্রিয়ন্তী লুকালো না। রাখ-ঢাকহীন বলল,

"আপনাদের পরিবারের কাহিনি। আপনার বাবা কেনও করলো এতগুলো খু*ন?"

আয়মানের দৃষ্টি বদলে গেলো মুহুর্তে। সেখানে ভর করলো কঠোরতা। চোখ-মুখ শক্ত করে ফেলেছে ও। প্রিয়ন্তী ঘাবড়ে গেলো আয়মানের এহেন প্রতিক্রিয়া দেখে। ইতস্তত করে বলল,

"সরি! আমি আসলে এভাবে জিজ্ঞেস করতে চাই নি। আমি শুধু সত্যিটা জানতে চেয়েছিলাম।"

বলতে বলতে মাথা নিচু করে ফেলেছে প্রিয়ন্তী। আয়মানের কঠোর দৃষ্টি দ্বিধাদ্বন্দে ফেলে দিয়েছে ওকে। মনে হচ্ছে, প্রশ্নটা করে ভুল করে ফেলেছে!

খানিক বাদে আয়মানের পূর্ণবার দীর্ঘশ্বাসের শব্দে চোখ তুলে চাইল প্রিয়ন্তী। আয়মান ওর দিক তাকিয়ে বলল,

"তুমি সত্যিই জানতে চাও সব?"

উৎফুল্ল প্রিয়ন্তী উপর-নীচ মাথা ঝাঁকালো। বোঝালো সে জানতে চায়। আয়মান বলতে শুরু করলো কাহিনি। ফিরে গেলো প্রায় বিশ বছর আগেকার অতীতে..

"আজ থেকে অনেকগুলো বছর আগেকার কথা। তখন আমার বয়স হয়তো পাঁচ বা ছয় বছর। আয়ান ভাইয়া আমার থেকে দুই বছরের বড়। আর ফারহান আমার থেকে তিন বছরের ছোট ছিলো। ভীষণ ভাব ছিলো আমাদের তিন ভাইয়ের মধ্যে। সায়মার তখনও কোনো হদীস ছিলো না। সেই সময় মা-বাবার সুখের সংসার ছিলো। আমাদের ভরা বাড়ি ও বাড়িভর্তি সুখ। এই সুখে হঠাৎ বাঁধা পড়লো বাবার বদলে যাওয়ায়। বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান রেখে অন্য এক নারীতে মত্ত হলেন উনি। চৌধুরী পরিবারের একমাত্র মেয়ে রুবিনা চৌধুরী। দুই ভাইয়ের আদরের দুলালী ছিলেন উনি। তুমি জানো, এই রুবিনা চৌধুরী আর কেউ নয়। আমার বেস্ট ফ্রেন্ড পিয়াসের ফুপু ছিলো।"

এতটুকু বলে থামলো আয়মান। গভীর দৃষ্টিতে পরখ করলো প্রিয়ন্তীর অভিব্যক্তি। সে নিশ্চুপ হয়ে খুব মনোযোগ দিয়ে শুনে যাচ্ছে আয়মানের বলা কাহিনি। আয়মান ওর আগ্রহ দেখে আবার ফিরে গেলো বাকি কাহিনিতে..

"রুপের মোহে আটকে রুবিনা আন্টিকে বিয়ে করে ফেললেন উনি। চৌধুরী পরিবারের কেউ জানতো না যে বাবা বিবাহিত ও তার দুইটা ছেলেও আছে। তাই রুবিনা আন্টির জোর-জবরদস্তিতে বিয়েতে রাজিও হলেন। কিন্তু বিয়ের অনেকগুলো মাস চলে যাওয়ার পরও যখন বাবা রুবিনা আন্টিকে নিজের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করাচ্ছিলো না, তখন সন্দেহ হয় আন্টির। তিনি গোঁ ধরে বসেন আমাদের সাথে দেখা করবেনই। অগত্যা বাবা নিয়ে এলো তাকে আমাদের খান নিবাসে। আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে খারাপ দিন হয়তো ওইটাই ছিলো। এই সত্য সামনে আসার পর মা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। সবাই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলো বাবার কান্ডে। দাদি অনবরত বিলাপ করে যাচ্ছিলো, মা আর আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে। এসব দেখে রুবিনা আন্টিও থতমত খেয়ে চুপ হয়ে গেলেন। পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার মুখ অব্দি ছিলো না তার! কারণ উনি নিজেই বিয়েটা করার জন্য পরিবারকে চাঁপ দিয়েছিলেন। তবে রুবিনা আন্টি থামে নি। উনি ফোন করে নিজের ভাইদের জানিয়েছিলেন, তিনি সতীনের সংসারে আগমন করেছে। এতেই ক্ষেপে গেলো তার দুই ভাই ও ভাবি। রুবিনা আন্টির বড় ভাই ও ভাবি রওনা দিলো আমাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে। কারণ এই বিয়েটা যথাযথ নয়। প্রথম স্ত্রী জীবিত আছে, এবং তারা বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ আছে, এমন হলে দ্বিতীয় বিয়েটা উপযুক্ত না। এসব নিয়ে বিরাট দ্বন্দ্ব হলো দুই পরিবারে। তারপর মা তো আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে লড়াই করে গেলেন। কিন্তু হাল ছাড়লো রুবিনা আন্টি। উনি সহ্য করতে না পেরে আ*ত্মহ*ত্যা করলেন। এটা খু*ন না হলেও বাবা পরোক্ষভাবে উনার মৃ*ত্যুর জন্য দায়ী। ভাইয়েরাই বা বোনের মৃ*ত্যু মেনে নিবে কেনও? উনাদের রাগটা সম্পূর্ণ যৌক্তিক মানি আমি। কেন না, আমাদেরও দুটো বোন আছে। সারা-সায়মার সাথে যদি এমন কখনো হতো, আমরাই কি ছেড়ে দিতাম? রুবিনা আন্টির মৃ*ত্যুর পর আরেক দ্বন্দ্ব ঘটলো। সেইদিন সবকিছু শেষ করতে এক্সিডেন্টের নামে রুবিনা আন্টির বড় ভাই-ভাবিকে হত্যা করলো বাবা। সাথে এতিম করলো তাদের ছোট্ট মেয়েটাকেও। মেয়ে, ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতনী হারিয়ে শোকে স্ট্রোক করে মারা গেলো পিয়াসের দাদিও। বিশাল এক হত্যাযজ্ঞ শেষে চৌধুরী পরিবার সম্পূর্ণ নিঃশেষ। খুব বেশিদিন তারা থাকলো না অভিশপ্ত শহরে। কিছুদিনের মাঝেই চট্টগ্রাম ছাড়লো। চৌধুরী পরিবারের মানুষ এখনও আছে। তবে ঢাকাতে। রুবিনা আন্টির ছোট ভাই-ভাবি আছে। আর তাদের ছেলে-মেয়ে। ওই রুবিনা আন্টির ভাতিজা পিয়াসই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। দুই পরিবারের হাজারও শত্রুতা আমাদের বন্ধুত্বে প্রভাব ফেলতে পারে নি। ওহ হ্যাঁ, চৌধুরী পরিবারের আরেকজন সদস্য আছে। পিয়াসের বউ, স্বজনী ভাবি।"

ঝড়ো হাওয়ার প্রকোপে শিরশির করে কাঁপছে শরীর। তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই প্রিয়ন্তীর। এত বড় কাহিনি মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় শুনে গেলো ও। সুন্দর সাবলীলভাবে শুনে গেলো তাদের পরিবারে নিঃশেষের করুণ ইতিহাস। ভাবতেই অবাক লাগলো, কি অবলীলায় সে শুনে গেলো নিজের পরিবার ধ্বংসের কাহিনি! প্রিয়ন্তী এক নজরে চেয়েই আছে আয়মানের দিকে। তার কৌতুহল এখনও মিটে নি। আয়মান ওর এরুপ দৃষ্টি দেখে প্রশ্ন করলো,

"এভাবে কি দেখছো? সব কাহিনি তো বললাম! আরও কিছু জানতে চাও নাকি?"

প্রিয়ন্তী বলল,

"হ্যাঁ জানতে চাই। নাতাশা বলেছিলো আপনি নাকি আপনার বেস্ট ফ্রেন্ডের বোনকে পছন্দ করেন। কথাটা কি সত্যি?"

এতক্ষণ গম্ভীর মুখে থাকলেও এবার হাসি ফুটলো আয়মানের মুখে। বলল,

"এটা জানার জন্য এত কৌতুহল কেনও তোমার?"

প্রিয়ন্তী বিরক্ত ভঙ্গিতে বলল,

"আরে বলুন না!"

আয়মান সরাসরি জানালো,

"না। পিয়াসের বোনকে আমি পছন্দ করি না। আমি ওইসময়ও বলেছি আমি ওকে কোনোদিন দেখিও নি। তবে ফারহান এদেশে ছিলো তাই হয়তো দেখেছে কোনো একসময়। তখনই প্রেমে পড়েছিলো। কিন্তু প্রেমে পড়লেও প্রেমটা অসম্পূর্ণই থাকতো। শত্রুতা ভুলে দুই পরিবারের মিলে যাওয়া কোনোকালেই সম্ভব নয়। তাই আমি চাই-ও নি ওর বোন কোনোদিন আমার সামনে আসুক।"

প্রিয়ন্তী হাসলো। নিজের প্রতি তাচ্ছিল্যের হাসি। অন্ধকারে তার চোখের নোনাজলগুলো দেখা যাচ্ছে না। সে কাতর কন্ঠে প্রশ্ন করলো,

"আর ওই মেয়ে যদি আপনাকে ভালোবাসে, তো?"

আয়মান হাসিতে উড়িয়ে দিলো এই সম্ভাবনা। বলল,

"এটা কোনোদিনও সম্ভব নয়। ভালোবাসা ভুল নয়। তবে ভুল মানুষকে ভালোবাসা ভুল। পরিবার অথবা ভালোবাসা, এই দুটোর মধ্যে মানুষ কোনো একটাকে কি বেছে নিতে পারে? আর পারলেও সেটা পিয়াসের বোনের জন্য না। ওদের পরিবার বহু আগেই একটা মেয়ে হারিয়েছে। আমি কোনোদিনও চাই না, অন্য মেয়েটিও তাদের জীবন থেকে হারাক। এই মেয়েটিই তো তাদের খুশির সম্বল। সবসময় পরিবারের সাথে জুড়ে থাকুক!"

প্রিয়ন্তী বিস্মিত আয়মানের কথায়। গভীরভাবে ভেবে দেখলো আয়মানের বলা কথাগুলো। আসলেই ঠিক বলেছে ও! প্রিয়াকে হারিয়ে তাদের পরিবার আজন্ম আফসোসে ডুবেছে। এখন প্রিয়ন্তী পারবে না ওদের জীবন থেকে হারাতে। জুড়ে থাকবে সবসময়। এতে নিজের ভালোবাসা ত্যাগ করতে হলে, তাতেও প্রস্তুত!

আয়মান ওকে চুপ থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করলো,

"আর কোনো প্রশ্ন?"

ভাবনায় ডুবে থাকা প্রিয়ন্তী নড়ে-চড়ে দাঁড়ালো আয়মানের প্রশ্নে। মাথা নিচু করে বলল,

"না।"

আয়মান হেসে বলল,

"গুড। সব কাহিনি শোনা হয়েছে! এবার তো তাহলে ঘুম আসবেই তাই না? ঘুমিয়ে পড়ো গিয়ে।"

প্রিয়ন্তী মাথা নেড়ে সায় জানালো। কাষ্ঠ হেসে বলল,

"হ্যাঁ যাচ্ছি। আরেকটা কথা বলার ছিলো আপনাকে।"

আয়মান শুধালো,

"কি?"

প্রিয়ন্তী উত্তর দিলো,

"কাল বাড়ি ফিরে যাবো আমি। এখানে তো সব সমস্যা সমাধান। আমার আর থাকার প্রয়োজন নেই।"

আয়মান বাঁধা দিলো না। বলল,

"আচ্ছা যেও। খুব জলদিই আবার ফিরবে এই বাড়িতেই।"

প্রিয়ন্তী চোখে টলমল পানি নিয়েই দরজা পর্যন্ত গেলো। আয়মানের শেষ কথাটা শুনে থেমে গেলো সেখানেই। ফিরে চাইল তৎক্ষণাৎ! অন্তর থেকে ভেসে এলো হাহাকার ধ্বনি,

"আপনার কাছে আর আমার কোনোদিনই ফেরা হবে না!"

অথচ উপরে ধরে রাখলো ভিতর থেকে টেনে-হিচড়ে আনা হাসি। কোনোমতো বলল,

"হুম।"

পরপর বেরিয়ে গেলো ছাদ থেকে। আয়মান ওর যাওয়ার পানে তাকিয়ে বলল,

"আমাদের বাড়িতে তোমার আজকের রাতটা গেস্ট রুমে কাটানো শেষ রাত। প্রস্তুত থেকো! আমাদের বাড়িতে তোমার এর পরের রাতটা আমার রুমে হবে।"

স্নিগ্ধ প্রেমের মায়া গল্পটি তিয়াশা চৌধুরী-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক থ্রিলার গল্প