সূর্য ডোবার আগে গোধূলি বেলায় নাতাশা এসে হাজির হয়েছে তার খালার বাড়িতে। লিলির কথা শুনে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসেছে এখানে। কিন্তু এসে তার খালাকে একদম সুস্থ-স্বাভাবিক দেখে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। পরমুহুর্তে রেগে বলল,
"খালামনি, তুমি তো একদম ঠিক আছো। তাহলে মিথ্যা বলে আমাকে আনালে কেনও?"
তার খালামনি নিরুদ্বেগ উত্তর দিলো,
"সত্যি বললে তুমি আসতে না। আয়মানের ঘোরে ডুবে রয়েছো তুমি।"
নাতাশা কন্ঠে বিরক্তি ঢেলে বলল,
"এনগেজমেন্টটা নিয়ে কি সমস্যা তোমাদের? কেনও বাঁধা দিচ্ছো?"
তখন সেখানে ধীর পায়ে হেঁটে প্রবেশ করলো এক বৃদ্ধা। চুলে পাক ধরলেও তেমন চোখে পড়ে না ৷ সফেদরঙা চুলগুলো অধিকাংশ মেহেদী দিয়ে লাল রঙে রাঙানো। সুস্থির কদমে হেঁটে এসে চেয়ারে বসলেন তিনি। বললেন,
"নিজের মামার খু*নীর ছেলের বউ হতে চাইছো? আয়মানের বউ হওয়ার সপ্ন দেখার আগে এতটুকু মনে রেখো, তার বাবা তোমার মামার খু*নী।"
নাতাশা এসে বৃদ্ধার পায়ের কাছে বসলো। মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
"খু*নটা আয়মানের বাবা করেছে। তাহলে আয়মানের বউ হতে সমস্যা কোথায় দেখছো?"
বৃদ্ধার উত্তর দেয়ার আগে ধমকে উঠলো নাতাশার খালামনি। তেজী স্বরে বললেন,
"তুমি তোমার উদ্দেশ্য ভুলে যেও না নাতাশা। তুমি ওদেরকে ধ্বং*স করতে গিয়েছিলে। আয়মানকে বিয়ে করে সংসার পাঁততে নয়!"
নাতাশা উঠে দাঁড়িয়ে বোঝাতে চেষ্টা করলো,
"খালামনি, আমি তো বিয়ে করছি না। শুধু ওদের পরিবারে ঢুকতে চাইছি। যেনও আমার কাজটা সহজ হয়ে যায়।"
"সবকিছু এত সহজ নয়, নাতাশা। ওরা তোমাকে এত সহজে সুযোগ দেবে না। শুধু শুধু ওদের ফাঁদে পা দিতে যাচ্ছো তুমি।"
নাতাশা বলল,
"আয়মানের সাথে এনগেজমেন্টটা হলে সমস্যা কোথায়? ও তো আর কাউকে খু*ন করে নি! তাহলে ওকে মারার প্ল্যান কেনও করলাম আমরা?"
বৃদ্ধা উত্তর দিলো,
"আমি আমার ছেলের জন্য এতগুলো বছর কষ্ট পেয়েছি। শুধু জুনাইদের জন্য আমি ছেলেহারা হয়েছি। মা হয়ে ছেলের মৃত্যু দেখা কত কষ্টের সেটা ওদেরও বুঝতে হবে। টাকা দিয়ে তো আইনের হাত থেকে বেঁচে গেলো। আমাদের হাত থেকে বাঁচবে না। পারভিন তো জুনাইদেরই বউ। আমি যেভাবে ছেলে হারানোর শোকে জীবিত লাশ হয়েছি, সেরকম আমি পারভিনকেও দেখতে চাই। নাসরিন তো উপলব্ধি করেই ফেলেছে, ছেলে হারালে কেমন লাগে। এবার পারভিনকে কষ্ট পেতে দেখলে আমি শান্তি পাবো।"
নাতাশা স্তব্ধ দাঁড়িয়ে থেকে বলল,
"তাহলে কি আয়ান, আয়মান দু'জনকেই মে*রে ফেলবো?"
নাতাশার খালামনি একপ্রকার ছুটে এসে দাঁড়ালো নাতাশার সামনে। ক্রোধে অগ্নিদৃষ্টি হেঁনে বলল,
"ফারহানকে মা*রার সময় হাত কাঁপে নি, তো আয়মানকে মারতে কেনও এত ভাবছো? শেষ করে দাও। একে একে শেষ করে দাও খান বংশকে!"
নাতাশা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে ধাতস্থ করলো। বলল,
"ঠিক আছে। আজ রাতেই হবে আয়মানের শেষ রাত। আমি যাচ্ছি ওই বাড়িতে।"
*******
সায়মাকে চুপ দেখে আয়মান মুখ তুলল ওর দিকে। উঠে এসে বোনদের সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো,
"কি হয়েছে?"
সারা-সায়মার দুশ্চিন্তাগ্রস্থ মুখশ্রী নজর এড়ালো না আয়মানের। কিছু একটা ধারনা করে বলল,
"কোনো সমস্যা হয়েছে?"
সায়মা বলল,
"ভাইয়া, নাতাশা রুমে নেই।"
আয়মান ভ্রু কুঁচকে বলল,
"রুমে নেই মানে?"
সারা বলল,
"রুমে নেই মানে আমাদের বাড়িতেই নেই। আমি তন্নতন্ন করে সবজায়গা খুঁজে ফেলেছি, কোথাও নেই।"
আয়ান বলল,
"আরেহ! ও নিজেই তো এনগেজমেন্ট নিয়ে এক্সাইটেড ছিলো। তাহলে আগ-মুহুর্তে কই হারিয়ে গেলো?"
দুশ্চিন্তা জেঁকে ধরেছে সবার মস্তিষ্ক। সায়মা বক্তব্য অসম্পূর্ণ রেখেই স্টেজ ছেড়েছে। একে একে সবাই নেমেছে সেখান থেকে। আশেপাশে শুরু হয়েছে কানাঘুঁষা, কনে কোথায় গেলো? পাশ থেকে আসা একটা বাক্য কান এড়ালো না আঞ্জুম খানেরও,
"আয়মানের বাগদত্তাকে তো আনলো না। অনুষ্ঠানে আসার পর থেকে একবারও দেখি নি। আর এখন ওদের অর্ধেক কথা বলে নেমে যাওয়া। মনে হচ্ছে, কনে ভেগেছে!"
এদের বক্তব্য অস্থির হয়ে আয়ানদের কাছে ছুটে এলো আঞ্জুম খান। এদিক-ওদিক থেকে সবার কথা শুনে একে একে এলো পরিবারের সব সদস্য। সারা সবাইকে ঘটনা জানানোর পর দুশ্চিন্তায় পড়লো সবাই। পারভিন বলল,
"এই মেয়ের মতিগতি তো পুরোই ঠিকঠাক ছিলো। ও যা চাইছিলো, তাই তো হচ্ছিলো। তাহলে শেষ মুহুর্তে কই পালালো?"
আঞ্জুম খান বললেন,
"এতগুলো মানুষকে আয়মানের এনগেজমেন্ট উপলক্ষে দাওয়াত দিয়েছি। এরা সবাই কানাঘুঁষা শুরু করেছে। কনেকে হাজির না করতে পারলে এরা কতপ্রকার কথা শুনাবে, একবার ভেবে দেখেছো?"
আয়মান বিরক্ত হয়ে বলল,
"এদিকে নাতাশাকে পাচ্ছি না, আর তুমি আছো সবার কথা নিয়ে? মানুষের মুখ আছে, তারা বলবেই।"
আঞ্জুম খান নাতিকে ঝাঁড়ি মেরে বললেন,
"তোমার ওসব লম্বা লম্বা ডায়লগ মেহমানরা শুনবে না। তারা শুধু তোমার হবু বউ দেখতে চাইবে। তোমার কথায় এই আয়োজন হয়েছে, এবার তুমিই সামলাও। মানুষের কথা আমরা শুনতে পারবো না। তুমি কনেকে হাজির করবে, যেখান থেকে পারো। কাকে হাজির করবে সেটা তোমার ব্যাপার!"
আয়মান হতাশ হলো এইসব কথায়। সবাই তো ওর উপর ছেড়ে দিলো। এখন কোথা থেকে হাজির করবে ওর বউ?
*******
বাড়িতে এতকিছু হয়ে যাচ্ছে অথচ প্রিয়ন্তী সবকিছু থেকে অজানা। পিয়াসের কল আসায় ছাদে উঠে গিয়েছিলো বেশ কিছুক্ষণ আগে। সেখান থেকে নামার আগেই এতকিছু ঘটে গেছে। কথা বার্তা শেষে যখন নামলো তখন জটলা শেষ। সায়মা স্টেজে উঠে গুছিয়ে বলেছে, কনের আসতে একটু সময় লাগছে। কিন্তু খুব দ্রুতই তাদের সামনে হাজির হবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে।
আয়মান এই সুযোগে লাগাতার কল লাগাচ্ছে নাতাশাকে। কিন্তু প্রত্যেকবারই বন্ধ বলছে। তবুও আয়মান ট্রাই করেই যাচ্ছে।
বারবার নাতাশাকে ফোন করার দরুণ আয়মানের ফোন ব্যস্ত। ম্যানেজার সাহিল কিছু দরকারে আয়মানকে বারবার ফোন করেও পাচ্ছে না। প্রত্যেকবারই ব্যস্ত দেখাচ্ছে। শেষে না পেরে প্রিয়ন্তীকে ফোন দিলো। প্রিয়ন্তী ফোন রিসিভ করে হাসিমুখে বলল,
"জি সাহিল ভাইয়া, বলুন।"
"প্রিয়ন্তী, একটু আয়মান স্যারকে ফোনটা দিতে পারবে? খুব দরকার। আমি বারবার ফোন করেও পাচ্ছি না।"
প্রিয়ন্তী আশপাশ তাকিয়ে দেখলো আয়মান স্টেজে দাঁড়িয়ে কাউকে কল করার চেষ্টা করছে। ও বলল,
"হ্যাঁ আমার সামনেই স্টেজে দাঁড়ানো উনি। এখনই দিচ্ছি!"
প্রিয়ন্তী শুধু স্টেজে উঠে ফোনটা হাতে নিয়ে আয়মানকে পিছন থেকে ডাকতে চাইলো,
"স্যার..."
তার কথা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই পুষ্পবর্ষণ শুরু হলো আশপাশ থেকে। আচমকাই পুরো হলরুম থেকে হাততালির শব্দ ভেসে আসলো কর্ণকুহরে। প্রিয়ন্তী ভড়কে গিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতেই ভুলে গেলো এমতাবস্থায়।
আয়মান পিছে ঘুরে ওর দিকে তাকালো। অনুষ্ঠানে আসে নি শুনার পর হঠাৎ এভাবে দৃষ্টিসম্মুখে দেখে অবাক হয়ে উচ্চারণ করলো,
"প্রিয়ন্তী, তুমি?"
হলরুমজুড়ে হাততালির পাশাপাশি সবার ভিন্ন ভিন্ন কথা ভেসে আসছে। যেই মহিলাটি একটু আগে কনে না আসা নিয়ে কটুক্তি করেছে, তিনিই বললেন,
"সত্যিই, আয়মানের পছন্দ আছে বলতে হবে! মেয়েটা ভীষণ সুন্দর। আয়মানের সাথে মানিয়েছেও ভালো।"
এছাড়া আরও নানান কথা। প্রত্যেকটি কথাই আয়মানের কান অব্দি পৌঁছেছে। দৃষ্টি ঘুরিয়ে সামনে তাকাতেই দেখলো বিমূঢ় নেত্রে দাঁড়িয়ে তার সকল পরিবার। আয়মান বুঝলো সবাই প্রিয়ন্তীকেই তার বাগদত্তা ভেবে নিয়েছে। এই মুহুর্তে যদি বলে প্রিয়ন্তী তার বাগদত্তা নয় তো বিশাল হাঙ্গামা হয়ে যাবে। তার থেকে বড় কথা, নাতাশাকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আয়মান কিছু একটা ভেবে রিং বক্স থেকে রিং তুলে কোনো কথাবার্তা ছাড়াই প্রিয়ন্তীর ডান হাত ধরে ফেলল। বিনা বাক্যব্যয়ে হাতটা সবার সামনে তুলে হুট করে রিং পড়িয়ে দিলো অনামিকা আঙুলে।
আশপাশ থেকে পুনরায় শুরু হলো পুষ্পবর্ষণ। সাথে ঘনঘন তালিবর্ষণের শব্দ। পরিবারের প্রত্যেকটা লোক বিস্ময়ে বিশাল এক হা করে স্থির দাঁড়িয়ে।
শুধুমাত্র উৎফুল্ল হয়ে ফুল ছিঁটাতে দেখা যাচ্ছে সারা-সায়মাকে। সায়মা সারাকে ইশারায় বলল,
"প্ল্যান সাকসেস!"
প্রিয়ন্তী ঘটনার আকস্মিকতায় স্থির চোখে আয়মানের দিকে তাকিয়ে আছে। মস্তিষ্ক অসাড় হয়ে উত্তর দিতে ভুলে গেছে। আয়মান ওর সামনে তুড়ি বাজিয়ে বলল,
"এভাবে কি দেখছো? আগে দেখো নি আমাকে?"
প্রিয়ন্তী হুশে এসে নড়ে-চড়ে দাঁড়ালো। পরপর নিজের ডানহাতের অনামিকা আঙুল চোখের সামনে ধরে পরখ করলো সপ্ন দেখছে না সত্যি? এরপর আয়মানের দিকে তাকিয়ে রাগান্বিত স্বরে বলল,
"এটা কি হলো?"
আয়মান নিরুদ্বেগ উত্তর দিলো,
"যা হওয়ার তাই হলো। তুমি আমার হবু মিসেস হয়ে গেছো।"
প্রিয়ন্তী কটমট করে বলল,
"মানি না। এই এনগেজমেন্ট আমি মানি না। এক্ষুনি চেঁচিয়ে সবাইকে বলবো, আপনি না বলে আমাকে আংটি পড়িয়েছেন।"
"বলে কিছুই হবে না। যা হওয়ার তা হয়ে গেছে।"
তাদের এই ধীরকন্ঠে বলা কথোপকথনে স্টেজের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন ভদ্রমহিলা বললেন,
"তোমরা দুইজন এখানে দাঁড়িয়ে কি বিড়বিড় করছো? মা, তুমিও আংটিটা পড়াও।"
প্রিয়ন্তী বলতে চাইলো,
"এই এনগেজমেন্ট... "
আয়মান পুরোটা বলার আগেই তাকে থামিয়ে দিলো। শক্ত করে প্রিয়ন্তীর হাত চেঁপে ধরে বলল,
"আসলে, আমার বাগদত্তা ভীষণ লজ্জাবতী। মানুষের সামনে খুব কম যায়। আপনাদের সামনেও থাকতে ইতস্তত করছে। আপনারা আমার বউ দেখতে চাইছিলেন, দেখে নিয়েছেন। এবার আমাদের একা থাকতে দিন। থ্যাংকস!"
বলে আয়মান ওর হাত টেনে স্টেজ থেকে নামলো। প্রিয়ন্তী নামলো ওর পিছু পিছু৷ সিড়ি বেয়ে উঠার সময় অনবরত চেষ্টা করতে লাগলো হাত ছাড়ানোর কিন্তু আয়মান ছাড়লো না। সোজা ওর রুমে এনে একপ্রকার ছুড়ে মারলো ভিতরে। গম্ভীর কন্ঠে বলল,
"সবাই জেনে গেছে তুমি আমার বাগদত্তা, তো আমার বাগদত্তা সেজেই থাকো। কোনো ঝামেলা করার চেষ্টা করবে না। যতক্ষণ না সব মেহমান চলে যাচ্ছে, তুমি এখানেই থাকবে!"
*******
হঠাৎ এইভাবে আয়মানের সাথে প্রিয়ন্তীর এনগেজমেন্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবারের সবাই হতচকিত। আয়মানের প্রিয়ন্তীকে আংটি পড়ানোর সময় নিষ্পলক চেয়ে ছিলো ওদের দু'জনের দিকে। সব শেষে তালির শব্দ শুনে নিজেদের টেনেটুনে ঘোর থেকে বের করেছে সবাই। এরপর আয়মানের প্রিয়ন্তীকে টেনে নেওয়ার দৃশ্যে দেখলো বড়বড় চোখে। প্রিয়া সেটা দেখে আয়ানকে বলল,
"আপনার ভাই তো ভীষণ ফার্স্ট! এনগেজমেন্ট হতে না হতে টেনেটুনে রুমে নিয়ে চলে গেলো?"
আয়ান বলল,
"আমিও তো বিয়ের দিন তোমাকে অজ্ঞান করে তুলে নিয়ে গেছিলাম। কেনও জানো? কারণ অজ্ঞান না করলে তুমি চেঁচামেচি করতে। আজ প্রিয়ন্তীও যেন সেই সুযোগ না পায় তাই আয়মান ওকে রুমে নিয়ে বুঝিয়ে বসিয়ে রাখবে। বুদ্ধি আছে আমার ভাইয়ের!"
প্রিয়া উত্তর দিলো না। আপনমনে বিড়বিড় করে বলল,
"এবার তাহলে প্রিয়ন্তীরও প্রস্তুতি নেয়া উচিত। আমার মতো ওকেও নিমপাতার তেঁতো জুসের সাথে থাকতে হবে!"
তখন সেখানে মিষ্টির প্লেট হাতে হাজির হলো সায়মা। যুদ্ধজয়ের হাস্যবাণ ওষ্ঠজুড়ে। প্লেট আয়ানের দিকে বাড়িয়ে বলল,
"মিষ্টি খাও ভাইয়া। আয়মান ভাইয়ার বউ পেয়ে গেছি!"
আয়ান গম্ভীর কন্ঠে বলল,
"বুদ্ধিটা তোর তাই না?"
সায়মা অবাক হওয়ার ভান করে বলল,
"কোন বুদ্ধির কথা বলছো ভাইয়া?"
আয়ান ধমকের সুরে বলল,
"একদম নাটক করার চেষ্টা করবি না। প্রিয়ন্তী স্টেজে উঠার পর তুই আর সারা ইচ্ছে করেই ফুল ছিটিয়েছিস, যেনও সবাই বুঝে প্রিয়ন্তীই আয়মানের বাগদত্তা।"
সায়মা হাসি টেনে বলল,
"বুঝতে পেরেছো তাহলে। যাক, আমাদের সাথে থেকে থেকে ভাইদেরও বুদ্ধি খুলছে!"
"তোর মজা মনে হচ্ছে? ইচ্ছে করে কাজ বাঁড়িয়ে এখন মিষ্টির প্লেট হাতে ধেই ধেই করে নেচে বেড়াচ্ছিস?"
সায়মা একটা মিষ্টি প্রিয়ার মুখে ঢুকিয়ে বলল,
"তুমি তো ধুপধাপ তুলে বিয়ে করে ফেললে। তোমার বিয়েতে তো ধেই ধেই করে নাচা হলো না। তাই আয়মান ভাইয়ার এনগেজমেন্টেই নেচে নিচ্ছি। কে বলতে পারব, ভাইয়াও যদি ধুপধাপ বিয়ে করে ফেলে? তাহলে ভাইদের বিয়ের জন্য শিখে রাখা নাচগুলো বিফলে যাবে না?"
আয়ান কিছুক্ষণ রাগী দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো সায়মার দিকে। কিন্তু সেই কৃত্রিম রাগ বেশিক্ষণ ধোপে টিকলো না। হেসে ফেলল সেও। বলল,
"ভালোই বুদ্ধি করেছিস। ফুল ছিটিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সবাইকে বুঝিয়ে দিলি প্রিয়ন্তীই আয়মানের বাগদত্তা। বেচারা আর ছুটে যাওয়ার কোনো রাস্তাই পেলো না!"
*******
সন্ধ্যা এক জায়গায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখছে সবার আনন্দ। সবাই হাসিমুখে সবটা মেনে নিয়ে আপ্যায়ণ করছে। প্রিয়ন্তীর ব্যাপারটা নিয়ে কেউ বেজার হয় নি বরং সবাইকে খুশি হতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু খুশি হতে পারছে না সন্ধ্যা। মিশ্র অনুভূতি জেগেছে মনে। সন্ধ্যা এতদিন বেশ বুঝেছে প্রিয়ন্তীর মনের অবস্থা। ও কিছু স্বীকার না করলেও ওর মনে আয়মানের জন্য কিছু একটা আছে৷ এজন্য প্রিয়ন্তীর কথা ভেবে খুশি হচ্ছে। পরমুহুর্তেই যখন খেয়ালে আসছে সবাই সত্যিটা জানতে পারলে কি হবে? তখনই শরীর কাঁটা দিয়ে উঠছে শঙ্কায়। খুশি ও ভয়ের মিশ্র অনুভূতিতে শিউরে উঠছে শরীর। হঠাৎ পারভিনের কিছু কথা ভেসে এলো কানে,
"প্রিয়ন্তীকে আমার এমনিতেও পছন্দ ছিলো। যদি আল্লাহ চায়, তো ওদের বিয়ে হলেও আমার কোনো সমস্যা নেই। হয়তো আল্লাহই ওদের জোড়া লিখে পাঠিয়েছেন। ভাগ্যে ছিলো, তাই এভাবেই জুড়ে গেছে।"
সন্ধ্যা এই কথা শুনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
"ভাগ্য না হয় ওদের জুড়ে দিয়েছে। কিন্তু পরিবার যদি ওদের ভেঙে দেয়?"