হাস্যোজ্জল মুখে বার কয়েক কঙ্কাকে ডাকার পরও যখন মেয়েটি ফ্লোর থেকে উঠে দাড়াচ্ছিলো না,তখন কোমড়ে হাত গুঁজে একটু এগিয়ে গেলো শহর।কোনো মতে হাসি থামিয়ে বলতে নিলো...
"কি হলো,,আজ কি ফ্লোরেই থাকার প্ল্যান...."
নাহ,সম্পূর্ণ কথা খানা শেষ করতে পারলো না শহর।তার আগেই ফ্লোরে কাতরাতে থাকা কঙ্কাকে দেখে চোখ দুটি কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো তার।এ কি হাল হলো কঙ্কাবতীর?
অস্বাভাবিক ভাবে চোখ দুটো বড় বড় হয়ে উল্টে আছে কঙ্কার।সারাটা শরীর কাঁপছে অদ্ভুত ভাবে।জোর করে নিজেকে একটু নড়ানোর চেষ্টা করেও যেন পারছে না কঙ্কা।মুখ দিয়ে নিশ্বাস নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টায় নিজেকে খুঁজে পাওয়াটাই যেন দায় হয়ে পড়ছে।আর পারছে না সে।বারবার বক্ষস্থল ঠেলে উঠার চেষ্টাটাও যেন বৃথা।
শহর হতভম্ব হয়ে ছুটে গিয়ে বসলো কঙ্কার কাছে।হাতে, মুখে, ঘাড়ে বারবার ধরে নিয়ে মেয়েটার কম্পন থামানোর চেষ্টা করলো,অস্থির হয়ে বারবার বলতে লাগলো...
"কঙ্কাবতী,,কি হয়েছে তোমার।এমন করছো কেন??এই,,দেখি??বেশি ভয় পেয়েছো??কঙ্কাবতী?"
কঙ্কার কোনোরূপ পরিবর্তন হলো না।মুখ দিয়ে কথাও বের হচ্ছে না।জিম খিচিয়ে ফ্লোর আকড়ে ধরার চেষ্টা করলো নিজের হাতের আঙুল দিয়ে,তাও পারছে না। চোখের দৃষ্টি জোড়াও সেই আগের মতো বড় বড় করে উপরের দিকে নিবদ্ধ। পারছে না একটি বার তার শহর স্যারের দিকেও তাকাতে।এ কেমন যন্ত্রণা, এতো না সইতে পারা যন্ত্রণা তো কখনো পায়নি কঙ্কা।আজ কেন তার শহর স্যারকে হারানোর ভয় এতোটা কাবু করেছে তাকে?
শহর দিশেহারা হয়ে এইটা সেইটা কঙ্কার হাতের মুঠোয় দেওয়ার চেষ্টা করছে।কিন্তু কঙ্কাবতীর হাতের মুঠ এতোটা শক্ত হয়ে আছে যে,শহরের শক্তিও হার মেনে যাচ্ছে তার কাছে।
উদ্বিগ্ন কন্ঠে বার বার বলতে লাগলো...
"কঙ্কাবতী,,এই কঙ্কাবতী?ভয় পাচ্ছো তুমি?ভয় পেও না,আমি আছি তো,,তাকাও??দেখ আমি আছি।ভয় পেও না আর??এই কঙ্কা??"
কানে কথাটা হয়তো গেলো কঙ্কার,নাকি যায়নি? তবে একটু খানি চোখের মনি গুলো ঘুড়ানোর চেষ্টা করলো,কিন্তু পারলো না।শহর স্যারকে দেখার স্বস্থি পাওয়ার আগেই সারা শরীর নিস্তেজ হয়ে এলো তার।কম্পন থেমে গেলো ধীরে ধীরে।চোখ জোড়া স্বাভাবিক হওয়ার বদলে বুজে নিলো একদম।শান্ত হলো আবার এক কঙ্কাবতী।
শহর তাকিয়ে দেখলো কঙ্কাবতীর নিস্তব্ধতা। হুট করেই মাথা ভার করছে শহরের।কি হলো কঙ্কাবতীর?চোখ কেন বন্ধ করলো,কথা কেন বলছে না সে?
গালে কয়েকবার চাপড় দিয়ে ডেকেও লাভ হলো না কোনো।অবশেষে দিক বিদিক ভুলে কঙ্কাবতীর নিস্তেজ শরীরটা তুলে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরলো শহর।ঘনগন নিশ্বাস পড়ছে তারও।কি করবে সে এখন? কি করে কঙ্কাকে ঠিক করবে?ওর কিছু হয়ে গেলে? না না,,কি সব ভাবছে শহর,সময়টা ভালো না।
নিজেকে কোনো মতে শান্ত করে পাঁজা কোলে তুলে নিলো কঙ্কাকে।দেরি না করেই রওনা দিলো হসপিটালের উদ্দেশ্যে।
------
"অতিরিক্ত ভয়ের কারনে পেসেন্টের এমনটা হয়েছে।মিনি স্ট্রোক বলা যায় কিছুটা।হার্ট এবং ব্রেইনে একসাথেই ইফেক্ট পরেছে।"
ড. সাদাফের মুখে এমন কথা শুনে চুপ করে রইলো শহর।ভেতর ভেতর নিজের প্রতি চরম ঘৃনাটা হচ্ছে আজ।কেন করতে গেলো এমন মজা সে?
নিজের চুল খামছে ধরে ভার কন্ঠে বললো...
"আমি জানতাম না কঙ্কাবতীর ভুতে এতটা ভয়।"
কথাটায় ড. সাদাফ বাঁধা দিয়ে বললো...
"নো নো মি.শেহেরিশ।উনার ভুতে যতটা ভয়,তার থেকেও ভয় বেশি কাউকে হারিয়ে ফেলার।দ্যাট ওয়ান পার্সন ইজ হার শহর স্যার।আই মিন আপনি।"
ভ্রু কুঁচকে এলো শহরের।কি বলতে চাইছে ড. সাদাফ? শহরের অবাকতা দেখে ড. সাদাফ আবার বলে উঠলেন...
"আপনি যেটা বলেছেন বা ভাবছেন সবই সত্য।পরিস্থিতিটা এমন যে আপনি, আমি সবাই এটাই ভাববো যে উনি ভুতের ভয়টা পেয়েছে।বাট একটু আগে জ্ঞান ফেরার পর তিনি সবার আগে শহর স্যারকে খুঁজছিলেন। আমরা উনার ট্রমাটাইজেশন থেকে যতটা জানতে পারলাম,আপনার তৈরি করা পুতুলটির বড় বড় দাঁত, মুখ থেকে চুইয়ে চুইয়ে লাল রং পড়ছিলো পেসেন্টের মুখের উপর,যেটা সে রক্ত হিসেবেই ভেবেছে আপনি যেটা চেয়েছিলেন।তবে ঐ সময় যদি সে আপনাকে পাশে পেতো,তাহলে হয়তো শুধু ভুতের ভয়টাই পেতো,এতটা সিরিয়াস হতো না।কিন্তু পাশে খুজেও যখন আপনাকে পায়নি,তখন সে ভেবে নিয়েছে ভুতটি আপনাকেও মে'রে ফেলেছে এবং ওটার মুখ থেকে চুইয়ে চুইয়ে আপনারই রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।ফর দিস থিংকিং এখন তার এই অবস্থা। সো বলতে পারেন উনার ট্রমাটা ভুতের থেকেও বেশি আপনাকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে।"
সবটা যেন শহরের মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যে মেয়েটা এত কিছু ভেবে ফেললো।কি করে? নিজের পা জোড়া কাপছে শহরের।দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে পাশে থাকা চেয়ারে বসে পড়লো সে।কি করবে,কি বলবে,আব্বু আম্মুকে জানানো উচিৎ কি না,কিছুই বুঝতে পারছে না শহর। ডাক্তারকে আর কি বলবে তাও মাথায় আসছে না।
ভাবনার মাঝেই হঠাৎ কঙ্কার কেবিন থেকে একজন নার্স তারাহুরো করে এসে ডক্টরকে ডেকে নিয়ে গেলো। বিষয়টা চোখে পড়তেই শহরও তারাহুরো করে ছুটে গেলো সেদিকে।কেবিনে পা রাখতেই দেখলো বিছানায় কঙ্কাবতী সেই তখনকার মতো কাতরাচ্ছে।চোখ মুখ উল্টে,বারবার চেষ্টা করছে কিছু বলার,কিন্তু পারছে না।হাত পায়ের অতিরিক্ত কম্পন থামাতে তিনজন নার্স মিলে তাকে জোর করে চেপে ধরে রেখেছে বেডে।
শহর হত-বিহবল হয়ে রইলো আবার এমনটা দেখে।ডাক্তার কে বারবার জিজ্ঞেস করতে লাগলো,কি হলো আবার কঙ্কার।কি হলো...
কিন্তু ডাক্তারও তার কথার উত্তর দিতে পারছিলো না তখন,কঙ্কাকে অবজার্ভ করতে হচ্ছিলো যে।একটু পরে আবার কঙ্কা নিস্তেজ শান্ত হয়ে গেলো।তলিয়ে গেলো আবার গভীর ঘুমে।
হৃদপিণ্ডটা অসম্ভব হারে লাফাচ্ছে এখনো শহরের।এমন কেন হচ্ছে তার?শুধু কি কঙ্কাবতীর এমন অবস্থার জন্য সে দায়ী বলে?নাকি আরো কিছুও...
কঙ্কাবতী ঘুমিয়ে পরার পর ড. সাদাফ এগিয়ে এলো শহরের কাছে।শহরের ঘনঘন নিঃশ্বাস ফেলতে দেখে তিনি শহরের কাঁধে হাত দিয়ে একটু শান্ত করার চেষ্টা করলো।বললো...
"আমি বুঝতে পারছি আপনার চিন্তা হচ্ছে। গিল্ট ফিল হচ্ছে হয়তো।তবে এতটা করা উচিৎ হয়নি।"
বলেই ড. সাদাফ তাকালো ঘুমন্ত কঙ্কার দিকে।ওভাবেই বললো....
"উনার আপনাকে নিয়ে এই ট্রমাটা সহজে কাটবে না।"
শহর অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো ডাক্তারের দিকে।তা দেখে ডাক্তার বললো...
"হ্যা,যখনই আপনাকে হারিয়ে ফেলার ভয় পাবে,তখন ঘুমের মধ্যে এরকম হতে পারে।ঐ সময় প্লিজ উনাকে কম্পানি দেবেন।একটু আগের মতোই জোর করে চেপে ধরবেন,যাতে শরীরের কম্পনটা থামে।সো এই কয়েকটা দিন অন্তত একটু চোখে চোখে রাখা প্রয়োজন।ইমিডিয়েট উনার কম্পন,গেরটা না থামালে এটি অতিরিক্ত হয়ে ব্রেইন স্ট্রোক পর্যন্ত চলে যেতে পারে যেকোনো মুহূর্তেই।সো বি কেয়ারফুল।"
শহর মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো। জিজ্ঞেস করলো...
"ওকে কতদিন এখানে থাকতে হবে?"
"আপাত দৃষ্টিতে সে এখন সুস্থ। আমি যাস্ট রেস্ট নেওয়ার জন্য একটা লো পাওয়ার ঘুমের ইনজেকশন দিয়েছি।কাল সকালের মধ্যেই ঘুম ভেঙে যাবে।তখন নিয়ে যাবেন সমস্যা নেই।আজ রাতটা থাকুক।"
শহর শুনলো সবটাই।কঙ্কাবতীর ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকাতে পারছে না সে,,নিজেকে কেমন যে জেলের আসামি মনে হচ্ছে আজ।অনুধাবন শক্তি প্রখর হওয়ায় শহরের ক্লান্ত মস্তিষ্কে অবশেষে একটা কথায় আসলো.,,মেয়েটা তাকে ভালোবাসে।হ্যা,শহরের থেকে বছর দশেক ছোট্ট একটি মেয়ে,নিজের ইম্যাচিউরিটির সাথে সাথে তার শহর স্যারের জন্য মস্ত এক ভালোবাসার স্তুপও জমিয়ে রাখছে বুকের ভেতর।
কিন্তু শহর যে চাইলেই তাকে মেনে নিতে পারবে না,তার যে এক চৈত্রতে মন বিন্যাস হয়ে আসছে চারটা বছর ধরে।
-------------
ঘুমের রেশ কিছুটা কাটতেই নিভু নিভু চোখ খুললো কঙ্কা।কারোর তর্ক বিতর্কের আওয়াজ যেন বেশ কানে লাগছে তার।চোখ দুটি খুলে দেখার চেষ্টা করলো তাদের।ঘোলা ঘোলা চোখে তাকাতেই দেখলো একটি ছেলে আর একটি মেয়ে তখন থেকে তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে যাচ্ছে।
লোকটি তার শহর স্যার,কিন্তু মেয়েটি??চোখ দুটো বন্ধ করে আবারো ঝাপ্টা মেরে খুললো কঙ্কা,হ্যা এবার যেন সবটা স্পষ্ট। কানে এলো শহরের সতর্ক স্বরে ধমকানো কিছু কথা..
"তোমাকে কতবার বলবো এখান থেকে চলে যাও চৈত্র। কঙ্কার একটু পরেই ঘুম ভেঙে তোমাকে এখানে দেখলে আরো অসুস্থ হয়ে পড়বে মেয়েটা।"
'চৈত্র' নামটা শুনতেই ভ্রু জোড়া কুঁচকে এলো কঙ্কার।সন্দেহি চোখে মেয়েটার দিকে তাকাতেই স্পষ্ট হলো সব।এটা তো চৈত্রীকা ম্যাডাম।ভার্সিটির বাংলা বিভাগের লেকচারার। উনি এখানে কেন?
চিন্তার মাঝেই চোখে ধরা পড়লো আরো একটি অপ্রীতিকর দৃশ্য। চৈত্রীকা ম্যাম এগিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরেছে কঙ্কাবতীর শহর স্যারকে।কাদো কাঁদো স্বরে বললো...
"তুমি তো আমায় ভালোবাসো তাই না শহর,তাহলে আমাকে এবারের মতো ক্ষমা করে দাও?প্লিজ শহর,প্লিজ.."
কঙ্কাবতী,হায় রে কঙ্কাবতী,তোর জীবন বুঝি এই পুড়লো? নিজের কানকে বিশ্বাস যোগ্য মনে হলো না।বাস্তবতার পর্দা আজ যেন স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরা হলো কঙ্কাবতীর ঘোলা চোখের পাতায়।বুকের ভেতরটা অসম্ভব হারে ব্যথা করছে,তবে কথা বলার বিন্দু পরিমান ইচ্ছাও প্রকাশ করলো না কঙ্কাবতী।কি করবে সে? সে তো জানতো না,তার শহর স্যার গত থেকেই অন্য কারোর। ইশশ,জানলে কি কঙ্কাবতী এতটা উতলা হলো এই এক শহডের আশায়?হতো না তো।সারাটা জীবন এক পাক্ষিক ভালোবাসা নিয়েই মনের সুপ্ত স্থানে পুষে রাখতো তাকে।বাধতো না তো এই বিয়ে নামক বন্ধনে।
বেডে শুয়ে থাকা কঙ্কাবতীর দিকে চোখ যেতেই থমকে গেলো শহর।চুপচাপ নির্মল দুটি চোখে যে মেয়েটি তার আর চৈত্রের দিকেই তাকিয়ে আছে।নাহ,কঙ্কাবতীর মাঝে এই মুহুর্তে কোনো রাগ নেই।কোনো কান্নার রশ্মিও লক্ষ্য করা গেলো নাহ।মেয়েটা কি কষ্ট পাচ্ছে না?কোনো প্রতিক্রিয়া ছাড়া এভাবে তাকিয়ে আছে কি করে?
মুহুর্তেই শহর নিজেকে একটু সামলে ভাবলো, হয়তো কঙ্কার ঘুমের রেশ এখনো কাটে নি,যা দেখছে ভুলে যাবে নিশ্চয়ই।ভেবেই দ্রুত একটা ধাক্কা মেরে চৈত্রকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিলো।হাতের কব্জি চেপে ধরে দরজার বাইরে পাঠিয়ে আঙুল তুলে বললো..
"নেক্সট টাইম কঙ্কাবতীর সামনে এমন নোংরামো করবে না তুমি।"
আর একটি কথাও বললো না।কেবিনের দরজাটা ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে হুরহুর পায়ে এগিয়ে এলো কঙ্কাবতীর কাছে।দু হাতে আগলে নিলো কঙ্কাবতীর তুলতুলে দু গাল।কন্ঠে দারুন কোমলতা আর কিছুটা উদ্বিগ্নতা নিয়েই শহর ডাকলো তার ভালোবাসায় মত্ত এক কঙ্কাবতী নামক ধ্বংসাবতীকে...
"কঙ্কাবতী? জেগে গেছো তুমি?"
নাহ,কঙ্কার নড়চড় হলো না।তবে দু চোখের পাতা একটিবার পলক ফেললো নীরবে।ধীর কন্ঠে শহরকে জিজ্ঞেস করলো এক অভাবনীয় প্রশ্ন...
"চৈত্রীকা ম্যাম আমার থেকেও বেশি ভালোবাসে বুঝি আপনাকে?"
স্তব্ধ হয়ে রইলো শহর।প্রশ্ন খানার উত্তর সে যেন কখনোই দিতে পারবে না এই এক কঙ্কাবতীকে।নিজের কাছেও তো বারবার এই একই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়ায় শহর।কার ভালোবাসাটা ভালো থাকার কারন হবে শহরের? কিন্তু উত্তর যে মিলে না।যেই উত্তর সে নিজেই খুঁজে পায় না,সেই উত্তর কঙ্কাবতীকে কি করে দেবে সে?কঙ্কাবতীর কাছে যে মিথ্যেটা ঠিক সাজে না শহরের।
হসপিটালে আর একটি বাক্য বিনিময়ও হয়নি শহর আর কঙ্কার মধ্যে। শহর তো ভেবেছিলো মেয়েটা এই বুঝি হাউমাউ করে কেঁদে উঠবে।কিন্তু নাহ,সারাটা পথে চিৎকার দুর,কঙ্কাবতী তো এক ফোঁটা চোখের জলও ফেললো না।তবে কি কঙ্কাবতী একটুও জেলাস ফিল করছে না শহর আর চৈত্রের সম্পর্কটা নিয়ে?
বাড়ির সদর দরজাটা চাবি ঘুরিয়ে খুলে দিতেই ভেতরে গিয়ে ড্রয়িং রুমের মাঝ বরাবর দাঁড়ালো কঙ্কাবতী।শহর এগিয়ে এসে তাকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আস্তে করে বললো...
"দাঁড়িয়ে গেলে যে? রুমে চলো.."
কঙ্কাবতী নীরবে নিচতলার বাম পাশের একটি খালি রুমের দিকে ইশারা করে বললো....
"আমি এই রুমে থাকবো আজ থেকে।"
শহর বিরক্ত হলো কঙ্কার এমন জেদ দেখে।বললো...
"হঠাৎ এই রুমে কেন?উপরে চলো।আমার রুমেই..."
"আপনি জান আপনার রুমে।আমি নিচেই থাকবো এই রুমটায়,একা।"
ভ্রু কুঁচকে এলো শহরের।দু কদম এগিয়ে এলো কঙ্কার দিকে। গলার স্বর একটু উঁচু করে বললো...
"মাথা ঠিক আছে তোমার?এই অবস্থায় একা থাকবে মানে?"
কঙ্কার কোনো রুপ পরিবর্তন হলো না।আগের মতোই শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো...
"আমাকে থাকতে দিন আমার মতো করে।"
জড়তাটা হয়তো আজ সকালেই দ্বিগুন হারে বেড়েছে শহরের।তাই তো আজ আর রাগ দেখাতে পারলো না কঙ্কার উপর।মনে হলো,মেয়েটা যদি অতিরিক্ত ভাবে তাহলে?
আস্তে করে ' ঠিক আছে ' বলে নিচের রুমটাই একটু ঝেড়ে ঝুড়ে পরিষ্কার করে দিলো সে।কঙ্কা খাটের উপর আলতো করে বসে সরাসরি শহরের দিকে তাকিয়ে বললো...
"এবার আপনি আপনার রুমে যেতে পারেন।"
কিন্তু শহরের তো ইচ্ছে করছে না কঙ্কাবতীকে এভাবে একা নিচ তলায় রেখে সে উপর তলায় গিয়ে থাকতে।তাও থাকতে পারলো না আর একটু সময় কঙ্কার কাছে।কারন কঙ্কা তাকে বললো....
"আপনি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিন।আমি রান্না বসাচ্ছি।"
রান্নার কথা মাথায় আসতেই শহর বললো...
"রেস্ট নাও তুমি একটু।আমি অনলাইনে খাবার অর্ডার করে দিয়েছি।কিছুক্ষণ পরেই চলে আসবে।"
বলেই নিজের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলো শহর।ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে বিছানায় চোখ যেতেই দেখে তার ফোনটা বায়ব্রেট হচ্ছে। এই সময় তো কেউ কল দেওয়ার কথা না।ফোনটা হাতে তুলতেই আম্মু নামটা ভেসে উঠেছে স্ক্রীনে।রিসিভ করে কানে তুলতেই সাবিহা বলে উঠলো...
"কিরে,আজ ভার্সিটি যাস নি তোরা?"
"না আম্মু,ক্লাস নেই তেমন।"
"ওহ,তাহলে কঙ্কা কেন যায়নি?"
"এমনি আম্মু।ওর শরীরটা একটু ভালো না।"
"ওহ,এই জন্যই তো বলি।ওর ফোনে কল দিলাম, রিসিভ করছে না।তাই ওর এক বান্ধবীর ফোনে কল দিয়ে জানতে পারলাম আজ নাকি তোরা দুজনই যাসনি ভার্সিটি।তাই ভাবলাম তোকে কল দিয়ে দেখি।তা এখন কোথায় আছে কঙ্কা মা?"
ভ্রু কুঁচকে এলো শহরের।কঙ্কা ফোন তুলছে না মানে?কি করছে ও? ভেবেই দ্রুত পায়ে রুম থেকে বের হতে হতে বললো..
"আম্মু এখন রাখো একটু।আমি তোমাকে কিছুক্ষণ পরে কল দিচ্ছি। "
বলেই আর সাবিহার কথার অপেক্ষা করলো না। নিজেই কেটে দিলো কলটা।দ্রুত পায়ে কঙ্কার রুমের সামনে আসতেই দেখলো ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। বার কয়েক ডাকার পরও দরজা খুললো না কঙ্কা।চিন্তায় মাথা ভার হয়ে এলো যেন শহরের।কিছু হলো না তো কঙ্কাবতীর??